অভিমানী নীলকণ্ঠ
হয়তো কোনো এক ঝোড়ো রাতে থেমে যাবে সব ডাক,
আমাদের ওই অসম্পূর্ণ গল্পটা না হয় ধুলো মেখেই থাক ।
আমি তো চেয়েছিলাম এক চিমটি রোদ তোমার হাসির ভাঁজে,
অথচ নিয়তি আমায় বন্দি করল বিষণ্ণ কোনো সাঁজে ।
ভালোবাসা মানে কি কেবল একবুক জমানো দীর্ঘশ্বাস?
নাকি পুড়ে যাওয়া বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক আকাশ?
আমি চেয়েছিলাম তোমার হাত ধরে রূপকথার দেশে যেতে,
বিনিময়ে পেলাম একলা পথের ধূলো আর শূন্য হাতে হেঁটে ।
তুমি হয়তো এখন অন্য কারো চোখে স্বপ্নের মায়া বুঁনো,
আমার জমানো কথাগুলো আজ বড্ড একলা আর পুরনো ।
মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে সব দেয়াল ভেঙে দিতে,
তোমার ওই অবুঝ মায়াটা আবারও কেড়ে নিতে ।
তোমার দেওয়া স্মৃতির ক্ষতগুলো আজ আমায় খুব ভাবায়,
তপ্ত মরুর তৃষ্ণা যেন আমার এই হৃদয়টাকে ধাওয়ায় ।
আমি আজও দাঁড়িয়ে সেই পুরোনো পথের বাঁকে,
যেখানে তোমার অস্তিত্ব আজও আমার প্রতিটি নিশ্বাসে থাকে ।
যদি কোনোদিন শেষ গোধূলিতে আকাশটা খুব কাঁদে,
বুঝে নিও আমি আজও আটকা তোমার স্মৃতির মরণফাঁদে ।
অভিমানী এই মনের শহর জুড়ে আজ কেবলই হাহাকার,
তুমি হীনা এই পৃথিবীতে সবটুকুই আজ অন্ধকার ।
ভালো থেকো তুমি তোমার ওই নতুন পৃথিবীর হাসিতে,
আমি না হয় খুঁজে নেবো শান্তি আমার এই একলা বাঁশিতে ।
আমাদের এই বিচ্ছেদ না হয় ইতিহাসের পাতায় থাক আঁকা,
ভালোবাসা অমর হোক, যদিও আমি আজ বড্ড একা ।

