দুবলহাটি রাজবাড়ি । Dubolhati Rajbari । দুবলহাটি রাজবাড়ী ইতিহাস

দুবলহাটি রাজবাড়ি - Dubolhati Rajbari:

দুবলহাটি রাজবাড়ি টি প্রায় ২২৫ বছরের পুরনো স্থাপনা । কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি এখন সরকারি সম্পত্তি হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে রয়েছে । ১৯৭৩ সালে রাজা কৃষ্ণনাথ লর্ড কর্নওয়ালিসের কাছ থেকে ১৪ লাখ ৪৯৫ টাকা দিয়ে পত্তন নিয়ে এ রাজ্য পরিচালনা শুরু করেন । রাজা কৃষ্ণনাথ নিঃসন্তান হওয়ায় ১৮৫৩ সালে রাজ্যভার গ্রহণ করেন তার দূর সম্পর্কের নাতি হরিনাথ রায় । তৎকালীন জমিদার রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর সময়ে এই বাড়িটির ব্যাপক উন্নতি সাধন হয় । দুবলহাটি রাজার জমিদারি ছিল সিলেট, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, রংপুর ও ভারতের কিছু অংশে । দুবলহাটি রাজপ্রাসাদ টি ৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত । আর প্রাসাদের বাইরে ছিল দীঘি, মন্দির, স্কুল, দাবত্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা । রাজপ্রাসাদের সামনে রোমান স্টাইলের বড় বড় পিলার গুলো রাজাদের রুচির পরিচয় বহন করে । এছাড়াও দুবলহাটি রাজপ্রাসাদে সাড়ে ৩'শ ঘর ছিল এবং তার ছিল সাতটি আঙ্গিনা । প্রাসাদের ভিতর কোনটি ৩ তলা আবার কোনটি ছিল ৪ তলা ভবন, ১টি গোল্ডেন সিলভার ও ১টি আইভরির তৈরি সিংহাসন । পরে ব্রিটিশরা এ ২টি সিংহাসন নিয়ে যায় । ১৮৬৪ সালে রাজ পরিবারের উদ্যোগে একটি স্কুল স্থাপন করা হয় । পরবর্তীতে স্কুলটির নামকরণ করা হয় "রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয়" । প্রতিবছর স্টেটের খরচে পাঁচজন করে গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের পড়ালেখার অবস্থা ছিল এখানে । ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর রাজা হরনাথ রায় চৌধুরী ভারতে চলে যান ।

আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সু বিশাল দুবলহাটি জমিদার বাড়িরাজবাড়িতে এখনো শান বাঁধানো ১টি "কুয়া" রয়েছে । রাজবাড়ির সামনে রয়েছে 'গোবিন্দপুকুর' যার পাশে ছিল এলাকায় প্রচলিত 'গান বাড়ি' নামক ভবন । রাজাদের জৌলুস রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ দেখেও বোঝা যায় তা অনাসায়ে ।  কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুবলহাটি রাজবাড়িটি এখন ধ্বংসের মুখে । বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন এই রাজবাড়ীটি অতিসত্বর সংস্কার ও সংরক্ষণ করে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস জানার সুযোগ করে দিবেন ।

dubolhati rajbari naogaon


দুবলহাটি রাজবাড়ি ইতিহাস:

স্থানীয় ঐতিহাসিকদের মতে রঘুনাথ নামের এক ব্যক্তি এ এলাকায় লবণ ও গুড়ের ব্যবসা করতেন । তিনি দীঘলি বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খয়রা নদী দিয়ে নৌকা যোগে দুবলহাটিতে ব্যবসার জন্য আসেন (বর্তমানে নদীর অসত্মিত্ব আর নেই) । তিনি প্রায় প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখতেন তাঁকে কে যেন বলছে, “তুই যেখানে নৌকা বেঁধেছিস সেখানে জলের নিচে রাজ রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা আছে । সেখান থেকে তুলে স্থাপন কর ।” রঘুনাথ একদিন ভোরবেলা জলে নেমে দেখলেন সত্যিই সেখানে রাজ রাজেশ্বরীর প্রতিমা আছে । তিনি প্রতিমাটি জল থেকে তুলে একটি মাটির বেদী তৈরি করে প্রতিষ্ঠা করলেন । এরপর তার ব্যবসায় ব্যাপক উন্নতি হতে থাকে ।

অন্য আরেক ঐতিহাসিকদল মনে করেন, দুবলহাটি জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা জগতরাম একজন লবণ ব্যবসায়ী, বাণিজ্য উপলক্ষে দুবলহাটির কাছের গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন এবং বিল অঞ্চলের ইজারা পত্তন গ্রহণ করেন । ধীরে ধীরে তারা প্রচুর জমির মালিক হন । কথিত আছে যে, এই অঞ্চলে তেমন কোন ফসল উৎপন্ন না হওয়ায় ভুমা মহল অজুহাতে দুবলহাটির জমিদার কই মাছ দিয়ে কর পরিশোধ করতেন । মাত্র ২২ কাহন কই মাছ কর হিসেবে দিতেন । রঘুনাথের বিত্ত-বৈভবের খবর পৌঁছে যায় মোগল দরবারে । মোগল দরবারের নির্দেশে তাকে ডেকে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ নবাবের দরবারে । নবাব তাকে রাজস্ব প্রদানের নির্দেশ জারি করেন । তিনি নবাবকে জানান, তিনি যে এলাকায় থাকেন সেখানে শুধু জল আর জল । কোন ফসল হয় না । তবে বড় বড় কৈ মাছ পাওয়া যায় । বিষয় বুঝতে পেরে নবাব তাকে প্রতি বছর কর হিসাবে ২২ কাহন কৈ মাছ প্রদানের নির্দেশ দেন ।


দুবলহাটি রাজবাড়ির অবস্থান:

নওগাঁ শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে দুবলহাটি গ্রামে 'দুবলহাটি রাজবাড়ি' বা 'দুবলহাটি জমিদার বাড়ি'র অবস্থান ।

দুবলহাটি জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন?

নওগাঁ বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে নওগাঁ-রাজশাহীগামী বা নওগাঁ-মহাদেবপুরগামী বাস বা ভ্যান-অটোরিকশা যোগে আবার রাজশাহী রেলগেট থেকে রাজশাহী-নওগাঁগামী বাসে চড়ে হাঁপানিয়া নামক স্থানে আসতে হবে । তারপর হাঁপানিয়া থেকে ভ্যান বা অটোরিকশা করে খুব সহজেই দুবলহাটি রাজবাড়ি যাওয়া যায় । অথবা নওগাঁ গোস্তহাটির মোড় হতেও ভ্যান বা অটোরিকশা যোগে খুব সহজেই দুবলহাটি জমিদার বাড়ি আসা যায় ।


দুবলহাটি রাজবাড়ি গিয়ে কোথায় থাকবেন?

দুবলহাটি রাজবাড়ি দেখতে গিয়ে সাধারণত এখানে থাকার বা রাত্রিযাপন করার ব্যবস্থা নেই । তবে আপনি চাইলে নওগাঁ শহরে হোটেল প্লাবন, হোটেল যমুনা, মল্লিকা ইন, হোটেল অবকাশ ও হোটেল রাজ প্রভৃতি আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারবেন ।


দুবলহাটি রাজবাড়ির ছবি: নিচে ধ্বংসাবশেষ দুবলহাটি রাজবাড়ির কিছু ছবি দেওয়া হলো । আশা করছি যা দেখে একটু হলেও আপনারা সে সময়কার দুবলহাটি জমিদার বাড়ি সম্পর্কে ধারণা লাভ করবেন ।


dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon

dubolhati rajbari naogaon


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url