ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৯

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ১৯

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ১৯


আসিফের বিয়ের সব কিছু মিটে গেছে।আকাশ সুমিকে ডেকে বলছে সব কিছু গুছিয়ে নিতে আজ তারা বাড়ি চলে যাবে।আকাশে কথা শুনে নিহাদও একি কথা বলছে।নিলিমা বেগম তাদের চলে যাওয়ার কথা শুনে মন খারাপ করে, বাবা আকাশ!  তোমরা সত্যিই আজ চলে যাবে? আরো দুই দিন থেকে যাও।বিয়ের ঝামেলাতে তোমাদের তেমন আদর যত্নআত্তি করতে পারিনি।নিহাদ! বাবা তুমিও অমত করোনা।


নিহাম -আন্টি আমি সব কাজ পেলে এখানে ছুটে এসেছি শুধু আপনাদের সাথে আনন্দটা ভাগাভাগি করবো বলে।আমার অফিসে কাল গিয়ে জয়েন হতে হবে।


নিলিমা -আকাশ তুমি আর সুমি না হয় আরো দুটো দিন থাকো।


আয়ান আর প্রাপ্তি এসে, কি হয়েছে মা?


নিলিমা বেগম -আকাশ আর নিহাদ বলছে চলে যাবে। তাই ওদের বলছি আরো দুই দিন থেকে যেতে।নিহাদ বলছে কাল ওর অফিসে জয়েন করতে হবে।এইজন্য আকাশকে বললাম থেকে যেতে।


আয়ান -হে রে ভাইয়া!  তুই আরো দুই দিন থেকে যা পরে আমরা সহ এক সাথে চলে যাবো।

আকাশ -না আয়ান তুই তো আব্বুকে চিনিস।সত্যি কথা বলতে আমি আব্বুকে এখানে আসবো এইটা বলিনি।আমি শুধু বলেছি সুমিকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। আব্বু আর কিছু জিজ্ঞাস করেনি কোথায় যাবো বা অন্য কিছু। আমি শুধু তোদের কথা রাখার জন্যই এসেছি।(প্রাপ্তির কাছে এগিয়ে এসে তার মাথায় হাত রেখে)আমার এই ছোট্র বোনটার আবদার টা রাখার জন্যই আসলাম।


আয়ান -ঠিক আছে তাহলে তোদের আর আটকাবো না।তবে আবার কখন দেখা হয় কি জানে।


ঝিনুক -শীঘ্রই দেখা হবে।কারণ অভ্রর বিয়েতে আমরা বর পক্ষ হয়ে আসতে হবে না?

ঝিনুকের কথায় সবাই অট্র হাঁসি দিয়ে,

প্রাপ্তি -রাইট আপু!তবে এর আগেই হয়তো দেখা হবে তবে সেটা সারপ্রাইজ হিসেবে থাক।

নিহাদ -ওকে প্রাপ্তি!  তোমার সারপ্রাইজের অপেক্ষায় রইলাম।

সন্ধ্যার আগেই আকাশ আর নিহাদরা বেরিয়ে পড়লো।আকাশ বাসায় আসতে আসতে রাত হয়ে গেছে।রফিক মেইন দরজা খুলে দিয়ে, ভাইয়া আপনারা চলে আসছেন? ভালোই করছেন বাড়িটা আপনাগোরে ছাড়া ভালো লাগেনা।আকাশ আর সুমি ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে,

আকাশ -রফিক চাচা আব্বু কোথায়? আম্মুকেও তো দেখছিনা।

আয়েশা বেগম এসে, এইতো আকাশ তোরা চলে এলি? তবে ভালো হয়েছে।বাহিরের থেকে এসেছিস উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।

সুমি আয়েশা বেগমের দিকে এগিয়ে এসে মা শরীরের কি অবস্থা? এই কয়দিন আমার এই মা কে কতো মিস করেছি তা বলে বুজাতে পারবোনা।


আয়েশা বেগম- হে আর পাম দিতে হবে না।আমার মেয়েটা যে আমায় কতো মিস করেছে সেটা আমি বুজেছি।এখন যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।


প্রাপ্তিদের বাড়ির সবাই রাতে খেতে বসেছে,আজাদ সাহেব নীরাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেনো? 


অরণী -আব্বু ওনি আগের দাদীদের নিয়ম পালন করছেন।কতো বার করে আমি বললাম খেতে বসো, না ওনি মায়ের সাথে এক সঙ্গে খাবেন।প্রাপ্তি এসে বসতে বসতে কি হয়ে চেঁচাচ্ছিস কেনো? আস্তে করে বললেই তো হয়।

অরণী -হুম আরেক জন এসে জুটেছে।ইনি আর কম কিসের। একি দাঁড়িপাল্লার লোক।

কথাটা শুনে রেশী ফিক করে হেঁসে দিতেই। আয়ান অরণীর দিকে তাকিয়ে,এতোদিন পর একটা কাজের কাজ করছো।


অরণী -কি বলতে চাইছো এতো দিন আমি অকাজ কুকাজ করে বেড়াতাম নাকি?

আপু তোর এই আয়ানকে সামলা বলে দিলাম পরে কিন্তু ঠেলা বুজবে এই অরণীর পিছনে লাগলে কি হয়।


আয়ান -আচ্ছা সিয়াম!  তুমি এই দজ্জালটাকে সামলাও কি করে। রেশী ওর কথা শুনে হাঁসলো বলেই কথাটা বললাম।আর ও কি উল্টাপাল্টা বকবক করেই যাচ্ছে।

সিয়াম -একমাত্র আপনিই আমার কষ্টটা বুজেছেন।


অরণী -কিহ আমি দজ্জাল?ঠিক আছে দজ্জাল কাকে বলে আমি বুজিয়ে দিবো।


আসিফ -আয়ান এর সাথে আর কথা বলার দরকার নেই। না হলে সত্যি কি করে না করে এর কোনো বিশ্বাস নেই।


প্রাপ্তি -নীরা তুমি বসো। আব্বু!  কাল আমরা চলে যাবো সকাল বেলা।


আজাদ সাহেব -কি বলিস তোরাও চলে যাবি? 


প্রাপ্তি -তোমার দুই মেয়ে গেলে কি হয়েছে তোমার আরেক মেয়ে আসছে।এখন তার একটু আদর যত্ন খাও।কি বলিস অরণী?


অরণী -হুম আপু ঠিকি বলেছে।ভাবী তুমি আমাদের আদরে ভাগ বসিয়ে দিলে?যাক ভালোই।

সবাই খাওয়া দাওয়া করে  ঘুমাতে চলে গেলো।সকালে উঠে প্রাপ্তিরা নাস্তা করে রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলো।অভ্র আর রেশীর বিয়েটা ঠিক হলেও রেশী আর অভ্রর তেমন কথা হয়না।

প্রাপ্তি রান্না করতে ব্যস্ত,  রেশী কলেজ থেকে এসে দেখে প্রাপ্তি রান্না করা নিয়ে খুব ব্যস্ত।রেশী চেঞ্জ করে এসে ভাবী তুমি এখনো রান্না করছো।দেখি আর কি লাগবে আমাকে বলো আমি তোমাকে হেল্প করছি।


প্রাপ্তি -আর বলিস না, তোর ভাইয়া হঠাৎ ফোন করে বললো অভ্র আর নিশান ভাইয়া আসবে তাই একটু ব্যস্ত হয়ে পরলাম। 

কথাটা বলতে না বলতেই কলিংবেলের শব্দ শুনে ওই যে ওরা মনে হয় এসে গেছে তুই গিয়ে দরজাটা খুলে দে আমি আসছি।


রেশী কথাটা শুনেই গলাটা যেনো শুকিয়ে আসছে।ভাবী আমি যাবো?


প্রাপ্তি -হ্যাঁ যাও। দরজাটা খুলে দিয়ে আসো।রেশী আর কিছু না বলে গিয়ে দরজা খুলে দিলো।আয়ান মুচকি হেঁসে কিরে দরজা খুলতে এতো দেরি কেনো তোর? 


প্রাপ্তি এসে আরে সে অভ্রর কথা শুনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভেবেছে সে দরজা খুলবে কি না তারপর আমি বলাতে এসে দরজা খুলে দিলো।


অভ্র রেশীর দিকে তাকিয়ে,আমার মনে হয় এইখানে আসাটা রেশীর কাছে ভালো লাগেনি তাই হয়তো দরজা খুলতে চায়নি।


রেশী প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে ভাবী ওনি কিন্তু আমায় মিথ্যা অপবাদ দিতেছে।আমি এইরকম কোনো কিছুই মনে আনি নি।


আয়ান -অভ্র তুই আমার বোনটা কে কেনো এই অপবাদটা দিচ্ছিস?  তোর কিন্তু একদম উচিত হয়নি।বলে হাঁসতে শুরু করলো।


প্রাপ্তি -আচ্ছা তোমাদের দুজনকে দেখছি, নিশান ভাইয়া এখনো আসিনি কেনো?


আয়ান -আর বলো না।ও আসতে ছেয়েছিল নীরা ফোন করেছিলো তোমাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য তাই ও এইখানে না এসে তোমাদের বাড়িতে গেছে।অভ্র তুই বস আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।প্রাপ্তিকে রুমে যাওয়ার জন্য ইশারা করে রুমে চলে গেলো।

প্রাপ্তি-আচ্ছা তোমরা বসে কথা বলো আমি আসছি।

প্রাপ্তি কথাটা বলে আয়ানের পিছুপিছু চলে গেলো।রেশীও চলে যাবে এমন সময় অভ্র বলেতে লাগলো,চলে যাচ্ছো কেনো? তুমি আমাকে দেখে এমন ভাব করো যে আমার সাথে তোমার কোনো সম্পর্কই নেই।রেশী! কয়েকদিন পর আমাদের বিয়ে। এখনো তুমি দূরে সরে থাকবে?


রেশী -(নিজের নিরবাতা ভেঙে) সেইদিনের ঘটনার জন্য সরি।আমার জন্য আপনাকে কতো অপমান সহ্য করতে হয়েছে। আসলে আপনিই বলুন আমার জায়গা থাকলে আপনি কি করতেন?


অভ্র মুচকি হেঁসে বসা থেকে উঠে রেশীর কাছে এসে সামনে দাঁড়িয়ে, তোমার জায়গায় থাকলে আমি কি করতাম জানো? যে ছেলের সাথে আমার বিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার সাথে দেখা করতে চাইতাম।তাকে জানতে চাইতাম।সে কি আমার ভালোবাসার যোগ্য কিনা পরিক্ষা করার চেষ্টা করতাম।


রেশী অভ্রর কথা গুলো শুনে নিচের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে,বুজেছি আমার ভুল ছিলো।আচ্ছা আপনি আমার সাথে তাহলে দেখা করেননি কেনো? আমি না হয় দেখা করতে বলিনি কিন্তু আপনি কেনো করেননি?


অভ্র -আমি দেখা করতে অনেক বারই বলেছিলাম।কিন্তু তোমার সৎ মা বলেছিলো তুমি নাকি দেখা করতে চাওনা।তাই আমিও আর জোর করেনি।


রেশী -আচ্ছা পরে যখন এই বাসায় আপনার সাথে আমার দেখা হয়েছিলো তখন বলেননি কেনো?


অভ্র- বন্ধুত্ব হারানোর ভয়ে।হয়তো তখন বললে আয়ান আমায় ভুল বুজতো এই ভয়ে বলিনি।সব কিছুরই একটা সময়ের প্রয়োজন হয় রেশী।


রেশী -হুম। আপনি বসুন এখুনি ভাইয়া এসে যাবে।আপনার আর একা লাগবেনা।


অভ্র -কে বলেছে আমি এইখানে একা আছি।আমার সাথে এমন একজন আছে যাকে আমি পৃথিবীর সবছেয়ে কাছের

মানুষটাই ভাবি।আচ্ছা সেই কি সারাজীবন আমার পাশে থাকবে? নাকি মাঝ পথে আবার আমাকে ছেড়ে পালাবে?তবে এইবার সে পালাতে চাইলেও পালাতে দিবোনা বলে দিলাম।কথাটা শুনে রেশী লজ্জা পেয়ে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেলো।


প্রাপ্তি অনেকক্ষণ আয়ানের জন্য অপেক্ষা করে, কই গো তোমার হলো?কখন সে ফ্রেশ হতে ঢুকলে এখনো বের হয়ে আসছো না কেনো?


আয়ান ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে, কথাটা আবার বলো তো।


প্রাপ্তি -কোন কথা?  


আয়ান -ওইযে একটু আগে বললা না,কই গো তোমার হলো।তোমার কথাটা একদম বুকের বাম পাশে লাগছে।এখন যে আবার শুনতে ইচ্ছে করছে।


প্রাপ্তি -ফাজিল একটা। অভ্র ভাইয়া কখন থেকে একা একা বসে আছে, খাবেটা কখন?


আয়ান -(দুষ্টু একটা হাঁসি দিয়ে)কোথায় একা রেখে এলাম। সাথে তার প্রেমিকা দিয়ে আসলাম কথা বলার জন্য আর তুমি বলছো একা একা।


প্রাপ্তি-(ভ্রু গুলোকে কুঁচকে) কিহ্ তুমি না ওর ভাই। নিজের বোনকে,,,ছিঃ ছিঃ


আয়ান-এই তুমি ছিঃ ছিঃ করছো কেনো? আমি ভাই ঠিক আছে,কিন্তু আমি বন্ধুও।আর অভ্রর প্রতি আমার সেই বিশ্বাস আছে, সে এমন কোনো কাজ করবেনা যেটা আমার খারাপ লাগবে। এখন চলো অনেক ক্ষুধা লাগছে বউয়ের হাতের রান্না খাবো বলে বাহিরের থেকে খেয়ে আসিনি।


প্রাপ্তি -আচ্ছা চলো।

দুজনে গিয়ে দেখে অভ্র একা বসে বসে বই পড়ছে,

আয়ান এসে কিরে অভ্র রেশী কোথায় ওকে দেখছিনা।


অভ্র -আয়ান! ও মনে হয় ওর রুমে চলে গেছে।


আয়ান-তুই এতো আনরোমান্টিক কেনো?


অভ্র-মানে?


আয়ান -(বিরক্তিকর ভাব নিয়ে)কিছুনা এখন খেতে আয়।


কিছুদিন পর,,,,,,,,,,,,,,,,


আয়ান অফিস থেকে বাসায় এসে দেখে প্রাপ্তি রুমে নেই। ওয়াশ রুমে আছে ভেবে নিজের জামা কাপড় চেঞ্জ করে রেশীকে ডেকে চা দিতে বলে বারান্দায় গিয়ে বসলো।প্রাপ্তি তো ওয়াশ রুমেই আছে আমার কাছে এতোটা খারাপ লাগছে কেনো।মনে হচ্ছে প্রাপ্তি বাসায় নেই।নাহ আগে গিয়ে দেখে আসি বলে উঠতে যাবে তখনি রেশী এসে চায়ের কাপ টা হাতে দিয়ে চলে গেলো।আয়ানের কেমন জানি খটকা লাগছে, রেশী এতো গম্ভীর হয়ে আছে কেনো।অবশ্য ও তো এমনিতেই আমার সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না।অনেক মেয়ে আছে অনেক চটপটে কিন্তু রেশী শান্ত প্রকৃতির মেয়ে,চা টা খেতে খেতেই কথা গুলো ভাবছে আয়ান।কিন্তু প্রাপ্তি এতক্ষণ ওয়াশ রুমে কি করছে। আমি বাসায় এসেছি এতক্ষণ হয়ে গেলো,,, না না আমি নিজেই দেখে আসি বলেই উঠে চায়ের কাপ টা রেখে ওয়াশ রুমে গিয়ে দেখে দরজা খোলা কিন্তু ভিতরে কেউই নেই।প্রাপ্তিকে না দেখে আয়ানের বুকের ভেতর টা জেনো ধুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।কোথায় গেলো প্রাপ্তি?  ও তো আমাকে না বলে কোথাও যাবেনা।

নাহ্ রেশীকে জিজ্ঞাস করে দেখি। কোথায় গেছে ও।

রেশী!  রেশী!  ডাকতে ডাকতে ড্রইংরুমে এসে দেখে রেশী বসে চোখেরজল পেলছে। 

রেশী তুই কান্না করছিস কেনো? তোর ভাবী কোথায়?


রেশী- ভাইয়া আমিও কলেজ থেকে এসে দেখি ভাবী বাসায় নেই। কোথায় গেছে আমি কিছুই জানিনা।আমি ভেবেছিলাম তোমার সাথে আছে কিন্তু তুমি যখন অফিস থেকে একা বাসায় এলে তখন বুজলাম তোমার সাথে নেই।ভাইয়া ভাবী কোথায় গেছে তুমিও জানো না?আমার খুব খারাপ লাগছে ভাবীর জন্য।

রেশীর কথা শুনে আয়ানের ধম বন্ধ হয়ে আসছে।ঘরের চারদিকটা যেনো ঘুরছে।প্রাপ্তির কোনো বিপদ হলো নাতো?



আবিদ চৌধুরী আর আকাশ বসে চা খাচ্ছে।আয়েশা বেগম আর সুমি কোনো একটা কথা নিয়ে হাঁসা হাঁসি করছে।রফিক আকাশের রুমে গেছে অফিসের ফাইল নিয়ে আসতে।এমন সময় কলিংবেলের শব্দ শুনে আবিদ চৌধুরী আকাশকে বললো তুই বস আমি গিয়ে দেখছি।আবিদ চৌধুরী উঠে গিয়ে দরজাটা খুলতেই অবাক হয়ে চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।আর যার দিকে তাকিয়ে আছে সে এক গাল হাঁসি দিয়ে আবিদ চৌধুরীর পা ছুঁয়ে সালাম করে উঠে দাঁড়িয়ে আরে বাবা আপনি এই ভাবে মুক্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলে আমি ঘরে ঢুকবো কি করে?  সরেন তো সরেন! কথাটা বলেই আবিদ চৌধুরীকে  হাত দিয়ে সরিয়ে ঘরে ঢুকলো।ঘরে ঢুকতেই সবাইও অবাক হয়ে তাকিয়ে, প্রাপ্তি! 


প্রাপ্তি -হুম আমি! আরে আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?  তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে আমাকে বরণ করে ঘরে তুলুন।


আয়েশা বেগম আর সুমি আবিদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আছে,মনে হচ্ছে প্রাপ্তিকে এইভাবে হঠাৎ দেখে মাথায় কোনো কাজ করছে না আবিদ চৌধুরীর, কি করবে তাই হেবলার মতো তাকিয়ে আছে।


প্রাপ্তি আকাশের দিকে তাকিয়ে, ভাইয়া আপনি ঠিক আছেন তো? যে ভাবে আমাকে দেখে হা করে আছেন মশা ডুকে যাবে। হা টা বন্ধ করুন।

প্রাপ্তির কথা শুনে আকাশও থ হয়ে গেছে।

আবিদ চৌধুরী এইবার নিজের নিরবতা ভেঙে প্রাপ্তির কাছে এগিয়ে এসে, এই মেয়ে কখন থেকে যাকে যা ইচ্ছে বলে যাচ্ছো ব্যাপার টা কি তোমার? এই বাড়িতে এসেছো কেনো? এতো বড় সাহস কে দিয়েছে তোমাকে আমার বাড়িতে আসার?


প্রাপ্তি -(মুখটাকে একটু গম্ভীর করে) শুনুন আমি আপনার বাড়ি আসিনি আমি এসেছি আমার শ্বশুর বাড়ি। তাই আপনাকে কে অধিকার দিয়েছে আমাকে এই বাড়ি থেকে বাহির করার?


আবিদ চৌধুরী -কথাটা ভালো করে যাচাই না করে)হ্যাঁ তা ঠিক।(মনে পড়তেই) এই না কি বলছো উল্টাপাল্টা এইটা আমার বাড়ি।আর আমি তো তোমার শ্বশুর।


প্রাপ্তি -(মুচকি হেঁসে)বাবা তাহলে আপনি শিকার করছেন আমি আপনার ছোটো বউ।


প্রাপ্তির কথাটা শুনে আবিদ চৌধুরী ভ্যাবাচেকা খেয়ে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে আছে। আর সবাই মিটমিট করে হাঁসছে।রফিক নেমে এসে প্রাপ্তিকে দেখে, মা মনি কেমন আছো?


প্রাপ্তি-রফিক চাচা আমি একদম পারফেক্ট। যার এইরকম একজন শ্বশুর আছে সে কি খারাপ থাকতে পারে?

কথাটা শুনে ফরিক ও হাঁসছে।

আবিদ চৌধুরী -এই মেয়ে!  তোমার মতলবটা কি সেটা বলো?  এইবাড়িতে কেনো এসেছো?


প্রাপ্তি -মাথায় এতো গোবর নিয়ে এতো বড় বিজনেসম্যান হলেন কি ভাবে?ব্যাগপত্র দেখেও বুজেন না আমি এই বাড়িতে থাকতে এসেছি।নাকি বুদ্ধিটাও মাথা থেকে গেছে।রফিক চাচা আপনাদের ছোটো ছেলে আগে যেই রুমে থাকতো আমার ব্যাগ গুলো সেই রুমে রেখে আসুন।(আবিদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে)আর হে এই বাড়িতে আমি বেড়াতে আসিনি।সারাজীবনের জন্য আসছি।


আবিদ চৌধুরী -না! এই বাড়িতে তোমার কোনো জায়গা নেই।তাড়াতাড়ি আমার বাড়ি থেকে বিদায় হও।


প্রাপ্তি-বাবা আমি আপনার ছেলের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করেই এইখানে এসেছি। যদি আপনি আমাকে এখন এই বাড়ি থেকে বের করে দেন তাহলে আমার আর কোনো উপায় নেই সোজা থানায় যেতে হবে। আর থানায় গেলে সবাই জানতে পারবে বিখ্যাত বিজনেসম্যানের ছোটো ছেলের বউ তাদের নামে থানায় মামলা করেছে।তারপর কি হবে বাবা।থাক আমিই বলছি।কাল পেপারে বাহির হবে। টিভিতে দেখানো হবে,সাথে আপনার ছবিও থাকবে।এখন আপনিই বলুন বাবা এইটাকি ভালো দেখাবে?(কথা গুলো বলে প্রাপ্তি মুখ টিপে টিপে হাঁসছিলো।)


প্রাপ্তির কথা শুনে আকাশ আবিদ চৌধুরীর পাশে গিয়ে ফিসফিস করে,আব্বু তুমি ওকে এই বাড়ি থেকে বাহির করো না।এই মেয়ে কি বলছে শুনেছো। যদি সত্যিই এমন কিছু করে তাহলে আমাদের কোনো মানসম্মান থাকবেনা। আমরা কাউকে মুখ দেখাতে পারবোনা।তোমার এতো দিনের সম্মান এক নিমিষেই শেষ।

আকাশের কথা শুনে আবিদ চৌধুরী হ্যাঁ সূচক বুজিয়ে,গলাটা ভালো করে কেশে,এই মেয়ে শুনো তোমার কোথাও যেতে হবে না।আজ থেকে তুমি এইবাড়িতেই থাকবে।তবে একটা শর্তে তুমি আমার সামনে বেশি আসবে না বলে দিলাম।কথা গুলো বলেই আবিদ চৌধুরী নিজের রুমে চলে গেলো।

আবিদ চৌধুরী যেতেই সবাই খুশিতে হাঁসতে লাগলো।আয়েশা বেগম প্রাপ্তিকে জড়িয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে কতো দিন পর তোকে দেখেছি।তুই কি সত্যিই আমার ছেলের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে এসেছিস।


প্রাপ্তি-আরে মা তুমিও না। ওর সাথে আমি ঝগড়া করবো কেনো।আচ্ছা আমি ফ্রেশ হয়ে এসে ওকে কল দিচ্ছি।


আয়ান প্রাপ্তিকে না খুঁজে পেয়ে অস্থির হয়ে আছে।আসিফ কে ফোন করে বলতেই সবাই এই বাসায় চলে এসেছে।


নিলিমা বেগম প্রাপ্তির রুমে বসে কান্না করতে করতে, আয়ান! আমার মেয়েটার কি এমন হলো কাউকে কিছু না বলে এইভাবে বাসা ছেড়ে চলে গেছে? মেয়েটা কোথায় আছে কি করছে কেউ কিছু বলতে পারছেনা।আমার মেয়েটার আবার নতুন কোনো বিপদ হলো না তো।


আয়ান- (কাঁদোকাঁদো হয়ে)মা! ও তো ফোন ও অফ করে রেখেছে।কি করবো আমার মাথায় কিছু আসছে না।


এমন সময় ফোন বাজতেই ফোন হাতে নিয়ে দেখে প্রাপ্তির নাম্বার থেকে কল।তড়িঘড়ি করে ফোন রিসিভ করেই,হ্যালো!  প্রাপ্তি তুমি কোথায়?  কোথায় গেছো কাউকে কিছু না বলে? তুমি জানো না তোমাকে না দেখলে আমি পাগল হয়ে যাই।তুমি আমাকে এইভাবে একা রেখে কোথায় গেলে প্রাপ্তি।কথা গুলো বলেই ভেঙে পড়লো আয়ান।


প্রাপ্তি -তুমি আমার কথাটা শুনো প্লিজ,এইভাবে কান্নাকাটি করোনা।আসলে আমি তোমাকে বলে আসতাম।কিন্তু আমি জানি তোমাকে বললে তুমি কখনোই আমাকে আসতে দিতে না।তাই আমি কাউকে কিছু না বলে চলে আসছি। আর আমি অনেক ভালোও আছি।


আয়ান- (চোখ মুছতে মুছতে)কোথায় আছো তুমি?তুমি বলো আমি এখুনি আসছি।


প্রাপ্তি -না! তুমি এখন আসবে না।আমি তোমাকে বলেছিলাম না আমি তোমাকে তোমার মা, বাবা সবাইকে ফিরিয়ে দিবো। আর আমি সেই কাজটা সাকসেসফুল করার জন্যই আসছি তোমাদের বাড়িতে।তুমি টেনশন করোনা প্লিজ।


আয়ান- প্রাপ্তি আমার কাউকে লাগবেনা।যদি কখনো ভাগ্যে থাকে এমনিতেই আসবে।আর আবিদ চৌধুরী তোমাকে কখনো মেনে নিবেনা।প্লিজ তুমি চলে আসো।


প্রাপ্তি -তুমি একদম চিন্তা করোনা। আমি থাকার অনুমিত পেয়ে গেছি।


আয়ান- প্রাপ্তি!  তোমাকে ছাড়া আমি একা থাকবো? ইম্পসিবল আমি পারবোনা।আমি এখুনি তোমাকে নিতে আসছি।চুপচাপ এখন তুমি আমার সাথে বাসায় আসবে।


প্রাপ্তি অনেক বুজিয়ে সুজিয়ে আয়ান কে কোনোমতে রাজি করালো।

প্রাপ্তি -এইবার আম্মুকে ফোনটা দাও।(আয়ান নিলিমার কাছে ফোন দিতেই)আম্মু  শুনো আমি যতো দিন না আসছি। আয়ান আর রেশীর খেয়াল রেখো।আর আমি এসেই রেশী আর অভ্রর বিয়েটা দিবো।

প্রাপ্তি কথা শেষ করে দেখে সুমি পাশে দাঁড়িয়ে আছে,ভাবী কখন এলে?


সুমি-কিছুক্ষণ হলো তুই কথা বলছিস তাই ডিস্টার্ব করিনি।তবে তুই আজ যা খেল দেখালি না।আমি নিজেই অবাক হয়ে গেছি।তবে তুই এই বাড়িতে আসছিস আমার এখন খুব ভালো লাগছে।আচ্ছা আয়ান পাগল টা তোকে ছাড়া থাকবে কি করে?


প্রাপ্তি-জানিনা অনেক তো বুজালাম। কখন আবার কি করে বসে আল্লাই ভালো জানে।


সুমি-আচ্ছা এখন খেতে চল।পরে তোর সাথে অনেক কথা বলবো আড্ডা দিবো।


সুমি আর প্রাপ্তি এসে দেখে আকাশ আর আবিদ চৌধুরী খেতে বসে গেছে।প্রাপ্তি এসে আবিদ চৌধুরীর পাশের চেয়ারটায় বসলো।

প্রাপ্তিকে দেখে আবিদ চৌধুরী বিরক্তিকর ভাব নিয়ে, এই বাড়িতে কি শান্তিতেও খেতে পারবো না।যখন তখন যে কেউ সামনে এসে পড়ে।

প্রাপ্তি আয়েশা বেগমের দিকে তাকিয়ে,মা!  বাবা আপনাকে কি বলছে শুনেননি।যখন তখন সামনে আসেন কেনো?  বাবা আপনার জন্য শান্তিতেও খেতে পারছেনা।

প্রাপ্তির কথা শুনে আবিদ চৌধুরী থতমত হয়ে, এই মেয়ে আমি কখন এই ওকে এই কথা বললাম? তুমি তো দেখছি পাজি মেয়ে।আয়েশা বেগম বুজতে পেরে লুকিয়ে লুকিয়ে হাঁসছে।আকাশ আর সুমি হাঁসি আসছে দেখে মুখে হাত দিয়ে রেখেছে।


প্রাপ্তি-বাবা আপনি মিথ্যা বলেন এইটা তো জানতাম না একটু আগেই তো আপনি কথা গুলো বলেছেন।যাইহোক বাবা খেয়ে নিন। মনে এতো চিন্তা রাখলে শান্তিতে খেতে পারবেন না।

আবিদ চৌধুরী মনে মনে ভাবছে এই মেয়েতো দেখছি পুরোই সাংঘাতিক যা বলি সবি উল্টো করে ফেলে।



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url