ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৩

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৩

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ১৩


অরণী অট্ট হাঁসি দিয়ে আমার জন্য কোনো মানা নাই ভাইয়া।যেতেই পারি।


অরণীর কথা শুনে আয়ান নিজেও হাঁসতে শুরু করলো।

অরণী- আচ্ছা তাহলে তোমরা কথা বলো আমি আসছি।সিয়াম আবার একা রুমে বসে আছে।কাল কিন্তু আমরা বিকেলবেলা মেয়ে দেখতে যাচ্ছি এটাই ফাইনাল। 

কথাটা বলেই অরণী চলে গেলো।


আয়ান -প্রাপ্তি!  তুমি গিয়ে শুয়ে পড়ো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

প্রাপ্তি মাথা  নাড়িয়ে গিয়ে শুয়ে পড়লো।আয়ান মনে মনে ভাবছে সবেমাত্র কথা বলা শুরু করেছে কোনো কিছু নিয়ে বেশি চাপাচাপি করা যাবেনা।না হলে আবার আগের মতোই হয়ে যাবে।

সকাল বেলা অরণীর ডাকে  ঘুম ভাঙলো প্রাপ্তি আর আয়ানের। আয়ান ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে অরণীকে দেখে কি ব্যাপার অরণী কিছু বলবে?অরণী রুমে ঢুকে কয়টা বাজে দেখেছো? (প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে)বাহ্ মহারাণী ও তো দেখছি এখনি আড়মোড়া ভাঙতেছে।

আয়ান হাতের ঘড়ি টার দিকে তাকিয়ে দেখে ৯.২০ বেজে গেছে।ও মাই গড!  তুমি এতোক্ষণ ডাকনি কেনো?


অরণী -আচ্ছা সারারাত কি দুজন ঘুমাওনি?

অবশ্য জেগে থেকেই বা কি করবে ঘুমানো ছাড়া।


প্রাপ্তি -তুই একটু চুপ করবি?কখন থেকেই বকবক করে যাচ্ছিস।

(আয়ান তয়ালেটা হাতে নিয়ে হাঁসতে হাঁসতে ওয়াশ রুমের দিকে যাচ্ছে)


অরণী -চুপ থাকতে বলছিস কেন? আপু আমি কিন্তু ছোটো নয় সবকিছুই বুজার বয়স আমার হয়েছে।


প্রাপ্তি -কি বলতে চাইছিস তুই?


অরণী -কথা টা শুনে তুই রাগ করিস না। তবে আমার যা মনে হচ্ছে তাই বলছি।

আমার মনে হয় তোদের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যে সম্পর্ক থাকে সেটাই তোদের মাঝে নাই।

অরণীর কথা শুনেই আয়ান ওয়াশ রুমের দরজাই দাঁড়িয়ে পড়লো।

আর প্রাপ্তি অবাক হয়ে অরণীর দিকে তাকিয়ে কি বলছিস তুই এই সব? 

আয়ান আবার অরণীর আর প্রাপ্তির কাছে এগিয়ে এসে অরণী তোমার এমন কেনো মনে হলো?


অরণী -আগে মনে হয়নি, কাল তোমার কথা শুনেই মনে হলো,আচ্ছা তুমিই বলো কেউ কারো বউয়ের জামা কাপড় চেঞ্জ করতে লজ্জা পায়?

(অরণীর কথা শুনেই প্রাপ্তি আর আয়ান দুইজন দুজনার দিকে তাকিয়ে আছে।)


কথাটা মনে হয় ঠিকি বলছি না হলে দুজন এইভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?


আয়ান অরণীকে আর কিছু না বলেই ওয়াশ রুমে ঢুকে গেলো।


প্রাপ্তি -তুই আসলে কি বলতো কথা টা আমাকে আলাদা ভাবেও তো বলতে পারতি।এইভাবে ওনার সামনে না বললেও পারতি।


অরণী -তুই চুপ করতো।দোষ তো তোরই তুই ভাইয়াকে কষ্ট দিচ্ছিস কেনো?একটা মানুষের সাথে দুইটা বছরের বেশি সংসার করছিস এখনো তুমি কথাটা বলতে শিখিসনি।তোর এইসব পাগলামো কিভাবে যে ভাইয়া সহ্য করে আল্লাহ ভালো জানে।সিয়ামের সাথে তোর বিয়েটা হয়নি ভালোই হয়েছে।না হলে আরো আগে তোকে এই বাড়িতে আসা লাগতো।আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে।আমি যেনো তোকে আর না দেখি ভাইয়াকে আপনি করে ডাকছিস।তুমি করে বলবি।এখন ফ্রেশ হয়ে দুইজনে নাস্তা করতে আয়।


প্রাপ্তি বোকার মতো দাঁড়িয়ে কথা গুলো শুনেই যাচ্ছিলো।অরণী চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবছে অরণী সত্যিই বলছে অন্য কোনো ছেলে হলে আমাকে আরো আগেই ডিভোর্স দিয়ে চলে যেতো।কিন্তু আয়ান আমার জন্য নিজের সব কিছু ছেড়ে আমার কাছে পড়ে আছে। শুধু আমাকে ভালোবাসে।এখনকার ছেলেরা শুধু মেয়েদের দেহ টাই বুজে কিন্তু আয়ান কখনো আমাকে কোনো কিছু নিয়ে জোর করেনি।আয়ানের মতো যদি ছেলেরা হতো তাহলে কখনো মেয়েদের এতো অপমান,অপদস্থ, লাঞ্ছিত হতে হতো না।মেয়েরা নিজেদের সম্মান নিয়েই বেঁচে থাকতে পারতো।আয়ান এসে প্রাপ্তির কাঁধে হাত দিতেই প্রাপ্তি চমকে গিয়ে আয়ানের দিকে তাকালো,


আয়ান -কি হলো এইভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।


প্রাপ্তি হুম বলেই ফ্রেশ হতে চলে গেলো।


নিলিমা বেগম টেবিলে নাস্তা দিয়েছে, আয়ান, প্রাপ্তি, অরণী  আর আজাদ সাহেব বসেছে নাস্তা করার জন্য।


আয়ান -মা রেশী কোথায়?ভাইয়া আর সিয়াম কেও তো দেখছি না।ওরা নাস্তা করবেনা?

নিলিমা বেগম -আসিফ নাস্তা করেই রেশীকে নিয়ে ওর কলেজে গেছে,বলেছে রেশীকে নামিয়ে দিয়ে অফিসে যাবে।


অরণী -সিয়াম ও খেয়ে অফিসে চলে গেলো।আব্বু তোমার সাথে নাস্তা করবে বলেই সকাল থেকে নাস্তা করেনি।

কথা শুনেই আয়ান লজ্জা পেয়ে গেলো।তার কখনোই ঘুম থেকে উঠতে এতো দেরী হয়না।আজ যে কি হলো বুজলাম না।


আয়ান-সরি আসলে আমি আজ বলতেই পারবো না।


আজাদ সাহেব -আরে কোনো প্রবলেম নাই।আমি এমনিতেই নাস্তা একটু দেরিতেই করি।


কথাটা শুনে আয়ান প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে, প্রাপ্তি তুমি না আজ শপিং করতে যাও? নাস্তা করে রেডি হয়ে নাও।অরণী তাহলে তুমিও রেডি হয়ে নাও।


প্রাপ্তি -আজকেই যেতে হবে? 


আয়ান -হুম আজকেই।(মনে মনে)আজ যখন তোমাকে নিয়ে ঘুরার সুযোগ পেয়েছি এইটা হাত ছাড়া করি কিভাবে?


অরণী -আপু তুই না করিস না।চলনা একসাথে ঘুরে আসি।


প্রাপ্তি -আচ্ছা ঠিক আছে।


সবাই নাস্তা শেষ করে তিন জনই শপিং করার উদ্দেশ্য বের হলো।

প্রাপ্তি এই প্রথম আয়ানের সাথে শপিং করতে আসলো। এতো দিন প্রাপ্তির যা কিছু লেগেছে আয়ানই সব কিছু প্রাপ্তি না চাইতেই এনে দিতো।আয়ান কেমন করে সব বুজে যায়। প্রাপ্তির মনে কখন কি চায়।সবকিছু বুজার চেষ্টা করে।হয়তো প্রাপ্তির চোখে চোখ রেখে প্রাপ্তির মনকে পড়তে আপ্রাণ চেষ্টা করে।

আজ অনেক শপিং করলো প্রাপ্তি কিন্তু নিজের জন্য কিছুই নিলো না সব কিছু আয়ান আর নিজের পরিবারের জন্য।রুমকির জন্য তো ড্রেস খেলনা সব কিছুই নিয়েছে।


আয়ান প্রাপ্তির কান্ড গুলো দেখেই যাচ্ছে কিছু বলছেনা প্রাপ্তির মনে কষ্ট পাবে তাই।কিন্তু একটা কথা না বলে পারছেনা। তাই প্রাপ্তির কানের কাছে গিয়ে, আচ্ছা প্রাপ্তি সবার জন্য এতো কিছু নিলে নিজের জন্য কিছু নিচ্ছো না যে।


প্রাপ্তি মুছকি হেঁসে আমার নিজের জন্য নিজে কিনার প্রয়োজন নেই।তুমিই আমার জন্য যে শপিং করো সেই গুলোই শেষ করতে পারিনা।এখন যদি আমিও আমার জন্য নিতে থাকি তাহলে মানুষে কি নিবে। 

কথাটা শুনে আয়ানের খুব ভালো লেগেছে,কিন্তু না হেঁসে পারলোনা।


আয়ান -আচ্ছা তাই নাকি?কিন্তু প্রাপ্তি আমাদের বাড়ির সবার জন্য যে নিলে এইগুলো দিবে কি করে?


প্রাপ্তি -ওইটা নিয়ে তোমায় এখন ভাবতে হবে না। বাসায় গিয়ে দেখা যাবে কি করা যায়।

এইদিকে আয়ানও প্রাপ্তিকে না জানিয়ে নিজের পছন্দের দুইটা শাড়ি নিয়ে নিলো।

শপিং শেষ করে তিন জনে একটা রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্য রওনা হলো।আয়ান প্রাপ্তি আর অরণীকে রেস্টুরেন্টের সামনে নামিয়ে দিয়ে,তোমরা গিয়ে বসো আমি গাড়িটা রেখে আসছি।প্রাপ্তি আর অরণী কথা বলতে বলতে দুইজনে গিয়ে বসলো।অরণী বসতেই ফোনটা বেজে উঠলো।


অরণী ফোনটা পার্স থেকে বের করতে করতে সিয়াম মনে হয় ফোন করেছে, তুই এইখানে বস আমি কথা বলেই আসছি।


পাশের টেবিলের একটা লোক বার বার প্রাপ্তিকে দেখছে।প্রাপ্তির নজর পড়তেই অস অসস্থি বোধ হচ্ছে।কিন্তু লোকটাকে কোথায় যেনো দেখেছি।মনে হচ্ছে ওনার সাথে আমার আগেও দেখা হয়েছে।ওনাকে দেখে বাজে লোক মনে হচ্ছে না।মনে হচ্ছে ওনিও আমাকে চিনার চেষ্টা করছে।এমন সময় আয়ান এসে প্রাপ্তির পাশে বসতে বসতে কি ব্যাপার অরণী কই? এখনো খাবার অর্ডার করোনি?

কথা গুলো বলতে বলতে আয়ান খাবারে মেনু গুলো দেখছে।কি হলো কিছু বলছনাযে,প্রাপ্তি চুপ হয়ে থাকতে দেখে দুই হাত দিয়ে মুখটা মুছতে মুছতে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখে সে পাশের টেবিলের দিকে তাকিয়ে আছে।নিজের হাত দিয়ে প্রাপ্তির মাথাটা ঘুরিয়ে, আমার দিকে তাকাও এতোক্ষণ কি জিজ্ঞেস করছি তোমায়?

আর এইভাবে ঘামাচ্ছো কেনো কি হয়েছে তোমার?


প্রাপ্তি নিজের ঘাম গুলো মুছতে যাবে তখনি আয়ান হাতটা ধরে ফেললো।আয়ানের হাত ধরতে দেখে প্রাপ্তি আস্তে করে বললো কিছু হয়নি।এমনি হয়তো ঘামাচ্ছি। 


আয়ান অনেকক্ষণ প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে থেকে তোমাকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।ঘামালেও মানুষকে সুন্দর দেখায় এইটা তোমাকে দেখে বুজলাম।এখন আমি তোমার ঘাম খাবো।


প্রাপ্তি -(চোখ মুখ কুঁচকে) কিহ্। আপনার মাথা খারাপ হলো নাকি? কি উল্টা পাল্টা বকছেন? (প্রাপ্তি ভেবেছে আয়ান হয়তো তাকে কিস করা কথা বলছে। এইখানে পাবলিক প্লেসে যে ওনার মাথায় কি ভূত চাপছে বুজতেই তো পারছিনা।)আমি বুজেছি কি বলতে চাচ্ছেন আমরা বাসায় যাই তারপর না হয়,,,,,,


আয়ান -না এইখানেই,,,কথাটা বলেই প্রাপ্তির হাত ছেড়ে দিয়ে প্রাপ্তির কপাল থেকে একটু খানি ঘাম আয়ান মুখে দিয়ে হুম্মম্মম্মম অনেক টেস্ট।

প্রাপ্তি আয়ানের দিকে অবাক চোখে নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।,,,,,,



প্রাপ্তি আয়ানের দিকে অবাক চোখে নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।,,,,,,

মনে মনে ভাবছে আচ্ছা এইটা কি পাগল নাকি অন্য কিছু।কেউ এইভাবে কারো,,  ওয়াক থুঃ,,


আয়ান -এইভাবে তাকিয়ে কি দেখছো? আর অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই।ভালোবাসার মানুষের সবকিছু ভালো লাগা উচিত হকনা ঘাম তাতে কি?( কথার ফাঁকে আয়ান খাবার অর্ডার দিয়ে দিলো) 


অরণী কথা শেষ করে এসে বসতে বসতে কি ব্যাপার দুজনে কথা শেষ হয়েছে? হলে খাবার তাড়াতাড়ি দিতে বলো।


প্রাপ্তি আবারো আড় চোখে পাশের টেবিলের দিকে তাকাচ্ছে।কেনো আমার এই ভদ্র লোককে এতো চেনা মনে হচ্ছে।ওনাকে দেখে মনে হচ্ছে ওনি আমাদের দিকে রাগীভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে।কিন্তু কেন?


ওয়েটার এসে অনেক রকমের খাবার এনে দিয়ে গেলো।

আয়ান -প্রাপ্তি এইরকম ভাবে না থেকে খাওয়া শুরু করো।

প্রাপ্তির সেইদিকে কোনো মন নেই।আয়ান প্রাপ্তির অন্যমনস্ক দেখে, এই তুমি আমার দিকে তাকাওতো আমি তোমায় খাইয়ে দিচ্ছি।

কথাটা শুনে প্রাপ্তি বললো আচ্ছা ঠিক আছে আমি খেয়ে নিচ্ছি। 

আয়ান -একদম চুপ! হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি।কথাটা বলেই প্রাপ্তিকে জোর করে খাইয়ে দিলো। 


প্রাপ্তি -এইবার আপনি খান।


আয়ান -অরণী!  প্রাপ্তি আজ আমাকে একবার তুমি বলে ডেকেছে।এখন আবার আপনিতে চলে গেলো।


অরণী - কিরে? সকালে তোকে বলছিনা ভাইয়াকে তুমি বলে ডাকতে?


প্রাপ্তি -অভ্যাস হয়ে গেছে পাল্টাতে তো সময় লাগবে তাই না?


আয়ান - নো প্রবলেম।তোমার যেমনটা ভালো লাগে।

প্রাপ্তিকে পাশের টেবিলে আবার তাকাতে দেখে, কখন থেকে ওই দিকে তাকিয়ে কি দেখছো?দেখিতো!  কথাটা বলেই আয়ান ফিরে তাকাতেই চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।আয়ানের হাঁসি মুখটা নিমিষেই মলিন হয়ে গেলো।প্রাপ্তি আর অরণী  আয়ানের অবস্থা দেখে,

অরণী _ভাইয়া কি হয়েছে? তুমি মুহূর্তের মধ্যেই চেঞ্জ হয়ে গেলা?


প্রাপ্তি -আমার থেকে লোকটাকে কেমন চেনা চেনা লাগছে কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছিনা কোথায় দেখেছি ওনাকে।।


আয়ান গম্ভীর গলায় নিচের দিকে তাকিয়ে বললো, ওনি আমার আব্বু!

প্রাপ্তি -(বিস্মিত হয়ে) কিহ্।


আয়ান -হুম প্রাপ্তি!


প্রাপ্তি -এই জন্যইতো অনেকক্ষণ থেকে আমার চেনা চেনা লাগছে।কিন্তু ওনি এইখানে কি করছেন?


আয়ান -হয়তো বিজনেসের কোনো কাজে আসছে।


প্রাপ্তি -ওনার সাথে গিয়ে কথা বলবানা?

তুমি এখনো বসে আছো।যাও ওনার সাথে গিয়ে কথা বলো।


আয়ান উঠে দাঁড়াতেই আবিদ চৌধুরী উঠে চলে গেলো। আয়ান তাচ্ছিল্য একটা হাঁসি দিয়ে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে, প্রাপ্তি! ওনি হচ্ছেন বিখ্যাত বিজনেস ম্যান আবিদ চৌধুরী। ওনার সাথে আমাদের যায়না।


প্রাপ্তি -আমার হ্যাজবেন্ডও কোনো অংশে কম নয়। সেটা ওনাকে বুজতে হবে।আর সেটা আমি ওনাকে বুজাবো।শুধু ভাইয়ার বিয়েটা মিটে যেতে দাও।


অরণী আচ্ছা এখন খাওয়া শেষ করো বাসায় যেতে হবে।বিকালে আবার নাকি মেয়েও দেখতে যাবা।ভাইয়া তোমার বন্ধুকে ফোন করেছো ওদের বাসায় যে যাবা।


আয়ান বসতে বসতে, ওইটা নিয়ে তোমাদের চিন্তা করতে হবেনা।


প্রাপ্তি -এককাজ করো ভাইয়াকে একটা ফোন দিয়ে দেখো রেশী কে নিয়ে কলেজ থেকে আসছে কিনা।


আয়ান -ভাইয়া আমাকে এসএমএস অনেক আগেই দিয়েছে ওরা বাসায়।


অরণী খাওয়া শেষ করে পানি ঢালতে ঢালতে, তবে যাই বলিস রেশীকে আমার খুব ভালো লাগে।অনেক সহজ সরল একটা মেয়ে।বুজা যাচ্ছে মেয়েটা তোদের অনেক ভালোবেসে ফেলেছে।আর ভালোবাসবে না কেনো বল তোরা তো ওকে কাজের মেয়ের মতো করে রাখিসনা।


প্রাপ্তি -অরণী! ও অনেক বড় ঘরের মেয়ে হয়তো ভাগ্যে তাকে আমাদের কাছে টেনে এনেছে।শুনেছি ওর বাবা নাকি মেয়েকে অনেক খুঁজেছে।কিন্তু পায়নি।পাবেই বা কি করে ও তো আমাদের কাছেই।জানিস ও বিয়ে থেকে পালিয়ে আসছিলো। ওর সৎ মা নাকি কোনো এক বাজে ছেলের সাথে ওকে বিয়ে দিতে ছেয়েছিলো।কোনোরকম ভাবে সেইখান থেকে পালিয়ে এসে রাস্তার পাশেই বসে ছিলো।তোর ভাইয়া সেই দিন রাতে কোনো একটা কাজে বাহিরে গিয়েছিলো। একা একটা মেয়ে আশেপাশে ছেলেরাও অন্য রকম ভাবে দেখছে। তোর ভাইয়া তো ওকে দেখেই বুজে ফেলেছিলো ও হয়তো পালিয়ে টালিয়ে আসছে।আর ওকে যখন তোর ভাইয়া একবার জিজ্ঞাস করলো  যে ও একা কেনো বসে আছে ও সবকিছু গড়গড় করে বলে দিলো।তখন তো তোর ভাইয়া ওকে একা রেখে আসতে পারেনি। তাই সাথে করে নিয়ে এসেছে।আয়ান প্রাপ্তির কথা গুলো শুনছে আর মুখে হাত দিয়ে মিটমিট করে হাঁসছে।অরণী প্রাপ্তি কথা গুলো শুনছে আর বারবার আয়ানের দিকে তাকাচ্ছে।

অরণী -ভাইয়া কথা জিজ্ঞাস করি?


আয়ান -হুম করো না! 


অরণী -আপনি হাঁসছেন কেনো?

অরণীর কথা শুনে প্রাপ্তি রাগি ভাব নিয়ে আয়ানের দিকে তাকালো।


আয়ান -(প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে)সত্যি বলছি আমি অন্য কিছু ভেবে হাঁসিনি। একটা কথা ভেবেই আমি হাঁসছি, আর সেটা হলো। তুমি যখন আমার সাথে কথা বলতেনা তখন তো আমি নিজেই বকবক করতাম।আর আমি তখন ভাবতাম আচ্ছা আমি যে এতো বকবক করছি ও কি আমার কথা গুলো শুনে নাকি শুনে না, সেটাও তো বুজতে পারিনা।তবে আজ বুজলাম তুমি আমার সব কথায় শুনতে।


প্রাপ্তি- (একটু ভেংচিয়ে) শু,,,,,,ধু শুনতাম না! ম,,,,,,ন দিয়ে শুনতাম।


আয়ান -জানো অরণী!  তবে আমার একটা জিনিস খুব ভালো লেগেছে তোমার আপুর,সেটা হলো ও আমাকে কখনো সন্দেহ করেনি।কারন যেদিন রাতে আমি রেশীকে নিয়ে এসেছিলাম  কিছু না বলে, সেইদিন রেশীকে নিয়ে আমি খুব ভয়ে ভয়ে কলিংবেল চাপলাম। যদি তোমার আপু আমাকে ভুল বুজে কিছু করে বসে।কিন্তু তোমার আপু দরজা খুলে আমাকেই অবাক করে দিয়েছে।কারণ রেশীকে দেখে তার চোখেমুখে বিষণ্ণতার কোনো চাপ নেই।উল্টো মুছকি একটা হাঁসি দিয়ে রেশীকে বাসায় নিয়ে বসালো।আর রেশীর কি যে যত্ন করেছে তোমাকে বলে শেষ করা যাবেনা।আমি সেইদিন বুজলাম তোমার আপু আমাকে অনেক বিশ্বাস করে।আর আমার প্রতি ওর বিশ্বাস  দেখে আমি নতুন ভাবে আবার ওর প্রেমে পড়লাম।


অরণী -আপু দেখেছিস ভাইয়া তোকে কতো ভালোবাসে।আর তুই ভাইয়াকে অনেক কষ্ট দিস।


প্রাপ্তি -অনেক কথা বলা হয়েছে এইবার বাসায় চলো।


আবিদ চৌধুরী বাসায় এসেই চিৎকার দিয়ে, আয়েশা! আয়েশা! কোথায় তুমি?


আয়েশা বেগম নিজের রুম থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে এসে, এইরকম বাহিরে থেকে এসে চেঁচাচ্ছ কেনো? 

সুমিও উপরের থেকে দৌড়ে নিচে নেমে এলো।


আবিদ চৌধুরী -তোমাদের কি মনে হয় আমি এতোই পাষাণ?  আমার মনে কোনো দয়ামায়া নেই।আমি দয়ামায়াহীন?


আয়েশা বেগম -তোমার মনে অনেক দয়ামায়া তাই আমার কলিজা টুকরো টা বউ নিয়ে বাহিরে থাকতে হয়।অবশ্য ভালোই হয়েছে ছেলেটা নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে।এইবার কি হয়েছে সেটা বলো।


আবিদ চৌধুরী আয়েশা বেগমের কথা শুনে নিমিষেই যেনো রাগ টা কমে গেলো।চুপচাপ সোফায় বসে পড়লো।


সুমি -বাবা কি হয়েছে আপনার? আপনি যে কাজে গেছেন সেটা হয়নি?


সোফায় মাথাটা হেলান দিয়ে কান্না জড়িতো কন্ঠে, আবিদ চৌধুরী  কোনো কাজে হারতে শিখেনি। কিন্তু তার ছেলের কাছেই হেরে বসে আছে।(ঠাট্টা করে)জানো আয়েশা আমার ছেলে বউয়ের প্রতি কি অবিরাম ভালোবাসা দেখে আমি নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেছি।বউয়ের ঘাম খাওয়া হচ্ছে।পাবলিক প্লেসে বউকে খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কথা গুলো শুনে আয়েশা বেগম আর সুমি দুজন দুজানার দিকে তাকিয়ে আছে।


আয়েশা বেগম -কার কথা বলছো তুমি?


আবিদ চৌধুরী -কেনো বুজতে পারোনি?  তোমার গুণোধর ছোটো ছেলের কথা বলছি।কথাটা বলেই আবিদ চৌধুরী উঠে নিজের রুমে চলে গেলেন।

সুমি আর আয়েশা বেগম দুজনে কাছাকাছি এগিয়ে এসে হাঁসতে শুরু করলো।




চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url