অতৃপ্ত আত্মার প্রতিশোধ - ভৌতিক ভূতের গল্প । পর্ব ০৪

অতৃপ্ত আত্মার প্রতিশোধ - ভৌতিক ভূতের গল্প । পর্ব ০৪

 


অতৃপ্ত আত্মার প্রতিশোধ 

পর্বঃ ৪



শুধু অপেক্ষায় আছি রাত হওয়ার আচ্ছা আজ দিয়া আসবে তো...... 

ভাবতে ভাবতে রাত প্রায় ১২ টা বাজতে চললো হঠাৎ রুমের লাইটটা বন্ধ হয়ে গেলো 

আমার আর তখন বুঝতে বাকি রইলো না যে দিয়া চলে আসছে 

সাঈদঃ আপনি আসছেন 

হুম কিন্তু আপনি কীভাবে বুঝতে পারেন যে আমি আসছি আপনার রুমে 

সাঈদঃ হয়তো অভ্যাস এ পরিণত হয়ে গেছে 

আচ্ছা আমার সাথে চলুন 

কোথায়

সাঈদঃ গেলেই বুঝতে পারবেন তার পর তাসফিয়ার বাসার উদ্দেশ্য রাওনা দিলাম 

অপর দিকে 

তাসফিয়াঃ সাঈদ এখনো কেনো আসলো নাকি আজ আসবে ধুর ভালো লাগছে কিছু 

রাত সাড়ে বারোটা বাজাতে চলেছে তখনি ঘরের দরজায় কেউ যেনো কড়া নাড়ছে।

ঘরের দরজাটা খুলতেই দেখি সাঈদ আসছে 

তাসফিয়াঃ আসতে এতো লেট হলো কেনো 

সাঈদঃ এমনি দেখো তাকেও নিয়ে এসেছি সঙ্গে 

তাসফিয়াঃ কাকে তোমার সাথে তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না

সাঈদঃ এই তো আমার পাশে 

তাসফিয়াঃ মজা করতেছো আমার সাথে😒😒

সাঈদঃ আমি কেনো শুধু শুধু মজা করবো 

তখনি তাসফিয়ার রুমের লাইটটা বন্ধ হয়ে গেলো 

আর ভিতর থেকে দরজাটা লক লেগে গেলো 

তাসফিয়াঃ রুমের লাইটটা বন্ধ হয়ে গেলো কেনো 

সাঈদঃ দিয়া আসলে রুমের লাইট গুলো নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায় 

তাসফিয়াঃ তার কথা গুলো শুনে ভয় করতে শুরু করলো এর পর আর কী শক্ত করে জরিয়ে ধরলাম তাকে 

সাঈদঃ ভয় লাগতেছে 

তাসফিয়াঃ হুম 

সাঈদঃ দিয়া খুব ভালো তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই বলেই দিয়ার গলার চেইনটা তাসফিয়ার হাতে তুলে দিলাম

তাসফিয়াঃ এর পর আমি রুমের মধ্যে আরেক জনকে দেখতে পাচ্ছি আমার পাশেই একটা মেয়ের ছাড়া দারিয়ে আছে 

ভয় পেয়ো না আমিও তোমার মতো মানুষ ছিলাম এক সময় কিন্তু আজ এক আত্মা মাএ ( দিয়া) 

তাসফিয়াঃ এইটা কীভাবে সম্ভব তার মানে সাঈদ সত্যি কথা বলতে ছিলো 

আচ্ছা আপনার নাম কী

দিয়াঃ আমি দিয়া... 

তাসফিয়াঃ ও আপনার কথা সকাল বেলা শুনেছি কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এখন বিশ্বাস করতে পারতেছি 

দিয়াঃ অবিশ্বাস্য কথা এটা যে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না 

সাঈদঃ দিয়া তোমার না একটা শরীরের দরকার ছিলো তুমি এখনি তাসফিয়ার শরীরের প্রবেশ করো । 

তাসফিয়াঃ মানে আমার শরীরে 

কথাটা বলতে না বলতেই দিয়া তাসফিয়ার শরীরের প্রবেশ করে ফেলেছে 

এখন চাইলেও তাসফিয়া তার শরীরকে কন্ট্রোল এ আনতে পারবে না 

কেনো না এখন তাসফিয়ার শরীরটা দিয়ার বশে 

দিয়াঃ আচ্ছা আপনার ফোনটা পেতে ✆ পারি 

সাঈদঃ হুম কিন্তু কেনো 

দিয়াঃ দিন না 

সাঈদঃ আমার ফোনটা তার হাতে দিতেই 

দিয়াঃ আচ্ছা রাফি কী আজো সেই নাম্বারটা ব্যবহার করে কথাটা ভাবতে ভাবতে তার নাম্বারে কল দিয়ে দিলাম 

ফোনে কল যাচ্ছে কিন্তু ফোনটা রিসিভ হচ্ছে না 

শেষ বারের মতো যখন কলটা দিলাম ঠিক তখনি সেই চেনা কন্ঠে 

হ্যালো... হ্যালো... কে কথা বলতেছেন না কেনো 

দিয়াঃ আমি.... 

রাফিঃ দিয়া তুমি ( দিয়ার গলার আওয়াজ টা শুনার জন্য প্রাণ টা বেড়িয়ে যাচ্ছিলো আজ যখন তার গলার আওয়াজটা শুনতে পেলাম তখন অজান্তেই চোখে জল চলে আসলো)।

দিয়াঃ হ্যা কেমন আছো 

রাফিঃ আমি কী অন্যায় করেছিলাম যার শাস্তি তুমি আমাকে এভাবে দিচ্ছো কেনো হঠাৎ করে চলে গেলে অনেক দুরে আমাকে ছেড়ে একটা বার বলে তো যেতে পারতে 

দিয়াঃ বলে যাওয়ার সময় টুকু পাই নি 

আমি কাল নদীর পাড়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করবো তুমি আসবে তো 

রাফিঃ আমি এখনি যাবো তুমি কথায় 

দিয়াঃ যেখান থেকে চাইলেও কেউ ফিরে আসতে পারে না কথাটা বলতে না বলতেই ফোনটা বন্ধ হয়ে গেলো 

। 

রাফিঃ হ্যালো দিয়া( কিন্তু কোনো কথা শুনতে পারছি না) 

বার বার সে নাম্বারে ফোন দিলাম কিন্তু বারে বারে বন্ধ 

রাতটা মনে হয় কাটতে চাচ্ছে না 

শত অপেক্ষার অবশান ঘটিয়ে সকাল সকাল নদীর পাড়ে চলে এসেছি 

কিছু খন পর একটা মেয়েকে দেখতে পেলাম এদিকে আসছে 

আমার বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা দিয়া৷ 

দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরতেই চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো 

কেনো ছেড়ে গিয়েছিলে আমায় 

কেনো উওর দাও 

দিয়াঃ উওর দেওয়ার অবস্থাতেই ছিলাম না তখন রাফি আগের থেকে অনেকটা শুকিয়ে গেছে নিজের শরীররে যত্ন নেয় নি 

দিয়াঃ রাফি 

রাফিঃ হুম বলো।( আজ প্রথম দিয়াকে দেখলাম খুব সুন্দর দেখতে তাকে) 

দিয়াঃ রাফি আমি দিয়া নই 

রাফিঃ মানে 

দিয়াঃ আমি এই পৃথিবীতে আর বেচে নেই আমি একটা মেয়ের শরীরে বশ করেছি শুধু তোমার সাথে দেখা করবো বলে ওই যে দুরে গাছের পিছনে যে দাড়িয়ে আছে এই মেয়েটা তার গালফ্রেন্ড আমি। 

রাফিঃ তার মানে তুমি আত্মা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছো 

দিয়াঃ হ্যা আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে 

রাফিঃ কথাটা শুনে নিজের ইমোশনকে আটকে রাখতে পারলাম হাউ মাউ করে কেদে ফেললাম 

দিয়াঃ তুমি আমাকে রেখে কীভাবে যেতে পারলা বলো আমি কী তোমাকে এত টুকু ভালোবাসাতে পারি নি 

দিয়াঃ আমি কখনো ছেড়ে যেতে চাই নি তোমায় কিন্তু আমাকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে রাফি 

রাফিঃ কে সে 

দিয়াঃ আমার বাবা এর পর সব কিছু খুলে বললাম তাকে 

রাফিঃ আজ আমি নিজের হাতে খুন করবো দিয়ার বাবাকে যে আমার ভালোবাসাকে আমার কাছ থেকে দুর করে দিয়েছে তার এই পৃথিবীতে বেচে থাকার কোনো অধিকার নেই 

।।

দিয়াঃ আমার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে.... 

রাফি আমার শেষ বিদায়ই টা দাও 

বলতে না বলতেই তাসফিয়ার শরীর থেকে আমার আত্মাটা আলাদা হয়ে গেলো 

সাঈদঃ দুর থেকে আমি শুধু তাদের দেখতে ছিলাম যখন তাসফিয়া পড়ে যাচ্ছিলো তখন 



.

.

তাসফিয়ার শরীর থেকে যখন দিয়ার আত্মা টা বেড় হয়ে যাচ্ছিলো ঠিক তখনি রাফি একটাই কথা বললো..... 

। 

দিয়া তোমার কাছে আমি খুব তাড়াতাড়ি আসতে চলেছে শুধু তোমার অসমাপ্ত প্রতিশোধ টা সম্পুর্ন করার সময় টুকু দাও আমায়...... 

ততক্ষণে তাসফিয়ার শরীর থেকে দিয়ার আত্মা টা বেড় হয়ে গেছে এখন তাসফিয়া নিজের শরীরকে আবার নিজের কন্ট্রোল এ রাখতে পারবে। 

। 

দিয়ার আত্মাটা বেড়িয়ে যাওয়ার পর তাসফিয়া মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলো ঠিক সে সময় রাফি তাকে ধরে ফেলে 

সাঈদঃ দৌড়ে গিয়ে তাসফিয়া পাশে দাড়ালাম, .. 

। 

সাঈদঃ tnx ধরার জন্য না হলে মাটিতে পড়ে বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেতে পারতো 

রাফিঃ tnx তো আমার বলা উচিত আপনাকে যে আপনি নিজের গালফ্রেন্ড এর শরীরে দিয়ার আত্মা টাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন আর আমার শত অপেক্ষার কারণ টা আমাকে জানতে দিচ্ছেন বলেই সেখান থেকে চলে আসতেছিলাম 

সাঈদঃ এই যে শুনুন। 

রাফিঃ হঠাৎ পিছু ডাকে থকমে গেলাম 

। 

। 

সাঈদঃ এইটা ধরো 

রাফিঃ কী এটা 

সাঈদঃ দিয়ার গলার চেইন যেটা আমার কাছে ছিলো এটা সবসময় তোমার কাছে রাখবেন দেখবেন দিয়ার সাথেকথা বলতে পারবেন। 

রাফিঃ সত্যি 

সাঈদঃ হুম 

রাফিঃ আমি আবারো আপনার কাছে ঝ্রণি হয়ে গেলাম 

। 

সাঈদঃ এটা কোনো বেপার না 

এর পর তাসফিয়াকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম.... 

বিকাল বেলা তাসফিয়াকে নিয়ে ছাদে বসে ছিলাম ঠিক তখনি তাসফিয়া যা বললো তা শুনে অবাক হয়ে গেলাম .... 

তাসফিয়াঃ আচ্ছা দিয়া যখন আমার শরীরটাকে বস করে নিয়ে তার বয়ফ্রেন্ডর সাথে দেখা করতে গেছিলো তখন তুমি আমায় একা কেনো যেতে দিচ্ছিলা 

সাঈদঃ এই কথাটা তাসফিয়া জানলো কী ভাবে ভারি অবাক করা বিষয় তো 

সাঈদঃ তোমায় এ কথা কে বললো 

তাসফিয়াঃ আমি সব জানি শুধু তখন কিছু করতে পারছিলাম কেনো না আমার নিজের কন্ট্রোল এ তখন আমার শরীরটা ছিলো না আমি সবি দেখছি আর সবি বুঝছি .. 


সাঈদঃ এসব কথা বাদ দাও না যা হয়েছে তাতে তোমার খুশি হওয়ার কথা তোমার কারণে তাদের অসমাপ্ত ভালোবাসা পুর্ণ হলো তাই না 

তাসফিয়াঃ তা অবশ্য ঠিক। যদি আমার কিছু হয়ে যেতো তখন তোমার খেয়াল কে রাখতো.... 

.

সাঈদঃ আমি নিজেই রাখতাম । 

তাসফিয়াঃ 😒😒

সাঈদঃ 😘😘😘 

তাসফিয়াঃ থাক আর ডং করতে হবে না আচ্ছা আমি তোমায় একটা সারপ্রাইজ দিবো 😊😇।

সাঈদঃ কী সেটা 😇

মিঃ আসাদ সাহেবে বুঝতে পারছেন এখানে কিছু ভয়ানক হতে চলেছে 

তখনি সারা ঘরে পোড়া লাশের গন্ধে রুমটা ভরে গেছে 

আকাশ কালো হয়ে গেছে চারিদিকে প্রচন্ড বাতাস উঠেছে আজ এক অতৃপ্ত আত্মার প্রতিশোধ দেখবো পুরো দুনিয়া হাতে সেই রক্ত মাখা ছুরি যেটা দিয়ে তারা তাসফিয়ার শরীরে নাম লিখেছিলো।

মিঃ আসাদ সাহেবের সামনে হঠাৎ দিয়া আত্মা টা চলে আসায় সে প্রচন্ড ভয়ে পেয়ে গেছে। 

দিয়াঃ একটা মেয়ের বয়সি মেয়েকে রেপ করতে লজ্জা লাগে নি তোরা মানুষ নয় জানোয়ার তোদের মতো মানুষের এই সামাজে বেচে থাকার কোনো অধিকার নেই 

বলেই সেই ছুরিটা দিয়া একটা হাত কেটে ফেললো তার পর একটা পা কেটে ফেললো 

মিঃ আসাদ সাহেবের শরীর থেকে রক্ত বেড়িয়ে রক্তের বন্যা হয়ে গেছে এর পর সোজা ছুরিটা তার বুকে ডুকিয়ে দিলো এর পর তার ডান বুকে লিখে দিলো এক 

পরের দিন সকালে পুলিশ খবর পেয়ে ছুটে যায় সেখানে এই ঘটনাটা কীভাবে ঘটলো কেউ জানতে পারলো না তার উপর বাড়িতে এত গুলো সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো আছে সে গুলো চেক করে কিছুই পাওয়া গেলো না এটা কে করতে পারে 

দিয়ার বাবা খবরের কাগজে এই নিউজটা দেখে তার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো সে জানে এটা দিয়াই করেছে এর কী তার পালা 

সাঈদঃ সারা রাত কেটে গেলো দিয়া আসলো না সে কী আর আসবে না 

মনটা খুবি খারাপ বাসায় নাস্তা না করেই বাসা থেকে বেড়িয়ে আসলাম 

তাসফিয়াঃ আমি বাবা মা কে বলেছি আমার যেনো সাঈদ এর সাথে বিয়ে দেয় তাই তাদের নিয়ে সাঈদ এর বাসায় যাচ্ছি সেখানে গিয়ে তার বাবা কে সব কিছু বললাম তারা তো আমাকে দেখে প্রথমে রাজি হয়ে গেছে কিন্তু সাঈদ কোথায় 

সাঈদঃ বাইরে থেকে ঘুরে এসে বাসায় যখন ডুকবো তখন ভিতর থেকে কিছু মানুষের গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম তা দেখতে গিয়ে 

দুই চোখ কপালে উঠে গেছে এ কী তাসফিয়া আর ওর মা বাবা তাহলে কী ওরা মা বাবাকে আমাদের রিলেশনর কথা বলে দিয়েছে আর আমি যাতে তাসফিয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক না রাখি এই কথা বলতে এসেছে 

। 

আমাকে একা ডেকে এই কথা বলতে পারতো আল্লাই জানে কী হবে 

তখনি বাবা আমার দিকে রাগি চোখে তাকালো হায় আল্লাহ আমি শেষ কেউ বাচাও আমায়.... 

চলবে!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url