Oporadhi - অপরাধী । ২য় পর্ব - Romantic Bangla Uponnash

Oporadhi -  অপরাধী । ২য় পর্ব - Romantic Bangla Uponnash, Romantic uponnash bangla pdf, Top 10 Bangla uponnash, Bangla premer uponnash, Bangla uponnash online reading, Bangla uponnash PDF, Premer uponnash pdf, রোমান্টিক বাংলা উপন্যাস,  Bengali uponnash 2023, Bangla uponnash By Humayun Ahmed pdf, Bangla premer uponnash, Bangla uponnash Humayun Ahmed, Romantic uponnash bangla pdf, Premer uponnash pdf, Bangla shahitto, উপন্যাস বই, উপন্যাস pdf, Bangla novels free online reading 2023

Oporadhi -  অপরাধী । ২য় পর্ব - Romantic Bangla Uponnash
Oporadhi -  অপরাধী । ২য় পর্ব - Romantic Bangla Uponnash

Oporadhi -  অপরাধী । ২য় পর্ব - Romantic Bangla Uponnash, Romantic uponnash bangla pdf, Top 10 Bangla uponnash, Bangla premer uponnash, Bangla uponnash online reading, Bangla uponnash PDF, Premer uponnash pdf, রোমান্টিক বাংলা উপন্যাস,  Bengali uponnash 2023, Bangla uponnash By Humayun Ahmed pdf, Bangla premer uponnash, Bangla uponnash Humayun Ahmed, Romantic uponnash bangla pdf, Premer uponnash pdf, Bangla shahitto, উপন্যাস বই, উপন্যাস pdf, Bangla novels free online reading 2023


ব্যাগ নিয়ে মেইন রোডে হাটতে লাগলাম,এখন জানি না কোথায় যাবো বা কোথায় ঠাই নিবো আমি!এক মুহুত্তেই আমার জীবন চেঞ্জ হয়ে গেলো,আর আমি কোনো দিনো ভাবরেও পারি নাই মায়া আমার সাথে এমনটা করবে।আমি মায়ার ছলনায় পড়ে গেছিলাম,আর সেই ছলনাকে আমি ভালোবাসা মনেই করে গেলাম,ভুল করলাম আমি অনেক বড় ভুল করলাম যার সাস্তি এখন পাচ্ছি আমি।কথা গুলো ভাবছি আর চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পড়ছে। মাথা একদমই কাজ করছে না আমার। 


রাতের বেলা 


আমি হাটতে হাটতে সোজা বাসস্টেশনে চলে আসলাম, আর সেখানে একটা যাত্রী ছাওনিতে বসে বসে চোখের পানি ফেলছি, আমি আর আমার আম্মু আব্বুর কাছে এই মুখ নিয়ে ফিরতে পারবো না, কারন এতোক্ষনে হয়তো আপু তাদের সব বলে দিছে আর তারাও হয়তো কথা গুলো শুনে আমাকে ঘৃনা করতে শুরু করছে, কিন্তু কি করবো আমি এখন! আমার কাছে তো কোনো প্রমানই নেই নিজেকে নির্দোষ প্রমান করার। আমি এই সব নিয়ে ভাবতে লাগি তখনি আমার মোবাইলে কল আসে, আমি দেখলাম তানভির কল দিছে! আমিও কল রিসিব করলাম!


--কিরে হারামী, কি অবস্থা!ভালোবাসা পাইয়া বন্ধুরেই ভুলে গেছিস,(তানভির)


আমি চুপচাপ তানভিরের কথা শুনতেছি আর ভালোবাসার কথা শুনে চোখ দিয়ে আরো পানি বেয়ে পড়তে লাগে!


--সালা,সেখানে গেছিস এক সপ্তাহ হয়ে গেলো,আমার কোনো খোজ খবর নিলি না তুই!এলাকায় আয় তোরে পাইলে তো খাইছি আমি(তানভির রেগে)


--দোস্ত, আমি আর কোনো দিনো এলাকায় আসবো না, (আমি কান্না জনিত কন্ঠে)


--এলাকায় আসবি না মানে!আর এই তোর কন্ঠ শুনে মনে হচ্ছে তুই কান্না করতেছোস!(তানভির)


--তানভির, আমার সব শেষ হয়ে গেছে রে ভাই(আমি কান্না করা অবস্থায়)


--এই সব শেষ হয়ে গেছে মানে??আর এই তুই কান্না করতেছিস কেন??এই কি হইছেরে তোর! এই অন্তর, তুই কান্না করতেছিস কেন???কি হইছে বল আমাকে(তানভির)


--দোস্ত, আমি আমার ভালোবাসার ফল ভালো ভাবেই পাইছি,আমার ভালোবাসার প্রাপ্য মর্যাদাটা পাইছি আমি!(আমি কান্না জনিত কন্ঠে)


--মানে!এই কি হইছে তোর, কান্না করতেছিস কেন!বল আমাকে!(তানভির)


এরপর তানভিরকে সব খুলে বললাম সে কথা গুলো শুনে নিমিষেই নিস্তব্দ হয়ে যায়, 


--কি বলিস তুই!মায়া তোর সাথে এমনটা করছে! সে কি করে পারলো এমনটা করতে! (তানভির)


--দোস্ত,সবই দোষই আমার, আমিই না বুঝে মায়ার মায়ায় জড়িত হয়ে পড়ছি,আর এখন তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে, দোস্ত আমি আর কিভাবে এই মুখ নিয়ে এলাকায় আসবো কিভাবে আমি আম্মু আব্বু সামনে দাড়াবো!না আমি আর কখনোই এলাকায় ফিরে আসবো না, আম্মু আব্বুর সামনেও আসবো না, আমি অনেক দূরে চলে যাবো!যাতে তাদের সাথে যেন দেখা না হয়,আমি নিজেকে তাদের ও বাকিদের  থেকে আড়াল করে নিবো!(আমি)


--চুপ সালা,সবার থেকে দূরে চলে যাবি মানে,আমার থেকেও আড়াল হয়ে যাবি নাকি!(তানভির)


--জানি না, তবে দোস্ত আমি এখন কি করবো,কোথায় যাবো তাই বুঝতে ছি না, তবে যাই হোক না কেন, এই মুখ নিয়ে তাদের সামনে যেতে পারবো না আমি!(আমি)


--তাহলে কি তোর পড়া শুনাও বাদ দিয়ে দিবি নাকি??(তানভির)


--দোস্ত, পড়া শুনা করার সেই মনমানসিকতাও এখন আমার আর নেই,আমার মন বলছে আমি যেন দূরে কোথাও চলে যাই যাতে তাদের সামনে দাড়াতে না হয় আমাকে!(আমি)


--দোস্ত,আমি তোকে এই অবস্থায় উল্টা পাল্টা কিছুই করতে দিবো না, তুই এখন আছিস কই!আমাকে বল!(তানভির)


--আমি বাসস্টেশনে বসে আছিরে দোস্ত!জানি না কি করবো আমি কোথায় যাবো আমি,(আমি)


--দোস্ত, তুই চাচ্ছিস তুই আর এলাকায় আসবি না তাই তো!তাহলে আমি যা বলি তা শোন,তুই ঢাকায় চলে যা,সেখানে আমার একটা মামা আছে,মামা বিজন্যাস করে, আমি মামাকে কল করে তোর বেপারে বলে দিবো আর এটাও বলে দিবো তোকে যেন একটা চাকরি দেয়!আমি তোকে ঠিকানা পাঠাচ্ছি! আমার কথা শুন আর মাথার থেকে উল্টা পাল্টা যা চিন্তা আসে সব বাদ দে,তুই চাচ্ছিস তোর পরিবার থেকে দূরে থাকতে আমি তা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি কিন্তু যদি উল্টা পাল্টা কিছু করিস তাহলে তোর খবর আছে, আর এই পরিস্থিতিতে মাথায় বেশি চাপ দেওয়া ঠিক হবে না,(তানভির)


--তানভির তুই, আমার জন্য এই সব করতেছিস!ভাই কি বলে তোকে ধন্যবাদ দিবো,(আমি)


--চুপ সালা,আমি আমার বেস্টুকে তার খারাপ সময়ে একা ছেড়ে দিবো নাকি,যে বেস্টু আমার জীবনকে রঙ্গিন করে দিছে সেই বেস্টুর বিপদে আমি পাশে থাকবো না তো কে থাকবে,আর তুইও তো আমার অনেক বিপদ আপদে পাশেছিলি এবার আমার সময় আসছে আমার বেস্টুর বিপদে পাশে দাড়ানোর জন্য।আর আমি এই সুযোগ হাত ছাড়া করবো না!(তানভির)


কথাটা শুনেই সাথে সাথে কান্না করে দিলাম,এই সময়ে আমার পাশে কেউই ছিলো না আর এখন আমার বেস্টু আমার পাশে দাড়ালো, আমার কষ্টটাকে দূর করার চেষ্টা করতেছে!সত্যি আমি অতীতে হয়তো কোনো ভালো কাজ করছিলাম যার ফল সরূপ তানভিরের মতো একটা বেস্টু পেলাম যে কিনা আমার খারাপ সময়ে আমার পাশে দাড়ালো আর আমার কষ্টটাকে দূর করার চেষ্টা করছে! 


--আমি জনি না অতীতে কি এমন ভালো কাজ করছিলাম যার ফল সরূপ তোর মতো একটা বেস্টু পেলাম,তুই শুধু বন্ধু না তুই আমার রক্তের সম্পর্ক ছাড়া আর এক মায়ের গর্ভ জন্ম নেওয়া আপন ভাই! (আমি)


--চুপ সালা,এই কথা গুলো বলে কান্না করাচ্ছিস কেন!যা বলছি তা-ই কর,আর তোর কাছে টাকা আছে নাকি আগে সেটা বল!ধুর জিজ্ঞেসা করতেছি কেন!আমি তোর বিকাশে ৫০০০ টাকা পাঠাচ্ছি, সেগুলো তুলে নিস,আর একটা ঢাকার টিকেট কাট, আমি তোকে ঠিকানা পাঠাচ্ছি সেই ঠিকানায় চলে যাবি,আমি টাকা পাঠিয়ে মামাকে তোর বেপারে বলতেছি! আর মোবাইল বন্ধ করবি না!আমার সাথে যোগাযোগ রাখবি!ঢাকায় পোছে আমাকে কল দিবি!(তানভির)


--ঠিক আছে দোস্ত,তুই আমার জন্য যা করতেছিস আমি জীবনেও তার ঋন শোধ করতে পারবো না রে ভাই(আমি)


--চুপ সালা,কিসের ঋন হ্যা!আর কতোবার বলবো এটা আমার ভাইয়ের জন্য করতেছি,আমার ভাই বিপদে আর আমি এমনেই বসে থাকবো!আর কান্না করাই না ভাই!যা বলছি তাই কর,ঢাকায় গিয়ে পোছে কল দিস আমাকে,আর আমি টাকা ও ঠিকানা পাঠাচ্ছি তোকে!ভালো থাকিস!(তানভির কান্না জনিত কন্ঠে)


বলেই কল কেটে দিলো,আর কিছুক্ষনের মধ্যে আমাকে বিকাশে ৫০০০ টাকা পাঠালো,আসলেই আমার টাকার প্রয়োজন ছিলো,কারন এখানে এসে অনেক টাকা খরচ করছি, বেশি ভাগ টাকা খবর করছি এক বেইমানের জন্য আর এক সার্থপর ভাইয়ের জন্য,যে ভাইয়ের সাথে আমার হয়তো পারিবারিক ভাবে রক্তের সম্পর্ক থাকতেও পারে কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সে এমন হবে তা জানতাম না,সাইমন তো আমাকে চিনেই আমার সম্পকে জানে তাহলে কেন সে কোনো রিয়েক্ট করলো না, সাইমনকে নিজের ভাই ভেবে তার কতো খেয়াল রাখলাম, কিন্তু শেষ মেশ সেও সুবিধা ভোগি হয়ে যায় আর আমার কষ্টের সময় আমার পাশে না থেলে বরং মায়ার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। আর সবচেয়ে বেশি অবাক হলাম এটা দেখে যে আমার নিজের আপন বোন আমাকে চিনতে পারলো না, সে আমাকে ভুল বুঝলো,সত্যিটা যাচাই না করেই আমাকে অপরাধী ভেবে নিলো আর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলো!কথা গুলো ভাবছি আর একটা লম্বা শ্বাস নিলাম।এরই মধ্যে দেখলাম তানভির আমাকে টাকা পাঠিয়ে দিছে আর একটা ম্যাসেজ করে দিছে সেখানে বাড়ির ঠিকানা দিয়ে দিছে আর নিচে সে আমার জন্য আরো একটা ম্যাসেজ সেন্ট দেয়,


--দোস্ত,আমি মামাকে বলে দিছি তোর কথা, তুই ঢাকায় গিয়ে ঠিকানা বরাবর পোছে যাইস,আর হ্যা আমি জানি তুই এখন যে পরিস্থিতিতে আছিস, তাতে তোর মন মানসিকতা একদমই খারপ হয়ে আছে তবে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না, নিজের মনোবল শক্ত কর,আর রাতের খাবার খেয়ে তারপর রওনা দিস, কারন এই সময় নিজের প্রতি একটু যত্ন নেওয়া দরকার, যা বলছি তাই করিস,ভালো থাকিস আর ঢাকায় পোছে একটা কল দিস আমাকে!(তানভির ম্যাসেজটা পাঠায়)


আমি সত্যি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করতেছি তার মতো বন্ধু পেয়ে,যেখানে আমার আপন মানুষগুলো আমার পাশে নেই,সেখানে তানভির আমার পাশে দাঁড়ায় ও সাহস দেয়,আমিও আর আস্তে করে বিকাশের দোকানে চলে গেলাম সেখান থেকে টাকা তুলে নিলাম।এরপর হোটেলে গেলাম কিছু খেয়ে নেওয়ার জন্য,খাবার আমার সামনে আমি খাচ্ছি তবে সেই খাবার গলা দিয়ে নামছে না এরপরেও কষ্ট করে যতোটুকু পারলাম খেয়ে নিলাম, এরপর বাসস্টেশনে গিয়ে একটা ঢাকার বাসের একটা টিকেট কাটলাম আর বাসে উঠে পড়লাম।কিছুক্ষনের মধ্যে বাস স্টাট দিলো আর বাস তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে লাগলো,আমিও জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছি,আর ভাবতে লাগলাম চলে যাচ্ছি এই শহর থেকে যেখানে মিথ্যা ভালোবাসার আশায় আসছিলাম আমি,একদিন হয়তো সকলে জানতে পারবে আমি অপরাধী ছিলাম না, কিন্তু সেদিন আমাকে তারা খুজে পাবে না, আর আমিও চাইনা এই রকম মানুষগুলো সামনে আসতে যারা আমার সাথে থাকার পরেও আমাকে বুঝে উঠতে পারলো না।চলে যাচ্ছি এই নিশ্ঠর শহর থেকে,যেখানে গতকাল পর্যন্ত তো অনেকেই ছিলো কিন্তু আজ কেউ নেই,আমার ও আর কষ্ট নেই,যেহেতু তারা আমাকে বুঝে উঠতে পারলো না আমিও আর এই মানুষ গুলো কাছে ফিরবো না।


বাস চলছে আপন গতিতে আর আমিও মোবাইলটা নিয়ে সেই বেইমান মায়ার সাথে যোগাযোগ করার যতো কিছু ছিলো সবগুলোতে ব্লক করে দিলাম আর এই বেইমানে যতোগুলো স্মৃতি ছিলো সবই মুছে দিলাম,আজ মায়া আমার সাথে এমনটা করছে, একদিন সেও বুঝতে পারবে সে কি ধরনের জঘন্যতম অপরাধ করছে, যে আমার ভালোবাসা এখন বুঝে নি ও আমার ভালোবাসাকে মূল্য দেয় নি কিন্তু একদিন সে তার ভুল বুঝবে, আমার ভালোবাসার মূল্যও বুঝবে, আমাকেও খুজবে ।তবে হ্যা আর যা বুঝলাম এই পৃথিবীতে ভালোবাসা বলতে কিছুই নেই, যা আছে এক হলো আবেগ ২য় হলো চাহিদা, আবেগ কেটে গেলেই ভালোবাসা চলে যায় আর যতো দিন চাহিদা গুলো পূরন করবে ততদিন ভালোবাসা থাকবে, চাহিদা পূরন করা বন্ধ করে দাও দেখবে এমনে এমনে ভালোবাসাও চলে যাবে আবার তুমি তোমার ভালোবাসার চাহিদা মিটাতে লাগলে এরই মধ্যে অন্য একজন এসে তোমার চেয়ে ভালোভাবে চাহিদা গুলো মেটাতে থাকলো তাহলে দেখবে একদিন হুট করে তোমার প্রতি ভালোবাসা দূর হয়ে যাবে, যা আমার সাথে হলো!


বাস চলছে আর এই সব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুম চলে আসে তা অজানা!


কেউ একজন আমাকে ঝাকি দিলো সাথে সাথে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো!


--ভাই আমরা কুমিল্লায় আসছি,এখানে কিছুক্ষন বাস থাকবে,যদি ক্ষিদা লেগে থাকে তাহলে কিছু খেয়ে নিন!এখান থেকে বাস ছাড়লে সোজা ঢাকায় গিয়েই থাকবে! (কন্ট্রেক্টর)


--জি, ধন্যবাদ ভাইয়া আমাকে জাগিয়ে দেওয়া জন্য(আমি)


এরপর আমিও বাস থেকে নেমে ফ্রেস হয়ে নিলাম আর হাল্কা পাতলা কিছু খেয়ে নিলাম,আর কিছু খাবার নিয়ে আসলাম,তারপর আবার বাস স্টাট দিলো আর বাস চলতে লাগলো, আমিও চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ি!


ভোর বেলা কন্ট্রেক্টর আমাকে ডাক দেয়!


--ভাই,আমরা ঢাকায় পোছে গেছি,উঠুন!(কন্ট্রেক্টর)


আমিও লাফিয়ে উঠি!


--আমরা ঢাকায় পোছে গেছি??(আমি)


--হ্যা ভাই,আর একটু পরেই বাস থামবে!আপনার কি কি আছে তা বেডি করেন!(কন্ট্রেক্টর) 


আমিও আমার ব্যাগ নিয়ে নিলাম, এরই মধ্যে বাস থামে আর আমিও বাস থেকে নেমে যাই,চলে আসলাম ঢাকা শহরে, জানি এই শহরের মানুষ কেমন হবে, তারা কি ভালো হবে না খারাপ,সবই অজানা আমার কাছে! আমিও যাত্রী ছাওনিতে গিয়ে ব্যাগ নিয়ে বসি আর তানভিরকে একটা কল দিলাম!


--হ্যালো তানভির,আমি ঢাকায় পোছে গেছি!(আমি)


--যাক, ভালোই,রাস্তায় কোনো সমস্যা হয় নাই তো তোর!(তানভির)


--না দোস্ত,কোনো সমস্যা হয় নাই!(আমি)


--যাক ভালোই,তাহলে এবার একটা সিএনজি নিয়ে সেই ঠিকানায় চলে যা, আমি মামাকে কল করে বলছি দাড়া! (তানভির)


--দোস্ত,এই সকাল সকাল সেখানে যাওয়া ও তাদের বিরক্ত করা কি ঠিক হবে,আমি  নাহয় এক কাজ করি,কিছুক্ষন এখানেই থাকি ৮,৯ দিকে সেখানে যাই!(আমি)


--চুপ,সালা,যা বলছি তাই শোন,আমি মামাকে কল দিচ্ছি তুই সি এনজি নে,আর সেই ঠিকানায় যা,(তানভির)


--কিন্তু দোস্ত!(আমি)


--চুপ সালা, বেশি কথা বলিস তুই!যা বলছি তা শোন,(তানভির রেগে)


--তবে একটা কথা! তুই কি তোর মামাকে আমার ঘটনাটা কি বলছিস নাকি??(আমি)


--না, দোস্ত আমি মামাকে যা বলার বলছি তবে সেটা  বলি নাই কারন আমি তোকে ভালো করেই চিনি,তুই কেউকে নিজের কষ্টটা বুঝতে দেস না, না কারো সাথে সেয়ার করতে পছন্দ করিস,আমি ভাগ্য ক্রমেই যেনে গেছি নাহলে তুই যে জিনিস আমার থেকে কথা লুকাতি,তুই নিজের আঘাত নিজের মনের মধ্যেই নিয়ে বেড়াস তুই!কেউকে বুঝতেও দেসনা তোর হাল অবস্থা,কিন্তু কষ্ট পাস, তবে আর যাই হোক দোস্ত! মায়া যা করছে না, একদিন দিন দেখবি সেও পস্তাবে কাজটার জন্য বলে রাখলাম, ধুর ছাড় এই সব কথা,,সোজা এখন সিএনজি নিয়ে ঠিকানা বরাবর যা, আমি মামাকে বলছি তুই আসছিস যে সেটা!(তানভির)


--আচ্ছা, ঠিক আছে! (আমি)


--হুম ভালো থাকিস,(তানভির)


বলেই কল কেটে দিলো আর আমিও একটা সিনজি ওয়ালার সাথে কথা বলে নি ও ঠিকানা দিয়ে দি,এরপর সিনজি নিয়ে সোজা সেই ঠিকানায় পোছে যাই।সিনজি ওয়ালা আমাকে একটা দোতালা বাড়ির সামনে নামিয়ে দেয়। 


--এই যে আপনার ঠিকানা বরাবর পোছে গেলাম(সিএনজি ওয়ালা)


তখনি সেই গেট দিয়ে একজন ভদ্র লোক বের হয়, আর সে আমার কাছে আসে!


--তুমি কি অন্তর!মানে তানভিরের বন্ধু তাই না!(লোকটা)


আমি বুঝতে পারলাম লোকটা তানভিরের মামা।


--জী,আসসালামুয়ালাইকুম,আমি অন্তর তানভিরের বন্ধু!(আমি)


--ওয়ালাইকুম সালাম,চলো ভিতরে আসো!(তানভিরের মামা)


আমিও সিএনজির ভাড়া মিটিয়ে দিলাম আর তানভিরের মামার সাথে ভিতরে যেতে লাগি ভিতরে গিয়ে দেখলাম বাড়িটা বেশ বড়ই আছে।আমিও তার সাথে ভিতরে গেলাম।


--তো আসতে তো কোনো অসুবিধায় হয় নাই তো!(তানভিরের মামা)


--জী না, আংকেল, কোনো অসুবিধা হয় নাই!(আমি)


--আচ্ছা,চলো তোমাকে রুম দেখিয়ে দি,(তানভিরের মামা)


এরপর আমি তানভিরের মামার সাথে একটা রুমে যাই,এরপর আমাকে বলে ফ্রেস হয়ে নিতে, আর উনি চলে যায় আমিও ব্যাগ খাটের উপর রেখে চলে গেলাম ফ্রেস হতে,ফ্রেস হয়ে এসে মোবাইলের ক্রিন অন করে দেখি ৭ঃ০৯ বাজে,আমিও মোবাইলটাকে খাটের উপর রেখে ব্যাগ থেকে তোয়ালি বের করে নিলাম আর হাত মুখ মুছে নিলাম।রুমে একটা আয়না ছিলো সেটার সামনে দাড়ালাম আর নিজেকে দেখতে লাগলাম,দেখলাম নিজের সেই হাসিখুশি চেহারাটা আজ কেমন যেন চুপসে গেছে, আসলে এটাই সাভাবিক, একটা মিথ্যা অপবাদ আমাকে কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে আসলো গতকাল এই সময়ে আমি ঘুমাচ্ছিলাম  আপুদের বাসায় আর আজ এই সময়ে আপুদের শুধু বাড়িই নয় সেই শহর থেকেই দূরে আমি, শুধু আপুদেরই না নিজের বাড়ি ও শহর থেকেও দূরে আমি।গতকাল এই সময়ে আমি ছিলাম কারো আদরের ভাই,কলিটার টুকরা ছেলে, কারো কেয়ারিং মানুষ আর আজ আমি সকলের কাছেই অপরাধী হয়ে গেলাম,মায়া আমার পূরা দুনিয়াটাই পাল্টে দিলো!আমি এতোক্ষনে আপুর ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠার কথা ছিলো আর বাসায় হলে আম্মুর ডাক শুনে উঠতাম কিন্তু এখন আমি আগের থেকেই জেগে আছি।গতকাল ধরে বাসায় আম্মু আব্বুর সাথে কথা হয় নাই তারাও আমাকে কল দেয় নি হয়তো তাদের কানে সব পোছে গেছে,আজ নিজের চেহারা দেখে বড়ই অসহায় মনে হচ্ছে, কিন্তু না আমি তো অসহায় না, জানি আমার বিপদে আমার পরিবার থাকার কথা ছিলো বটে কিন্তু তারা আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিলো আমার প্রতি বিশ্বাস নেই তাদের। তখনি আমার মনে পড়লো আমি তানভিরের মামার বাসায় এসে তানভিরকে একটা কল দেওয়ার কথা, সাথে সাথে আমি মোবাইলটা নি!আর তানভিরকে কল দি!সেও রিসিব করে!


--কিরে সালা,কই তুই ঠিক মতো পোছাইছিস!ঠিকানা চিনছিস তো!(তানভির)


--হ্যা রে ভাই,পোছাইছি, সরি একটু দেরি হয়ে গেছে তোকে কল করতে, (আমি)


--ধুর সালা,আমি চিন্তায় পড়ে গেছিলাম, তুই ঠিকানা চিনছিস কিনা!নাকি অন্য কোথাও চলে গেছিস,আমি অনেক চিন্তা হইতেছিলো! যাক বাদ দে, শুন আমি মামাকে যা বলার বলে দিছি,তোকে কিছুই বলতে হবে না, আর তুই আজ থেকে মামাদের কাছেই থাকবি!অন্য কোথাও যেতে হবে না তোকে,আর শুন অবশ্যই মোবাইল চালু রাখবি, আর আমার সাথে যোগাযোগ রাখবি!যদি একদিনও যোগাযোগ বন্ধ করিস না তাহলে তোরে এসেই পিটাই যাবো!(তানভির)


--থ্যাংক্স দোস্ত,আমার জন্য এতো কিছু করলি!তোর ঋন কোনো দিনো আমি শোধ করতে পারবো না রে ভাই!(আমি কান্না জনিত কন্ঠে)


--সালা, কান্না করতেছিস কেন,শুন কান্না থামা, আর কেউ তোর পাশে না থাক তোর এই বেস্টু তোর পাশে আছে, থাকবেও এখন যা রেষ্ট কর,পরে কথা বলবো তোর সাথে অনে জার্নি করছিস তুই!এখন তোর রেষ্টের দরকার!পরে কথা বলবো!ভালো থাকিস!(তানভির)


বলেই কল কেটে দিলো!আমি অবাক হয়ে গেলাম কারন যাদেরকে আমি আমার বিপদে আশা করছিলাম তারাই নেই বরং আমার বিপদে আমার বন্ধুরূপে ভাইটা ছিলো আমার পাশে, সে আমাকে সাহস দেয় আমাকে আস্তা দেয়,সে আমার জন্য এখন ঢাকায় তার মামার সাথে কথা বলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়,সত্যি এই আমি অনেক ভাগ্যবান এমনটা বন্ধ পেয়ে,কারন অনেক বন্ধু আছে যারা বিপদ দেখলেই পাশ থেকে সরে যায় কিন্তু তানভির আমার পাশ থেকে সরে যায় নি বরং আমার পাশে থেকে আমাকে সাহায্য করে গেলো ও আস্তা দিয়েই গেলো!জীবনেও এর ঋন আমি সোধ করতে পারবো না। এই সব ভাবছি আর ব্যাগ থেকে টিসার্ট বের করতে লাগলাম তখনি আমার ব্যাগে আমার বডি স্প্রে ছিলো সেটা হুট করে নিচে পড়ে গেলো আমি সেটা ফ্লোর থেকে উঠিয়ে ব্যাগে রাখতে লাগলাম তখনি পিছন থেকে মাথায় কিছু একটা দিয়ে বারি দিলো আর সাথে সাথে আমিও নিচে পড়ে গেলাম আর মাথায় প্রচুর ব্যথা অনুভব করতে লাগলাম আর বেহুস হয়ে গেলাম।


চলবে..............

ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।আর লাইক ও গল্প ভিত্তিক কমেন্ট করে পাশে থাকুন।নাইস নেক্সট বলা থেকে বিরত থাকুন।বিনা অনুমতিতে কপি করা নিষেধ।সেয়ার করুন আর পরর্বতি পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।


 ৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুনঃ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url