ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০৩

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০৩

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ০৩



প্রাপ্তিদের বাড়ীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিলিমা বেগম খাওয়াদাওয়া সব ছেড়ে দিয়েছে।এক নাগাড়ে কান্না করেই যাচ্ছে।আসিফ আর আজাদ সাহেব থানায় ডায়রি করেছে।অরণী তার মায়ের পাশে বসে আছে।নিজের বোনের এই অবস্থার জন্য কি ও নিজেই দায়ী?  ভাইয়াকে কি সব বলবো? আচ্ছা ভাইয়া কি জানে সায়মন ছাড়া পেয়েছ?


আসিফ ড্রইরুমে কারো সাথে ফোনে কথা বলছে।অরণী মাথা নিচু করে আসিফের সামনে এসে দাড়িয়েছে দেখে আসিফ কান থেকে ফোন নামিয়ে, কিরে কিছু বলবি? 


অরণী আমতা আমতা করে বললো,ভাইয়া সায়মন আপুকে নিয়ে যায়নিতো?


আসিফ অরণীরর কথা শুনে অবাক হয়ে সায়মন তো জেলে আছে।


অরণী -সায়মন কে তার বাবা ছেড়ে নিয়ে এসেছে।ও হয়তো আমাদের পরিবারের উপর প্রতিশোধ নিতেই হয়তো আপুকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।


আজাদ সাহেব এসে অরণী কে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলেন তুই এতো কিছু জেনেও চুপ করে ছিলি।তুই কি করে তোর বোন কে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে চুপ করে ছিলি।আমার মেয়েটা এখন কি অবস্থায় আছে আল্লাহ্‌ ভালো জানে।কথা গুলো বলতে বলতে আজাদ সাহেব কান্না ভেঙে পড়লেন।(আসিফের দিকে তাকিয়ে)আসিফ আমাদের তো সব শেষ হয়ে গেলো। এখন কি হবে?  প্রাপ্তিকে কোথায় খুঁজবো?


আসিফ -আব্বু তুমি শান্ত হও আমি দেখছি।

অরণী তুই আম্মুর দেখে খেয়াল রাখিস আমি আরেক বার থানা থেকে আসছি।কথা বলেই আসিফ বেরিয়ে পড়ল।

কাটতে থাকে দিন।বাহিরের মানুষের আনাগোনায় কেটে যায় প্রাপ্তিদের বাড়ী। নিলিমা বেগম জ্ঞান হারায় আবার ঠিক হয়।এইভাবেই কেটে যায় তিনদিন। এইতিন দিনও মেয়েটার খুঁজ মিলেনি। বিকেল বেলা

ড্রইংরুমে বসে চা খাচ্ছে আসিফ।প্রাপ্তি হারিয়ে যাওয়ার পর তাদের চাচা,চাচী মামা,মামী সবাই এই বাড়ীতেই আছে।আসিফের ফোন বেজে উঠতেই ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে আননোনাম্বার থেকে কল আসছে।


আসিফের মামা ফোন বাজতেছে দেখে, কি রে আসিফ ফোন রিসিভ করছিস না কেন? ফোনের দিকে তাকিয়ে কি দেখছিস?


আসিফ -আসলে মামা, নাম্বারটা ছিনিনা।


মামা- রিসিভ করে দেখ প্রাপ্তির কোনো যদি খবর পাওয়া যায়।


আসিফ ফোন রিসিভ করতেই একজন মহিলা, আসসালামু আলাইকুম


আসিফ -ওয়ালাইকুম সালাম,


মহিলা -নাম্বারটা কি আপনার?


আসিফ -জ্বী আমার আপনি কে বলছেন?


মহিলা -আপনি আমাকে ছিনবেন না।আমি একজন টিচার, আজ সকালে ভোর ৫.০০ টায় একটা মেয়েকে আমার বাড়ীর সামনে একটা গাড়ী এসে ফেলে দিয়ে গেছে।মেয়েটার অবস্থা খুবি খারাপ।মেয়েটা জ্ঞান হারাবার আগেই আমাকে এই নাম্বারটা দিয়েছিলো।


আসিফ বসা থেকে দাঁড়িয়ে পাগলের মতো হয়ে আপনি কোথায় আছেন আমাকে বলুন।আপনি যাকে পেয়েছেন ও আমার বোন কোথায় আছে ও। আমি এখনি আসছি।


মহিলা -জ্বী আমি ওকে হাসপাতালে নিয়ে আসছি।আমি আপনাকে এসএমএস এ ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি আপনারা আসুন।

প্রাপ্তির কথা শুনে সবাই পগলের মতো হয়ে গেছে নিলিমা বেগম দৌঁড়ে এসে, আসিফ! প্রাপ্তি কোথায় আছে আমিও যাবো তোদের সাথে।


আসিফ -আচ্ছা চলো।আব্বু,মামা তাড়াতাড়ি চলো।


ওই মহিলা আসিফকে ঠিকানা দেওয়াতে সবাই হাসপাতালে চলে আসছে।


আসিফ মহিলার সামনে গিয়ে আপনি আমাদের ফোন দিয়েছিলেন? 


মহিলা -জ্বী। ও কেবিনেই আছে।সকাল থেকে এখনো জ্ঞান ফিরেনি ডাক্তার আবার দেখছে আপনারা বসুন।

নিলিমা,অরণী বসে কান্নাকাটি করছে,মেয়েটাকে এতো কাছে পেয়েও দেখতে পারছিনা।আমার মেয়েটার সাথে না জানি কি কি ঘটেছে আল্লাহ্‌ ভালো জানে।


ডাক্তার প্রাপ্তির কেবিন থেকে বের হতেই আসিফ আর আজাদ সাহেব দৌঁড়ে কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করেতে লাগলো,


আসিফ-ডাক্তার আমি ওর ভাই,ওর কি হয়েছে?


ডাক্তার -দেখুন আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি ওনারা আসছে।আর আমারা মেয়েটাকে দেখে যা বুজেছি মেয়েটাকে Rape করা হয়েছে।ওর জ্ঞান এখনো ফিরেনি আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসবে।আপনার অপেক্ষা করুন।


কথা গুলো যখন ডাক্তার বলছিলো মনে হচ্ছে সবাই একটা ঘোরের মধ্যে ছিলো।

প্রাপ্তির বাবা নিস্তব্ধ হয়ে পাশের চেয়ারটায় বসে পড়লো।মনে হচ্ছে কলিজাটা ছিড়ে কেউ নিয়ে গেছে।আসিফ দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে অরণীর দিকে একদৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে।আসিফের মামা আসিফের কাঁধে হাত দিয়ে বললো আসিফ তুই যদি এইভাবে ভেঙে পড়িস তাহলে এই মানুষ গুলোকে কে দেখবে।কথাটা বলতেই আসিফ তার মামাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো,মামা আমি কখনো নিজের কথা ভাবিনি শুধু এই বোনদের জন্য,নিজের সপ্ন গুলকে মাটি ছাপা দিয়ে নিজের বোনদের সপ্ন গুলোকে দেখতে শিখেছি।মামা! মামা! আপনিই বলেন আমার বোনের এখন কি হবে?আমার বোন তো কারো ক্ষতি করে নাই তাহলে ওর কেন এই অবস্থা হলো।


মামা -আসিফ তুই এইভাবে ভেঙে পড়িস না।তোকে শক্ত থাকতে হবে।প্রাপ্তির সামনে গিয়ে এইভাবে কান্নাকাটি করলে মেয়েটা কি করবে বল?

কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বললো আপনাদের রুগীর জ্ঞান ফিরেছে।তবে সাবধান ওকে বেশি কথা বলাবেন না।কান্নাকাটি করবেননা একটু পর পুলিশ এসে  জিজ্ঞাসা করবে।সবাই প্রাপ্তির কেবিনে ঢুকলো।নিলিমা বেগম আর অরণী দৌঁড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।প্রাপ্তি কিছু বলছেনা চুপচাপ হাত পা গুলোকে গুটিয়ে বসে আছে।কারো দিকে তাকাচ্ছে না।নিছের দিকে তাকিয়ে আছে আর চোখের পানি গুলো অঝরে ঝরছে ।

নিলিমা বেগম -মা রে,,,, তুই কথা বল! তুই এইভাবে  চুপ করে থাকিস না।প্রাপ্তি কথা বলছে না দেখে আসিফ অরণীকে সরিয়ে দিয়ে নিজে প্রাপ্তির পাশে বসলো।প্রাপ্তি আসিফ কে জড়িয়ে ধরে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে শুরু করলো।


আসিফ -প্রাপ্তি!  তুই এইভাবে কাঁদিস না।ভাইয়া সব ঠিক করে ফেলবো।প্রাপ্তি  তোর কিচ্ছু হয়নি।মনের ভেতর খারাপ কোনো চিন্তা আনবিনা।দেখ আমরা সবাই তোর পাশে আছি।

কথা গুলো শুনে প্রাপ্তি আরো জোরে কাঁদতে লাগলো।

প্রাপ্তি কারো সাথে কথা বলেনা।সারাক্ষণ শুধু কাঁদতেই থাকে।এক দুইটা বললেও তাও আসিফের সাথে।দুইদিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ীতে নিয়ে এসেছে প্রাপ্তিকে।প্রাপ্তিকে সময় দেওয়ার জন্য আসিফ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে।বাসায় এসে নিজের রুমের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের ভাবনার জগত টাকে ভাবছে।একনিমিষেই মানুষের জীবনটা কিভাবে পাল্টে যেতে পারে।এইতো কয়দিন আগেও তাদের ঘরটায় কতো হৈ চৈ ছিলো। কতো হাঁসি খুশি ছিলো আর আজ ইচ্ছে করছে নিজের জীবন টাই শেষ করে ফেলি। 

পিছন থেকে আসিফ এসে বললো আরে তুই এইখানে? আমি ভাবলাম ড্রইংরুমে সবাই মিলে আড্ডা দিবো তা না তুই এইখানে দাঁড়িয়ে আছিস।আসিফের কথা শুনে চোখের পানি গুলোকে আড়াল করে ভাইয়া তুই যা আমার ইচ্ছে করছে না।


আসিফ -সব কিছু থেকে নিজেকে সরাতে ছাইছিস?প্রাপ্তি!  মানুষে জীবনে কতো কিছুইতো ঘটে সবকিছু মনে রাখতে নেই।দেখবি একদিন তোর জীবনে এমন কেউ আসবে তোর পিছনে ফেলা দিন গুলো মনে করতেই দিবেনা।


কথাটা শুনে প্রাপ্তি আসিফকে জড়িয়ে ধরে এমন কেউ আর আসবেনারে ভাইয়া। কেউ তোর বোন কে বিয়ে করবে না।ধর্ষিতা মেয়েকে কেউ বিয়ে করবে না।


আসিফ প্রাপ্তির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো, পুলিশের সামনে সেদিন মিথ্যা বললি কেন যে তুই কাউকেই ছিনিস নাই?

আমি জানি ওই ছেলেটা সায়মন ছিলো।তুই না বললেও আমি জানি।


প্রাপ্তি -আমার জীবনটা তো শেষ হয়ে গেছে।সমাজের লোক গুলো আমার জন্য তোমাদের কথা শুনায়।কেউ এখন আর আমায় ভালো চোখে দেখেনা।আমি চাই না অরণীর জীবন ও সেই রকম হোক। সায়মন বলেছিলো আমি যদি কিছু বলি অরণী অবস্থাও নাকি আমার মতো হবে।জানিস ভাইয়া সেইদিন আমি তোকে অনেক বার ডেকেছিলাম কিন্তু তুই শুনিসনি।অবশ্য এতে তোর কোনো দোষ নেই। জানিস একেকটা দিন আমি যে কিভাবে কাঁটিয়েছি তা শুধু আমি জানি।

প্রাপ্তির কথা গুলো শুনে আসিফের বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে।চোখ গুলো লাল হয়ে গেছে।ইচ্ছে করছে সায়মন নামের কীট টাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিতে।সায়মন কে আমি কখনোই ছাড়বো না।আজ প্রাপ্তিকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই।প্রাপ্তি! জীবনে কখনো নিজেকে ছোটো করে দেখবিনা।তুই কয়েকটা দিন সময়নে দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।



দীর্ঘ এক বছর পর প্রাপ্তিদের বাড়ীতে আনন্দের ঝলক। অনেক ঝড়ঝাপটা দিয়েই কাটিয়েছে দিন গুলো।প্রাপ্তিদের বাড়ীটা সুন্দর করে সাজিয়েছে আসিফ।সব কাজ গুলো নিজের হাতেই করছে আসিফ।কারণ আজ তার আদরের বোন প্রাপ্তিকে দেখতে আসছে।কিন্তু প্রাপ্তির মন ভালো নেই।তারা কি তার ব্যাপারে সব জেনেই তাকে দেখতে আসছে? এই ব্যাপারে ভাইয়ার সাথে কথা বলতে হবে। কথা বলবোই বা কিভাবে সকাল থেকে একটা বারের জন্য ভাইয়ার দেখা পেলাম না।কাজ নিয়ে পড়ে আছে।মনে হচ্ছে আজকেই বিয়ে।আসিফ অরণীর রুমে গিয়ে, এই অরণী প্রাপ্তিকে একটু সাজিয়ে দিস তোর হাতে।ও তো সাজগোছ করতে একদম পছন্দ করেনা।


অরণী -ভাইয়া তুই চিন্তা করিস না আমি আছি না।তুই অন্য দিক সামলিয়ে নে।

প্রাপ্তির মা এসে বললো, আসিফ এইদিকের আয়োজনটা  কেমন  চলছে?


আসিফ -আম্মু আমি সব সামলিয়ে নিয়েছি।তোমরা চিন্তা করোনা।


নিলিমা বেগম -আসিফ! প্রাপ্তি তো সকাল থেকে রুমেই বসে আছে তুই ছাড়া তো কারো সাথে কথা ও বলে না।একটু গিয়ে দেখনা।


আসিফ -হেঁ ঠিকি বলেছো দেখি কি করে।

আসিফ প্রাপ্তির রুমে গিয়ে দেখে গান ছেড়ে দিয়ে খাটের এক কোণায় চোখ বন্ধ করে মাথার উপর হাত রেখে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে।আসিফ একটা চেয়ার টেনে সামনে বসলো। গালের মধ্যে হাত রেখে,আমার বোনের কি মন খারাপ আজকের দিনে?


প্রাপ্তি চমকে উঠে ভাইয়া তুই?  কখন এলি?


আসিফ -এখনি। এইভাবে মনমরা হয়ে আছিস কেন?


প্রাপ্তি -ভাইয়া! ছেলেরা কি সব জেনেই আসছে নাকি না জেনে?

আসিফ কথা কাটানোর জন্য তুই যা ফ্রেশ হয়ে নে একটু পর ওনারা এসে যাবে।


প্রাপ্তি -ভাইয়া এইটা আমার আনসার নয়।

আমি চাইনা আমার কোনো বিষয় গোপন থাকুক।ওনারা যদি সব জেনে এগুতে চান তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই।


আসিফ -এই নিয়ে তুই চিন্তা করিসনা,আমি আছিতো।কথাটা বলেই আসিফ উঠে গেলো।

অরণী প্রাপ্তির রুমে এসেছে প্রাপ্তিকে রেডি করাবে বলে।অরণী কে দেখে প্রাপ্তি মুছকি একটা হাঁসি দিয়ে আমাকে তোর সাজাতে হবেনা।আমি নিজেই হালকা সেজে নিচ্ছি।


অরণী -ওকে আপু।আমি তাহলে আসি।ছেলেরা নাকি এসে গেছে আমি দেখে আসি।

নিলিমা বেগম অরণীকে ডেকে তুই এখন ওদের সামনে যাওয়ার দরকার নেই।প্রাপ্তিকে নিয়েই একসাথে যাস।


অরণী -ঠিক আছে আম্মু।(নাস্তার প্লেট হাতে নিতে নিতে)আচ্ছা আম্মু আপুকে যে দেখতে আসছে ওই ছেলের নাম কি?  কি করে?


নিলিমা বেগম -ওমাঃ তুই জানিসনা?

ছেলের নাম সিয়াম,বিজনেস করে।

কথাটা শুনেই অরণীর হাত থেকে প্লেট গুলো পড়ে গেলো।


নিলিমা বেগম -তুই এইটা কি করলি আজকের এই শুভ দিনে ভাঙাভাঙি শুরো করলি।

নিলিমা বেগমের মুখে সিয়ামের নামটা শুনে অরণী অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো সিয়াম পারলো আমাকে এইভাবে ঠকাতে? আমরা দুজন দুজনকে এতো ভালোভাসি আর সে কিনা,,,,,,,, এইটা কিভাবে পারলো সিয়াম।ঠিক আছে ও যখন ভেবে নিয়েছে আপুকে বিয়ে করবে তাহলে আমি এর মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবো না।আমার আপু অনেক কষ্ট পেয়েছে আমি আর ওকে কোনো কষ্ট পেতে দিবোনা।সিয়ামকে নিয়ে আপু যেন সুখে থাকে তার ব্যবস্থাই করবো। আসিফ এসে আম্মু তোমাদের হলো ওদেরকে নাস্তা দিতে হবেতো।


অরণী আস্তে করে আসিফকে জিজ্ঞাস করলো,ভাইয়া ছেলে আসছে?


আসিফ -নারে,,,,,ছেলের মা,বাবা,চাচা,আর বোন আসছে,ছেলে নাকি বিজনেসের কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেনি।যাইহোক তুই প্রাপ্তিকে নিয়ে আয়।আমি এইদিকটা দেখছি।


প্রাপ্তির ইচ্ছে করছিলোনা ছেলে পক্ষের সামনে যেতে কিন্তু কি করবে সবার মুখের দিকে তাকিয়ে যেতে হবে।অরণী প্রাপ্তিকে এনে তাদের সামনে বসালো। সিয়ামের মা উঠে এসে প্রাপ্তি সাথেই বসলো।অনেক মিষ্টি একটা মেয়ে,কি নাম তোমার?


প্রাপ্তি -জ্বী,,, মিফতাহুল জান্নাত প্রাপ্তি।


সিয়ামের মা -মানুষ টা যেমন সুন্দরী নামটাও রেখেছে সেই রকম।


সিয়ামের মা -আমার আর কিছু জিজ্ঞাস করার নেই তোমাদের আছে?


সিয়ামের বাবা- না  আমাদেরও নেই।প্রাপ্তির বাবার দিকে তাকিয়ে,আজাদ সাহেব! মেয়ে আমাদের পছন্দ হয়েছে।


আজাদ সাহেব -আলহামদুলিল্লাহ্‌। অরণী প্রাপ্তিকে নিয়ে যাও।


সিয়ামের বাবা -আজ তো আমার ছেলে আসতে পারিনি।আগে আপনারা সিয়ামকে দেখুন। দেখে পছন্দ হলে না হয় দিন তারিখ ফেলা যাবে।


আজাদ সাহেব -আমাদের কিন্তু দুটো বিয়ে একসাথেই হবে।


আজাদ সাহেবের কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।আসিফের মনে প্রশ্ন জাগলেও সবার সামনে করা ঠিক হবেনা ভেবেই আর কিছু বলেনি।


সিয়ামের বাবা -এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।তো বেয়াই সাহেব আজ তাহলে উঠি।মেয়ে কিন্তু আমার ঘরের লক্ষ্মী হয়েই থাকবে।


ছেলের বাড়ীর সবাইকে বিদায় দিয়েই আসিফ আজাদ সাহেব কে বললো,আব্বু!  দুটো বিয়ে মানে?  কার কার বিয়ে?


আজাদ সাহেব মুছকি একটা হাঁসি দিয়ে আসিফের কাঁধে হাত রেখে, অরণীর বিয়ে।

ভাবছি দুই বোনের বিয়ে একসাথেই দিবো।


আসিফ -অরণীর জন্য ছেলে দেখেছো নাকি?

আজাদ সাহেব-আচ্ছা পরে বলবো।এখন আমার কাজ আছে।

আসিফ -আব্বু তোমার যা ভালো মনে হয়।


প্রাপ্তি বারান্দায় বসে বই পড়ছে।পাশে অরণী গিয়ে দাঁড়িয়ে আপু জানিস আজকে তোকে পরীর মতো লাগছে।


প্রাপ্তি বইয়ের দিকে তাকিয়েই ওইটা তোর মনের ধারনা।


অরণী -আচ্ছা আপু তুই এই বিয়েতে খুশী?


প্রাপ্তি -সবাই খুশী মানে আমিও খুশী। আমি সবার মতের বাহিরে নয়।

আচ্ছা তুই,,,,, এইসব কেন বলছিস।তোর ভালো লাগেনি?


অরণী নিজের চোখে পানি লুকাতে চেষ্টা করছে আর বলছে, আরে নাহ্ আমি অনেক খুশী তবে তোকে অনেক মিস করবো।


প্রাপ্তি -আমি কি বরাবরের জন্য যাচ্ছি নাকি?


অরণী -তুই দেখিস সিয়াম তোকে এতো ভালোবাসবে তোকে আসতেই দিবেনা।

কথাটা শুনেই প্রাপ্তি বইয়ের থেকে মুখ উঠিয়ে অরণীর দিকে তাকিয়ে, তুই এমন ভাবে বলছি মনে হচ্ছে তোর আগে থেকেই ওই ছেলেকে চেনা।


অরণী -না আপু এমনিই বললাম।


প্রাপ্তি -আব্বু কি বলেছে শুনেছিস?তোকে নাকি কাল দেখতে আসবে।


অরণী -হুম শুনেছি।ভাইয়াকে বলবো আব্বুকে বুজিয়ে এই বিয়ে বাদ দিতে।


প্রাপ্তি -কেন? তোর কি পছন্দের কোনো ছেলে আছে নাকি?


অরণী -আরে নাহ্ এমনি বললাম।আসলে আমার এখন বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে নেই।কথাটা বলেই অরণী চলে গেলো।

প্রাপ্তির কাছে অরণী কথা গুলো একটুও ভালো লাগেনি। মনে হচ্ছে কথার মধ্যে কিছু একটা লুকাচ্ছে।প্রাপ্তি ছোট্র একটা নিশ্বাস ফেলে আবার বইয়ের দিকে মন দিলো। আজাদ সাহেব মাগরিবের নামাজ পড়ে বাহিরে থেকে এসে নিলিমা বেগম কে চা দিতে বললেন।আসিফ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এসে, আব্বু তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।


আজাদ সাহেব -হ্যাঁ কি বলবি বল?


আসিফ তার মাকে ডেকে বললো তাকেও চা দিতে,আচ্ছা আব্বু অরণীর হঠাৎ করে বিয়ে দিতে চাইছো? ছেলেটা কি তোমার জানা শুনা কেউ?

আজাদ সাহেব -আরে নাহ্ তেমন চিনিনা।আমার এক কলিং এর ভাগ্নে। শুনেছি  প্রখ্যাত ব্যবসায়ী আবিদ চৌধুরীর ছোটো  ছেলে ইকবাল মাহমুদ আয়ান। যদি অরণীকে দেখে ভালো লাগে তাহলে নাকি একসাথে আংটি পরিয়ে যাবে।


আসিফ -তাহলে তো ভালো কথা।

নিলিমা বেগম রান্নাঘর থেকে আসতে আসতে বললেন এতো বড় ঘরের ছেলে আমাদের মেয়েকে কি পছন্দ হবে?


আসিফ -আম্মু এখনকার ছেলেরা টাকাপয়সা দেখে বিয়ে করেনা।মেয়ে সুন্দরী দেখে বিয়ে করে।

নিলিমা বেগম মুচকি হাঁসি দিয়ে আজাদ সাহেবের দিকে তাকিয়ে তুমি কিছু বুজেছো?  তোমার ছেলে বোন কে দিয়ে আগেই বুজিয়ে দিচ্ছে ঘরে কেমন মেয়ে আনতে হবে।

আজাদ সাহেব -হুম ভাবছি মেয়ে দুটোকে পরের ঘরে দিয়ে নতুন আরেক টা মেয়ে নিয়ে আসবো।কি বলো আসিফের আম্মু? 


নিলিমা বেগম -কথাটা ফেলে দেওয়ার মতো না বলে হেঁসে দিলেন।


আসিফ লজ্জা পেয়ে আম্মু তুমিও না বলেই নিজের রুমে চলে গেলো।


নিলিমা বেগম পিছন থেকে ডেকে বললো মেয়েদের মতো লজ্জা পাচ্ছিস কেনো? বিয়ে তো একদিন করতেই হবে।




চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url