অরুর সংসার - Orur Songsar । কষ্টের গল্প - পর্বঃ 13

 

অরুর সংসার - Orur Songsar । কষ্টের গল্প - পর্বঃ 13

অরুর সংসার

পর্বঃ ১৩
লেখিকা - নিশিকথা


রাত তখন ১টা বেজে ৪৫মিনিট....... 
নির্জন রাস্তা দিয়ে ড্রাইভ করছে অয়ন.. 
প্রচুর ড্রিংকস করেছে আজ সে। পুরাই মাতাল অবস্থা তার.... 
 ২  হাতের আঙ্গুল গুলো রক্ত জমাট বেধে, কেটে, ছিঁলে এক আকার.। একটু আগেইই দেওয়ালে ইচ্ছা মত ঘুসি মেরে হাতের আঙ্গুল ফাটিয়েছে অয়ন.....
কি করবে? এই হাত দিয়ে আজ অরুর গায়ে হাত তুলেছে সে......
 কি করবে তার যে সন্তান চাই না। অয়নের এই নারী জাতির উপর বিশ্বাস নেই.... 
তার মা  যদি এত বছরের প্রেম, বিয়ের মত পবিত্র বন্ধন, স্বামী ও ৩ সন্তান ছেড়ে   চলে যেতে পারে অন্য পুরুষের হাত ধরে ...... 
তাহলে সে আর কাকে  বিশ্বাস করবে....??? 
সে তো শুনেছিল এই অত্র পৃথিবী তে মায়ের থেকে শ্রেষ্ট  কেউ হয় না..... একজন সন্তান তার মায়ের নজরেই প্রথম এই দুনিয়াকে চিনতে শেখে, জানতে শেখে....কি করবে     
অয়ন??
 তার মাঝে  যে পজিটিভ কিছুই বাকি নেই..... সব ইই নেগেটিভ।তার নজর, চিন্তা - ভাবনা, আচার- আচরন,মন মানুষিকতা সব কিছুর মাঝেই নেগেটিভিটি  ......
অয়ন এর নজর যে  অনিচ্ছাকৃত সাদা কেও কালো দেখে...... 
অরুকে সে এই কথাটা মাঝে বলেছিল ও... 
তা অরুর এই কথার সাথে মিলিত বক্তব্য ছিল.... 
- "থাক না আপনার মধ্যে সব নেগেটিভিটি .... ক্ষতি কি?  আমার মাঝে তো আছে পজিটিভিটি ..... 
নেগেটভ   পজেটিভেই তো আকর্ষন করে সবমসময় "
-নাহ ভুল ধারনা তোমার.... প্লাস মাইনাসে সব জিরো হয়ে যায়...কাজের আমার মাঝের নেগেটিভিটি আর তোমার মাঝের পজেটিভিটি  মিলে সব অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে.... 
...............................
অয়ন যে চায় না যে আরোহী, অয়ন আর অহনার মত মায়ের আদর থেকে  বঞ্চিত থাকুক আর কোন সন্তান....... তার যে খুব ভয় সে.....তার সন্তান ও যদি তার মত কষ্ট পায়.....??? 
সে যে তাইলেও অরুকে বিশ্বাস করতে পারে না.........
অয়নের ধারনা অরু সুন্দরি, মোটামোটি  শিক্ষিত তাই সে চলে যাবে অয়ন আর তার সন্তানকে ছেড়ে.... 
#না_অয়ন_অরুকে
#ভালবাসে_না....... 
         ভালবাসলে ৬মাসের অন্তঃসত্বা স্ত্রির গায়ে আজ সে হাত তুলতে পারতো না.......
         ভালবাসলে গত ২ মাসে অরু প্রেগন্যান্ট  জানার পর ও নেশা করে ফিরে  তার সাথে শারিরীক সম্পর্কে  লিপ্ত হতে না............
হ্যা এর মাঝে আরও #সাড়ে_৩ মাস কেটে গেছে..... 
অরুর প্রেগন্যান্সির ৫মাস পুরে  ৬ষ্ঠ মাসে পরেছে.... বলা চলে যে সে এখন  ৬মাসের   অন্তঃসত্বা.... 
.
অরু মা হবে, তাদের সন্তান আসতে চলেছে এটা জানার পর প্রথম এক মাস সব স্বাভাবিক ই ছিল অয়ন আর অরুর মাঝে.... সামনাসামনি না দেখালেও অয়ন অরুর অনেক খেয়াল রাখতো আড়ালে আবডালে .....  
অয়ন ভেবেই পারছিলো ন সে ও বাবা হতে চলেছে...তার ছোট্ট অংশ অরুর মাঝে ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে......
তবে কথায় আছে  না সুখের সময় যে বেশিদিন স্থায়ী থাকে না....!
অরুর সুখের সংসারে বাধ সাধলো তার প্রেগন্যান্সির ৩মাস পুরে যেই না ৪র্থ মাসে পরলো তার কিছুদিন পর থেকে।।। 
  ..... অয়নের এলকোহল এর নেশা ধরলো....... আর এই নেশার ঘোরে প্রায় ই রাতে অরুর সাথে যে  সে জোড়  করে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হত তার প্রমান মিলতো রোজ সকালে অরুর বিবস্ত্র শরীর দেখে  ...... 
ওদিকে  অরু ভেবেছিল এই সন্তান তাদের সম্পর্ক টাকে ঠিক করে দিবে বাকি পাঁচ টা  স্বামি স্ত্রির সম্পর্কের মত...
 কিন্তু এখন অরু নিজের সন্তানের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দীহান.....!!!  
ভয় হয়  অরুর!!  ভয় হয় যে  ছোট্ট সোনাটার কিছু হয়ে না যায় তাদের ......
অয়নকে অনেক বাধা দেবার চেস্টা করতো অরু প্রথম প্রথম  বাধা দিকেও ইদানিং আর দেয় না....বাধা দিকে যদি  জোড় করে শারিরীক সম্পর্কে  অয়ন লিপ্ত   হয়  তার সাথে তাহলে তার সন্তান আঘাত পেতে পারে বলে অরুর ধারনা.... তাই ই সে এখন অয়নকে বাধা না দেওয়াই শ্রেয় মনে করে......
অরু জানে ইদানিং অয়নের হুশ থাকে না মিলনকালে তবে যেদিন নেশার ঘোর কম থাকে বা থাকেই না সেদিন কিন্তু অয়ন অরুকে টাচ ও করে না.......... তবে এখন অরু অয়নকে প্রচুর ভয় পায়.... এক প্রকার কাঁপে অয়নকে সামনে দেখলে.......... 
এদিকে আজ কাল অয়নের নিজেকে মানুষ বলে মনে হয় না............
জানোয়ার মনে  হয় নিজেকে....
অয়ন কাউকে  বিশ্বাস করে না.....অরুকেও তো সে বিশ্বাস করে না তবুও #অরু_অয়নকে_ছেড়ে_চলে_যাবে!!!!  এই কথা টাও যে অয়ন ভাবলে শিহরে  ওঠে.... 
★অয়নের মনে পরে গেল সাড়ে তিন মাস আগের অহনার গায়ে হলুদের দিনের কথা.........  কত অমানুষীক অত্যাচার করেছিল সে ওই দিন অরুর সাথে.. 
অরু যন্ত্রনার ঠেলায় সেন্সলেস হয়ে পরেছিল সেদিন.... অরুর যখন জ্ঞান ফেরে তখন বিকালে ৫:৩০...... 
অরু কোন মতে উঠে বসেছিল........ হাতের জ্বালা কম ছিল বেশি  কষ্ট হচ্ছিলো পেটের যন্ত্রনায়।ফোসকা পরে গেছে পেটে পোড়া  জায়গায়।।
-উনি  এমনটা করতে পারলেন??  কেন করলেন?  কি দোষ ছিল আমার 
(অরু পেটে হাত দিয়ে বলল...) 
-সোনা টা বাবাকে ভুল বুঝিস না  প্লিজ। তুই কি ব্যাথা পেয়েছিস?  কষ্ট পাস না আমি একটুও ব্যাথা পাই নি....... (বলে হু হু করে কেঁদে দিল অরু.......)   
হটাৎ অরুর  নজর  গেল খাটে পরে থাকা সুতির একটা মেজেন্টা ব্লাউজ  এর দিকে...... হয়তো  অয়ন রেখে গেছে......!!  
অরু আস্তে আস্তে গিয়ে ব্লাউজ টা নিয়ে  ওয়াশরুমে চলে গেল........ 
অয়ন সাদের সাথে ছাদে দাড়িয়ে গল্প করছিল। ছেলে পক্ষ আসে নি গায়ে হলুদে। আজ ছেলের ও গায়ে হলুদ.... যার যার বাড়ীতে ঘরোয়া অনুষ্ঠান করছে......  ছেলে পক্ষরা সকালের বিয়ের তত্ত দিয়ে গেছে  আর একটু আগে আরোহী আর অনিক  দিয়ে তত্ত  দিয়ে এলো........  
অরু সুতির ডিস হাতাওয়ালা ব্লাউজ টা পরে বের হল।সেজে নিল  একটু  নাহলে সবাই বুঝে যেতে পারে কিছু  একটা হয়েছে........ 
অরু  অহনা রুমে যেতেই  অহনা বলল.... 
-কি গো  এই তোমার সময় হল ভাবী  আসার!!! তোমার জন্য এখনো চুল বাধা হয় নি আমার।এসো বেধে দেও.. 
.....................
সাদ অয়ন কে বলল.... 
-দেখ অহন আসছে
-হুম 
(অয়ন অহনাকে এক নজর দেখে নিল.... অহনার এক পাশে আরোহী আর এক পাশে মৌ তাহলে অরু কই?? 
অয়নের নজর অরুকে খুঁজছে। হটাৎ চোখ আটকে গেল  তার......
অরু গুটিগুটি পায়ে সবার পিছনে হেটে  আসছে... 
অয়নের খুব অনুসূচনা হচ্ছে একটু আগের করা কাজ নিয়ে...... কতটা ব্যাথা পেয়েছিল  মেয়েটা....কি করবে সে? তার যে মাথায় সহজে রাগ ওঠে না আর একবার  উঠলে সে রাগ খুব খারাপ আকার ধারন করে.......
অরু সারা অনুষ্ঠানে অয়নের আশেপাশেই ছিল... অয়নের ভয় যেন তাকে জেকে বসেছে... 
-ভাবী!!  একটু এগিয়ে আসেন আপনাদের কয়েকটা কাপল ছবি তুলি.. 
(অরু  অয়নের দিকে তাকিয়ে আছে... অয়ন নিজেই পিছে সরে এলো) 
-হুম  এবার উঠাও ছবি 
-ভাইয়া ভাবীকে একটু ধরেন, ক্লোজ  হন 
(অয়ন যেই  না অরুকে কাছে টেনে নিল অরু ব্যাথায়.......
-আহ্্্্্্্্্্্্াাাাা
(অয়নের সাথে সাথে অরুর বাহু ছেড়ে হাত ধরলো......এভাবেই কয়েকটা ছবি তুলল ফটোগ্রাফার .......সেদুনেরছবি থেকেই একটা ছবি এখন অয়ন অরুর রুমে বড় করে টাংগানো ) 
সেদিন অরুকে এতই সুন্দর লাগছিল যে অয়নের বার বার অরুকে ছুঁয়ে দিতে মন চাচ্ছিল...   সেদিন রাতে........
অরু গুটিশুটি মেরে খাটে বসে ছিল........ পরনে তার সুতির একটা শাড়ি... 
অয়ন রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করার  সাথেসাথে অরু কেঁপে উঠলো.......  
অয়ন  অরুর কাছে গিয়ে বসলো...... 
-অরু
- ...........  
-দেখি ব্লাউজ টা খুলো 
(অরু টলমল চোখে অয়নের দিকে তাকিয়ে আবার মাথা নিচু কিরে ফেলল....) 
-কি হল?? 
(অয়ন অরুর শাড়ি তে   হাত দিতে যেতেই অরু কেঁদে দিল....) 
-প্লিজ না!!!
-তাহলে তুমি খোল 
(অরু ব্লাউজ টা  খুলতেই অয়ন অরুর ২বাহুর কামড়ের দাগ গুলায়  মলম লাগিয়ে দিল....) 
-আমার যেগুলা পছন্দ না সেগুলা আর কোনদিন করবা না.......  
-  ...................... 
-দেখি পেট টা 
-না থাক 
-চুপ
(অয়ন অরুর পেটের দিক তাকাতেই তার বুকের ভিতর মোচর দিয়ে উঠলো ...ফোস্কা পরে গেছে পোড়া জায়গায়...এতটা অমানুষ সে কিভাবে হল? ) 
এর পর প্রায় ১৩,১৪ দিন চলে যায়।অহনা নিজের শশুর বাড়ী...... 
অরু এখন অনেক টা সুস্থ... পেটের পোড় ঘা শুকিয়ে গেছে..... 
অরু ঠিক  করলো আজ সে অয়ন কে খবর টা দিবে...
রাতে অয়ন স্কাউচ এর উপর বসে লেপটপ দেখছে........ 
অরু অয়নের কাছে যেতেই অয়ন লেপটপ রেখে অরুকে টেনে নিজের কোলে বসালো....... 
অরুর ঘাড়ে মুখ গুজলো সে...... অরুর খুব লজ্জা লাগছে কেন জানি.... ট্যুরের ওই কয়দিনের পর আজ অয়ন তাকে এত গভীরভাবে ছোঁয়া দিচ্ছে নিজের....... 
কিন্তু এখন তো এসব ঠিক নয়...... 
অরু কোনভাবে নিজেকে সামলে বলল....
-প্লিজ এমন করবেন না
- ...............  (অয়ন অরুকে কোলে  নেওয়া অবস্থায় দাড়িয়ে পরলো... অরুকে খাটে নিয়ে শুইয়ে অরুর উপর শুয়ে পরলো..) 
-প্লিজ এসব করিয়েন  না
-কিসব?? (অয়ন অরুর শাড়ির আচল সরিয়ে বুকে মুখ যেইই না গুঁজলো....) 
-প্লিজ না
-     .............. 
-প্লিজ এমন করিয়েন না আমি  #প্রেগন্যান্ট.....।।। 
(অয়ন অরুর  মুখে এই কথা টা শুনে সাথেসাথে  উঠে বসলো অরুর উপর .........) 
রুম এরপর প্রায় ৫মিনিট মত  #Pin_Of_Silence.. 
নিরবতা ভেঙে অরু বলল... 
-একারনে এই কয়দিন আপনার থেকে দুরে দুরে আছি..... আপনি ভাবেন আমি আপনাকে ইগনোর করি?? এটা কি  কখনো পসিবিল??  না পসিবল না!! 
- .............. 
-সেদিন বমি করেছিলাম একারনেইই...তখন জানতাম  না...বুঝতাম না কেন শরীর টা এত খারাপ লাগে........ খুব অস্থির লাগে, ক্লান্তি লাগে অল্পতেই, বমি বমি  পায় সব সময়,খাবার খাইতে পারি না গন্ধ লাগে খুব, খেলেই বমি করে দেই.... আর একটু  শুলেই। রাজ্যের ঘুম  ভর করে চোখে........... 
- ................ 
-অহনা আপুর গায়ে হলুদের দিন ই  জানতে পারি.... রাতে আপনাকে জানাতে চেয়েছিলাম 
- কয় মাস??????? 
-২মাস হবে আজকাল এর মধ্যে 
-কিভাবে সিওর  হলে? 
-বেবী টেস্ট কিট দিয়ে
-কোথায়  পেলে সেটা তুমি? 
-মৌ আপু দিয়েছিল 
- কে কে জানে?
-শুধু মৌ আপু
-হুম।শুয়ে পর তুমি। কাল ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাবো 
-হু
অয়ন বারান্দায় চলে গেল. ..সিগারেট  একটা ধরাতে দিয়ে আবার পকেটে রেখে দিল.....
আজ কেন যেন নিজেকে কমপ্লিট লাগছে তার.... 
সে #বাবা হতে চলেছে..... 
অয়নের সন্তান আসতে চলেছে....... ♥ 
অয়ন আজ অরুর কাছে এই কথা শুনে যেন দুনিয়ার সব সুখ পেয়ে গেছে.... আজ অরু   তাকে যতটা খুশি দিয়েছে এত  খুশি তো  সে আগে কখনো পায় নি...
অয়ন দ্রুত পায়ে রুমে গেল....অরু ঘুম। 
অয়ন অরুর কপালে গভীর ভালবাসার পরশ দিল....... তারপর অরুর পেটে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিল....... বাবা হবে সে♥
হটাৎ অরুর শাড়ির  আচল সরে পেটে সেদিনের পোড়া দাগ গুলো অয়নের নজরে পরলো......  বুক  টা মোচর দিয়ে উঠলো অয়নের...... 
ওই সময় তো তার ছোট্ট বাচ্চাটা অরুর এই পেটেই ছিল। আর সে কি না!!! 
অয়ন উঠে বারান্দায় গেল। দেওয়ালে ঘুসি দিয়ে দিয়ে নিজের হাত রক্তাক্ত করলো.... তাও যেন শান্তি নেই.... অরুর কাছে  গিয়ে অরুকে জাগালো ..... 
-(ঘুমঘুম চোখে অরু অয়নের দিকে তাকিয়ে )কি হয়েছে??
-অরু
-জ্বি
-  sorry
-  ?? (জিজ্ঞাসা সূচক নজরে তাকালো অরু)
-I am sorry 
-but???
-(For everything মনেমনে বলল  অয়ন) 
-বলুন না... 
-সেদিনের বিহেভিয়ার এর জন্য....  অহন এর হলুদের দিন!!!!! 
- সেকি!!!  আপনার হাতে কি হয়েছে????  দেখি 
(অয়নের হাতের অবস্থা দেখে অরু কেঁদেই দিল..) 
-কিছু হয় নি 
- ........... (অরু মলম লাগাচ্ছে আর কাঁদছে..) 
-বললাম তো কিছু হয় নি 
-♥আমি আপনাকে অনেক ভালবাসি♥ 
(অরু অয়নের হাত দুইটা নিজের হাতের মাঝে নিয়ে কথা টা বলল....)
-  ...........
-♥  I love you ♥
(অয়ন অরুর হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে বলেছিল...)
-শুয়ে পর এখন  অরু
(অরু আর কথা বাড়ায় নি.... নিজের স্বামী কে আজ সাহস করে বলেই দিয়েছে নিজের মনের কথা...... প্রতিউত্তরে অরু পায় নি তবুও সে অপেক্ষায়  থাকবে...... অয়নের ভালবাসার....এক বুক আশা নিয়ে শুয়ে পরলো অরু.......সে ভাবছে এই বাচ্চা তাদের মাঝে সব ঠিক করে দেবে......)  
এভাবেই কেটে গেল  ১মাস। অয়ন  আড়াল থেকে অনেক খেয়াল রাখতো অরুর....আর বাড়ীর সবাই তো  হারায়। 
......
ভালই তো যাচ্ছিল দিন  গুলো..... হটাৎ  অয়নের কি হল????  যে অয়ন বাবা হওয়া নিয়ে এত সন্তুস্ট ছিল  সে কেন সন্তান চায় না????????
.....................
.....................
কেন সেটা অয়ন ছাড়া কেউ জানে না.....
ভাবনার জগৎ থেকে ফিরলো অয়ন..সামনে তাকাতেই............... ★
                            ★
অরু রুমের ফ্লোরে গুটিশুটি মেরে বসে চোখের জল ফেলছে... 
অয়ন আজ ডিরেক্ট বলেছে সে সন্তান চায় না.... আর সন্তান সহ সে অরুকেও চায় না।।।।।
#অয়ন_অরুকে_চলে_যেতে_বলেছে .. 
...যখন বলেছেই সে চলে যাবে অরু..........  যখন সে  চায় ই না অরুকে তো ঠিক আছে অরুকে আর এই বাড়ীতে থেকে অয়নকে বিব্রত করবে না............
অরু কোন মতে উঠে দাড়ালো...... দাড়াতেই সাদ ঝড়ের বেগে রুমে ঢুকলো... 
-ভাবী! "!!! ভাবী...... 
-ভাইয়া?  কি হয়েছে?? 
-ভাবি অয়ন!!!!!!!!!!!!

অনেকক্ষন ধরে অহনার ফোন টা বেজে চলেছে... 
- অহনা   ??  অহনা  ??
-ওফফ...! চিল্লাচ্ছো কেন?  
- বের হবা কখন তুমি?  সেই ১ঘন্টা আগে ঢুকেছো শাওয়ার নিতে। এদিকে তোমার ফোন  বেজেই যাচ্ছে.......... 
-আমার শাওয়ার নেওয়ার দিকে একদম  নজর দিবা না। আর ফোন বাজছে তো কি?  তুমি রিসিভ কর!!  
-নাহ আমি তোমার ফোন কেন রিসিভ করবো ..?  পরে বলবে  যে ওয়াইফের ফোন চেক  করে.......! তোমাদের মেয়েদের উপর ভরসা নেই...... 
-রাজ..................!! 
-বের হও... আমার ওয়াশরুমের সব পানি শেষ করে দিচ্ছে রে......
(রাজ কথাটা বলে  পিছনে ফিরতেই  দেখে অহনা টাওয়াল পেচিয়ে  দাড়িয়ে আছে কোমড়ে হাত দিয়ে...)  
-আরে হিটলার 
-কিহ???? তোমারে!!!! 
(অহনা রাজের দিকে এগিয়ে যেতেই আবার ফোন বেজে উঠলো অহনার............) 
-নেও দেখো কে???
-হু
-হেলো
-।।।।।।।।।।।।। 
- ................... 
(অহনা ফোন  রেখে হু হু করে কেঁদে দিল...)
-অহনা??????? এই অহনা  কি হয়েছে??? 
কাঁদছো কেন জান??? 
- ................. (কেঁদেই চলেছে.....) 
-অহনা প্লিজ  বল কি হয়েছে...?? 
-ভাইয়ার এক্সিডেন্ট!!!!!!! খুব খারাপ অবস্থা 
-চুপ  এভাবে কেঁদো না....চল কাপড়  চেঞ্জ করে নেও.... হাসপাতালে  যাবো......... 
........
.....................
হ্যা  সেদিন অহনার সাথে রাজের ই বিয়ে  হয়েছিল..... সাড়ে  ৩ মাসের সংসার  তার আর রাজের। 
সেদিন বিয়ের পর যখন আয়নায় একে অপরের চেহারায় নজর পরেছিল তাদের  অহনা  দেখেছিল  রাজ বাকা হাসছে........ 
আয়না ধরে  আরোহীও হাসছিলো .........  
১বছর  পর রাজ কে দেখে অহনা যেন  ফ্রিজড  হয়ে গেছিলো।
তার রাজের  সাথে বিয়ে হয়েছে .......... ??
বিশ্বাস হচ্ছিল  না অহনার......কিভাবে সম্ভব হল এটা??   সেদিন যখন রাজ কথা দিয়েও ফিরেছিল না সেদিন  তো অহনা সারা দিন রাজের বলা জায়গায় অপেক্ষা করেছিল রাজের  জন্য.... 
রাজ এসেছিল না.... সেদিন থেকে অহনা তো  নিজের মন কে মেরেই  ফেলেছিল তাহলে আজ?? 
রাজ তার স্বামী...... ♥
নিজের দেওয়া কথা রাজ রেখেছিল সেদিন ..... 
সেদিন অনেক সময় শক্ড থাকার পর অহনা রাজ কে নিয়ে ফাকে দিয়ে একটা রুমে গেছিল... গেস্ট রা সবাই তখন খাচ্ছিল ....
-এতটা কষ্ট আমাকে সেদিন কিভাবে দিতে পারলে তুমি রাজ.? 
-পারলাম..... 
-কেন  রাজ? 
-আজকের এই সুখ দেবার জন্য সেদিন কষ্ট দিতে পেরেছিলাম........ 
-আমি!!  আমি ভেবেছিলাম সব শেষ...... আমি তোমায়  হারিয়ে ফেলেছি(অহনা কেঁদে দিল...) 
-এই খবরদার কাঁদবে না...আমি আমার বউ  টার চোখে আর কোন দিন পানি দেখতে চাই না
-#বউ  (কথা টা শুনে অহনার মুখে হাসি ফুটলো....... অহনা রাজ কে জড়িয়ে আবার কেঁদে দিল.......♥♥অবশেষে!!  অবশেষে তাদের ৭বছরের প্রণয়ের  শুভ পরিণয় সম্পন্ন হল ♥♥.......) 
-কাঁদতে মানা করেছি কিন্তু অহনা... আমি এই দুনিয়ায় একটা জিনিস আছে যেটা সহ্য করতে পারি না.......
সেটা হল তোমার চোখের পানি. 
-  .................. 
-(রাজ অহনার মুখটা নিজের হাতের মাঝে এনে বলল.....)  আমি কিন্তু আমার কথা রেখেছি অহনা..... 
-ইশ কই?  লেট  তুমি...... 
-মোটেই না বরং একদিন ফাস্ট
-কিভাবে ? 
-আমি আমার কথা  দেবার ১বছর পুরণ হবার আগের দিন ই তোমার বাসায়  বিয়ের প্রস্তাব  পাঠিয়েছি আব্বা আম্মাকে  দিয়ে.... 
-ওহ হুম...... 
(রাজ অহনার ঠোঁটে ঠোট মিলিয়ে দিল....১০মিনিট... রাজের ছাড়ার নাম ই নেই.....অহনা পরে রাজকে চিমটি কাটলো.. ...) 
-আউচ ্্্্্্্্্্্ওই মেয়ে পাগল নাকি.... 
-তা তুমি আমার ঠোঁটজোড়া খেয়েই ফেলবে নাকি...!! 
কিন্তু এসব এত ইজিলি পারলে কিভাবে??
-অয়ন ভাই এর জন্য... 
-ভাইয়া?? ভাইয়া জানতো?? 
-হুম। উনি ই আমাকে হেল্প করেছে এসবে। বাবাকেও উনি ই রাজি করিয়েছে... 
আমি উনাকে সব বলেছিলাম আমাদের  কথা যা তুমি  এত দিনে বলতে পেরেছিলে না..... তাও ভাই তো!!  যথেষ্ট খোঁজ নিয়েছে আমার তারপর ই বিয়ে দিয়েছে তোমার সাথে......ইনফাক্ট জানো?? আমার লেখাপড়ার সেক্টোর তো জানোই electronic and telecommunication engineering...... বাংলাদেশে এই রিলেটেড জব ওপারচুনিটি অনেক কম।ভাই আমাকে এখানে USA Clipping Path  এ ঢুকিয়ে দিয়েছে...... 
অহনা সেইদিন সাথেসাথে দৌড়ে গিয়ে অয়নকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল..... খুব কেঁদেছিল।.............. সবাই সেদিন ভাই বোনের ভালবাসার অটুট বন্ধন দেখেছিল....... 
আরোহীও যোগ দিয়েছিল তাদের সাথে.......  আরোহী, অহনা, আর অয়ন ৩জনের ভালবাসা সেদিন রাজ, অরু, সাদ,মৌ, নিসাদ হুসাইন, অনিক, সাথী চৌধুরী থেকে শুরু করে সেখানে উপস্থিত সবাই  দেখে কেঁদেছে.... 
অয়ন আরোহী, অহনাকে জড়িয়ে সামনে তাকালো.... সাদকে উদ্দেশ্য করে অয়ন বলল...
-ওই বলদ ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছিস..... আয়..........!
(সাদ দৌড়ে ওদের কাছে দিয়ে কেঁদেছিল.......ওদের বন্ডিং দেখে উপস্থিত সবাই কাঁদলেও কাঁদে নি শুধু অয়ন...... অয়ন কখনো কাঁদে না.....সাথী চৌধুরী ওদের ছেড়ে চলে যাবার পর থেকে আজ পর্যন্ত অয়নকে কেউ কাঁদতে দেখে নি... অয়ন নিজেই হয়তো নিজেকে দেখে নি কখনো) 
অহনার বিদায় এর পর সাদ বলল..... 
-দোস্ত অহন কত খুশি!!!  দেখলি.........? 
-হুম ওর এইটুক হাসির জন্যই তো  এত কিছু করা.... 
- সত্যি তুই বেস্ট ভাই!!!  লাভ ইউ
- লাভ.....!  বলবো না!
-কেনন /?
-আশেপাশে দেখে নে কেউ আছে কিনা..... পরে যদি ভাবে আমাদের দোস্তানা??????? (অয়ন ভ্রু নাচিয়ে বলল...)
-হা হা হা লল.... আমার ডায়লগ আমাকেই......! 
♥........সাদ আর অয়নের কথাগুলো দাঁড়িয়ে শুনছিল অরু...... লোকটা তার সাথে যাই করুক না কেন তাও যে সে লোকটার প্রতি পাগল.... 
লোকটার প্রতি  যে ভালবাসা,সম্মান ব্যতীত রাগ, অভিমান এসব কোন ফিল ই আসে না.......♥ 
অহনার বিদায় এর আগে অয়ন অরুকে বলেছিল... 
-কি ভাবছো.....? 
-অহনা  আপুর কথা.... আপনি কি সুন্দর আপুর সব মনের কথা বুঝে গেলেন.... 
-আমি একজন খারাপ স্বামি  হতে পারি অরু....কিন্তু অহন, আরু আপুর ভাই, আর বাবার ছেলে হিসেবে খারাপ না
-আপনি খারাপ স্বামি না
-কিহ?
-হুম
-lol..... best joke of the year....... 
-আমার কাছে  তো না... 
-আমি নিঃসন্দেহে একজন খারাপ স্বামি কিন্তু তাকে আমার বিন্দুমাত্র যায় আসে না.....আমি খারাপ আমি সেটা তোমায় বলেই নিয়েছি...
আমার মাঝে তুমি  কখনো কোন মিথ্যা পাবে না।  আমি তোমাকে ভালবাসি বা অরু।আমি এটাও  তোমায় অনেক আগেই বলেছি...... 
-হুম
-অভিযোগ কর মনেমনে আমায় নিয়ে??
-নাহ  আমার কারো কাছে কোন অভিযোগ নেই.... 
-অভিযোগ করতেই পারো... পারমিশন আছে... 
-হুম
-কিন্তু তাও তুমি আমায় ছেড়ে যেতে পারবে না কখনও...আমি তোমায় এই পারমিশন দেই নি 
-♥যাবো ও না কখনো.. আপনি না বাসলেও আমি যে আপনাকে বড্ড বেশি ভালবাসি.... ♥ (মনেমনে বলল অরু) 
-চুপ যে. ...?  জানি তাও চলে যাবা আমায় ফাঁকি দিয়ে 
-সেটা সম্ভবা না 
-হুম........ 
.......................
..............
এ্যাপোলো হাসপাতালের লাকজারি ওয়ার্ডের  আই সি ইউ এর সামনে ঠায়  দাড়িয়ে আছে অরু..।  চোখ দুটো থেকে অনবরত পানি পরছে.... ডঃশুশান্ত সহ ৩জন সার্জন্ট ওটি তে ... সাদ যাবতীয় সব দৌড়াদৌড়ি করছে...... মৌ নিসাদ হুসাইন কে সামলাচ্ছে........  মৌ এরা শরীর টা ভাল না বেশি  একটা। ৭ মাসে পেট  টা তার বেশ বড়। ডাক্তার বলেছে টুইন বেবী  তার পেটে.............  
অরু ভাবছে....... 
কি হয়ে গেল এটা তার সাথে ?  
কিভাবে হল? 
অয়নের কিছু হলে সে যে বাঁচবে না.....অয়নের জীবনের সাথে যে তার তার ভিতরের ছোট্ট জানটার জীবন  জড়িত.... 
না কেউ ই অরুর আপন না।এই পৃথিবীতে যাকেই  অরু ভালবাসে সেই তাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়......
প্রথমে  আম্মু আর এখন  অয়ন.........
না অরুর  ই দোষ...!  সে ই কারো ভালবাসা ধরে রাখার যোগ্য না...
জয়া অয়নের এক্সিডেন্ট এর কথা জানতে পেরে  আই সি ইউ  এর কাছে গিয়ে  থমকে  গেল। অরুকে দেখছে সে......একদম পুতুলের  মত একটা মেয়ে। মা হবে বলে হয়তো চেহারায় আরো মাধুর্যের  সৃষ্টি হয়েছে তার..... জয়া অরুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল...
-আপু  তুমি  এভাবে  দাড়িয়ে আছ কেন?  এসো  এখানে এসে বস। 
-  ............?? 
- এক্সকিউক মি?? (জয়া অরুর গায়ে হাত দিতেই  অরু কেঁপে উঠলো..?) 
- হু  হু????  জ্বি???? 
-এই অবস্থায় এভাবে দাড়িয়ে  থেকো না।এসো বস
-না না আমি এখানেই ঠিক আছি 
-চল (জয়া অরুকে নিয়ে বসালো....)  স্যার সুস্থ  হয়ে যাবেন ডোন্ট ওয়ারি 
-আপনি???
-আমি জয়া।এখানেই  গাইনোক্লোজিস্ট 
-ওহ।
- কয়মাস?? 
-সাড়ে  ৫মাস 
-গুড 
-উনি ঠিক হয়ে যাবেন  তো...?? আচ্ছা এখনো কেউ আই সি ইউ থেকে বের হচ্ছে না কেন?  উনার কোন খবর দিচ্ছে না কেন??
-ডোন্ট  পেনিক....!  একটু দেরী হবে কিন্তু স্যার সুস্থ হয়ে যাবেন........ 
-হু
অরু পেটে হাত দিয়ে বসে আসে।ভাবনার জগৎ এ পা  দিল অরু আবার.....



চলবে?

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url