ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৫

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৫

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ১৫


আয়ান দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই সবাই দাঁড়িয়ে পড়লো।আবিদ চৌধুরী আয়ান কে দেখেই চোখ বড় বড় করে আয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে ও এই খানে কি করছে ওকে দেখে সবাই এই ভাবে দাঁড়িয়ে গেলো কেনো?


আয়ান সবাইকে বসতে বলে নিজের চেয়ারের পাশে দাঁড়ালো।কিভাবে বসবে সে এই চেয়ারে?  যেইখানে পাশের চেয়ারটায় তার বাবা বসে আছে।


আয়ান -আপনারা সবাই কেমন আছেন?


পাশের একজন বললো, স্যার আমরা তো ভালোই আছি।কিন্তু আপনাকে দেখে অবাক হয়েছি।


অভ্র এসে, স্যার আসবো?

আয়ান -ইয়েস! অভ্রর কাছ থেকে ফাইল নিয়ে বললো, আপনি কেনো অবাক হলেন বললেন না তো?


লোকটা -আপনাকে দেখেই!এতো অল্প বয়সে এতো দূর এইটা কি ভাবা যায়?


আয়ান -(মুচকি হেঁসে) আসলে আমার আব্বু বিখ্যাত বিজনেসম্যান!  আমি যদি ওনার ছেলে হয়ে পিছিয়ে থাকি তাহলে তো আমার আব্বু কে অসম্মান করা হলো।এইবার আমরা কাজের কথায় আসি?


কথাটা শুনে অভ্র অবাক হয়ে আয়ানকে দেখছে, সে এতো দিন যা অনুমান করেছে তা দেখছি সত্যিই হলো।


আবিদ চৌধুরীর রাগে চোখ গুলো লাল হয়ে আছে।গম্ভীর হয়ে টেবিলের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। আজ নিজের ছেলের জ্ঞান মুলুক  কথা শুনতে হচ্ছে।কেনো জানি খারাপও লাগছে না। আমার ছেলেটা হয়তো আমাকে দেখানোর জন্যই এতো দূর পাড়ি দিয়েছে।


আয়ানকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে,

অভ্র-স্যার আপনি বসছেন না কেনো? বসে কথা বলুন।


আয়ান -অভ্র তুমি ভালো করেই জানো আমি সব জায়গায় বসিনা।এইখানে সবাই আমার মুরুব্বী আমি ওনাদের ছেলের মতো আমি এইখানে বসলে ওনাদের অসম্মান করা হবে।


আবিদ চৌধুরী বুজে গেছে আয়ান যে তাকেই শুনানোর জন্য কথা গুলো বলেছে।

আয়ান  প্রেজেন্টেশন দেখে আবিদ চৌধুরী মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে ছেলের দিকে।

এমন সময় আয়ানের ফোন বাজতেই আয়ান বিব্রতবোধ নিয়ে সরি বলে ফোনটা পকেট থেকে বের করে দেখে প্রাপ্তির নাম্বার।প্রাপ্তি আমাকে কখনোই আর ফোন দেয়নি আজ এমন সময় দিলো কল টা রিসিভ না করলে হয়তো ওর মন খারাপ হয়ে যাবে, তাই একটু সরে গিয়ে কলটা রিসিভ করে, বাবু আমি মিটিং এ আছি,আর মিটিং শেষ করেই তোমাকে ফোন দিচ্ছি,প্লিজ রাগ করোনা।


প্রাপ্তি -ওকে!

কথা শেষ করে আয়ান তার কাজে মন দিলো,নাহ্ আব্বুকে দেখে এইভাবে দুর্বল  হলে আমায় চলবেনা।আমাকে শক্ত হতে হবে।সবকিছু শেষ করে আয়ান আবিদ চৌধুরীর সাথে ডিল টা ফাইনাল করে নিলো।এমন ভাবে তাদের মধ্যে কথা চলতে থাকে মনে হচ্ছে আজই তাদের বিজনেসের কাজে প্রথম দেখা। আয়ান কাজ শেষ করে রুম থেকে বেরিয়ে নিজের রুমে এলো।


অভ্র এসে আমি বললাম না তুই ছাড়া এইরকম প্রেজেন্টেশন কেউ দিতে পারেনা।আবিদ চৌধুরী খুশি হয়েই ডিলটা করে নিলো।

আয়ান চুপচাপ বসেই আছে মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। মাথায় একটা কথায় ঘুরপাক খাচ্ছে আজ আমার নিজের বাবার সাথেই বিজনেসের সম্পর্ক।


অভ্র আয়ানকে চুপ থাকতে দেখে কিরে আমি একাই বকবক করে যাচ্ছি আর তুই চুপ করে এতো কিভাবছিস? তুই তখন মিটিং এ একটা কথা বললি,তোর বাবা নাকি বিজনেসম্যান। অবশ্য আমি আগেই বুজেছিলাম তুই আমার কাছে অনেক কিছু লুকাচ্ছিস।


আয়ান -অভ্র তুই ঠিকি বলেছিস! সত্যি কখনো লুকানো যায়না,সেটা যে কোনো সময় সামনে চলে আসে।জানিস অভ্র আজ আমি কার সাথে প্রজেক্ট এর ডিল করেছি?


অভ্র -(হাঁসি দিয়ে) কেনো জানবো না, আবিদ চৌধুরীর সাথে।


আয়ান -এর বাহিরেও ওনার সাথে আমার একটা পরিচয় আছে আর সেটা হলো ওনিই আমার বাবা!


অভ্র বিস্মিত কন্ঠে, মানে?তোর বাবা!

আমি তো কিছুই বুজতে পারছিনা।তোদের দুজনকে দেখে তো তা মনে হলো না।এমন ভাবে ছিলি মনে হলো তোদের আজকেই প্রথম দেখা।


আয়ান -সে অনেক কথা সময় করে তোকে একদিন বলবো।আচ্ছা আমি তাহলে এখন আসি, তুই রাতে কিন্তু বাসায় আসবি।


সে কখন আমি ফোন দিলাম মিটিং এ আছে বলে যে রেখে দিলো তার কোনো খবর নেই।বাসায় যে দিয়ে গেলো একটা বার ফোন দিয়ে খবর নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলোনা।আগেই ভালো ছিলো কথা বলতাম না,ফোনও দেওয়া লাগতো না।জামা কাপড় গুছাইতে গুছাইতে বিড়বিড় করছে প্রাপ্তি।

আয়ান এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কি হয়েছে আমার লক্ষ্মী বউয়ের।আমার উপর কি তার রাগ হয়েছে।


প্রাপ্তি -(আয়ানকে দেখে অবাক হয়ে,)তুমি এই সময় বাসায় চলে এলে? শরীর খারাপ নাকি? দেখি সামনে আসো।


আয়ান -(প্রাপ্তিকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে)এতক্ষণ আমাকে বকা দেওয়া হচ্ছে, এখন আবার ভালোবাসাও দেখানো হচ্ছে।


প্রাপ্তি -আমার যা খুশি তাই করবো তাতে তোমার কি।আমার হ্যাজবেন্ডকে আমি মারবো, আদর করবো, (হাতে একটা চিমটি কেটে)চিমটি কাটবো তাতে আয়ান চৌধুরী কি?

আয়ান- ওহ্ ব্যথা পেলাম তো,(প্রাপ্তিকে নিজের দিকে ফিরিয়ে)আচ্ছা তুমি সত্যি আমাকে মারবে? ওকে তাহলে শুরু করো।


প্রাপ্তি আয়ানকে ছাড়িয়ে ফাজলামো করা হচ্ছে আমার সাথে? এখন যাও তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে খেতে আসো।আয়ানের হাতে তোয়ালে টা ধরিয়ে দিয়ে প্রাপ্তি রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।


আয়ান ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসতে বসতে রেশী কোথায়?


প্রাপ্তি -ওর শরীরটা ভালো লাগছে না।তাই আগেই খাইয়ে  মেডিসিন দিয়ে দিলাম।হয়তো শুয়ে আছে।ভাবছি ভাইয়ার বিয়েটা শেষ হলে রেশীর বিয়ের জন্য ছেলে দেখবো।


আয়ান -(খেতে খেতে)রেশী যদি বলে ও বিয়ে করবেনা। ও ওর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চায় তখন?

কথাটা শুনে প্রাপ্তি মন খারাপ করে হুম সেটাই, তবে একবার বলতে অসুবিধা কোথায়?


আয়ান -হুম!তোমাকে তো বলতে ভুলে গেছি।রাতে অভ্র আসবে।আমাদের সাথে খাওয়াদাওয়া করবে।


প্রাপ্তি -সমস্যা নেই।


আয়ান -রান্না করতে তোমার কষ্ট হবেনা? এক কাজ করলে কেমন হয় সব রান্না বাহিরের থেকে নিয়ে আসি?


প্রাপ্তি -কোনো দরকার নেই।আমিই পারবো।অভ্র আমার ভাইয়া মতো ভাইকে রান্না করে খাওয়াবো এতে কষ্ট কিসের?তুমি কোনো চিন্তা করো না আমি পারবো।


আয়ান -আমি জানি তুমি পারবে।কিন্তু তোমার তো কষ্ট হবে।


প্রাপ্তি -বললাম তো তুমি চিন্তা করোনা।আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বললে রাগ করবা?


আয়ান -রাগ করবো কেন? কি বলবে বলো?


প্রাপ্তি -ভাইয়ার বিয়েতে তোমাদের বাড়ির সবাইকে ইনভাইট করলে কেমন হয়?


আয়ান -তুমি ভালো করেই জানো ওরা আসবেনা।


প্রাপ্তি -আকাশ ভাইয়া আর ভাবী তো আসতে পারে।প্লিজ বলোনা!

আয়ান -কি বলি বলো তো? তুমি আমার কাছে কোনো দিন কিছু চাওনি। এখন এমন একটা কথা বললে,,,, তবে চেষ্টা করে দেখতে পারি।


আবিদ চৌধুরী নিজের রুম অন্ধকার করে ইজিচেয়ারটায় বসে দুলছে।কেমন জানি নিজেকে আজ একা লাগছে।সবার মাঝে থেকেও চারপাশ টা কেমন খাঁ খাঁ করছে।আয়ান যখন এই বাড়িতে ছিলো যখনি বাসায় থাকতো হৈচৈ করে বাড়িটা মাতিয়ে রাখতো।অফিসে থাকলেও নিজের কাজ গুলো মন দিয়ে করতো।কখনো কোনো কিছু বলে দিতে হয়নি।আজ একটা মেয়ের জন্য আমার ছেলে আমাকে পর্যন্ত ত্যাগ করে দিলো।আমার সম্মানের কথা একটাবার চিন্তা করলো না।এইদুইটা বছর আমি হয়তো একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলাম সবাইকে ওর সাথে যোগাযোগ করতে না দিয়ে।সবাই হয়তো ভাবে আমার মনে কোনো মায়া নেই কারো প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই।আমার মন পাথরের মতো। সত্যিই কি তাই?কথা গুলো ভাবতেই গলাটা কেমন জানি ভারী হয়ে আসছে।

আয়েশা বেগম রুমে ঢুকে অন্ধকার দেখে লাইটটা জ্বালিয়ে আবিদ চৌধুরীকে দেখে কি হয়েছে বাহিরের থেকে আসার পর থেকেই দেখছি মন খারাপ।কিছু হয়েছে?


আবিদ চৌধুরী চশমা টা মুছে পরতে পরতে দীর্ঘশ্বাস পেলে বললো নাহ কিছু না!



আকাশের ফোন টা অনেকক্ষণ থেকে বেজে যাচ্ছে, আকাশ ওয়াশরুমে থাকায় ফোনটা ধরতে পারছেনা।সুমি এসে দেখে বার বার আকাশের ফোনে  কল আসছে,,


সুমি -আকাশ তোমার ফোনটা অনেকক্ষণ থেকে বেজে যাচ্ছে।তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে বের হও।


আকাশ তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে, রিসিভ করোনি কেনো?


সুমি -তোমার অফিসের কলও তো হতে পারে, তাই করিনি।


আকাশ ফোন নিয়ে দেখে আয়ানের নাম্বার থেকে ফোন।

আকাশ -আয়ান ফোন করছে।


সুমি -নাম্বার ওর নাম দিয়ে সেভ করোনি কেনো?আমি ভাবলাম অন্য কেউ।


আকাশ -আব্বুর চোখের সামনে কখন পড়ে যায় ঠিক আছে?দেখি কেনো ফোন করছে।

(ফোন রিসিভ করে)কেমন আছিস? 


আয়ান -এইতো ভালো।কি করছিস সবাই? আমার সুইট হার্ট কোথায়? 


আকাশ -সবাই ভালো।তোর ভাবী ও আছে ভালো।আমার সামনেই আছে।


আয়ান -কাল আব্বু কিছু বলেছে?


আকাশ -নাতো কেনো কি হয়েছে? তবে কাল অনেক গম্ভীর ছিলো।কারো সাথে কথা বলেনি।রাতে খাওয়া খায়নি।


আয়ান -কাল আমার সাথে দেখা হয়েছে আব্বুর। তাও এমন ভাবে দেখা হবে যা আমি কখনোই কল্পনা করিনি।যাই হোক তোকে একটা কারণে ফোন দিয়েছি ভাইয়া।


আকাশ -কি কারণ বল।


আয়ান-প্রাপ্তি একটা আবদার করেছে।ও কখনোই আমার কাছে কিছু চায়নি।এখন এমন একটা জিনিস ছেয়ে বসলো যা তুই ছাড়া মিটানো সম্ভব না।


আকাশ -তুই শুধু একবার বল প্রাপ্তি কি চায়?  সাথে সাথেই দেখবি প্রাপ্তির সামনে পৌঁছে গেছে।


আয়ান -আসলে আসিফ ভাইয়ার বিয়ে সামনের মাসে ৩ তারিখ। এখন প্রাপ্তির ইচ্ছা তুই আর ভাবী এই বিয়েতে আসবি।আমি জানি বাড়িতে বললে আব্বু তোকে আসতে দিবে না তাই তোকে আলাদা ভাবে বললাম।

প্রাপ্তির এই আবদারটা তোকে পূরণ করতেই হবে ভাইয়া।তুই ছাড়া যে এইটা কেউ পারবেনা।


আকাশ -কি বলবো তোকে বুজতে পারছিনা। আচ্ছা আমি তোকে পরে জানাবো।।

আয়ান -ঠিক আছে তুই আমাকে জানাশ। তাহলে এখন রাখি।

ফোন টা রেখে আয়ান সুস্থির নিশ্বাস ফেলে ভাইয়া যখন বলেছে তাহলে ঠিকি চেষ্টা করবে।


বিয়ের দিন ঘনিয়ে এসেছে, তাই প্রাপ্তি আর আয়ান এইদিকটার সব কিছু সামলিয়ে প্রাপ্তিদের বাড়ি গেলো।বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে সবাই অনেক ব্যস্ত।আসিফ আর নীরার মাঝেমাঝে ফোনে কথা চলতে থাকে।নীরা চৌঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে আর আসিফ সবসময় গম্ভীর থাকতেই পছন্দ করে।মেয়েদের সাথে তেমন বেশি কথা বলেনা।নিজের বোনদের নিয়েই তার ভাবনার জগত। সেই জগতে কোনো মেয়েই জায়গা করে নিতে পারিনি।এখন নীরাই হবে সেই জায়গার মালিক।


সকাল বেলা কলিংবেলের শব্দ শুনে রফিক গিয়ে দরজা খুললো।আবিদ চৌধুরী পেপার পড়তে পড়তে নিজের রুম থেকে ড্রইংরুমে বসলো।আকাশ ও নাস্তা করার জন্য নিছে নিমে এলো।কিন্তু আবিদ চৌধুরীকে পেপার পড়তে দেখে নিজেও বসে পড়লো।


রফিক -(দরজার সামনে দুইজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে)কাকে চাই?


একজন বললো,আবিদ চৌধুরী আছে?


রফিক -জ্বী! স্যার ভিতরেই আছে কিন্তু আপনারা কারা?


দ্বিতীয় লোক -আমরা কুরিয়ার থেকে এসেছি।আসলে কয়দিন আগে আবিদ চৌধুরীর নামে কয়েকটা পার্সেল এসেছে।সমস্যা থাকার কারনে দিয়ে যেতে পারিনি।


আবিদ চৌধুরী রফিক কে দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে রফিক কোনো সমস্যা?


রফিক পার্সেল গুলো নিয়ে লোক গুলোকে বিদায় দিয়ে,আবিদ চৌধুরীর কাছে আসলো।


আবিদ চৌধুরী -তোমার হাতে এইগুলো কি? 


রফিক -জানি না স্যার। কুরিয়ার থেকে আসছে আপনার নামে।


আবিদ চৌধুরী -আকাশ!  খুলে দেখো তো এই গুলোতে কি আছে।

সুমি আর আয়েশা বেগমও রান্নাঘর থেকে এগিয়ে এলেন।


আকাশ পার্সেল গুলো খুলতেই সবাই অবাক হয়ে আছে।সবার জন্য জামা কাপড়। কে পাঠিয়েছে এইগুলো?


সুমি আবিদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে,বাবা আপনি সবার জন্য শপিং করে তো সবাইকে সারপ্রাইজ করে দিলেন।


আবিদ চৌধুরী -সুমি আমি কোনো শপিং করিনি।কিন্তু এই গুলো কে পাঠিয়েছে।


আকাশ -আব্বু দেখো?  মনে হচ্ছে এইখানে দেখছি সবার থেকে রুমকির জন্যই বেশি।


আবিদ চৌধুরী -কিন্তু এই গুলো পাঠালো কে?


সুমি -মনে হচ্ছে যে শপিং করেছে সে জেনে বুজেই করেছে।


সবাই চিন্তায় পড়ে গেলো কে পাঠিয়েছে এইসব?

আয়েশা বেগম আকাশের দিকে তাকিয়ে, আমার মনে হয় এইগুলো আয়ানই পাঠিয়েছে।আয়ান ছাড়া কে আর পাঠাবে বল?


সুমি -মা আপনি ঠিকি বলেছেন।এইগুলো আয়ানই পাঠিয়েছে হয়তো।

আবিদ চৌধুরী কিছু না বলেই নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন।রুমে গিয়ে ভাবছে আমি যদি এখন ওদের কিছু বলি হয়তো এতে বিপরীত হতে পারে।সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি করে করা ঠিক হবেনা।আমাকে এখন বুজে শুনে কাজ করতে হবে।


সুমি আয়েশা বেগমের দিকে এগিয়ে গিয়ে, মা! বাবা কিছুই না বলে চলে গেলো?  আমার কাছে কেমন গোলমাল লাগছে।আয়ান এইগুলো পাঠিয়েছে শুনেও বাবা কোনো রিয়েক্ট করলেন না।আপনি কি কিছু বুজতে পেরেছেন?নাকি বড় কোনো ঝড় আসতে চলেছে?  


আকাশ -সুমি তুমি একটু বেশিই ভাবছ। বাবা হয়তো আয়ান কে আস্তে আস্তে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে।আমরা একা আয়ান কে ভালোবাসি তা কিন্তু না বাবাও আয়ানকে অনেক ভালোবাসে।ভুল বুজাবুজি সবার মাঝেই থাকে। হয়তো বাবার অভিমান টা একটু বেশিই করেছে।


আয়েশা বেগমের চোখ গুলো ছলছল করছে। কিছু না বলেই রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো।


প্রাপ্তিদের বাড়ি সাজানো শুরু হয়েছে।তার মামা, মামী, চাচা, চাচী অনেকেই চলে এসেছে। শপিং নিয়ে আয়ান প্রাপ্তি অরণী অনেক ব্যস্ততার মধ্যে কাটাচ্ছে। আজাদ সাহেবের একটাই কথা সবকিছু জেনো ঠিকঠাক ভাবেই হয়।তার একটা মাত্র ছেলে কোনো কিছুতে জেনো কমতি না থাকে।আজাদ সাহেব বেশিরভাগ দায়িত্ব আয়ানের কাঁধে দিয়েছে।আয়ান ছাড়া তিনি কাউকে ভরসা করতে পারেননা। সিয়াম সবসময় নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।আয়ান অভ্রকে ফোন দিয়েছে আসার জন্য। সন্ধ্যায় বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে নিলিমা বেগমের রুমে,কি কি কেনাকাটা করেছে সবাইকে দেখাছে প্রাপ্তি।আয়ান দরজায় দাঁড়িয়ে অনেক বার ইশারা করছে তার কথা শুনার জন্য।সবার সেই দিকে নজর না পড়লেও প্রাপ্তি দেখছে।প্রাপ্তি ভাবছে হাতের কাজ শেষ করে করেই তারপর যাবে।কিন্তু আয়ানকে আবার ইশারা করতে দেখে অরণী, আপু! তুই যা আমি সবাইকে দেখাচ্ছি। তুই না গেলে ভাইয়া হয়তো এইখানেই জ্ঞান হারাবে।কথাটা শুনে সবাই হাঁসতে শুরু করলো।আয়ান লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো আসলে প্রাপ্তি তোমার সাথে আমার জরুরী কথা আছে প্লিজ শুনে যাও।


প্রাপ্তি রাগি ভাব নিয়ে আয়ানের কাছে গিয়ে, চলো  জানি আমি কি কথা আছে।


প্রাপ্তি আর আয়ান চলে যেতেই,

প্রাপ্তির চাচী -মেয়েটার কপাল অনেক ভালো। না হলে এমন বর কেউ পায়? কাল আসার পর থেকে দেখছি মেয়েটাকে অনেক যত্ন করে,অনেক খেয়াল রেখে,এইটাই হচ্ছে প্রকৃত ভালোবাসা। অরণী! তোর বর তোকে এইরকম খেয়াল রাখে?


অরণী -রাখবে না কেন? হয়তো ভাইয়ার ছেয়ে কম।চাচী! এইগুলো নিয়ে পরেও কথা বলা যাবে। আগে কাজ গুলো সেরে ফেলা যাক।

প্রাপ্তি আয়ানের সাথে রুমে আসতেই আয়ান দরজা বন্ধ করে দিলো,


প্রাপ্তি-কি ব্যাপার এই সময় দরজা বন্ধ করলে কেনো?


আয়ান -তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো, তাই তোমাকে ডেকেছি কিন্তু তুমি সবার সামনে এমন ভাব করছিলে মনে হচ্ছে আমায় দেখোইনি।


প্রাপ্তি -তুমি তো দেখছিলে আমি অনেক ব্যস্ত ছিলাম তারপর ও কেনো তুমি আমায় ডাকছিলে?


আয়ান -প্রাপ্তি!  তোমাকে না দেখলে আমার ভালো লাগেনা।(বলেই আস্তে আস্তে প্রাপ্তির কাছে আসতে থাকলো)


প্রাপ্তি আয়ানকে কাছে আসতে  দেখে,(রাগিভাব দেখিয়ে) দাঁড়াও ওইখানে। একদম কাছে আসবেনা বলে দিলাম।


আয়ান সত্যিই দাঁড়িয়ে গেলো প্রাপ্তির কথা শুনে,কি ব্যাপার প্রাপ্তি তোমার কি মন খারাপ?এইভাবে কথা বলছো কেনো?


প্রাপ্তি- আমি ঠিক আছি। আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলেছিলাম সেটার কি করেছো? ভাইয়ারা কি আসবে?


আয়ান -প্রাপ্তি!  তুমি কিন্তু কথা কাটানোর চেষ্টা করছো।


প্রাপ্তি এইবার নিজেই আয়ানের কাছে এসে, তুমি রাগ করেছো? দেখছিলাম কি করো বউয়ের মুখে এইরকম কথা শুনে।


আয়ান -তোমার উপর আমার কখনোই রাগ হয়না এইটা তুমি ভালো করেই জানো।আচ্ছা প্রাপ্তি তোমাকে কি আমি কখনোই নিজের করে পাবোনা? 


প্রাপ্তি- পাবে না কেনো? পাবে!  যেইদিন তোমার বাবা আমাকে মেনে নিবে। যেইদিন সব কিছু ভুলে আমরা আবার এক হবো সেইদিনই তুমি আমাকে তোমার করে পাবে।


আয়ান -যদি আব্বু কখনোই মেনে না নেয়?


প্রাপ্তি -তোমার চিন্তা করতে হবে না শুধু বিয়ে টা মিটে যেতে দাও তোমার আব্বুর অহংকার কি করে ভাঙতে হবে সেটা আমার ভালো করেই জানা আছে।আমার জন্য যখন তুমি পরিবার থেকে আলাদা হয়েছো তখন আমিই জোড়া লাগাবো।

আমি আর তোমাদের মা ছেলেকে কষ্ট পেতে দিবোনা।


আয়ান প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা চুমু দিয়ে,তোমার মতো বউ যার আছে তার আর কিছুর প্র‍য়োজন নেই।সারাটা জীবন সুখের অভাব হবেনা।

প্রাপ্তি আয়ানের নাক টেনে দিয়ে আমাকে পাম দেওয়া হচ্ছে? এইযে মিস্টার আয়ান চৌধুরী আমি কিন্তু বেলুন না আপনার কথায় আমি ফুলে যাবো বলেই হাঁসতে শুরু করলো দুজনেই।রেশী এসে দরজার ওপাশ থেকে বলে গেলো,ভাইয়া! অভ্র ভাইয়া আসছে! তোমাকে ডাকছে।

প্রাপ্তি আর আয়ান ড্রইংরুমে এসে অভ্রকে দেখে,

আয়ান- কিরে তোর আসতে এতো দেরি হলো কেনো?কাল গাঁয়ে হলুদ আর তুই আজ আসছিস।


অভ্র -কি করবো বল?  অফিস শেষ করেই বাসায় গিয়ে জামা কাপড় গুছিয়েই তো  রওনা দিলাম।তাই আসতে আসতে রাত হয়ে গেলো।নীশান ও সকাল থেকে ফোন দিচ্ছে ওদের বাড়ি যাওয়ার জন্য। আমি বলেছি আসিফ ভাইয়া সহ আমাকে ছাড়বেনা।যদি ওদের ম্যানেজ করতে পারি তাহলে পরে দেখা যাবে।

আসিফ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এসে, সেই কথা ভুলে যাও এই বাড়ি ছেড়ে তোমার কোথাও যাওয়া হচ্ছেনা।


অভ্রও আসিফের কথা শুনে মুচকি হাঁসি দিয়ে মনে মনে ভাবছে, এই বাড়ি থেকে আমার এমনিতেই যেতে ইচ্ছে করবে না।কারন এই বাড়িতে আমার এমন একটা জিনিস আছে যেটা না দেখে আমি থাকতে পারিনা।কিন্তু যার কথা ভাবছি সে কোথায় গেলো? আসার পর এক পলক দেখা দিয়ে যে কোথায় গেলো বুজতেই তো পারছিনা।

কথাটা আয়ান কে বার বার বলতে গিয়েও আমি বলতে পারলাম না। কারণ আয়ানের সাথে আমি আমার বন্ধুত্ব কখনোই নষ্ট করতে চাইনা।


প্রাপ্তি অভ্রর চোখের সামনে তুড়ি মেরে এইযে ভাইয়া আপনি কোথায় হারিয়ে গেলেন।আমরা কিন্তু সবাই এইখানেই আছি তাহলে আপনি এইদিক ওদিক ফিরে কাকে খুঁজছেন?


অভ্র চমকে উঠে, কিছু বললে? 


প্রাপ্তি -আমি কিন্তু কিছু কি বুজতে পারছি আপনি কি খুঁজছেন!



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url