অদৃশ্য তোমার নামে
তোমাকে ভেবে ভেবে রাত নামে ধীরে ধীরে,
শহরের আলো নিভে যায় নিঃশব্দ এক কাহিনিতে।
আমি তখনও জেগে থাকি—
একটা নাম বুকের ভেতর বারবার ধ্বনিত হয়,
যেমন নদী তার ঢেউকে ডাকে অচেনা তীরে।
তুমি আসো না ঠিকই, তবুও তোমার ছায়া আসে,
আমার জানালার কাঁচে নরম আলো হয়ে ভাসে।
বাতাসে মিশে থাকে তোমার চুলের গন্ধ,
আর হৃদয়টা হয়ে যায় অকারণে ব্যস্ত, অকারণে বন্ধ।
কখনো মনে হয়—তুমি কি সত্যি, নাকি কল্পনার রং?
নাকি আমার ভেতরের কোনো গভীর অনুভবের ঢং?
যেখানে আমি নিজেকেই খুঁজি বারবার,
তোমার চোখের ভেতর দেখি হারিয়ে যাওয়ার আকার।
প্রেম কি শুধু দেখা, নাকি না দেখারও নাম?
না ছোঁয়ার মধ্যেও কি থাকে গভীরতম ধাম?
আমি জানি না—তবু তোমাকেই লিখি প্রতিদিন,
শব্দের ভেতরে রাখি তোমার হাসির রঙিন ঋণ।
তুমি যদি কখনো এই কবিতা পড়ো,
জেনে রেখো—প্রতি লাইনে আমি আছি, তুমি পড়ো।
আমি থাকি সেই নীরবতার ভেতর,
যেখানে তোমার নামটাই হয়ে যায় সবচেয়ে আপন সুর।
একটা অদ্ভুত টান আছে তোমার আর আমার মাঝে,
যেন অজানা কোনো স্মৃতি বহু জন্মের কাজে।
যেন আমরা হারিয়ে গিয়েছিলাম একই গল্পে,
আর এই জীবনটা শুধু ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ভরতে।
তুমি আসো বা না আসো—আমি লিখে যাবো,
তোমার জন্য প্রতিটি রাতকে কবিতায় সাজাবো।
কারণ প্রেম কখনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব নয়,
এটা শুধু হৃদয়ের গভীরে জ্বলা এক অদ্ভুত সময়।

