Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৭ Bangla Romantic Golpo

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৭ Bangla Romantic Golpo bangla golpo pdf bangla premer golpo bangla golpo chotoder bangla golpo book bangla golpo lyrics Romantic Love Story in Bengali Bengali Romantic Love Story Valobashar Golpo Valobashar Romantic Premer Golpo Bangla Bengali Romantic Story Bangla Love Story ভালোবাসার গল্প প্রেমের গল্প লাভ স্টোরি রোমান্টিক ভালবাসার গল্প বাংলা Premer Golpo Bangla বাংলা মিষ্টি প্রেমের গল্প Moner Rong.

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৭ Bangla Romantic GolpoDoctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৭ Bangla Romantic Golpo
Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৭ Bangla Romantic Golpo

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৭ Bangla Romantic Golpo

Doctor Madam - ডাক্তার ম্যাডাম । পর্বঃ ০৭ Bangla Romantic Golpo bangla golpo pdf bangla premer golpo bangla golpo chotoder bangla golpo book bangla golpo lyrics Romantic Love Story in Bengali Bengali Romantic Love Story Valobashar Golpo Valobashar Romantic Premer Golpo Bangla Bengali Romantic Story Bangla Love Story ভালোবাসার গল্প প্রেমের গল্প লাভ স্টোরি রোমান্টিক ভালবাসার গল্প বাংলা Premer Golpo Bangla বাংলা মিষ্টি প্রেমের গল্প Moner Rong.


কবে যে কন্যার হাতটি

আমার হাতে রাখিবে

সেদিন দুটি মনের ভেতর লাড্ডু ফুটিবে

হলুদ বাঁটো, মেন্দি বাঁটো, বাঁটো ফুলের মৌ,

বিয়ের সাজে সাজবে কন্যা নরম নরম বউরে

|

|


লীলাবালি লীলাবালি

বড় যুবতী সই গো

বড় যুবতী সই গো

কি দিয়া সাজাইমু তোরে

|

|

উঠ চুরি তোর বিয়ে হবে , ঘুমটা মাথায় দিয়ে হবে ,


উঠ চুরি তোর বিয়ে হবে , শাজনা তলায় গিয়ে হবে ,


উঠ চুরি তোর বিয়ে হবে রে, বিয়ে হবে রে …

|

|


সবগুলো পর্ব পড়তে ক্লিক করুনঃ

 ষষ্ট পট ( পর্ব) পড়তে ক্লিক করুনঃ



তিন চার টা সাউন্ড বক্স সেট করা হইছে।একেক টা বক্স থেকে একেক রকম মিউজিক বাজছে।বোঝাই যাচ্ছে এটাই সেই বিয়ে বাড়ি।এবার আর নোমানদের বলে দিতে হবে না কোনটা তানিশাদের বাড়ি?

গান বাজনা শুনে মনে হচ্ছে আজকেই বিয়ে হচ্ছে।আসলে এটাই হলো বিয়ে বাড়ির আসল মজা।বিয়ের দুই তিন দিন আগে থেকেই সবাই গান বাজিয়ে মজা করতে থাকে।


নোমানরা বাড়ির ভিতর ঢুকতেই দেখে বিশাল বড় একটা বিয়ের গেট বানানো হয়েছে। আর তাতে বড় করে লেখা তানিয়ার শুভ বিবাহ।নোমানরা বাড়ির ভিতর পা দিতেই পিচ্চি ছেলেগুলো চিৎকার করে বলতে লাগলো ডাক্তার ম্যাডামের শহরের বন্ধু বান্ধবরা এসেছে।


মুহুর্তের মধ্যে সবাই তাদের দেখার জন্য ঘিরে ধরলো।গ্রামের আরো অনেক পিচ্চি পিচ্চি পোলাপান তো আছেই তার সাথে মহিলা গুলোও ভীড় ধরলো।সবার এমন কৌতুহল দেখে নোমান, তন্নি আর আমান বেশ অবাক হলো।মনে হচ্ছে তারা কোনো সেলিব্রিটি। তাই তাদেরকে এভাবে দেখছে।আসলে গ্রামের মানুষ রা খুবই সহজ সরল আর ভালো মনের হয়।যার কারণে তাদের মনে কোনোরকম হিংসা থাকে না।তাছাড়া শহর থেকে কেউ গ্রামে এলে তারা খুব কৌতুহল নিয়ে দেখতে আসে তাদের।কিন্তু শহরের লোক তো অহংকারের জন্য কেউ কারো বাসায় যাওয়া দূরের কথা দেখলেও কথা বলে না।আর এভাবে তো জীবনেও ঘীরে ধরে থাকবে না।


নোমানরা বুঝে গেলো তারা আসায় বেশ খুশিই হয়েছে সবাই।


হঠাৎ ভিড় ঠেলে তানিশা প্রবেশ করলো আর তন্নিকে দেখামাত্র জড়িয়ে ধরে বললো, আসতে কোনো সমস্যা হয় নি তো?

তন্নি নিজেও বেশ খুশি হলো তানিশাকে দেখে।সেও ভালোভাবে জড়িয়ে ধরে বললো,না হয় নি।আমরা একদম সুস্থ আর নিরাপদ ভাবেই পৌঁছে গেছি।


দুই বান্ধবীর এমন জড়াজড়ি দেখে নোমান আর আমান হা করে তাকিয়ে থাকলো।হয় তো দুইজনই মনে মনে ভাবছে তাদের যদি এভাবে কেউ একটু জড়িয়ে ধরতো।কিন্তু তাদের কি সেই কপাল আছে।তারা দুইজনই মনে মনে ভাবতে লাগলো,আহা! কি মহব্বত দুই বান্ধবীর মধ্যে।কবে যে এমন মহব্বত আমাদের মধ্যে হবে?


তানিশা এবার তন্নি কে ছেড়ে দিয়ে বললো,চলো সবাই, রুমে গিয়ে বসো।আগে ফ্রেশ হয়ে নিতে হবে।

আমান আর তন্নি সেই কথা শুনে রুমের ভিতর চলে গেলো।কিন্তু নোমান তার জায়গাতেই দাঁড়িয়ে রইলো।

সে একটু তানিশার মুখ থেকে কথাটা আলাদা ভাবে শুনতে চাইছিলো।তানিশা তাকে নিজের মুখে বলুক আপনি ওভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?রুমে চলুন।


তানিশা আগে আগে রুমে চলে গেলো ।তার পিছু পিছু আমান আর তন্নি গেলো রুমে।তানিশা যখন দেখলো নোমান আসে নি,সে তখন বাহিরে তাকালো।সে দেখলো নোমান দাঁড়িয়েই আছে বাহিরে।তখন তানিশা নোমানের কাছে গিয়ে বললো,


আপনাকে কি রুমে আসার জন্য আবার আলাদা করে বলতে হবে?


নোমান কোনো উত্তর দিলো না।সে তখন ভদ্র ছেলের মতো নিচ মুখ হয়ে চলে গেলো রুমে।

তবে অনেকদিন পর তানিশাকে দেখতে পেয়ে কেমন যেনো অন্যরকম এক অনুভূতি হলো নোমানের।বুকের যে পাশ টা খালি খালি লাগছিলো তা মুহুর্তের মধ্যে যেনো পূরণ হয়ে গেলো।হার্টবিট তো সেই হারে উঠানামা করছে তার।নিজেকে আগের থেকে একটু স্ট্রং ও মনে হচ্ছে।মনে হচ্ছে সে যেনো এক নতুন শক্তির সন্ধান পেয়ে গেছে।

এটাও কি সম্ভব?এতোদিন কেমন যেনো তাকে অসহায় অসহায় লাগছিলো।আর আজ হঠাৎ এই মেয়েকে দেখার পর এতো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে নিজের মধ্যে সে। নোমান কি তাহলে সত্যি সত্যি প্রেমে পড়ে গেছে।কিন্তু সে তো প্রেম ভালোবাসায় বিশ্বাস করে না।তাহলে এটা কিসের অনুভূতি?আচ্ছা যদি সে তাকে না পায়,তাহলে কি সারাজীবন এমন শূন্য শূন্য লাগবে তার?

না,না কিছুতেই সে এটা হতে দিতে পারে না।যে করেই হোক এই শূন্যস্থান তাকে পূরণ করতেই হবে।


এদিকে তানিশা হাত নেড়ে নেড়ে তন্নির সাথে কথা বলছে।মনের সুখে নানা ধরনের গল্প করছে।আমানও সেই সুযোগে তাল মিলাচ্ছে।তানিশার সাথে ভাব জমানোর ট্রাই করছে।যদিও আগে থেকেই তানিশার সাথে তার বেশ ভালো সম্পর্ক। কিন্তু এখন সে তো সেই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে নতুন আরেক সম্পর্ক গড়ার স্বপ্ন দেখছে।বেচারা তো ভেবেই নিয়েছে তানিশার সাথে তার সত্যি সত্যি বিয়ে হবে।কারণ তার বাবা যে নিজের মুখে বলেছে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তানিশার বাড়ি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবেন।


নোমান অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো তানিশার দিকে।তার কেনো জানি আজ ইচ্ছা করছে তানিশার হাত দুটি শক্ত করে ধরে রাখতে।তারপর সেই হাত দুটি তার বুকে রেখে বলতে,

তানিশা তুমি কি কিছু শুনতে পারছো?যদি সত্যি কিছু শুনতে পাও তাহলে প্লিজ আমাকে আর কষ্ট দিও না।আমি এখন তোমাকে না দেখলে এক মুহুর্ত ও থাকতে পারছি না।এ কোন মায়ায় জড়ালে আমাকে?


অন্যদিকে তন্নি ভাবছে নোমান বোধহয় তাকেই দেখছে।সেজন্য সে সাথে সাথে তার চোখ ফিরিয়ে নিলো আর মনে মনে ভাবতে লাগলো,এতো লোকের সামনে এভাবে দেখার কি মানে?আর কিছুদিন পরে আর এভাবে দূর থেকে দেখতে হবে না।দুইজন সামনাসামনি আর পাশাপাশি থাকবো সারাক্ষণ! 


ভালোবাসা গুলো মনে হয় এমনি হয়।কার প্রতি কার কখন ভালোবাসা জন্মে সেটা কেউ বলতে পারে না।আর যখন কেউ কাউকে ভালোবাসে সে তখন শুধু তাকে নিয়েই ভাবতে থাকে।আর দুইজনের জন্য মনে মনে এক নতুন জগত তৈরি করে ফেলে।সেই জগতে সবসময় শুধু তাদের দুইজনকেই নিয়ে কথা হয়,তৃতীয় পক্ষের কোনো জায়গা থাকে না সে জগতে।


পিচ্চি ছেলেমেয়ে আর মহিলাদের কিচিরমিচির আওয়াজে সবাই সবার কল্পনার রাজ্য থেকে ফিরে এলো।কারণ পুরো বাড়ি লোকে গমগম করছে।আত্নীয় স্বজন দিয়ে ভরে গেছে পুরো বাড়ি। 

সেজন্য আজ তানিশাদের বাড়িতে একটা রুমও ফাঁকা নেই।সব রুম আত্নীয় স্বজনরা ব্লক করে রেখেছে।তবে তানিশা দুইটা রুমে আগে থেকেই তালা দিয়ে রেখেছিলো নোমানদের জন্য।


তানিশা এবার সবাইকে তার রুমে নিয়ে গেলো।সবাই তানিশার রুমটি এক নজরে দেখে নিলো।

রুমের ভিতরের দেয়ালে গোলাপি রঙ করা।আর সাদা কালারের ছাদ।তানিশাদের বাড়িটি ইটের তৈরি আর ঘরের উপরে রঙিন টিন লাগানো।বোঝাই যাচ্ছে এ বাড়ির লোকজন খুব সৌখিন।ঘরের বাহিরের দেয়াল সাদা কালারের হলেও একেক রুমে একেক কালার করা।তানিশার রুমের সাথের বারান্দার সাইটে সুন্দর একটা ফুলের বাগান ও আছে।আর পুরো বাড়ি উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।


তানিশাদের বাড়ি দেখে সবার চোখ যেনো জুড়িয়ে গেলো।শহরের দশ পাঁচতলা বিল্ডিং এর থেকেও গ্রামের বাড়িগুলো সত্যি চমৎকার। তবে সবার বাড়ি এরকম সুন্দর না।যে যার রুচিমতো তাদের বাড়িটা সাজিয়ে নিয়েছে।


তানিশার রুমে বেশি  ফার্নিচার নাই।শুধু একটা সিংগেল বক্স খাট, একটা পড়ার টেবিল।আর কাপড় রাখার জন্য ওয়ারড্রব আর আলনা।

তানিশার বাবা তহিদুল সাহেব হলেন এলাকার একজন নামকরা ব্যক্তি যাকে এক নামে সবাই চেনে।কারণ তানিশার বাবার অনেক জমিজমা আছে গ্রামে।গ্রামের অর্ধেক জমিই মনে হয় তাদের।জমিগুলো অবশ্য তহিদুল সাহেব নিজে করেন নি,পৈত্রিক সূত্রে পেয়েছেন।তানিশার নিজের কোনো ভাই নাই।তবে চাচাতো,ফুফাতো,মামাতো অনেক ভাই ই আছে।


এবার তানিশার মা শিউলি বেগম সবার জন্য ঠান্ডা ঠান্ডা কিছু ফলের জুস  নিয়ে এলেন।যাতে করে এই গরমে সবাই একটু সতেজ অনুভব করে।তানিশার মায়ের সাথে তার দাদীও এসেছেন।ওনার হাতে ছিলো হরেক রকমের নাস্তার ট্রে।


তানিশা তার মা আর দাদীকে দেখিয়ে দিয়ে বললো,

ইনি হলেন আমার মা,আর ইনি হলেন আমার দাদী।


তন্নি, আমান আর নোমান সেই কথা শুনে একসাথে উঠে  সালাম দিলো তানিশার মা আর দাদীকে।


তানিশার মা সালামের উত্তর নিয়ে বললো,বসো বসো।দাঁড়ালে কেনো?

সেই কথা শুনে সবাই বসে পড়লো।

তানিশার দাদী তখন বললো,তোমাদের কথা অনেক শুনেছি তানিশার কাছে।তানিশা বাড়ি আসলে শুধু তোমাদের কথাই বলে।তন্নির কথা তো সবসময়ই বলে,তার সাথে নোমানের কথাও খুব বলে।কে সেই নোমান?সারাক্ষণ নাকি শুধু সে পড়ালেখাই করে।


তানিশার দাদীর কথা শুনে তন্নি আর আমান চোখ বড় বড় করে নোমানের দিকে তাকালো।


অন্যদিকে নোমান তো তানিশার দাদীর কথা শুনে একদম স্তব্ধ হয়ে গেলো।সে তানিশার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললো,আমাকে নিয়ে তাহলে বাসায় আলোচনাও করা হয়,তলে তলে এতোদূর।তাহলে আমার মতো নিশ্চয় তুমিও জ্বলছো!বুঝতে দেবে না তো!তবে আমি নোমান পারি না এমন কোনো কাজ নেই।তোমার মুখ দেখে কথা বের করবো তো ছাড়বো।বাসায় যখন আমার গল্প করেছো তাহলে ঠিক তোমার মনেও কিছু চলছে।


 এদিকে তানিশা তার দাদীর কথা শুনে ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেলো।তার দাদী সবার সামনে কি বললো এটা?এইভাবে তার মানসম্মান শেষ করে দিলো?তানিশা আর কারো দিকে তাকানোর সাহস পেলো না।বিশেষ করে নোমানের দিকে তো নয় ই।


আমান এবার দাদীকে আলাদা ভাবে আবার সালাম দিয়ে বললো,দাদী আমি আমান।আর এ হলো আমার ছোটো ভাই নোমান।

দাদী সেই কথা শুনে বললো ও,তুমি আমান?তোমার কথাও বলেছে আমাদের।


--ও তাই?তা কি বলেছে আমার কথা?এই বলে আমান তানিশার দিকে তাকালো।


তানিশা তো পড়ে গেলো মহা ঝামেলার মধ্যে।দাদী কি শুরু করেছে এসব?


দাদী আমানের সম্পর্কে কিছু বলার আগেই তানিশা বললো, দাদী সবার হাতে এবার ঠান্ডা ঠান্ডা জুস টা দিয়ে দাও তো।গল্প করার অনেক টাইম পাবে।তা না হলে ঠান্ডা জুস গরম জুস হয়ে যাবে।যে গরম পড়েছে।


দাদী সেই কথা শুনে নিজেই সবার হাতে হাতে ফলের জুস তুলে দিলেন।আর সবাই সাথে সাথে পান করা শুরু করে দিলো।কারণ সবার গলা একদম শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।কিন্তু নোমান জুসের গ্লাস হাতে নিয়ে বসে আছে,সে একবারও চুমুক দিলো না।


তানিশা খেয়াল করলো ব্যাপারটা।তবে সে কিছু বললো না।কারণ সবার সামনে নোমানের সাথে এতো বেশি আন্তরিকতা দেখানো যাবে না, তা না হলে সবাই অন্যকিছু ভাববে।কারণ তার মনেও যে নোমানের প্রতি অনেক বেশি ফিলিংস আছে,তার সাথে আছে অতিরিক্ত মাত্রার দূর্বলতা।কারণ নোমান তাকালেই সে কেনো জানি দূর্বল হয়ে যায়।নিজেকে তখন ভিনগ্রহের প্রাণি মনে হয়।


 তন্নি নোমানের হাতে জুসের গ্লাস দেখে বললো,কি হলো?খাচ্ছেন না কেনো আপনি?এভাবে ধরে আছেন কেনো?


নোমান তন্নির কথা শুনেও ধরেই থাকলো জুসের গ্লাসটি।আর তানিশার দিকে তাকিয়ে বললো,উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করছি।সময় হলে এমনি খাবো।


তন্নি নোমানের কথা কিছুই বুঝলো না।কিন্তু বেশি কিছু জিজ্ঞেসও করতেও পারলো না,যদি নোমান আবার তাকে বোকা ভাবে।এমনিতেই নোমান সবসময় তাকে বোকা বোকা বলে ক্ষেপায়।


আমান এবার কথা বলে উঠলো,সে বললো,কি হলো নোমান?খাচ্ছিস না কেনো?কি ভাববে সবাই?না খেতে মন চাইলেও খেতে হবে।নাক, কান চোখ বন্ধ করে ঢোক করে গিলে ফেল।আমান ভেবেছে নোমান বড়লোকি করছে,সেজন্য সে এসব শরবত খেতে চাচ্ছে না।


তানিশা এবার নিজেই নোমানদের কাছে আসলো।এসে দেখে নোমান এখনো কিছুই খায় নি।তানিশা বুঝতে পারছে না নোমানের এমন মতিগতি।তবে নোমানের তাকানো দেখে মনে হচ্ছে নিশ্চয় নোমান তার মুখেই শুনতে চাচ্ছে কথাটা।তাকেই মনে হয় খাওয়ার জন্য বলতে হবে আবার।এই ছেলেটা এমন শুরু করেছে কেনো?তানিশার মাথাতে সত্যি কিছু ঢুকছে না।তাছাড়া নোমান সবার সামনে যেভাবে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে তাকে কারো নজরে আসলে কি হবে তখন? 


তানিশা যখন দেখলো নোমান সেই আগের মতোই জুস টা ধরে আছে আর বার বার তার দিকে তাকাচ্ছে তখন তানিশা টেকনিক করে সবাইকে আরো এক গ্লাস করে জুস দিতে লাগলো।আর এই সুযোগে নোমানের কাছে গিয়ে বললো,

আপনি তো আগের জুস টাই শেষ করেন নি?তাড়াতাড়ি শেষ করুন।পরবর্তী নাস্তাগুলো কখন খাবেন?


নোমান তানিশার কথা শোনামাত্র এক চুমুকে শেষ করলো গ্লাসের সব জুস।তানিশা তা দেখে বললো আরেক গ্লাস দিবো?

নোমান হ্যাঁ, না কিছুই বললো না।তবে বোঝা যাচ্ছে সে তানিশার হাতের আরো এক গ্লাস জুস খেতে চায়।তানিশা সেজন্য আরো এক গ্লাস জুস দিলো।নোমান এবারও সব জুস এক চুমুকেই শেষ করে ফেললো।


নোমানের এমন আচরণে তানিশা বেশ অবাক হলো।তার ভীষণ ভয় হতে লাগলো।নোমান আবার না জানি উল্টাপাল্টা কিছু করে?কেমন যেনো লাগছিলো নোমানের আচরণ।


নোমান আসলে এরকম বিহেভ করে বোঝাতে চাইছে তানিশা নিজের থেকে বুঝতে পারুক তার ফিলিংসের কথা।তাকে যেনো নিজের মুখে কিছু বলতে না হয়।তার আগেই যেনো তানিশা সবকিছু বুঝতে পারে।আর নিজের মুখে তার ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে।


কিন্তু নোমান হয় তো জানে না তানিশা কত টা চাপা স্বভাবের মেয়ে।নোমান যেমন তার ইগো নিয়ে থাকে,অতিরিক্ত ইগোর জন্য নিজের ফিলিংস প্রকাশ করতে পারছে না,তানিশাও ঠিক তেমনি।তার মুখ থেকে কথা বের করা এতো সহজ নয়।তার বুক ফাটবে তবুও মুখ ফুটবে না।এতো টা কঠিন মেয়ে তানিশা।


সবার খাওয়াদাওয়া শেষ হলে তানিশা যখন নাস্তার প্লেট গুলো অন্য ঘরে নিয়ে যেতে ধরলো তখন তন্নি বললো,

তানিশা!হলুদের অনুষ্ঠান হবে না?


তানিশা সেই কথা শুনে বললো,আবার জিগায়! হবে না মানে?আলবাত হবে।নিজের বিয়েতে হলুদের অনুষ্ঠান হবে কিনা জানি না আমার বোনের বিয়ে তে হবেই হবে।কারণ দুলাভাই আমার খুব সৌখিন।হলুদের প্রোগ্রামের সব খরচ উনি দিয়েছেন।


--বাহঃ দারুন তো।তানিয়া আপু সত্যি খুব লাকি।


--হ্যাঁ।খুব ভালো আমাদের দুলাভাই।বিয়ে না হতেই যে কেয়ার করে!কত জনের ভাগ্যে এমন বর জোটে!


নোমান সেই কথা শুনে মনে মনে বলছে,আমার সাথে বিয়ে হলে এই আফসোস টা কখনোই করবে না।এমন কেয়ার করবো আর ভালোবাসবো আমাকে ছাড়া দুনিয়ার সবাইকে ভুলে যাবে।এখনো সময় আছে প্রকাশ করো মনের কথা।


হঠাৎ আমান বললো, তোমার বিয়ে তে হলুদের অনুষ্ঠান হবে না কেনো?তুমি কি পালিয়ে বিয়ে করবে নাকি?


তানিশা তখন  বললো,ভাইয়া,কি বলছেন এসব?পালিয়ে বিয়ে করতে যাবো কেনো?বাবা মার সম্মতিতে ধুমধামে নিজের পছন্দ করা ছেলেকেই বিয়ে করবো।এই বলে তানিশা নোমানের দিকে তাকালো।


এদিকে আমান তানিশার কথা শুনে ঝাটকা খেয়ে গেলো।তানিশা আবার কাকে পছন্দ করে!সে আবার প্রেম টেম করছে নাকি?না আর দেরী করা যাবে না।খুব শীঘ্রই তার ব্যাপার টা ক্লিয়ার করতে হবে।


নোমান শুধু শুনছে সবার কথা,সে কিছু বলছে না।নোমান এমনই।সে হাজার টা কথা বলে না।তবে একটা কথা বলবে সেটাই হাজার টা কথা বলার সময় হয়।


নোমান এবার সুযোগ বুঝে তানিশাকে উদ্দেশ্য করে তন্নিকে বললো,


তন্নি!তোরও আবার নিজস্ব কোনো পছন্দের মানুষ আছে নাকি?থাকলে তাড়াতাড়ি বলে দিস।তা না হলে কিন্তু পরে পশ্চাতে হবে।জানিসই তো আজকাল ভালো হ্যান্ডসাম ছেলেদের কে মেয়েরা সিংগেল থাকতেই দেয় না।


তানিশা বুঝতে পারলো তাকে উদ্দেশ্য করেই কথাটা বললো নোমান।সেজন্য সে তখন উলটো নোমানের উদ্দেশ্যে তন্নিকে বললো,

তন্নি!কখনোই আগে বলবি না তুই।কারণ মেয়েরা কখনোই তার মনের কথা নিজে আগে বলে না।কারণ ছেলেরাই সবার আগে বলে,আর সবসময় মেয়েদের পিছে পিছে ঘোরে।মেয়ারা রাজি থাকলেও সহজে প্রকাশ করতে চায় না।কারণ তারা চায় ছেলেরা তাদের পিছে পিছে ঘুরুক। 


তন্নি তো একবার নোমানের দিকে তো একবার তানিশার দিকে দেখতে লাগলো।এরা আবার তার মনের কথা বুঝে ফেললো নাকি?তা না হলে নোমান এভাবে বললো কেনো?আর তানিশাই বা এভাবে বললো কেনো? 

তন্নির মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেলো সব।


হঠাৎ তানিশার কাজিন হিয়া এলো তানিশাকে ডাকার জন্য।আর বললো,তানিশা আপু তুমি এখানে?আর আমি সারাবাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছি আপনাকে।আপনি রেডি হবেন কেনো?তানিয়া আপুর তো সাজ কম্পিলিট হয়েছে।


তানিশা তখন বললো, হ্যাঁ রেডি হচ্ছি।আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তন্নি এসেছে তো ওর সাথে একটু গল্প করছি।


হিয়া তখন তন্নিকে সালাম দিয়ে বললো, আসসালামু আলাইকুম আপু।কেমন আছেন আপু।


তন্নি সালামের উত্তর দিয়ে বললো,এই তো যেমন দেখছো তেমনি আছি।


--আচ্ছা আপু পরে কথা হবে।আমাকেও এখন রেডি হতে হবে। আপু আপনিও রেডি হয়ে নিন।কিছুক্ষনের মধ্যেই তো প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে।


আমান তখন হিয়াকে বললো,শুধু তন্নিকেই বললে যে?আমরা রেডি হবো না?না ছেলেদের হলুদের অনুষ্ঠানে থাকা বারণ আছে।


হিয়া তখন বললো,ছিঃ ছিঃ।কি বলছেন ভাইয়া?বারণ থাকবে কেনো?তবে মেরুন কালারের পাঞ্জাবী থাকতে হবে আপনার।তবেই হলুদের প্রোগ্রামে থাকতে পারবেন।অন্য কালার হলে চলবে না।তা না হলে আমাদের হবু দুলাভাই রাগ করবে।


--কেনো?রাগ করবে কেনো?


হিয়া তখন বললো,কারণ আমাদের হবু দুলাভাই নিজেই চয়েজ করেছে কালার।আর নিজেই সবার জন্য এসব ড্রেস কিনে পাঠিয়েছেন।ছেলেদের জন্য মেরুন কালারের পাঞ্জাবী আর মেয়েদের জন্য লেমন কালারের শাড়ি।তানিশা আপু লিস্ট পাঠিয়ে দিয়েছিলো সেই অনুযায়ীই কেনা হয়েছে সবার জন্য।তবে যারা লিষ্টের বাহিরেও এটেন্ড করবে তারা নিজের টাকা দিয়ে সেম কালারের ড্রেস কিনে তবেই এটেন্ড করতে পারবে।


আমান তখন বললো,এই আর কি সমস্যা?এখনি অনলাইনে অর্ডার করছি।


তানিশা তখন বললো, ভাইয়া লাগবে না অর্ডার করা।লিস্টে আপনাদের নাম ও ছিলো।


আমান আর নোমান দুইজনই অবাক হলো।তানিশা তাদের নামও দিয়েছে।সে কি করে বুঝলো যে তারা দুইজন আসবেই বিয়েতে।


আসলে তানিশা জানতো আমান আসবেই।নোমানের ব্যাপারে সে শিওর ছিলো না।তবুও নোমানের নামটাও দিয়েছিলো।ওদের দুইজনের গায়ের মাপ তন্নির দেখে শুনে নিয়েছিলো।


হলুদের অনুষ্ঠান টি তানিশাদের ফলের বাগানের মধ্যে করা হচ্ছে।একটু অন্যরকম স্টাইলে করা হচ্ছে অনুষ্ঠানটি।সেজন্য বাগানটি খুব সুন্দর করে ডেকোর করা হয়েছে। স্টেজে বাহারি রঙ এর ফুলের পাশাপাশি সাটিন কাপড়,নেট,মরিচা বাতি দিয়েও ডেকোরেশন করা হয়েছে।তানিশাদের গ্রামে এই প্রথমবার কারো বিয়েতে পাত্র বিয়ের আগেই কনের বাড়ি এসে হলুদের প্রোগ্রামে এটেন্ড করছে।গ্রামের লোকজন এ নিয়ে বেশ কানাঘুষা করছে।কেউ কেউ তো ছিঃ ছিঃ করছে।তবে তানিশার পরিবারের কারো এ নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নাই।কারণ বিয়ে তো হচ্ছেই,তাহলে পাত্র কেনো আসতে পারবে না বিয়ের আগে?তারও তো হলুদের অনুষ্ঠানএ এটেন্ড থাকতে মন চাইবে বা তার বউ কে হলুদের সাজে কেমন লাগছে তা দেখার ইচ্ছা জাগবে।যেহেতু হলুদের অনুষ্ঠানের সমস্ত আয়োজন তিনি নিজ দায়িত্বে করছেন সেজন্য ওনাকেও আসতে হবে।


আজকের প্রোগ্রামের সবচেয়ে মূল আকর্ষণ তো কনে হওয়ার কথা কিন্তু কনের বদলে সেই আকর্ষণ দখল করে বসে আছে ডাক্তার ম্যাডাম।মানে আমাদের তানিশা।কারণ হবু দুলাভাই তার একমাত্র শালিকার জন্য এতো সুন্দর একটা লেহেংগা পাঠিয়েছে যা তানিশা পড়ার পর সবার চোখ একদম ছানাবড়া হয়ে গেছে।কিন্তু তানিশা এখন পর্যন্ত ঘরের মধ্যেই চুপটি করে বসে আছে।কারণ সে এরকম সাজসজ্জা কখনোই করে নি।সেজন্য এই বেশে সবার সামনে আসতে ভীষণ লজ্জা লাগছে তার।তানিশা সেজন্য ঘরেই বসে আছে আর এক এক করে সবাই কে রেডি করছে।যারা রেডি হয়েছে তাদের কে আবার চেক করছে।কারণ সমস্ত প্রোগ্রামের ভিডিও করা হবে।আর সেজন্য অবশ্যই সবার সাজ সুন্দর আর পরিপাটি হওয়া চাই।


অন্য মেয়েরা লেমন কালারের শাড়ির সাথে কাজ করা খয়েরী রঙ এর ব্লাউজ পড়েছে।আর সবাই চুলগুলো খোঁপা করে তাতে টাটকা খয়েরী রঙ এর গোলাপ গুজিয়েছে।অন্যদিকে ছেলেরা পড়েছে মেরুন কালারের পাঞ্জাবী। এটাই হলো আজকের অনুষ্ঠানের সকল ছেলে আর মেয়ের ড্রেস কোড।তবে বর আর কনেও আলাদা রঙের ড্রেস পড়েছে।কনে পড়েছে গাঢ় হলুদ রঙের মধ্যে সবুজ সুতার কাজ করা জামদানী শাড়ি।সাথে সবুজ রঙের ব্লাউজ।আর বর পড়েছে কনের ব্লাউজের সংগে ম্যাচিং করে সবুজ রঙের পাঞ্জাবী।এসব আইডিয়া সম্পূর্ণ তানিশার হবু দুলাভাই এর।আর সমস্ত খরচ তিনিই বহন করেছেন।ওনার কথা,বিয়ে যখন ধুমধামে হচ্ছে তাহলে সকল অনুষ্ঠান ভালোভাবেই সম্পন্ন করবেন তিনি।বিয়ে জীবনে একবারই হয়,বার বার তো হয় না।যদিও প্রথমে উনিই এতো বেশি ধুমধাম করতে রাজি ছিলেন না।এখন উনিই আবার বলছেন সমস্ত আয়োজন জাকজমকভাবেই হবে। 


সবাই সবার সাজগোছ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও একগুয়ে আর একরোখা নোমানের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই।সে চুপটি করে রুমের মধ্যে বসে আছে আর জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে।হয় তো তানিশাকে দেখার জন্যই এভাবে জানালার কাছে বসেছে সে।কিন্তু কাউকে সেটা সে বুঝতে দেবে না।মনের কথা মনের মধ্যে রাখতেই সে বেশি পছন্দ করে।

নোমান আসার পর থেকেই এই ঘরের মধ্যেই আছে।বিয়ে বাড়িতে আসার জন্য অনেক বেশি উৎসাহ থাকলেও এখন কেনো জানি আর থাকতে ইচ্ছে করছে না তার।আর কিভাবেই বা ইচ্ছা করবে?যে ছেলে কারো সাথে মিশতে পারে না,নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না তার এসব প্রোগ্রামে না যাওয়াই ভালো।


অন্যদিকে আমান কত সহজে সবার সাথে মিশে গেছে।হলুদের প্রোগ্রামের জন্য রেডি হয়েছে আবার তানিশার সকল আত্নীয়স্বজনদের সাথেও কথা বলছে।সবার সাথে পরিচিত হচ্ছে সে।আমানের এই বিশেষ গুনটির কারণে সবাই তাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। কিন্তু নোমান কারো সাথে ঠিকভাবে মিশতে পারে না।কারো সাথে ভালোভাবে কথা বলতে জানে না বিধায় সবাই তাকে অহংকারী মনে করে।আসলে সে শুধু বই এর পাতায় মুখ গুজে বসে থাকাই শিখেছে।তাকে কখনোই বলতে হয় নি নোমান পড়তে বস,নোমান তোর কাল এক্সাম,নোমান পড়াশোনা বাদ দিয়ে কি করছিস?


বরং মাঝে মাঝে উলটো তাকে বলতে হয়েছে,নোমান এবার একটু বই টা রেখে দে,কয়েক মিনিট একটু রেস্ট কর।


আমান এবার নোমানকে ডাকার জন্য এলো। কারণ নোমান যেভাবে ঘরবন্দি হয়ে আছে লোকে তো তাকে পাগল মনে করবে।


আমান রুমে ঢুকতেই নোমান হো হো করে হেসে উঠলো আর বললো ভাইয়া, এটা তুমি কি পড়েছো?

--কেনো কি হয়েছে?

--নিজেকে দেখেছো আয়নাতে?

আমান সেই কথা শুনে বললো কি হয়েছে বলবি তো?

নোমান তখন বললো তোমাকে এই পাঞ্জাবি টা একদম মানায় নি।কারণ পাঞ্জাবি টা অনেক বেশি শর্ট আর ঢিলা ঢিলা লাগছে।

আমান তখন বললো ও রকম একটু হবেই।তানিশা তো আর আমার ফিগার মেপে মেপে দেখে নি।আন্দাজে বানাইছে।এসব হাসিঠাট্টা বাদ দিয়ে এবার একটু ঘর থেকে বের হ।বাহিরে গিয়ে দেখ সবাই কত মজা করছে।


--আমার ভালো লাগছে না কিছু। তুমি গিয়ে মজা করো।

আমান সেই কথা শুনে বললো,তাহলে তুই পাঞ্জাবি পড়বি না?

--না।

--ওকে।না পড়লে কি আর করার আছে?এই বলে আমান চলে যেতে ধরলো।


নোমান তখন বললো ভাইয়া তন্নি কোথায়?ওকে দেখছি না যে?

আমান সেই কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেলো।আর বললো,ওকে কি আর আজ তুই খুঁজে পাবি?আজ তো সাজগোছ করতেই সারাদিন পার করে দেবে সে।


আসলে তন্নির খোঁজ করা একটা বাহানা মাত্র।নোমান তো জানতে চাচ্ছে তানিশা কোথায়?তাছাড়া সে জানে তানিশা যেখানে থাকবে তন্নিও সেখানে থাকবে।নোমান সেই থেকে জানালার কাছে একখান বই হাতে নিয়ে বসে আছে বাট একবারের জন্যও তানিশার দেখা সে পেলো না।


নোমান তন্নির কথা বলতেই  তন্নি এসে উপস্থিত সেখানে।কারণ সে তার সাজগোছ ইতোমধ্যে  কম্পিলিট করে ফেলেছে।নোমান তন্নিকে দেখে মোটেও চিনতে পারছে না।কারণ তাকে এতো বেশি গর্জিয়াস লাগছে যে তাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো নাইকা হলুদের ফটোশুটের জন্য রেডি হয়েছে।

তন্নি কোনো কথা না বলে বোবার মতো দাঁড়িয়ে থাকলো।সে দেখতে চাচ্ছে নোমান কি বলে?


কিন্তু নোমান তো তন্নিকে দেখে তানিশার কথা ভাবছে।তানিশাকে সাজগোছ করে কেমন লাগছে তা দেখার জন্য আর এক মিনিট তর সইছে না নোমানের।কিন্তু তানিশার দেখা সে পাবে কিভাবে?তানিশা তো সেই থেকে নিরুদ্দেশ।যার জন্য এই বাড়িতে আসা সেই তো তার থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।


আমান হঠাৎ তন্নিকে বললো,কি রে তন্নি?বোবার মতো চুপচাপ হয়ে আছিস যে?আর তুই একাই কেনো?তানিশা কোথায়?


তন্নি তখন বললো আগে বলেন আমাকে কেমন লাগছে?তারপর তানিশার কথা বলবো।


আমান সেই কথা শুনে বললো তোকে একদম ঝাক্কাস লেমন পরীর মতো লাগছে।চোখ ফেরানোই যাচ্ছে না।


তন্নি তখন নোমানকে উদ্দেশ্য করে বললো,আপনি কিছু বলছেন না যে?


নোমান তখন বললো,আমি আর কি বলবো বল?আমি তো তোকে চিনতেই পারছি না।

আমান সেই কথা শুনে বললো, তুই তো চিনতে পারবিই না।কানা লোক আবার দেখতে পারে নাকি?


নোমান আমানের কথা শুনে ভীষণ রেগে গেলো আর রাগান্বিত কন্ঠে বললো,ভাইয়া!বলছি না আমাকে কানা বলবে না।


--তাই?দাঁড়া দেখাচ্ছি।এই বলে আমান হঠাৎ নোমানের চশমাটি কেড়ে নিলো।আর তার পকেটে রাখলো।


নোমান আমানের এমন কান্ড দেখে ভীষণ রেগে গেলো।

সে তখন চিৎকার করে বললো ভাইয়া চশমাটা দাও।দাও বলছি।

তন্নিও বললো,আমান ভাইয়া দিয়ে দিন চশমাটা।তা না হলে উনি দেখবেন কিভাবে?


--না দিবো না।তবে ও যদি পাঞ্জাবি পড়ে আমাদের সবার সাথে প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকে তবেই পাবে এই চশমা।এই বলে আমান রুম থেকে বের হয়ে গেলো।


নোমান তখন তন্নিকে বললো তার লাগেজ থেকে আরেকটা চশমা বের করার জন্য। তন্নি সেই কথা শুনে নোমানের জন্য চশমা খুঁজতে গেলো ব্যাগে।কিন্তু ব্যাগে আর কোনো এক্সট্রা চশমা ছিলো না।নোমান তাড়াতাড়ি করতে যেয়ে এক্সট্রা চশমা নিতে ভুলে গেছে।

তন্নি যে এতো সুন্দর করে সাঁজগোজ করলো তা নোমান ভালো করে তো দেখতেই পেলো না।এই আফসোস করতে করতে তন্নি রুম থেকে চলে গেলো।


কারন তন্নি ভালো করেই জানে নোমান চশমা ছাড়া  দূরের সব জিনিস আবছা আবছা দেখে। সামনে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলে তার অবয়ব বুঝতে পারে, সে কে সেটাও বুঝতে পারে বাট স্পষ্ট দেখতে পারে না।


অন্যদিকে আমান চশমা নিয়ে কই যে নিরুদ্দেশ হলো তাকে আর তন্নি খুঁজেই পেলো না।আমানের এমন দুষ্টমি করা নোমান মোটেও সহ্য করে না।সে রাগে কিড়মিড় করতে লাগলো।কিন্তু অন্যের বাড়ি বলে কিছু করতে পারলো না।তা না হলে এতোক্ষণে পুরো বাড়ি মাথায় তুলতো সে।


এদিকে সবার সাজগোছ কম্পিলিট হয়েছে। সেজন্য এক এক করে সবাই বাগানের ভিতর প্রবেশ করছে।অন্যদিকে কনেকে আগেই স্টেজে বসে রেখেছে সবাই।বাড়ির মধ্যে আর একজন লোকও নেই।মুহুর্তের মধ্যে পুরো বাড়ি ফাঁকা হয়ে গেলো।সবশেষে তানিশা বের হলো রুম থেকে।কারণ তার আর এভাবে লজ্জা পেলে চলবে না।কারণ তার হবু দুলাভাই চলে এসেছে।সে ঘরের মধ্যে বসে থাকলে অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবে কে?


তানিশা তার রুম থেকে বের হতেই হঠাৎ কি মনে করে যেনো নোমানের রুমে চলে গেলো।

তানিশা রুমে গিয়ে দেখে নোমান এখনো রুমের মধ্যে শুয়ে আছে।তানিশা এখন কি করবে বুঝতে পারছিলো না।সে ভেবেছে হয়তো নোমানও রেডি হয়ে বাগানে চলে গিয়েছে।এইভাবে নোমানের মুখোমুখি হয়ে যাবে সে ভাবেই নি কখনো।

অন্যদিকে নোমান তানিশাকে দেখামাত্র তাড়াতাড়ি করে উঠে বসলো।দুইজনই দুইজনার দিকে তাকিয়ে আছে।কারো মুখে কোনো কথা নাই।


আবছা আবছা দেখা যাচ্ছে তবুও বোঝা যাচ্ছে খয়েরী আর সবুজের কম্বিনেশন এ তানিশা সুন্দর হাতের কাজ করা একটা লেহেঙ্গা পড়েছে। চশমাটা থাকলে স্পষ্ট দেখতে পেতো সে।তার ভাই কেনো যে এভাবে চশমাটা খুলে নিলো সত্যি তার ভীষণ রাগ হচ্ছে।যাকে দেখার জন্য এতোক্ষণ ধরে বসে ছিলো আর এখন সে চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তবুও ভালোভাবে দেখতে পারছে না।নোমানকে এভাবে তাকানো দেখে তানিশা আর এক মুহুর্ত ও থাকতে চাইলো না।সেজন্য সে চলে যেতে ধরলো। ঠিক তখনি নোমান বললো,

আগেই যাও না।দাঁড়াও একটু।

তানিশা সেই কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেলো।


তানিশাকে দাঁড়ানো দেখে নোমান এগিয়ে এলো তানিশার কাছে।একদম কাছে আসলো তানিশার।দুইজন দুইজনার নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারছে, এতো কাছাকাছি দুইজন।নোমান কেনো জানি তানিশার চারপাশে ঘুরেফিরে দেখতে লাগলো।নোমানকে এরকম করা দেখে ভয়ে তানিশার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেলো।তার পুরো শরীর একদম কাঁপতে লাগলো।নোমান এমন করছে কেনো?তানিশা সেজন্য নোমানের থেকে একটু দূরে সরে গেলো।

নোমান  তা দেখে তানিশার হাত ধরে টেনে আবার তার কাছে আনলো।আর বললো,

এতো ভয় পাচ্ছো কেনো?আমি কি বাঘ না ভাল্লুক,যে খেয়ে ফেলবো?


তানিশা নোমানের এমন পাগলামো দেখে বললো ছাড়ুন আমাকে।আমি মোটেও ভয় পাচ্ছি না।আর যখন তখন এভাবে আমার হাত ধরবেন না।কেউ দেখলে কি ভাববে? 


নোমান তখন বললো আমাকে দেখানোর জন্যই তো এ রুমে এসেছো?তা এখন এমন ছটফট করছো কেনো?

--কি বলছেন এসব?আপনাকে কেনো দেখাতে আসবো আমি?

--তাহলে এ ঘরে কি?জানোই তো আমি এ ঘরে আছি।


তানিশা সেই কথা শুনে বললো,সরি,ভুল করে ঢুকে পড়েছি।কারণ এটা আমার রুম।এই রুমেই আমি থাকি।সেজন্য অভ্যাসগত ভাবে এসে পড়েছি।এখন ছাড়ুন আমাকে।কেউ দেখলে মারাত্নক রকমের প্রবলেম হয়ে যাবে।

এই বলে তানিশা নোমানের থেকে তার হাত টি ছাড়িয়ে নিলো।আর বললো আপনি কি জন্য আমাকে দাঁড়াতে বললেন?সেটা তাড়াতাড়ি বলুন।আমাকে এক্ষুণি যেতে হবে।


নোমান তখন বললো,যাও এখন।কাজ হয়ে গেছে আমার।

--মানে?কিসের কাজ হয়ে গেছে?কিছুই তো বুঝলাম না।

--ও তুমি বুঝবে না।যাও এখন।

তানিশা সেই কথা শুনে চলে গেলো।তবে সে ভীষণ চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলো।নোমান কেনো তাকে দাঁড়াতে বললো আর কেনোই বা তাকে এরকম কাছ থেকে দেখছিলো।আর কেনোই বা আবার যেতে বললো।


আসলে নোমান চশমা ছাড়া দূরের জিনিস শুধু আবছা আবছা দেখে।তবে কাছের জিনিস স্পষ্টই দেখতে পারে।সে যখন দূর থেকে তানিশাকে ক্লিয়ার ভাবে দেখতে পারছিলো না তখন তানিশার একদম কাছে এসে তাকে ভালো করে দেখে নিলো।

তানিশা খয়েরী আর সবুজের কম্বিনেশনে একটা সুন্দর  কাজ করা লেহেঙ্গা পড়েছে।যার উপরের পার্ট খয়েরী আর নিচের পার্ট সবুজ।ওড়না টা ও সবুজ কালারের তবে খয়েরী সুতার কাজ করা।ফর্সা শরীরে খয়েরী আর সবুজ কালার তানিশাকে যেনো একদম গিলে খাচ্ছিলো।তার উপর চুলগুলো এতো সুন্দর করে বেঁধেছে যে চোখ ফেরাতেই পারছিলো না নোমান।আবার তাতে দিয়েছি সাদা কালারের পাথর বসানো ব্যান্ড।আর সুন্দর একটা টিকলি।যা তার সাঁজকে আরো বেশি আকর্ষণীয়   করে তুলেছে।তানিশাকে দেখতে একদম অপ্সরাদের মতো লাগছিলো।নোমান কিছুক্ষনের জন্য নিজেও হারিয়ে গিয়েছিলো তার মাঝে,সে বুঝতেই পারছিলো না কিভাবে তার চোখ দুটি সরিয়ে নেবে।কানে দুই জোড়া বড় বড় ঝুমকা আর গলায় স্টোন বসানো মালা।উহঃ কি যে হচ্ছিলো মনের অবস্থা নোমানের যা সে ছাড়া কেউ বুঝতে পারছে না।


তানিশা হলো হলুদ ফর্সা,আর তার উচ্চতা ৫" ৫.মুখের আকৃতি গোলাকৃতি তবে থুতনীর দিকে সরু।তানিশা তার লম্বা নাকটিতে সাদা পাথরের ছোট্র একটি নাকফুল পড়ে।যা দেখতে খুবই ভালো লাগে।তানিশার পুরো মুখ জুড়ে দুইটা তিল আছে।কপালের উপরে আর ডান গালে।এক কথায় অপরুপ সৌন্দর্যের অধিকারী হলো তানিশা।যার দিকে একবার তাকালে বার বার তাকাতে ইচ্ছে হবে।সেজন্য যে কেউ যখন তখন এই ডাক্তার ম্যাডামের উপর ক্রাশ খেয়ে বসে থাকে।


নোমানের মাথায় এখন শুধু তানিশা।সে তানিশাকে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছে না।এভাবে চলতে থাকলে তো সে সত্যি সত্যি একদিন পাগল হয়ে যাবে।নোমান সেজন্য সিদ্ধান্ত নিলো আজকেই সে তার মনের কথা তানিশাকে জানাবে।এভাবে মনের মধ্যে কথা রাখলে কখনোই তো তানিশা জানতেই পারবে না কিছু।


নোমান কোনোকিছু না ভেবে হঠাৎ তার লাগেজ থেকে একটা গ্রীন কালারের ফতুয়া বের করলো আর তার সাথে জিন্সের একটা প্যান্ট বের করলো।নোমান ঠিক করলো এই ড্রেস গুলো পড়েই হলুদের প্রোগ্রামে যাবে সে।কিন্তু চশমা ছাড়া বেড়োবে কি করে?সেজন্য নোমান তার ভাই কে ফোন দিলো আর বললো,ভাইয়া আমি ও প্রোগ্রামে যাবো।চশমাটা দিয়ে যাও প্লিজ।


আমান সেই কথা শোনামাত্র  নোমানের রুমে আসলো।আর কোনো কথা না বলে নিজেই চশমাটা নোমানের চোখে পড়িয়ে দিলো।নোমান শুধু রাগে ফুঁসছে।আর চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছে।

আমান ওদিকে খেয়ালই করে নি,সে উলটো নোমানকে বললো,

চশমা তো ফেরত পেলি,এবার পাঞ্জাবি টা পড়ে নে।আর চল।

নোমান কোনো কথা বললো না।সে ফতুয়া আর প্যান্ট  টা হাতে নিয়ে বললো,আমি কোনো পাঞ্জাবি পড়বো না।আমি এগুলোই পড়বো।


আমান সেই কথা শুনে বললো,যা মন চায় পড়।তবুও একটু বের হ ঘর থেকে।এই বলে আমান ও চলে গেলো।


আমান বেচারা এখনো দেখে নি তানিশাকে।কারণ তানিশা এখন পর্যন্ত স্টেজে যাই নি।আমান দেখলে তো আজকেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসবে তানিশাকে।


এদিকে তানিশা নোমানের পাগলামি দেখে অন্য আরেকটা রুমে দরজা বন্ধ করে বসে থাকলো।তার নিজেরও অন্যরকম এক অনুভূতি হচ্ছে।প্রথম পছন্দ আর প্রথম ভালোলাগার মানুষ টি যদি এভাবে বার বার তাকায় আর তাকে স্পর্শ করে একদম কাছে টেনে নেয় সেই মুহুর্তে বাকি সবার কেমন লাগে তানিশা জানে না বাট তার অন্যরকম এক ফিলিংস হচ্ছে।সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না।তানিশা বুঝে গেলো সে সত্যি সত্যি নোমানকে ভালোবেসে ফেলেছে।আর নোমান যে তাকে পছন্দ করে সেটা সে অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে।তানিশার শুধু বার বার নোমানের সেই কাছে আসা,তার উত্তপ্ত নিশ্বাসের কথাই মনে হচ্ছে।আর নোমানের চাহনি তো তাকে এমনিতেই বার বার পাগল করে দেয়।


হঠাৎ হিয়া এসে তানিশা কে ডেকে নিয়ে গেলো। কারণ সবাই শুধু নাকি তানিশাকেই খুঁজছে।


নোমান এবার নিজেও তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে তানিশাদের বাগানের দিকে চলে গেলো।সেখানে গিয়ে দেখে তারার মেলা বসেছে।কে কোনটা চেনাই যাচ্ছে না।সবাই একই রঙের আর একই সাজে সেজেছে বিধায় এরকম ঝটকা লাগছে নোমানের।তবে তানিশাকে স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে।কারণ সে সবার থেকে আলাদাভাবে সেজেছে।আর তার বোনের পাশেই বসে আছে।তানিশার হবু দুলাভাই পাশের একটা শোফায় বসে আছে।


নোমান দূর থেকে দাঁড়িয়েই তানিশাকে দেখতে লাগলো।

তানিশাও দেখছে নোমানকে।নোমানের গায়ে সবুজ রঙের ফতুয়া দেখে তানিশা মুচকি একটা হাসি দিয়ে নিচ মুখ হলো।সে মনে মনে ভাবতে লাগলো শুধু একই রঙের ড্রেস পড়লেই হবে না,যতদিন নিজের মুখে কিছু বলছো না ততোদিন আমিও পাত্তা দিচ্ছি না।


হঠাৎ নোমান খেয়াল করলো একটা ছেলেটা শুধু তানিশারই ছবি তুলছে।সে আর অন্য কারো ছবি তুলছে না।নোমান তা দেখে ছেলেটির কাছে এগিয়ে গেলো।আর তার ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে বললো,

এক্সকিউজ মি!বউ ঐ টা।এটা না।


ছেলেটি সেই কথা শুনে বললো, এক্সকিউজ মি!আমিও জানি বউ ঐ টা।এই বলে নোমানের হাত থেকে আবার ক্যামেরা টি নিয়ে নিলো।আর আবার শুধু তানিশারই ফটো তুলতে লাগলো।

নোমান ছেলেটির এমন কান্ড দেখে তানিশার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকালো।কারণ তানিশা ছেলেটিকে কেনো কিছু বলছে না?কেনো বারণ করছে না তার ছবি তুলতে?


#চলবে,

কেমন লাগলো পর্বটি?আর দেরি করে দেওয়ার জন্য দুঃখিত।এখন ঈদের সময় বাসা ভরা মানুষ জন।সবসময় মোবাইল নিয়ে বসে থাকা যায় না।সেজন্য এখন একটু লেট ই হবে গল্প দিতে।


অষ্টম পর্ব (৮ম পর্ব) পড়তে ক্লিক করুনঃ


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url