আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় - রোমান্টিক ভালবাসার গল্প । পর্বঃ ০২

 

আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় - রোমান্টিক ভালবাসার গল্প । পর্বঃ ০ ২

আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় 🍁

পর্বঃ ০২


মিষ্টির ঘুম ভাঙ্গলো সন্ধায় । ফ্রেশ হয়ে নিচে আসতেই মিষ্টির বাবা অতি বিচলিত স্বরে বললো 

" কি ব্যাপার মিষ্টি? গেস্টরুম যেমন ছিলো তেমনিই তো পড়ে আছে,তালা পর্যন্ত খোলা হয়নি, রামুকে পরিষ্কার করতে বলিসনি?এই বাড়িতে একটা মানুষ ও কি আমার কথা শুনবে না? "

মিষ্টি চোখ বড়বড় করে করুণ দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে রইলো।তাকে দেখে বেশ বোঝা যাচ্ছে তিনি চরম রেগে আছেন।মিষ্টি দুঃখিত ভঙ্গিতে বললো 

" আসলে বাবা মাথা ব্যাথা করছিলো খুব,তাই বলতে ভুলে গেছি "

মিষ্টির মাথা ব্যাথার কথা শোনা মাত্রই তার রাগ যেন মুহুর্তেই জল হয়ে গেলো।তিনি প্রবল বেগে নিজের হাতটা মিষ্টির কপালে ঠেকিয়ে স্নেহের স্বরে বললেন 

" মাথা ব্যাথা করছে?জ্বর এসছে নাকি?এখনো ব্যাথা আছে? আমাকে বলিসনি কেন? "

বাবার রাগ মুহুর্তেই স্নেহে পরিণত হতে দেখে মিষ্টির মুখ মলিন হয়ে গেলো।বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বললো 

" উফফ বাবা,আমি এখন একদম ঠিক আছি।সামান্য মাথা ব্যাথা ছিলো।আর তুমি সব বিষয়ে এতো হাইপার হয়ে ওঠো কেন বলোতো?বয়সের দিকে নজর দিয়ে রাগটা তো একটু কমাতে পারো নাকি? "

" কিহ?আমি হাইপার হই?আমি মিছেমিছি রাগ করি?"

" এইযে আবার রেগে যাচ্ছো।তখন করেনি তো কি হয়েছে,এখন করে দিবে,তোমার ছাত্র তো এখনো আসেইনি "

" একটু আগে ফোন করেছিলো,বলেছে আধঘন্টার মধ্যে আসছে।আর রামু গাধাটাও তো কখন যানি না বলেই চলে গেছে " 

" রামু কাকা চলে গেছে? তাহলে পরিষ্কার করবে কে? "

" তা আমি কি এমনি এমনি চিল্লাচ্ছি নাকি?এখনকি ওই ধুলোয় ভরা রুমে আমার ছাত্রকে থাকতে দিবো? "

" আচ্ছা তোমার এতো হাইপার হতে হবে না,দেখি আমি কিছু করতে পারি কি না।তুমি রুমে যাও,আমি চা নিয়ে আসছি "

 মিষ্টি চা বানিয়ে বাবাকে দিয়ে গেস্টরুমের সামনে এসে দাড়ালো।হালকা ধুলো জমে আছে চারদিক।চাবিটা দিয়ে তালা খুলে রুমের চারপাশটা মিষ্টি চোখ বুলিয়ে নিলো।বিছানা,টেবিল সবকিছু পলিথিনে ঢাকা।আর সেই পলিথিনের ওপর ধুলোর আস্তরণ।মিষ্টি ওড়না দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে পলিথিনগুলি এক এক করে বাহিরে বেড় করে আনলো।মনে মনে ভিষণ রাগ হতে থাকলো।বিড়বিড় করে বলছে " কে না কে এসে থাকবে,আর আমাকে রুম পরিষ্কার করতে হচ্ছে।নিজের রুম লাস্ট কবে গুছিয়েছি সেটা নিজেরি মনে নেই,আর সেই নাকি পরিষ্কার করছি  বাহিরের একটা লোকের জন্য এই ধুলোমাখা ঘর!ধূর ভাল্লাগেনা "।

পলিথিনে ঢেকে রাখায় বেশিক্ষণ লাগলো না পুরো ঘর পরিষ্কার করতে।ঘর পরিষ্কার হলেও মিষ্টির সারা শরীর ধুলোময়লায় মেখে একাকার কান্ড।মিষ্টি বিরক্তিভাব নিয়ে রুমের দরজা চাপিয়ে দিয়ে নিজের বাড়িতে ঢুকতেই দেখলো তার বাবা একটা লোকের সাথে কথা বলছেন।মিষ্টি বেশ বুঝতে পারলো ইনিই তার প্রাণ প্রিয় ছাত্র।মিষ্টি কোনোদিক না তাকিয়ে সোজা নিজের রুমে যাচ্ছে তখনি তার বাবা বললেন 

" কিরে মা,তোর এই অবস্থা কেন?ধুলোর একদম মাখামাখি হয়ে আছিস,কোথায় গেছিলি? "

আমার প্রচন্ড রাগ হতে লাগলো।ইদানিং বাবার ভুলে যাওয়ার একটা রোগ হয়েছে।মাঝেমাঝেই কিছু ঘটনা তার মস্তিষ্ক থেকে এলদম হারিয়ে যায়।বেশিরভাগ এটা হয় রেগো গেলে।এইযে আমি তার প্রাণ প্রিয় ছাত্রে থালার জন্য যে রুম পরিষ্কার করতে গিয়েছিলাম সেটা বাবা ভুলেই গেছেন।লম্বা একটা শ্বাস ফেললাম।হঠাৎ দৃষ্টি পড়লো বাবার সাথে থাকা লোকটা মানে তার ছাত্রের ওপর।চোখ পড়তেই আমার পুরো শরীর দুইবার কেঁপে উঠলো।এনাকেই তো সকালে যা তা বলেছিলাম!নামটা বসন্ত না বাঁশ সেটা ঠিক মনে করতে পারলাম না।উনি এখানে কি করছেন? বাবার কাছের আমার নামে নালিশ করতে এসছে নাকি? আর এক মুহুর্ত সময় নষ্ট না করে এল দৌড়ে ওয়াসরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম।

*

" তো বিষণ্ন,তারপর বলো,তোমার পরিবারের সবাই কেমন আছে? "

" সবাই ভালো আছে স্যার "

" আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো? "

" না  স্যার,আপনার নাম বলতেই সোজা বাড়ির গেইটে নামিয়ে দিয়ে গেছে "

" আচ্ছা আচ্ছা। তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে, এক কাজ করো,ফ্রেশ হয়ে নাও।আর আজ রাতে তুমি আমাদের সাথেই খাবে "

" ঠিক আছে স্যার " 

" চলো তোমায় গেস্টরুম টা দেখিয়ে দিই "

" স্যার আপনি বলে দিন আমি নিজেই চলে যাচ্ছি, আপনাকে যেতে হবে না "

" হাহাহা,তোমার এই শ্রদ্ধার জন্যই তোমাকে আমার এতো ভালোলাগে। কোনো সমস্যা নেই ইয়ং ম্যান,আমি এখনো অনেক ফিট আছি।রোজ সকালে দুই কিলো হাঁটি।চলো চলো "

গেস্টরুমটা দারুণ সাজানো।দেখে মনে হচ্ছে আজকেই পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হয়েছে।স্যার এখনো বসে আছেন।ফোনো মনোযোগ দিয়ে কি যেন দেখছেন।ব্যাগগুলি রেখে ওয়াসরুমে ঢুকলাম।তোলালেটা পড়ে টেপ ঘুরালাম কিন্তু জলের ছিটেফোঁটাও নেই।মনে হচ্ছে ট্যাংক একদম খালি।মহা বিপদে পড়া গেলো তো।তোয়ালে পড়া অবস্থাতেই দরজা হালকা ফাঁকা করে দেখলাম স্যার বিছানায় শুয়ে ঘুমাচ্ছেন।নাক ডাকার শব্দও পাওয়া যাচ্ছে।স্যারকে ডাকবো? নাহ ডাকা ঠিক হবে না,সদ্য ঘুম ভাঙা ঠিক হবে না।কিন্তু না বলে যাওয়াও ঠিক হবে না।উপায়ান্তর না পেয়ে স্যারের শরীর হালকা ঝাঁকিয়ে বললাম 

" স্যার,স্যার "

"উু "

" স্যার আসলে বলতে চাইছিলাম কি,ওয়াসরুমে পানি আসছে না "

স্যার ঘুম জড়ানো কঠিন স্বরে বললেন " ঘুমোতে দে গাধার বাচ্চা "
মানে কি? স্যার কি আমায় গাধার বাচ্চা বললো?পরোক্ষনেই ঘুমের ঘোরে বলেছে বলে নিজেকে বুঝ দিলাম।কিন্তু সারাদিনের ঘামে শরীরের যে অবস্থা এই অবস্থা এভাবে থাকাও অসম্ভব।স্যারের বাড়ির ওয়াসরুমটাই ইউজ করি।ওই বাড়িতে তো একটা কাজের মেয়ে ছাড়া আর কাউকে দেখলাম ও না,আর কাজের মেয়ে তো আমাকে দেখেছে,সমস্যার কথাটা বললে তেমন ঝামেলা হবে না।

ট্রাউজার পড়ে তোলায়েটা ঘাড়ে দিয়ে স্যারের বাড়িতে গেলাম।মাঝবয়সী এক লোক দেখলাম বসার ঘরের সোফার বসে আঙ্গুর খাচ্ছেন।আমাকে দেখে তিনি বললেন 

" কারে চান? "

" জি আমি স্যারের কাছে এসছি "

" আইছেন কোন থাইকা? কি করেন? " 

" আমি ভার্সিটির চেকচারার "

এইবার লোকটা দাড়িয়ে বললো " বহুত জ্ঞানী লোক আপনে,আসেন আসেন স্যার। আর নাম রামু।এই বাড়িতে কাজ করি।বইসেন স্যার,চা আইন্না দিতাছি "

" না না চা লাগবে না।আমি শুধু ওয়াসরুমে যাবো।গেস্টরুমে পানি আসছে না "

লোকটা হাত দিয়ে উপর তলায় দেখিয়ে দিলেন।আমি ধন্যবাদ দিয়ে উপরে এসে চারপাশটা দেখলাম।অনেক গোছানো চারপাশটা।তবে এলটা রুমের সামনে দেখলাম কাগজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।বুঝতে বাকি রইলো না এটাই স্যারের রুম।যখন স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম তখন থেকে লক্ষ্য করতাম স্যার একটু অগোছালোভাবে থাকতে বেশি পছন্দ করেন।সেই লজিক কাজে লাগিয়ে সেই রুমটার দিকে যেতে লাগলাম।

*

আচ্ছা উনি যদি বাবাকে বলে দেন যে আমি ভার্সিটি লাফাঙ্গাগীরী করি,তখন কি হবে?তখন তো বাবা আমার ভার্সিটি যাওয়াই বন্ধ করে দিবে।তার উপর যদি শুনে স্যারকে ধমকিয়েছি,আবার তুই তোকারিও করেছি,তাহলে তো আমার কপালে শনি নাচতে শুরু করবে।মাথা ভর্তি টেনশন নিয়ে গোসল সেরে তোয়ালেটা শরীরে পেঁচিয়ে বিছানায় বসে আছি সেই আধধন্টা ধরে।চুল বেয়ে জল পড়ে বিছানা ভিজে গেছে সেদিকে নজর ই পড়েনি।লাফিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাড়ালাম।পরনের তোয়ালের গিটটা হয়তো আলগা হয়ে ছিলো,তাই দাঁড়ানো মাত্র খুলে নিচে পড়ে গেলো।দুই হাত আড়াআড়ি ভাবে বু'কের উপর রেখে দরজার দিকে তাকালাম।নাহ্,দরজা বন্ধই আছে।একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। কেউ নেই জন্য আলসেমির কারনে  তোয়ালেটা তুলে শরীরে পেঁচিতেও ইচ্ছে করছে না।সত্যি বলতে আমার শরীরে এখন একটা সুতোও নেই।একদিকে হেলে চুলের জল ছাড়াচ্ছি এমন সময় খুট করে একটা শব্দ হলো।সামনে তাকাতেই যা দেখলাম তা হলো! দরজা ধরে স্যার দাড়িয়ে আছেন,এবং অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছেন.......



চলবে!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url