ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০৪

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০৪

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ০৪


সকালের মিষ্টি রোদের আভা জানালার ফাঁক দিয়ে চোখে পরতেই ঘুম ভেঙে গেলো প্রাপ্তির।আড়মোড় ভেঙে বিছানা ছেড়ে উঠেই বারান্দায় গেলো।বাড়ীরর এক কোনায় ফুলের বাগানের দিকে চোখ পড়তেই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে প্রাপ্তি।অবাক হবে নাবাই কেনো? এক বছর আগে প্রাপ্তি অনেক গুলো গোলাপের গাছ এনে লাগিয়ে ছিলো ওই বাগান টায়।কখনো ভালো করে ফুল ফুটেনি কিন্তু আজ সব গাছে ফুল ফুটেছে।কি ভালো লাগছে প্রাপ্তির কাউকে বলে বুজাতে পারবেনা।ফ্রেশ হয়ে আসি,তারপর ওদের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটাবো আজ।

প্রাপ্তি!  এই প্রাপ্তি! আমার মিষ্টি বোনটা কোথায় গেলো।এখনো ঘুম থেকে উঠেনি নাকি? আসিফ ডাকতে ডাকতে প্রাপ্তির রুমে এসে দেখে প্রাপ্তি রুমে নেই।

আসিফের ডাক শুনে প্রাপ্তি বারান্দা থেকে দৌঁড়ে রুমে গেলো,ভাইয়া ডেকেছিস?


আসিফ -তুই বারান্দায়? মনে হচ্ছে আজ আমার মিষ্টি বোনটি অনেক খুশী।


প্রাপ্তি - (এক্সাইটেড হয়ে)ভাইয়া জানিস আজ বাগানে সব গুলো ফুল ফুটেছে কি ভালো লাগছে তোকে বলে বুজাতে পারবো না।


আসিফ অনেক দিন পর প্রাপ্তিকে এইভাবে দেখে মুখে হাঁসি নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।


প্রাপ্তির সেই দিকে কোনো খেয়াল নেই কথা বলেই যাচ্ছে।আসিফ মাথায় হাত রাখতেই, ওহ্ তুই আমায় কেন ডাকছিলি বললিনা তো? আমি তো বকবক করেই যাচ্ছি।


আসিফ -থামলি কেন?  ভালোই লাগছে শুনতে।কতো দিন পর সেই আগের প্রাপ্তিকে একটু খানিকের জন্য ফেরে ফেলাম।


কথাটা শুনে প্রাপ্তি আসিফের হাতটা মাথা থেকে সরিয়ে কি জন্য এসেছিস সেটা বল?


আসিফ ভালো করেই জানে প্রাপ্তি এই কথা থেকে নিজেকে সরাতে চাইছে,হুম আমি অফিসে যাচ্ছি তোর কিছু লাগবে কিনা জিজ্ঞাস করতে এলাম।তুই তো কাউকে কিছু বলিসনা তাই আরকি।


প্রাপ্তি -না আমার কিছু লাগবেনা।


আসিফ -তাহলে চল নাস্তা করেনি।


প্রাপ্তি -ভাইয়া, তুই যা আমি আসছি।


কাঁধে কারো হাতের ছোঁয়া পেয়ে ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলো প্রাপ্তি।পিছনে ফিরে অবাক হয়ে আপনি কখন এলেন?

আর বৃষ্টিতে কেন ভিজছেন ঠাণ্ডা লেগে যাবে তো।


আয়ান -এতো কষ্ট কেন দিচ্ছো নিজেকে?এই বৃষ্টির মধ্যে কান্না করলে কেউ বুজবেনা তাই তো?আমি অফিসে যাওয়ার পর কেউ তোমাকে কিছু বলেছে? আমি এইজন্য এইখানে আসতে চাইনা।তোমাকে আর কতো বুজাবো লোকের কথায় কোনো কান দিবানা।

এতোক্ষণ টানা বৃষ্টিতে ভেজার কারণে ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে, আয়ানের দিকে ঠিক ভাবে তাকাতে পারচ্ছেনা প্রাপ্তি।চোখ গুলো নিভো নিভো হয়ে আসছে,প্রাপ্তি মুখে বাজিয়ে বাজিয়ে বলতে লাগলো জানেন আমার ভাইয়া ঠিক বলেছিলো এমন একজন আমার জীবনে আসবে যে আমার সবকিছু ভুলিয়ে দিবে।পৃথিবীর মানুষ গুলো আমায় বার বার মনে করিয়ে দেয় আমি ধর্ষিতা।শুধু একমাত্র আপনি বলেন আমিই আপনার সব আমি যে ধর্ষিতা আপনি মনেই করতে দেন না।কথা গুলো বলতে বলতে প্রাপ্তি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যেতেই আয়ান ধরে ফেললো।আয়ান কোলে করে প্রাপ্তিকে নিচে নামিয়ে এনে প্রাপ্তির রুমে নিয়ে রেশী কে ডাক দিলো।

আয়ান -রেশী তোর ভাবীর শাড়ীটা পাল্টে দে।আমি এইগুলো চেইঞ্জ করে আসছি।আয়ানের কথা শুনে অরণীর খটকা লাগলো,বিয়ের দুই বছর হয়ে গেলো। নিজের বউয়ের শাড়ী চেইঞ্জ করতে কিসের এতো লজ্জা।আমাকে তো জানতেই হবে।

অরণী আসিফকে ফোন দিয়ে আসতে বলো। নিলিমা বেগম আর রেশী প্রাপ্তির হাতে পায়ে মালিশ করছে।আয়ান তার ডাক্তার আংকেল কে ফোন দিয়ে প্রাপ্তির কথা জানালো।তিনি আশ্বাস দিলেন এসে দেখে যাবেন। আসিফ অফিস থেকে এসেই প্রাপ্তির রুমে গিয়ে দেখে প্রাপ্তির অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।

আসিফ -ওর এই অবস্থা হলো কিভাবে? তোমরা কোথায় ছিলা সবাই?


অরণী -আসলে ভাইয়া আমি সকালে,,,,,, কথাটা বলার আগেই নিলিমা বেগম থামিয়ে 

আসলে সকালে আয়ান যাওয়ার পর থেকেই এই রকম হয়েছে।


আয়ান -আম্মু আপনি সত্যি কথা বলছেন না।আমি যাওয়ার পর প্রাপ্তিকে কেউ কিছু বলেছে।রেশী তুই কোথায় ছিলি? 


রেশী -ভাইয়া আমি এসে দেখি ভাবী রান্নাঘরের সামনে আন্টির কোলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।তারপর কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলো।ভাবী রুমে গিয়ে দরজা আটকিয়ে দিলো।তারপর কি হলো আমি জানি না ভাবী দৌঁড়ে ছাদে চলে গেলো।আমি ভাবীর পিছনেই যাচ্ছিলাম অরণী আপু বললেন ভাবী নাকি এখন একাই থাকবে।আমি গেলে রাগ করবে।


আসিফ বুজতে পেরেছে প্রাপ্তিকে কেউ কিছু বলেছে।আয়ান!  তুমি কখন এলে? 


আয়ান -রেশী আমায় ফোন দিয়েছিলো।আমি তখনি বুজতে পেরেছি প্রাপ্তির কিছু একটা হয়েছে।আম্মু প্লিজ বলেননা কি হয়েছে।


আসিফ -আয়ান যা হবার হয়ে গেছে। আমি ডাক্তার কে ফোন দিচ্ছি, চিন্তা করোনা।


আয়ান -ভাইয়া আমি ফোন দিয়েছি।


সবাই বসে অপেক্ষা করছে প্রাপ্তির কখন জ্ঞান ফিরবে।ডাক্তার ও এসে দেখে গেছে।জ্ঞান ফিরতে একটু দেরী হবেই।


সন্ধ্যায় প্রাপ্তির জ্ঞান ফিরে দেখে সবাই বসে আছে।আয়ানের চোখ গুলো লাল হয়ে আছে।দেখেই মনে হচ্ছে অনেক কান্না করেছে।আসিফ প্রাপ্তিকে উঠিয়ে হেলান দিয়ে বসিয়েছে।কিরে,,,,,,কেমন লাগছে এখন তোর?


প্রাপ্তি -ভালো,,,,,,,,


আসিফ -তুই কি আমাদের কোনো কথা শুনবি না?আমাদের কথা না হয় বাদ দিলাম ওই ছেলেটার দিকে তাকা।তোর এই অবস্থার পর থেকে এখনো এক গ্লাস পানিও খায়নি।


(প্রাপ্তি আয়ানের দিকে আড় চোখে বার বার দেখছে।)


এই ছেলেটা মুখের দিকে তাকিয়েও তো সব ভুলে যেতে পারিস।


প্রাপ্তি চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে। গলাটা এতোটাই ভারী হয়ে আছে যে কথা বলতেও পারছেনা।


আয়ান প্রাপ্তির চোখের পানি দেখে ভাইয়া প্লিজ ওকে কিছু বলবেননা। ওর এইসব ব্যবহার আমার সহ্য করার ক্ষমতা হয়ে গেছে।

নিলিমা বেগম -মানুষের জীবনে কতো কিছুই ঘটে কই তারা তো এইরকম করে না।তুই করছিস কেন? 


অরণী -আপু তুই সবসময় বাড়াবাড়ি করছিস।কতো মেয়ে নিজের ইচ্ছায় ছেলেদের সাথে মিলামিশা করে আর তুই!  তুই তো নিজের ইচ্ছায় যাসনি।প্লিজ আপু তুই স্বাভাবিক ভাবেই থাকতে পারিস না?


প্রাপ্তি চিৎকার দিয়ে না আমি পারিনা।তোমরা প্লিজ যাও এখান থেকে আমাকে একা থাকতে দাও।


আসিফ -আয়ান তুমি থাকো আমরা সবাই যাচ্ছি।

সবাই চলে গেলো, 


আয়ান ও প্রাপ্তির পাশে এসে বসলো।প্রাপ্তির দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটা হাত টেনে নিজের কাছে নিলো।সবাইকে এইরকম ভাবে না বললেও পারতে।


প্রাপ্তি -না বললে ওরা কেউ এখান থেকে যেতো না।আর ওদের এইসব জ্ঞান মূলক কথা আমার ভালো লাগছিলো না।আপনি থেকে গেলেন কেন?


আয়ান -কেন থেকেছি জানো আমার পাগলি সবাইকে যেতে বললেও মনে মনে ঠিকি ছেয়েছে আমি যেনো থেকে যাই।আমি কি ঠিক বলছি?


প্রাপ্তি -না আপনি ঠিক বলেননি। আপনি খাননি কেন? 


আয়ান -আমার পাগলি না খেলে আমি কি খেতে পারি? তুমিও তো কিছু খাওনি।


রেশী!  রেশী! একটু এইদিকে আয়?


রেশী রুমে এসে আয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে, জ্বী ভাইয়া কিছু লাগবে?


আসিফ -কাল তো তোর কলেজ নাই তাই না? 

রেশী -না ভাইয়া।পরশু দিন থেকে কলেজ খোলা।


আসিফ -ঠিক আছে আমরা কাল এইখান থেকে চলে যাবো।তুই এককাজ কর তোর ভাবীরর জন্য খাবার নিয়ে আয়।


প্রাপ্তি -রেশী তুই এইখানে বস।আমি ড্রইংরুমে গিয়ে সবাই একসাথেই খাবো।তোর কষ্ট করতে হবে না।


রেশী বসতে বসতে বললো জানো ভাবী আজ আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।ভাইয়া পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলো। ভাইয়া যখন অফিস থেকে আসলো তুমি যদি দেখতে ভাইয়ার কি অবস্থা হয়েছিলো। ভাবী তুমি আর ভাইয়া যদি না থাকতে এই রেশী কোথায় হারিয়ে যেতো।তোমারা এনে আমাকে নতুন জীবন দিলে।কলেজে পড়ার সুযোগ করে দিলে।সেই দিন  ভাইয়া যদি আমাকে রাতের অন্ধকারে না বাঁচাতো আমাকে তো ওরা মেরেই ফেলতো।


প্রাপ্তি -পাগলি মেয়ে এখন এইসব মনে করার সময়।তোর ভাইয়া উদার মনের মানুষ তাই আমাকে রাখতে গিয়ে নিজেই ঘর ছাড়া।


প্রাপ্তি কথা শুনে আয়ান চোখ বড় বড় করে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে আছে।


প্রাপ্তি মাথাটা নিচু করে, সরি।



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url