Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৬ Bangla Romantic Golpo

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৬ Bangla Romantic Golpo bangla golpo pdf bangla premer golpo bangla golpo chotoder bangla golpo book bangla golpo lyrics Romantic Love Story in Bengali Bengali Romantic Love Story Valobashar Golpo Valobashar Romantic Premer Golpo Bangla Bengali Romantic Story Bangla Love Story ভালোবাসার গল্প প্রেমের গল্প লাভ স্টোরি রোমান্টিক ভালবাসার গল্প বাংলা Premer Golpo Bangla বাংলা মিষ্টি প্রেমের গল্প Moner Rong.

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৬ Bangla Romantic Golpo
Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৬ Bangla Romantic Golpo


Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৬ Bangla Romantic Golpo

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৬ Bangla Romantic Golpo bangla golpo pdf bangla premer golpo bangla golpo chotoder bangla golpo book bangla golpo lyrics Romantic Love Story in Bengali Bengali Romantic Love Story Valobashar Golpo Valobashar Romantic Premer Golpo Bangla Bengali Romantic Story Bangla Love Story ভালোবাসার গল্প প্রেমের গল্প লাভ স্টোরি রোমান্টিক ভালবাসার গল্প বাংলা Premer Golpo Bangla বাংলা মিষ্টি প্রেমের গল্প Moner Rong.


নোমান কলেজ থেকে ফিরেই তন্নি তন্নি করে ডাকতে লাগলো।কারণ সে জানতে চায় তানিশার বোনের বিয়েতে তাদের ইনভাইট করেছে কিনা?

তন্নি নোমানের  মুখে এই প্রশ্ন শুনে ভীষণ অবাক হলো।কারণ তন্নিই তো জানে না তানিশার বোনের বিয়ের কথা।তাহলে নোমান জানলো কি করে?


সবগুলো পর্ব পড়তে ক্লিক করুনঃ

পঞ্চম  পর্ব (৫ম পর্ব) পড়তে ক্লিক করুনঃ



হঠাৎ সেই সময় তায়েব চৌধুরীও কার সাথে যেনো কথা বলতে বলতে বাসায় প্রবেশ করলেন।

তিনি বলছেন,

না আমরা কেউই যাবো না।কারণ আমি তোমাদের প্রতি ভীষণ রেগে আছি।তোমরা কি করে এই কাজটা করতে পারলে?আমাকে না জানিয়ে কিভাবে বাসা থেকে চলে গেলে?

তায়েব চৌধুরীর কথা শুনে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তিনি তানিশার সাথে কথা বলছেন।সেজন্য নোমান আর তন্নি চুপচাপ থাকলেন।


তায়েব চৌধুরী এবার তহিদুল সাহেবের সাথে কথা বলছেন, তায়েব চৌধুরী বলছেন,

তানিশা না হয় ছোটো মানুষ, কিছু বোঝে না।কিন্তু আপনি বুঝদার মানুষ হয়ে কি করে এই কাজটা করতে পারলেন?আমরা কেউই যাবো না আপনাদের বাসায়।


তন্নি আর নোমান চুপচাপ  তায়েব চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে থাকলো।আর তায়েব চৌধুরী কি কি বলছে সেসব কথা ভীষণ মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলো।


হঠাৎ তন্নির ফোনেও কল আসলো।তানিশা ফোন দিয়েছে।তন্নি কল রিসিভ করতেই তানিশা এক নিঃশ্বাসে বললো,

তন্নি, আমার বড় আপুর হঠাৎ করেই বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।পরশুদিন পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছিলো।তাদের ভীষণ পছন্দ হয়েছে আপুকে।সেজন্য তারা সেদিনই বিয়ে করতে চাইছিলো।কিন্তু আব্বু রাজি হয় নি।কারণ বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা।সবাই আনন্দ করবে বলে অনেক আশা নিয়ে বসে আছে।এভাবে হুট করে কি বিয়ে দেওয়া যায়?সেজন্য এখন সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছে পাত্রপক্ষ। এখন ধুমধামেই হবে আপুর বিয়ে।আমি পরশু দিন এসেছি গ্রামে।কারণ সেদিনই ঘরোয়াভাবে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু এখন যেহেতু দুইদিন পরে বিয়ে সেজন্য আমাদের পরিচিত সবাইকে ইনভাইট করতেছি।প্লিজ দোস্ত আসবি কিন্তু।আর দেরী করে বলার জন্য সরি।ভীষণ ব্যস্ত আছি রে।একা হাতে আর কয়দিকে সামলায়।


তন্নি সেই কথা শুনে বললো,হ্যাঁ দেরী করে ইনভাইট পাবার আত্নীয়ই তো আমরা।তুই যে মনে করেছিস এটাই তো অনেক। আমরা কি তোর পরিচিত কেউ নাকি?তুই তো আমাদের অপরিচিতই ভাবিস।


--কি বলছিস এসব?একটু বোঝার চেষ্টা কর।তুই সেই আগের কাহিনী তেই পড়ে আছিস?তুই বল,এভাবে কারো বাসায় থেকে পড়াশোনা করা যায় কি?নিজেরও তো একটা আত্নসম্মানবোধ আছে।প্লিজ তোরা ওই বিষয় টা আর উঠাস না।এটা এখানেই স্টপ কর।বর্তমানে ফিরে আয় তন্নি।


--হ্যাঁ বল।


তানিশা তখন বললো, কিছুক্ষন আগে মামাকে ইনভাইট করেছি।মামা তো সেই রেগে আছেন আমার উপর।তবে আমার বিশ্বাস বেশিক্ষন তিনি রেগে থাকতে পারবেন না।নিশ্চয় আসবেন আপুর বিয়েতে।তুই কিন্তু অবশ্যই অবশ্যই আসবি।আমি বার বার কিন্তু বলতে পারবো না।কারন আমার উপর অনেক দায়িত্ব। অনেক দিকে সামলাতে হচ্ছে।


তন্নি শান্তভাবে বললো,দেখি কি করি?


তানিশা সেই কথা শুনে বললো, কিসের দেখাদেখি?তুই মাস্ট আসবি।তুই না আসলে কিন্তু জীবনেও কথা বলবো না তোর সাথে।


তন্নি তখন ভীষণ অভিমান মাখা কন্ঠ নিয়ে বললো,আমার সাথে এখন কথা না বললেও চলবে তোর।এখন কলেজে নতুন নতুন বান্ধুবি পেয়েছিস।পুরাতন বান্ধুবি দিয়ে কি করবি?


তানিশা তখন হাসতে হাসতে বললো,জানিসই তো ওল্ড ইজ গোল্ড।তাছাড়া আমাদের গ্রাম অঞ্চলে একটা কথা আছে যে পুরাতন চাল ভাতে বাড়ে।বুঝেছিস!কথা বাড়াস না এখন।

রাখ এখন পরে কথা বলছি।অনেক জায়গায় ইনভাইট করা বাকি আছে।এই বলে তানিশা কল কেটে দিলো।


তন্নি কল কেটে দেওয়ার সাথে সাথে নোমান বললো,তানিশা ফোন দিয়েছিলো?


--হ্যাঁ।আমাকে ইনভাইট করলো।


--শুধু তোকে ইনভাইট করলো?


--হ্যাঁ।আর তো কারো কথা বললো না।

নোমান সেই কথা শুনে বললো, ভালো তো।তা কবে যাবি?


--জানি না।আম্মু যেতে দিলে তো যাবো।দেখি মামা কি বলে?তা আপনি কি করে জানলেন ওর বোনের বিয়ের কথা?


নোমান তন্নির কথা শুনে একদম চুপসে গেলো।এখন কি জবাব দেবে তন্নিকে?কিন্তু তন্নি ব্যাপারটাকে সিরিয়াস ভাবে নিলো না।সে তায়েব চৌধুরীর কাছে গিয়ে বললো, তানিশা তো খুবই রিকুয়েষ্ট করছে।আমাকে নাকি যেতেই হবে। মামা কি করবো এখন?


তায়েব চৌধুরী তন্নির কথা শুনে বললো,কি করবি মানে?যেতেই হবে।তা না হলে তহিদুল সাহেব মন খারাপ করবেন।কারণ বার বার রিকুয়েষ্ট করেছেন আমাকে।কিন্তু সমস্যা হলো আমি কি করে যাবো?অফিসে অনেক কাজ আছে।এই সময়ে অফিস ছেড়ে কি করে যাবো সেটাই ভাবছি।


তন্নি তখন বললো, তাহলে আমি একা একাই যাবো?

--একা যাবি কেনো?আমান আর তুই যাবি।

--ওকে।এই বলে খুশিতে লাফ দিয়ে উঠলো তন্নি। কতদিন পর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবে সে।আর সে বিয়েটা যদি বেস্ট ফ্রেন্ডের বাড়িতে হয় তাহলে তো আর কথাই নেই।কত দিন পর এমন আনন্দ করার সুযোগ পাবে সে।

তন্নি আর এক সেকেন্ড দেরী করলো না।তার রুমে গিয়ে কাপড় চোপড় প্যাক করতে লাগলো।


অন্যদিকে নোমান বেচারা বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকলো।কারণ তার কথা একবারের জন্যও কেউ বললো না।তন্নি ব্যস্ত তার যাওয়া নিয়ে অন্যদিকে তার বাবা ব্যস্ত আমান কে পাঠানোর জন্য।নোমান সেজন্য মন খারাপ করে থাকলো।তবে তার ভীষণ ইচ্ছা করছে তানিশাদের গ্রামে যেতে।অনেকদিন ধরে সে নিজেও তো কোনো প্রোগ্রামে যায় না।কিন্তু কেউ তো তাকে ইনভাইট ই করলো না।


তবুও নোমান একটু চেষ্টা করে দেখলো।সে তায়েব চৌধুরী কে বললো,বাবা আমান ভাইয়া এতো বড় একটা ঘটনা ঘটানোর পরও কি করে তাকে পাঠাতে চাইছেন?ওখানে গিয়ে যদি আবার খারাপ কিছু করে তানিশার সাথে।আমাদের মানসম্মান তখন কিন্তু একটুও থাকবে না।


তায়েব চৌধুরী তখন হাসতে হাসতে বললো,আর খারাপ কিছু করবে না সে।আমি আমানের সাথে এ নিয়ে কথা বলেছি।বেচারা তানিশাকে ভীষণ পছন্দ করে ফেলেছে।সেজন্য এমন পাগলামি করেছে।আমান তার ভুল স্বীকার করেছে আমার কাছে।সে এটাও বলেছে এমন ভুল আর কখনোই হবে না।আমানের প্রতি আমার যথেষ্ট বিশ্বাস আছে।এই বলে তায়েব চৌধুরী চলে গেলেন তার রুমে।


নোমান তখন মন খারাপ করে নিজেও তার রুমে চলে গেলো।


নোমানকে একটিবারের জন্য কেউ যেতে বলছে না, কারন বাসার সবাই জানে নোমান কোনো প্রোগ্রামেই যেতে চায় না।আর সেখানে বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে তিনচার দিন সময় নষ্ট তো সে কখনোই করবে না।কিন্তু তাদের নোমান যে ইতোমধ্যে কিছুটা চেঞ্জ হয়েছে সেটা এখন পর্যন্ত কেউই বুঝতে পারলো না।নোমান তানিশার বাড়িতে যাওয়ার জন্য এক পায়ে খাড়া হয়ে আছে।কেউ যদি একটিবার শুধু বলতো তাহলে সে সাথে সাথে রাজি হয়ে যেতো।


এদিকে তন্নি তো উত্তেজনায় একদম পাগল হয়ে যাচ্ছিলো।সে শুধু অপেক্ষা করছে কখন সে সময় আসবে?তন্নি ঠিক করলো সে কালকেই রওনা দিবে।কারণ দুই একদিন আগে না গেলে সে বিয়ে বাড়ির অনেক আনন্দই মিস করবে।কারণ সে বিয়ে বাড়ির সব আনন্দ উপভোগ করতে চায়।কোনো আনন্দ মিস করতে চায় না।


কিন্তু তার মা তো এখনো জানে না।সেজন্য তন্নি দৌঁড়ে তার মায়ের রুমে চলে গেলো।আর তার মায়ের গলা ধরে বললো,

আম্মু একটা কথা বলি?কথা দাও রাগ করবে না?

তাহমিনা চৌধুরী সেই কথা শুনে তন্নির হাত সরিয়ে দিয়ে বললো,ন্যাকামো না করে যা বলার বলে ফেল।

তন্নি তখন সাহস করে বলেই ফেললো যে সে তানিশাদের বাড়িতে যেতে চায়।কারণ তানিশা এই মুহুর্তে তাকে তার বোনের বিয়েতে ইনভাইট করলো।


তাহমিনা চৌধুরী শোনার সাথে সাথে বললো,না, আমি যেতে দিবো না তোকে।ওখানে গেলে পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।তাছাড়া অচেনা জায়গা অচেনা মানুষজন।না না যাওয়া হবে না ওখানে।


তন্নি তখন বললো,কিন্তু মামা যে পারমিশন দিলো।তিনি নিজেই আমাকে যাওয়ার জন্য বললেন।


তাহমিনা চৌধুরী সেই কথা শুনে বললো, তোর মামা যখন পারমিশন দিয়েই দিয়েছে তাহলে আমাকে বলতে এসেছিস কেনো?যা চলে যা।


তন্নি তখন তার মায়ের গলা ধরে বললো,তুমি আমার মা হও না?সেজন্য তোমার থেকে পারমিশন না নিয়ে কি করে যাই বলো?


তাহমিনা চৌধুরী সেই কথা শুনে বললো হইছে এবার। আর পাম দিতে হবে না।তা তুই একা একা কি করে যাবি?


--একা যাবো কেনো?আমান ভাইয়া আর আমি যাবো।


আমানের কথা শুনে তাহমিনা চৌধুরীর মাথা যেনো চক্কর দিয়ে উঠলো।তার ভাই আমানের ব্যাপারে সবকিছু জেনেও তাকে পাঠাচ্ছে কেনো?তার ভাই তো এ ধরনের লোক না।অন্যায় কে প্রশয় দেওয়ার লোক নন তিনি।নিশ্চয় এর পিছনে কোনো বড় ধরনের রহস্য আছে।


এজন্য তাহমিনা চৌধুরী তায়েব চৌধুরীর রুমে গিয়ে বললো, ভাই, ভাই তন্নি কি বলছে এসব?ও নাকি তানিশাদের বাড়ি যাবে।তুমিই নাকি যেতে বলেছো?


--হ্যাঁ।বলেছি।


--কিন্তু তন্নি একা একা কি করে যাবে?


--একা যাবে কেনো?আমান ও যাবে।


তাহমিনা চৌধুরী সেই কথা শুনে মাথায় হাত দিয়ে বললো,কি বলছো ভাই?আমানের ব্যাপারে এতোকিছু জেনেও কি করে ওকে পাঠাচ্ছো?


তায়েব চৌধুরী তখন বললো, তুই বুঝবি না ওসব।


--বুঝবো না মানে?বোঝালেই বুঝবো।


তায়েব চৌধুরী এবার তার গোপনীয় কথা টা পেটে বেশিক্ষণ রাখতে পারলেন না। তিনি তাহমিনা কে বললেন,

আসলে আমার অনেক ইচ্ছা আমানের সাথে তানিশার বিয়ে হোক।কিন্তু সেটা প্রকাশ করার আগেই আমান নিজেই যখন প্রকাশ করলো তখন আর কি বলবো তাকে?আমান তানিশাকে পছন্দ করে।সে ওকে বিয়ে করতে চায়।সেজন্য আমার মনে হয় আমানেরই যাওয়া উচিত তন্নির সাথে।এতে করে তানিশার ফ্যামিলি কিছুটা হলেও আমানের সম্পর্কে জানতে পারবে তাকে ভালোভাবে চিনবে।যাতে করে পরবর্তীতে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তানিশার ফ্যামিলি আর না করতে না পারে।


তাহমিনা চৌধুরী এবার পুরাই শকড খেলেন।তার ভাই তলে তলে এতোদূর পর্যন্ত পরিকল্পনা করে ফেলেছে।যেখানে সে কিছুই জানে না।অথচ তার ভাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবার আগে তার পরামর্শ নেন।অথচ এবার একা একাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তাহমিনা চৌধুরী তখন মনে মনে ভাবলো তুমি যেমন আমানের সাথে তানিশার বিয়ের কথা ভাবছো আমিও তেমন নোমান আর তন্নির বিয়ের কথা ইতোমধ্যে ভেবে ফেলেছি।তবে আমানের সাথে তানিশার বিয়ে আমি কিছুতেই হতে দেবো না।তানিশা এই বাড়ির বউ হবে?অসম্ভব! এ আমি হতে দেবো না। কিছু একটা বুদ্ধি বের করে আমানকে তানিশার থেকে দূরে পাঠাতে হবে।আর তন্নি আর নোমানকে কাছাকাছি আসার সুযোগ দিতে হবে।


--কি হলো?কি ভাবছিস?আর আমার আইডিয়া টা কেমন লাগলো?কিছু বললি না তো?


তাহমিনা চৌধুরী তখন বললো,খুব ভালো আইডিয়া ভাই।তবে আমি একটা কথা বলতে চাই শুনবে কি?


--কি কথা?


তাহমিনা চৌধুরী তখন কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,আমার ভীষণ ইচ্ছা ছিলো তন্নিকে এই বাড়িতেই রাখতে।তাছাড়া আমান আর নোমান অন্য জায়গায় বিয়ে করলে তাদের বউরা যে কেমন আচরণ করে আমার সাথে সেটা ভাবতেই আমার ভয় লাগছে।আমি আর এ বয়সে কোথায় যাবো ভাই?মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এখানেই থাকতে চাই।সেজন্য তুমি যখন আমানের সাথে তানিশার বিয়ে দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছো তাহলে অন্তত নোমানের সাথে তন্নির বিয়ে টা পাকা করে দাও।


তায়েব চৌধুরী সেই কথা শুনে তাহমিনার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো।তাহমিনা তার ভাইয়ের এমন চাহনি দেখে একদম ভয় পেয়ে গেলো।তাহমিনা ভাবলো তার ভাই এই প্রস্তাব শুনে নিশ্চয় ভীষণ রেগে যাবে।কিন্তু তায়েব চৌধুরী তার বোনকে অবাক করে দিয়ে বললো,

তন্নি কে আমি কেনো বার বার বলি যে ভালোকরে পড়াশোনা কর,তোকে মেডিকেলে চান্স পেতেই হবে।

--কেনো ভাই?

--কারণ একজন ডাক্তার ছেলে কখনোই কম মেধাবী স্টুডেন্ট কে পছন্দ করবে না।বা তাকে বিয়েও করতে চাইবে না।

--মানে?কি বলছো ভাই?  

--বুঝলি না?

--না তো।


তায়েব চৌধুরী তখন বললো, আমানের মা চলে যাওয়ার পর সংসার টা একদম আমার এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো।আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম প্রায়।সবাই বলেছিলো আরেকটা বিয়ে করতে কিন্তু ছেলে দুইটার ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজি হই নি।অনেক কষ্টে ছেলেদুই টাকে নিয়ে বেঁচে আছি।দেখ ভাগ্যের কি পরিহাস,তুই ও ঘরছাড়া হলি সেই সময়ে।নিজের স্বামীর সংসার বাদ দিয়ে তোর ভাই এর সংসার টাকে নিজের করে নিলি।তুই না থাকলে আমার সংসার টা এমন গোছানো হতো না।সেজন্য এই সুখের সংসার টাকে আরো ভালোভাবে সাজাতে আমার দুইজন লক্ষ্ণীর প্রয়োজন এখন।যারা দুইজন বোনের মতো একসাথে থেকে সংসার টাকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করবে।

আমি অনেক আগে থেকেই তন্নিকে নোমানের জন্য ঠিক করে রেখেছি।কারণ তন্নি এতোবেশি চালু না।সে ছোট বউ হলেই বেশি মানাবে।তাছাড়া আমার নোমানের সাথে বেশ মানাবে তাকে।তবে যেদিন থেকে তানিশাকে দেখলাম,ওকে দেখেই যেনো মনে হলো আমার বাড়িরই সদস্য সে।কেমন সহজেই মিশে গেলো আমাদের পরিবারের সাথে।ওকে আমি আমার আমানের বউ বানাবোই বানাবো।বাকিটা এখন উপরওয়ালার হাতে।সে হবে আমার বাড়ির বড় বউ।


তাহমিনা চৌধুরী তার ভাই এর কথা শুনে একদম কেঁদে ফেললেন।তবে তিনি তানিশাকে মোটেও এ বাড়িতে আনতে চান না।তানিশাকে দেখলেই কেমন যেনো রাগ ওঠে তার।তবে তার ভাই যখন চাচ্ছে তখন তো মেনেই নিতে হবে।


অন্যদিকে তন্নি নিজেও মনে মনে নোমানকে ভীষণ পছন্দ করে।নোমানের তার প্রতি এক্সট্রা কেয়ারগুলো সত্যি তার ভালো লাগে।সারাক্ষণ পড়তে বসতে বলা।খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দেওয়া।বেশি রাত না জাগা।বাহিরে গেলেই তার জন্য হরেক রকমের খাবার আনা।সে অসুস্থ হলে ভীষণ টেনশন করা,বার বার তার খোঁজখবর নেওয়া।এসব এক্সট্রা কেয়ারগুলোতে সে ভীষণ ভাবে দূর্বল নোমানের প্রতি।আজকাল নোমান কে ভাইয়া বলে ডাকতে তার কেমন যেনো লাগে।কিন্তু সে যে তার মামাতো ভাই,সেজন্য এক প্রকার বাধ্য হয়েই ভাই বলে ডাকতে হচ্ছে তাকে।

তন্নি সেদিন তানিশাকে নোমানের কথাই বলতে চাইছিলো।কিন্তু যেখানে সে নোমানের মনের খবর এখন পর্যন্ত পাই নি সেখানে কোন সাহসে তার ভালোবাসা সে প্রকাশ করবে?সেজন্য তার মনের কথা আড়ালেই রয়ে গেলো।


তন্নি দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে তার মা আর মামার সব কথা শুনে ফেললো।সে তো ভাবতেই পারছে না এইভাবে তার মনের আশা এতো সহজে পূরণ হয়ে যাবে।নোমানকে সে সারাজীবনের জন্য আপন করে পাবে ভাবতেই তার পুরো শরীর কম্পিত হতে লাগলো।বুকের ভিতর ধুকপুকানি শুরু হয়ে গেলো।এখন সে কি করে নোমানকে ভাইয়া বলে ডাকবে আর কি করেই বা  তার সামনে যাবে?বিয়ে না হতেই কেমন যেনো লজ্জা লজ্জা লাগছে তার!


ঠিক সেই সময়ে নোমান এলো তন্নির কাছে।আর বললো তন্নি তুই কি আমান ভাইয়ার সাথে একাই যেতে পারবি?তোর সাথে আর একজন গেলে ভালো হতো না?


তন্নি নোমানের কথা শুনে আরো বেশি লজ্জা পেলো।সে বুঝতে পারলো নোমানও তাদের সাথে যেতে চাচ্ছে।কিন্তু সেটা পরিষ্কার করে বলছে না কেনো নোমান?তাহলে কি নোমানও তাদের দুইজনের বিয়ের কথা জানে?


--কি হলো তন্নি?ওভাবে হা করে কি দেখছিস আমাকে?দেখিস নি কোনোদিন?


তন্নি নোমানের কথা শুনে হেসে উঠে নিচ মুখ হলো।সে কি করছে এটা?এভাবে তাকিয়ে আছে কেনো নোমানের দিকে?


নোমান তন্নিকে এমন করা দেখে তার কাছে এসে তার মাথায় টেলা দিয়ে বললো,কি রে তোর হয়েছে টা কি?

এমন বিহেভ করছিস কেনো?

না বিয়ে বাড়ি যাবার আনন্দে পাগল টাগল হয়ে গেলি?


তন্নি সেই কথা শুনে হঠাৎ দৌঁড়ে সেখান থেকে চলে গেলো।


অন্যদিকে নোমান বেচারা মনে মনে বলতে লাগলো,যাকেই বোঝাতে যাচ্ছি সেই বুঝতে পারছে না তাকে।কারো কি বোঝার ক্ষমতাই নাই তাকে।তার মনের কথা কেউ কি বুঝতে পারছে না?নোমান তখন উপর দিকে তাকিয়ে বললো,

One's unlucky, Always unlucky(অভাগা যেদিকে চায়,সাগর শুকিয়ে যায়)


নোমানকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে হঠাৎ তাহমিনা চৌধুরী আসলো সেখানে,আর বললো, বাবা নোমান আজ তুমি ওয়ার্ডে যাবে না?


--না ফুপি।আজ কেনো জানি ভালো লাগছে না।


--কেনো?কি হয়েছে?শরীর খারাপ লাগছে?এই বলে তাহমিনা নোমানের কপালে হাত দিয়ে চেক করতে লাগলো।আর বললো,না তো,সব কিছু তো ঠিকই আছে।তা বাবা কেনো তোমার এতো খারাপ লাগছে আজ?


নোমান তখন তাহমিনা চৌধুরী কে জড়িয়ে ধরে বললো, জানি না ফুপি।আজ কেনো জানি কিছুই ভালো লাগছে না।ইচ্ছে করছে দুই তিন দিনের জন্য কোথাও গিয়ে ঘুরে আসি।আর সারাক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে না।


তাহমিনা চৌধুরী সেই কথা শুনে বললো, তাহলে তন্নির সাথে তুমিও যাচ্ছো না কেনো?


নোমান তাহমিনা চৌধুরীর কথা শুনে যেনো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়ে গেলো।খুশিতে তার চোখমুখ একদম গদগদ হয়ে গেলো। তখন সে মনে মনে ভাবলো,কেউ যেতে বললে তো সে যাবে।কিন্তু কেউ তো বলছেই না যেতে।

যাক অবশেষে কেউ একজন বুঝতে পারলো তার মনের কথা।


--কি হলো নোমান?কি এতো ভাবছো?এতো ভেবে লাভ নাই।যাও তন্নির সাথে একটু বিয়ে বাড়ি থেকে ঘুরে আসো।দেখবে মনটা একদম ভালো হয়ে যাবে।তাছাড়া কখনোই তো তুমি গ্রামের বিয়ে বাড়িতে যাও নি।গ্রামের বিয়ে বাড়িতে কিন্তু অনেক মজা হয়।একবার গেলে বার বার যেতে চাইবে।


নোমান বেশি আগ্রহ প্রকাশ করলো না।কারণ বেশি আগ্রহ দেখালে তার ফুপি ভাববে সে আগে থেকেই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।তবে নোমান তার ফুপির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো আর একবার ভালো করে বলো ফুপি।আরেকটু জোর করো আমাকে।তুমি না বললে আর কেউ বলবে না।আমার যে খুব বেশি দেখতে ইচ্ছে করছে তানিশাকে।সরি,সরি তানিশার গ্রামকে।কি ভাবছি এসব ভুলভাল আমি।


তাহমিনা চৌধুরী হঠাৎ আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলেন।নোমান বুঝতে পারলো না কিছু।আদৌ কি তার যাওয়া হবে?ফুপি কি তার যাওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দেবে?


রাতের বেলা সবাই যখন একসাথে খাবার খাচ্ছিলো হঠাৎ নোমানকে খাবার টেবিলে দেখে তায়েব চৌধুরী বললেন,

নোমান তুমি আজ ওয়ার্ডে যাও নি?


--না বাবা।


--কেনো?


--আজ যেতে ইচ্ছে করলো না।


--হ্যাঁ ঠিক করেছো না গিয়ে।মাঝে মাঝে একটু বিরতি নেওয়ারও দরকার আছে।তুমি তো পড়াশোনার বাহিরে আর কিছু ভাবতেই চাও না।


--জ্বি বাবা।নোমান কিছুক্ষন তার বাবার দিকে তাকিয়ে রইলো, যদি তার বাবা নিজের মুখে তানিশাদের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে।কিন্তু তায়েব চৌধুরী আর একটা কথাও বললেন না।আপন মনে খাবার খেতে লাগলেন।


কিন্তু নোমান যখন দেখলো রাত পেরোলেই ঠিক ভোরে আমান আর তন্নি বের হবে বাসা থেকে,আর এখন পর্যন্ত কেউ তার যাওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস হলো না তখন নোমান রাগ করে খাওয়া বাদ দিয়ে টেবিল থেকে উঠে গেলো।

কিন্তু তাতেও কেউ কিছু বললো না।শুধু তার বাবা বললো,এই নোমান, খাওয়া বাদ দিয়ে যাচ্ছিস কেনো?ব্যাস,এইটুকুই।সেজন্য নোমান বুঝতে পারলো তার যাওয়া অনিশ্চিত। আর আশা করে লাভ নেই।


নোমান সারারাত ছটফট করতে করতে পার করে দিলো।এক ফোঁটা ঘুম এলো না তার চোখে। সে বুঝতে পারছে না তার এমন হচ্ছে কেনো?কেমন যেনো শূন্য শূন্য লাগছে সবকিছু।তার মনের অবস্থা প্রকাশ করার ক্ষমতা সত্যি তার নেই।যদি প্রকাশ করতে পারতো তাহলে বোধহয় এতো অসহায় লাগতো না তাকে।সারারাত নির্ঘুমে কাটিয়ে দিলো সে।


তন্নি ঠিক ভোর পাঁচটায় উঠলো।আমানও উঠেছে।দুইজন একদম পুরোপুরি রেডি।তন্নি পড়েছে সাদা আর লালের কম্বিনেশনে হাতের কাজ করা সুন্দর একটি থ্রি পিচ।সে ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়তে চাইছিলো কিন্তু তার মা বারণ করে দিলো বিধায় এই ড্রেস টা পড়েছে সে।তন্নির গায়ের কালার কিন্তু লাল ফর্সা।বেশি ধবধবে সাদা নয় সে।তবে তার চেহারায় একটা আলাদা মাধুর্য আছে।কারণ হাসলে গালে একটা টোল পড়ে।উচ্চতা ৫" ৩ এর মতো হবে।চুলগুলো বেশি বড় না।সেজন্য চুল গুলো বেশিরভাগ সময় সে খুলেই রাখে।আজ তন্নিকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছিলো।অন্যদিকে আমান পড়েছে আকাশী কালারের শার্টের সাথে ধূসর কালারের নরমাল প্যান্ট।সাথে আবার কালো সানগ্লাস।আমান বেশিরভাগ সময় নরমাল প্যান্টই পড়ে।কারণ সে তার বেশি উচ্চতার কারণে মন মতো প্যান্ট খুঁজে পায় না।আমানের উচ্চতা ফুল ৬ ফুট।অনেক বেশি লম্বা হওয়ার কারণে তাকে তালগাছের মতো দেখা যায়।


 তন্নি আর আমান দুইজনই যখন তাদের লাগেজ নিয়ে বের হচ্ছিলো ঠিক তখনি দেখে নোমান নিজেও একদম সেজেগুজে দাঁড়িয়ে আছে।সাদা কালারের শার্ট সাথে আবার টাইট ফিটিং জিন্সের প্যান্ট পড়েছে সে।আর চোখে তার ডেইলি ব্যবহারের সেই চারকোনা ফ্রেমের অবতল লেন্সের মাইনাস পাওয়ারের চশমা।নোমান চশমা ছাড়া দূরের জিনিস ঝাপসা দেখে যার কারণে সবসময় তাকে চশমা পড়েই থাকতে হয়।নোমানের উচ্চতা ৫" ১০. আমানের থেকে দুই ইঞ্চি শর্ট হওয়ায় আমান সবসময় তাকে বেটে বলে ক্ষেপায়।আর কানা কানা করে তার কান একদম ঝালাপালা করে দেয়।


আমান আর তন্নি বেশ অবাক হলো নোমানকে দেখে।তারা বিস্ময় ভরা চোখ নিয়ে দুইজন দুইজনার দিকে তাকাতেই তায়েব চৌধুরী এসে বললেন, তোমরা রেডি?যাও তাড়াতাড়ি গাড়িতে গিয়ে বসো।


তন্নি আর আমান সেই কথা শুনে গাড়ির দিকে চলে গেলেও নোমান তার জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রইলো।

তায়েব চৌধুরী তখন বললো, কি হলো নোমান?তুমি যাচ্ছো না কেনো?নোমান তখন একটু ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো,বলছি তো আমি যেতে চাই না।আমার ভালো লাগে না কোনো অনুষ্ঠানে যেতে।

তায়েব চৌধুরী তখন বললো, বাবা জিদ করো না এমন।তুমি না গেলে তানিশার বাবা ভীষণ মন খারাপ করবেন।আমিও যাচ্ছি না, অন্তত তোমরা তিনজন যাও।তবুও একটু খুশি হবেন তিনি।


আসলে তহিদুল সাহেব সকালবেলা আবার ফোন করেছিলো তায়েব চৌধুরী কে।তারা কখন বের হবেন জানার জন্য?

কিন্তু তায়েব চৌধুরী যখন বললো তিনি যাচ্ছেন না তন্নি আর আমান যাচ্ছে তখন তহিদুল সাহেব বললেন,শুধু আমান আর তন্নি কেনো?নোমান বাবাজিকেও পাঠিয়ে দিয়েন।সেই কথা শুনে তায়েব চৌধুরী বললেন ঠিক আছে।আর সেজন্য তিনি সকাল সকাল নোমানকে ডেকে দিয়েছেন।

নোমান তো জেগেই ছিলো।সেজন্য তার বাবার এক ডাকেই সে উঠে পড়েছে।আর তানিশার বাড়ি যাওয়ার কথা শুনে এক লাফে বিছানা থেকে নেমে রেডি হয়ে তার কাপড়চোপড় প্যাক করাও শেষ করেছে।


এখন যাওয়ার সময় হয়ে গেছে তাদের।এতোক্ষণ দিয়ে নোমান বলতেছে,বাবা আমাকেও যেতে হবে?আমি না গেলে হয় না?


তায়েব চৌধুরী তখন বললো, আবার সেই একই কথা।যাও গাড়িতে গিয়ে বসো।

এদিকে নোমানের মনে তো খুশির ঠেলায় লাড্ডু ফুটতেছে।


নোমান গাড়িতে বসতেই আমান বললো,মুখখানা ওমন ভার করে আছিস কেনো?এভাবে জোর করে যাওয়ার কি দরকার ছিলো?যেতে যখন মন চাইছেই না তাহলে যাস না।তাই না তন্নি?


তন্নি সেই কথা শুনে হেসে উঠে নিচমুখ হলো।কারন নোমানের মুখ খান দেখে সত্যি তার হাসি পাচ্ছে।কেমন হুতুম প্যাঁচার মতো চুপটি করে বসে আছে।বোঝাই যাচ্ছে তাকে জোর করে পাঠানো হচ্ছে।

নোমান মনে মনে ভাবতেছে তার ডাক্তার হওয়ার পাশাপাশি সে এক্টর হলেও ভালো কিছু করতে পারতো।কি মারাত্মক রকমের এক্টিং জানে সে?একদম নিঁখুত অভিনয়।বোঝাই যাচ্ছে না মনে মনে সে খুশির ঠেলায় গড়াগড়ি খাচ্ছে।তার মন শুধু বলছে কখন বের হবে তানিশাদের বাড়ি।আর কখন সে তানিশাকে দেখতে পাবে।সরি তানিশার বড় বোনকে।যার বিয়ে তে সে যাচ্ছে।


নোমানের মনে বার বার তানিশার কথা কেনো আসছে  সত্যি সে বুঝতে পারছে না।

সে তো তানিশার গ্রাম,এলাকা,এলাকার মানুষ জন কে দেখতে যাচ্ছে।তানিশা কে দেখার মোটেও ইচ্ছে নাই তার।


নোমানকে এমন বিড়বিড় করা দেখে আমান বললো,কি রে পড়া মুখস্ত করছিস নাকি?তা দুই চারখানা বই সাথে নিলেও তো পারতিস।তাহলে এভাবে বিড়বিড় করা লাগতো না।আমরা বিয়ে বাড়িতে মজা করতাম আর তুই বই হাতে নিয়ে বিড়বিড় করে পড়তিস।

তন্নি আমানের কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলো।

 

ঠিক তখনি নোমান তার ব্যাগের চেন খুলে সত্যি সত্যি একটা বই বের করলো।আর চুপচাপ দেখতে লাগলো।


আমান নোমানকে এভাবে বই পড়া দেখে বললো,তুই ভালো হবি না জীবনে?তুই সত্যি সত্যি বই নিয়ে এসেছিস?বিয়ে বাড়িতে বই নিয়ে যেয়ে কি করবি?


--ভাইয়া ডিস্টার্ব করো না প্লিজ।আমার বিষয় আমাকেই ভাবতে দাও।


আমান সেই কথা শুনে কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে গান শুনতে লাগলো।

আর তন্নিকে চুপচাপ থাকা দেখে বললো, তুই বসে আছিস কেনো?তুই ও বই বের করে পড়া শুরু কর।


তন্নি সেই কথা শুনে বললো না আমি পড়বো না।


--তাহলে গান শোন।এই বলে আমান আরেকটা ইয়ার ফোন তন্নির দিকে ছুঁড়ে মারলো।


নোমান বই হাতে আর আমান,তন্নি গান শুনতে শুনতে পাঁচ ঘন্টার রাস্তা পারি দিলো।তারা সাতটায় গাড়িতে উঠে  ঠিক বারোটায় তানিশাদের গ্রামে পৌঁছলো।কিন্তু তানিশাদের বাড়ির রাস্তা আসলে কোনটা সেটা বুঝতে পারলো না কেউ।তানিশা আজ যেহেতু একটু ব্যস্ত সেজন্য তারা তাকে ফোন করে আর বিরক্ত করলো না।


আমান এবার ড্রাইভার কে গাড়ি থামিয়ে দিতে বললো আর জানালা খুলে উঁকি মেরে লোকজন খুঁজতে লাগলো।হঠাৎ একদল পিচ্চি ছেলে গাড়ি দেখে এগিয়ে আসলে আমান বললো,তানিশাদের বাড়ি কোনটা?


তখন এক পিচ্চি বললো কোন তানিশা?

তখন ঐ দলেরই অন্য আরেক  পিচ্চি আবার আরেক পিচ্চিকে বলছে,মনে হয় ডাক্তার ম্যাডামের কথা কচ্ছে।


আমান ডাক্তার ম্যাডাম নাম শুনে বললো হ্যাঁ হ্যাঁ ডাক্তার ম্যাডামের বাড়ি।

আসলে তানিশাকে যে তার এলাকার সবাই এখন ডাক্তার ম্যাডাম নামে চেনে সেটা আমান ভালো করেই জানে।তন্নিও জানে এটা।কারণ তানিশা নিজেই এ কথা বলেছে তাদের।সেজন্যই তো আমান ফেক আইডি দিয়ে মেসেজ দেওয়ার সময় ডাক্তার ম্যাডাম সম্বোধন টি ব্যবহার করেছিলো।


তবে নোমান আজ দিয়ে ফাস্ট শুনলো যে তানিশাকে সবাই ডাক্তার ম্যাডাম বলে ডাকে।নোমান তখন মনে মনে ভাবতে লাগলো ফাইনাল ইয়ারে উঠেও আজ পর্যন্ত কেউ তাকে বললো না এই ছেলেটি ডাক্তার হতে চলেছে,  আর তানিশা ফাস্ট ইয়ারেই ডাক্তার ম্যাডামের উপধি পেয়ে গেছে!সত্যি মেয়েটা সৌভাগ্যবান।


পিচ্চি ছেলেগুলোর সহায়তায় নোমানরা তানিশার বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো। গাড়ি নিয়ে গ্রামের ভিতর ঢোকা যাবে না বলে।কারণ গ্রামে ঢোকার রাস্তাটি ভীষণ চিকন ছিলো। সেজন্য তারা এখানেই নেমে গেলো।আর ড্রাইভার গাড়িটি একটা প্রাইমারি স্কুলের মাঠে পার্কিং করলো।


তানিশাদের গ্রামের নাম ছিলো সুন্দর পুর।আসলেই গ্রামটি ভীষণ সুন্দর।সেজন্যই বোধ হয় এ গ্রামের নাম সুন্দরপুর রাখা হয়েছে। গ্রামের পাশেই রয়েছে একটি বড় ঝিল।যাতে নানা রকমের পদ্ম আর শাপলা ফুটে আছে।গ্রামের চারপাশে রয়েছে সবুজের মেলা।বিভিন্ন রকমের ফলমূলের গাছ,শাকসবজি,আর হরেক রকমের পাখির ডাক গ্রামটিকে করে তুলেছে যেনো এক শান্তির দ্বীপ।বিশাল এক ফলের বাগানের মধ্য দিয়ে তারা তানিশার বাড়িতে ঢুকলো।এই ফলের বাগানটি ছিলো তানিশার বাবার।এই বাগানে খেলাধুলা করেই তানিশার শৈশব কেটে গেছে।তানিশা তাদের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করেছে আর নিকটতম এক হাইস্কুলে তার মাধ্যমিক লেভেল পার করেছে।কিন্তু তহিদুল সাহেব যখন দেখলেন তার মেয়ে যথেষ্ট মেধাবী আর পড়াশোনায় ভীষণ মনোযোগী তখন তিনি তানিশাকে ঢাকার কলেজে ভর্তি করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন।ঢাকার কলেজে ভর্তি হয়েই তানিশা আজ এতোদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছে।


#চলবে,কে কে ভেবেছিলে আজ বোনাস পর্ব পাবে?


সপ্তম পর্ব ( পর্ব) পড়তে ক্লিক করুনঃ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url