শুরুটা সাধারণ সর্দি-জ্বর দিয়েই হয় । গলা ব্যথা, সঙ্গে সামান্য কাশি । এরপর হঠাৎ করেই জ্বর আসে, সঙ্গে প্রচণ্ড শরীর ব্যথা ও ক্লান্তি । প্রথমে আমরা ধরে নেই, মৌসুমী ফ্লু হয়েছে । কিন্তু তারপরই যখন বুকে-পিঠে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়, আর সেই ফুসকুড়ি দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখনই আঁচ করা যায়, সমস্যাটা অন্যরকম। এটি চিকেন পক্স বা জল বসন্ত ।
চিকেন পক্স একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম । ছোটবেলায় যাদের হয়নি, তারা বড় বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় পান। সম্প্রতি আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এই রোগের প্রকোপ আবারও বেড়েছে । এই ব্লগপোস্টে আমরা চিকেন পক্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব—এর কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা, ঘরোয়া পরিচর্যা এবং দাগ দূর করার উপায় নিয়ে। আপনি যদি এই রোগে আক্রান্ত হন বা আপনার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্য অমূল্য সাহায্য নিয়ে আসবে ।
চিকেন পক্স কী এবং কেন হয়?
চিকেন পক্স, যাকে বাংলায় জল বসন্তও বলা হয়, এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ । ‘ভেরিসেলা-জোস্টার ভাইরাস’ (Varicella-Zoster Virus – VZV) নামক এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণেই এই রোগ হয়ে থাকে ।
এই ভাইরাসটি সাধারণত শৈশবেই আক্রমণ করে । একবার আক্রান্ত হলে শরীরে সাধারণত স্থায়ী রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়, অর্থাৎ জীবনে সাধারণত একবারই এই রোগ হয় । তবে ভাইরাসটি কিন্তু শরীর থেকে পুরোপুরি যায় না; এটি সুপ্ত অবস্থায় স্নায়ুকোষে থেকে যায় । পরবর্তী জীবনে যখন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়, তখন এই ভাইরাসটি পুনরায় সক্রিয় হতে পারে এবং ‘দাদ’ বা ‘হার্পিস জোস্টার’ (Herpes Zoster) নামক রোগ সৃষ্টি করে ।

চিকেন পক্সের লক্ষণ: ধাপে ধাপে বুঝুন
চিকেন পক্সের লক্ষণগুলো সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ২১ দিন পরে প্রকাশ পায়। রোগটি মূলত তিনটি ধাপে অগ্রসর হয়।
১. প্রাথমিক লক্ষণ (সংক্রমণের ১-২ দিন)
এই সময়ে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার আগেই কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দেয়:
- জ্বর: হঠাৎ করেই ১০১ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর আসতে পারে।
- মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা: প্রচণ্ড মাথাব্যথার পাশাপাশি সারা শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়।
- গলা ব্যথা ও কাশি: অনেকেরই গলা ব্যথা এবং হালকা কাশি থাকে।
- অরুচি ও ক্লান্তি: খাবারে অরুচি ও চরম দুর্বলতা কাজ করে।
- অস্বস্তি বোধ: সামগ্রিকভাবে শরীর ভালো লাগে না।
২. ফুসকুড়ি ওঠার ধাপ (সংক্রমণের ২-৪ দিন)
প্রাথমিক লক্ষণ শুরু হওয়ার ১-২ দিনের মধ্যে ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
- প্রথমে: ত্বকে ছোট ছোট লাল দানা (Macules) দেখা যায়।
- এরপর: এই দানাগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উঁচু হয়ে চাকা (Papules)-তে পরিণত হয়।
- পরে: চাকাগুলো পরে পরিষ্কার পানিতে ভরা ফোসকায় (Vesicles) রূপ নেয়। ফোসকাগুলো দেখতে অনেকটা শিশিরবিন্দুর মতো হয়।
- শেষ পর্যায়: ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফোসকার পানি ঘোলাটে হয়ে যায়, ফেটে যায় এবং পরে শুকিয়ে কালচে খোসায় (Crusts or Scabs) পরিণত হয়।
মজার ব্যাপার হল, শরীরের একই জায়গায় ফুসকুড়ির তিনটি ধাপই (লাল দানা, ফোসকা ও খোসা) একসঙ্গে দেখা যায় । ফুসকুড়ির সঙ্গে তীব্র চুলকানি হয়, যা রোগীকে খুবই বিরক্ত করে ।
৩. আরোগ্য লাভের ধাপ (সংক্রমণের ৫-৭ দিন)
সাধারণত ৫-৭ দিনের মধ্যে নতুন ফুসকুড়ি ওঠা বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরনো ফুসকুড়িগুলো শুকিয়ে খোসা পড়তে শুরু করে। জ্বর কমে আসে এবং রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।
চিকেন পক্স কীভাবে ছড়ায়?
চিকেন পক্স এত দ্রুত ছড়ানোর কারণ এর সংক্রমণ ক্ষমতা। এটি প্রধানত তিনভাবে ছড়াতে পারে:
- বায়ুবাহিত সংক্রমণ: আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। কাছের কোনো সুস্থ ব্যক্তি সেই বাতাসের মাধ্যমে শ্বাস নিলে আক্রান্ত হতে পারেন।
- সরাসরি সংস্পর্শ: আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসকুড়ি বা ফোসকার তরলের সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি ছড়ায়।
- দূষিত বস্তুর সংস্পর্শ: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানার চাদর বা তোয়ালে ব্যবহার করলেও সংক্রমণ হতে পারে। ভাইরাসটি বাইরের পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।
মনে রাখবেন: ফুসকুড়ি ওঠার ১-২ দিন আগে থেকেই রোগী সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সব ফুসকুড়ি শুকিয়ে খোসা না পড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রোগী সংক্রামক থাকে।
চিকেন পক্স হলে করণীয়: বিস্তারিত পরিচর্যা
চিকেন পক্সের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকলেও, লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রোগটি দ্রুত সারানো সম্ভব।
১. আইসোলেশন বা বিচ্ছিন্ন থাকা
- রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘরে রাখুন।
- পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষ করে গর্ভবতী মা, শিশু ও বয়স্কদের কাছ থেকে দূরে রাখুন।
- রোগীর ব্যবহার করা জিনিসপত্র (গ্লাস, প্লেট, তোয়ালে, কাপড়) আলাদা করুন এবং গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করুন।
২. ত্বকের যত্ন ও পরিচর্যা
- চুলকানি নিয়ন্ত্রণ: ফোসকায় চুলকানি হলেও কখনোই নখ লাগাবেন না। এতে ত্বকে সংক্রমণ বাড়তে পারে ও দাগ পড়তে পারে। চুলকানি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালামাইন লোশন (Calamine Lotion) ব্যবহার করতে পারেন।
- নখ ছোট রাখুন: চুলকালে যাতে ত্বক না কেটে যায়, সেজন্য নখ খুব ছোট করে কেটে ফেলুন। ছোট শিশুদের হাতে সুতি মোজা পরে দেওয়া যেতে পারে।
- গোসল: নিয়মিত হালকা গরম পানিতে গোসল করুন। পানিতে কিছু পরিমাণ বেকিং সোডা বা ওটমিল পাউডার মিশিয়ে নিলে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমে। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে শরীর ঘষবেন না, বরং আলতো করে চেপে চেপে জল মুছে ফেলুন।
- নিমপাতার ব্যবহার: গোসলের পানিতে ফুটানো নিমপাতা মিশিয়ে নিন। নিমের অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টিভাইরাল গুণ সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- পোশাক: ঢিলেঢালা, নরম সুতি কাপড় পরুন, যাতে শরীর ঘামতে না পারে এবং চুলকানি কম হয়।

৩. খাবার ও পানীয়
- প্রচুর তরল পান করুন: পানি, ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি বেশি করে পান করুন। এতে শরীরে পানিশূন্যতা হবে না এবং টক্সিন বের হতে সাহায্য করবে।
- নরম ও তরল খাবার: মুখের ভেতরেও ফোসকা হতে পারে, তাই নরম ও সহজপাচ্য খাবার খান। যেমন—খিচুড়ি, ওটস, স্যুপ, সেদ্ধ সবজি।
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: লেবু, পেয়ারা, কমলালেবু, আমলকী ইত্যাদি খান। এতে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।
- প্রোবায়োটিক খাবার: দই খান, এটি ত্বকের জন্যও ভালো।
- এড়িয়ে চলুন: তৈলাক্ত, মসলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। বাদাম, চকলেট ও কোমল পানীয়তে থাকা ‘আর্জিনিন’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড ভাইরাসের বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
৪. চিকেন পক্স এর চিকিৎসা ও ঔষুধ (চিকিৎসকের পরামর্শে)
- জ্বর ও ব্যথা: জ্বর ও শরীর ব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল (Paracetamol) দেওয়া হয়। মনে রাখবেন, শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন (Aspirin) দেওয়া একেবারেই নিষেধ, কারণ এটি ‘রেইয়ে সিনড্রোম’ (Reye’s Syndrome) নামক মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- চুলকানি: তীব্র চুলকানি নিয়ন্ত্রণে এন্টিহিস্টামিন (Antihistamine) জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
- অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ: প্রাপ্তবয়স্ক বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতাহীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক অ্যাসাইক্লোভির (Acyclovir)-এর মতো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিতে পারেন। ফুসকুড়ি ওঠার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি শুরু করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
- বাহ্যিক ক্রিম: ত্বকের সংক্রমণ রোধে অ্যান্টিবায়োটিক মলম এবং দাগ কমাতে বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করা হয়। তবে সব কিছু চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করা উচিত।
চিকেন পক্সের জটিলতা
যদিও শিশুদের ক্ষেত্রে চিকেন পক্স সাধারণত হালকা হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
- ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ: ফোসকা আঁচড়ানোর কারণে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে, যা সেলুলাইটিস (Cellulitis)-এ রূপ নিতে পারে।
- নিউমোনিয়া (Pneumonia): চিকেন পক্সের একটি মারাত্মক জটিলতা হল ভাইরাল নিউমোনিয়া, যা প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি হয়।
- এনসেফালাইটিস (Encephalitis): মস্তিষ্কের প্রদাহ একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর জটিলতা।
- গর্ভবতী নারী ও শিশুর ঝুঁকি: গর্ভাবস্থায় চিকেন পক্স হলে নবজাতকের জন্মগত ত্রুটি (Congenital Varicella Syndrome) দেখা দিতে পারে।
জরুরি অবস্থা: নিচের উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে ডাক্তার দেখান-
- জ্বর ১০৪ ডিগ্রির বেশি থাকলে।
- ফুসকুড়ি থেকে পুঁজ পড়লে বা ফোসকার চারপাশে প্রচণ্ড লাল হওয়া।
- শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে।
- প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি হলে।
- রোগী অতিরিক্ত দুর্বল ও পানিশূন্য হয়ে পড়লে।
চিকেন পক্স প্রতিরোধ: টিকাই সর্বোত্তম উপায়
চিকেন পক্স প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল টিকা (Vaccination)। ভেরিসেলা টিকা সাধারণত ১২-১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ৪-৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে দেওয়া হয়। টিকা নেওয়ার পরও যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলেও রোগের তীব্রতা অনেক কম হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC)-র মতো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো চিকেন পক্সের টিকাদান কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। টিকা শুধু ব্যক্তিকে রক্ষা করে না, বরং সমাজে রোগটির বিস্তার রোধ করতেও সাহায্য করে।
চিকেন পক্সের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
রোগ সেরে যাওয়ার পর অনেক সময় লালচে বা কালচে দাগ থেকে যায়। কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই দাগ হালকা করা সম্ভব:
- ডাবের পানি ও মাখন: ডাবের পানি বা টাটকা মাখন নিয়মিত দাগের ওপর লাগিয়ে রাখুন।
- লেবুর রস: লেবুর রস দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। তবে রোদে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
- মধু ও চন্দনের তেল: মধু ও চন্দনের তেলের মিশ্রণ ত্বকের রং ফর্সা করতে এবং দাগ দূর করতে কার্যকর।
- বেকিং সোডা: বেকিং সোডার পেস্টও দাগ কমাতে সাহায্য করে।
পরিশেষে, চিকেন পক্স একটি কষ্টদায়ক হলেও সাধারণত স্ব-সীমাবদ্ধ রোগ । আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যা, বিচ্ছিন্নতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এটি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় । মনে রাখবেন, অসুখ সারাতে সময় লাগে । তাই ধৈর্য ধরুন, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের যত্ন নিন । সময়মতো টিকা নেওয়ার মাধ্যমে আপনি এবং আপনার সন্তান এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারেন ।
আপনার কি চিকেন পক্স নিয়ে কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে? নিচের কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। অথবা আপনার যদি এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন।
সতর্কতা: এই ব্লগ পোস্টটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য এবং সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি । এতে প্রদত্ত তথ্য কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সর্বদা একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।

