নোনা জলের কাব্য
তোমার আকাশে হয়তো আজ রূপালি চাঁদের হাসি,
আর আমার একলা ঘরে কেবল নীরবতা রাশি রাশি ।
মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে, কেমন আছো তুমি?
এখনও কি তোমার মনের কোণে আমি এক চিলতে ভূমি?
ভালোবাসা মানে কি কেবল একবুক হাহাকার?
নাকি স্মৃতির মিছিলে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার অধিকার?
আমি তো চেয়েছিলাম একমুঠো রোদ আর তোমার একটু সময়,
বিনিময়ে পেলাম উপহার— এক সমুদ্র বিষণ্ণতার ভয় ।
কখনো যদি সন্ধ্যা নামে তোমার ক্লান্ত বারান্দায়,
খুঁজে দেখো আমায় ওই হারানো গোধূলি বেলায় ।
তোমার শহরের ব্যস্ত রাস্তায় আমি আজও একলা পথিক,
আমার সবটুকু আবেগ আজও তোমার দিকেই অধিক ।
জানি তুমি বদলে গেছো সময়ের নিষ্ঠুর ঘর্ষণে,
তবুও কেন যেন তোমায় খুঁজি শ্রাবণের অঝোর বর্ষণে ।
শুকনো পাতার মড়মড়ে যেমন হাহাকার মিশে থাকে,
আমার প্রতিটি নিশ্বাস আজও কেবল তোমার নামই ডাকে ।
হয়তো কোনো এক জীবন শেষে হবে আমাদের দেখা,
সেদিন থাকবে না কোনো দূরত্ব, থাকবে না এই একলা লেখা ।
অপূর্ণতার এই দীর্ঘ ডায়েরি না হয় আজ এখানেই থাক,
ভালোবাসা বেঁচে থাকুক তোমার ওই চোখের মায়ার রেশটুক ।
যদি কোনোদিন মন খারাপে জানলায় রাখো হাত,
জেনে নিও, কেউ একজন তোমার জন্যই জাগে সারারাত ।
অভিমান নেই, অভিযোগও নেই কোনো এই পোড়া মনে,
আমি শুধু তোমায় ভালোবেসে যাবো জীবনের প্রতিক্ষণে ।

