সোনার তরী কবিতার লাইন বাই লাইন ব্যাখ্যা


ব্যাখ্যা: আক্ষরিক অর্থ: বর্ষাকালে আকাশে মেঘ গর্জন করছে, এতজন কৃষক কূলে একা বাসে আছেন প্রচুর ফসল নিয়ে কিন্তু তিনি ভরসা পাচ্ছেন না যে মাঝি আসবে কি না কিংবা তার ফসলগুলো নৌকায় তুলে দিতে পারবেন কি না । ভাবার্থ: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সারাজীবন ধরে অনেক কিছু লিখে গিয়েছেন । এখন তার জীবনের প্রায় শেষ সময় চলে এসেছে । তিনি এখন অনুভব করছেন যে তার এত কষ্ট করে লেখা সাহিত্যকর্ম সংরক্ষন করা উচিত । তিনি চান এগুলো যেন সময়ের সাথে সাথে হরিয়ে না যায় ।
- আরও পড়ুনঃ সোনার তরী কবিতার মূলভাব

ব্যাখ্যাঃ পৃথিবীতে সবাই একাই আসে আবার একাই চলে যেতে হয় । সময়ের দ্রুতগামিতা কবিকে চিন্তিত করে ফেলেছে যে এই সময়ের অতল গহব্বরে তিনি এবং তার সাহিত্যকর্ম হারিয়ে যাবে কি না । তিনি ভাবছেন হয়তো মৃত্যুর পরের জীবনটা গাছের ছায়া ও মেঘে ঢাকার মত অনেক সুন্দর । তিনি নিজেকে এই পৃথিবীতে বা চিন্তার জগদে খুব একা মনে করছেন ।

ব্যাখ্যা: কবির কল্পনার সেই সোনার তরী ভরা পালে চলে এসেছে । কবি সেই মাঝিকে (প্রবহমান সময়) চিনে ফিলেছেন । সেই মাঝি (সময়) শুধু বেয়েই চলেছে, কোনো দিকেই তাকায় না । নিরুপায় ঢেউ এর মত সময় শুধু স্মৃতি রেখে যায়, কখনো পিছনে ফিরে তাকায় না ।

ব্যাখ্যা: কবি মাঝিকে (সময়/মহাকাল) জিজ্ঞাসা করেছেন যে কোথায় যাওয়া হচ্ছে এবং অনুরোধ করছেন যেন একবারের জন্য হলেও কবির তীরে এসে নৌকা একটুখানি থামায় । কবি মাঝিকে (সময়/মহাকাল) বলছেন যে তোমার যেখানে খুশি যাকে খুশি নিয়ে যাও শুধু আমার সোনার ধানগুলো (সাহিত্যকর্ম) একটু নৌকায় করে নিয়ে যাও । অর্থাৎ সময়ের এই স্রোতে অন্যদের পাশাপাশি আমার শ্রেষ্ঠকর্মগুলো যেন পৃথিবীতে বেচে থাকে ।

ব্যাখ্যা: কবি মাঝিকে বলছেন তোমার যত খুশি তত আমার ফসল (সাহিত্যকর্ম) তেমার নৌকাতে তুলে নাও । এখন মাঝি কবিকে জিজ্ঞাসা করছেন যে ‘আর আছে?’ কবি উত্তরে বলছেন যে আর নেই, এতদিন যা নিয়ে এই দুনিয়াতে পরে ছিলাম তার সবটুকু সাজিয়ে গুছিয়ে দিয়ে দিলাম । এর পরে আবারো কবি মাঝিকে বলছেন যে ‘দয়াকরে আমাকেও তোমার নৌকায় তুলে নাও ।’

ব্যাখ্যা: মাঝি কবিকে বলল ‘আমার এই ছোট নৌকাতে আর জায়াগা নেই । সোনার ধানে (সাহিত্যকর্মে) সবটুকু জায়গা ভরে গছে । তার পর সেই মাঝে তার নৌকা নিয়ে চলে গেল । আর কৃষক (কবি) তার ফসল (সাহিত্যকর্ম) নৌকায় (সময়ের স্রোতে) ভাসিয়ে দিয়ে সেই নদীর তীরে একা পড়ে রইল ।

