স্মৃতির কার্নিশ
বিকেলের ওই মরা রোদে যখন ছায়া দীর্ঘ হয়,
আমার ভেতরটা জুড়ে চলে এক অজানা ভয় ।
হয়তো এই পৃথিবীর নিয়মটাই এমন অদ্ভুত খুব,
কেউ ভালোবেসে নিঃস্ব হয়— কেউ অভিমানে দেয় ডুব ।
তোমাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো আজ বড্ড ফ্যাকাসে,
ঠিক যেন সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায় ওই নীল আকাশে ।
আমি চেয়েছিলাম এক চিমটি রোদ আর তোমার হাত,
বিনিময়ে পেলাম উপহার— একলা নির্ঘুম রাত ।
তুমি তো নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তোমার ফেলে যাওয়া ঘ্রাণ,
যা আজও ছিঁড়ে ফালাফালা করে আমার এই অবুঝ প্রাণ ।
তোমার দেওয়া কথাগুলো ছিল যেন বালির ওপর ঘর,
এক নিমেষেই সব ভেঙে দিয়ে করে দিলে আমায় পর ।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে মেঘ হয়ে তোমায় ছুঁয়ে যাই,
কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, তোমার তো কোনো অধিকার নাই ।
ভালোবাসার সেই নদীটা আজ একদম শুকিয়ে কাঠ,
স্মৃতিরা কেবল ভিড় জমায় আমার বুকের ভাঙা হাট ।
হয়তো কোনো এক বৃষ্টি ভেজা নিঝুম আঁধারে,
আবার আমায় খুঁজে ফিরবে তোমার মনের প্রান্তরে ।
সেদিন আকাশ সাক্ষী থাকবে আমার এই ত্যাগের কথা,
কেমন করে নীল বিষে নীল করেছি সব নীরবতা ।
ভালোবাসা তবে বেঁচে থাক ওই অপূর্ণতার মাঝে,
বেঁচে থাক হৃদয়ের গভীরে, কোনো এক করুণ সাঁঝে ।
আমি না হয় দূর থেকেই তোমার মঙ্গল চেয়ে যাবো,
জানি এই জীবনে আর কোনোদিন তোমায় না পাবো ।

