ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১২

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১২

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলাতানা

পর্বঃ ১২


প্রাপ্তি আর আয়ান রুমে গিয়ে নিজেদের জামা কাপড় গুলো গুছিয়ে নিচ্ছে।আয়েশা বেগম এসে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে আয়ান তুই আমাদের ছেড়ে যাসনা।আমি আমার ছেলেকে ছাড়া থাকবো কি করে? তোর আব্বুর রাগটা কমে যাক দেখবি তোকে আবার বুকে টেনে নিবে।এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলতে লাগলেন আয়েশা বেগম।আয়ান আয়েশা বেগম কে ছাড়িয়ে গাল দুটো হাত দিয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো গলায়,আম্মু তোমাদের ছেড়ে থাকতে আমারো অনেক কষ্ট হবে,কিন্তু আমি জানি আব্বু কখনোই আমাকে আর এই বাড়িতে থাকতে বলবেনা।আর কখনোই বলবেনা আয়ান অফিসে যাবিনা,বলবেনা লেট আমার একদম পছন্দ না।,তোর কোনো সময়ের জ্ঞান নেই বলে কি আমারও নেই।আকাশ ভাইয়া এসে আব্বুর বুকনি থেকে আমাকে বাঁচাতে হবেনা।এই সব কিছু আমি অনেক মিস করবো আম্মু।মিস করবো তোমার ভালোবাসা।কথাগুলো বলতে বলতে আয়ানের গাল বেয়ে বেয়ে চোখের পানি পড়ে শার্ট ভিজে যাচ্ছে।কথা গুলো বলতে মনে হচ্ছে তার বুকটা ফেটে যাচ্ছে।প্রাপ্তিও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মা ছেলের দৃশ দেখে সেও কান্না করে যাচ্ছে।


আয়েশা বেগম -(ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে) তুই এখন হঠাৎ এইভাবে মেয়েটাকে নিয়ে গিয়ে কোথায় থাকবি?  তোর কাছে তো এখন কোনো টাকাও নেই। এইভাবে রাগ করে গিয়ে থাকা যায়না আয়ন।


আয়ান আয়েশা বেগমের কাছ থেকে সরে গিয়ে চোখ মুছে ব্যাগ টা আটকাতে আটকাতে স্বাভাবিক গলায় বললো চিন্তা করো না মা আমার কাছে কিছু টাকা আছে সেটা দিয়ে কয়েক দিন কেটে যাবে।তারপর একটা চাকরি ব্যবস্থা ঠিক করে ফেলবো।


আয়েশা বেগম বুজে গেছে ছেলেকে বুজিয়ে কোনো লাভ হবে না।আয়ানের রুম থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে, আকাশ!  আকাশ! 


আকাশ কাছে গিয়ে আম্মু তুমি পড়বে তো তুমি এইরকম করোনা।এইরকম করলে তো অসুস্থ হয়ে যাবে।


আয়েশা বেগম আকাশের হাত ধরে তুই আমার কথা চিন্তা করিস না।তুই পারবি আয়ানকে আটকাতে। ওকে এইভাবে কোথাও যেতে দিস না।


আকাশ -আম্মু তুমি শান্ত হও আমি দেখছি বলে উপরে যাবার জন্য সিঁড়িতে পা দিতেই দেখে আয়ান আর প্রাপ্তি নেমে আসছে।


আয়ান নেমে এসে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে, ভাইয়া আম্মুর দিকে খেয়াল রাখিস,


আকাশ-(অসহায় ভাবে) আয়ান! আর একটা বার ভেবে দেখ।আব্বু রাগের মাথায় কি বলতে কি বলেছে তার জন্য তুই বাড়ি ছেড়ে দিয়ে চলে যাবি?  


আয়ান-(আকাশ কে ছেড়ে দিয়ে) ভাইয়া প্লিজ আবিদ চৌধুরী অহংকার নিয়ে ওনি থাকুক।আর যে বাড়িতে আমার স্ত্রী থাকতে পারবে না।সে বাড়িতে আমিও থাকতে পারবোনা।সবাইকে নিয়ে ভালো থাকিস।সবার খেয়াল রাখিস।

রুমকি দৌড়ে এসে কোলে উঠে মামা তুমি আর আসবে না? তুমি মামনিকে নিয়ে চলে যাবে?তুমি মামনিকে নিয়ে যেও না।


রুমকির কথা শুনে আয়ানের চোখের পানি টলমল  করছে,রুমকির মন খারাপ হবে দেখে অন্য দিকে ফিয়ে চোখ মুছে মামাই আবার চলে আসবো। এই কয়দিন আম্মুর সব কথা শুনে লক্ষী মেয়ের মতো থাকবা।আমি আর তোমার মামনি এসেই যেনো শুনি রুমকি সবার সব কথা শুনে।প্রাপ্তি এগিয়ে এসে রুমকিকে কোলে নিলো। আয়ান ঝিনুক আর মিনুর কাছে যেতেই দুই বোন আয়ানকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো,আয়ানও কাঁদোকাঁদো গলায় কান্না করছিস কেনো? আমিতো আর মরে যাইনি।ঝিনুক কথাটা শুনেই আয়ানের গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে মুখে যাই আসে তাই বলে যাচ্ছিস।তুই এতোই পর ভাবিস আমাদের?ঠিক আছে তোকে আজ আটকাবো না।আমি চাই তুইও আব্বুকে দেখিয়ে দিবি আব্বুকে ছাড়া তুই ও চলতে পারিস।আর কোনো সমস্যা হলে নিহাদ কে জানাস।


মিনু -নিজের দিকে খেয়াল রাখিস।যেখাই যাবি ফোন দিয়ে জানাস।যে মেয়ের জন্য এই বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছিস ওর খেয়াল রাখিস।


আয়ানও ঝিনুকের চোখের পানি মুছে দিয়ে রুমকির দিকে খেয়াল রাখিস।

মিনু! রাহাতের সাথে তুই একদম রাগারাগি করবিনা।


সুমির কাছে এগিয়ে গিয়ে, সুইট হার্ট তোমাকে আর জ্বালানো সহ্য করতে হবেনা।তোমাকে সকাল বেলা  আর আমাকে জাগিয়ে তুলতে হবেনা।আর কেউ তোমাকে এই কথা বলে জ্বালাবে না সুইট হার্ট তোমার হাতে কফি না হলে ভালো লাগে না।


সুমি নিজের চোখের পানি মুছে, তুমি এইগুলে জ্বালানি বলছো কেনো? এই গুলো করতে আমার খুব ভালো লাগে আয়ান।সুমি প্রাপ্তিকে আয়ানের কাছে টেনে এনে,প্রাপ্তি এই ছেলেটার সব দায়িত্ব এখন থেকে তোমার। আমার দেখা এই প্রথম কোনো ছেলে একটা মেয়েকে কতোটা ভালোবাসতে পারলে একটা ছেলে এতো  অর্থ প্রাচুর্য ছেড়ে অজানা পথে হাঁটতে পারে।প্রাপ্তি! তুমি অনেক ভাগ্যেবান। কারণ ভাগ্যে করেই এইরম স্বামী পাওয়া যায়।

তাই আবারো বলছি নিজের মতো করে ওর একটু যত্ন নিও।


সুমির সব কথা শুনেই প্রাপ্তি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুজালো।


আয়েশা বেগমের মুখে কোনো কথা নেই নিস্তব্ধ হয়ে সোফায় বসে আয়ানে দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে।


প্রাপ্তি এসে আয়েশা বেগমকে সালাম করে,(ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে)  মা, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আজ আমার জন্যই আপনার ছেলেকে আপনার কাছ থেকে আলাদা হতে হচ্ছে।মা! আমি কখনো চাইনি এই রকম কিছু হোক।

আয়েশা বেগম প্রাপ্তিকে উঠিয়ে, আমার ছেলেটার দিকে খেয়াল রেখো। আজ নিজেকে খুব ভাগ্যেবান মনে হচ্ছে।অনেক গর্বও হচ্ছে কেনো যানো?  আমার ছেলেকে আমি ঠিক মতোই মানুষ করতে পেরেছি।সে মেয়েদের সম্মান দিতে জানে।কোনো মা জাতি কে অসম্মান করতে দেয়নি।তোমরা যেইখানেই থাকো ভালো থাকো।


আয়ান গিয়ে আবিদ চৌধুরীর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে,আব্বু আমি চলে যাচ্ছি।আমাকে নিয়ে তোমার আর কোনো অম্মান হবেনা।নিজের দিকে খেয়াল  রেখো।আব্বু তুমি কি আমার কথা শুনছো? তোমাকে আর তোমার ছোটো ছেলেকে নিয়ে কোথাও অপদস্থ হতে হবেনা।আম্মুর দিকে খেয়াল রেখো।

আবিদ চৌধুরীর কোনো সাড়া না পেয়ে আয়ান ড্রইংরুম এসে, প্রাপ্তি! চলো।কথাটা বলেই আয়ান আর পিছু ফিরে তাকালোনা। তাড়াতাড়ি করে পা গুলো এগুতে লাগলো এক অজানার পথে। প্রাপ্তিও আয়ানের পিছু পিছু হাঁটতে শুরু করলো।কেউই জানেনা কথায় যাবে কি করবে। আয়ান শুধু এইটা ভেবেই নিজেকে বুজ দিয়েছে ভালোবাসার মানুষের অসম্মান সে হতে দেয়নি।যদি কোনো একদিন আবিদ চৌধুরী সম্মানের সাথেই তার ভালোবাসার মানুষকে ফিরিয়ে আনবে সেই দিনই আবার এই বাড়ি ফিরে আসবে।



আয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো এক অজানার পথে। কোথায় যাবে কি করবে কিছুই মাথায় আসছে না আয়ানের।  বাড়ি থেকে না এসেও উপায় কি? ওই বাড়িতে থাকলে প্রাপ্তিকে বার বার আব্বুর কাছে অপমান আর অপদস্থ হতে হতো।নিজের স্ত্রী কে নিজের চোখের সামনে এইভাবে দেখা আমার পক্ষে দেখা সম্ভব না।কথা গুলো ভাবতেই প্রাপ্তির দিকে নজর পড়লো আয়ানের। সকাল থেকে তো মেয়েটা কিছু খায়নি।আমি অফিসে যাবো বলে সবকিছু রেডি করতেই তো সময় চলে গেলো তারপর তো আব্বু আসার পর আর খাওয়াই হয়নি।

একটা রিকশা দাঁড় করিয়ে, মামা রেস্টুরেন্ট এর দিকে  চলেন।কথাটা শুনে প্রাপ্তি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে এমন একটা অবস্থায় রেস্টুরেন্টে যাবার কথা মাথায় আসে কি করে। এখন কি রেস্টুরেন্টে  যাবার সময়?


আয়ান-হা করে এইভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?  রিকশায় উঠো।


প্রাপ্তি চুপচাপ রিকশায় উঠে বসলো।দুজনে রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলো। আয়ান অনেক গুলা খাবার অর্ডার করলো। প্রাপ্তি শুধু দেখেই যাচ্ছে।


আয়ান প্রাপ্তির তাকানো দেখে, চিন্তা হচ্ছে?

চিন্তা করোনা!  দেখবে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।ওয়েট!  আসিফ ভাইয়াকে  একটা ফোন দিয়ে এইখানে আসতে বলি।

ফোনটা পকেট থেকে বের করে আসিফকে ফোন দিয়ে বললো রেস্টুরেন্টে আসার জন্য।

আসিফ আর কোনো প্রশ্ন করলো না আয়ান কে।

আয়ান আসিফের সাথে কথা শেষ করে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও।সকাল থেকেতো কিছুই খাওনি।

এখন খেয়ে নাও।ভাইয়া আসলে তুমি ভাইয়ার সাথে চলে যাবে।এইদিকে আমি বাসা ঠিক করে একটা চাকরি  পেয়ে গেলেই তোমাকে নিয়ে আসবো।


প্রাপ্তির হাজার টা প্রশ্ন নিয়ে আয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।আমাকে ওই বাড়িতে দিয়ে ওনি কোথায় থাকবে? চাকরি বা পাবে কোথায় এখন?এই কয়েকটা দিন ওনাকে দেখেই কেমন জানি মায়া কাজ করে।


আয়ান প্রাপ্তির চোখের দিকে তাকিয়ে মুছকি হেঁসে,শুধু তাকিয়েই থাকতে পারো মুখে তো আর কিছু বলতে পারো না।মনে যে প্রশ্ন গুলো দানা বেধেছে সেই প্রশ্ন গুলো আনসার পরে দিবো। আগে খেয়ে নাও।


অনেকক্ষণ পরে আসিফ চলে আসলো।আসিফকে দেখে আয়ান উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে ভাইয়া বসুন।


আসিফ -হুম তুমিও বসো।


আসিফ বসতে বসতে তোমরা কোথাও যাচ্ছো নাকি?


প্রাপ্তি -তুই কি করে বুজলি আমরা কোথাও যচ্ছি?

আসিফ -ব্যাগ দেখে।তো হঠাৎ আমাকে ডাকা?

আয়ান -আসলে ভাইয়া,,, আমরা বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। আমার আব্বু হঠাৎ করে আজ সকালেই দেশে চলে আসে তারপর কি আর বলবো আপনাকে!  


আসিফ -আর কিছু বলতে হবেনা আমি বুজেছি।এখন কি! আমার বোন কে আমি নিয়ে যাবো তাই তো? আয়ান আমি তোমাকে বিয়ের দিনে বলেছিলাম এই বিয়েটা করোনা। (প্রাপ্তি আসিফকে আকটাতে চেষ্টা করছে,সেই দিকে আসিফের কোনো খেয়ালি নেই,)কিন্তু তুমি আমার কথা শুনো নাই।আমার বোন আমাদের কাছে এতোটা ফেলনা নয় যে তাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিবো।


আয়ান -ভাইয়া আপনি আমার কথা টা একবার শুনুন?


আসিফ -কি শুনবো তুমি আমার কাছে এখন ক্ষমা চাইবে তাই তো? কোনো প্রয়োজন নেই, আমি আমার বোন কে নিয়ে যাচ্ছি।কথাটা বলেই প্রাপ্তির হাত ধরে টেনে উঠাতে যাবে তখনি প্রাপ্তি আসিফের হাত ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তুই একটু চুপ করবি? অনেকক্ষণ  থেকে একটা মানুষের নামে যা নয় তাই বলে যাচ্ছিস।


আসিফ -কি শুনাবি? দেখি শুনা। আবার বসে পড়ে)


প্রাপ্তি -(কমল স্বরে)ওনিও সব কিছু ছেড়ে আমার সাথে চলে এসেছে।প্রাপ্তি সব কিছুই আসিফকে বললো।আসিফ সব শুনে লজ্জা পেয়ে আয়ানের হাত দুটো ছেপে ধরে সরি আয়ান!  আসলে আমি বুজতে পারিনি।


আয়ান -কোনো সমস্যা না।আপনাকে শুধু এই জন্যই ডেকেছি প্রাপ্তিকে কয়েক দিনের জন্য আপনাদের বাড়িতে নিয়ে যান আমি কিছু একটা ব্যবস্থা করেই নিয়ে আসবো।


আসিফ প্রাপ্তিকে নিয়ে আসার দুইদিন পরেই আয়ান অভ্রকে নিয়ে প্রাপ্তিদের বাড়ি আসে প্রাপ্তিকে নিতে। এই দুই দিন প্রাপ্তির কিভাবে যে কেটেছিলো প্রাপ্তি কাউকে বুজাতে পারবেনা।রুমে বসে আয়ানের কথার শব্দ শুনে যেনো সুস্থির নিশ্বাস ফিরে এলো প্রাপ্তির।


আসিফ আর আজাদ সাহেব এসে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে,,

আজাদ সাহেব -কেমন আছো বাবা?


আয়ান -জ্বী বাবা ভালো।অভ্রর দিকে তাকিয়ে ওহ্ বাবা আপনাদের তো পরিচয় করানো হলোনা।ও হচ্ছে অভ্র আমি যে অফিসে এমডি হিসেবে জয়েন করেছি। ও সেই অফিসে চাকরি করে।


আসিফ -হাই অভ্র কেমন আছো?


অভ্র -জ্বী ভালো।


আয়ান -ভাইয়া অভ্র আমাকে আর ও একটা হেল্প করেছে।নতুন যে বাসাটা নিয়েছি সেটা অভ্রর জন্যই।


নিলিমা বেগম নাস্তা নিয়ে আসতে আসতে আয়ান তুমি দেখছি একদম সব ঠিক করেই আসছো?


আয়ান -আসসালামু আলাইকুম  মা! আপনি কেমন আছেন?


নিলিমা বেগম -আমি একদম ঠিক আছি।

এতো তাড়াতাড়ি সব কিছু ঠিক করে ফেললে? 


আয়ান -মা! আমার পক্ষে একা সম্ভব ছিলোনা।পাশে অভ্র ছিলো বলেই এতো তাড়াতাড়ি সব সম্ভব হয়েছে।আচ্ছা মা! প্রাপ্তি কোথায় ওকে দেখছিনা তো।


আজাদ সাহেব -আয়ান! ও এই বাড়িতে আসার পর থেকেই তো কারো সাথে কথা বলে না।সবসময় কেমন যেনো চিন্তার ভাব নিয়ে থাকে।ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া ও করেনা।


আসিফ -তুমি বসো আমি ডেকে নিয়ে আসছি।


আয়ান -ভাইয়া!  আমিই যাচ্ছি আপনি বসেন।

আয়ান প্রাপ্তির রুমে গিয়ে দেখে,প্রাপ্তি মুখে হাঁসির ঝলক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


আয়ান গিয়ে খাটের উপর বসে পায়ের উপর পা দিয়ে নাড়াতে নাড়াতে বললো মহারাণী!  নতুন বাসা ঠিক করে আসলাম।বলেছিলাম না বেশি সময় লাগবেনা।

সব কিছু গুছিয়ে নাও নতুন বাসায় নতুন করে প্রাপ্তিকে পেতে চাই। (কথাটা শুনে প্রাপ্তি হাঁসি মুখটা মলিন হয়ে গেলো) কি! ভয়ে পেয়ে গেলে?আমি সেই পাবার কথা বলিনি।ওই বাসাতে তো সব কিছু তোমার ছোঁয়াই থাকবে।তোমার হাতের রান্না খাবো।কি! খাওয়াবে তো।আমিও কিন্তু মোটামোটি রান্না পারি তুমি না পারলেও আমি যা পারি ওতেই চলে যাবে আমাদের, কি বলো?ও তুমি তো আবার কথা বলনা আমার সাথে কাকে যে কি বলি।

বিকাল বেলা সব কিছু গুছিয়ে প্রাপ্তি আর আয়ান নতুন এক সংসারে পা বাড়ালো।সেই সংসারে কয়েক দিন পর এলো রেশী। তিন জন মিলেই চলতে থাকলো তাদের নতুন জীবন।


___আপু!  আপু! কই তোরা? অরণী  বারান্দার দরজায় দাঁড়িয়ে বাহ্ দুজনে এইখানে প্রেম করা হচ্ছে?অরণীর ডাক শুনে আয়ান আর প্রাপ্তি ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলো।

(পাঠক আপনারাও ফিরে আসুন ভাবনার জগত থেকে।)


প্রাপ্তি -হুম কিরে,,, কিছু বলবি?

অরণীকে দেখে আয়ান আবার অন্য দিকে ফিরে আছে।


অরণী আয়ানের মুখ ফিরেতে দেখে ভাইয়া আপনি কেনো যে আমার সাথে এই রকম করেন আমি জানি না।যদিও আমার কোনো অন্যায় থাকে তাহলে কি ক্ষমা করা যায়না?


প্রাপ্তি আয়ান কিছু বলার আশায় তাকিয়ে দুজনকেই দেখছে।আয়ান কিছু বলছেনা দেখে প্রাপ্তি বললো,আপনি কিন্তু অরণীকে আজ ক্ষমা করা উচিত। আপনি তো ভাবতেন সেইদিনের ঘটনার জন্যই আমি আপনার সাথে কথা বলিনা।আজ তো আমি আপনার সাথে কথা বলছি তাহলে আপনার ও উচিত ওর সাথে কথা বলার।

প্রাপ্তির কথা শুনে আয়ান অরণীর দিকে ফিরে তাকিয়ে, বলতে পারি যদি তুমি কাল প্রাপ্তির সাথে শপিং এ যাও।


অরণী অট্ট হাঁসি দিয়ে আমার জন্য কোনো মানা নাই ভাইয়া।যেতেই পারি।



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url