অরুর সংসার - Orur Songsar । কষ্টের গল্প - পর্বঃ 02

 

অরুর সংসার - Orur Songsar । কষ্টের গল্প - পর্বঃ 02

অরুর সংসার

পর্বঃ ০২

লেখিকাঃ নিশি কথা



ওদিকে জয়ার মন খারাপ এখন অস্থিরতায় পরিণত হয়েছে....

অস্থিরতা বললে ভুল  হবে চরম  অস্থিরতা!!! ৯;৩০ তো কখন পার  হয়ে  গেছে!! কই? অয়ন  তো  এলো না...........

 সে কি তাহলে আজ ও আসবে না? কি হয়েছে তার?.......  জয়ার চোখ বেয়ে ২ ফোটা পানি গরিয়ে পরলো....... তাহলে কি আজ ও অয়নের দেখা মিলবে না??

ডায়নিং টেবিলে বসে চা খাচ্ছেন আর পেপার পড়ছেন অয়নের বাবা নিসাদ হুসাইন।ওদিকে অয়নের পিছে পিছে অরুও নেমে এল। সিঁড়ি থেকে যে অয়ন আর অরু নেমেছে সেদিকে খেয়াল নেই অয়নের বাবার।.... অয়ন  তার বাবার  সামনে এসে বলল...... 

অয়ন: আসসালামুআলাইকুম বাবা। 

(পেপার থেকে চোখ সরিয়ে অয়নকে ফরমাল ড্রেসাপে দেখে অবাক হয়ে গেলেন মিঃনিসাদ)

মিঃনিসাদ : সেকি?  কোথায় যাচ্ছো তুমি অয়ন?? 

(অয়ন গ্লাসে জুস ঢালতে ঢালতে বলল....) 

অয়ন: কেন হাসপাতালে যাচ্ছি। অহন কই????  

মিঃনিসাদ : তোমার অহন কলেজে গেছে। প্রতিদিনের মত  ৯ টায়  কিন্তু তুমি হাসপাতালে যাচ্ছো এটা কোন কথা হল??  বিয়ের ২য় দিনে কেউ কাজে যায়!!  শুনছো কখনো??

(অয়ন জুস শেষ করে বাবার দিকে  তাকালো)

অয়ন: আসি বাবা। আসসালামুআলাইকুম 

মিঃনিসাদ: দাড়াও অয়ন!! 

তুমি কোথাও যাবে না! আজ বাদে কাল তোমাদের বৌভাত,রাতে আরোহি আসবে! তাই আজ  অরুর সাথে থাকবে তুমি।অবাক হয়ে যাচ্ছি আমি!!  অহনা বাইরে,আমি অফিসে চলে যাবো একটু পর!  তুমিও চলে গেলে অরু সারা বাড়ীরে একা কিভাবে থাকবে.... 

অয়ন:যেভাবে এরপর থেকে সারাজীবন থাকবে সেভাবে থাকবে......... 

(এই বলে গটগট করে অয়ন বের হয়ে গেল।)

.............

মিঃনিসাদ : মা ওখানে দাড়িয়ে আছো  কেন?  এদিকে  এস। আমি কিন্তু এখনো নাস্তা খাই নি। এসো একসাথে খাবো!  

অরু: বাবা উনি তো না খেয়েই চলে গেলেন। 

মিঃনিসাদ: আরে ও প্রায় ই  এমন করে, হাসপাতালের  ক্যান্টিন থেকে কিছু খেয়ে নিবে। 

(অরু এবার বসলো,একটু আগেই খেয়েছে এখন তার ক্ষুধা নেই  )

মিঃনিসাদ : রোজ রোজ এক ব্রেড, বাটার খেতে খেতে আমি না বোর হয়ে গেছি মা! আমাদের দুপুর আর রাতের খাবার ও খুবই একঘিয়ে!  বোঝো  তো কাজের মেয়েদের হাতের রান্না!!  মা তুমি  রান্না করতে পারো??? 

(অরু মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে সম্মতি দিল... কারন সৎ মায়ের সংসারে তার  ই  রান্না করা লাগতো  ২বেলা,মাঝেমাঝে ৩ বেলাও)  

মিঃনিসাদ :বাহ তাহলে তো খুব ভাল।তোমার মা কিন্তু খুব ভাল রান্না করতেন।কলেজে পড়াকালীন কত তার রান্না খাবার খেয়েছি!  তারপর তো আমি বিদেশ চলে  গেলাম! বিয়ে শাদি করলাম। আরোহী, অয়ন হল, অয়নের যখন  ৯বছর  এক বন্ধুর শুনলাম তোমার মা আর নেই! ""!! তোমাকে জন্ম দিয়ে না ফেরার দেশে চলে  গেছেন!  (এই বলে মিঃনিসাদ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন! ওদিকে অরু কাঁদছে ) 

মা কেঁদো না! শুন এটা এখন থেকে তোমার  সংসার। এর পরিবার টা তোমার!তোমাকেই সবাইকে সামলাতে হবে মা।আজ একথাগুলা তোমাকে তোমার  শাশুড়ির বলার কথা ছিল কিন্তু আমি বলছি! আরোহীর বিয়ে হয়ে গেছে, ও এখন  নিজের সংসারে ব্যাস্ত, নাহলে ও একাই আমাদের সবাইকে বিয়ের আগ পর্যন্ত সামলিয়েছে! আর অহনা, অয়ন এর যে সংসারে  

কোন ইন্টারেস্ট নেই তাতো বুঝছোই....... এখন তোমাকেই নিজের সংসার নিজের মত  করে সামলাতে হবে.... 

অরু: আমি চেস্টা করবো বাবা

মিঃনিসাদ: পারবে তুমি মা!আমি এখন  আসি। অফিসের সময় হয়ে গেছে।তুমি ঘরে রেস্ট কর।সংসার  সামলাতে বলেছি বলে যে আজ বিয়ের ২য় দিন ই কাজে  লেগে  যাবে তা কিন্তু  না।খবরদার বৌভাতের  আগে কোন ঝামেলায় জড়াবে না! 

(অরু মাথা নেড়ে সন্মতি দিল)(অয়নের বাবা বের হয়ে গেলেন অফিরের পথে)


অয়ন গাড়ি থেকে নেমে হাসপাতালে  ঢুকাতেই  দেখে জয়া হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালের CEO মিঃ শুশান্ত চৌধুরীর কেবিনে গেল।

অয়ন কে দেখে  সবাই দাড়িয়ে সালাম, গুড মর্নিং দিল।অয়ন  নিজের কেবিনে চলে গেল।

জয়া: Sir... May i come in??

শুশান্ত : Yes come in... Good morning Dr.Joya

জয়া: good morning sir.Sir i want to ask you something if you don't mind

শুশান্ত: Yes please 

জয়া:Sir...it's already 10:30.""! where is our CFO ???he didn't came yesterday also...is there  any problem sir??? please tell me

শুশান্ত : may be some personal issue!  don't know

জয়া: But don't we should ask him..?? 

(শুশান্ত মাথা উচু করে কিছু বলতে যাবে অয়নের ফোন আসলো তার ফোনে) 

শুশান্ত : Dr.Joya excuse me.

Hello.জি মিঃঅয়ন। আপনি হাসপাতালে??? ওকে আমি  ডাক্তারদের পাঠাচ্ছি এক এক করে।

(অয়ন অফিসে "! কথা টা শুনে জয়ার বুক টা মনে হয় শান্ত  হয়ে গেল)

শুশান্ত ফোন  রেখে জয়ার  দিক তাকাতেই জয়া বলল......... 

জয়া :Excuse me sir

(বলে জয়া বের হয়ে গেল)

না অয়ন কে এক নজর হলেও দেখতে হবে তার! কিন্তু তার তো অয়ন  এর সাথে দেখা করার সময় তো তার সন্ধা ৬:৩০!!  এতক্ষন সে কি করবে???  সে তো  অয়নকে না দেখলে পাগল হয়ে যাবে


অরু রুমে এসে রুমটা সুন্দর করে গুছাতে লাগলো,হটাৎ করে ওর চোখ গেল বিছানায়..... সাদা বিছানায় লাল রক্তের  দাগ। অরুর এর পিছনের কারন জানা নেই। জানা নেই যে এটা তার  সতিত্বের প্রমান। আজ এই প্রমান পেয়েই অয়ন তাকে কাছে টেনেছে এটা যে অরুর জানা নেই...

অরু বিছানার কাছে যেয়ে ভাল করে পর্যবেক্ষন করলো।হ্যা এটা  রক্ত!!!!!  কিভাবে আসলো???  কই  তার সারা  শরীরে ঠোট বাদে  তো কোথাও কাটে নি যে এত  রক্ত  পড়বে!  তাহলে কি  উনার  কাটলো কোথাও???  নাকি  অরুর  পিরিওড হল???  ও হ্যা অরুর তো  ডেট কাছাকাছিই........  কিন্তু  না হয় নি!!  তাহলে??????? 


অয়নের  সামনে বসে  আছে ডঃরাকিব!!!  নিজের গত ২দিনের কাজের আর  কাজের এক্সপেন্সের জবাবদিহিতা করছে। অয়ন  হাসপাতালের চিফ ফিন্যান্সয়াল অফিসার।  হাসপাতালের অর্থিক  সকল  কার্যক্রমই অয়নের  আন্ডারে!  বড় বড় সকল ডাক্তারকেই হাসপাতালের সকল অর্থিক খড়চাপাতির জবাবদিহিতা অয়নের কাছে করতে হয়........ এমনকি হাসপাতালের সকল  ডাক্তার, স্টাফদের বেতন  ও  অয়ন ই দেয়।"!!  

অয়ন ফাইল চেক  করে যেহেতু মাসের  ৩ তারিখ  তাই  ডাঃরাকিব কে বলল  যে আজ  ৩ তারিখ, প্রতি মাসে ২ তারিখ  আপনাদের পেমেন্ট   আমি  দিয়ে  দেই  কিন্তু কিছু পারসোনাল কারনে আমি গতকাল আসতে পারি নি আর ব্যাংক থেকে টাকাও তুলতে যেতে পারি  নি। কাল দিয়ে দেব। 

ডাঃ রাকিব অয়নের কথা শুনে বলল... 

স্যার It's okey.no problem. 

 অয়ন: Okey ... go back to your work.....

(রাকিব চলে গেলে হুট করেই অয়নের মাথায় একটা কথা এল!!  আরে  অরুকে তো এই কথা বলাই হয়  নি! কিন্তু অরুর নাম্বার তো অয়নের  কাছে নেই..অয়ন  দ্রুত বাসার ফোনে ফোন দিল...মিনু ফোন ধরলো)

মিনু :হেলো... 

অয়ন : খালা অরুকে ফোনটা  দেও 

মিনু : অরু  কে আব্বাজান??  ন

অয়ন : আরে "!! তোমাদের কারো নাম  কি  অরু???  না তো... তাহলে কার  নাম  অরু???? 

মিনু : অহ নুতন  বউ!!  আচ্ছা  দিচ্ছি 

অয়ন :হুম..... 

(মিনু সিড়ি বেয়ে অয়নের রুমের সামনে যেয়ে দরজা নক করলো )

অরু তখনো বিছানার  দিকে তাকিয়ে...... নক  শুনে অরুর ভাবনায়  ছেদ পরলো....... 

অরু দরজা খুলে বলল. 

অরু : জি  খালা

মিনু : এই নেও  তোমার বর.... (মিনু অরুর হাতে ফোন দিয়ে চলে গেল)

অরু: জি 

অয়ন : এই  তুমি  কোথায়?? 

অরু : জি রুমে

অয়ন: বিছানাটা  দেখেছো??  একটা কাজ কর দ্রুত বিছানার চাদর তুলে ধুয়ে ফেল। কাউকে কিছু বলার দরকার নাই। আর শুন  চাদর তুমি  ই ধবে বুয়াদের  দিয়ে আবার  ধুয়ায়ো না.....

অরু :......

অয়ন: হেলো??  বুঝছো?? 

অরু : জি। একটা কথা বলি?

অয়ন: কি? 

অরু : আপনার কি  কোথায়ো কেটে গেছে?? রক্ত আসলো কোথা  থেকে??? 

(অয়ন এবার হতবাক।।মেজাজটাও খারাপ হচ্ছে এবার ওর..কিছু না বলেই ফোন কেটে দিল) টুট  টুট

অরু :আহ ফোন কেটে  দিল!! মন খারাপ  হয়ে  গেল অরুর 

অরু বিছানার চাদর উঠিয়ে অয়নের কথা  মত  ধুতে গেল........


ফোন রেখে পিছে তাকাতেই অয়ন  দেখন  ঝড়ের বেগে  কেউ তার  কেবিনে নক না করেই  ঢুকে গেল!  

সেটা আর কেউ  না জয়া.......


ফোন রেখে পিছে তাকাতেই অয়ন  দেখল  ঝড়ের বেগে  কেউ তার  কেবিনে নক না করেই  ঢুকে গেল!  

সেটা আর কেউ  না জয়া....... 


জয়ার  এমন কাজ  দেখে অয়নের মেজাজ আরো  খারাপ হয়ে গেল। কিন্তু অয়নের একটা স্বভাব হল  তার রাগ হলে সে ২ টা জিনিস করে! এক যার উপর রাগ হয়  তাকে ও তার কথা কে  সম্পুর্ণ ইগনোর করে আর দুই যার উপর রাগ তাকে ঠান্ডা মাথায় অপমান করে। 

অয়ন: ডাঃ জয়া!.........  আমি কিন্তু  আপনার  এত তাড়াহুড়ায় আগমনের কারণ জানি।(বলে অয়ন বাকা হাসি দিল!!)

জয়া :(এই হাসির উপর ই তো জয়া ফিদা) জি?  

অয়ন : জ্বি !!!!!  

জয়া : কি কারন স্যার?? 

অয়ন :  গত মাসের পেইমেন্ট!!!  যেখানে প্রতি  মাসে ২ তারিখ আপনাদের পেমেন্ট আমি  দিয়ে  দেই  সেখানে আজ ৩ তারিখ!! সরি ডাঃ!  আজ ও পারছি না  পেমেন্ট দিতে!! ব্যাংকে  যেতে পারি নি!  কাল  দিয়ে  দিবো। চিন্তা করেন না প্লিজ!!   পেইমেন্ট এর চিন্তায়  তো দেখছি আপনি সব ই ভুলে  গেছেন!! ম্যানার্স ও!!!  

(অয়নের এই  ধরনের কথা শুনে জয়া বড়সড় একটা ধাক্কা খেল" সাথে কষ্ট লজ্জা দুটাই! "!!

জয়ার চোখে পানি টলমল করছে? ) 

জয়া কিছু বলতে যাবে তখনই অয়ন  বলল... 

অয়ন: আপনি এখন আসতে পারেন ডঃ!!  ৬:৩০ এ দেখা হবে.. 

(জয়া কথা না বাড়িয়ে চলে গেল)


আরোহী কিছুদিনে ধরে  খেয়াল করছে যে তার   স্বামি অনিক রোজ রাতে খুব  দেরি করে ফেরে,মাঝরাতে কারো  সাথে ঘন্টা খানিক কথা বলে... আরোহী জিজ্ঞাস করলে বলে বিদেশের ক্লাইন্ট... বিদেশের ক্লাইন্ট হলে কি আরোহীর সামনে কথা বলা যায়  না? বারান্দায় কথা বলা লাগে কেন???? 

বিয়ের ৪  বছরে অনিককে এত অচেনা কোন  দিন  লাগে নি যা ইদানিং লাগছে!... ৪ বছরের বিয়ের পরিচয় তো আলাদা!!  তার আগে যে ৫ বছরের  প্রেম!!!!৯ বছরের এত  সুন্দর সম্পর্কে কবে এমন দুরত্ব এলো বোঝে নি আরোহী....... 


বিয়ের প্রথম সাড়ে তিন বছর আরোহী মনে করতো তার চেয়ে লাকি এই দুনিয়ায় কোন মেয়ে নেই এত ভালবাসা, কেয়ার করতো অনিক। এই তো সেদিনের কথা আরোহী যখন বলল যে সে মা হতে চলেছে!!অনিক খুশিতে পাগলপ্রায়! আরোহী কে মাটি তে যেন পা ইই রাখতে দিত না.... প্রেগন্যানন্সির ৯মাস অনিক অফিসেই যায় নি....অফিসের কাজ  বাসায় বসে  করেছে আর দিন  রাত আরোহীর খেয়াল  রেখেছে..........  আর যেদিন রুশার জন্ম  হল  সেদিন অনিক খুশিতে কেঁদেই দিয়েছিল..... সারা হাসপাতাল, অফিস, পাড়াপ্রতিবেশিদের মিস্টি খাইয়েছিল.... অফিসের স্টাফদের  সেই  মাসে বোনাস দিয়েছিল মাসের মাঝখানেরি ♥♥♥♥♥কত  সুন্দর ছিল আরোহী, অনিক এর চড়ুই  সংসার  তাদের  ছোট্ট রুশাকে নিয়ে!!!! কিন্তু গত ১মাস ধরে  অনিক  বদলে  গেছে!!  আরোহীকে সময়  দেয় না সেটা  আলাদা, সে তো ইদানিং তাদের  রুশাকেও সময় দেয়  না!!!! যে অনিক রোজ  ৮ ঘন্টা অফিস করে ক্লান্ত শরীরেও ফিরেই  হাত মুখ  ধুয়ে রুশার সাথে ২ ঘন্টা খেলা  করতো  সেই  অনিকে গত ১ মাস রুশার  সাথে ৫ মিনিটও খেলে না!।

২বছরে ৬ মাসের  বাচ্চা টা সারাদিন  তো এই  অপেক্ষায় ই থাকে যে কখন  তার বাবাই আসবে আর তার সাথে খেলা করবে!!!!  

আরোহীর এখনো  ১মাস আগে সেই  দিনের কথা মনে আছে যেদিন কলিং বেল  বাজার  সাথেসাথে রুশা গুটিগুটি পায়ে দৌড়ে দরজা খুলে অর বাবাইয়ের দিকে ২ হাত  বারিয়ে দিয়েছিল প্রতিদিনের মত... অনিক রুশাকে কোলে নিয়ে কপালে ২ টা চুমু দিয়ে ভিতরে নিয়ে  এসেছিল। ফ্রেস হবে বলে রুশাকে  নামিয়ে রুমে যেই  গেল রুশা তো  প্রতিদিনের মত  সব খেলনা, বই  নিয়ে অনিকের জন্য বসে ছিল যে অনিক  ফ্রেস হয়ে এসে খেলবে। অনিক  ফ্রেস  হয়ে নিচে ঠিক ই এলো  কিন্তু রুশার সাথে  খেলল  না।আরোহীকে খাবার দিত বলে উপরে চলে  গেল।আরোহী খাবার  এক হাতে নিয়ে  আরেক হাতে রুশার  হার ধরে উপরে গেল। খাবার হাতে দিতেই অনিক  খেয়ে  নিল। খাবার  শেষ হবার  সাথে  সাথে  রুশা  অনিকের হাত ধরে  টানতে লাগলো!  অনিক বলেছিল মা আজ আমি অনেক ক্লান্ত, আজ খেলবো না। রুশা সেদিন লক্ষি মেয়ের মত অনিকের গালে চুমু দিয়ে একা একাই খেলবে বলে নিচে গেল।... 

আরোহীর  সেদিন  অনিককে অন্যরকম  লাগলেও ভেবেছিল হয়তো সত্যিই অনিক আজ অনেক ক্লান্ত। কিন্তু এরপর থেকে ৫,৭ দিন গেল রোজ অনিক এক ই কথা বলে..... আরোহী আর রুশা কে এভয়েড করে.........!! রুশাও সে কয়  দিন রোজ আশা করে অনিকের  কাছে যেত  আর মন খারাপ করে ফিরে আসতোআর  একদিন!!!!!  অনিক  বেল  দেওয়ার  সাথে সাথে রুশা তার  সামনে গেলে রুশাকে পাশ  কেটে সে চলে গেল!!  রুশা অনিকের পিছন  পিছন গিয়ে অনিকের হাত ধরে টানা আরম্ভ করলো.....অনেক হয়েছে!!  আজ বাবাইয়ে  রুশার  সাথে খেলা করতেই হবে.... 

রুশা: বাবাই বাবাই তল তলো (চলো  চলো).......কেলা কেলা (খেলা) 

অনিক : না এখন  না,যাও  পরে

রুশা : কেলা  কেলা!  তল তল  

অনিক : বললাম তো না।যাও (এই বলে ঝারি মেরে হাত সরায় নিল)(সেই সময়ই আরোহী রুমে ঢুকে সব টা দেখে নিল... আরোহী রুশার দিকে তাকালো..রুশার চোখে পানি টলমল করছে )

আরোহী : অনিক!!!!!  এমন করছো কেন?? ভালভাবেও তো ভলা যায়!!  কি হয়েছে  ইদানিং তোমার???? 

অনিক : কিছুনা। ভাল লাগে না ওত নেকামি। 

আরোহী : অনিক!!!!! 

অনিক : চুপ!  যাও তো এখান থেকে।জাস্ট লিভ!!  আর  (অনিক রুশার  হাত দরে টেনে টেনে আরোহীর

 হাতে দিয়ে বলল....)

অনিক: যাও, একেও সরাও এখান থেকে


আরোহীর চোখ  বেয়ে ২ ফোটা জল বের হয়ে গেল এসব মনে করে!!!! 

সেদিনের পর থেকে অনিক পুরোই  পাল্টে গেছে, পাল্টে  গেছে তাদের  সম্পর্ক!!  


রুশাও ওই দিনের পর থেকে আর অনিকের কাছে যায় না... খেলতে চায় না...রুশার  ছোট্ট মন টা অনিকের সেদিনের খারাপ আচরনে কি বুঝেছিল জানা নেই তবে  সেই থেকে যে বাবার প্রতি  অভিমানের বিশাল  পাহার তার মনে সৃষ্টি হয়েছে এটা ভালই  বোঝে আরোহী..... 

.................

অরু অয়নের কথা মত  নিজের হাতে চাদর কেচে ছাদে নেড়ে দিয়ে  আসলো । বেলা বাজে ১:৩০। অরু শাড়ি চেঞ্জ করে নিল!  চাদর ধুতে যেয়ে শাড়ি ভিজে  গেছে।শাড়ি চেঞ্জ করে পরনের শাড়ি টাও ধুয়ে  আবার ছাদে যেয়ে নেড়ে দিল। এখন অরুর  পরনে একটা সুতির হলুদ শাড়ি! বিছানায়  নিতুন চাদর বিছিয়ে খাটে হেলান দিয়ে বসলো অরু!  ক্লান্ত লাগছে তার। রাজ্যের ঘুম ভর করলো অরুকে........ 


অয়ন লাঞ্চ খেতে ক্যান্টিনে যেতেই ঢাক্কা খেল জয়ার  সাথে!!! জয়া  সরি সরি  বলে উপরে তাকাতেই অয়নকে দেখে  হা করে তাকিয়ে আছে। অয়ন  ইটস ওকে বলে জয়াকে  পাশ কাটিয়ে চলে গেল।খেতে বসল।জয়া হুট করেই অয়ন যে টেবিল বসা সেখানে বসে পড়লো!  বলল......

জয়া: স্যার বাইরের খাবার এখন  খাওয়া ঠিক কা।দেখে করোনা ভাইরাসের যে প্রকপ! আমি বাসা থেকে নিজের হাতে রান্না করে এনেছি "! প্লিজ এখান থেকে খান..



চলবে?

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url