Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ১০

 

Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ১০

Prince Of Vampire💕

লেখিকাঃ Sumaiya Moni

পর্বঃ ১০


এলিনা ডানে বানে তাকিয়ে পিছন থেকে প্রিয়ার ঘাড়ে হাত রাখতে যাবে ঠিক সেই সময়,কে যেন পিছন থেকে এলিনার অন্য হাত ধরে টেনে স্টোর রুমে নিয়ে আসে। 

.

জ্যাক: এলিনা....তুই কী পাগল হয়ে গিয়েছিস নাকি?

এলিনা: কেন ভাইয়া? আমিই তো ঠিক কাজই করছি। প্রিয়া কে ড্যাড এর কাছে নিয়ে যাবো।

জ্যাক: হ্যাঁ! সেটা জানি, বাট অভয় এই কলেজেই আছে। ও যদি জানতে পারে তুই প্রিয়া কে কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছিস,তাহলে ও তোকে মেরে ফেলবে।

এলিনা: তাহলে প্রিয়া কে কিভাবে নিয়ে যাবো ড্যাড এর কাছে? হাতে সময় আছে মাত্র তিন দিন। এরি মধ্যে প্রিয়া কে ড্যাড এর কাছে নিয়ে যেতে হবে।

জ্যাক: হ্যাঁ! আমাদের হাতে সময় তিনদিন আছে। বাট যা করার ভেবে চিন্তে করতে হবে। তাড়াহুড়ো করা যাবে না। 

এলিনা: হুমম.. বাট কি করবো সেটা বলো ভাইয়া?

জ্যাক : এখন না। পরে বলবো। এখন এখান থেকে চল।

এলিনা: ওকে ভাইয়া । 


ভ্যাম্পায়ার কিংডম....

কিং তার কক্ষে থুতনিতে হাত দিয়ে চেয়ারে বসে আছে । চিন্তাজগত এ ডুবে আছেন কিং। কিং তার চিন্তা ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে রাহিলের ডাকে।

রাহিল: কিং! আপনাকে এমন চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?

কিং : রাহিল তুমি এই সময় ভ্যাম্পায়ার কিংডমে? কোন সমস্যা হয়েছে নাকি?

রাহিল: না কিং! আমি এমনি এসেছি। তবে?

কিং: তবে কী রাহিল?

রাহিল: অভয় প্রিয়া কে ভালোবাসে । কিন্তু অভয় সেটা প্রিয়া কে বলতে বা বুঝাতে চাচ্ছে না। 

কিং: কেন?

রাহিল অভয় ও প্রিয়ার ব্যাপারে সব কিছু খুলে বলে। কিং মৃদ হাসি দিয়ে বলে। 

কিং : তুমিও পারো বটে। অভয় কে সত্যি টা বলছো না কেন? 

রাহিল: বলে দেবো কিং বাট অভয় টা আমার কথা শুনতেই চায় না। 

কিং: আচ্ছা..... তুমি অভয় কে তাড়াতারি বলে দিও। 

রাহিল: জি কিং! কিং একটা প্রশ্ন ছিল?

কিং: বলো কী প্রশ্ন?

রাহিল: আপনাকে কেমন চিন্তিত দেখাচ্ছে। আপনি কী কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত আছেন?

কিং কিছুটা গম্ভীর গলায় বলে। 

কিং: রাহিল আমার মনে হচ্ছে সামনে বড় বিপদ। আমি তার আবাস কিছুটা পাচ্ছি । 

রাহিল: কী বিপদ কিং? 

কিং: সেটাই ভাবছি। কোন বিপদ আমাদের সামনে আসছে। আচ্ছা রাহিল। এবিক রা কী জানে প্রিয়াই blood provide মেয়ে। 

রাহিল: আমার জানা মতে জ্যাক, স্যাম,এলিনা ওরা জানে না। তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি ওরা এই বিষয় কিছু জানে, নাকি এখনো ওদের কাছে অজানা।

কিং: হুমম, খোঁজ নিয়ে দেখো। আর হ্যাঁ প্রিয়ার দিকে খেয়াল রেখো। ওর যেন কোন ক্ষতি কেউ করতে না পারে। 

রাহিল: জি । কিং সামনে তো আমাবস্যা। 

কিং: হ্যাঁ! এই জন্যই ভয়টা বেশি জেঁকে বসেছে আমার মনে। এই সময় অশুভ শক্তি শুভ শক্তি কে বিনাশ করে,নিজের হারানো শক্তি হাসিল করে । আর সে অধিক পরিমান শক্তি-শালি হয়ে যায়। তখন তাকে বিনাশ করা বড্ড কঠিন হয়ে যায়। 

রাহিল: কিন্ত কিং? এই শুভ শক্তি যদি কোন ভালো কাজে ব্যবহার করা হয় তাহলে তার শক্তির প্রভাব কি তার শরীর থেকে কমে যাবে?

কিং: কমে যাবে না। অক্ষয় থাকবে তার শরীরে।

রাহিল: ওহ! আচ্ছা কিং আমি এখন যাই। 

কিং: হুমম যাও...। আর হ্যাঁ তোমরা সতর্ক থেকো। বিপদ কিন্তু বলে কয়ে আসে না।

রাহিল: জি কিং,আমরা সতর্ক থাকবো। 

কিং: এবার আসতে পারো।


দুই দিন পর...

প্রিয়া কলেজ থেকে বাড়িতে এসে খেয়ে লম্বা একটা ঘুম দেয়। ঘুম থেকে উঠে সন্ধ্যার আগ দিয়ে। বাথরুমে গিয়ে বেসিনের আয়নার দিকে নিবিষ্টভাবে তাকিয়ে আছে প্রিয়া। চোখেমুখে পানি ঝাপটা দিতে থাকে। আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের দিকে তাকাতেই সেদিনের ক্লাস রুমের কথা মনে পড়ে যায়। মুচকি হেসে টাওয়াল হাতে নিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বাথরুম থেকে বের হয় প্রিয়া। এক কাপ কফি বানিয়ে নিয়ে এসে বারান্দায় দাঁড়ায়। বাড়িতে প্রিয়া একাই আছে ।‌

 অভয় প্রিয়াকে avoid করে চললেও,প্রিয়া বার বার অভয়ের কাছে ছুটে যায়। কিন্তু অভয় বরাবর প্রিয়া কে avoid করে চলছে। তাতে প্রিয়ার মন খারাপ হলেও,গায়ে লাগায় না। কারন প্রিয়ার বিশ্বাস ছিল অভয় ওকে ভালোবাসে। 

হুট করে ওর ফোনটা বেজে উঠায় ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে ওর ড্যাড কল দিয়েছে । প্রিয়া ফোন রিসিভ করে অনেক্ষন কথা বলে ওর ড্যাড এর সাথে । ততক্ষনে সূর্য পশ্চিম দিকে পুরপুরি ঢলে পড়েছে। চার দিক অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে। প্রিয়া বেলকুনির লাইট অন করে দোলনায় বসে "ইমদাদুল হক মিলন" এর লেখা "মায়াঘর" বইটি পড়তে লাগলো । মন ভালো ও একাকীত্ব কাঁটিয়ে উঠার জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় আর নেই। বেশ কিছুক্ষন বই পড়ে প্রিয়া। এখন আর পড়তে ইচ্ছে করছে না বিধায় দোলনা থেকে উঠে রুমে এসে টেবিলে বসে কলেজের পড়া পড়তে লাগলো। 


রাহিল: অভয় শোন।

প্রিন্স অভয়: বল।......[ ফোনের দিকে তাকিয়ে ]

রাহিল: আরে শোন না।

প্রিন্স অভয়: বল শুনছি।

রাহিল: টিনা আমাকে ভাই বলে ডাকে। কেমন লাগে বল তো?..........[ কিছুটা স্যাড মুডে বললো ]

অভয় এবার ওর ফোনের দিক থেকে চোখ সরিয়ে রাহিলের দিকে তাকিয়ে হো হো করে হাসতে লাগলো। 

রাহিল গাল ফুলিয়ে অভয়ের দিকে তাকিয়ে আছে । 

রাহিল: হাসি অফ কর ভাই। কলিজা পুঁড়ে আমার । 

প্রিন্স অভয়: যাক তাহলে তুই একটা বোন পেলি। যে কিনা তোকে ভাইয়া বলে ডাকে। .............[ হেসে ]

রাহিল: মজা নিচ্ছিস। এদিকে আমার অবস্থা খারাপ ।...........[ কিছুটা রেগে ]

প্রিন্স অভয়: ভালোই তো। তা আমি কি করবো?

রাহিল: জানি না কী করবি? বাট কিছু একটা কর দোস্ত। আমি ওর মুখে ভাইয়া ডাকটা মেনে নিতে পারছি না। 

প্রিন্স অভয়: আচ্ছা কালকে কলেজে গিয়ে দেখি কী করা যায়। 

রাহিল: দোস্ত...তুই আমার দোস্ত না। আমার ভাই। ধন্যবাদ ভাই। ............[ খুশি হয়ে ]

প্রিন্স অভয়: হয়েছে আর ঢং দেখাতে হতে না।

রাহিল: ঢং না ভাই। তুই আমার টা সেটিং করে দে । আমি তোরটা সেটিং করে দেবো। 

প্রিন্স অভয়: দরকার নেই। আর আমি‌ একটা জীনিস বুঝতে পারছি না তুই একটা ভ্যাম্পায়ার হয়ে মানুষের প্রেমে কেন পড়লি। মানুষের সাথে আমাদের মিল হওয়া সম্ভব না। তাহলে?

রাহিল: কে বলেছে সম্ভব না। তাহলে শোন.......[ সব কিছু খুলে বললো অভয় কে ] 

অভয় সবটা শুনে রাগে দাঁড়িয়ে যায়। 

প্রিন্স অভয়: তুই আমাকে আগে কেন বলিস নি এই কথাটা? 

রাহিল: আমি বলতে চেয়েছি,কিন্তু তুই সেদিন আমার কথা শুনিস নি। তাই আমিও আর তোকে বলিনি। 

প্রিন্স অভয়: ইডিয়েট কোথাকার।.......[ রেগে ]

রাহিল: হ এখন আমি ইডিয়েট হয়ে গেলাম । 

প্রিন্স অভয়: এটাই তুই....আমি প্রিয়া কে কত avoid করে চলেছি। ওর কাছ থেকে দূরে সরে থেকেছি । অপমান,অবহেলা করেছি প্রিয়া কে। অনেক কষ্ট দিয়েছি প্রিয়া কে। ............[ মন খারাপ করে বললো ]

রাহিল: তো এখন পুষিয়ে দে সব কষ্ট । প্রিয়ার কাছে যা। গিয়ে সব খুলে বল প্রিয়া কে।

প্রিন্স অভয়: যাবো....এখনি যাবো। 

বলেই বাড়ি থেকে ঝড়ের বেগে দৌড়াতে লাগলো অভয় । গিলটি ফিল হচ্ছে অভয়ের। আজকে প্রিয়ার কাছে গিয়ে সব কিছু খুলে বলবে। প্রিয়া কে আপন করে নিবে অভয়। অনেক ভালোবাসবে প্রিয়াকে।


বলেই বাড়ি থেকে ঝড়ের বেগে দৌড়াতে লাগলো অভয় । গিলটি ফিল হচ্ছে অভয়ের। আজকে প্রিয়ার কাছে গিয়ে সব কিছু খুলে বলবে। প্রিয়া কে আপন করে নিবে অভয়। অনেক ভালোবাসবে প্রিয়াকে। 


অভয় প্রিয়াদের বাড়ির সামনে এসে দেখে দরজা ভিতর থেকে লক করা। অভয় এটা দেখে দৌড়ে বারান্দায় আসে। বারান্দার সামনে এসে ওর ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার দিয়ে বারান্দায় উঠে । জানালার গ্লাসের ভিতর থেকে প্রিয়ার রুমের ভিতরের সব কিছুই দেখা যাচ্ছে। প্রিয়া টেবিলে বসে বই পড়ছে। অভয় কিছুক্ষন প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে ডান হাত দিয়ে থাই গ্লাসে দুইটা টোকা দিল। প্রিয়া ঠক ঠক শব্দ শুনে বইয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে রুমের চার দিক তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করে ঠক ঠক শব্দের ধ্বনি কোথা থেকে আসছে। রুমের চার দিক ভালো করে দেখে জানালার দিকে তাকাতেই অভয়ের মায়া ভরা দুটি চোখ দেখতে পায়। প্রিয়া টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। বাহিরে তখন বেশ ঠান্ডা ছিল। প্রিয়া অভয়কে দেখে আশ্চর্য হয়ে যায়। এতো রাতে? ওর বাড়িতে অভয়,সেটা মনে করতেই প্রিয়া প্রশ্নের মাঝে হারিয়ে যায়। অভয় এখনো আগের মতো প্রিয়ার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে আছে । অভয় প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় থাই গ্লাসের উপর আঙুল রেখে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জল কনা একত্রিত করে তাই উপরে আঙুল দিকে ছোট্ট করে " I Love You Priya" লিখলো। প্রিয়ার চোখ জোড়া ছলছল করে উঠল এটা দেখে ।  মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল ওর। জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো। প্রিয়া আর এক মিনিটও দেরি না করে বারান্দার দরজা খুলে অভয়ের বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়ল। খুব জোরে অভয় কে জড়িয়ে ধরলো। অভয় ওর দু চোখ বন্ধ করে দীর্ঘনিঃশ্বাস টেনে পরম যত্নে প্রিয়া কে জড়িয়ে ধরলো।

প্রিয়া: I Love You Too Abhay....[ করুন স্বুরে বলে ] 

অভয় প্রিয়ার কঁপালে আলতো করে চুমু এঁকে দিল। কিছুক্ষন পর অভয় প্রিয়াকে ছেড়ে দিয়ে বলে।

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া তুমি কী বাসায় একা?

প্রিয়া: হ্যাঁ! আমি বাড়িতে একা। ড্যাড এখনো আসে নি। 

প্রিন্স অভয়: আচ্ছা ঠিক আছে । আমি আজ রাতে তোমার সাথে থাকবো। 

প্রিয়া: কী?........[ অবাক হয়ে ]

প্রিন্স অভয়: কী না, জি বলো।........[ মুচকি হেসে ]

প্রিয়া : জি?

প্রিন্স অভয়: হ্যাঁ! জি। 

প্রিয়া : না আ..আমি একা থাকতে পারবো । 

প্রিন্স অভয়: না পারবে না। তাই আমি তোমার সাথে থাকবো এবং তোমার বিছানায় ঘুমাবো। .........[ কথাটা বারান্দা থেকে এসে বলেই বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়লো ]

প্রিয়া: না এটা হবে না। ত...তুমি আমার বিছানায় ঘুমাতে পারবে না। 

অভয় প্রিয়ার হাত ধরে টেনে ওর গায়ের উপর ফেলে বলে।

প্রিন্স অভয়: কেন? ভয় করছে আমাকে? .......[ স্লো ভয়েসে মুচকি হেসে বললো ]

প্রিয়া:............[ অভয়ের দুষ্ট মাখা,চোখ থেকে ওর চোখ জোড়া সরিয়ে ন্যায় ]

অভয় প্রিয়ার দু গালে হাত রেখে ওর দিক ঘুরিয়ে বলে।

প্রিন্স অভয়: ভালোবাসার মানুষ রা তার প্রিয়া মানুষকে কোন দিন‌ও খারাপ নজরে দেখে না। আমিও তাদের মধ্যে একজন। মানুষ নয়। তবে ভ্যাম্পায়ার । তোমার ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স ।

প্রিয়া মুচকি হেসে অভয় কে জড়িয়ে ধরে বলে ।

প্রিয়া: এক রাত কেন? বহু রাত আমি তোমার সাথে কাঁটাতে পারবো । অগাৎ বিশ্বাস আছে তোমার উপর। 

প্রিন্স অভয়:........[ অভয় কিছু না বলে মুচকি হেসে প্রিয়া কে ওর বাহু ডোরে আবদ্ধ করে নিল ]

এবাবে কিছুক্ষন থাকার পর হঠাৎ করেই প্রিয়ার রক্তের স্মেইল অভয়ের নাকে আসে। আর অভয়ের রক্ত খাবার নেশা জেগে যায় । অভয় প্রিয়া কে ওর উপর থেকে ধাক্কা মেরে বিছানার অপর পাশে ফেলে দেয়। হঠাৎ করে অভয়ের এমন কাণ্ডে বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় প্রিয়া । অভয়ের দিকে কিছুটা ক্ষোপ নিয়ে তকিয়ে আছে।

 তড়িৎগতিতে করে অভয় বিছানা থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে প্রিয়া কে বলে।

প্রিন্স অভয় : প্রিয়া তুমি আমার কাছে এসো না। 

প্রিয়া ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে অভয়ের দিকে তাকায় । 

প্রিন্স অভয়: তোমার শরীরের রক্তের স্মেইল অনেক তীব্র । আমাকে নেশার মতো টানছে। আমি নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলবো। তারপর তোমার বড় কোন ক্ষতি করে ফেলতে পারি । তুমি আমার থেকে দূরে থাকো প্রিয়া। 

প্রিয়া: আমি তোমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকতে পারবো না। এখন যদি দূরে থাকো,তাহলে সারা জীবন কিভাবে আমার এক সাথে থাকবো?

প্রিন্স অভয়: তখন কার ব্যাপারে সব পরে জানতে পারবে । ড্যাড বলে দিবে সব। এখন আপাতত তুমি আমার কাছ থেকে দূরে থাকো।

প্রিয়া: নাহ্! আজ রাতে আমি তোমাকে কাছে থাকবো। আমার ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে কন্ট্রোল করা শিখাবো। আমি তোমার কাছেই থাকবো ।

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া পাগলামি করো না। আমার দ্বারা বড় কোন ক্ষতি হতে পারে তোমার। 

প্রিয়া: হলে হবে। আমি সেটা হাসি মুখে মেনে নিবো। 

প্রিন্স অভয়: জেদ্দ কর না প্রিয়া । বুঝার চেষ্টা কর।

প্রিয়া: আমি কখনো কোন কিছু নিয়ে জেদ্দ করিনি। কিন্তু আজ করবো। আমায় বাঁধা দিও না‌ অভয়। 

প্রিন্স অভয়: প্লিজ প্রিয়া....ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। বড় কোন ক্ষতি হতে পারে তোমার। 

প্রিয়া: তাতে আমি পরোয়া করি না। আমি শুধু তোমাকে শিখাতে‌ চাচ্ছি। 

বলেই অভয় কে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুয়ে পড়লো। প্রিয়া ওর গায়ের উড়না টা সরিয়ে অভয়ের গায়ের উপর শুয়ে আছে। অভয় প্রিয়া কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উঠে যেতে নিয়ে । প্রিয়া অভয়ের হাত ধরে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আবার ওর গায়ের উপর চড়ে বসে । এবাবে অনেকক্ষন ওদের মাঝে দস্তাদস্তি হতে থাকে। যতোই অভয় প্রিয়া কে দূরে সরিয়ে দেয়। প্রিয়া ততোই অভয়কে ওর কাছে টেনে ন্যায় । অভয় প্রিয়ার রক্তের স্মেইল এ পাগল হয়ে যাচ্ছে । নিজেকে কন্ট্রোল করা বেশ মুশকিল হয়ে যাচ্ছে ওর। এবার অভয় প্রিয়া কে বিছানায় ফেলে ওর গায়ের উপর চড়ে বসে। দু জন দু জনার দিকে নেশাক্ত চোখে তাকিয়ে আছে । অভয় আস্তে আস্তে প্রিয়ার হাড়ের কাছে যেতে লাগলো । প্রিয়া ওর চোখ বন্ধ করে ন্যায় । নিশ্বাস বারি হতে থাকে প্রিয়ার । অভয় প্রিয়ার গলায় আলতো করে একটা চুমু দেয়। প্রিয়ার সারা শরীর কেঁপে উঠে অভয়ের স্পর্শে। প্রিয়ার ঘাড়ের কাছ থেকে রক্তের স্মেইল টা তীব্র ভাবে অভয়ের নাকে আসতে লাগলো। এবার অভয় ওর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে। চোখ লাল হয়ে যায়। ঠোঁটের দু কোণা দিয়ে চিকুন সরু দুটো দাঁত বেরিয়ে আসে। চেহারায় হিংস্রতা ফুটে উঠে অভয়ের । অভয় হা করে গলায় কামড় দিতে যাবে, ঠিক সেই সময় অভয় চোখ বন্ধ করে নিজেকে কন্ট্রোল করে প্রিয়ার উপর থেকে উঠে বিছানা থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়ায়।  প্রিয়া উঠে বসে দেখে অভয় উপর দিক মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। ওর হাত পা থরথর করে কাঁপছে। প্রিয়া বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হেঁটে অভয়ের কাঁধে হাত রাখলো । অভয় পিছন দিক গুড়েই চট করে প্রিয়ার দু বাহু চেপে ধরে । প্রিয়া আতঙ্ক নিয়ে অভয়ের দিকে তাকিয়ে আছে । কেননা, অভয় আগের মতো স্বাভাবিক নেই। চেহারায় হিংস্রতা দেখতে পাচ্ছে প্রিয়া। 

প্রিয়া: অভয় আমার চোখের দিকে তাকাও.....আমার চোখের দিকে তাকাও অভয়........[ এক দৃষ্টিতে অভয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে নরম স্বুরে বলে ]

অভয় প্রিয়ার কথা মতো প্রিয়ার চোখের দিকে তাকায়। কিছুটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দুজন দুজনার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ  করে প্রিয়ার চোখ থেকে আকাশি রঙের রশ্নি বের হতে লাগলো। সেই রশ্নি অভয়ের চোখের মধ্যে প্রবেশ করতে লাগলো। অভয় আস্তে আস্তে আগের মতো স্বাভাবিক হতে থাকে।কিছুক্ষন পর প্রিয়ার চোখ থেকে আকাশি রঙের রশ্নি বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অভয় আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেছে। হুট করে অভয় প্রিয়াকে ছেড়ে দিয়ে নিজের দিকে তাকাল। ভালো করে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। অভয় নিজেকে আগের মতো স্বাভাবিক দেখে চট করে প্রিয়া কে জড়িয়ে ধরে। 

প্রিন্স অভয়: তুমি পেরেছ প্রিয়া। তুমি পেরেছ! আমাকে কন্ট্রোল করতে পেরেছ তুমি।............[ খুশি হয়ে বলে ]

হুট করে প্রিয়া সেন্সলেস হয়ে ঢলে পড়ে অভয়ের গায়ের উপর। অভয় প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে। এক হাতের উপর প্রিয়া কে রেখে আরেক হাত দিয়ে প্রিয়ার গালে হাত দিয়ে ডাকতে লাগলো।

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া...প্রিয়া.. এই প্রিয়া? কী হয়েছে তোমার? কথা বলো প্রিয়া? নাহ! উঠছে না। হঠাৎ করে কী হল প্রিয়ার। 

অভয় কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ে । প্রিয়া কে বিছানায় শুইয়ে দেয়। শুইয়ে দিয়ে আবার প্রিয়া কে ডাকতে লাগলো। 

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া..প্রিয়া... কথা বলো প্রিয়া? নাহ্ কিছু একটা করতে হবে । 

অভয় প্রিয়ার চেহারায় পানি ছিটায়। কিন্তু তাতেই প্রিয়ার জ্ঞান ফিরলো না। অভয়ের মনে মধ্যে ভয় কাজ করছে। না জানি ওর জন্য প্রিয়ার ক্ষতি না হয়ে যায়। 

প্রিন্স অভয়: এখন কী করবো । প্রিয়ার তো জ্ঞান ফিরছে না। হ্যাঁ! ড্যাড কে একটা কল দেই । ড্যাড এর কাছে জিজ্ঞেস করি প্রিয়ার কী হয়েছে?

অভয় দেরি না করে ওর পকেট থেকে ফোন টা বের করে,কিং কে কল দেয়। দু বার রিং হতেই ফোন তুলে কানে নিল কিং।

ক্রিং...ক্রিং...ক্রিং...

কিং : মাই সন কেমন আছো?

প্রিন্স অভয় : ভালো তুমি?

কিং: ভালো আছি। 

প্রিন্স অভয় : ড্যাড তোমাকে একটা কথা বলার জন্য কল দিয়েছি!

কিং: হ্যাঁ বলো প্রিন্স? কী কথা বলতে চাও?

প্রিন্স অভয়: ড্যাড আমি প্রিয়াদের বাসায় এসেছি। তারপর........ [ সব কিছু কিং কে বললো ] এখন কী করবো ড্যাড । প্রিয়ার জ্ঞান ফিরছে না। ওর জন্য খুব টেনশন হচ্ছে আমার। 

কিং: প্রিন্স তুমি টেনশন করো না। প্রিয়া এই প্রথম ওর শক্তি অন্য কারো উপর প্রয়োগ করেছে। নিজেকে সামলাতে পারেনি ঠিক মতো । তাই সেন্সলেস হয়ে গেছে। সকালে ঠিক জ্ঞান ফিরে আসবে প্রিয়ার।

প্রিন্স অভয়: সত্যি ড্যাড?.

কিং: হ্যাঁ! সত্যি প্রিন্স । 

প্রিন্স অভয়: থ্যাংকস ড্যাড। বাই।

কিং: অভয় শোনো ।

প্রিন্স অভয়: জি বলো ড্যাড। 

কিং: তুমি ও প্রিয়া একটু সাবধানে থেকো। আর প্রিয়ার দিকে খেয়াল রেখো। 

প্রিন্স অভয়: কেন ড্যাড? আর রাহিলও আমাকে এই একি কথা বলেছে। কিন্তু কেন? কোন সমস্যা ড্যাড? সামনে কী বিপদ আসছে ড্যাড?

কিং: জানি না । তবে আমার মনে হয় সামনে বড় কোন বিপদের সম্মুখীন হতে চলেছি আমরা। তাই আগে থেকে সতর্ক থাকা ভালো। 

প্রিন্স অভয়: তুমি চিন্তা করো না ড্যাড । আমি সতর্ক থাকবো। 

কিং: হুমমম...বাই । 

প্রিন্স অভয়: বাই ড্যাড । 

টু...টু‌...টু...

অভয় ছোট একটা নিশ্বাস ফেলে প্রিয়ার পাশে গিয়ে বসলো। প্রিয়ার হাত ধরে প্রিয়ার অপর পাশে শুয়ে পড়লো অভয়। 

এদিকে জালানার বাহির থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ভিতরে থাকা অভয়ের দিকে তাকিয়ে আছে জ্যাক । প্রিয়া কে তুলে নিয়ে যেতে এসে দেখে অভয় প্রিয়ার বাড়িতে । অভয় ও কিং এর ফোনে বলা কথা শুনে ফেলে জ্যাক। রাগে ফোস ফোস করে বলে।

জ্যাক: কিং ঠিকি বলেছে। সামনে তোদের বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে অভয় । তৈরি থাক। 

বলেই শয়তানি হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । 

সকালে....



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url