অরুর সংসার - Orur Songsar । কষ্টের গল্প - পর্বঃ 05

 

অরুর সংসার - Orur Songsar । কষ্টের গল্প - পর্বঃ 05

অরুর সংসার

পর্বঃ ০৫

লেখিকা - নিশিকথা


অয়ন জয়াকে নিজের থেকে বেশ ক্ষানিকটা দুরে সরালো কিছুটা জোরে  ধাক্কা দিয়েই """ অয়নের মেজাজ  এখন  চরম খারাপ.... 

তাও  ঠান্ডা গলায় জয়াকে বলল........ 


অয়ন:Dr.Joya....Relax..... Sit here!!!  Come on !!  come here sit here!!!  


(অয়ন  জয়াকে ধরে চেয়ারে  বসালো.... এক গ্লাস  পানি জয়ার দিকে  এগিয়া বলল.... 


অয়ন: নিন  

জয়া :..........( কাঁদতে কাঁদতে হিচকি উঠে যাচ্ছে জয়ার) 

অয়ন:Dr please!!  calm down.... take it 

(জয়া পানি নিয়ে ঢলঢক করে পান করে নিল)

..........

অয়নের  কেবিনে  এখন 

#Pin_Of_silence 


অয়ন নিরবতা ভেংগে বলল... 

অয়ন: জয়া একটু  আগে  আপনি  যে কাজ  টা করলেন বা যেসব বললেন  সেটা   একজন  ডাক্তার হয়ে   আপনার করা বা  এসব  কথা  বলা  শোভা  পায় না!!!


 আপনি  এটা করে কি  বুঝালেন বুঝলাম  না!!


 ঠিক করেন  নি  আপনি  এটা!  আপনার  এই  বিহেভিয়ার  একজন  মাচুয়ার  মেয়ের  মত  তো ছিল না


জয়া : আপনাকে ভালবেসা টা  কি ভুল আমার ???  


অয়ন : না ভালবাসা ভুল  কি না জানিনা তবে আমি  বিবাহিত এটা জানার পরও ভালবাসাটা ভুল।।। 


জয়া: ................... 


অয়ন : Anyways!! Forget it.Go back to your work


জয়া : ফিরিয়ে  দিচ্ছেন?? 


অয়ন:  আপনার  কাছে আসাটাকে  মেনেই  নেই  নি" ফিরিয়ে  দিব  কি  করে?


ডঃ আপনার যে পজিশন আপনি আমার  থেকে  হাজার  গুন  ভাল ছেলে পাবেন। যে কেউ  আপনাকে ভালবাসতে বাধ্য!!  


জয়া : যে কেউ  কে তো  চাই নি!  আমি  শুধু  আপনাকে চেয়েছি। 


অয়ন : তাহলে বলবো  আপনার চাওয়া টা  ভুল।


জয়া : অনেক  ভালবাসেন নিজের স্ত্রী  কে??? 


অয়ন : ভালবাসাটা কি  সাভাবিক না???? 


জয়া : আমি  কি  করবো?? কিভাবে  থাকবো???? 


অয়ন : যেভাবে  আমি  আপনার  লাইফে  আসার  আগে ছিলেন!


জয়া : স্যার আপনি আমার জীবনে  সেই  

অধ্যায় যা আমার এন্টায়ার লাইফের ভালবাসার সর্বপ্রথম আর 

সর্বশেষ অধ্যায়........

You are my lifeline 


♦অয়ন :ডঃ আমি  আপনার  জীবনের কোন  অধ্যায় নই..মরীচিকা  মাত্র!!! 

আর মরীচিকার না শুরু  আছে  না শেষ.........♦


and I can't be your lifeline...

you  know why?? 

-- -- -- -- -- ---

নাহ এটা  আমি  আপনাকে বলবো  না!  আপনি একটু ভেবে  দেখবেন!  নিজের এখোনো অবধি জীবন এবং  ওই জীবনের  সাথে জড়িত  মানুষদের নিয়ে  ভেবে  দেখবেন! " উত্তর  পেয়ে যাবেন.....

এখন আসতে পারেন!!!!! 


(জয়া  অয়নের কেবিন  থেকে বের হয়ে সরাসরি হাসপাতালের বাইরে চলে গেল) 


অয়ন জয়ার  চলে  যাওয়ার  দিকে  কিছুক্ষন তাকয়ে ধপ  করে বসে পড়লো!  অয়ন  ভাবছে..... কত ইজিলি সে জয়াকে বলে দিল  যে সে তার  স্ত্রি  কে  ভালবাসে!" কিন্তু আদোও কি এটা সত্য??? 

না তো!!!  এটা তো সত্য নয়!" সে অরুকে ভালবাসে না।।। বাসতে পারে না......সে এই জীবনে মেয়ে জাতীর যে রুপ দেখেছে.... তাতে  মেয়েদের ভালবাসা তো  দুরে থাক মেয়েদের  প্রতি মিনিমাম বিশ্বাসটুকু তার নেই....

..............আরোহী আর অহনা ব্যতীত তার  কাছে সব মেয়েই  এক।


 কিন্তু *অরু* !!!!!  সে এতকিছু যে করছে সব যদি নাটক হয়? না এই মায়ায় সে জড়াবে না।সে অরুকে বলে দিবে  যারে  তার  উপর অরু আর যাই হোক  ভালবাসার আশা  না করে!!! ।।।।।।।।।কারন সে অরুকে ভালবাসে না আর কখনো ভালবাসবেও না।।।।।।।।। অরু তার কাছে ভোগের খোড়াক  ছাড়া  কিছুই না।তবে  হ্যা  অরু তার  জীবনে গত  ৩ দিনে এমন  এক স্থান নিয়েছে যাতে করে সে অয়নের জীবনে এই দুনিয়ার বাকি সবার  থেকে আলাদা! অয়ন নিজে নিজেকে জিঙ্গাসা করলো....... অরুর  আলাদা হবার  কারন কি ভালবাসা?????   

.

.

.

.

আবার অয়ন ই নিজেকে নিজে  বলল .... না! ভালবাসা না শুধুই কামনা!!!  অরু একারনেই আলাদা। অরুকে দেখে তার যে ফিল  হয়  তা বাকি কোন মেয়েকে দেখে হয় না! 


কিন্তু  অয়ন  যেন নিজের মনকে আর নিজেকে  কিছু থেকে কিছু বলেই  শান্তি  পাচ্ছে না !!! 


শান্তি  না পাবার  কারন  জয়া  নয় বরং  তার  বিবাহিত স্ত্রি |


//

///

//

/


অনিক রুমে গেল ফ্রেশ হতে!  আরোহীর কথা মত অরু সব খাবার রেডী করছে!  অনিকে রুমে ঢুকে দেখে রুশা পুতুল নিয়ে খেলা করছে...... 


অনিক: মা!  আমার মা টা কি করে?

(রুশা অনকের দিক তাকিয়ে হেসে দিল! খুব খুশি হয়েছে অনিকের আদুরে ডাকে।।অনিকের  দিকে ২ হাত বাড়িয়ে দিল...কোলে উঠবে সে তার বাবার) 

(অনিক রুশাকে কোলে নিতে যেয়েও থেমে গেল)

অনিক: মা আমি ফ্রেশ হয়ে আসি?  বাইরে থেকে এসে তোমাকে ধরা ঠিক  হবে না।কিটানূ  না!!!!  

রুশা আবার খেলায় মন দিল! অনিকে ওয়াশরুমে গিয়ে দ্রুত  শাওয়ার নিয়ে  বের হল  একটা  হালকা আকাশি পাঞ্জাবী পরে!! 

বের হয়ে দৌড়ে তার মেয়ের কাছে গেল অনিক!!!  কোলে তুলে  নিল রুশাকে। রুশার গালে,কপালে এলোপাথাড়ি চুমু দিতে  থাকলো!!!!  আজ ১ মাস পর সে তার কলিজাটাকে আদরে ভরে  দিচ্ছে!!!  

রুশা তার বাবার কান্ড দেখে অবাক!!!!!  

অনিক এবার কেঁদেই দিল রুশাকে  জড়িয়ে........ 

অনিক: মা রে আমাকে মাফ করে দে রে মা।আমি তোকে কষ্ট দিয়েছি " আর এমন হবে না!!!   তোর  বাবাই  সব  ঠিক করে দেবে


(রুশা তার  বাবাকে জড়িয়ে ধরলো.... বাবাকে  চুমু দিয়ে  বলল 

রুশা : কাতে   না বাবাই উশা নাভ  উ (কাঁদে না বাবাই  রুশা লাভ ইউ )

অনিক : না মা তুই বড্ড রাগ করেছিস আমার  উপর  তাই  তো  সেদিনের পর থেকে আর খেলতে চাস না বাবাই এর সাথে

রুশা: লাগ  কলি নি। না কলচি কলচিলাম। আদো  কসসো ভুয়ে গেসি

(রাগ করি নি! না করছি!  করছিলাম,আদর করেছো ভুলে গেছি )

রুশা : খববো তো  খেববো তো!  তল 

    (খেলবো  তো খেলবো  তো  চল)

অনিক : চল মা! আমি সব ঠিক করে দিব মা, সব  আগের মত করে দিব

।।

( আরোহী রুমের বাইরে  দাড়িয়ে শুনল  সব! চোখের পানি বাধ মানছে না.. অবশেষে তাদের ছোট্ট মেয়েটার অভিমান  ভেংগেছে!!  আরোহী  মনে  মনে ভাবলো.... দেখেছো  অনিক  আমাদের  মা টা  বেশি কিছু  তো  চায়  না শুধু একটু  তোমার  আদর আর সময় চায় """ তুমি  একটু আদর  করেছো  সে তো  সব  অভিমান ভুলে তোমাকে কাছে টেনে  নিয়েছে...... কিন্তু আজ যদি তুমি  এটা না করতে  আমাদের  মা টার  ছোট্ট মনে কি বিরুপ  আঘাত  লাগতো  বল তো!!!) 

< আমি সব ঠিক করে দিব মা, সব  আগের মত করে দিব> অনিকের এই  কথা টা এখন আরোহীকে  ভাবাচ্ছে!!!  কিছু তো  হয়েছিলো!  জানতে হবে  তার! 

আরোহীর সকল অভিমানও যেন  এখন উধাও!!!  ভালবাসার মানুষের তো  এই একটা গুন।বেশীক্ষন রাগ করে থাকটে পারে না।......... 

/

//

/

রাতে সবাই  বাড়ী ফিরলো  এক এক করে! 

অহনা : হেই জিজু!!!!!  আসসালামু আলাইকুম!! 

অনিক: ওয়ালাইকুমআসসালাম

কোথায় গেছিলে?  কলেজ  বন্ধ না??

অহনা:হা জিজু!  একচুয়ালী আমি একটা 

ব্যাংকে ইন্টিরশিপ এর জন্য ট্রাই করছিলাম ফাইলানি সেটা  এপ্রুভ হয়েছে।।।।।তাই গিয়েছিলাম, আপাতত  অফ! 

অনিক :গ্রেট!!  কেরি অন 

যাও গিয়ে ফ্রেশ  হয়ে আসো, একসাথে  খাবো।

বাবা এখন ও ফিরলেন না যে? 

অহনা : আজ তো  বাবার  ও লাস্ট  অফিস ডে! 

করোনাভাইরাসের জন্য কাল  থেকে সব অফিস আদালর  বন্ধ!  তাই মেবি  কাজ সেড়ে ফিরয়ে  দেরী হচ্ছে!  জিজু আপনার  ও তো  অফিস  বন্ধ!!  আমাদের সাথে থাকবেন কিন্তু  একয়দিন! 

অনিক : ডান (অনিক  তো আসলে হাফ ছেড়ে বেঁচেছে।।। একয়দিন অফিসে যাওয়া লাগবে না আর ওই রিটার চেহারাও দেখা লাগবে না..... আজ রাতে  সে আরোহীকে সব বলবে!  মনের  সব  কথা বলবে!!!  তারপর ২ জন মিলে প্রব্লেমের  সলুশন বের করবে!  আসলে ভুল 

অনিকের  ই ছিল!  প্রথমেই  তার আরোহীকে  সব  খুলে বলা  উচিৎ ছিল!  আর এখানে তো অনিকের কোনই দোষ ছিল  না!আজ যদি  অনিক  প্রথমেই সব বলে  দিত তাহলে আজ তার দ্বারা অরোহী আর রুশাকে  এত কষ্ট পেতে হত না.)


বাসার সবাই একইসাথে রাতে খেল শুধু অয়ন আর অরু বাদে! অয়ন  জানিয়ে  দিয়েছে তার  আজকে ফিরতে  দেড়ী  হবে!  তাই  অরু ও খায়  নি।


এদিকে অয়ন আর অরুর বৌভাতের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছে.... বাইরের অবস্থা ভাল না।যে হারে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে।। এর মধ্যে অনুষ্ঠান হওয়া ইম্পসিবল... দেশের যা অবস্থা তাতে সচেতন থাকা  ছাড়া  বাচার উপায় নেই। 

 

ওদিকে  সবার  অফিস ছুটি কিন্তু অয়নের কোন ছুটি নাই!!  বরং এর সিচুয়েশনে হাসপাতালের খোলা থাকা সব থেকে প্রয়োজনীয়.....


রাত ১২ টা....... 

অয়ন ফিরলো...   রুমে ঢুকে  সোজা  ওয়াশরুমে চল গেল হাত মুখ ধুতে

ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে  দেখে অরু  দাড়িয়ে আছে লেবুর  সরবত নিয়ে।। 


অয়ন  অরুর  দিকে  তাকিয়ে আছে!!  

কি আছে এই  মেয়েতে???  এত  মায়া কেন লাগে??? 

আচ্ছা আজ যদি সে বাবার কথায়  বিয়েতে  রাজি  না হত  তাহলে কি  হত?? অরুকে  তো  পেত  না!!!!! 

অরু! তো  তার  ইদানিং প্রতি রাতের  নিত্যনিয়মিত প্রয়োজন যার মুখখানি দেখলে সারাদিনের ক্লান্তি দুর  হয়ে যায়.....  কিন্তু আর যাই  হোক   অয়ন  তো অরুকে  ভালবাসে না.......

অয়ন  অরুর হাত থেকে গ্লাস  টা নিয়ে  লেবুর পানি টা পান করে নিল 

অরু : বলছি  যে আমি নিচে খাবার  দিয়েছি  চলুন খেয়ে নিন। 

(অয়ন কিছু  না বলে নিচে চলে গেল)

(অরু  অয়নকে  খাবার  বেড়ে দিয়ে  চুপচাপ  মাথা  নিচু করে দাড়িয়ে  আছে)

অয়ন: তুমি  খেয়েছো?? 

অরু: না মানে খাবো পরে 

অয়ন: পড়ে  আর কখন? 

অরু: আগে আপনি খেয়ে  নিন

অয়ন: হুম 

^^^^^

^^^

^


রাত ১ টা। অরু  সব  কাজ  শেষে রুমে  এল ! অয়ন  রুমে নেই!!  গেল কোথায়?? ওয়াশরুম ও তো খোলা!! হয়তো বারান্দায়!  অরু দ্রুত  ওয়াশরুমে ঢুকে গেল ফ্রেশ হতে.... 

ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে  

 অরু বারান্দায় উকি  দিয়ে  দেখলো অয়ন দাড়িয়ে  সিগারেট টানছে..... 

অরু : বুঝলাম  না  ওই  ধোঁয়ার কি  খায়  উনি। আমার একটুও  ভাল লাগে না!!

অয়ন: শোনা  যাচ্ছে  কথা ""!!

(অরুর চোখজোড়া অয়নের কথা শুনে বড়বড় হয়ে  গেল) 

অয়ন : মিনমিন  করে কথা বলো তা ঠিক ই স্পিষ্ট শোনা যায়!!  আর কোন  প্রশ্ন করলে  উত্তর এতই  আস্তে বল  যে কানে  শুনি না


(অরু এবার  জিহ্বায় কামড় দিয়ে  যেই  না দৌড়াতে যাবে অয়ন ওমনি অরুর হাত  ধরে  ফেলল.... হাত  ধরে একটানে অরুকে  নিজের  কাছে নিয়ে  এলো...)


নির্জন রাত...... আর একটু পরেই ভোর হবে....


  খাটের পাশের  মেঝেতে বসে চোখের জল ফেলছে অরু............

। কেন এমনটা হল তার সাথে......

 

সে তো  অয়নকে ভালবাসে ফেলেছে " খুব  বেশি ভালবেসে ফেলেছে....... ♥


আচ্ছা অরুর অয়নকে ভালবাসা টা কি ভুল???  


না তো!


 অয়ন  যে তার স্বামি............♥


ইসলামী শরীয়াত মোতাবেক ৩বার কবুর বলে অয়ন আর অরু বিবাহের  এই পবিত্র বন্ধনে  আবদ্ধ হয়েছিল।....... 


অরু  তো কখনো কাউকে ভালবাসে নি.... সে তার ভালবাসা মনের মাঝে সুপ্তভাবে রেখেছিল তার 

স্বামির জন্য...


সে চেয়েছিল  নিজের সর্বস্ব দিয়ে নিজের স্বামিকে ভালবাসতে...... আর তাই  ই তো  সে অয়নকে ভালবাসতে চাচ্ছে... 


♦কিন্তু  অয়ন?????


সে যে অরুকে ভালবাসে না।ভালবাসতে চায় ও না।

অরু  তাকে ভালবাসুক  সেটাও তার কাম্য নয়। 


সে শুধু  অরুর শরীর চায়। 


সে চায়  অরুও তাকে শুধু শরীর দিক। ভালবাসা না দিলে অয়নের  বিন্দুমাত্র যায় আসে না......♦


না না এটা অরুর মনের কথা না.......


এটা অয়নের তাকে  বলা কথা...........  


এইতো কিছুক্ষন আগের কথা...........


★★ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে  

 অরু বারান্দায় উকি  দিয়ে  দেখেছিল  অয়ন দাড়িয়ে  সিগারেট টানছে..... 

অরু : বুঝলাম  না  ওই  ধোঁয়ার কি  খায়  উনি। আমার একটুও  ভাল লাগে না!!

অয়ন: শোনা  যাচ্ছে  তোমার কথা

(অরুর চোখজোড়া অয়নের কথা শুনে বড়বড় হয়ে  গেল) 

অয়ন : মিনমিন  করে কথা বলো তা ঠিক ই স্পিষ্ট শোনা যায়!!  আর কোন  প্রশ্ন করলে  উত্তর এতই  আস্তে বল  যে কানে  শুনি না

(অরু এবার  জিহ্বায় কামড় দিয়ে  যেই  না দৌড়াতে যাবে অয়ন ওমনি অরুর হাত  ধরে  ফেলল.... হাত  ধরে একটানে অরুকে  নিজের  কাছে নিয়ে  এলো অয়ন

।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।


অরুকে পিছনে ফিরিয়ে পিছে থেকে জরিয়ে ধরলো  অয়ন....

 

পূর্ণিমা রাত... 


দুজনের চোখ  আকাশের উজ্জ্বল  চাঁদের  দিকে....... 


কিছুক্ষন বাদে অয়ন বলল....


[অয়ন:  অরু তোমার  কাছে স্বামী স্ত্রি এর সম্পর্ক মানে কি? 

   অরু অনেক সহজেই বলে  দিলে...... 

অরি: স্বামী স্ত্রি এর সম্পর্ক মানে.....

 ভালবাসার  সম্পর্ক।

সম্মানের  সম্পর্ক।

একে অপরের  সুখ  দুঃখে সঙ্গী হবার সম্পর্ক।


স্বামী স্ত্রি এর সম্পর্ক মানে .......................  


স্বামী স্ত্রির কাছে আর 

স্ত্রি স্বামীর কাছে  সেই এক নিশ্চয়তা এবং  ভরসার স্থান যেখানে

 জীবনে যত  বড় ঝড়ই আসুক না কেন স্বামী ও স্ত্রি একে  অপরের  প্রতি  সেই আস্থা রাখে যে  কঠিন থেকে কঠিনতর সময় ঐ একটা মানুষ আছে যে তার সঙ্গ কখনো ছাড়বে না। 


(অয়ন অরুর কথাগুলো তখন খুব মন দিয়ে শুনেছিল আর সাথে সাথে 

অরুর কাঁধে নিজের ঠোঁটজোড়া বুলাচ্ছিল!  আর অরু চোখ বন্ধ করেই বলছিলো কথা গুলো।।। অয়নের স্পর্শগুলো অরুর মনের ভিতরে যেন ঝড় তুলছে ওই মূহুর্তে......


অরুর কথা শেষে  অয়ন অরুকে নিজের দিকে ফিরিয়ে কোলে তুলে নিল) 

♥♥

♥♥♥

♥♥


 দীর্ঘ সময়  ধরে শারীরিক মিলনের পর  অয়ন তাকে বলল....................


অয়ন:   কি যেন বলছিলে তুমি? 

হ্যা ! প্রথমত..... 

     স্বামী স্ত্রি এর সম্পর্ক মানে ভালবাসার সম্পর্ক। কিন্তু অরু আমি  তোমাকে ভালবাসি না।আর না কখনও ভালবাসবো! 

এর মানে কিন্তু এই না যে টিভি সিরিয়াল এর মত  আমি অন্য কাউকে ভালবাসি বা কখনো ভালবেসেছি কিংবা ভাকবেসে ঠোকেছি! এমন কিছুই না। 

 কি করবো বলো আমি মানুষ বেশি একটা ভাল না।তুমি  চাইলে  ডাইরেক্ট খারাপ  ই বলতে পারো কারন আমার কাছে মেয়েরা কোন ভালবাসার বস্তু নয়...  

আর যেখানে  তোমার  আমাকে ভালবাসার  কথা...তুমি আমাকে ভালবাসো না বাসো বিলিভ মি  একটুও যায় আসে না আমার!  সাজেস্ট করবো আমাকে ভালবেসো না...ভাল থাকবে..... আমাকে ভালবাসলে কষ্ট ছাড়া কিছুই প্রতিদানে পাবে না। 


অরু:  ............... 


দ্বিতীয়ত... স্বামী স্ত্রি এর সম্পর্ক মানে সন্মানের সম্পর্ক.... 


কিন্তু তোমাকে  দেখলে আমার কামনা জাগে... তোমাকে নিজের করে পাওয়ার প্রবনতা জেকে বসে আমাকে। তোমার  শরীর চাই  আমি।তোমার বিবস্ত্র শরীর আমার কামনার প্রখরতাকে ঠান্ডা  করে।

আমরাও কিন্তু স্বামী স্ত্রি! তাহলে? এখানে সম্মান টা কোথায় তোমার প্রতি আমার ???? 

আর যে মানুষটা তোমাকে এমন নজরে  দেখে তার প্রতি তো তোমার ও সম্মান থাকা উচিৎ না।


অরু:  .............. 


তৃতীয়ত বলেছিলে  এলে অপরের  আস্থা, ভরসার স্থানের কথা........


সেটা আমার কাছে একদম  ই অসম্বব একটা কথা লাগলো!  কারন আমি জানি  যে স্বামী স্ত্রি  একে অপরের নিশ্চয়তার  স্থান হতে পারে না ।  আজ আমার এবিলিটি আছে, তোমাকে ফিজিকালি, মেন্টানি, ফাইনান্সিয়ালি সব দিতে পারছি তার  তুমি আমার  সাথে আছো 

কিন্তু  আজ আমার কিছু  একটা হয়ে যাক!সাপোজ আমি কোন ভাবে তোমাকে এসব দিতে অক্ষম হলাম তখন  ভালবাসা, সাপোর্ট জানালা দিয়ে পালাবে তোমার। 

আমার ক্ষেত্রও কিন্তু সেম!  আজ তুমি  আমাকে ফিজিকালি সেটিস্ফাইড করতে পারছো বলে  আমার প্রতি  রাতে শুধু  তোমায়  চাই  কিন্তু  আল্লাব না করুক  তোমার সাথে খারাপ কিছু হোক " 

তখন কিন্তু আমিও  তোমাকে দেখতে পারবো  না।


অরুর অয়নের বলা  কথা শুনে নিস্তব্ধ!!  চোখ দিয়ে  শুধু টপটপ করে পানি  পড়ছে তার! 


এমন কেন  লোক টা?? 

মেয়েদের এত  খারাপ ভাবেন  কেন  তিনি??  

অরুর বাবা তো বলতেন যে মেয়েরা  এই  দুনিয়ায় পিতা মাতার কাছে  মহান আল্লাহ  এর দেওয়া সব থেকে বড়  নিয়ামত!  

তাহলে?  উনি  এমন কেন করেন!!!  


ফজরের আযান শুনে ঘোর কাটলো অরুর। 


নামায পড়তে হবে!! নুজেকে গুছিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল  অরু। 

ফরজ গোছল  করে ওজু  করে নামাযে দাঁড়াতে  হবে তার।


♥♥

 

এদিকে আযান  আরোহী আর অনিক ও একে  অপরের দিকে  তাকালো...পাশে রুশা ঘুম!  মেয়েটা আজ খুব খুশি।  আজ ১মাস পড় সে তার বাবাইকে আগের  মত  করে পেয়েছে!  অনেক  খেলেছে আজ বাপ  মেয়ে মিলে!  তারপর  রুশা  অনিকের কাছে গল্প  শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছে!


  

তারপর শুরু হয়েছিল অনিক আরোহীর গল্প!   

।।এর মানে দুজনে  সারা রাত গল্প করেই কাটিয়েছে! আসলে গল্প  না!! অনিক আরোহীকে সব সত্যি কথা  জানিয়াছে এতক্ষনে"! আরোহীর কাছে মাফ ও চেয়েছে  সে খুব  করে!!! 

আরোহীর চোখে ছিল  পানি, অনিকেরর ও।।। 

দুজন যে দুজনকে বড্ড  বেশি ভালবাসে।

আরোহী : তুমি  চিন্তা কর  না!  আল্লাহ বিপদ  দিয়েছেন উনি  ই আমাদের বিপদ দুর করবেন। আমরা দুজন  একসাথে এই বিপদ  থেকে বের হব ♥ চল  একসাথে নামায  আদায়  করি।


অনিক :ইনশাআল্লাহ্‌।  চল। 

অনিক : আরোহী ???

আরোহী : জি??? 

অনিক : ভালবাসি ♥

আরোহী : আমিও!  অনেক ভালবাসি তোমায় ♥♥♥


অরু ওজু করে বের হয়ে ভাবছে... 

অরু : ডাকবো  উনাকে?? 

        না থাক যদি  বকে

        না ডাকা আমার         দায়িত্ব 

       কিন্তু!!ডাকাত  অধিকার?  সেটা  কি আছে??? 




চলবে?

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url