আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় - রোমান্টিক ভালবাসার গল্প । পর্বঃ ০৫

 

আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় - রোমান্টিক ভালবাসার গল্প । পর্বঃ ০৫

আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায় 🍁

পর্বঃ ০৫



আমাদের দেখাটা হয়েছিল একটু অন্যভাবে ।

বিরক্ত হয়ে উঠে দাড়ালাম।লিখতে ভালোলাগছে না।এ বাড়ির বাগান এখনো দেখা হয়নি।সন্ধা নামার আর মাত্র কিছুক্ষণ বাকি।ঘর থেকে বেড়িয়ে দেখলাম আকাশে গাঢ় গেরুয়া রঙ্গের মেঘগুলি চুপচাপ দাড়িয়ে আছে।বাগানটা তেমন বড় নয়,তবে বিভিন্নরকম ফুলের গাছ,আরো নাম না জানা অনেক গাছে খুব সুন্দর করে সাজানো।মন খারাপে এখানে একটু বসলেই মন ভালো হয়ে যাওয়ার মতো সুন্দর চারদিকটা। ফুলের সৌন্দর্য দেখছি এমন সময় একটা মিষ্টি কন্ঠ বলে উঠলো 


" স্যার এখানে কি করছেন? "


পেছন ফিরলাম।মিষ্টি এক হাত কোম'ড়ে রেখে দাঁড়িয়ে আছে।গোধুলি এই লগ্নে মিষ্টিকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।কোথায় যেন পড়েছিলাম শেষ বিকেলের রোদে মেয়েদের সবথেকে সুন্দর লাগে।এই রোদকে বলা বউ সুন্দর রোদ।আমি জবাব দিলাম


" না এমনিই ঘুরতে এলাম "


" আপনাকে ডাকতে এসছিলাম,এসে দেখি আপনি রুমে নেই,ভাবলাম এখানে এসছেন "


" কিছু বলবেন? "


" বাবা চা খেতে ডাকছেন "


আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো।ভেবেছিলাম মিষ্টি হয়তো নিজে থেকে আমায় কিছু বলতে এসছে।আমি একটু হেসে বললাম


" ঠিক আছে আপনি যান আমি আসছি "


মিষ্টি চলে যাওয়ার সময় কিছুদুর গিয়ে আমার দিকে ঘুরে বললো 


" স্যার একটা কথা "


" হ্যা বলেন "


" আমি তো আপনার ছাত্রী।ছাত্রীকে আপনি আপনি করে বলবেন না প্লিজ,"


" তাহলে কি তুমি করে বলবো? "


মিষ্টি চোখ নাচিয়ে বললো " হু "


বলেই মিষ্টি চলে যেতে লাগলো।আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।মিষ্টিকে "তুমি" সম্বোধনে ডাকার প্রবল আকাঙ্ক্ষা মনে ভিড় করে বসলো।কিন্তু ডেকে কি বলবো?এতোকিছু না ভেবে মিষ্টিকে ডাকলাম 


" মিষ্টি,"


মিষ্টি পেছন ফিরলো।ওর কাছে গেলাম।মিষ্টি শরীর থেকে একটা পারফিউম নাকে এলো।কি আশ্চর্য! এই মেয়ের সবকিছু এতো নেশালো কেন? মিষ্টি বললো


" স্যার কিছু বলবেন? "


কি বলবো ভেবে পেলাম না।খানিক্ষন ভেবে বললাম " সেদিনের ওই ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। রুমের সামনে অগোছালো দেখে  ভেবেছিলাম ওইটা স্যারের রুম হয়তো"


মিষ্টি ডোন্ট কেয়ার একটা ভাব নিয়ে বললো " স্যার বাদ দিন ওইসব কথা " 


এরপর কি বলবো ভাবতে ভাবতে মুখ ফসকে বলে ফেললাম " ওই ছেলেটার সাথে কি নিয়ে কথা হলো? "

কথাটা বলে আমি জিভে কামড় দিলাম।মিষ্টি এখন কি ভাববে? ওকি বুঝে ফেলবে আমি প্রতিএা মুহুর্ত ওকে ফলো করি? এমন বোকামির একটা প্রশ্ন করে নিজেকে গাধা বলে গালি দিলাম।মিষ্টি ভ্রু কুচকে বললো 


" কোন ছেলের কথা বলছেন স্যার? "


" না না না,কোনো ছেলে না।আসলে আমি একটা উপন্যাস লিখবো ভাবছি,সেখানকার নায়িকা একটা ছেলের সাথে কথা বলেছিলো। কি বলোতো? উপন্যাসটা নিয়ে এতো ভেবে ফেলেছি যে বাস্তবের সাথে গুলিয়ে ফেলছি "


মিষ্টি কপালের চামড়া ভাজ করে আমার দিকে তাকালো।আমিও মুখ ভোতা করে মিষ্টির দিকে তাকিয়ে রইলাম। মিষ্টি বললো 


" আপনি উপন্যাস লিখছেন? "


আমি হ্যাসূচক মাথা নাড়লাম।মিষ্টি বললো " তো উপন্যাসের নাম কি? "


" নাম এখনো ঠিক করিনি।চাইলে তুমি একটা নাম দিতে পারো "


" তাহলে উপন্যাসের নাম দিবেন 'মিষ্টি'।নায়িকা যেহেতু আমি,তাই আমার নামটাই উপন্যাসের নাম দিয়ে দিন "


কথাটা বলে মিষ্টি হাসলো,তারপর ছুটে চলে গেলো। আমি হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলাম।মিষ্টি কি উপন্যাসের ডায়েরিটা পড়েছে নাকি?এক দৌড়ে ঘরে গেলাম।যা ভেবেছি তাই টেবিলের উপর ডায়েরিটা খোলা অবস্থায় পড়ে আছে।তারমানে মিষ্টি এই দু'লাইন পড়েছে!না জানি মনে মনে কি ভেবেছে,ধূর কেন যে এটা টেবিলে রাখতে গেলাম।


*


বিষণ্ন স্যার জড়োসড়ো হয়ে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছে।আমি মুখ ভোতা করে বসে আছি।একটু আগে দ্বিতীয় সেমিস্টারের রেজাল্ট দিয়েছে।আমি সম্মানপূর্বক ফেইল অর্জন করিয়াছি।রেজাল্ট বলার পর থেকে বাবার চোখ মুখ শক্ত হয়ে আছে।তিনি বিষণ্ন স্যারকে বললেন


" আজ মিষ্টির সেমিষ্টার রেজাল্ট দিয়েছে "


বিষণ্ন স্যার চা নামিয়ে রেখে আগ্রহী হয়ে বললেন " তাই নাকি!রেজাল্ট কত এসছে ? "


বাবা কঠিন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালেন।আমি চোখ পায়ের দিকে করো রেখে বললাম " ফেইল "


বাবা বললেন " বাহ,কি সুন্দর করে বলতেছে ফেইল।ফেইল হবে না তো কি হবে? পড়াশোনা তো করো না "


বাবার কথায় আমার ভিষণ রাগ হলো।স্যারের সামনে এইসব বলার কি খুব প্রয়োজন ছিলো?বাবার দিকে তাকিয়ে বেশ বড় করে মুখ বাঁকিয়ে ওখান থেকে উঠে রুমের দিকে যেতে লাগলাম।


*


" বিষণ্ন "


" জি স্যার "


" আমি জানি তোমার সময় হবে না,তবুও একটু সময় বেড় করে যদি মিষ্টিকে একটু সময় দিতে!ও একদম পড়াশোনা করতে চায় না।তুমিই ওকে পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে পারবে এটা আমার বিশ্বাস!  কারণ তোমার মধ্য ধৈর্য্য অনেক বেশি "


স্যারের কথায় আমি যেন হাতে চাঁদ পেয়ে গেলাম।মনের মধ্যে ভালোলাগার স্রোত বইতে শুরু করলো।নিজেকে এই মুহুর্তে সবচেয়ে সূখী মনে হতে লাগলো।স্যার আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললো 


" তুমি পারবে কি? "


পারবো না মানে? মিষ্টির আশেপাশে থাকার জন্য আমি কতো সুযোগ খুঁজেছি,আর আজ সুযোগ নিজেই আমার কাছে এসছে এটাকে হাত ছাড়া করার মতো বোকা আমি নই।কিন্তু এক কথায় রাজি হলেও বিষয়টা কেমন দেখায়! আমি বললাম 


" স্যার আমি তো সময় বেশি পাই না! "


আমার কথায় স্যার চিন্তিত হয়ে পড়লেন।তাৎক্ষণিক মনে পড়লো সকালের কথাটা।মুহুর্তেই বু'কটা কেঁপে উঠলো।স্যার যদি বলে দেয়-ঠিক আছে তোমার তাহলে পড়াতে হবে না " তাহলে তো আমি হার্ট এ্যাটাক করবো।নাহ এটা কোনোভাবেই হতে দেয়া যায় না।স্যার কিছু বলার আগেই বললাম 


" ঠিক আছে স্যার,আপনি এতো করে বলছেন তখন না করি কিভাবে! "


" তোমার সময় না হলে বলে দাও,তোমার সুযোগ সুবিধাও তো দেখতে হবে " 


" না না স্যার,আমার কোনো অসুবিধা হবে না "


" উফফ,বাঁচালে তুমি " 


আমার মনে এখন রাজ্যর সুখ।অনেক কষ্টে সুখগুলো চেপে রেখে বসে আছি।মিষ্টি দোতলা থেকে বললো 


" বাবা,তোমার কথা শেষ হলে স্যারকে একটু এখানে আসতে বলিও তো "


স্যার আমাকে মিষ্টির কাছে যেতে বলে নিজে বাজারের দিকে টওনা হলেন।আমি সিঁড়ি বেয়ে মিষ্টির রুমের দিকে যাচ্ছি।হঠাৎ মিষ্টি কেন ডাকছে? ও কি সব কথা শুনেছে? আচ্ছা ও কি আমায় পড়াতে বারণ করে দিবে? এরকম হাজারটা কথা মাথার ঘুরপাক খেতে খেতে মিষ্টির রুমের কাছে এসো দাড়ালাম। মিষ্টি দরজায় দাড়িয়ে ছিলো,চোখের ইশারায় আমায় ভেতরে আসতে বললো।আমি রুমের ভেতরে আসলাম।মিষ্টি দরজা বন্ধ করে দিলো।আমার কেমন যেন খটকা লাগছে,মিষ্টি দরজা কেন বন্ধ করছে? কি করছে চাইছে মিষ্টি? মুহুর্তেই মিষ্টি আমার একদম কাছে এসে দাঁড়ালো।আমার নিশ্বাস ওর মুখে আঁচড়ে পড়ছে...!!!



চলবে!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url