ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৭

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৭

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ১৭



অভ্র -ঠিক আছে চলো আমি সহ যাচ্ছি।

রেশী আর কথা বাড়ালো না।নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করলো।


দুজনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে অভ্র বার বার রেশীর দিকে তাকাচ্ছে।রেশীও আড় চোখে তাকিয়ে অভ্রকে দেখছে।


অভ্র-রেশী!  তুমি কি কাউকে কখনো ভালোবেসেছো?মানে তোমার কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে?

রেশী নিচের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে না বুজালো।


অভ্র -কি বলো তোমার মতো এতো সুন্দরী একটা মেয়ের বয়ফ্রেন্ড নেই এইটা তো আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।

কথা বলতে বলতে আবার দুজনে হাঁটতে লাগলো।


আয়ান -কি হলো এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেনো যেতে বলছিতো।

প্রাপ্তি আয়ানের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দরজার দিকে একটু এগিয়ে আবার থমকে দাঁড়ালো। পিছনে ফিরে দেখে আয়ান মন খারাপ করে অন্য দিকে ফিরে আছে।প্রাপ্তি মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে আবার দৌড়ে এসে আয়ানকে জড়িয়ে ধরলো।আয়ান চমকে উঠে তাকিয়ে দেখে প্রাপ্তি চোখ দুটো বন্ধ করে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।চোখ বন্ধ করা ওই মায়াবী মুখটা দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে।ইচ্ছে করবে তাকে শত জন্মে ভালোবাসতে।ইচ্ছে করবে ওর মতো মানুষটাকেই সারাজীবন পাশে পেতে।ওকে দেখে নিজের চোখের পলক ফেলতে ইচ্ছে করেনা।একটা পলক ফেললেই মনে হবে শত যুগ এই মায়াবী মুখটা দেখা হবে না।


আয়ান -(আস্তে আস্তে নরম স্বরে)প্রাপ্তি!  এই প্রাপ্তি! কি হয়েছে তোমার?


প্রাপ্তি আয়ানের বুক থেকে মাথাটা উঠিয়ে আয়ানের মুখে আঙুল দিয়ে চুপ তাকতে ইশারা করলো।

আয়ান প্রাপ্তির হাতটা মুখের সামনে থেকে সরিয়ে নিচে নামালো।আস্তে আস্তে নিজের ঠোঁট দুটো প্রাপ্তির দিকে এগিয়ে আনতে প্রাপ্তি চোখ বন্ধ করে ফেললো।আয়ান ঠোঁট  প্রাপ্তির ঠোঁটের সাথে ছোঁয়া লাগাতেই

অভ্র এসে আয়ান তুই,,,,,,,,,

কথাটা বলতেই আয়ান চমকে উঠে প্রাপ্তিকে ছেড়ে দিয়ে বিরক্তিকর ভাব নিয়ে, অভ্র!তুই এইসময়?

অভ্র-সরি সরি আমি কিছু দেখিনি।

আয়ান রেশীর দিকে তাকাতেই রেশী রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

প্রাপ্তিও লজ্জা পেয়ে কিছু না বলেই রুম থেকে বেরিয়ে ছাদে চলে গেলো।

অভ্রর প্রতি আয়ানের খুব রাগ হচ্ছে কিন্তু কিছু বলতেও পাচ্ছেনা।অনেক ধৈর্যের পরিক্ষা দিয়ে প্রাপ্তির এতো কাছে গেলাম আর অভ্র এসে সব ভেস্তে দিলো।


অভ্র -সরি রে,,,আমি সত্যি তোদের এইভাবে ডিস্টার্ব করতে চাইনি।উপরের সবাই তোদেরকে না দেখতে পেয়ে ডাকছে।সরি বন্ধু এইরকম সময়ে ডিস্টার্ব করার জন্য।


আয়ান-(নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করে)নো প্রবলেম! রেশীকে দেখে একটু খারাপ লাগছে।


অভ্র -আরে রেশীকি এখনো ছোটো নাকি? ও সব বুজে।হয়তো শান্ত ভাবখানি নিয়ে থাকে।  

আয়ান -তুই বুজচ্ছিস না কেনো।ও আমার ছোটো বোনের মতোই । কখনো এইটা ভাবিনি ওকে আমি রাস্তার পাশে পেয়েছি।তাই একটু খারাপ লাগছে।


অভ্র -আচ্ছা আয়ান তুই যখন ওকে পেয়েছিস ও কি তখন বিয়ের পোষাকে ছিলো তাইনা?


আয়ান -হুম। চল ছাদে যাই।


অনুষ্ঠান শেষ করে সবাই নিচে নেমে এলো।নিলিমা বেগম সবাইকে ঘুমানো ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এই বাড়িতে এতো গেস্ট সবাইকে তো আর আলাদা আলাদা রুম দেওয়া যায় না।প্রাপ্তি নিচে এসে নিলিমা বেগমকে নিজের রুমটা আকাশদের আর অরণীর রুম টা ঝিকুকদের দিতে বললো।সুমি এসে প্রাপ্তির কথা শুনে প্রাপ্তি!  এক দিন না ঘুমালে কিচ্ছু হবে না এককাজ করো যে যে আড্ডা দিতে চায় তাদের সবাইকে নিয়ে ছাদে চলো আমরা সবাই আড্ডা দিবো।


অরণী -ভাবী তুমি ঠিকি বলছো।


ঠিক আছে তোমরা সবাই যাও আমি তোমাদের সবাইকে কফি বানিয়ে দিয়ে আসবো।


প্রাপ্তি-আম্মু তুমি ঘুমাতে যাও! আমি সবার জন্য কফি বানিয়ে নিবো।


সুমি -হ্যাঁ আন্টি আমিও প্রাপ্তিকে হেল্প করবো।

নিলিমা বেগম মুচকি হেঁসে আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাচ্ছি।

সবাই উপরে চলে গেলো, রেশীকে সোফায় বসে থাকতে দেখে প্রাপ্তি এসে, রেশী! তুই যাবি না।প্রাপ্তির কথাটা শুনে রেশী তখনকার ঘটনার জন্য নিজেকে খুব ছোটো মনে হচ্ছে।চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

প্রাপ্তি রেশীর সাথে বসে নিচের দিক থেকে নিজের দিকে রেশীর মুখটা ফিরিয়ে, তুই তখনকার ঘটনার জন্য লজ্জা পাচ্ছিস? আমি খেয়াল করলাম এর পর থেকে তুই আমার আর তোর ভাইয়ার থেকে দূরে দূরে থাকছিস।রেশী এইখানে তো তোর কোনো দোষ নেই।মাঝে মাঝে আমরা না চাইতেও এমন ঘটনা ঘটে আমাদের সাথে।এখন চল আমাদের সাথে আড্ডা দিবি।


রেশী -ভাবী তুমি যাও আমি আসছি।


প্রাপ্তি -ওকে আমি যাচ্ছি।তুই তাড়াতাড়ি আয়।কথাটা বলেই প্রাপ্তি উঠে চলে গেলো।

রেশী বসে বসে নিহাদের কথা ভাবছে।সেইদিন ওনি আমাকে দেখতে এসেছিলেন। অনেক কথাও বলেছিলেন আমার সাথে।কিন্তু যদি সব আয়ান ভাইয়াকে বলে ভাইয়া আমায় কি ভাববে।অবশ্য ভাইয়াকে তো আমি সবি বলেছিলাম।আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি।তারপরও কি আমায় ভুল বুজবে।আমার কি তাহলে এখন এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। কিন্তু আমি কোথায় যাবো?আমার তো কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

অভ্র চেঞ্জ করে ছাদে যাবে তখনি দেখে রেশী বসে আছে।রেশীর কাছে একটু এগিয়ে এসে, রেশী তুমি উপরে যাবেনা?বসে বসে কি ভাবছো?

অভ্রর কথা শুন রেশী চমকে উঠে, হ্যাঁ!


অভ্র -তুমি কি কিছু ভাবছো নাকি?

কথাটা শুনে রেশী অভ্রর দিকে তাকালো।


অভ্র-না! তুমি চুপচাপ বসে আছো দেখেই কথাটা বললাম।আচ্ছা চলো ছাদে যাই।

রেশী অভ্রর পিছন পিছন ছাদে গেলো।

আয়ান রেশীকে দেখে অন্য দিকে ফিরে আছে।প্রাপ্তি আয়ানকে ইশারা করলো রেশীর সাথে কথা বলার জন্য।সুমি অভ্র আর রেশীকে একসাথে দেখে, আয়ান!  একটা জিনিস খেয়াল করেছিস রেশী আর অভ্রকে কিন্তু খারাপ লাগছেনা।দেখ দুজনকে কি সুন্দর মানিয়েছে।কথাটা শুনেই রেশী অবাক হয়ে অভ্রর দিকে তাকালো।


সুমি -রেশী তুমি কি আমার কথায় রাগ করেছো?

রেশী কিছু বলছেনা অভ্রর দিকেই একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে।অভ্রও রেশীর দিকে অসহায় মতো তাকিয়ে আছে আর ভাবছে আমি তো ছেয়েই ছিলাম তোমাকে আমার সারা জীবনের সাথী করে রাখতে।কিন্তু সেইদিন কি এমন হলো তুমি আমাকে অসহায়ের মতো ছেড়ে দিয়ে আসলে।যেইদিন আয়ানের বাসায় আমি তোমাকে দেখলাম সেইদিন আমার মতো অবাক কেউ হয়েছে কিনা কখনো আমি জানিনা।

আয়ান দুজনের দিকে তাকিয়ে, অভ্র তুই যে ভাবে তাকিয়ে আছিস মনে হচ্ছে ভাবী তোর সাথে সত্যিই রেশীকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।


আয়ানের কথা শুনে রেশীর থেকে চোখ ফিরিয়ে অভ্র কিছু না বলেই আকাশের সাথে গিয়ে বসলো।

সবাই মিলে আড্ডা দিতে দিতে কখন যে সকাল হয়ে গেলো কেউ টেরি পেলোনা।সকাল বেলা সবাই নিচে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বসলো।আসিফ রুম থেকে বেরিয়ে আসতেই নিহাদ বললো আসিফ!  আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকী এর মধ্যে যা খুশি করতে পারো,পরে আর পারবেনা।তখন মৃতদের মতোই থাকতে হবে চাইলেই নিজের ইচ্ছায় কিছু করতে পারবেনা।


ঝিনুক -(ঝাড়ি দিয়ে)এই তুমি কি বলতে চাইছো বলোতো? বিয়ের পর সবাই মৃত হয়ে যায়?


আকাশ -ঝিনুক!  নিহাদ কিন্তু কথাটা খারাপ বলেনি।বিয়ের পর ছেলেদে সব কিছুই চেঞ্জ হয়ে যায়।নিজের ইচ্ছা মতো কিছু করা যায়না।


সুমি -আমি কিন্তু এইখানেই বসে আছি।আমি কি তোমাকে কোনো কিছু নিয়ে বারণ করেছি?এই প্রাপ্তি তুই করেছিস আয়ানকে কখনো?


আয়ান -সুইট হার্ট! প্রাপ্তি কিন্তু আমায় কোনো দিন কিছু বলেনি।আমি যেই ভাবে ইচ্ছে হয়েছে সেইভাবেই চলেছি।


প্রাপ্তি -ভাবী!  আমি কি বারণ করবো বলো? নিজের ইচ্ছে মতো চললেও খারাপ কিছুতো করেনা।তাই আমার কখনো বারণ করতে হয়নি।শুধু চুপচাপ দেখেই যেতাম।


সবার কথা শুনে আসিফ বললো,এইতো দেখছি পুরোই ঝামেলা। প্রাপ্তি!  তোরা কি জেনে শুনে আমাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছিস নাকি?


প্রাপ্তি -ভাইয়া তুই কি এখনো ছোটো বাচ্ছা? আজ তোর বিয়ে এখন তো একটু সিরিয়াস হও।


সিয়াম ফোনে কথা বলতে বলতে এসে এইযে সবাই নাস্তা করতে এসেতো ভালোই আড্ডা দিচ্ছেন! মেয়ের বাড়ি থেকে নিশান ফোন করেছে আমরা কখন রওনা দিবো?

কিন্তু আপনারা সবাই যে ভাবে আড্ডা দিচ্ছেন আজকে তো রওনা দিতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে।


আয়ান -সিয়াম কিন্তু ঠিক কথায় বলেছে।মেয়েদের তো আবার সাজতে সাজতে একদিন কাটিয়ে দেয়।


অরণী -ভাইয়া নিজের বউ সাজেনা বলে আমাদেরকে কথা গুলো বলছো তাইতো?


আকাশ -আচ্ছা সবাই যাও রেডি হয়ে নাও।সিয়াম কিন্তু সত্যি বলছে মেয়েদের বাড়িতে যেতে অনেক লেট হয়ে যাবে।


আকাশের কথা শুনে সবাই উঠে গেলো রেডি হওয়ার জন্য।



প্রাপ্তিদের সবাই নীরাদের বাড়িতে পৌঁছালো।গাড়ি থেকে নেমে মেয়েরা সবাই বাসার ভিতরে ঢুকে গেলো।নীরাকে আগেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে।নীরার মা আস্তে আস্তে সবার সাথে পরিচিত হচ্ছে।প্রাপ্তি নীরার রুমে আসতেই নীরা সালাম দিয়ে জড়িয়ে ধরে, আপু কেমন আছেন?


প্রাপ্তি -আমি তো ভালো।তোমার অবস্থা কী? 

অরণী এসে, বাহ্ বড় ননদ কে পেয়ে আমার একটু খবরও নিলো না।আমি কিন্তু রাগ করতেছি।নীরা মুচকি হেঁসে না আপু আমি তো জিজ্ঞাস করতে ছিলাম বড় আপুকে এর আগেই তো আপনি চলে আসলেন।


অরণী -হুম আমাকে আর বুজাতে হবে না।তবে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে।আর ক্রেডিট টা কিন্তু আয়ান ভাইয়ার।


প্রাপ্তি-চুপ করতো।নীরা!  আসো তোমাকে সুমির সামনে এনে ইনি হচ্ছে তোমার আয়ান ভাইয়ার বড় ভাবী, ইনি বড় আপু ঝিনুক।এই হচ্ছে রেশী তোমার আরেকটা ছোটো বোন।প্রাপ্তি নীরাকে অনেকের সাথেই পরিচয় করিয়ে দিলো।

আয়ান ভিতরে এসে রেশীকে দেখতে পেয়ে, রেশী তোর ভাবী কোথায়?


রেশী -ভাইয়া ভাবীতো নীরা আপুর রুমে আছে।

আয়ান নীরার দরজার সামনে গিয়ে দেখে প্রাপ্তি সবার সাথেই কথা বলছে।আমি কি ভিতরে আসতে পারি?

অরণী দরজার দিকে তাকিয়ে কেনো আসতে চাইছো তা তো বুজি।নীরাকে দেখতে এসে নিজের মানুষকে দেখে যাওয়ার আরকি।

আয়ান ভিতরে ঢুকে অরণী তুমি বলো নিজের মানুষকে না দেখলে কাকে দেখবো।তবে আমি সত্যিই নীরাকে দেখতে আসছি।নীরাদের ফ্যামিলির অনেকেই এবং তার কাজিনরা  জিজ্ঞাস করতে লাগলো ইনি কে?নীরা তার কাজিনদের বিড়বিড় করে বললো,ওই যে বড় আপু দাঁড়িয়ে আছে ওনার হ্যাজবেন্ড।

নীরার কাজিন অবাক হয়ে কি বলিস দেখে তো মনে হচ্ছে এখনো বিয়েই করেনি।দেখলে তো যে কোনো মেয়েই ক্রাশ খাবে।


নীরা -তুই একটু চুপ কর।আপু শুনলে না তোর বারো টা বাজাবে।


আয়ান -নীরাকে তো অনেক সুন্দর লাগছে কি বলো প্রাপ্তি।আসিফ ভাইয়া তো আজ চোখ ফিরাতেই পারবে না।কথাটা বলে শেষ করতেই আকাশ, নিহাদ আরো কয়েক জন মুরব্বি নীরার রুমে এসেছে বিয়ে পড়ানোর জন্য।

বিয়ে পড়িয়ে শেষ করে সবাই বাহিরে চলে গেলো।নিহাদ আয়ানকে প্রাপ্তির সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, ভাই! তুই একটা জিনিশ। বউকে তোর চোখের আড়াল হতেই দিবিনা।বউয়ের গন্ধ শুঁকে ঠিকি জায়গা মতো চলে এসেছিস।যাই আমার বউটা কোথায় একটু খুঁজে দেখি।বলেই নিহাদ রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।

বিয়ের সব আয়োজন শেষ করে আসিফদের বাড়িতে ফিরার ফালা।নীরাকে বাসা থেকে বের হতেই প্রাপ্তি দাঁড়িয়ে গেলো।

আসিফ প্রাপ্তিকে দাঁড়াতে দেখে, প্রাপ্তি!  দাঁড়িয়ে পড়লি কেনো? আয়ানের জন্য নাকি? আয়ান তো একটু আগেই বাহিরে গেলো।


প্রাপ্তি- ভাইয়া!  আমার ফোনটা  মনে হয় নীরার রুমে রেখে আসছি। তোমরা এগিয়ে যাও আমি আসছি।


প্রাপ্তি নীরার রুমে গিয়ে ফোনটা নিয়ে আসতেই একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেয়ে ফোনটা নিচে পড়ে গেলো।ছেলেটার মুখ দেখার আগেই ছেলেটা সরি বলে নিচের দিক থেকে ফোনটা নিয়ে দাঁড়িয়ে প্রাপ্তির হাতে  দিতেই প্রাপ্তি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে একটা চিৎকার দিয়ে হাঁপাতে শুরু করলো।আসিফ এগিয়ে এসে প্রাপ্তিকে ধরে, প্রাপ্তি! কি হয়েছে তোর? এই রকম চিৎকার দিয়েছিস কেনো। কেউ আয়ান কে ডাকো তো।

ছেলেটা ভয়ে পেয়ে কিছু না বলেই এইখান থেকে সরে গেলো।আসিফ প্রাপ্তির অবস্থা দেখে ছেলেটার দিকে খেয়াল করেনি।আয়ান এসে প্রাপ্তিকে নিজের কাছে নিয়ে ভাইয়া প্রাপ্তির কি হয়েছে?


আসিফ -আয়ান আমিও তো বুজতে পারছিনা।একটা ছেলেকে দেখেই এইরকম করছে (ছেলেটা কে দেখতে না পেয়ে)আরে এই ছেলেটা কোথায় গেলো? এখানেই তো ছিলো।


আয়ান -ভাইয়া আপনার বাড়িতে যান।আমি ওকে নিয়ে হাসপাতাল যাচ্ছি।বলেই প্রাপ্তিকে কোলে তুলে নিলো।


 আসিফ -চলো আমিও যাচ্ছি।


আয়ান -না ভাইয়া আপনারা যান আমি ওকে ডাক্তার দেখিয়েই চলে আসছি।বেশীকিছু হলে আপনাদের জানাবো।


অভ্র এসে, আয়ান! চল আমি ও তোদের সাথে যাচ্ছি। সাবাই বাড়ির দিকে রওনা হলো।আয়ান প্রাপ্তি আর অভ্র হাসপাতালের দিকে গেলো।

প্রাপ্তি কোনো কথা বলছেনা চোখ দিয়ে গাল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে।তার বুকটা ফেটে যাচ্ছে কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো কথা বলতে পারছেনা।

ডাক্তার প্রাপ্তিকে ভালো করে দেখে একটা ইনজেকশন দিয়ে আয়ানকে বললো,আপাদত ওনাকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছি।এখন ঘুমিয়ে পড়লে ছয় ঘন্টা পর ঘুম ভাঙবে। এর মাঝে আপনারা বসে অপেক্ষা করুন।


আয়ান -কিন্তু আপনি বললেন না তো ওর কি থেকে এই প্রবলেম টা হয়েছে।


ডাক্তার বসতে বসতে আয়ান কে বললো,আপনার কথা শুনে যতোটুকু বুজলাম,ওনি এমন কিছু দেখেছে যা দেখে ওনি সহ্য করতে পারেননি।আর আপনি বলেছেন একটা ছেলেকে দেখার পর এই অবস্থা,এর থেকে আমার যতোটুকু ধারনা ওই ছেলের সাথে ওনার এমন কোনো কানেক্ট আছে তাই ওই ছেলেকে দেখে ওনার পুরোনো কিছু মনে পড়ে গেছে।তাই ওই আঘাতটা সহ্য করতে না পেরেই এই অবস্থা হয়েছে।

ডাক্তারের কথা শুনেই আয়ান চুপ করে আছে।হয়তো বুজার চেষ্টা করছে ওই ছেলেটা কে হতে পারে।

আয়ান অভ্রকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে নিজে হাসপাতালে বসে অপেক্ষা করছে আর ভাবছে ছেলেটা কে?  এই ছেলের সাথে প্রাপ্তির কি এমন সম্পর্ক হতে পারে?নাকি এই ছেলে প্রাপ্তির সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে কোনো যোগ আছে?

আমার কোনো কিছুই মাথায় ধরছেনা।প্রাপ্তি ঘুম থেকে উঠুক তার পর না হয় দেখা যাবে।

ছয় ঘন্টা পর প্রাপ্তির ঘুম ভাঙল কিন্তু কোনো কথা বলছেনা।আয়ানও কিছু জিজ্ঞাস করেনি।হাসপাতাল থেকে প্রাপ্তিকে বাড়ি নিয়ে আসল আয়ান, কাউকে কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে গেলো  প্রাপ্তি।সারাটা পথ আসতে আসতে চুপ হয়ে ছিলো।শুধু চোখের পানি গুলোই ঝরেছে।আয়ানও একটা কথাও জিজ্ঞাস করেনি।আয়ান  ড্রইংরুমে সোফায় এসে বসলো।নীরাকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত।আয়ানকে এসে বসতে দেখে আসিফ এসে, আয়ান!  ডাক্তার কি বলেছে? প্রাপ্তির হঠাৎ করে কি হয়েছে?আয়ান কপালে হাত দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে আছে।


আস্তে আস্তে সবাই এসে আয়ানের চারপাশে জড়ো হলো কিন্তু আয়ান খেয়াল করিনি।সুমি আয়ানের কাঁধে হাত দিতেই আয়ান চমকে উঠে সুমির দিকে তাকালো।


সুমি-প্রাপ্তি দেখেছি কাউকে কিছু না বলেই রুমে চলে গেলো।কি হয়েছে ওর? আসিফও তোমায় জিজ্ঞাস করছে কোনো আনসার দিচ্ছো না।

আয়ান সুমির থেকে চোখ ফিরিয়ে দেখে সবাই জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


আসিফ -কি হলো আয়ান,কথা বলছো না কেনো?

আয়ান ভাবছে এইখানে কিছু বলা যাবেনা।সবার সামনে এইভাবে কিছু বললে আমার প্রাপ্তিকেই ছোটো করা হবে।(আসিফের দিকে তাকিয়ে)ভাইয়া!মায়ের রুমে চলুন। আপনার সাথে আমি আলাদা ভাবে কথা বলতে চাই।


আসিফ -ঠিক আছে চলো।

আসিফ আর আয়ান নিলিমা বেগমের রুমে এসে বসলো।


আয়ান অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে, ভাইয়া!  আজ প্রাপ্তি যে ছেলেকে দেখে চিৎকার দিয়েছিলো আপনি ছেলেটাকে দেখেছেন?


আসিফ -প্রাপ্তির অবস্থা দেখে তখন তো খেয়াল করিনি।কিন্তু পরে দেখি ছেলেটা ওইখানে নেই।কিন্ত আয়ান! কেনো ওই ছেলেকে খুঁজতেছো?


আয়ান- ওই ছেলেকে প্রাপ্তি মনে হয় ছিনে।ওই ছেলের সাথে প্রাপ্তির এমন কোনো যোগ আছে যা দেখে প্রাপ্তির সহ্য হয়নি। আমার মনে হয় প্রাপ্তির সাথে যে ঘটনা ঘটেছিলো ওই ছেলের ওই ঘনার সাথে কোনো না কোনো যোগ আছে।আপনি এখন এই ব্যাপারে কাউকে কিছু বলার দরকার নেই।আমি খবর নিয়ে দেখছি।

বলেই আয়ান রুম থেকে বেরিয়ে এলো প্রাপ্তির কাছে যাবে বলে।প্রাপ্তি রুমে গিয়ে দেখে পুরোটা রুম অন্ধকার হয়ে আছে।আয়ান লাইট ধরিয়ে দেখে প্রাপ্তি এক কোনায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে।

আয়ানকে লাইট ধরাতে দেখে প্রাপ্তি চোখমুখ কুঁচকে আয়ানের দিকে তাকালো।

আয়ান এসে প্রাপ্তির পাশে বসলো।প্রাপ্তির এক হাতকে নিজের হাতের মুঠির মধ্যে নিয়ে শক্ত করে ধরে,আমি তোমাকে জিজ্ঞাস করবো না ছেলেটা কে? বলবোনা ছেলেটাকে দেখে তুমি কেনো চিৎকার দিয়েছো।শুধু এইটুকু বলবো ছেলেটাকে কি শাস্তি হলে তুমি খুশি হবে?কথাটা শুনে প্রাপ্তি নিজের টলমল করা দুটো চোখ নিয়ে আয়ানের চোখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

সারাটা পৃথিবী এক দিকে আর আমার কাছে তুমি আরেক দিকে।প্রাপ্তি তোমার অতীত তোমার সামনে আসবেই তাই বলে তুমি ভেঙে পড়বে? তুমি যতো ভেঙে পড়বে এই সমজের লোক গুলো তোমাকে দেখে মজা নিবে।কেউ তোমার ভালো চাইতে আসবে না। তারা চাইবে না তুমি এই সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁছো ।এই সমাজের সব লোক তোমাকে এক চোখে দেখবেনা।নিজের মনকে শক্ত করে এই সমাজে বাঁছতে শিখো।আমি তোমার পাশে আছি আর সারাজীবন থাকবোও। তোমার প্রতি আমার কখনো কোনো ভালবাসার কমতি হবেনা।কথা গুলো বলেই আয়ানের চোখে পানি টলমল করছে।কিন্তু প্রাপ্তির সামনে এই চোখের পানি গুলো আমায় যে লুকাতে হবে,তাই  উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। প্রাপ্তি হঠাৎ করে এসে আয়ানকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে  বলতে লাগলো তুমিই আমার জীবনের একমাত্র মানুষ যে আমাকে নিস্বার্থ ভাবে ভালোবাসে।




চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url