Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০২ Bangla Romantic Golpo

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০২ Bangla Romantic Golpo bangla golpo pdf bangla premer golpo bangla golpo chotoder bangla golpo book bangla golpo lyrics Romantic Love Story in Bengali Bengali Romantic Love Story Valobashar Golpo Valobashar Romantic Premer Golpo Bangla Bengali Romantic Story Bangla Love Story ভালোবাসার গল্প প্রেমের গল্প লাভ স্টোরি রোমান্টিক ভালবাসার গল্প বাংলা Premer Golpo Bangla বাংলা মিষ্টি প্রেমের গল্প Moner Rong.

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০২ Bangla Romantic Golpo
Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০২ Bangla Romantic Golpo


Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০২ Bangla Romantic Golpo

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০২ Bangla Romantic Golpo bangla golpo pdf bangla premer golpo bangla golpo chotoder bangla golpo book bangla golpo lyrics Romantic Love Story in Bengali Bengali Romantic Love Story Valobashar Golpo Valobashar Romantic Premer Golpo Bangla Bengali Romantic Story Bangla Love Story ভালোবাসার গল্প প্রেমের গল্প লাভ স্টোরি রোমান্টিক ভালবাসার গল্প বাংলা Premer Golpo Bangla বাংলা মিষ্টি প্রেমের গল্প Moner Rong

ডাক্তার ম্যাডাম! আই লাভ ইউ❞

❝উইল ইউ ম্যারি মি ডাক্তার ম্যাডাম?❞


প্রথম পর্ব (১ম পর্ব) পড়তে ক্লিক করুনঃ


মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর থেকে এইরকম মেসেজ দিনে রাতে আসতে থাকে তানিশার কাছে ।সেজন্য মেসেজ অপশন অফ করে রেখেছে তানিশা, যাতে বাহিরের কেউ বিরক্ত করতে না পারে । কিন্তু আজ এই অচেনা ছেলেটার মেসেজ দেখে তানিশার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো । তানিশা ভাবতে লাগলো,

এই  ছেলেটি তার ফ্রেন্ডলিস্টে আসলো কিভাবে? তানিশার জানামতে সে তো অচেনা কোনো ছেলের ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট একসেপ্ট করে নি ।


তানিশা সেজন্য তাড়াতাড়ি করে মেসেজ টা চেক করতে লাগলো । কিন্তু মেসেজ টা সীন করার আগেই হঠাৎ তন্নি কল দিলো । তানিশা সেজন্য তন্নির কল আগে রিসিভ করলো । তানিশা ফোন রিসিভ করতেই তন্নি বললো,

তানিশা আজ তো বৃহস্পতিবার । সেজন্য কলেজ শেষ হওয়া মাত্র আমাদের বাসার দিকে রওনা দিবি ।এক সেকেন্ড ও দেরী করবি না । কারণ তোকে আমার ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে । মনে হচ্ছে কত দিন ধরে দেখি না তোকে ।

তানিশাকে দেখার জন্য নাকি তন্নির মন টা ভীষণ ছটফট করছে । আসলে তন্নি মেয়েটা ভীষণ একগুয়ে আর জেদী । সেজন্য যখন যেটা করতে বলে তানিশাকে সেটাই শুনতে হয় । আবার তানিশারও সব কথা শোনে তন্নি । কারণ অসম্ভব রকমের ভালো বন্ডিং ছিলো দুই বান্ধুবীর মধ্যে।মানে একজন আরেকজনের জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে রাজি আছে ।

এই রকম বন্ধুত্ব সচারাচর দেখা যায় না আজকাল ।


তন্নির এমন জোরাজোরি দেখে তানিশা কলেজ শেষ করেই তন্নির মামার বাসার দিকে রওনা দিলো । আগে মাঝেমধ্যে প্রায়ই যেতো কিন্তু এখন আর যাওয়ার সময় হয় না তার ।

তানিশা তার ড্রেস চেঞ্জ করার ও সুযোগ পেলো না ।কারণ তন্নি তাকে আর এক মুহুর্ত ও থাকতে দিচ্ছে না দূরে । সেই থেকে কল করেই যাচ্ছে । তন্নির সাথে কথা বলতে বলতে তানিশা মেসেজ দেওয়া ছেলেটির কথা একদম ভুলেই গেলো ।


মেডিকেলের স্টুডেন্টদের কাছে বৃহস্পতিবার  দিনটা সবচেয়ে বেশি আনন্দের দিন । কারণ বৃহস্পতিবার আসলেই যেনো প্রতিটা স্টুডেন্ট ঈদের আনন্দ অনুভব করে । সেজন্য বৃহস্পতিবারে হোস্টেলের সকল মেয়েরা অনেক অনেক আনন্দ করে । এই বৃহস্পতিবার হচ্ছে তানিশাদের রেস্টুরেন্ট বার । কারণ শনিবার কোনো বড়সড় পরীক্ষা না থাকলে তারা বাহিরেও ঘুরতে যাই সবাই ।

সারা সপ্তাহ তাদের যেমনই কাটুক, এই একদিনের আনন্দে তারা পুরো সপ্তাহের সকল কষ্ট ভুলে যায় ।কারো বার্থডে করা, একসাথে খাওয়া,চুটিয়ে আড্ডা, ক্লাসের খুনসুটি এগুলো নিয়ে খুব মজা করে হোস্টেলের প্রতিটা মেয়ে ।


তানিশাদের এবারের শনিবারে কোনো এক্সাম নাই বিধায় সে তন্নিদের বাসায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ।তানিশা বাসার দিকে যাচ্ছে আর মনে মনে নোমান কে নিয়ে ভাবতেছে,

নিজেকে নিয়ে খুবই অহংকার করো । ভেবেছো তুমি ছাড়া আর এ দুনিয়ায় কেউ মেধাবী নেই । ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনা করো দেখে অহংকারে মাটিতে পা পড়ে নাই । আমাদেরকে মানুষ ই মনে করো নাই । এখন কোথায় গেলো তোমার সেই অহংকার? তোমার সব অহংকার তো একদম ধূলিসাৎ হয়ে গেলো । আমিও তো তোমার মেডিকেলেই চান্স পাইয়া গেলাম । এখন ঐ অহংকারী মুখখানা কেমনে দেখাবে? ইসঃ কি যে আনন্দ লাগছে আমার । এই ভেবে তানিশা খুশিতে একদম গদগদ হয়ে রয়েছে ।


তানিশা তন্নিদের বাসায় ঢুকতেই তন্নির বড় ভাই আমানের সাথে দেখা ।

আমান কোচিং এ যাচ্ছে । সেজন্য বেশ তাড়াহুড়ো করে বের হচ্ছিলো বাসা থেকে । তানিশাকে দেখামাত্র বলে উঠলো,

আকাশের চাঁদ আজ কোনদিকে উঠেছে? তোমাকে তো আজকাল দেখাই যায় না!


তানিশা আমানের কথা শুনে হেসে উঠে বললো, ভাইয়া সময় হয় না এখন । পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ প্যারার মধ্যে আছি । আগে জানলে মেডিকেলে কখনো ভর্তিই হতাম না ।


--জানি জানি । আমাকে আর বলতে হবে না সে কথা । আমাদের ছোটো মিয়া তো মেডিকেলের পড়া পড়তে পড়তে  ইতোমধ্যে পাগল হয়ে গেছে ।কোনদিন যে আমাদের ভুলে যায় । এই বলে আমান হো হো করে হেসে উঠলো ।


হঠাৎ কলেজ থেকে নোমান ও বাসায় আসলো ।তানিশার দিকে একবার তাকিয়েই তার ভাইকে জিজ্ঞেস করলো, ভাইয়া কয় টা বাজে দেখেছো?কোচিং এ যাবে কখন?


আমান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো, ওহ শীট । ইটস টু লেট।তানিশা তুমি বাসার ভিতর চলে যাও । কোচিং থেকে এসে কথা বলছি । এই বলে আমান তাড়াতাড়ি করে চলে গেলো ।


কিন্তু নোমান কোনো কথা না বলে তানিশার দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বাসার মধ্যে প্রবেশ করলো ।

এই প্রথমবার অহংকারী ছেলেটার হাসি দেখার সৌভাগ্য হলো তানিশার । তানিশা মনে মনে ভীষণ চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলো ।

সে ভাবতে লাগলো নোমান তাকে দেখে এভাবে হাসলো কেনো? না সে মেডিকেলে চান্স পাইছে দেখে ভাব জমাতে চাচ্ছে ।

তানিশা ঠিক করলো সে কিছুতেই নোমান কে পাত্তা দিবে না । এতোদিন কথা বলা তো দূরের কথা সে তার সামনেই আসে নি । আর আজ হঠাৎ এমন হাসি দিয়ে চলে গেলো মনে হয় কত বছরের পরিচয় তাদের ।

তানিশা তার লম্বা চুলের বেনুনি টা পিছন থেকে সামনে টেনে নিয়ে বাসার ভিতর প্রবেশ করলো ।


আসলে তানিশার ধারণা ছিলো সম্পূর্ণ ভুল । কারণ নোমান হেসেছে অন্য কারণে । তানিশার গায়ে এখনো সেই সাদা এপ্রোণ টি জড়িয়ে রয়েছে । সে ড্রেস চেঞ্জ পর্যন্ত করে নি । নোমান তানিশাকে কলেজের ড্রেসে দেখেই এভাবে মুচকি একটা হাসি দিলো । নোমান মনে মনে ভাবলো মেডিকেলে চান্স পাইছে দেখে এপ্রোণ গায়ে দিয়েই গেস্টের বাসায় চলে এসেছে । হায়রে মেডিকেলের ছাত্রী! দুনিয়ায় আর মনে হয় কেউ মেডিকেলে পড়ে না ।


 তানিশা বাসার ভিতর প্রবেশ করতেই দেখে নোমান ডাইনিং টেবিলেই বই নিয়ে বসে পড়েছে । মাত্র কলেজ থেকে ফিরেছে সে, কই একটু ফ্রেশ হবে,খাওয়াদাওয়া করবে তা না করে সোজা পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে ।


আসলে নোমান সারাক্ষণ শুধু পড়ালেখাই করে ।ফ্যামিলির যেকোন প্রোগ্রামেও তাকে দেখা যায় না ।

এটা অবশ্য তার দোষ নয় । কারণ মেডিকেলের স্টুডেন্ট রা প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ কিছুটা আনন্দে কাটালেও তৃতীয় বর্ষে কমিউনিটি মেডিসিন ও ফরেনসিক মেডিসিনের মতো কঠিন কঠিন সাবজেক্ট পড়তে হয় । সেজন্য চাপ টা একটু বেশি তাদের । আর সেজন্যই প্রচুর পড়তে হয় । কারো সাথে বসে গল্প করে অযথা টাইম ওয়েস্ট করে না তারা ।


নোমানের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় অনেক আনরোমান্টিক আর ভীষণ  অহংকারী ছেলে একজন! যার হাতে সবসময় একখানা বই থাকবেই । আর মাথাটা থাকবে সবসময় নিচু । চশমা ছাড়া তো তার এক সেকেন্ড ও চলে না । সারাদিন পড়তে পড়তে অকালেই চোখ দুটি নষ্ট করে ফেলেছে সে ।চশমা ছাড়া সবকিছু আবছা আবছা দেখে নোমান ।

তানিশা নোমানকে দেখে মনে মনে ভাবতেছে আসলেই আপনার অনেক বেশি দেমাক, তা না হলে একবার তো কিছু একটা জিজ্ঞেস করা যায়, যেহেতু এটা তাদের বাসা ।

 তানিশার মতো এমন সুন্দরী, মেধাবী আর ভদ্র মেয়ের সাথে কথা বলে না তাকে তো অহংকারীই বলা যায় । নোমানের ভাই আমান আবার ভীষণ পছন্দ করে তানিশাকে । তানিশার সাথে কি সুন্দর করে কথা বলে । দেখা হলেই ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে ।


 হঠাৎ তন্নি এসে উপস্থিত হলো সেখানে । সে তো তানিশাকে দেখামাত্র জড়িয়ে ধরলো আর আনন্দে তাকে নিয়ে ঘোরাতে লাগলো । তার খুশি যেনো আর ধরছে না । কতদিন পর দেখা তাদের!


তানিশাকে এভাবে ঘোরানোর ফলে তার মাথা যেনো বনবন করে ঘুরতে লাগলো । সে তখন বললো,তন্নি থাম এবার । পরে যাবো তো ।

তন্নি সেই কথা শুনে থেমে গেলো । আর তানিশার হাত ধরে তার রুমের দিকে যেতে ধরলো । 


নোমান তবুও একটিবার তাকালো না অথচ দুই বান্ধুবি এতোক্ষণ কি চিৎকার চেঁচামেচিই না করলো । মনে হচ্ছিলো পাঁচ মিনিটের একটা সুনামি হয়ে গেলো ।


তন্নির রুমে ঢুকতেই তানিশার, তায়েব চৌধুরীর সাথে দেখা । তায়েব চৌধুরীও তানিশাকে ভীষণ পছন্দ করেন । আর নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসেন ।তানিশা মেডিকেলে চান্স পাইছে দেখে তায়েব চৌধুরী ভীষণ খুশি হয়েছেন ।


তানিশা তায়েব চৌধুরী কে দেখামাত্র সালাম দিলো ।তায়েব চৌধুরী সাথে সাথে সালামের উত্তর দিয়ে বললো, মা তানিশা কেমন আছো? পড়াশোনার কি অবস্থা ।

তানিশাও হাসিমুখে উত্তর দিলো, আলহামদুলিল্লাহ মামা । অনেক ভালো আছি । আর পড়াশোনাও ভালোই চলছে ।


হঠাৎ তায়েব চৌধুরী তন্নির দিকে তাকিয়ে বললো, এই না হলো আদর্শ বাপের আদর্শ মেয়ে । দেখ,এক চান্সেই সরকারি মেডিকেলে চান্স পেয়ে গেলো । আর তুই কি করলি?

একই কলেজে পড়লি তোরা, একই সাথে কোচিং করলি তবুও তুই সরকারি মেডিকেলে চান্স পাইলি না । আর তানিশাকে দেখ কোনো টাকা পয়সা খরচ না করেই এক চান্সে সরকারি মেডিকেলে চান্স পেয়ে গেলো ।


তন্নি তার মামার কথা শুনে এক মুহুর্ত ও থাকলো না সেখানে।মন খারাপ করে বেলকুনিতে চলে গেলো।কারণ তায়েব চৌধুরী এই কথাটা এখন রোজ রোজ বলে।যেটা শুনলে তন্নির ভীষণ কষ্ট হয়।এমনিতেই সে কোথাও চান্স পায় নি,তার উপর তার মামা আবার কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়।



তন্নি এবং তানিশা দুইজনই এইচ,এস,সি তে  গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে মেডেকেল এ চান্স পাওয়ার জন্য রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়।

দূর্ভাগ্যবশত তন্নি কোনো সরকারি মেডিকেল এ চান্স না পাওয়ায় সে দ্বিতীয় বার সুযোগ নিচ্ছে।যদি দ্বিতীয় বার ও না হয় তখন তার মামা প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করে দেবে।

কিন্তু তানিশা প্রথম সুযোগেই চান্স পেয়ে যায়।


তানিশা এই ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে।সে একটি রাত ঠিকভাবে ঘুমায় নি।তার মনের মধ্যে ভীষণ জিদ ছিলো।সে সবসময় একটি কথাই ভাবতো,

"সবাই যদি পারে তাহলে সে কেনো পারবে না"।


এদিকে তন্নি তায়েব চৌধুরীর কথা শুনে মন খারাপ করে বেলকুনিতে গিয়ে দাঁড়ালো।তানিশাও সেখানে চলে গেলো।তানিশা তন্নির কাছে গিয়ে বললো,

তুই কি আমাকে সেই জন্য ডেকেছিস তোদের বাসায়?তুই মুখ গোমড়া করে থাকবি আর আমি তোর রাগ ভাঙ্গাবো?


তন্নি তখন কাঁদতে কাঁদতে বললো,মামা সবসময় শুধু তোর ই উদাহরণ দেয় এখন।কেনো যে তোর সাথে আমার দেখা হলো,আর কেনোই বা তোকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানিয়ে এই বাসায় আনলাম!এখন দিনরাত তো শুধু এটাই শুনতে হয় আমাকে।আমি তো একজন মানুষ।আমার তো খারাপ লাগে।মামা কেনো যে এভাবে কষ্ট দেয় আমাকে বুঝি না কিছু।


তানিশা তখন তন্নির চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো, মামা তোর ভালোর জন্যই এভাবে বলে।তুই তাহলে মন দিয়ে পড়াশোনা করবি।প্রথমবার সুযোগ পাস নি তো কি হইছে,আরো একবার তো চান্স আছে।দ্বিতীয় বার ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবি।


তন্নি সেই কথা শুনে তানিশাকে জড়িয়ে ধরে বললো,তুই আবার মন খারাপ করলি নাকি?আমি কিন্তু মন থেকে কিছু বলি নি।


--না না।কিসের মন খারাপ?


হঠাৎ টুং করে আবার মেসেজ আসলো তানিশার ফোনে।


❝আই লাভ ইউ ডাক্তার ম্যাডাম❞প্লিজ রিপ্লাই দাও।আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই।


তানিশা মেসেজটি এড়িয়ে যেতে চাইলো।কিন্তু তন্নি তার আগেই তানিশার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে বললো,


কি ব্যাপার তানিশা?প্রেম করছিস নাকি?এতো টুং টুং করে কিসের আওয়াজ হচ্ছে?এই বলে তন্নি মেসেজটি সিন করলো।তন্নি মেসেজটি দেখে মাথায় হাত দিয়ে বললো,


--ও মাই গড।তানিশা এই ছেলেটা কে?১০০+ মেসেজ।


তানিশা তখন তন্নির হাত থেকে ফোন টা নিয়ে বললো,দূর চিনি না আমি।


তন্নি তখন তানিশার মাথায় একটা টোকা দিয়ে বললো,আমি কি ছোট বাচ্চা।যেটা বোঝাবি ওটাই বুঝবো।তুই যদি না চিনিস তাহলে এই ছেলে তোর ফ্রেন্ড লিস্টে আসলো কিভাবে?


তানিশা তন্নির কথা শুনে তাড়াতাড়ি করে ছেলেটির সকল মেসেজ চেক করতে লাগলো।কারণ তানিশা নিজেও বুঝতে পারছে না,আসলে ছেলেটা কে?


কিন্তু ছেলেটির প্রথম মেসেজ দেখে তানিশা যেনো শূন্যে ভাসতে লাগলো।


এই তো সেই মেয়েটা,যে তানিশাকে তার ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট এক্সসেপ্ট করার জন্য বার বার অনুরোধ করেছিলো।আর বলেছিলো,আপু আমিও এবার মেডিকেলে চান্স নিতে চাই।প্লিজ হেল্প মি।আপনি কিভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন জানাবেন প্লিজ।


তানিশা তার সাধ্যমতো মেয়েটাকে সাহায্য করেছিলো।কোন কোচিং সেন্টার ভালো হবে,কি কি বই কিনতে হবে এসব বিষয় এ পরামর্শ দিয়েছিলো।তারপর থেকে রেগুলার মেয়েটি তাকে মেসেজ দিতে থাকে।কিন্তু তানিশা ব্যস্ত থাকার কারণে যথাসময়ে রিপ্লাই দিতে পারে না।কিন্তু যখন সময় হয় তখন কথা বলে।


কিন্তু আজ হঠাৎ সেই মেয়ে ছেলে হয়ে গেলো কিভাবে? কুইন শামিমা থেকে আজ কিং শামিম হয়ে গিয়েছে । তারমানে এটা ফেক আইডি ছিলো!এতোদিন সে এই ফেক আইডির সাথে কথা বলে তার মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে ।


এদিকে তন্নি শুধু বার বার বলছে,কি হলো তানিশা?কিছু বলছিস না যে? ছেলেটাকে রিপ্লাইও দিচ্ছিস না?


তানিশা তখন তন্নিকে সব কিছু খুলে বললো ।


এদিকে তানিশা মেসেজ সীন করায় ছেলেটি একের পর এক মেসেজ দিতেই আছে । ছেলেটি লিখেছে,


"এতোদিন আমি মিথ্যা কথা বলেছি ।

আসলে আমি কোনো মেডিকেলে চান্স নিতে চাই না ।এটা ছিলো তোমার সাথে কথা বলার বাহনা মাত্র ।

আমি একজন ছেলে ।

তোমাকে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে ।

কিন্তু বলা হয়ে ওঠে নি । 

আমি একজন পুলিশ অফিসার ।

আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি আর বিয়েও করতে চাই ।


তানিশা কোনো উত্তর দিলো না । সে মনে মনে ভাবলো রিয়েল আইডির ছেলেদেরকেই পাত্তা দেই না, আর এই ছেলে আসছে ফেক আইডি দিয়ে প্রপোজ করতে । এসব লোকের সাথে আজাইরে কথা বলে সময় নষ্ট করতে চাই না । সেজন্য ব্লক দেওয়ার জন্য ব্লক অপশনে যেতেই ছেলেটি আবার মেসেজ দিলো তানিশাকে,


--হ্যালো ডাক্তার ম্যাডাম! কিছু বলছো না কেনো?এতোদিন তো ভালোই কথা বলতে । তা আজ হঠাৎ এতো অহংকারী হয়ে গেলে কেনো ?আমিও কিন্তু একজন নামকরা পুলিশ অফিসার । ইচ্ছা করলে তোমাকে তুলে নিয়ে যেয়ে বিয়ে করতে পারি ।ভালোভাবে বললাম দেখে গায়ে লাগাচ্ছো না আমার কথা?


মেসেজ টা দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেলো তানিশা ।কারণ ঢাকা শহরে সে একলা থাকে । কোনো নিকট আত্নীয় কেউ নেই । শুধু আছে এই কলেজের বান্ধুবীটাই । এভাবে কেউ যদি হুমকি দেয় তাহলে তো ভয় পাবারই কথা । তবুও সাহস করে উত্তর দিলো তানিশা,


--বিয়ে করা তো দূরের কথা আপনি আমার ধারেকাছেও ঘেষতে পারবেন না । আর আপনি যত বড়ই অফিসার হন না কেনো আমার তাতে কিছু যায় ও আসে না ।


--এতো অহংকার তোমার? মেডিকেলে পড়ছো দেখে কি এতো অহংকার দেখাতে হবে? 


তানিশা তখন বললো, অনেক পরিশ্রম করে মেডিকেলে চান্স পাইছি, সেজন্য তো একটু অহংকারী হবোই ।


ছেলেটি তখন রাগের ইমোজি দিয়ে বললো,

--এই যে মিস তানিয়া । এরকম দুই চারটা মেডিকেল স্টুডেনদের আমি পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় ।


তানিয়া নাম শুনে ভীষণ হাসি পেলো তানিশার । সে তখন হা হা ইমোজি দিয়ে বললো, যে আমার নামটাই ঠিক করে জানে না, সে আবার নাকি আমাকে উঠে নিয়ে যাবে । তানিয়া না । আমি মিস তানিশা । আর আপনার পকেটে আপনি কাকে কাকে রাখবেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার ।


ছেলেটি তখন বললো, চ্যালেঞ্জ রইলো তোমার সাথে । শনিবার দেখি কি করে কলেজে ঢুকতে পারো তুমি? সোজা উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করবো তোমাকে ।


 তানিশা এই মেসেজ দেখার সাথে সাথে তাকে চিরদিনের জন্য ব্লক লিস্টে পাঠিয়ে দিলো । তবে তার ভীষণ ভয় হতে লাগলো । ছেলেটি তাকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করলো কেনো? এখন সত্যি সত্যি যদি উঠিয়ে নিয়ে যায়?


তন্নি তানিশাকে এমন ভয় করা দেখে বললো, তুই আসলেই একজন পাগল মেয়ে । ও বললো আর তোকে উঠিয়ে নিয়ে গেলো? এতো সহজ?

আরে ফেসবুকে এরকম অহরহ ছেলে আছে যাদের কোনো কাজকর্ম নেই । হুদাই মেয়েদেরকে এভাবে ডিস্টার্ব করে আর ভয় দেখায় ।


তানিশা তন্নির এমন শান্ত্বনা শুনেও তার আতংক কিছুতেই দূর হলো না । তার বুক দুরুদুরু করে কাঁপতে লাগলো ।


এদিকে তন্নি তানিশাকে এমন ভয় করা দেখে তার মন ভালো করার চেষ্টা করতে লাগলো । তাকে ছাদে নিয়ে গেলো । সেখানে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে তারপর নিজের হাতে তানিশাকে নুডলস রান্না করে খাওয়ালো । বিকালবেলা আবার দুই মগ কফি বানিয়ে নিয়ে বেলকুনিতে বসে কিছুক্ষণ গল্প করলো । তানিশা সবকিছু ভুলে যাওয়ার ট্রাই করলো । আর তন্নির সাথে দিনটি উপভোগ করতে লাগলো । এই ভাবে হাসি আনন্দে কখন যে দিন পেরেয়ি রাত হয়ে গেলো তানিশা টেরই পেলো না ।


রাতের বেলা হঠাৎ তন্নি মিউজিক এর সাউন্ড বেশি করে দিয়ে তার তালে তালে নাচতে লাগলো আর বলতে লাগলো,


আহা ঊ ঊ আহা ঊ ঊ

সাঁহ চুটকী জো তুনে কাতী হৈং

জোরী সে কাতী হৈং, যহাঁ বহাঁ

রোতী হূঁ, মেং তুঝসে রোতী হূঁ

মুঝে মানা লে না ও জান-এ-জান


ছেড়েংগে হম তুঝক

লড়কী তূ হৈং বড়ী বুম্বাত

আহা আহা আহা আহা

উহ লা লা, উহ লা লা,

উহ লা লা, উহ লা লা

তূ হৈং মেরী ফংতাসী

চূ না না, চূ না না,

চূ না না, চূ না না

অব মেং জবান হো গযী


তন্নি এবার তানিশাকেও ডাকলো তার সাথে ডান্স করার জন্য ।

কিন্তু তানিশা আসতে চাইলো না । তন্নি তখন জোর করেই তানিশার হাত ধরে লাফাতে লাগলো ।একেবারে যাকে বলে উরাধুরা নাচ ।

তানিশা বুঝতে পারছে না তন্নিকে আজ হঠাৎ এতো খুশি খুশি লাগছে কেনো?


হঠাৎ দরজায় দাঁড়িয়ে নোমান চিৎকার করে বললো, শাট আপ! কি শুরু করেছিস তন্নি? বন্ধ কর এসব গান বাজনা ।

নোমান জোরে জোরে চিল্লাছে আর বলছে,এতো জোরে সাউন্ড দিয়ে কেউ গান শোনে নাকি? বাসায় তো তুই একা না? বাকি মেম্বারদের কথাও তো ভাবতে হবে?


নোমানের এতো জোরে জোরে চিল্লানি তন্নীর কানেই পৌঁছলো না । সে চোখ বন্ধ করে সেই আগের মতোই গানের তালে তালে ডান্স করছে । কিন্তু তানিশা নোমানের কন্ঠ শুনে অনেক আগেই থেমে গেছে।সে তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেই গিয়ে মিউজিক টা অফ করে দিলো ।

এতোক্ষণে তন্নির হুঁশ ফিরে এলো । গান বন্ধ হওয়ায় সে যখন চোখ মেলে তাকালো আর নোমানকে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে সাথে সাথে বললো, 

নোমান ভাইয়া আপনি এই সময়ে বাসায়?

আপনার না আজ ওয়ার্ডে ক্লাস আছে ।


#চলবে,

কেমন হচ্ছে গল্পটি অবশ্যই জানাবে সবাই ।


৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুনঃ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url