• এইডস
  • চিকিৎসা
  • এইডস রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা, করণীয় ও প্রতিরোধের সম্পূর্ণ উপায় জানুন

    এইডস

    এইডস (AIDS) একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য রোগ । “অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম” নামে পরিচিত এই রোগটি এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ঘটে । বিশ্বব্যাপী এখনও এই রোগটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা, তবে সঠিক জ্ঞান, সচেতনতা ও আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ রূপে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ।

    অনেকের ধারণা, এইচআইভি এবং এইডস একই জিনিস, কিন্তু বাস্তবে তা নয় । এই ব্লগপোস্টে আমরা এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য, এইডসের লক্ষণ, কারণ, সংক্রমণের পদ্ধতি, চিকিৎসা এবং জীবনযাপন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব ।

    এইচআইভি এবং এইডস কি?

    এই দুটি শব্দ প্রায়ই একসাথে ব্যবহার করা হলেও এদের মধ্যে শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে বড় পার্থক্য রয়েছে ।

    এইচআইভি (HIV) কি?

    এইচআইভি শব্দের পূর্ণরূপ Human Immunodeficiency Virus । এটি একটি ভাইরাস যা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে (ইমিউন সিস্টেম) আক্রমণ করে । বিশেষ করে এটি CD4 সেল (এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা) কে ধ্বংস করে, যা শরীরকে বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে । একজন ব্যক্তি এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলেই তিনি এইচআইভি পজিটিভ বলে বিবেচিত হন ।

    এইডস (AIDS) কি?

    এইডস শব্দের পূর্ণরূপ Acquired Immunodeficiency Syndrome । এটি এইচআইভি সংক্রমণের সবচেয়ে উন্নত বা শেষ পর্যায় । যখন চিকিৎসার অভাবে এইচআইভি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, তখন শরীর সুবিধাবাদী সংক্রমণ (Opportunistic Infections) এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সারের শিকার হয় । এই অবস্থাকেই এইডস বলা হয় ।

    মনে রাখবেন: এইচআইভি আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির এইডস হয় না । সঠিক চিকিৎসা (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি) চলতে থাকলে ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন ।


    এইডস এবং এইচআইভির মধ্যে পার্থক্য

    এইচআইভি এবং এইডস-এর মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:

    বৈশিষ্ট্যএইচআইভি (HIV)এইডস (AIDS)
    প্রকৃতিএটি একটি ভাইরাসএটি একটি চিকিৎসাগত অবস্থা (সিনড্রোম)
    অবস্থাএটি সংক্রমণের প্রাথমিক থেকে মাঝামাঝি অবস্থা।এটি সংক্রমণের সবচেয়ে জটিল ও শেষ পর্যায়।
    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাইমিউন সিস্টেম দুর্বল হতে শুরু করে, কিন্তু এখনও কাজ করে।ইমিউন সিস্টেম প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
    লক্ষণপ্রাথমিক পর্যায়ে ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা উপসর্গ নাও থাকতে পারে।মারাত্মক সুবিধাবাদী সংক্রমণ, ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি জ্বর ইত্যাদি দেখা দেয়।
    চিকিৎসাART ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।চিকিৎসার অভাবে এই অবস্থা তৈরি হয়। ART শুরু করলেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরে পেতে সময় লাগে।

    এইডস এর কারণ (কেন এই রোগ হয়)

    এইডস হওয়ার একমাত্র কারণ হল এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়া। এই ভাইরাস মূলত সংক্রমিত ব্যক্তির কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক তরলের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে। এই তরলগুলো হলো:

    • রক্ত
    • বীর্য ও প্রাক-বীর্য
    • যোনি নিঃসরণ
    • মলদ্বারের তরল
    • মায়ের দুধ
    আরও পড়ুন:  নিপা ভাইরাস: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের সম্পূর্ণ গাইড

    এইচআইভি সংক্রমণের প্রধান পথগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

    ১. রক্তের মাধ্যমে সংক্রমণ

    • সংক্রমিত রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে (যদি রক্ত পরীক্ষা না করা হয়)।
    • সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে একই সিরিঞ্জ বা সূচ ব্যবহার করলে (মাদক সেবনকারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়)।
    • অস্বাস্থ্যকর ব্লেড, ছুরি, বা ট্যাটু করার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলে।
    • স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহৃত সূচ ফুটে গেলে।

    ২. যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে

    এটি এইচআইভি সংক্রমণের সবচেয়ে সাধারণ পথ। কনডম ছাড়া যে কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক (যোনি, পায়ুপথ, মুখমেহন) স্থাপন করলে ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে। যাদের একাধিক যৌন সঙ্গী আছে এবং যারা সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

    ৩. মা থেকে সন্তানের মধ্যে সংক্রমণ

    • গর্ভাবস্থায়: প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে শিশুর দেহে ভাইরাস যেতে পারে।
    • প্রসবকালে: প্রসবের সময় মায়ের রক্ত বা তরলের সংস্পর্শে এসে শিশু আক্রান্ত হতে পারে।
    • স্তন্যদানের সময়: বুকের দুধের মাধ্যমে ভাইরাস শিশুর দেহে প্রবেশ করতে পারে।

    ৪. অন্যান্য শারীরিক তরলের মাধ্যমে

    দুর্ঘটনাজনিত কারণে সংক্রমিত রক্ত বা শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

    মনে রাখবেন: এইচআইভি ছড়ায় না সাধারণ স্পর্শে, আলিঙ্গনে, একসাথে খাওয়া-দাওয়ায়, একই পোশাক ব্যবহারে, মশার কামড়ে বা পুকুরে একসাথে গোসল করলে।


    এইচআইভি এবং এইডসের লক্ষণ

    এইচআইভি সংক্রমণের লক্ষণগুলি পর্যায়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। সংক্রমণের প্রথম কয়েক সপ্তাহে ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়। এই কারণে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তারা এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

    ১. প্রাথমিক সংক্রমণের লক্ষণ (২-৪ সপ্তাহের মধ্যে)

    প্রথম পর্যায়টিকে তীব্র এইচআইভি সংক্রমণ বা অ্যাকিউট রেট্রোভাইরাল সিনড্রোম বলে। এ সময় নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে:

    • জ্বর (সাধারণত ১০০° ফা. বা তার বেশি)
    • গলা ব্যথা
    • প্রচণ্ড মাথাব্যথা
    • সারা শরীরে ব্যথা ও পেশিতে ব্যথা
    • গলা, বগল বা কুঁচকির লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া
    • ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি (র্যাশ)
    • প্রচণ্ড ক্লান্তি
    • রাতে ঘাম হওয়া
    • বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া

    এই লক্ষণগুলো সাধারণত ১ থেকে ৪ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। এই সময়ে শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, তাই সংক্রমণের সম্ভাবনাও সবচেয়ে বেশি।

    আরও পড়ুন:  ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

    ২. উপসর্গহীন বা সুপ্ত অবস্থা (Chronic HIV)

    প্রাথমিক উপসর্গ সেরে যাওয়ার পর রোগী একটি ক্লিনিক্যাল লেটেন্সি পর্যায়ে প্রবেশ করেন, যা উপসর্গহীন এইচআইভি নামেও পরিচিত। এই পর্যায়ে রোগীর কোনো বিশেষ উপসর্গ নাও থাকতে পারে, কিন্তু ভাইরাস শরীরের অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে ফেলে। চিকিৎসা না করালে এই পর্যায়টি গড়ে ১০ বছর বা তার বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। চিকিৎসা চলতে থাকলে এই সময় আরও অনেক বেড়ে যায় এবং রোগী সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

    ৩. উন্নত পর্যায়ের লক্ষণ (এইডস-এর লক্ষণ)

    যখন ইমিউন সিস্টেম সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে, তখন এইচআইভি সংক্রমণ এইডস-এ রূপ নেয়। এ অবস্থায় শরীর বিভিন্ন সুবিধাবাদী সংক্রমণের শিকার হয়। এইডসের লক্ষণগুলো হলো:

    • দ্রুত ওজন কমে যাওয়া (অকারণে)
    • দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
    • রাতের বেলা প্রচণ্ড ঘাম হওয়া
    • কয়েক সপ্তাহ ধরে ১০০° ফা. বা তার বেশি জ্বর থাকা
    • গলা, বগল বা কুঁচকির লিম্ফ নোড ফুলে থাকা
    • তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া
    • শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্ট
    • মুখ, জিহ্বা বা গলায় সাদা দাগ বা ঘা (থ্রাশ)
    • ত্বকে বা মুখের ভেতরে বেগুনি/লালচে দাগ পড়া (কাপোসি সারকোমা)
    • স্মৃতিভ্রংশ, বিভ্রান্তি ও স্নায়বিক সমস্যা

    পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে লক্ষণের পার্থক্য

    • পুরুষ: পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গে ঘা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, তারা অন্যান্য STI (যেমন: গনোরিয়া, সিফিলিস) দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
    • মহিলা: মহিলাদের ক্ষেত্রে বারবার যোনিতে ইস্ট ইনফেকশন, পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID), মাসিক চক্রে অনিয়ম এবং HPV-জনিত জরায়ু মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    এইচআইভি রোগ নির্ণয় (পরীক্ষা)

    এইচআইভি সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য কিছু নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা করা হয়। মনে রাখবেন, সংক্রমণের সাথে সাথেই ভাইরাস শনাক্ত করা যায় না। সাধারণত সংক্রমণের ৩ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগে, এই সময়কে বলা হয় উইন্ডো পিরিয়ড

    প্রচলিত পরীক্ষা:

    1. এলাইজা পরীক্ষা (ELISA Test): এটি এইচআইভি স্ক্রিনিংয়ের জন্য প্রথম ধাপ। এই পরীক্ষায় রক্তে এইচআইভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয়।
    2. ওয়েস্টার্ন ব্লট পরীক্ষা (Western Blot Test): এলাইজা পজিটিভ আসলে ফলাফল নিশ্চিত করতে এই পরীক্ষা করা হয়। এটি আরও নির্দিষ্ট ও নির্ভুল।
    3. দ্রুত পরীক্ষা (Rapid Test): মাত্র ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে ফলাফল দেয়। প্রাথমিক ধারণা পেতে এটি ব্যবহার করা হয়।
    4. নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্ট (NAT): এই অত্যাধুনিক পরীক্ষায় রক্তে ভাইরাসের জিনগত উপাদান (RNA) সরাসরি শনাক্ত করা হয়। উইন্ডো পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই এটি সংক্রমণ শনাক্ত করতে পারে।
    আরও পড়ুন:  ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

    এইচআইভি/এইডস এর চিকিৎসা

    এইচআইভি/এইডসের সম্পূর্ণ নিরাময় এখনও সম্ভব হয়নি। তবে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ (ক্রনিক কন্ডিশন) হয়ে গিয়েছে।

    অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART)

    এইচআইভি চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART)। এটি বিভিন্ন ধরনের ওষুধের সংমিশ্রণ (কম্বিনেশন) যা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে। নিয়মিত ART সেবনে:

    • শরীরে ভাইরাসের পরিমাণ (ভাইরাল লোড) এতটাই কমে যায় যে তা পরীক্ষায় শনাক্তের অযোগ্য পর্যায়ে চলে যায়।
    • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (CD4 কাউন্ট) আবার বেড়ে যায়।
    • রোগী সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
    • অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি প্রায় ১০০% কমে যায় (একে বলা হয় U=U বা Undetectable = Untransmittable)।

    এইডস হলে করণীয়

    যদি কেউ এইডস পর্যায়ে চলে যান, তাহলে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি:

    • তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু: যত দ্রুত সম্ভব ART শুরু করতে হবে।
    • সুবিধাবাদী সংক্রমণের চিকিৎসা: নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি সংক্রমণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা নিতে হবে।
    • পুষ্টিকর খাবার: প্রোটিন, শাকসবজি ও ফলমূল সমৃদ্ধ সুষম খাবার খেতে হবে। পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে হবে।
    • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: CD4 কাউন্ট ও ভাইরাল লোড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

    এইচআইভি প্রতিরোধের উপায়

    প্রতিরোধই এইডস এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এর নির্দেশিকা অনুযায়ী কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচে দেওয়া হলো: (২)

    1. নিরাপদ যৌনাচার: প্রতিবার যৌন মিলনের সময় সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করুন। সঙ্গীর সংখ্যা সীমিত করুন।
    2. প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PrEP): যাদের এইচআইভি হওয়ার ঝুঁকি বেশি (যেমন: এইচআইভি পজিটিভ কারো সাথে সম্পর্ক), তারা চিকিৎসকের পরামর্শে PrEP নামক ওষুধ সেবন করতে পারেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমায়।
    3. পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PEP): যদি কখনো সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে (যেমন: কনডম ফেটে যাওয়া, ব্যবহৃত সূচ ফুটে যাওয়া), তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে PEP ওষুধ শুরু করলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
    4. নিয়মিত পরীক্ষা: নিজের এবং সঙ্গীর এইচআইভি স্ট্যাটাস জানতে নিয়মিত পরীক্ষা করান।
    5. নিরাপদ রক্ত ও সরঞ্জাম: প্রয়োজনে নিশ্চিত হয়ে শুধুমাত্র পরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ করুন। কখনো অন্যের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ বা ব্লেড ব্যবহার করবেন না।
    6. গর্ভাবস্থায় চিকিৎসা: এইচআইভি পজিটিভ মায়েরা গর্ভাবস্থায় ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত চিকিৎসা নিলে সন্তানের মধ্যে সংক্রমণের হার ১% এর কম।

    পরিশেষে, এইডস বা এইচআইভি নিয়ে সমাজে এখনও অনেক ভয় এবং ভুল ধারণা রয়েছে। সঠিক জ্ঞানই এর একমাত্র প্রতিষেধক। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, বৈষম্য না করা এবং চিকিৎসায় উৎসাহিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

    আধুনিক ART চিকিৎসার কল্যাণে এইচআইভি এখন আর মৃত্যু পরোয়ানি নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা নিলে একজন এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। Unaids.org এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস মহামারি নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র ব্যাপক সচেতনতা ও চিকিৎসার প্রসারের মাধ্যমেই সম্ভব।

    আপনার যদি এইডস নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে বা নিজের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহ হয়, তবে দেরি না করে আজই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।

    1 mins
    Right Menu Icon