Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০২

 

Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০২



Prince Of Vampire💕

লেখিকাঃ Sumaiya Moni

পর্বঃ ০২


রাতে আর প্রিয়ার ঘুম হল না। বাকি রাত টুকু সপ্নের কথা বেভেই রাত পার করে দিল।

সকালে.....

এক সাথে সবাই নাস্তা সেরে যে যার ব্যাগ গুছিয়ে গাড়িয়ে উঠে বসলো । প্রিয়া আফজাল খান কে বিদায় দিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। কিছুক্ষন পর গাড়ি চলতে লাগলো তার আপন গতিতে। সবাই গাড়িতে বসে মজা করছে,এক সাথে সবাই মিলে গান গাচ্ছে। বেশ হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই ওদের জার্নিটা পার করলো। সন্ধ্যার দিকে‌ ওরা পৌঁছে যায় টিনার নানা বাড়ি। একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল। পুরানো একটা বাড়ির সামনে ওরা দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িটা দুই তলা । দেখে মনে হচ্ছে অনেক আদি যুগের। সবার নজর এখন সেই বাড়িটির দিকে স্থির। প্রিয়া বাড়ির দিক থেকে চোখ সরিয়ে টিনার উদ্দেশ্য করে বললো ।

প্রিয়া: টিনা ভিতরে কি কেউ আছে? নাকি আমরা একা একা থাকবো?

টিনা: নানা,নানু মারা যাবার পর এই বাড়িটি দেখা শুনা করার জন্য রমেশ চাচাকে ভার দিয়ে যায়। রমেশ চাচাকে তো বলা হয়েছিল আমরা আসবো? বাট তাকে তো দেখছি না কোথাও?

সানি: মনে হয় রমেশ চাচা আমাদের আসার কথা শুনে পালিয়ে গিয়েছে...... [ মজা করে ]

রিমি: হাউ ফানি...পালিয়ে যাবার কি আছে এখানে?

রুমকি: টিনা চল ভিতরে যাই। এখানে আর কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবো?

টিনা: আয় তাহলে। 

একে একে সবাই সামনের দিকে পা বাড়াতেই এক জন বৃদ্ধ লোক হাতে টর্চ লাইট নিয়ে ওদের সামনে এসে দাঁড়াল। বৃদ্ধ লোকটির বয়ছ সম্ভবত ৭০-৭১ হবে । পরনে শট পান্জাবি আর ঢিলা ঢালা একটা পায়জামা।  বৃদ্ধ লোকটি মদৃ হেসে টিনার উদ্দেশ্য বললো ।

রমেশ চাচা: টিনা মামনি তোমরা আইসা পরছো। আহো আহো ভিতরে আহো।

টিন: আপনি কেমন আছেন চাচা?

রমেশ চাচা: ভালা আছি মামনি। তোমরা কেমন আছো?

টিনা: ভালো। আচ্ছা চাচা এখানে কি কারেন্ট নাই? এমন অন্ধকার দেখাচ্ছে কেন?

রমেশ চাচা: গ্রাম এলাকা বুঝই তো। কারেন্ট কতক্ষন থাহে আবার চইলা যায়। তা তোমাদের রাস্তায় আসতে কোনো সমস্যা হয় নাই তো?

টিনা: না চাচা।

রমেশ চাচা: আইচ্ছা ভিতরে আহো তোমরা ।

ওরা সবাই ভিতরে যেতে লাগলো। প্রিয়া খেয়াল করলো রমেশ চাচা টিনার সাথে কথা বলার সময় ওর দিকে আড়চোখে তাকাছ ছিল।ব্যাপারটা কেমন সন্দেহ যনক মনে হচ্ছে প্রিয়ার কাছে। এভাবে তাকিয়ে রমেশ চাচা ঠিক‌ কি দেখছিল, প্রিয়া বুঝতে পারছে না। 

সবাইকে এক ‌একটা রুম দেওয়া হয়েছে। প্রিয়া,টিনা এক রুমে। রুমকি,রিমি এক রুমে। সানি,বিক্কি এক রুমে। ওরা সবাই ফ্রেস হয়ে নিচে চলে আসে ডিনার করার জন্য। সবাই এক সাথে বসে ডিনার করছে। হাসি-ঠাট্টা করছে । প্রিয়া খেয়াল করলো রমেশ চাচা মাঝে মাঝে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। এই চাওনির মাঝে কিছু একটা বুঝাতে চাচ্ছেন রমেশ চাচা,প্রিয়া সেটা বুঝতে পারছে না। খাওয়া দাওয়া শেষ করে হল রুমে এক সাথে বসে গল্প করছে ওরা সবাই। রমেশ চাচা ওদের কে কফি দিয়ে যাবার সময় হঠাৎ টিনা রমেশ চাচার উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো।

টিনা: রমেশ চাচা আপনি এখানে বসুন। আর আমাদের ভূরের গল্প শুনান।

বিক্কি: ভূত.....[ বলেই হো হো করে হাসতে লাগলো ] আরে এই যু্গেও ভূত বিশ্বাস কর টিনা...হাউ ফানি?

টিনা : বিশ্বাস করি না, তবে আমি সিউর তাদের অস্তিত্ব আছে আমাদের দুনিয়ায় ।

সানি: টিনা যেটা জানো সেটা ভুল। দুনিয়ায় ভূতের কোন অস্তিত্ব নেই। 

রিমি: আছে সানি। 

বিক্কি : নেই?

রিমি: আছে।

বিক্কি: নেই বলছি না।

এক প্রকার তর্ক শুরু হয়ে যায় ওদের মাঝে। প্রিয়া চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো।

প্রিয়া: ব্যাস অনেক হয়েছে এবার থামো। দেখো গায়েজ! আমরা যেই বিষয়টা জানি না বা দেখি নাই কখনও। সেই বিষয়টা নিয়ে কথা না বলাই বেটার। হঠাৎ করেই আমাদের সাথে অদ্ভুত অদ্ভুত জীনিস ঘটে যেতে পারে। কিন্তু সেই জীনিস টা কী সেটা আমদের সাথে কেনো ঘটলো সেটা আমরা জানি না বা সেটার রহস্য খুঁজে পাই না কখনও ।

রনেশ চাচা : তোমার সাথেও কী এমন অদ্ভুত কিছু ঘটেছে মা।

রমেশ চাচার কথা শুনে সবাই তার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । হঠাৎ করে এই কথাটা বলার মানে ওরা বুঝতে পারছে না। প্রিয়া কিছুটা ঘাবড়ে যায়। 

প্রিয়া: রমেশ চাচা কি বুঝে গেল আমার সাথে কিছু একটা ঘটেছে? না না সে কিভাবে বুঝবে?.....[ মনে মনে ] না রমেশ চাচা । তবে আপনি এবাবে কেন বললেন?....[ জিজ্ঞেসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে ]

রমেশ চাচা: এমনেই কইছিলাম আর কি । কিছু মনে কইরো না মা।

প্রিয়া : আচ্ছা রমেশ চাচা সত্যিই কী ভ্যাম্পায়ার,নেকড়ে আমাদের দুনিয়াতে আছে?

রমেশ চাচা: আছে কিনা জানি না। তয়‌ আমার মনে হয় ওগো অস্তিত্ব আমাগো দুনিয়াতে আছে ।

সানি: চাচা এই‌ মাএ বললেন জানি না এখন আবার বলছেন অস্তিত্ব আছে বুঝলাম না ঠিক বিষয়টা?

রমেশ চাচা: কিছু কিছু বিষয় না বুঝা আর নজর এড়াইয়া যাওয়াই ভালো। এহন তোমরা সবাই শুইয়া পড়। অনেকটা পথ জার্নি কইয়া আইছো। তোমাগো বিশ্রাম দরকার ।আমি যাই। তয় তোমরা রাইতের বেলায় বাইরে বের হইয়ো না। ঘরের ভিতরেই থাইকো। আমি নিচের রুমেই আছি। দরকার পড়লে ডাক দিও আমারে।

রমেশ চাচা কথা গুলো বলেই সেখান থেকে চলে গেলেন। রুমকি সবার উদ্দেশ্য বললো।

রুমকি: রমেশ চাচা বাহিরে যেতে নিষেদ করলো কেন?

রিমি: মূলত কোন না কোন কারন নিশ্চয় আছে তাই।

সানি: হয়তো !

বিক্কি: আরে ইয়ার এখানে ঠিক মত নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না। এই কোথায় এসে পড়লাম।

টিনা: বিক্কি এখানে নেটওয়ার্ক এ সমস্যা আছে। 

বিক্কি: হ্যাঁ!তা তো দেখতেই পাচ্ছি?

প্রিয়া: আচ্ছা সবাই এখন ঘুমাতে যাও । সকালে বাকি কথা হবে।

সানি: জ্বী ম্যাম....।

সবাই যে যার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো। প্রিয়া কিছু একটা ভাবছে। টিনা প্রিয়া কে উদ্দেশ্য করে বললো ।

টিনা: প্রিয়া এত কী ভাবছিস রে?

প্রিয়া: তেমন কিছু না। এই রমেশ চাচা তো অনেক আগে থেকেই এখানে থাকে তাই না।

টিনা: হ্যাঁ! কেন?

প্রিয়া: এমনি। [ এই রমেশ চাচার কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে আমার হাতের এই চিহ্নর বিষয়। হয়তো তিনি এই চিহ্নর বিষয় কিছু একটা নিশ্চয় যানবেন -মনে মনে ]

প্রিয়া শুয়ে পড়লো। শরীর ক্লান্ত থাকায় তাড়াতারি ঘুমিয়ে গেল। 

সকালে হালকা মিষ্টি রৌদ্দ এসে প্রিয়ার চেহারায় পড়লো। প্রিয়া কিছুটা নড়ে চড়ে উঠলো। টিনা রুমে এসে দেখে প্রিয়া এখনো ঘুমচ্ছে।

টিনা: প্রিয়া সকাল হয়ে গেছে উঠে পড়।

টিনার কথায় প্রিয়া উঠে বসলো। চোখ কচলাতে কচলাতে বললো ।

প্রিয়া: কয়টা বাজে?

টিনা: ৮টা।

প্রিয়া: ওও। 

প্রিয়া উঠে ফ্রেশ হয়ে নিল । এক সাথে সবাই ব্রেকফাস্ট করে নিল। ঘুরতে যাবার ব্যাপারে আলাপ করছে সবাই। প্রিয়া এদিক সেদিক তাকিয়ে রমেশ চাচার খোঁজ করছে। 

টিনা: প্রিয়া কিছু খুঁজচ্ছিস?

প্রিয়া: না না কিচ্ছু না।

সানি: তাহলে ঘুরতে যাওয়া যাক?

বিক্কি: ইয়াপ....।

প্রিয়া: হুম চল।

সবাই গাড়িতে বসে বেড়িয়ে পড়লো গ্রাম দেখতে। যতই দেখতে ততই ভালো লাগছে সবার কাছে। নানা ধরনের কথা জুড়ে দিল গাড়ির মধ্যে । প্রিয়াও‌ ওদের সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলতে লাগলো।



ভ্যাম্পায়ার কিংডম.....

রাহিল: কিং মেয়েটিকে খুঁজে পাই নি। ......[ এক রাশ হতাশা নিয়ে বললো ]

কিং : রাহিল আমাদের হাতে যে মাএ‌ কালকের দিনটি বাকি আছে। এর মধ্যে ওই মেয়েটিকে খুঁজে বের করতেই হবে রাহিল।........[ চিন্তিত হয়ে ]

রাহিল: কিং আমি সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যথাযথ চেষ্টা করবো মেয়েটিকে খুঁজে বের করার। 

কিং : যা করার তাড়াতারি করতে হবে রাহিল । হাতে সময় খুব কম। 

রাহিল: জ্বী কিং.....আমি এখন আসি ।

কিং টেনশনে পড়ে যায়। গভির চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়লো।



নেকড়ে কিংডম.....

এবিক: স্যাম মেয়েটিকে খুঁজে পেয়েছ?

স্যাম: নো ড্যাড । 

জ্যাক: ড্যাড মেয়েটিকে চেনার কোন উপায় আমাদের যানা নেই। আমরা কি করে খুঁজে বের করবো মেয়েটিকে?

এবিক: হুমমম। আমিও সেটাই ভাবছি। মেয়েটিকে খুঁজে না পেলে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

এলিনা: তাহলে এখন কী করা যায় ড্যাড?

এবিক: ভাবতে হবে আমাকে। তোমরা রাহিলের পিছু নেও। দেখো রাহিল কোথায় যায়? কী কী করে? রাহিল ঠিক জানে মেয়েটিকে চেনার উপায় ।

জ্যাক: ওকে ড্যাড ।



প্রিয়া, টিনা,সানি,রিমি, বিক্কি,রুমকি ওরা সবাই সারা দিন অনেক মজা করেছে। ঘুরা ফেরা শেষ করে সন্ধ্যার দিকে বাসায় এসে পড়ে। ওরা অনেক ক্লান্ত থাকায় আজকে রাতে আর আড্ডা দিল না। ডিনার সেরে যে যার মত ঘুমাতে চলে গেল। 

রাতে হঠাৎ করে একটা বিকট শব্দ শুনে প্রিয়ার ঘুম ভেঙে যায়। প্রিয়া বিছানায় উঠে বসে এদিক সেদিক তাকিয়ে শব্দের অনুসন্ধান করতে লাগলো। কোথা থেকে শব্দটা আসছে সেটা বুঝার ট্রাই করছে।

পাশে তাকিয়ে দেখে টিনা গভির ঘুমে মগ্ন । কিছুটা বিরক্ত নিয়ে টিনার দিকে তাকায় প্রিয়া । এতো জোরে বিকট শব্দ শুনেও ঘুম ভাঙ্গল না কিভাবে সেটাই ভাবছে। টিনার উপর থেকে চোখ সরিয়ে বিছানা থেকে উঠে বারান্দার দিকে হাঁটা ধরলো। শব্দটা ঠিক একি ভাবে থেমে থেমে হচ্ছে । প্রিয়ার কাছে মনে হচ্ছে কোন হিংস্রপশুর শব্দ। প্রিয়া বারান্দার গেট খোলার সাথে সাথে শব্দটা আর শুনতে পেল না। 

চার দিক থেকে এখন ঝিঝি পোকার ডাক শুনা যাচ্ছে ।তাহলে কী এতক্ষন ভুল শুনেছে প্রিয়া।

প্রিয়া সামনের জঙ্গলটার দিকে একবার ভালো করে নজর বুলিয়ে নিল। না তেমন কিছু ওর চোখে পড়ল না।

আকাশে বড় গোলা আকারের চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলো জঙ্গলে পড়ায় জঙ্গলটি বেশ আলোকিত দেখাচ্ছে । প্রিয়া কিছুক্ষন চন্দ্রময় পরিবেশটা উপভোগ করলো। সব কিছু ভুলে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওই চাঁদের দিকে। রাতের আকাশে চাঁদ দেখতে প্রিয়ার খুব ভালো লাগে। এক কথায় চাঁদ পাগলি প্রিয়া । 

ঠিক কতক্ষন দাঁড়িয়ে ছিল ওর জানা নেই। কিছুক্ষন পর চাঁদের দিক থেকে চোখ সরিয়ে রুমে চলে আসে। কেন জানি অসস্থি অনুভব করছে প্রিয়া । বিছানায় গিয়ে আগের ন্যায় শুয়ে পড়ে। 

সকালে টিনার ডাকে ঘুম ভাঙ্গে প্রিয়ার । আজকে ওরা কোথায় যাবে না বলে ডিসিশন নেয়। প্রিয়াও এটা শুনে অমত করলো না। কেননা প্রিয়া রমেশ চাচার সাথে একবার হলেও কথা বলতে চায়। রমেশ চাচা রান্না ঘরে রান্নার কাজ করছে । প্রিয়া সেটা উঁকি দিয়ে দেখেছে। প্রিয়া চাইলেও হুট করে রান্না ঘরে যেতে পারছে না। বাকিরা সবাই সন্দেহ চোখে দেখতে পারে তাই। প্রিয়া ওদের সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো।

প্রিয়া: চা খাবে তোমরা?

সানি: এই সময় চা।

বিক্কি: এখন কেউ চা খায় নাকি?

টিনা: এখন খায় না তো কখন খায়? গাধার মত কথা।

বিক্কি: কী আমি গাধার মত কথা বলছি?....[ কিছুটা রেগে ]

রিমি: তা নয়তো কী?

রুমকি: থামো তোমরা! চা কি তুমি বানাবে প্রিয়া?

প্রিয়া: হ্যাঁ! যদি তোমরা খাও তাহলে। 

সানি: তাহলে আমি খাবো। 

টিনা: আমিও খাবো। 

রিমি: আমিও।

বিক্কি: আমি বাদ পড়বো কেন? আমিও খাবো।

টিনা: প্রিয়া এই গাধার জন্য চা বানাবি না।

বিক্কি: প্রিয়া তুমি এই সাতপেত্নির জন্য চা বানাবে না।

রিমি: সাত পেত্নি না গাধা শাকচুন্নি হবে।

সবাই এক সাথে হেসে উঠলো।

প্রিয়া: ওকে ওকে সবাই বসো আমি চা বানিয়ে নিয়ে আসছি ।

প্রিয়া রান্না ঘরে চলে গেল। প্রিয়া রান্না ঘরে ঢুকে দেখে রমেশ চাচা তরকারি কাঁটছে। প্রিয়া মৃদ হেসে বললো।

প্রিয়া: রমেশ চাচা চিনি কোথায়?

রমেশ চাচা: মামনি তুমি কী চা বানাবা?

প্রিয়া চা বানাবার কথা রমেশ চাচা কে এখনও বলে নি । তার আগেই রমেশ চাচা বুঝে যায় প্রিয়া চা বানাতে এসেছে রান্না ঘরে। প্রিয়া কিছুটা অবাক হয়ে যায়।

রমেশ চাচা: এতো কি ভাবতাছো? তুমি হয়তো এটা ভাবতাছো আমি কেমনে বুঝলাম। আরে তোমাগো কথা আমি উপরের থেকা শুনছি । তাই কইলাম।

প্রিয়া : ওও আচ্ছা ।  

রমেশ চাচা: ওই তাকের উপর আছে দেখ মা।

প্রিয়া রমেশ চাচার কথার অনুযাই তাকের উপরে তাকাতেই চিনির কৌটা দেখতে পায়। প্রিয়া চা বানাতে শুরু করে। রমেশ চাচার দিকে প্রিয়া আড়চোখে তাকাচ্ছে। প্রিয়া বার বার রমেশ চাচার সাথে কথা বলতে যেয়েই  ইতস্তত বোধ করছে। এবার প্রিয়া কিছুটা সাহস নিয়ে রমেশ চাচার উদ্দেশ্য বললো ।

প্রিয়া: রমেশ চাচা আপনার কোন ছেলে মেয়ে নেই?

রমেশ চাচা: আমি তো বিয়াই করি নাই ছেলে মেয়ে কোথা থেকে আইবো।

প্রিয়া: কেন চাচা?

রমেশ চাচা: মেলা কারন আছে রে মা। 

প্রিয়া: ওও।

রমেশ চাচা: আচ্ছা মা তোর কী ১৮ বছর পূর্ন হইছে?

প্রিয়া: জ্বী ‌চাচা এইতো দুই দিন‌ আগে আমার ১৮ বছর পূর্ন হল।

রমেশ চাচা এটা শুনে চুপ হয়ে যায়। মনে হচ্ছে তিনি কিছু একটা ভাবছে। প্রিয়ার চা বানান শেষ করে। রান্না ঘর থেকে বের হবার সময় রমেশ চাচা প্রিয়া কে ডাক দিয়ে যা বললো সেটা শুনে প্রিয়া অবাক হয়ে যায়। কিছুটা আতঙ্ক নিয়ে তাকিয়ে আছে রমেশ চাচার দিকে।



রমেশ চাচা এটা শুনে চুপ হয়ে যায়। মনে হচ্ছে তিনি কিছু একটা ভাবছে। প্রিয়ার চা বানান শেষ করে। রান্না ঘর থেকে বের হবার সময় রমেশ চাচা প্রিয়া কে ডাক দিয়ে যা বললো সেটা শুনে প্রিয়া অবাক হয়ে যায়। কিছুটা আতঙ্ক নিয়ে তাকিয়ে আছে রমেশ চাচার দিকে।

রমেশ চাচা: আমি জানি তুমি রহস্যের খোঁজ করছ? 

প্রিয়া এখনো রমেশ চাচার দিকে একি ভাবে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ করে এমন প্রশ্নের সম্মুক্ষিন হবে যেটা ওর জানা ছিল না। রমেশ চাচা প্রিয়া কে এবাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মৃদ হেসে বললো ।

রমেশ চাচা: তুমি ভাবছো আমি কী করে বুঝলাম?

প্রিয়ার চোখ এখনো রমেশ চাচার দিকে স্থির। চুপ করে আছে প্রিয়া ।

রমেশ চাচা: তোমাকে প্রথম দিন দেখেই আমি বুঝে যাই। তুমি অন্য মানুষের চেয়ে আলাদা । তোমার মধ্যে ‌আছে অদ্ভুত শক্তি ও রহস্য । যেই রহস্যে জানার জন্য ব্যাকুল হইয়া আছো তুমি।

প্রিয়া এবার মৃদ কন্ঠে বলে উঠলো।

প্রিয়া: আপনি এসব কিছু কী করে জানলেন?

রমেশ চাচা: আমি অনেক আগের যুগের মানুষ । এই সব সম্পর্কে আমার সব রকমের ধারনা আছে। তুমি সামনের জঙ্গলটায় চলে যাও। ওইখানেই তোমার রহস্যের রাজ খুঁজে পাবে। যাও প্রিয়া....।

লাস্টের কথাটা বলেই রমেশ চাচা আবার আগের মত তরকারি কাঁটায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো। প্রিয়া ঠিক আগের মতই রমেশ চাচার দিকে তাকিয়ে আছে । গভির চিন্তার সাগরে তলিয়ে গেছে প্রিয়া। প্রিয়ার ভাবনার ছেদ পড়লো টিনার ডাকে।

টিনা: প্রিয়া...এবাবে দাঁড়িয়ে কী ভাবছিস? চা বাননো হয় নি নাকি?

টিনার ডাকে প্রিয়া হকচকিয়ে উঠে। আমতা আমতা করে বললো।

প্রিয়া: হ্যাঁ হ্যাঁ হয়ে গেছে,হল রুমে চল।

টিনা : আচ্ছা আয়।

প্রিয়া ও টিনা হল রুমে চলে আসলো। প্রিয়া সবাই কে একে একে চায়ের কাপ এগিয়ে দিল। সবাই চা খাচ্ছে আর চায়ের তারিফ করছে। কিন্ত প্রিয়ার কারো কথাই কানে যাচ্ছে না। এক ধ্যানে রমেশ চাচার কথা গুলো ভেবে যাচ্ছে । রিমি প্রিয়া কে ডাক দিয়ে বললো।

রিমি: প্রিয়া কী হয়েছে তোর? কী ভাবছিস?

প্রিয়া: কিছু না...কিছু না।

বিক্কি: চল আমরা সাবই গেম খেলি?

সানি:কী গেম?

বিক্কি বলার আগেই প্রিয়া বিক্কি কে থামিয়ে বলে উঠলো।

প্রিয়া: বিক্কি ওয়েট.....আমি একটা কথা বলি.. আমরা যদি এডভেঞ্চার যাই তাহলে কেমন হয়?

টিনা: ওয়াও....আই লাইক এডভেঞ্চার!

সানি: কিন্ত কোথায়?

প্রিয়া: জঙ্গলে।

রিমি: এই সামনে বড় জঙ্গলটায়।

প্রিয়া: হ্যাঁ!

রুমকি: না না ...এই জঙ্গলটা দেখতে অনেক ভয়ংকর । মনে হয় অনেক হিংস্র প্রানী আছে।

বিক্কি: ভিতুর ডিম ভয় পেয়ে গেছে হা হা হা...।

রুমকি: মোটেও ভয় পাচ্ছি না।.....[ কিছুটা রেগে ]

বিক্কি: তাহলে?

প্রিয়া: সবাই চুপ.....আমি এডভেঞ্চার এ যেতে চাই। তোমরা কে কে রাজি আছো সেটা বল?

রুমকি বাদে সবাই রাজি হয়ে যায় ।

প্রিয়া: রুমকি তুমি যাবে না?

রুমকি: কিছুটা ভয় লাগছে। 

প্রিয়া: ভয় কিসের আমরা তো আছি। আর তুমি না যেতে চাইলে আমরা তোমাকে যাবার জন্য জোর করবো না।

রিমি: হ্যাঁ! 

রুমকি: আমিও যাবো।.....[ কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো ]

প্রিয়া: ওকে...তাহলে তাড়াতারি আমাদের প্রয়জনি জীনিস গুছিয়ে চল আমরা বেরিয়ে পড়ি।

সবাই: ওকে।

সবাই যে যার ব্যাগ গুছাতে লাগলো । হালকা পাতলা জীনিস খাবার একটা ব্যাগে নিল। যাবার জন্য দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো সবাই । রমেশ চাচা কে টিনা রান্না ঘরে গিয়ে বলে এসেছে । রমেশ চাচা ওদের কে যেতে নিষেদ করে নি। শুধু এটা বলে দিয়েছে সন্ধ্যার‌ আগে যেন বাসায় ফিয়ে আসে। ওরা একে একে জঙ্গলের পথে হাঁটা ধরলো । প্রিয়া হাঁটসে আর চার দিক তাকিয়ে নজর রাখছে। ওর মনের মধ্যে রমেশ চাচার কথা গুলো গেথে আছে। 

প্রিয়া: যে করেই হোক আমি এই রহস্যের রাজ বের করবোই.....[ মনে মনে ]

বিক্কি: প্রিয়া আমার অনেক ভালো লাগছে... ভ্যগেস তুমি এডভেঞ্চারের কথা বলে ছিলে দেখে। আর না হলে বাসায় বসে বোর হচ্ছিলাম।

রিমি: ঠিক...খুবি ভালো লাগছে।

সবাই খুশি মুডে হাঁটছে আর কথা বলছে। জঙ্গলে প্রবেশ করার আগে প্রিয়া ওর ড্যাড এর সাথে কথা বলে নিয়েছে। এডভেঞ্চারের কথা ওর ড্যাডকে বলে নি। জঙ্গলে হাঁটছে আর চার দিকের প্ররিবেশটা উপভোগ করছে ওরা সবাই। চার দিকে কিচিমিচি পাখির ডাক। বড় বড় ঘন লম্বা লম্বা গাছ-পালা। সবুজে ঘেরা পরিবেশ। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। জঙ্গলটা যতটা সুন্দর দিনের ভেলাই দেখাচ্ছে ততটা ভয়ংকর হয়ে যায় রাতের ভেলায়। ওরা অনেকটা পথ হেঁটে এসেছে। কিছুটা ক্লান্ত হয়ে গেছে ওরা। একটা মরা গাছের শিকড়ের উপর সবাই লাইন দিয়ে বসলো।

ব্যাগ থেকে পানি বের করে একে একে সবাই খেতে লাগলো। 

প্রিয়া: তোমরা সবাই কী বেশি ক্লান্ত হয়ে গেছ নাকি?

সানি: আরে না। 

টিনা: আমি এই জঙ্গলের শেষ পর্যন্ত যেতে চাই। তোমরা?

বিক্কি: আমার ও যাবার ইচ্ছা আছে ,যদি একটা গাড়ি হত তাহলে খুব ভালো হত পথটা পার হতে।

প্রিয়া: মোটেও না। হেঁটে হেঁটে যাওয়া আর গাড়িতে যাবার মধ্যে পার্থক্য আছে। 

রিমি: হ্যাঁ! এই পাগটায় বুঝে না।

বিক্কি: হ্যাঁ! রিমি পাগলি সব বুঝে।

প্রিয়া: এখন ঝগড়া করা শুধু কর না প্লিজ । চলো হাঁটা যাক।

রুমকি: হ্যাঁ! চল।

সবাই একে একে হাঁটতে লাগলো। জঙ্গলের অনেকটা গভিরে হেঁটে এসেছে ওরা। সানি ওর হাত ঘড়ির দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। ২টা বাজে। এখন দুপুর টাইম । অনেকটা পথ হেঁটে আসার কারনে ওদের খুদা লেগে যায়। ওরা একটা বড় গাছের ডালে বসে ব্যাগে আনা খাবার খেতে লাগলো। হঠাৎ টিনার কানে  হুংকারের শব্দ ভেসে আসলো। ঘাড় ঘুরিয়ে বামে তাকাতেই একটা বাঘ কে দেখতে পেল। বাঘটিকে দেখে টিনার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। টিনা হাতের ইশারা করে সবাই কে বামে তাকাতে বললো । টিনার কথায় সবাই সেদিক তাকিয়ে বাঘটিকে দেখে ভয় পেয়ে যায় । ওদের মনের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। বাঘটি খুদার্থ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওদের সবার দিকে। ওরা সবাই বসা থেকে আস্তে করে দাঁড়িয়ে যায়। প্রিয়া ওর দু হাত দু দিকে ছড়িয়ে দিয়ে সবাই কে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো আস্তে আস্তে । বাঘটি ওদের পিছনে যেতে দেখে আস্তে আস্তে ওদর সামনে এগোচ্ছে। ওরা যত পিছনের দিকে যাচ্ছে,বাঘটি তত ওদের কাছে আসছে । প্রিয়া হুট করে থেমে যায়। বাঘটি ওদের থেমে যাওয়া দেখে ওইখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে  ।

প্রিয়া: থেমে যাও সবাই। আমরা যত পিছনে যাবো বাঘটি তত আমাদের কাছে আসবে। আমার কথা মন দিয়ে শুনো। আমি যখনি পালাতে বলবো তোমরা তখনি বামে দৌড় দিবে। আর আমি বাঘটির নজর এড়াবার  জন্য ডান দিকে দৌড় দেবো।

সানি: কিন্ত তু......[ প্রিয়া থামিয়ে দেয় ]

প্রিয়া: আমি যেটা বলেছি সেটা কর। আর হ্যাঁ! পিছনে ফিরে তাকাবে না দৌড়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে যাবার চেষ্টা করবে। মনে থাকবে? 

টিনা: তোকে একা রেখে কিভাবে যাবো আমরা?

প্রিয়া: যেতে হবে। না গেলে এখানেই সবাই মারা পড়বো। আমি চাই না তোদের কোন ক্ষতি হোক। হাতে সময় নেই চুপ চাপ যেটা বলছি সেটা কর। পিছিয়ে যাও সবাই।

আবার ও পিছাতে লাগলো ওরা। কিছুক্ষন পিছিয়ে যাবার পর প্রিয়া জোরে বলে উঠলো।

প্রিয়া: পালাও গায়েস......।

প্রিয়ার কথা শুনার সাথে সাথে বাম দিকে দৌড়াতে লাগলো। আর প্রিয়া ডান দিকে। বাঘটি প্রিয়ার পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছে। প্রিয়া ওর সর্ব শক্তি দিয়ে দৌড়াতে লাগলো। এদিকে ওরাও ওদের মত দৌড়াচ্ছে।ওদের মনের মধ্যে ভয় কাজ করছে প্রিয়ার জন্য। প্রিয়া জোরে জোরে চিৎকার দিচ্ছি আর দৌড়াচ্ছে।

প্রিয়া: help me... help.....কেউ আছ বাঁচাও আমাকে.....।

প্রিয়া অনেকটা পথ দৌড়াবার পর সামনে একটা মোটা গাছ দেখতে পেল । গাছটি কিছুটা হেও থাকায় প্রিয়া সহজেই গাছটির উপরে উঠতে পারবে। প্রিয়া গাছে উঠতে পারে না। তারপর ও গাছটিকে দেখে গাছে উঠার সাহস যোগায়। প্রিয়া আস্তে করে লাফ দিয়ে গাছের উপরে উঠতে নিলে বাঘটি জোরে ওর গায়ের উপর লাফ দিতে লাগলো। কিন্ত প্রিয়া এটা দেখে কিছুটা নিচের দিকে ঝুকে যায়। যার কারনে বাঘটি ওর উপর দিয়ে সামনে গিয়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ে যায়। প্রিয়া এই সুজুগে গাছের উপরে উঠে  একদম উপরের মোটা ডালের উপর বসে গাছের ডাল আকঁড়ে ধরে । বাঘটি উঠে শরীর ঝাকি দিয়ে প্রিয়ার দিকে ক্ষোপ নিয়ে তাকায়। প্রিয়া জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। সার শরীর ঘেমে একা কার হয়ে গিয়েছে ।  বুক ধুকধুক করছে। প্রিয়া বাঘটির দিকে তাকিয়ে আছে। বাঘটি গাছে উঠতে না পারায় নিচে বসে পায়চারি করছে । প্রিয়া গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। ওরা সবাই যেতে পেরেছে কি না যেটাই ভাবছে। বাঘটি এখনও সেখানে দাঁড়িয়ে পায়চারি করছে । হয়তো প্রিয়ার নিচে নামার অপেক্ষায় আছে। 

এদিকে....

টিনা,বিক্কি,সানি,রিমি,রুমকি ওরা অনেকটা দূরে চলে আসে দৌড়াতে দৌড়াতে। রিমি থেমে গিয়ে বললো।

রিমি: আমি আর দৌড়াতে পারছি না। অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছি।

সানি: আরেকটু দৌড়াতেই হবে। আর না হলে বাঘের পেটে যেতে পারো।

রিমি এই কথা শুনার সাথে সাথে আবার জোরে দৌড় দিল সাথে ওরাও । 

প্রিয়া গালে হাত দিয়ে বসে আছে। কী করবে সেটাই ভাবছে। বাঘটি নিচে বসে প্রিয়া কে পাহারা দিচ্ছে ।

প্রিয়া: এই বাঘটা নড়ছেও না আর আমি নামতেও পারছি না। রহস্য খুঁজতে এসে বাঘের পেটে গিয়ে রহস্য না হয়ে যাই। বাঘজি তুমি ওইখানেই বসে থাকো আর আমি এখানে। তুমি না গেলে আমিও এখান থেকে নামবো না হুহহহ।.......[ জোরে চিল্লিয়ে বললো ]

বাঘটি প্রিয়ার কথা শুনে মনে হয় কিছুটা বিরক্ত হয়েছে । জোরে একটা হাম টেনে‌ নিল বাঘটি।

প্রিয়া: আচ্ছা বাঘজি আমি যদি তোমার সাথে কথা বলি তাহলে তুমি বিরক্ত হয়ে চলে যাবে না তো। আসলে হয়েছে কি আমি না বেশি কথা বলতে পছন্দ করি না। চুপ চাপ থাকতে ভালো লাগে আমার। তবে ফেসবুকে একটা গল্প পড়েছি ডেঞ্জারাস ক্রেজি লাভার, এই গল্পের নাইকা না অনেক বেশি কথা বলে। ওর কথা পড়তে গেলে আমার ও অনেক বিরক্ত লাগে। আমি যদি ওর মত তোমার সাথে কথা বলি তাহলে তুমি আমার কথা শুনবে ?

বাঘটি নিরিহ চোখে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে। প্রিয়া আবার ও বলতে শুরু করলো।

প্রিয়া: আচ্ছা তাহলে আমি কথা বলা শুরু করি । তুমি চুপ চাপ শুনে যাও ।

শুরু হল প্রিয়ার বক বক। হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথা  বলতে লাগলো আর একা একা হাসছে। বাঘটা এবার মাথা হাতের উপর ঠেকিয়ে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে মনে হয়তো বাঘটি ভাবছে শিকারি কে শহীদ করতে এসে নিজেই না বক বক শুনে শহীদ যাই। প্রিয়া এখনো বক বক করেই যাচ্ছে । প্রিয়া কে এমন বক বক করতে যদি ওর ড্যাড ও বন্ধুরা দেখে তাহলে হার্ট ফেল করবে। কেননা প্রিয়া কথা বলা একদমি পছন্দ করে না। টানা এক ঘন্টা বক বক করলো প্রিয়া । বাঘটি এবার আর সহ্য করতে লাগলো না। উঠে দাঁড়িয়ে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে এক রাশ বিরক্ত ও ক্রোধ নিয়ে চলে যায়। প্রিয়া এটা দেখে বাঘটির দিকে তাকিয়ে  বললো।

প্রিয়া: ও হ্যাল্লো......বাঘজি তুমি গেলে আমার কথা কে শুনবে? আর আমাকে শিকার করবে না?

বাঘটি ওর মত হেঁটেই যাচ্ছে,প্রিয়ার কথা এর কানেই যাচ্ছে না।

প্রিয়া: আরিয়া তুমি আসলেই গ্রেট....তোমার টেকনিক কাজে লাগিয়েছি তাই আজ বেঁচে গেলাম। তবে এখন গাছ থেকে নামা যাবে না। আরো একটু অপেক্ষা করতে লাগলো। 

এদিকে ওরা সবাই দৌড় ছেড়ে হাঁটছে। অনেক হয়রান হয়ে গেছে ওরা। তারপর ও থেমে থাকার উপায় নেই। সন্ধ্যা হতে আর বেশি দেরি নেই।



ভ্যাম্পায়ার কিংডম....

কিং: এখনও মেয়েটিকে খুঁজে পাও নি রাহিল?....[ চিন্তিত হয়ে ]

রাহিল: না কিং...ক্ষমা করবেন কিং....[ মাথা নিচু করে ]

কিং: আমাদের হাতে আজ রাত টুকুই সময় আছে। এখনও খুঁজে দেখো। সময় এখনও আসে ।.......[ বিষন্ন কন্ঠে ]

রাহিল: আচ্ছা কিং....আমি খোঁজ করছি।....[ বলেই চলে যায় ]

কিং দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়ল।



হালকা হালকা অন্ধকার হয়ে এসেছে চার দিক। প্রিয়া ডানে বানে তাকিয়ে ভালো করে পরিদর্শন করে গাছ থেকে নেমে পড়ল। এখন প্রিয়া রাস্তা গুলিয়ে ফেলেছে। কোন পথে যাবে সেটাই বুঝতে পারছে না। ডান দিকে সোজা হাঁটা ধরলো। জঙ্গল থেকে বের হলেই বাঁচে এটাই ভাবছে প্রিয়া ।

বিক্কি,রিমি,টিনা,সানি,রুমকি ওরা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে। মনের মধ্যে খুশি অনুভব করলেও প্রিয়ার জন্য খারাপ লাগছে। প্রিয়া কি বেঁচে আছে নাকি বাঘের হাতে মৃত্যু হয়েছে সেটাই ভাবছে ওরা ।

 প্রিয়া অনেকটা পথ হেঁটে সামনে এসেছে। চারদিক আরো অন্ধকার নেমে এসেছে। আরো কিছু দূর হাঁটার পর আপছা আলোতে সামনে একটা কুঁড়ের ঘর দেখতে পায়। প্রিয়া কুঁড়ের ঘরটি দেখে কিছুটা সস্থি পেল। আজ রাতটা কুঁড়ের ঘরে কাঁটিয়ে দিবে বলে ভাবে। তবে কুঁড়ের ঘরটি দেখে প্রিয়ার মনে কিছুটা সন্দেহ জাগে। এত গভির জঙ্গলে কুঁড়ের ঘর বানিয়ে কে থাকে? মনে কিছুটা সন্দেহ নিয়ে কুঁড়ের ঘরের দিকে পা বাড়ায় প্রিয়া।



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url