আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় - রোমান্টিক ভালবাসার গল্প । পর্বঃ ০৩

 

আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় - রোমান্টিক ভালবাসার গল্প । পর্বঃ ০৩

আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় 🍁

পর্বঃ ০৩


দরজা ধরে বিষণ্ন স্যার দাড়িয়ে  অপলক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছেন.....।


মিষ্টি কো'মড়ে দুই হাত রেখে রাগি দৃষ্টিতে বিষণ্ণের দিকে চেয়ে আছে।বিষণ্ন জড়োসড়ো হয়ে বিছানায় বসে আছে,এবং একটু পরপর আড়চোখে মিষ্টির দিকে তাকাচ্ছে।তাকানোর সময় মিষ্টির রাগে ফুসফুস করতে থাকা চেহারা দেখে আবারো চোখ সরিয়েও নিচ্ছে।বেশ কিছুটা সময় পার হলে বিষণ্ণ মিনমিন স্বরে বললো 


" আমি ভেবেছিলাম এটা স্যারের রুম।আপনাদের কেয়ার টেকার এই দিকেই রুমের কথাই বলেছিলো "


বিষণ্নের কথায় মিষ্টির রাগ আরো দ্বিগুণ হয়ে গেলো।চোখ বন্ধ করে নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে কর্কষ স্বরে বললো 


" ঘরে ঢোকার সময় নক করতে হয়,এইটুকু ভদ্রতা আপনার জানা নেই? "


" স্যার তো আমার ঘরে ঘুমাচ্ছে। মানুষ শূন্য ঘরে নক করে কি হবে?আর দোষ তো আপনার,ঘরে ইয়ের মতো হয়ে আছেন,সেটা আমি জানি নাকি "


বিষণ্ণের কথায় মিষ্টির প্রচন্ড রাগ হতে লাগলো।এই মুহুর্তে তার ইচ্ছে করছে বিষণ্ণের ঘারে চেপে বসে সবকয়টা চুল পটপট ছিঁড়তে।নাকে দুই-চারটা ঘুসি মারতে পারলেও রাগ কিছুটা কমতো।মিষ্টির চুপ থাকা দেখে বিষণ্ন বললো 


" যা হয়েছে তার জন্য আমি দুঃখিত।যা দেখেছি সেটা আমি ভুলে যাবো,আপনিও ভুলে যান।আর হ্যা,এখন থেকে ইয়ের মতো হয়ে থাকবেন সমস্যা নাই,কিন্তু দরজাটা লক করা আছে কিনা সেটা দেখে নিবেন।চলি "


এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে বিষণ্ণ কিছুটা দৌড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।মিষ্টি ফ্লোরেই হাটু মুড়ে বসে পড়লো।ভিষণ কান্না পাচ্ছে।দরজায় টোকা পড়লো।মিষ্টি দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো বিষণ্নর শুধু মাথাটা দেখা যাচ্ছে।মিষ্টি রাগে চেঁচিয়ে বললো 


" আবার কি চাই? "


" একটা কথা বলার ছিলো "


" আপনি যাবেন? নইলে আমার হাতে আজকে আপনার খু'ন হয়ে যাবে বলে দিলাম "


" জাস্ট একটা কথা বলবো,একটা।বলেই চলে যাবো "


মিষ্টি লম্বা একটা নিশ্বাস ছেড়ে বললো " কি? "


" You are so cute "


কথাটা বলেই ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিলো বিষণ্ন।বিষণ্নর দৌড়ের আওয়াজ ও মিষ্টি পেলো।ফ্লোরে দুমদুম শব্দ হচ্ছে। মিষ্টি হা করে তাকিয়ে রইলো দরজার দিকে।এই লোকটার কি লজ্জা সরম বলতে কিচ্ছু নাই?এইরকম একটা ঘটনার পর বলছে আমি কিউট! তবে তোকে এতো সহজে ছাড়ছি না স্যারের বাচ্চা।দেখ তোর কি অবস্থা করি আমি!। 


বিষণ্ন ওর রুমে ঢুকে দরজা ধপ করে লাগিয়ে দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে সোফায় এসে বসলো।দরজা লাগানোর শব্দে মিষ্টির বাবার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।তিনি চমকে বিছানায় বসে ঘুমঘুম স্বরে বললেন


 " আব...কে..কি হয়েছে,কিসের শব্দ?বোমা ফেললো নাকি? "


বিষণ্ন হাঁপাতে হাঁপাতে বললো " স্যার দরজা লাগানোর শব্দ হয়োছে।দুঃখিত স্যার আপনার ঘুমে ডিস্টার্ব দেওয়ার জন্য! "


বিষন্নর কথায় তিনি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে চশমা পড়ে উঠে দাড়ালেন।ঘড়িতে সময় দেখে বললেন 


" ফ্রেশ হয়েছো? "


" না স্যার এখনো হইনি " 


" এখনো হওনি? তারাতারি হয়ে  খেতে চলে আসো "


খেতে গেলে মিষ্টির সাথে দেখা হবে,আর এখন দেখা হওয়া মানেই রিস্ক।যেটা এখন কোনোভাবেই নেওয়া যাবে না।মেয়েটা এমনেই ক্ষেপে আছে।আপাতত ওর সামনে যতটা সম্ভব না যাওয়াই ভালো।এইসব ভাবতে ভাবতে বিষণ্ণ বললো 


  " স্যার আমি এখনি বাইরে থেকে খেয়ে আসলাম!  " 


" সে কি, আমি তো বললাম আমার বাড়িতে খেতে "


" দুঃখিত স্যার,আসলে খুব খিদে পেয়েছিলো,তাই..."


বিষণ্নর কথা থামিয়ে দিয়ে বললেন " কোনো তাই নয়,খেয়েছো তাতে কি, আবার খাবে।চলে আসো "


বলেই তিনি চলে গেলেন।বিষন্ন বিছানায় শরীর এলিয়ে শুলো।চোখ বন্ধ করতেই সেই দৃশ্যটা চোখের সামনে ভাসতে লাগলো।বিষণ্ন মনে মনে ভাবলো " সেই ছোট্ট মিষ্টি এখন কত বড় হয়ে গেছিস রে।তোকে নিয়ে সাইকেলে কতো ঘুরতাম,মেলায় নিয়ে যেতাম, আর তুই জেদ করতি সাইকেল চালানো শিখবি।আমি বলতাম আর একটু বড় হয়ে নে,তারপর শিখিয়ে দিবো।তখন তুই গাল ফুলিয়ে বলতি, ভাইয়া আমাকে একদম ছোট বলবে না।আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি।আর তুমি আমার থেকে মাত্র চার নখ বড়।বেশ তো যাচ্ছিলো দিনগুলু,তারপর স্যারের বদলি হলো এখানে!তোর জন্য খুব মন খারাপ লাগতো।কত ভাবতাম তোর কথা! আজ এতোবছর পর তোকে দেখলাম।আগের সাথে এখন কোনো মিল ই নেই।অনেক সুন্দর হয়ে গেছিস তুই।আচ্ছা তোর কি আমায় মনে নেই? 


এইসব ভাবতে ভাবতেই বিষণ্নর ফোন বেজে উঠলো।ফোন ধরতেই ওপাস থেকে বললো 


" খাবার রেডি করা হচ্ছে। তারাতাড়ি চলে এসো "


" ঠিক আছে স্যার " 


ফোন কাটার পর দরজায় টুকটুক শব্দ হতে লাগলো।মিষ্টি এসছে নাকি?কিছুটা ভয় নিয়ে রুমের ভেতর থেকেই বললাম 


" কে? "


" ছার আমি,রামু "


যাক,মিষ্টি না তাহলে।হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।রামু লোকটা বললো 


" ছার আপনের ট্যাপের লাইন ঠিক কইরা দিছি।একটু দেহেন তো পানি আহে কি না "।


আমি দ্রুত ওয়াসরুমে গিয়ে দেখলাম হ্যা পানি আছে।ওনাকে  ধন্যবাদ জানিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।মাথা মুছতে মুছতে বিছানায় রাখা ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ১১ টা মিসকল। টি-শার্ট আর ট্রাউজার পড়ে দ্রুত বেড় হলাম।সেই দৃশ্যটা বারবার শুধু মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।সর্বপ্রথম যেটা চোখে ভাসে সেটা হলো মিষ্টির পেটের কিছুটা নিচে পরপর তিনটা কালো তিলের উপর।তারপর...... থাক তারপরের দৃশ্য কি হতে পারে সেটা আশা করি আমার পাঠক-পাঠিকারা ভালোই জানে।


" বসো বসো,আসতে এতো দেরি হলো কেন?আমি কতক্ষণ ধরে ফোন করছি "


আমি চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললাম " ফোনটা রেখে ফ্রেশ হচ্ছিলাম,তাই বুঝতে পারিনি "


" নাও শুরু করো "


টেবিল ভর্তি খাবারের আয়োজন।এতো খাবার কে খাবে? স্যার বললেন 


" তোমার জন্য বোয়াল মাছ আনিয়েছি গ্রামের বাড়ি থেকে "


" স্যার এতোকিছুর কি দরকার ছিলো..! "


" আরে এতোদিন পর এসছো,নাও শুরু করো "


আশপাশে মিষ্টিকে দেখতে পেলাম না।ও কি আমার উপর খুব রেগে আছে?ও হয়তো ভাবছে আমি ইচ্ছে করে করেছি,কিন্তু আমি তো ইচ্ছে করে কিছু করিনি,অপ্রত্যাশিতভাবে হয়ে গেছে। কালকে সরি বলতে হবে। এইসব ভাবতে ভাবতে এক লোকমা ভাত মুখে দিবো এমন সময় মিষ্টি হাতে করে কিছু একটা নিয়ে টেবিলে এনে রাখলো।সাদা কামিজে সত্যি বলতে মিষ্টিকে অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো।আমি ওর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।মিষ্টি বাটিটা টেবিলে রাখতে রাখতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এলবার তাকালো আমার দিকে।ওর সেই দৃষ্টি যে আমার হৃদয় ছুঁয়েছে সেটা কি ও জানে? 


*


" মিষ্টি মা,তোর সাথে তো এখনো পরিচয় করিয়ে দিই নি।ওর নাম বিষণ্ন।তোর ভার্সিটিতে নতুন লেকচারার হিসেবে জয়েন করেছে।তোর তো চেনার কথা! "


আমি ভ্রু কুচকে স্যারের দিকে তাকিয়ে বললাম " হ্যা বাবা,চিনি।বেশ ভালো ভাবেই চিনি।আর উনিও আমায় চেনেন।তাই না স্যার? "


স্যার আমার কথায় খানিকটা হতভম্ব হয়ে বললো " হ্যা, আমাদের তো ভার্সিটিতে দেখা হয়েছে "


বাবা বললো " ভালোই হলো তোমরা আগে থেকেই একে অপরকে চেনো "


" বাবা তুমি এখন ওনাকে খেতে দাও তো,খাওয়া শেষে লত ইচ্ছে গল্প করিও।স্যার আপনি খান "


আমার কথায় স্যারের মুখ ভোতা হয়ে গেলো।আমি স্বাভাবিক আচরণ করবো সেটা হয়তো তিনি আশা করেননি।আপনার জন্য আমি অন্য ব্যবস্থা করেই রেখেছি মি.বিষণ্ন বাবু।


স্যার নিজের মতো খাচ্ছেন।আমি শুধু অপেক্ষা করছি সময়ের।সেই দৃশ্যটা কেমন হবে ভেবেই চোখ চকচক করে উঠলো।খাওয়ার এক পর্যায়ে লক্ষ্য করলাম স্যারের মুখের ভঙ্গি পাল্টে গেলো।চোখ মুখ কুঁচকে আশেপাশে তাকাচ্ছে। বুঝতে পারলাম কাজ হয়েছে।স্যারকে বললাম 


" স্যার আশেপাশে কি তাকাচ্ছেন? খাচ্ছেন না যে?পেট ব্যাথা করছে নাকি? " 


আমার কথায় স্যার কৃত্রিম হাসি দিয়ে বললো " না না,কিছু না,এইতো খাচ্ছি "


শয়তানের আনন্দ এখন আমার মনে।রামু কাকা দেখি ঔষধ কিনতে দারুণ পটু।খাওয়ার সাথে সাথেই অ্যাকশন শুরু করে দিয়েছে।স্যারের মুখ ক্রমশ বিকৃত হতে থাকলো।স্যারের বিকৃত মুখ দেখে বাবা বললেন " কি হলো? খাচ্ছো না যে? এই মিষ্টি মা,ওর প্লেটে মাংস দে তো " 


আমি বাটি থেকে মাংস তুলে ওনার প্লেটে দিতে দিতে বললাম 

" স্যার আপনাকে এরকম দেখাচ্ছে কেন,? "


স্যার মুখ ভোতা করে আমার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বললেন।আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না।তবে তার পেটের এই আন্দোলনের জন্য যে আমি দায়ী সেটা তিনি বেশ বুঝতে পেরেছেন।পেটের আন্দোলন সহ্য করতে না পেরে তিনি এইবার বলেই ফেললেন " স্যার আমি আর খেতে পারছি না,একটু অসুবিধা হচ্ছে,আসি স্যার "


ব্যাস এইটুকু বলেই দৌড়। তার দৌড় দেখে আমি আর হাসি আটকে রাখতে পারলাম না। বাবা বললো " ব্যাপার কি? ও এভাবে দৌড়ে চলে কেন? "


আমি হাসতে হাসতে বললাম " উনি আন্দোলনের বিদ্রোহীদের মুক্তি দিতে যাচ্ছেন "


বাবা আমার কথায় হা করে তাকিয়ে রইলেন।আমি হাসি থামিয়ে রামু কাকার দিকে তাকিয়ে ইশারা দিলাম। বাবার থেকে ফোনটা নিয়ে দেখি প্রথমেই স্যারের নাম্বার। স্যারের নাম্বারটা ব্লোকলিস্টে রেখে দিলাম।যেন ফোন করে বলতে না পারে " স্যার গেস্টরুমে পানি আসছে না "। 


*


মিষ্টি নিশ্চয়ই খাবারে কিছু একটা মিশিয়েছে।নইলে খাওয়া মাত্র এই অবস্থা হবে কেন,এখন বুঝলাম ওর স্বাবাভিক থাকার কারন।ও তলে তলে এইসব ফন্দি করেছে। ঠিক আছে,তুই যদি হোস বুনো ওল,আমিও তাহলে বাঘা তেঁতুল।এর শোধ আমি তুলবোই।এই মেয়ে এতো শয়তান হইলো কেমনে?।


এতোক্ষণ যা কিছু হয়েছে সেটা ব্যাপার না কিন্তু এখন যা হলো সেটা দেখে আমার মাথার সব চুল দাড়িয়ে গেলো।টেপ ঘুরাচ্ছি ঘুরাচ্ছি কিন্তু পানি বেরুচ্ছে না।মানে কি? এইতো একটু আগেই রামুকাকা পানির লাইন ঠিক করে দিলো।এর মধ্যেই আবার কি হলো? ওয়াসরুমে আলাদা কোনো পানি তোলাও নেই।রীতিমতো আমার চোয়াল বেয়ে ঘাম পড়তে লাগলো।এ কোন বিপদে পড়লাম! স্যারকে ফোন দিলাম বারবার ব্যাস্ত বলছে।স্যার কি আমার নাম্বার ব্লোকলিস্টে রেখেছে নাকি? ওহহ বুঝেছি, এটা মিষ্টির কাজ!  এই মেয়ে তো আমার নাকের জলে মুখের জলে করিয়ে ছাড়বে দেখছি!  সারারাত কি এভাবে বসেই কাটাতে হবে নাকি? কাল সকালে আবার ক্লাস আছে! 


দুই ঘন্টা পর পানি আসলো।আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।ওয়াসরুম থেকে বেড়িয়ে আমার নাজেহাল অবস্থা। শরীর প্রচন্ড দূর্বল লাগছে।ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলাম রাত একটা বাজে। বালতিতে কিছু পানি তুলে রাখলাম।কে জানে ওই শয়তাম মেয়ে আবার এইরকম করবে কিনা! বিছানায় বসতেই লক্ষ্য করলাম দুই তলায় একটা রুমের লাইন অন করা।একটু ভালোভাবে তাকাতে দেখলাম ব্যালকনিতে কেউ দাড়িয়ে আছে।ঘরের আলোয় আবছা বুঝা যাচ্ছে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।বেশ বুজতে পারলাম মেয়েটা মিষ্টি।মিষ্টির রুমের ব্যালকনি থেকে আমার রুম স্পষ্ট দেখা যায়।আমি জানালা বন্ধ করার জন্য জানালার কাছে গেলাম।এক পলক মিষ্টির দিকে তাকালাম।মিষ্টি আমায় দেখিয়ে দেখিয়ে ওর চুল এল হাতে বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছে।যার অর্থ ওর সাথে লাগতে গেলে খুব পস্তাতে হবে।ওর এমন বাচ্চামি স্বভাব দেখে আমার হাসি পেয়ে গেলো..! 




চলবে!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url