ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ২০

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ২০

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ২০


আবিদ চৌধুরী ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।চশমাটা খুলে পাশের বক্সের উপরে রাখতে রাখতে,আয়েশা লাইটা অফ করে দাও।কথাটা বলতেই দরজা ধাক্কানোর শব্দ পেয়ে,


আবিদ চৌধুরী -এতো রাতে দরজা ধাক্কাচ্ছে কে?

আয়েশা বেগম -তুমি শুয়ে পড়ো আমি দেখছি।

আয়েশা বেগম উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই প্রাপ্তি আয়েশা বেগমকে দরজা থেকে সরিয়ে ভিতরে ঢুকে, মা! আমি এইখানে ঘুমাবো তোমাদের সাথে।ওই রুমে আমার একা একা খুব ভয় লাগছে।

আবিদ চৌধুরী উঠে বসে, এই মেয়ে! কি যা তা বকছো?তুমি আমাদের সাথে ঘুমাবে মানে? যাও নিজের রুমে যাও।


প্রাপ্তি -বাবা আপনি যদি আমাকে এইখানে না ঘুমাতে দেন আমি কিন্তু কান্না করবো বলে দিলাম।


আবিদ চৌধুরী -এইটা কোনো ভাবেই সম্ভব না।আমি এইটা কিছুতেই মেনে নিবো না।তোমার সব কথা শুনতে আমি বাধ্য নয়।


প্রাপ্তি- ঠিক আছে আমি যখন এইখানে ঘুমাতে পারবোনা তাহলে মা আমার রুমে আমার সাথে ঘুমাবে।কি এইবার রাজি?


আবিদ চৌধুরী -(তোতলাতে তোতলাতে)এএএইইই মে মেয়ে!  তো তো তোমার  সমস্যা কি?


প্রাপ্তি -(নাক টা কুঁচকিয়ে) একি বাবা আপনার তোতলানোর ও অসুখ বিসুখ আছে নাকি? কই আপনার ছেলের মুখ থেকে কখনো শুনিনিতো।অবশ্য নিজের বাবার এইরকম একটা সমস্যা নিজের মুখে বলবেইবা কি করে।সমস্যা নেই এখনতো জেনে নিলাম।


আবিদ চৌধুরী -আয়েশা এই মেয়ে টা আমাকে পাগল করে ছাড়বে।প্লিজ ওকে এইখান থেকে যেতে বলো।


আয়েশা বেগম কিছু বলতে যাবে, তখনি প্রাপ্তি ওনাকে থামিয়ে,মা!  কি বলবে শুনি।আপনার ছেলে আমার সাথে ঝগড়া করে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।আমি তো ওর সাথেই এতো দিন ঘুমাতাম এখন হঠাৎ করে তো একা ঘুমানো যায়না।তাই আমি মা কে নিয়ে যাচ্ছি।যেদিন আপনার ছেলে আসবে সেইদিন থেকে মাও আপনার সাথে ঘুমাবে।


আবিদ চৌধুরী নিরুপায় হয়ে গম্ভীর গলায়,  আয়েশা যাও!  ওর সাথে ঘুমাও।না হলে এই মেয়ের কোনো বিশ্বাস নেই এইখানেই ঘুমিয়ে পড়বে।

কথাটা বলতেই প্রাপ্তি মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে thankyou বাবা।বলে আয়েশা বেগমকে টেনে নিজের রুমে নিয়ে গেলো।

আয়েশা বেগম খাটের উপর বসতে বসতে প্রাপ্তি তুই কি শুরু করলি বলতো?


প্রাপ্তি -মা! বাবাকে জব্দ করতেছি।তুমি আর আমি আজ সারারাত বসে গল্প করবো।


আয়েশা বেগম- এই কোন প্রাপ্তিকে দেখছি।আমি তো চিনতেই পারছিনা।যে প্রাপ্তি শান্ত চুপচাপ হয়ে থাকে সেই প্রাপ্তি চঞ্চল হয়ে উঠেছে এইটা আমি ভাবতেই পারছিনা।


প্রাপ্তি আয়েশা বেগমের কোলে মাথা রাখতে রাখতে বললো,মা! আমার জন্যই তো তোমরা মা ছেলেকে আলাদা হতে হয়েছে।তাই আমিই তোমাদের একসাথে করবো।


আয়েশা বেগম- লক্ষ্মী একটা মেয়ে।আচ্ছা তুই শুয়ে পড় আমি তোর বাবাকে একবার দেখে আসি।আজ কয়েক দিনথেকে ওনার শরীরটা ভালোনা।তবেঁ কাউকে বলেনা। নিজেকে সমসময় স্ট্রং দেখিয়ে চলে।কাউকে বুজতেই দেয়না ওনার শরীরটা যে ভালোনা।


প্রাপ্তি-মা!  তুমি শুয়ে পড় আমি দেখে আসছি।

প্রাপ্তি উঠে গিয়ে আবিদ চৌধুরী  রুমে গিয়ে দেখে একটা বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে পড়েছে।প্রাপ্তি বইটা সরিয়ে কাঁথা টা গায়ে দিয়ে লাইট অফ করে নিজের রুমে আসলো।আয়েশা বেগম প্রাপ্তিকে দেখে আয় তুইও শুয়ে পড়।


আয়ান চুপচাপ হয়ে নিজের রুমে খাটের এক কোনায় হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে।প্রাপ্তিকে ছাড়া যেনো তার সময় যাচ্ছেই না।নিজেকে খুব একা লাগছে।হঠাৎ জয়ের কথা মনে পড়তেই অভ্রকে ফোন দিলো।জয়কে আজ সকালে অভ্র এনে একটা রুমে আটকিয়ে রেখেছে।সারা দিনে প্রাপ্তির চিন্তায় খবর নেওয়া হয়নি।

__হ্যালো অভ্র তুই কোথায়? সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো?


অভ্র-আমি একটু আগেই বাসায় আসলাম।।

আর ছেলেটাকে এতো ভয় দেখালাম কোনো কিছুই বলছেনা।


আয়ান -এইভাবে ও কিছুই বলবে না।শুন ওর বোন একটা কলেজে পড়ে।আর যে কলেজে পড়ে সেই কলেজে আমার পরিচিত অনেকেই আছে কয়েটা ছবি তুলে তোকে সেন্ড করবো। ওকে দেখিয়ে বলবি তুই যদি সবকিছু সত্যিটা না বলিস তাহলে প্রাপ্তির সাথে যা করেছিস তোর বোনের সাথে তাই হবে।শুধু ওকে ভয় দেখানো জন্য কথা গুলো বলবি।আর ওই মেয়েটার কোনো অসম্মান হক সেটাও আমি চাইনা।


অভ্র -হুম তোর কথা  আমি বুজতে পেরেছি।আমাদের শুধু এইটাই দরকার অন্য ছেলেদের নাম গুলো।


আয়ান -তোকে আমি অনেক ভরসা করি রে অভ্র! তাই সব কথাই তোকে বলেছি।


অভ্র -আয়ান তোর মতো একজনকে আমি বন্ধু হিসেবে পেয়ে নিজেকে খুব গর্ববোধ করি।তোকে না দেখে আমি জানতেই পারতাম না একটা মানুষের ধৈর্যের ক্ষমতা কতোটুকু।


আয়ান মুচকি হেঁসে হ্যাঁ আমিও তোকে না দেখলে জানতাম না বউ পালিয়ে গেলেও সহ্য করা যায়।বলেই দুজনে হা হা হা হাঁসতে লাগলো।


সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাপ্তি নিজের হাতে সবার জন্য আজ নাস্তা বানাচ্ছে। রফিক বার বার বলতে লাগলো মা মনি তুমি পারবে না। আমিও তোমায় হেল্প করছি।


প্রাপ্তি -আপনি চিন্তা করবেনা আমি পারবো।আপনি শুধু দেখেন আমার কোনো ভুল হয় কিনা।


রফিক -তাহলে আগে আমি সাহেবকে চা টা দিয়ে আসি। ওনি আবার চায়ের দেরি হলে রাগারাগি করবেন।


প্রাপ্তি-রফিক চাচা!  ১ মিনিট দাঁড়ান!  বাবার চা টা বাদে সবাইকে চা দিয়ে আসুন।

আজ থেকে বাবার খালিপেটে চা খাওয়া নিষেধ। প্রাপ্তি এগিয়ে গিয়ে রফিকের থেকে চায়ের একটা কাপ রেখে দিলো।


রফিক -মা মনি সাহেব কিন্তু চা না হলে  চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলবেন।


প্রাপ্তি -চাচা তুমি যাওতো! চেঁচালে কিভাবে থামাতে হয় সেই ব্যবস্থা আমি করবো।


রফিক সত্যিই প্রাপ্তির কথা মতো সবাইকে চা দিয়ে আবার রান্নাঘরে আসলো।


আকাশ আর সুমি চা হাতে করে রুম থেকে বেরিয়ে এসে ড্রইংরুমে বসে,

সুমি-রফিক চাচা! চা টা কি আপনি বানিয়েছেন? চা টা কিন্তু দারুণ হয়েছে।

কি বলো আকাশ?


আকাশ -আমিও তাই ভাবছি।

রফিক এসে না চা টা তো আমি বানাইনি।আজ চা বানিয়েছে ছোটো মা মনি।ওই যে রান্নাঘরের দিকে দেখো সব নাস্তা নিজের হাতে বানিয়েছে।

সুমি রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে এই জন্যই তো বলি চা টা কেনো এতো ভালো হয়েছে আমাদের মিষ্টি বউরের বানানো চা বলে কথা।তবে প্রাপ্তি তুমি এইসব একা করতে গেলে কেনো আমাকেও ডাকতে আমিও তোমায় হেল্প করতাম।

প্রাপ্তি নাস্তা গুলো হাতে নিয়ে রান্না ঘর থেকে বের হয়ে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে ভাবী প্রতি দিন তো তোমরা বানিয়ে খাও আজকে না হয় একদিন আমি বানিয়ে তোমাদের খাওয়ালাম।

এমন সময় আবিদ চৌধুরী এসে এই বাড়িতে কি আমার কোনো গুরুত্ব নেই।এতো বেলা হয়ে গেলো আমার চা এখনো রুমে যায়নি।রফিক!  তোকে আর কতো দিন বলতে হবে সকালের চা টা আমার রুমে গিয়ে দিয়ে আসতে।


প্রাপ্তি  নাস্তা সবার প্লেটে রাখতে রাখতে, রফিক চাচাকে চেঁচিয়ে কোনো লাভ নেই।আমি বারণ করেছি সকালে আপনাকে চা না দিতে।এতো না চেঁচিয়ে এইখানে এসে চেয়ারে বসুন নাস্তা খেয়ে তারপর চা খাবেন।

আবিদ চৌধুরী বিরক্তিকর ভাবে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে, আয়েশা! আয়েশা! কোথায় তুমি।আয়েশা বেগম সিঁড়ি থেকে নামতে নামতে, কি হয়েছে তোমার সকাল না হতেই চেঁচামেচি শুরু করেছো?


আবিদ চৌধুরী -আমি চেঁচামেচি করবো না তো কি করবো।এই বাড়ির এতো দিনের আইন টা কি চেঞ্জ হলো নাকি? আমার কথার কি কোনো দাম নেই?

প্রাপ্তি -বাবা! এইটা কি কোনো থানা নাকি? 


আবিদ চৌধুরী -আয়েশা এই মেয়ে দেখছি এই বাড়ির বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। আমি থানার কথা বললাম কখন?


প্রাপ্তি-এইযে একটু আগে যে আইনের কথা বলছিলেন তাই ভাবলাম আর কি।


আয়েশা বেগম -আচ্ছা হয়েছেটা কি সেটা তো বলবা? শুধু শুধু কথা বাড়িয়ে যাচ্ছে।


আবিদ চৌধুরী -আমার সকাল বেলার চা নিয়েও এই মেয়ে আপত্তি করছে।

আবিদ চৌধুরী আর কিছু বলার আগেই প্রাপ্তি বলতে লাগলো,হ্যাঁ আমার আপত্তি আছে ঘুম থেকে উঠে চা খাওয়া একদম নিষেধ। নাস্তা করে তারপর চা খাবেন।


আয়েশা বেগম -(প্রাপ্তির কথা শুনে মিটমিট করে হাঁসতে হাঁসতে) আমি এইখানে কি আর বলবো।তোমাদের বউ শ্বশুরের ব্যাপার।


আকাশ আর সুমিও কোনো কথা বলছেনা।চুপ করে নাস্তা করতে বসে গেলো।আবিদ চৌধুরীও নিরুপায় হয়ে নাস্তা করতে বসলো।প্রাপ্তি অনেক রকমের নাস্তা বানিয়েছে।তার সাথে বিরিয়ানি টা করেছে।কারণ আবিদ চৌধুরী বিরিয়ানি খেতে খুবি পছন্দ করে।আয়ানের কাছ থেকে অনেক বার শুনেছে প্রাপ্তি এই কথা।নিজের অজান্তেই আবিদ চৌধুরী খেতে খেতে বললো খাবার গুলো অসাধারণ হয়েছে।সুমি তুমি করেছো রান্নাটা?


সুমি কিছু বলার আগেই, প্রাপ্তি বলতে লাগলো,জ্বী না বাবা!  আমি করছি।আজ ফাস্ট দিন বলে কিছু বলছিনা। কাল থেকে আপনাকে খাবার মেপে মেপে খেতে হবে মানে ডায়েট করতে হবে।আর সব কিছুর নিয়ম মেনেই চলতে হবে।


আয়েশা বেগম -প্রাপ্তি কিন্তু কথাটা খারাপ বলেনি তোমাকে।


আবিদ চৌধুরী চুপ করে শুনেই যাচ্ছে।তবে প্রাপ্তি কথা গুলো আস্তে আস্তে ভালোই লাগছে। মেয়েটা ঠিকি বলেছে আমার সবকিছু অনিয়ম ভাবেই চলছে।আবিদ চৌধুরী খাওয়া শেষ করে উঠে গেলো রেডি হতে, অফিসে যাওয়ার জন্য।আকাশ প্রাপ্তির মাথায় টোকা দিয়ে, অল দ্যা বেস্ট। বলে নিজেও উঠে গেলো রেডি হতে।


প্রাপ্তি -মা!  আপনার খেয়ে নিন আমি আপনার ছেলেকে একটা ফোন দিয়ে আসি। কি করছে কি জানে।


প্রাপ্তি ফোন হাতে নিয়ে দেখে আয়ান অনেক গুলো কল দিয়ে রেখেছে।



প্রাপ্তি ফোন হাতে নিয়ে দেখে আয়ান অনেক গুলো কল দিয়ে রেখেছে।প্রাপ্তি ফোন দিতেই আয়ান ফোনের ওপাশ থেকে জোরেশোরে বলতে লাগলো, কতবার ফোন দিয়েছি তোমায়? সকাল থেকে কোথায় ছিলে তুমি? আমার খবর নেওয়া একবারও প্রয়োজন মনে করলেনা তুমি?এই আয়ান তোমায় ছাড়া কতটা নিষঙ্গ তুমি সেটা জানো? নাকি জেনেও না জানার ভাণ করো?কথা গুলো এক নিশ্বাস এ বলে গেলো আয়ান।প্রাপ্তি কথা গুলো শুনে দীর্ঘশ্বাস পেলে,সরি, আসলে সকাল থেকে একটু ব্যস্ত ছিলাম।


আয়ান- (তাচ্ছিল্য একটা হাঁসি দিয়ে) প্রাপ্তি তুমি কি বলছো তুমি খেয়াল করেছো একবার?  যে প্রাপ্তি হাজার টা কাজ থাকলেও আয়ানের সবকিছু ঠিক রাখে আর সেই প্রাপ্তির মুখে ব্যস্ততার কথা, আবিদ চৌধুরীর সাথে থেকে দুইদিন না যেতেই চেঞ্জ! 


প্রাপ্তি-তুমি আমায় ভুল বুজতেছো।আমি জানি আমার আয়ান কখনো আমায় ভুল বুজতে পারেনা।আমার উপর তোমার যে বড্ড অভিমান হয়েছে তা আমি ঠিকি বুজিছি।আচ্ছা সকালে নাশতা করেছো?


আয়ান -তোমাকে আমার এতো কিছু খবর নিতে হবে না।সকাল থেকে তো আমিই ফোন দিচ্ছি তাহলে আমিই তোমার খবর নিবো।(আয়ান যে রাত থেকে কিছুই খায়নি এইকথা প্রাপ্তি শুনলে তার উপর রেগে যাবে।তাই কথা কাটানোর জন্যই কথাটা বলা)


প্রাপ্তি -আচ্ছা ঠিক আছে তুমিই আমার খবর নিও।অফিসে যাবে কখন?


আয়ান -রেডি হচ্ছি।


প্রাপ্তি -এতো দেরি কেনো তোমার? (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) অল রেডি অনেক লেট করে ফেলেছো। ব্যাপার কি তোমার এতো লেট হলো কিভাবে?


আয়ান-(ঠোঁটের কোনে মুচকি একটা হাঁসি এনে)তুমি ছাড়া আয়ান সবসময়  অগোছালো। প্রতি দিন তো আমার মিষ্টি বউটা আমার সবকিছু গুছিয়ে রাখে।কিন্তু আজ তো আমার বউটা কাছে নেই। তাই সবকিছু অগোছালো ভাবেই হবে।


প্রাপ্তি -আচ্ছা বুজেছি। শুনো দুপুরে আমি কিন্তু তোমার সাথে দেখা করছি।কাল থেকে তোমায় দেখছিনা আমারো ভালো লাগছেনা।আমি দুপুরবেলা ফোন দিয়ে বলে দিবো কোথায় আসতে হবে।আর হ্যাঁ আজ তোমার সাথে বাহিরেই খাবো।


আয়ান -ওকে।


আয়ান বাসা থেকে বের হতে হতে রেশীকে ইশারায় দরজা বন্ধ করতে বলে চলে গেলো।


আবিদ চৌধুরী আর আকাশ ও অফিসে চলে গেলো। 

আয়েশা বেগম এসে কিরে,,, তুই কি কোথাও যাবি নাকি?


প্রাপ্তি মুচকি হেঁসে হ্যাঁ মা তোমার ছেলের কাছে।কাল থেকে ওকে দেখছি না মনে হয় কতো যুগ পার হয়ে গেছে।তুমি যাবে?  চলনা একসাথে যাই।


প্রাপ্তির কথা শুনে আয়েশা বেগম মুখটা মলিন করে দীর্ঘ নিশ্বাস পেলে নারে,,,যেই দিন আমার ছেলে এই বাড়িতে হাঁসি মুখে আবার ফিরে আসবে সেইদিন কলিজাটা কে আবার বুকে জড়িয়ে নিবো।(কথা গুলো বলতেই আয়েশা বেগমের গলাটা ভারী হয়ে আসছে,চোখ দুটো ছলছল করছে)জানিস প্রাপ্তি!  আমার আয়ান একগুঁয়ে ছিলো নিজে যেটা বলবে সেটাই।তবে কোনো অন্যায় তার সহ্য হয়না।দেখলিনা অন্যায় জন্য নিজের বাবার সাথেও তার কোনো আপোষ নেই।


প্রাপ্তি আয়েশা বেগমকে জড়িয়ে ধরে  মা! সব ঠিক হয়ে যাবে।আর সেটা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে তুমি দেইখো।


দুপুরের আগেই প্রাপ্তি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো আয়ানের সাথে দেখা করবে বলে। অনেক বার ফোন দিয়েছে আয়ানকে কিন্তু আয়ান ফোন ধরছেনা। প্রাপ্তির খুব চিন্তা হচ্ছে আয়ান তো এইরকম করেনা।প্রাপ্তি ভাবছে এইভাবে কতক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যায়।এরছেয়ে ভালো অফিসে গিয়ে দেখি।অবশ্য অফিস তো আমি চিনিও না।আচ্ছা অভ্র ভাইয়াকে একটা ফোন করে দেখি।অভ্রকে ফোন দিয়ে, ভাইয়া তোমার বন্ধু কোথায়?


অভ্র -প্রাপ্তি!  ও তো মিটিং এ আছে।ফোনটা দিবো ওকে?


প্রাপ্তি -না তার দরকার নেই। আচ্ছা ভাইয়া তোমাদের অফিসে ঠিকানাটা আমায় একটু এসএমএস করে দাও।

অভ্র -ব্যস্ততার ফাঁকে প্রাপ্তির কথা গুলো এতোটা গুরুত্ব না দিয়ে এসএমএস এ ঠিকানা পাঠিয়ে দিলো।


এসএমএস টা পড়ে প্রাপ্তি মুচকি হেঁসে মনে মনে ভাবছে,প্রাপ্তি তুই এমনি বউ নিজের ভালোবাসার মানুষের অফিসের ঠিকানা অন্যের কাছ থেকে নিতে হয়।নাহ্ আগে ওকে গিয়ে সারপ্রাইজটা দিই।

প্রাপ্তি অফিসে এসে অভ্রকে দেখে, ভাইয়া!  ও কোথায়?

প্রাপ্তিকে দেখে অভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।অভ্র মনে হচ্ছে একি প্রাপ্তির চেহারায় কোনো পেত্নী আসলো নাতো?অভ্রর তাকানো দেখে, প্রাপ্তি অভ্রর চোখের সামনে হাত নাড়িয়ে ভাই আপনাকে আমি কিছু জিজ্ঞাস করছি।আপনার বন্ধু কোথায় সেটা বলুন।

অভ্র মুখে কোনো কথা না বলে হাত দিয়ে ইশারায় দেখিয়ে দিলো মিটিং এর রুমে।

প্রাপ্তি এগিয়ে যেতেই অভ্রর ঘোর কাটতেই একি আমি প্রাপ্তিকে মিটিং এর রুমে পাঠিয়ে দিলাম।প্রাপ্তিকে ডাকতে যাবে এর আগেই প্রাপ্তি দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলো।প্রাপ্তি ভিতরে গিয়ে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলো।নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেনা। আবিদ চৌধুরী!  তাও আবার আয়ানের সাথে! প্রাপ্তি কথাটা ভাবতে যেনো মাথাটা ঘুরঘুর করছে।প্রাপ্তিকে দেখেও সবাই অবাক।আয়ান ও কম অবাক হয়নি।প্রাপ্তি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য তাদের দিকে এগিয়ে গেলো।আবিদ চৌধুরীর পাশে গিয়ে বাবা! আপনি কি ওকে বকাঝকা করতে আসছেন নাকি। তবে ভালোই করেছেন ওর মতো লোকের বকা খাওয়ারই যোগ্য।যে নিজের বউকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।আয়ান প্রাপ্তিকে কি বলবে বুজতে পারছেনা। 

পিছন থেকে অভ্র এসে, সরি আয়ান! আসলে প্রাপ্তিকে দেখে আমিও অবাক হয়ে গেছিলাম। তাই ও কখন এই রুমে চলে এসেছে আমি বুজতে পারিনি।আয়ান হাত দিয়ে ইশারা করে অভ্রকে চুপ থাকতে বলে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে তোমাকে এইখানে কে আসতে বলেছে? বেরিয়ে যাও আমার অফিস থেকে।তোমাকে বলেছিনা আমার সামনেও কখনো আসবেনা।তারপর ও কেনো আমার সামনে আসছো এখুনি বের হয়ে যাও।

আয়ানের কোথায় অভ্র অবাক হয়ে,আয়ান তুই প্রাপ্তির সাথে এইভাবে কথা বলছিস কেনো?

আয়ান অভ্রর দিকে ফিরে, তোকে বললাম না চুপ থাকতে।আমাদের মধ্যে তুই কথা বলার কে?কথাটা শুনে অভ্র মন খারপ করে আয়ানের দিকে তাকিয়ে ভাবছে এই কোন আয়ানকে দেখছি আমি।আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না আয়ান প্রাপ্তির সাথে এইভাবে ব্যবহার করছে।নাকি ওর বাবা কে দেখে এইরকম করছে? 


প্রাপ্তি-আমি তো এইখানে থাকতে আসিনি।আমি শুধু এসেছি আপনার সাথে আমার সম্পর্কটা পাকাপাকি ভাবে শেষ করতে।


কথাটা শুনেই আয়ানের মনে যেনো ধাক্কা লাগলো।প্রাপ্তির সবকিছু অভিনয় মানলাম কিন্তু প্রাপ্তি এতো সহজে কথাটা কিভাবে বলতে পারলো।আয়ান খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে ডিভোর্স ছাইছো তাই তো ঠিক আছে অতি শীঘ্রই তুমি ডিভোর্স নোটিশ পেয়ে যাবে।

আবিদ চৌধুরী আর চুপকরে থাকতে না পেরে হঠাৎ বসা থেকে উঠেই আয়ানের গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে, এই থাপ্পড়টা আমার অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিলো। থাপ্পড় টা অনেক দেরি করে দিয়ে পেলেছি।যদি আগে এই থাপ্পড়টা দিতাম তাহলে আজ এই অবস্থায় এসে কাউকেই দাঁড়াতে হতো না।তোকে আমার ছেলে বলতেও ঘৃণা লাগছে।আচ্ছা এই মেয়েটার জন্যই তো তুই আমার সব কিছু ছেড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিস তাহলে কি এমন হলো যার জন্য তুই ওকে ডিভোর্স দিতে ছাইছিস। (সবাই অবাক হয়ে শুধু আবিদ চৌধুরীর দিকেই তাকিয়ে আছে।এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে এসে প্রাপ্তি পড়েছে কিছু বলতেও পারছেনা।আয়ানের দিকে করুণাময় চোখে ফেলফেল করে তাকিয়ে চোখের পানি গুলো গাল বেয়ে বেয়ে পড়ছে।তার জন্য আয়ানকে থাপ্পড় খেতে হয়েছে,কথাটা ভাবতেই প্রাপ্তি চোখ বন্ধ করে আছে)আবিদ চৌধুরী আবার বলতে শুরু করলেন আয়ান তুই মেয়েটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখ কতোটা মায়া ভরা এই মুখে, আমি না হয় না বুজে একটা অন্যায় করেছি সেই অন্যায় শাস্তি তুই আমাকে কম ও দিসনি। তাহলে তুই কিভাবে একি অন্যায় করতে যাচ্ছিস।আমি তো জানতাম আমার ছেলে কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনা।ও আমি তো ভুলেই গেছিলাম আপনি আয়ান চৌধুরী এই কোম্পানির এম ডি। আপনার কাছে এখন মানুষ কে মানুষ বলে মনে হয়না।(প্রাপ্তির হাত ধরে) তবে একটা কথা মনে রাখবেন মিস্টার আয়ান! আজ থেকে ও আমার মেয়ে। যে অসম্মানে আমি ওকে বাড়ি থেকে বের করেছি আজ পূর্ণ সম্মান দিয়ে আমার মেয়েকে আমি আমার বাড়িতে নিয়ে গেলাম।আরেকটা কথা যে বিজনেসের ডিল টা আমাদের হয়েছে সেটা বাদ দিয়ে দিন।আজ থেকে আপনার সাথে বিজনেসের সম্পর্কটাও রাখতে চাই না।কথা গুলো বলেই আবিদ চৌধুরী প্রাপ্তির হাত ধরে টেনে  নিয়ে বেরিয়ে গেলো।আয়ান তাদের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়লো।কি থেকে কি হয়ে গেলো।প্রাপ্তি কি নিজের হাতেই কোনো বিপদ ডেকে আনলো না তো?

অভ্র আয়ানের অবস্থা দেখে আয়ান আমি তো কিছুই বুঝতেছি না? 

আয়ান অভ্রকে সব বললো।অভ্র সব শুনে প্রাপ্তি যে ওই বাড়িতে তুই তো আমাকে বলিস ও নি।এখন কি হবে? 


আবিদ চৌধুরী বাড়ি এসে সুমি আর আয়েশা বেগমকে ডাকতে লাগলেন।

আয়েশা বেগম আর সুমি প্রাপ্তিকে আবিদ চৌধুরীর সাথে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

আয়েশা বেগম- কি হয়েছে! প্রাপ্তি তোমার সাথে?


আবিদ চৌধুরী -আজ থেকে ও আমার ছেলের বউ না মেয়ে হয়েই এই বাড়িতে থাকবে।আমি যে অন্যায় করেছি সেই অন্যায় আমি নিজেই শুধরে নিবো।প্রাপ্তি কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে গেলো আয়ানকে ফোন দিতে।অনেক বার ফোন দিয়েছে কিন্তু আয়ানের ফোন অফ করে রেখেছে।




চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url