অতৃপ্ত আত্মার প্রতিশোধ - ভৌতিক ভূতের গল্প । পর্ব ০২

 

অতৃপ্ত আত্মার প্রতিশোধ - ভৌতিক ভূতের গল্প । পর্ব ০২

অতৃপ্ত আত্মার প্রতিশোধ 

পর্বঃ ২ 



মানুষ রুপি জানোয়ার গুলো যখন দিয়ার মতো নিষ্পাপ একটা মেয়েকে মেরে ফেললো তখন তার ডেড বডিকে নিয়ে অনেকটাই চিন্তা পড়ে গেলো 

নিজের মেয়েকে মৃত্য দেখেও চোখে এক ফোটা পানিও আসে নি..

দিয়া মরে গেছে তাতে কী এ কয়েক দিনে অনেক টাকা ইনকাম করে ফেলেছে তার বাবা 

অনেক চিন্তা ভাবনার পর দিয়ার রক্তাক্ত শরীরটাকে একটা বস্তায় ভরে ফেললো তার পর জন মানবহীন একটা জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার দেহে প্রচুর পরিমান পেট্রোল ঢেলে দিয় আগুন লাগিয়ে দিলো 

কয়েক মিনিটের মধ্যে সারা শরীরটা পুড়ে ধুলা হয়ে গেলো শুধু পড়ে রইলো শরীরের কঙ্কাল টা। 

যাক এত খনে শান্তি হলো কেউ কখনো এই বিষয়ে কোনো দিন জানতেও পারবে না । 

সত্যি কত আজব বিষয় তাই না বাবা হয়ে নিজের মেয়ের সাথে এই রকম কীভাবে করতে পারে কথাটা ভাবতেই অবাক লেগে যায় বাস্তবতটা এমনি সবারি বাবা তো এক হয় না। 

এই ঘটনা ঘটার প্রায় দু বছর হতে চললো আজ দিয়ার বাবার মনে দিয়া বলে কেউ এই পৃথিবীতে ছিলো সেটা একবারো মনে আসে নি... 

অপর দিকে দিয়ার অতৃপ্ত আত্মাটা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এমন একজনকে খুজছে যে তাকে সাহায্য করতে পারবে সে এমন মানুষ কোথায় খুঁজে পাবে। 

খুজে পেলেও তার সাথে কথা কীভাবে বলবে সে তো এখন এক অতৃপ্ত আত্মা মাএ যার সাথে কোনো মানুষ কথা বলা তো দুরের কথা দেখা পযন্ত পাবে 

যদি দেখতেও পেতো তাহলে কেনো তাকে সাহায্য করতে আসতো এই দুনিয়ার মানুষ তো স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝে না 

তাহলে কী আমার প্রতিশোধ সম্পুর্ন হবে না অসমাপ্ত হয়েই থাকবে সারা জীবন। 

অন্য দিকে 

সাঈদঃ অনেক দিন হলো আত্মা নিয়ে গবেষণা করছি কিন্তু না আজ পযন্ত কোনো আত্মা দেখতে পেলাম আমার তো বিশ্বাস হয়েই গেছে এই পৃথিবীতে কোনো আত্মা বলতে কোনো জিনিস নেই সবি মানুষের মনের ভুল 

বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আজ একটা জঙ্গলে এসেছি যেখানে কেউ সচারাচর আসে না এখানে নাকি ভুত ঘুরে বেড়ায় তাই আমি এই খানে ভুত দেখতে আসছি প্রথমত কেউ আসতে রাজি হচ্ছিলো নস তার পর অনেক কষ্ট করে তাদের ম্যানেজ করলাম

জঙ্গলটা কিন্তু খুব সুন্দর ভিতরে উপরে কত সুন্দর সুন্দর পাখি মনের আনন্দে গান গাইতেছে।

তখনি পায়ে কিছু হাড় জাতীয় লেগে গেলো নিচের দিকে তাকাতে কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম নিচে একটা মানুষের কঙ্কাল পড়ে রয়েছে আমার বন্ধুরা তো দেখে অনেকটাই ভয় পেয়ে গেছে তাদের মতে এটা ভুতের কাজ কিন্তু আমার তো তা মনে হয় কঙ্কালটা দেখে মনে হচ্ছে ১২/১৪ বছরে মানুষের হবে কিন্তু তার কঙ্কাল এখানে কী করছে আশে পাশে ভালো মতো দেখলাম 

দেখতে দেখতে একটা তেলের বোতল দেখতে পেলাম তার মানে এই মানুষটাকে জঙ্গলে নিয়ে এসে পুরিয়ে মারা হয়েছে। 

কঙ্কালটা দেখে কেউ তার কাছে যেতে চাচ্ছিলো না আমি কঙ্কালটার গলায় একটা লকেট দেখতে পেলাম। 

এই চেইন টা তো স্বর্ণের সেটা হাতে তুলে নিয়ে সব বন্ধুরা মিলে কঙ্কালটা মাটি দিয়ে দিলাম তার পর যে যার বাড়িতে ফিরে আসলাম 

। 

বাসায় এসে চেইনটা ভালো মতো ধুয়ে নিয়ে রুমে এসে শুয়ে শুয়ে দেখছি।

এই লকেটা তো মনে হয় খুলাও যায় অনেক চেষ্টার পর খুলতে পারলাম কিন্তু খুলার পর যা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না

লকেটার মধ্যে লেখা ছিলো দিয়া.... 

সাঈদঃ তার মানে ওই কঙ্কালটা দিয়া নামের কেনো মেয়ের ছিলো কে এই দিয়া কেই বা তাকে পুরিয়ে ফেললো এই রকম হাজারটা প্রশ্ন মনে ঘুর পাক খাচ্ছিলো 

সেদিনের পর থেকে যখন চেইনটা হাতে নিয় মনে হয় আমার পাশে কেউ দাড়িয়ে আছে সে আমাকে কিছু বলতে চায় কিন্তু কী বলতে চায় বা কে সে নাকি এটা আমার মনের ভুল যে দিন থেকে ওই জঙ্গলে এই চেইনটা পেয়েছি ওই দিন থেকে আমার এমনটাই মনে হচ্ছে।।

শুধু মনে হচ্ছে না অনুভবও করতে পারছি 

আজ রাত ১২ টা রুমটা পুরো অন্ধকার আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি কেউ আমার ঘরে কান্না করতেছে কিন্তু কেউ তো নেই তখন আমার হাতে সেই চেইনটা ছিলো যখন সেটা ফেলে বিছানা থেকে উঠলাম তখন আর কিছুই মনে হচ্ছে না যখনি সেই চেইনটস হাতে নিয় তখনি এমন কেনো মনে হয় 

[#বি.দ্র: আগের পর্ব গুলো আমার আইডি এতে দেওয়া আছে এবং পরের পর্বগুলো আমার আইডিতে পোস্ট করা হবে পড়তে চাইলে এড Friend request দিয়ে আমার সাথে থাকুন Nasir uddin] 

আবারো চেইনটা হাতে নিতেই সেই কান্নার আওয়াজ।

সাঈদঃ কে আছো রুমে সামনে এসো আমাকে এভাবে ভয় দেখাতে পারবে না 

সাঈদঃ কেউ তো নেই এটা কী মনের ভুল না এটা হতেই পারে না তার পর মনে হচ্ছে কেউ আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে কিন্তু বলতে চাচ্ছে হঠাৎ সামনে একটা অবছা ছায়া দেখতে পেলাম 

লাইফে আজ প্রথম এতটা ভয় পেরেছি 

সাঈদঃ কে ওখানে। 

আস্তে আস্তে সেই ছায়াটা আমার দিকে এগিয়ে আসছে রাত সাড়ে বারোটা এক সময় সেই ছায়াটা একটা মেয়ের রুপ ধারণ করলো 

সাঈদঃ আমার সারা শরীরটা ভয়ে থর থর কাপছে কী হচ্ছে আমার সাথে এক পযার্য়ের সেই ছায়াটা আমার পায়ে পড়ে ধরলে কিছু বলতেছে আমি সব স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। 

আমাকে প্লিজ সাহায্যে করুন এই পৃথিবীতে একমাত্র আপনিই আমাকে দেখতে পারেন আর শুনতে পারেন 

সাঈদঃ কে আপনি।

আমি দিয়ার অতৃপ্ত আত্মা আমার অসম্পূর্ণ প্রতিশোধটা অসমাপ্ত হয়েই রয়েছে আমার সাহায্য দরকার।

সাঈদঃ কিন্তু এই পৃথিবীতে এত মানুষ থাকতে আমিই কেনো আপনাকে দেখতে পাচ্ছি আর শুনতেও পাচ্ছি 

তখনি হাত থেকে চেইনটা পড়ে গেলো সব কিছু আগের মতো হয়ে গেলো হারিয়ে গেলো সেই ছায়াটা তার মানে এই চেইটা হাতে থাকলে আমি দিয়া মেয়েটার আত্মাকে দেখতে পাই 

তখনি যা হলো 

চলবে!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url