ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০৫

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০৫

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা

পর্বঃ ০৫



আয়ান -ওহ্ মাই গড আমিতো ভুলেই গেছিলাম আজ আব্বুর সাথে মেয়ে দেখতে যাবার কথা।আবিদ চৌধুরী আজ আমায় গিলে খাবে । তুমিও তো রেডি হয়ে আছো দেখছি।ভাবী আমি ৫ মিনিটেই রেডি হয়ে আসছি।


সুমি -তাড়াতাড়ি করো। ৫ মিনিট বলে ৫০ মিনিট লাগাবা।


আয়ান মুছকি একটা হাঁসি দিয়ে, ওকে সুইট হার্ট বলে ওয়াশ রুমে চলে গেলো।

আয়ান ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসতেই আবিদ চৌধুরী উঠে দাঁড়িয়ে ঘড়ির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন কয়টা বাজে দেখেছো?  তোমার কাছে সময়ের কোনো মূল্য না থাকতে পারে কিন্তু আমার কাছে আছে।মেয়েদের বাড়ীতে জানিয়েছিলাম ১১ টায় যাবো। এখুনি তো ১০ টা বাজে। আয়ান নিচের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললো, আব্বু আমার মনে ছিলো না।


আবিদ চৌধুরী -তোমার যে সময়ের জ্ঞানের অভাব আছে সেটা আমার আগেই জানা আছে।


আকাশ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে আব্বু ঠিক আছে ওকে বকতে হবেনা।আমাদের তো দেরী হয়ে যাবে।আমি গাড়ী বের করছি তোমরা আসো।আয়ানও আকাশের পিছন পিছন চলে গেলো।


আদিদ চৌধুরী -সুমি!  মেয়ের জন্য যে আংটি টা এনেছি ওইটা নিয়েছো তো?


সুমি -আব্বু আজ সত্যিই আংটি পরিয়ে আসবেন? 


আবিদ চৌধুরী -হ্যাঁ আসবো। এখন চলো।


আয়ানরা সবাই প্রাপ্তিদের বাড়ীর উদ্দেশ্য রওনা দিলো।

প্রাপ্তি নাস্তা করতে এসে দেখে অনেক আয়োজন চলছে বাড়ীতে।প্রাপ্তির মামী আর আম্মু কাজে অনেক ব্যস্ত। বড় ঘর থেকে অরণীর জন্য প্রস্তাব আসছে এইটা তো আর হাত ছাড়া করা যায়না।

প্রাপ্তির মামী -আপা!  (নিলিমা বেগমকে)আসিফ তো অফিসে চলে গেলো এইদিকে ছেলের বাড়ী থেকেও নাকি লোকজন আসছে ভাই (প্রাপ্তির বাবা)কি পারবে এতো কিছু সামাল দিতে।


নিলিমা বেগম-চিন্তা করিস না।আসিফ বলেছে মিটিং শেষ করেই চলে আসবে।


সিয়াম বার বার অরণীকে ফোন দিয়ে যাচ্ছে অরণী একবারের জন্যও রিসিভ করছেনা।উল্টো ফোন অফ করে দিয়েছে।সিয়াম মনে মনে ভাবছে ব্যাপার কি ওকে সারপ্রাইজ দিবো বলেই তো বাবা মা কে না বলে ওদের বাড়ীতে পাঠিয়েছিলাম।মা তো বলেছে বিয়ের কথা পাকাপাকি করে আসছে শুধু তারিখটা ফেলবে।ও তো খুশী হয়ে আমাকে ফোন দেওয়া উচিত কিন্তু তানা উল্টো ফোনটাই অফ করে রেখেছে।আচ্ছা ও কি আমাকে বিয়ের দিন সারপ্রাইজ দিবে বলে হয়তো ফোন অফ করে রেখেছে।হয়তো ও বউয়ের সাজেই এক সাথে সামনে আসতে চায়।ঠিক আছে আমিও অপেক্ষা করে রইলাম।তোমাকে একসাথেই দেখবো আর ফোন দিবো না তোমাকে।


প্রাপ্তি হাঁটতে হাঁটতে বাগানের দিকে এলো।ফুল গুলোকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে কিযে ভালো লাগছে তার।তাদের বাড়ীর সামনে যে একটা গাড়ী এসে থামলো সেই দিকে তার কোনো খেয়ালই নেই।

গাড়ী থেকে নেমেই আবিদ চৌধুরী ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ীর ভিতরে ঢুকলেন।আকাশ আর সুমি কথা বলতে বলতে তারাও চলে গেলো।

আয়ান বাড়ীতে ঢুকতেই প্রাপ্তির দিকে নজর পড়লো।তখন প্রাপ্তি ফুলের দিকে তাকিয়ে নিজে নিজে ফুল গুলোর সাথে কথা বলছে।প্রাপ্তির ধারনা মানুষের থেকে ফুল গুলোই ভালো। কারণ শুধু ফুল গুলোই তার কথা শুনে। তার দিকে খারাপ ধারনা নিয়ে তাকায়না।আয়ান প্রাপ্তির দিকে তাকিয়েই আছে তার মনে হচ্ছে তার দেখা সুন্দর মানুষটি তার সামনে।আচ্ছা ওই ফুল গুলোকে কি বলছে আর নিজে নিজে মিটমিট করে হাঁসছে।আয়ান প্রাপ্তির দিকে এগুতে এগুতে ভাবতে লাগলো এই মেয়েকেই আজ দেখতে আসছি? আমি যাকে এতো দিন মনে মনে খুঁজছি এইসেই মেয়ে।আমি ওকে হারাতে চাই না কোনো ভাবেই না।আব্বু কে আজ আর বলবো না আমার মেয়ে পছন্দ হয়নি।মনে হচ্ছে একটা পরী আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

হঠাৎ প্রাপ্তির নজর পড়তেই দেখে আয়ান তার পাশে দাঁড়িয়ে পলকহীন ভাবে তাকেই দেখছে।প্রাপ্তি কিছু না বলেই দৌঁড়েই বাসার ভিতরে ঢুকে গেলো।আয়ান মুছকি একটা হাঁসি দিয়ে নিজেও বাসায় ঢুকলো।


সুমি আয়ানকে দেখে কোথায় ছিলে এতোক্ষণ তুমি?


আয়ান-(ফিসফিস করে)সুইট হার্ট মেয়ে আমার দেখা হয়ে গেছে।আমি এখনি হ্যাঁ বলে দিলাম।তোমাদের আর মেয়ে খুঁজতে হবে না।


সুমি -ঠিক আছে দেখি তোমার পছন্দ কি রকম। বাবা তো বলেইছে পছন্দ হলে আংটি পরিয়ে যাবে।


নিলিমা বেগম আর আজাদ সেহেব বসে মেয়ের গুনো গান গাইছেন। কিন্তু আয়ানের সেইদিকে কোনো মন নেই। আয়ান ভাবছে কখন মেয়েটাকে তার সামনে নিয়ে আসবে।

আসিফ এসে সবাইকে সালাম দিয়ে বাসায় ঢুকলো।সবার সাথে একটু কথাবার্তা বলে বললো আপনার বসুন আমি আমার বোনকে নিয়ে আসছি।

আসিফ ভিতরের রুমে যেতেই আবিদ সাহেবের অফিস থেকে ফোন আসলো জরুরী ভাবে যাওয়ার জন্য।ফোন রেখেই আবিদ সাহেব বললো অফিস থেকে ফোন আসলো তাড়াতাড়ি যেতে হবে। তোমরা তাহলে দেখো আমি আসছি।


সুমি -বাবা আপনি চলে গেলে আংটি পরাবে কে? 

আবিদ সাহেব -আগে আয়ানের পছন্দ হয় কিনা দেখো তারপর বাকী কথা।


সুমি -বাবা আমি বলি কি আয়ান নাকি মেয়েকে দেখেছে এবং তার পছন্দ ও হয়েছে।


আকাশ -তাই নাকি।আব্বু তাহলে বরং অফিসে আয়ান যাক আপনি থাকেন।ওর যখন পছন্দ হয়েছে তাহলেতো আর কথাই নেই।


আয়ান -আব্বু আপনি থাকেন আমিই যাচ্ছি। একদিক দিয়ে আসিফ অরণী কে নিয়ে আসলো অন্যদিক দিয়ে আয়ান বেরিয়ে  গেলো।আয়ানের যেতে ইচ্ছে করছেনা ওই পরীর মতো মুখটা আরেক বার দেখতে ইচ্ছে করছে।ওই মেয়ের চোখে একটা মায়া আছে যে মায়া আমাকে বার বার টানে।

অরণী কে দেখে আবিদ চৌধুরীর পছন্দ হয়েছে। সুমির দিকে তাকিয়ে তোমরা কি বলো আয়ানেরও যখন পছন্দ হয়েছে তাহলে আংটি পরিয়েই যাই।


আকাশ -আব্বু আপনি ঠিকি বলেছেন। আয়ানের তো মতের কোনো ঠিকই নেই।কখন আবার কি করে। এর ছেড়ে ভালো পরিয়েই যাওয়াটা ভালো হবে।


আবিদ সাহেব আংটি টা অরণীর আঙুলে না পরিয়ে আসিফের হাতে দিয়ে বললো আপনারা পড়িয়ে নিবেন।প্রাপ্তিদের বাড়ীতে খাওয়াদাওয়া করে বাড়ী ফিরে এলো আয়ানদের সবাই।আয়েশা বেগম ড্রইংরুমে বসে অপেক্ষা করছিলো তাদের জন্য।আবিদ সাহেব কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে গেলো।সুমি এসে বসতে বসতে মা!  আর কোনো চিন্তা নেই আপনার ছোটো ছেলের বউ বাড়ীতে আসছে কয়দিন পর। সব কিছু রেডী করেন।ঝিনুক আর মিনু (আয়ানের বোন)আপুদের খবর দিন।


আকাশ -সুমি তুমি এমন ভাব করছো যেন বউ কালকেই ঘরে আসছে।


আয়েশা বেগম খুশী হয়ে তোরা সত্যিই বলছিস বিয়েটা হচ্ছে? আচ্ছা আয়ানের মেয়ে পছন্দ হয়েছে? আয়ান কোথায় ওকে তো দেখছিনা?


আকাশ -আম্মু! আয়ান অফিসের কাজে গেছে।তবে ওর পছন্দেরই মেয়ে।ও সুমিকে ওইখানেই বলেছে মেয়ে নাকি তার পছন্দ হয়েছে।


আয়েশা বেগম- আলহামদুলিল্লাহ্‌!  ওকে নিয়েই তে বড় চিন্তা ছিলো।আমি এখনি ঝিনুক আর মিনুকে ফোন দিয়ে বলছি।ওরা শুনে কতো খুশীই না হবে।রুমকি (ঝিনুকের মেয়ে)শুনলে তো এখনি আসার জন্য কান্নাকাটি করা শুরু করবে।


সুমি -হ্যাঁ মা ঝিনুক আপু তো ভাইয়ার চাকরীর জন্য আসতেই পারে না।রুমকি কে কতো দিন হয়েছে দেখি না।কতো মিষ্টি একটা মেয়ে।সারাক্ষণ মামনি মামনি বলে আমার কাছে পড়ে থাকে। ওকে কাছে ফেলে আমার মা না হওয়ার কষ্ট টা আর মনে থাকেনা।কথাটা বলেই সুমি কান্না করতে করতে দোতালায় চলে গেলো।নিজের রুমে গিয়ে বালিশ বুকের নিছে দিয়ে শুয়ে শুয়ে কান্না করছে।


আয়েশা বেগম আকাশ কে চোখ দিয়ে ইশারা দিলো সুমির কাছে যেতে।আকাশ ও মায়ের কথা শুনে  রুমে গিয়ে সুমির পাশে গিয়ে বসলো।


আকাশ -সুমি!  এই সুমি! তুমি কেন কান্না করছো? আমি তো তোমাকে কতো বার বলেছি সমস্যা যারি থাকুক না কেন ডাক্তার দেখাতে কিন্তু না তুমি যাবে না।আমি তোমাকে এটাও বলেছি না হলে আমারা বাচ্চা দত্তক নিবো তুমি সেটাও মানো না।কি হলো কথা বলছো না কেন? ওকে,,,,, তুমি যদি চাও আমায় ছেড়ে চলে যেতে পারো আমি বাঁধা দিবো না।কথাটা শুনেই সুমি এক ঝটকায় উঠে আকাশকে জড়িয়ে ধরে কান্না জড়িতো কন্ঠে বললো এইসব কি বলছো তুমি আমি তোমায় ছেড়ে কোথায় যাবো? ওকে ফাইন (চোখ মুছতে মুছতে) আমি আর কখনো কাঁদবো না।এইবার তুমি খুশীতো?


আকাশ -তুমি জানো তোমার কান্না আমার ভালো লাগেনা।আচ্ছা সুমি তুমিই বলো আল্লাহ আমাদের পরিক্ষা করছে তাইনা? আল্লাহ সবাইকে সব কিছু দেয়না সুমি।আল্লা আমাদের কি না দিয়েছে কিন্তু একটা সন্তান দেয়নি।


সুমি আকাশে কথা শুনে চুপ করে আছে।আমার তো আর একা কষ্ট হচ্ছে না আমি জানি আকাশ ও মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু কাউকে বুজতে দেয়না।



ঝিনুক আর মিনু অরণীকে দেখে আসার কথা শুনেই পরের দিনই বাপের বাড়ীতে চলে এলো।মিনুরর ৩ বছর বিয়ে হয়েছে। তার সংসার নিয়ে ভালোই কাঁটছে তার দিন।ঝিনুকের মেয়ে রুমকি বয়স ৫ বছর কিন্তু কথা শুনলে ৬০ বছরকেও হার মানায়।তার দুই বাড়ীতেই রাজত্ব। রুমকির দাদার বাড়ীতে রুমকি ছাড়া আর ছোটো বাচ্চা নেই। নানার বাড়ীতেও তাই।সবার আদরের রুমকি।নানার বাড়ীতে এলে সারাক্ষণ সুমির কাছেই থাকে।তার যতো আবদার সুমি আর আয়ানের কাছেই।আজ রাতে রুমকি সুমির হাতে খাবে বলেই জিদ ধরেছে।ঝিনুক খাবারের প্লেট নিয়ে পিছন পিছন দৌঁড়াচ্ছে,


রুমকি -আম্মু আমি তোমার হাতে খাবো না। মামনি কে ডাকো আমি তার হাতেই খাবো।


মিনু আর আয়েশা বেগম মা মেয়ের কান্ড দেখে হাঁসতে লাগলো।


আয়েশ বেগম -ঝিনুক!  ওর সাথে জোরাজোরি করছিস কেনো?একটু পর সুমি আর আয়ান চলে আসবে শপিং থেকে।তারপর সুমি এসেই খাইয়ে দিবে। কথাটা শেষ করতেই কলিং বেল বেজে উঠলো।


মিনু -আম্মু তুমি বসো আমি দরজা খুলছি।


মিনুকে দেখে আয়ান অবাক হয়ে তোরা কখন এলি?


মিনু- কেন তোকে ভাবী বলেনি আমরা এসেছি।


সুমি ভিতরে আসতে আসতে না বলিনি।আমি ছেয়েছি ওকে একটু সারপ্রাইজ দিবো।

ঝিনুক আর মিনু এসে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে,

ঝিনুক -কেমন আছিস তুই।একটু আমাকে দেখতেই যাস না।ফোনে দুই এক মিনিট কথা বলে দ্বায়িত্ব গুলো ঝেড়ে ফেলছিস।এখনি এই অবস্থা বিয়ের পর তো ফোনই দিবিনা।


আয়ান -আপু তুই আমাকে ভুল বুজছিস।আমি সময় পাই না।(সুমির দিকে তাকিয়ে) ভাবী তুমি বলো আমি সময় পাই?


রুমকি -ছাড়ো তো আম্মুর কথা।তোমার ছোটো আম্মু যে এইখানে দাঁড়িয়ে আছে তা কি তোমার খেয়াল আছে?


আয়ান -আমি একদমি ভুলে গেছি ছোটো আম্মু। তুমি আমায় ক্ষমা করে দাও।কথাটা বলতে বলতে রুমকিকে কোলে তুলে নিলো।


রুমকি -ওকে ওকে আজকের মতো ক্ষমা করে দিলাম।


আয়েশা বেগম কাজের লোক রফিক কে চা দিতে বললো সবাইকে।আয়ান শুনে বললো আম্মু আমি চা খাবোনা আমাকে কফি দিতে বলো।

মিনু -আম্মুউউউউ!!!! কয়েকদিন পর তোমার আর এতো কিছু খেয়াল রাখতে হবে না।এই বাড়ীতে যে আসছে সেই খেয়াল রাখবে।


আয়ান মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো ছোটো আপু তুই কি মনে করেছিস যে আসছে তার জন্য কি সব পাল্টে যাবে নাকি।আয়ানের কিছুই পাল্টাবে না।


সুমি -ঝিনুক আপু জানো? আয়ানের বউ দেখতে সত্যিই অনেক সুন্দর তবে বড় বোন টা কে আরো বেশী ভালো লাগে।


আয়ান -বড় বোন! বড় বোন আমি তো দেখিনি।তুমি দেখেছো? কিন্তু আমাদের সামনে আসলো নাতো।


সুমি -হ্যাঁ সেটা আমিও ভাবছি।আমি ও দেখতাম না যদি আমি উঠে গিয়ে বাসাটা ঘুরে না দেখতাম। জানো আমি যখন ওর রুমে গেলাম একটাও কথা বললোনা।

মুছকি একটা হাঁসি দিয়ে বারান্দায় চলে গেলো।পরে মেয়ের ভাইকে জিজ্ঞাস করলাম মেয়েটা কে এবং কথা বললো না কেন?সে বললো আমার বোন ও  কারো সাথে কথা বলেনা।জানো কিছু একটা আছে হয়তো আমরা জানি না।


আয়েশা বেগম -সুমি!  এইগুলো ভাবার দরকার নেই সবার পরিবারে কম বেশী কিছু ঘটনা থাকে।আজকের পর আর এইসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করার দরকার নেই।

 রাতে খাওয়াদাওয়া শেষ করে আবিদ চৌধুরী বসতে বললো সবাইকে।


আবিদ চৌধুরী -সবাইকে থাকতে বলেছি কারণ আমি আর আকাশ সন্ধ্যায় মেয়েদের বাড়ীতে গিয়ে পাকা কথা দিয়ে আসছি সামনের সোমবার বিয়ে।মেয়েদের বাড়ীতে একসাথে দুইটো বিয়ে।


ঝিনুক -আব্বু কি বলো আমরা দুই বোন তো এখনো মেয়েই দেখলাম না। আর আজ বুধবার আর মাত্র ৪ দিন পর।


সুমি-আব্বু আমরা কি এতো কিছু এতো তাড়াতাড়ি  সামাল দিতে পারবো?

আয়ান মনে মনে ভাবছে কেমন মেয়েরে বাবা! একটা ফোন ও দিলোনা।অন্য কোনো মেয়ে হলে কতো বার যে ফোন দিতো হিসাব ছাড়া।আর এই মেয়ে একটা কথাও বললো না।আচ্ছা শুধু বিয়েটা হতে দাও তারপর দেখাবো আয়ান চৌধুরী কী!


আবিদ চৌধুরী আয়ানের দিকে তাকিয়ে তোমার কিছু বলার আছে?


আকাশ -আব্বু ও আবার কি বলবে? ও শুধু এখন বিয়ে জন্য প্রস্তুত নিবে।

আয়ান কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেলো।


সুমি -রুমকি চলো আজ তুমি আমাদের সাথে ঘুমাবে।

রুমকি -ওকে মামনি।(সুমির হাত ধরে) টাটা আম্মু গুড নাইট।


আবিদ চৌধুরী ঝিনুক আর মিনুকে বললো,জামাইরা কখন আসবে?


ঝিনুক -আব্বু! ও বলছে বিয়ের আগের দিন ঠিক চলে আসবে।আগেই আসতো কাজের জন্য আসতে পারবেনা।


আবিদ চৌধুরী -মিনু তুমি কিছু বলছো না যে?


মিনু -আব্বু! কলেজ অফ করে তো আর আসতে পারবেনা।আমি বলেছি বিয়ের তারিখ পড়লেই ফোন দিবো ও চলে আসবে।


আবিদ চৌধুরী -ঠিক আছে তাহলে আর কি সবাই ঘুমাতে যাও কথাটা বলেই তিনি নিজের রুমে চলে গেলেন।


প্রাপ্তিদের বাড়ীতে মেহমানের আনাগোনা তেমনি আয়ান আর সিয়ামদের বাড়ীতেও।প্রাপ্তির মামীরা চাচীরা সবাই কাজ করছে প্রাপ্তির মায়ের সাথে। প্রাপ্তির মনে একটাই চিন্তা আমার ব্যাপারে ভাইয়া কি ওদের সব জানিয়েছে? ভাইয়া তো বলেছে জানাবে। আচ্ছা সেইদিন অরণীর ব্যাপার আমার কাছে ভালো লাগলো না।অরণী কি সিয়াম কে চিনে।আমার বিয়েটা ঠিক হওয়ার পর থেকেই মন মরা হয়ে আছে।যে অরণী আমার বিয়ে নিয়ে কতো প্লান করতো আর সে অরণী আমার সাথেও তেমন কথা বলে না।কথা গুলো ভাবতে ভাবতে প্রাপ্তি উঠে গিয়ে অরণীর রুমে গেলো।অরণী খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে আর ভাবছে কি করবো আমি? সিয়ামকে আমি কখনো ভুলতে পারবোনা আর ওই আয়ান না কি, ওই ছেলের সাথেও সংসার করতে পারবোনা।প্রাপ্তি অরণী পাশে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত রাখতেই অরণী চমকে উঠে বললো আরে আপু তুই?


প্রাপ্তি -হুম আমি! কি ভাবছিস এতো দেওয়ানা হয়ে? মনে হচ্ছে রাজ্যের চিন্তা তোর মাথায়।


অরণী -নাহ্ আপু কিছু ভাবছিনা।তুই কেমনে কেমনে এই রুমে?


প্রাপ্তি দুইদিন পরতো তোর সাথে তেমন সময় কাটাতে পারবোনা। আচ্ছা অরণী সিয়াম কে তুই আগে থেকে ছিনিস তাইনা?


অরণী প্রাপ্তির এমন প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আ আ আ পু পু,,,,  কি কি,,, ব ব ব লছি স স?

প্রাপ্তি -তুই এইরকম তোতলাচ্ছিস কেনো?

আমি তোকে একটা প্রশ্ন করলাম মাত্র।


অরণী ভাবছে সরি আপু এই মিথ্যা অভিনয়টা আমাকে করতেই হবে।শুধু তোকে ভালো রাখার জন্য।


প্রাপ্তি -কি ভাবছিস এতো?


অরণী -আমি কি করে চিনবো বল? ধুর এই সব বাদ দে। শুননা আপু! তুই ওই বাড়ীতে গেলে তুই আমাকে রোজ একবার করে ফোন দিবি।কি!  দিবি তো?


প্রাপ্তি হাঁসি দিয়ে অরণীকে জড়িয়ে ধরে হুম দিবো।আসিফ এসে দরজায় দাঁড়িয়ে  বাহ্ ভালোই তো, আমাকে কেউ ফোন দিবেনা? আমাকে পর করে দিলি?

প্রাপ্তি অরণীকে ছেড়ে দিয়ে তুই আমার সব রে ভাইয়া।তুই না থাকলে তো আমি কতো আগেই হারিয়ে যেতাম।


আসিফ -আবার শুরু করলি? খুশীর এই দুইটা দিনে পুরোনো কোনো অতীত নয়।কাল তোদের গাঁয়ে হলুদ আমার কতো কাজ পড়ে আছে তোরা গল্প কর আমি আসছি।



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url