সোনার তরী কবিতার মূলভাব
সহজ ভাষায় এই কবিতার মুল কথা: সোনার তরী কবিতাটি একটি রূপক কবিতা । এখানে সোনর তরী বলতে আক্ষরিক অর্থে সোনা দ্বারা তৈরি এরকম কোনো নৌকাকে বোঝানো হয়েছে । অন্যাদিকে সোনা যেমন অনেক মূলবান ঠিক তেমনি এই তরী বা নৌকাকে মূলবান কিছুর সাথে তুলনা করা হচ্ছে । তবে ভাবার্থ হচ্ছে ‘সোনার তরী’ বলতে মহাকাল বা সময়কে বোঝানো হয়েছে । এই কবিতার সাধারণ অর্থ হচ্ছে একজন কৃষক অনেক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করেছেন । এখন সেই ফসল নিয়ে একটি নদীর তীরে মাঝির জন্য অপেক্ষা করছেন । মাঝি চলে আসলে কৃষক তার ফসলগুলো নৌকাতে ওঠানোর পর নিজে যখন উঠতে চাইলেন তখন দেখলেন যে নৌকাতে আর বিন্দুমাত্র জায়গা নেই । তবে এই সব ঘটনার ভাবার্থ হচ্ছে এখানে কৃষক হচ্ছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ফসল বলতে কবি সারাজীবন ধরে যে গল্প, কবিতা, উপন্যাস ইত্যাদি লিখেছেন তা বোঝানো হয়েছে । কবি জীবনের শেষ সময়ে এসে যখন বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জীবনের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, যেকোনো সময় তিনি পরপারে যেতে পারেন । তখন তিনি ভাবতে শুরু করলেন যে আমি তো চলে যাব কিন্তু আমি এত দিন ধরে যে সাহিত্যকর্ম করেছি তা কি পরবর্তি প্রজন্মে বেঁচে থাকবে । আমার এই সাহিত্যকর্ম সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাবে না তো! এজন্য এই কবিতায় কবি তার মনের আশা ব্যক্ত করেছেন যেন তার সাহিত্যকর্মগুলো যেন বেঁচে থাকে এবং তিনিও যেন মৃত্যুর পরও পাঠকের মনে বেঁচে থাকতে পারেন ।

