ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । শেষ পর্ব

 

ধর্ষিতা বউ - স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প । শেষ পর্ব

ধর্ষিতা বউ

রাবেয়া সুলতানা
শেষ পর্ব



সকাল থেকেই সবাই বিভিন্ন কাজে  ব্যস্ত। প্রাপ্তির বাপের বাড়ি থেকে সবাই সকালেই চলে এসেছে।আবিদ চৌধুরীর কড়া অর্ডার ছিলো প্রাপ্তির আর সুমির বাপের বাড়ির লোক যেনো সকালেই আসে।অরণী প্রাপ্তির রুমে এসে প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে, কেমন আছিস আপু? 

প্রাপ্তি -ভালো। নীরা কই?
নীরা দরজায় দাঁড়িয়ে এইতো আমি।নিচে সবাই কথা বলছে তাই তোমার কাছে আসতে দেরি হয়ে গেছে। আয়ান ফ্রেশ হয়ে ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে এসে অরণী আর নীরাকে দেখে, বাহ্ আমার শালিকে তো অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে।অবশ্য নীরাও কম যায় না।

নীরা- আপুর থেকে তো আর বেশি না।

আয়ান মুচকি হেঁসে তা ঠিক বলেছো আমার বউয়ের থেকে বেশি না।আমার বউ সারা দুনিয়াতে এই একটাই যা শুধু এই আয়ানের।প্রাপ্তি একটা শার্ট আয়ানের হাতে ধরিয়ে দিয়ে,চুপচাপ নিচে যাও। সবার সাথে শুধু বউ বউ,তোমার লজ্জা লাগেনা সারাক্ষণ বউ বউ করো যে?

আয়ান -আমার বউ আমি যা ইচ্ছা তাই করবো তাতে লজ্জা কিসের?

প্রাপ্তি-(চোখ রাঙিয়ে মুখটা গম্ভীর করে)যেতে বলছি তোমাকে! 

আয়ান-যাচ্ছি তো কি রাগ দেখায়রে বাবা।
আয়ান নিছে এসে প্রাপ্তির বাবা মায়ের সাথে দেখা করে বসতেই আসিফ এসে, আয়ান একটু সাইডে আসো তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।আয়ান আসিফের কথা শুনে আসিফের দিকে মুচকি হেঁসে তাকিয়ে চলুন ভাইয়া ছাদে যাই ওইখানে বসে কথা বলা যাবে।

আসিফ -ঠিক আছে চলো। 
আয়ান আর আসিফ ছাদে মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আসিফ নিরবতা ভেঙে আয়ান আমি এইখানে তোমাকে আলাদা ভাবে কেন ডেকে এনেছি আশা করি তুমি তা ভালো করেই জানো।

আয়ান -ভাইয়া আমি জানি আপনি জয়ের কথা বলছেন।

আসিফ -আমি জানি জয় তোমার কাছেই আছে। ওর বাবা মায়ের কাছে ওকে ফিরিয়ে দিলে মনে হয় সবার জন্য ভালো হবে ।

আয়ান - ভাইয়া আপনি এইখানে কার হয়ে কথা বলতে আসছেন? 
শ্বশুর বাড়ি পক্ষ হয়ে নাকি আপনার বোনের হয়ে?

আসিফ -কি বলতে ছাইছো তুমি? 
তুমি আমার বোন কে বিয়ে করেছো বলে এই না তুমিই শুধু আমরা বোন কে ভালোবাসো।আমার বোনেরা আমরা  জীবনের একটা অংশ। আর সেটা নিয়ে তুমি কথা বলতে পারোনা।

আয়ান - ভাইয়া! আপনি আমাকে ভুল বুজবেন না।আমি শুধু এইটুকুই বলবো আপনাকে, প্রাপ্তির সাথে যারা অন্যায় করেছে আমি কাউকেই ছাড়বো না।যতদিন আমি বেঁচে আছি ততদিন ওর গায়ে আমি কোনো আঁচ লাগতে দিবো না।

আসিফ -তারমানে জয় ও এর সাথে আছে।ঠিক আছে আয়ান তোমার যা ইচ্ছা করো যেনো তোমার কোনো সমস্যা না হয়।

আয়ান - ভাইয়া আপনি চিন্তা করবেন না।জয়কে পুলিশের হেপাজত করেই রেখেছি যতদিন আসল কাল পিটকে ধরতে না পারছে ততদিন কাউকে জানানো হবেনা জয় কোথায় আছে। 
দুজনে কথা শেষ করে নিচে নেমে এলো। সন্ধ্যায় পার্টি শুরু হবে। সবাই কাজ নিয়ে ব্যস্ত। অভ্র তার বাবা মাকে নিয়ে চলে আসছে । ঝিনুক তাদেরকে এনে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।প্রাপ্তি আসতেই ঝিনুক অভ্রর মাকে পরিচয় করিয়ে দিতেই প্রাপ্তি তাদেরকে সালাম করে আপনারা বসুন। 
ঝিনুক -প্রাপ্তি!  রেশী কোথায়? ওকে ডেকে আনো।।

প্রাপ্তি -আপু রেশীকে অরণী আর নীরা রেডি করছে। অভ্র ভাইয়া আপনি কেমন আছেন?  অনেকে দিন পরে দেখা। 

অভ্র -সেই  জন্যই অবাক হয়ে তোমাকে দেখছি। আয়ান কোথায়?  ওকে তো দেখছি না।

আকাশ আর আয়ান কথা বলতে বলতে এসে অভ্রকে দেখে, 
আয়ান -তোর আজকেও লেট! আজ তোর এনগেজমেন্ট  আর তোরই দেখা নেই।

অভ্র- পার্টি কিন্তু শুধু তোদের জন্যই হচ্ছে।শুধু শুধু আমার দোষ দিস কেনো?আকাশ ভাইয়া আপনি বলেন এইটা কি ঠিক?
আবিদ চৌধুরী নিজের রুম থেকে বের হয়ে এসে অভ্রর বাবা মায়ের সাথে কথা বলছে।অভ্রর বাবা অভ্রকে দেখিয়ে, বেয়াই সাহেব এই হচ্ছে আমার ছেলে অভ্র। 
অভ্র সালাম দিয়ে আংকেল কেমন আছেন?
আবিদ চৌধুরী অভ্রর দিকে তাকিয়ে ভালো । কিন্তু আয়ান ও তো তোমার বন্ধু। এখন দেখছি ঝিনুকেরও দেবর।যাক ভালোই হয়েছে।
প্রাপ্তি সবার জন্য নাশতা নিয়ে এসেছে।আবিদ চৌধুরী প্রাপ্তিকে দেখে তোমরা এখনো রেডি হওনি?  একটু পর তো সব গেস্ট এসে যাবে। 

ঝিনুক -প্রাপ্তি যাও তুমি রেডি হয়ে নাও। আব্বু সত্যিই বলছেন। এইতো আমরাও যাচ্ছি।আয়ান!  তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?

আয়ান রেডি হয়ে নিচে চলে এসেছে। প্রাপ্তি নিজেই রেডি হচ্ছে।সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলেও শাড়ির কুচিটা ঠিক মতো হচ্ছেনা।বার বার চেষ্টা করছে সে।।
আয়ানের হঠাৎই মনে হলো তার ফোনটা উপরে রুমে ফেলে রেখে এসেছে। ফোন আনতে রুমে গিয়ে প্রাপ্তির শাড়ির কুচি নিয়ে ঝামেলা করছে দেখে নিজেই হাটু ভেঙে বসে  কুচি ঠিক করে দাঁড়িয়ে প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে, মনে মনে ভাবছে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তোমাকে।তোমার এই চোখ দুটোতে কোনো এক অজানা মায়া আছে। যে মায়ায় এই আয়ান বার বার তোমার প্রেমে পড়ে।ইচ্ছে করে হাজার বছর তোমাকে সামনে বসিয়ে রেখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি।
প্রাপ্তি আয়ানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে, মনে হচ্ছে কিছু একটা ভাবছ। 

আয়ান -হুম ভাবছি তো।ভাবছি আমার বউটা এতো সুন্দর কেনো? 
যার দিকে তাকালে আমি পৃথিবীর সব কিছু ভুলে যাই। ইচ্ছে করে সারাক্ষণ তাকে কাছে পেতে।

প্রাপ্তি -হুম মাথায় আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে।তোমাকে দেখছি ডাক্তার এইবার দেখাতেই হবে।

আয়ান-বুজেছি ভালো লাগছেনা তোমার! যখন আমি থাকবোনা তখন বুজবে ঠেলা।
কথাটা শুনে প্রাপ্তি আয়ানের ঠোঁটে হাত দিয়ে, আর কখনো এইরকম কথা বলোনা।তুমি না থাকলে তোমার প্রাপ্তিই যে থাকবে না।
সুমি দরজায় এসে দাঁড়িয়ে, দুজনের ভালোবাসা শেষ হলে নিচে চলেন বাবা ডাকছে। 
সুমিকে দেখে প্রাপ্তি সরে গিয়ে, চলো বাবা ডাকছে।

প্রাপ্তি আর আয়ান নিচে নামতেই আবিদ চৌধুরী একগাল হাঁসি নিয়ে তাদেরকে দেখছে।পাশে দাঁড়িয়ে আয়েশা বেগম ও চোখ দুটো ছলছল নিয়ে তাকিয়ে আছে।

আবিদ চৌধুরী - আয়েশা!  আজ আমার আনন্দের সিমা নেই।আমার ছেলের সাথে বাড়ির যোগ্য বউই দাঁড়িয়ে আছে।আজ আমি সবার সামনে গর্ব করে বলবো প্রাপ্তি আমার ঘরের লক্ষ্মী। 
প্রাপ্তি আর আয়ান সবাইকে সালাম করলো। আবিদ চৌধুরীকে সালাম করতেই দুজনকে জড়িয়ে ধরে অনেক কষ্ট দিয়েছি তোদের পরিবার থেকে আলাদা করে।ক্ষমা করে দিস তোর এই বাবাকে।

আয়ান- আব্বু আমি জানি তুমি আমাদের কতটা ভালোবাসো।আজকের এই দিনে আমরা কেউই মন খারাপ করতে চাইনা।

আকাশ -আব্বু এককাজ করলে কেমন হয় আগে রেশীর আর অভ্রর এনগেজডটা করে পেলি। 

আবিদ চৌধুরী -ভালো বলেছিস।কিন্তু রেশীকে কই তাকে তো দেখছিনা।।
অভ্র এদিক সেদিক তাকিয়ে সত্যিই তো রেশী কোথায় ওকে দেখছি না কেনো?(ঝিনুকে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে,) ভাবী ও কোথায়?

ঝিনুক - সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে দেখো।
অভ্র ঝিনুকের কথা শুনে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে  দেখে অরণী রেশীকে নিয়ে আসছে।অভ্র মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে, অসাধারণ ।।

ঝিনুক -কিছু বললে?
অভ্র থতমত খেয়ে, কই কিছু বলিনি তো।
আবিদ চৌধুরী -আকাশ!  রেশী যখন এসেই গেছে এনগেজডটা  করে ফেল।আমি জামিলকে একটা ফোন করে আসছি।ওর ফ্যামিলি নিয়ে তো এখনো আসলোনা।
ঝিনুক অভ্রকে এনে রেশীর পাশে দাঁড় করিয়ে, অভ্রর হাতে একটা আংটি দিয়ে, অভ্র! রেশীকে এইটা পরিয়ে দাও।
আয়ান -আপু তুই তো এই বাড়ির লোক হয়ে ছেলে পক্ষ নিয়ে কাজ করছিস।
ঝিনুক -চুপ কর আগে দেবর তারপর তোরা।অভ্র কথা না বাড়িয়ে আংটি পরিয়ে দাও।অভ্র রেশীকে আংটি পরিয়ে দিতেই আয়ান ও রেশীর হাতে একটা আংটি দিয়ে এইটা অভ্রকে পরিয়ে দে।
সবকিছু ভালো ভাবেই চলছিলো। জামিল সাহেব দরজা এসে দাড়াতেই আবিদ চৌধুরী এগিয়ে এসে কোলাকুলি করে তুই বিদেশ গিয়ে তো আমাদের ভুলেই গেছিস।তোর ছেলে কোথায় ও আসেনি?

জামিল -এসেছে! গাড়ি পার্কিং করে আসছে।
আবিদ চৌধুরী -আচ্ছা চল তোকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দি । অবশ্য তুই তো কম বেশী সবাইকেই চিনিস। আমাদের পরিবারের নতুন সদস্যর সাথে আগে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।প্রাপ্তি!  আয়ান এইদিকে আসো।
(তারা কাছে আসতেই)ও আমার বন্ধু জামিল।জামিল!  আমার ছোটো ছেলে আয়ান আর ছেলের বউ প্রাপ্তি। 
প্রাপ্তি জামিল সাহেবকে সালাম দিতেই, 
জামিল -তোমাকে কোথাও যেন দেখেছি কিন্তু মনে করতে পারছিনা।(এমন সময় জামিল সাহেবের ছেলে আসতেই) ওইতো, আবিদ আমার ছেলে চলে এসেছে। 
পিছিন ফিরে তাকিয়ে দেখে, প্রাপ্তি নিজের অজান্তেই আস্তে করে বলে উঠলো সায়মন!
প্রাপ্তির আস্তে কথাটাও আয়ানের কানে পৌঁছাতেই প্রাপ্তির দিকে তাকালো।সায়মন ও প্রাপ্তিকে দেখে
অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।প্রাপ্তি আস্তে আস্তে এক পা দুই পা করে  পিছাতে লাগলো।আয়ান প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে প্রাপ্তিকে বুজার চেষ্টা করছে। প্রাপ্তি আয়ানের দিকে খেয়েল না করে  দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে চলে গেল। 

আবিদ চৌধুরী -আয়ান! প্রাপ্তি এই ভাবে চলে গেল কেনো? 
আয়ান কথা গুরিয়ে আব্বু ও মনে হয় রুমে কিছু রেখে আসছে ওইটা আনার জন্য গেছে। জামিল সাহেব খুব গর্ব করে ছেলেকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
আয়ান অরণীর দিকে তাকিয়ে দেখে সুমি সহ অন্য গেস্টদের সাথে কথা বলছে।অরণীর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে, অরণী ওইদিকে তাকাও কিছু দেখতে পাও কিনা দেখো তো?

অরণী -মুচকি হেঁসে ভাইয়া তুমিও না! কথাটা বলে তাকাতেই চোখ বড়সড় করে সায়মন!  ও এইখানে কি করছে? আপু কোথায়। 
অরণীর কথা শুনে আয়ান এইবার পুরোপুরি ভাবে শিওর হলো এইটাই সে সায়মন।। 
ভাইয়া!  আপু কোথায়? 

আয়ান -অরণী চুপ করো। তোমার আপু উপরে চলে গেছে।অরণী প্লিজ তুমি এমন ভাবে থাকো যেন কেউ কিছু না বুজতে পারে। 
সায়মন প্রাপ্তিকে উপরে চলে যেতে দেখে বার বার উপরের দিকে তাকাচ্ছে।জামিল সাহেব ছেলের মুখে বিষন্নতার চাপ দেখে কি হয়েছে পার্টিতে এসেছিস এনজয় কর।এইভাবে ডাস্টবিনের ময়লার মতো মুখ করে রেখছিস কেনো?
সায়মন বিরক্তিকর ভাব নিয়ে আব্বু যে মেয়েটা এইখান থেকে দৌড়ে উপরে গেলো মেয়েটা এই বাড়ির কে?
জামিল - আবিদের ছোটো ছেলের বউ। পার্টিতো ওদের জন্যই দেওয়া হয়েছে।কেন? তুই মেয়েকে চিনিস?
সায়মন কিছু না বলে সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে উপরে উঠে গেলো।
প্রাপ্তি নিস্তব্ধ হয়ে নিজের রুমে এসে খাটের উপর চোখ বন্ধ করে বসে আছে । তার অতীত গুলোকে যতই সে ভুলার চেষ্টা করছে ততই তার সামনে এসে থমকে দাঁড়াচ্ছে।কেনো আমার সাথেই শুধু এইরকম হয়।নাহ্ আমি আমার অতীত মনে করতে চাইনা। আমি শুধু আমার আয়ানকেই বুজি। আমি আর কিছু মাথায় আনতে চাইনা।কথা গুলো ভাবছে আর অঝোরে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
সায়মন প্রাপ্তির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে,সুন্দরী তুমিকি আমাকে ভাবছো।কথাটা শুনে প্রাপ্তি দাঁড়িয়ে তুই এইখানে?।
সায়মন -তোমাকে এতো ভালোবাসা দিয়েছি যে আজও আমায় মনে রাখছো?কিন্তু মনে তোমার এতো রাগ আমার জন্য যে তুই বলে ডাকছো?
আচ্ছা! আয়ান কি জানে তোমার সাথে আমার ভালোবাসার কথা?কতোটা ভালোবাসা দিয়েছি তোমাকে ওকে বলেছো?নাকি ওই ছেলেকে নিজের এই রুপ দেখিয়ে সব ভুলিয়ে রেখেছো?সত্যি এইটা মানতে হবে তুমি এক অপরুপ সুন্দরী। যে কেউই তোমার ভালোবাসায় ডুবে থাকতে ইচ্ছে করবে।সায়মনের কথা গুলো আর সহ্য করতে না পেরে চোখ বন্ধ করে কানে হাত দিয়ে প্লিজ তুই চুপ কর। আমার আর সহ্য হচ্ছেনা।আমার আয়ান আমাকে ভালোবাসে।আমি ওকে ঠকায়নি।আমি সত্যি ওকে ঠকায়নি। কথা গুলো বলতে বলতে হাঁটু ভেঙে নিচে বসে পড়লো।

প্রাপ্তি চোখ মুখ মুছে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে আয়ান তার সামনে বসে আছে।আয়ানকে দেখেই জড়িয়ে ধরে আয়ানের বুকে মুখ লুকিয়ে জোরে কাঁদতে কাঁদতে, আমি তোমাকে ঠকায়নি। তুমি তো আমার সবি জানো।আমি তো বিয়ের দিনই তোমাকে সব বলছি বলো।আমি কি তোমার কাছে কিছু লুকাইছি বলো?

আয়ান কথা গুলো শুনে, কার জন্য কাঁদতেছো?  কেনো তুমি ভয় পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছো?কাকে ভয় পেয়ে তুমি সবার আড়াল হয়ে গেলে।

প্রাপ্তি -ও এইখানেও এসে গেছে।ও আমাকে কখনো সুখী হতে দিবেনা। তুমি জানোনা ও কতটা খারাপ ছেলে। ওর বাবার টাকা আছে বলেই যা ইচ্ছা তাই করে বেড়ায়। আমার জন্য এখন তোমাদেরও  অসম্মান হবে। 

আয়ান-প্রাপ্তি!  ও আয়ান কে জানেনা আয়ান তার প্রাপ্তির জন্য কি না করতে পারে।এর শেষ আমি আজকেই করে ছাড়বো।প্রাপ্তি তুমি কেনো এতো ভয় পাচ্ছো?এই ভয়কে জয় করেই তোমাকে সোসাইটিতে থাকতে হবে । তুমি যত ভয় পেয়ে পিছনে যাবে।তারা তত তোমাকে ভয় দেখিয়ে সামনে এগিয়ে আসবে। নিজেকে শক্ত করে তাদের সামনে এগিয়ে যাও দেখবে তারা তোমাকে ভয় পেয়ে পিছনে যাবে । তোমাকে আমি কতবার বলবো আমি সারাজীবন থাকবোনা তোমাকে আলগে রাখার জন্য। নিজেকে শক্ত করে পরিস্থিতি সামলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করো।তোমাকে দেখিয়ে দিতে হবে এই সমাজের লোক গুলোকে যাদের ভয়ে নিজেকে আড়ালে রাখতে চাইছো।কথা গুলো প্রাপ্তিকে বলে আয়ান প্রাপ্তি কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে,নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে প্রাপ্তি অজ্ঞান হয়ে আছে। আয়ান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে প্রাপ্তিকে খাটের উপরে উঠিয়ে শুইয়ে দিলো।আসিফ আর অভ্র এসে প্রাপ্তিকে দেখে, 
আসিফ -আয়ান, ওকে তো ডাক্তার দেখাতে হবে। কিন্তু এতো গেস্ট বাড়িতে, হসপিটালে নিবে কি করে?

আয়ান -এই নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবেনা ভাইয়া! নিচে ডাক্তার আংকেল আসছেনা ওনাকে ডেকে আনলেই হবে।কিন্তু আপনারা সায়মন কে কোথায় রেখেছেন?

অভ্র -চিন্তা করিস না! ছাদের চিলেকোঠার ঘরটাতে রেখে তালা মেরে এসেছি।গেস্টরা চলে যাক তারপর ওর ব্যবস্থা করবো।

আয়ান -তাহলে তোমার প্রাপ্তির পাশে বসো আমি আংকেলকে ডেকে আনছি। 
আয়ান নিচে এসে দাঁড়াতেই আবিদ চৌধুরী আয়ানকে দেখে কি ব্যাপার আয়ান তুমি আর প্রাপ্তি কোথায় গেছো?  প্রাপ্তি কই ওকে ডাকো।তোমাদের জন্য পার্টি আর তোমরাই দূরে সরে থাকতেছো।

আয়ান -আব্বু ও আসছে।আকাশের কাছে গিয়ে আয়ান বললো ভাইয়া আমি এইদিক টা সামলিয়ে নিচ্ছি তুই ডাক্তার আংকেল কে নিয়ে আমার রুমে যা।প্রাপ্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। 

আকাশ -মানে? কি হয়েছে ওর?

আয়ান -তুই উপরে গেলেই বুঝতে পারবি।আমিই যেতাম কিন্তু আব্বু আমাকে না দেখলে সমস্যা করতে পারে । 
জামিল সাহেব ছেলেকে না দেখতে পেয়ে, সায়মন কোথায় গেলো আবার, এই ছেলে আমার মানসম্মান নিয়ে আবার জানি টানাটানি না করে।

আবিদ চৌধুরী -কিরে কিছু ভাবছিস নাকি? 

জামিল সাহেব -সায়মন কোথায় গেলো?  ওকে দেখছি না তাই  ভাবছি।

আবিদ চৌধুরী -কোথায় আর যাবে দেখ কোথাও এনজয় করছে। 

প্রাপ্তিকে ডাক্তার দেখে ভয়ের কিছু নেই।চোখে মুখে একটু পানি ছিটকে দাও ঠিক হয়ে যাবে।।
ডাক্তার প্রাপ্তিকে দেখে নিচে নেমে এসে আয়ানকে গম্ভীর হয়ে থাকতে দেখে, আয়ান চিন্তা করোনা উপরে গিয়ে দেখ প্রাপ্তির হয়তো জ্ঞান ফিরেছে।আয়ান মুচকি হেঁসে সিঁড়ির দিকে চোখ পড়তেই দেখে আসিফ প্রাপ্তিকে নিয়ে নিচে নামছে।আয়ান কাছে গিয়ে ভাইয়া ওকে নামিয়ে আনলেন কেনো?

আসিফ - কি করবো জ্ঞান ফেরার পর থেকে তোমাকে খুঁজচ্ছে কিছুতেই স্থির থাকছেনা। তাই ভাবলাম সবার সামনে থাকলে ভালোই থাকবে।প্রাপ্তি আয়ানের দিকে অসহায় ভাবে মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে।। 
আয়ান আর কিছু না বলে প্রাপ্তিকে নিজের চোখে চোখেই রাখলো।রেশীর বিয়ে তারিখ ফাইনাল করে পার্টি শেষ করলো।আয়ান প্রাপ্তিকে রুমে নিয়ে, যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।আমি অভ্রর সাথে কথা বলে আসছি।পাশের রুমে অভ্রর কাছে এসে আচ্ছা অভ্র জামিল সাহেব ছেলের খোঁজ না করেই চলে গেলো কিন্তু কেনো?
আসিফ এসে দরজায় দাঁড়িয়ে আমি বলছি।ছেলের খোঁজ করেছে।পরে ভেবেছে ছেলে ওনাকে না বলেই চলে গেছে।

আয়ান -ভালোই" ছেলেকে কাল থেকে আর কষ্ট করে খুঁজতে হবেনা।প্রতিদিন জেলে গিয়ে দেখা করে আসতে পারবে।এতো সহজে ওকে হাতে পাবো এইটা আমি ভাবতেই পারিনি।ওকে এতোটা কঠোর শান্তির ব্যবস্থা করবো যেন কোনো ছেলে ওর কথা মনে হলে মেয়েদের দিকে তাকাতে হাজার বার ভাববে।।
আসিফ আয়ানের কথা গুলো শুনে আয়ানকে এসে জড়িয়ে ধরে তোমার ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবোনা। প্রতিটি প্রাপ্তি যেন তোমার মতো একজন আয়ান পায় তাহলে এই সমাজের মেয়েদের আর কোনো অবহেলা হবেনা।
আয়ান আসিফের কথা শুনে মুচকি হেঁসে ভাইয়া আমিতো প্রাপ্তির জীবনে অনেক পরে এসেছি। আপনিই তো আগে ওকে সামলিয়েছেন।আপনার মতো ভাই পাশে থাকলে সব বোনই হাজার টা কষ্ট সহ্য করে নিতে পারবে।(অভ্রর দিকে তাকিয়ে) আমার পাশে থাকার জন্য তোকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোটো করবো না।তবে তোর মতো এইরকম বন্ধু সারাজীবন আমার পাশে চাই।
অভ্র একটু মজা করে সাবধানে কথা বল এখন আমি তোর ছোটো বোনের স্বামী বলেই হাঁসা শুরু করলো।
আয়ান রুমে এসে দেখে প্রাপ্তি ফ্রেশ হয়ে এসে একপাশ হয়ে শুয়ে আছে।আয়ান এসে পাশে শুয়ে জড়িয়ে ধরে প্রাপ্তির কাঁধে নিজের মুখটা গুজে দিয়ে, আমার লক্ষ্মী বউটা কি আমার আরও কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরবে?প্রাপ্তি চুপ হয়ে আছে চোখ বন্ধ করে। 

আয়ান -আমি জানি আমার পাগলি এখনো ঘুমায়নি।কারণ আমি আমার পাগলি নিশ্বাসের শব্দ  শুনেই বুজে গেছি।
প্রাপ্তি আয়ানের স্পর্শ পেয়ে নিশ্বাসের শব্দ ভারী হয়ে আসছে।তবুও ইচ্ছে করে চুপ করে আছে।
আয়ান প্রাপ্তির মুখের উপরে আসা চুল গুলো সরিয়ে দিতে দিতে আবার বললো, আমি কি ঘুমিয়ে যাবো? ঠিক আছে আমার পাগলি যখন ঠিক করেছে সে আমাকে ভালোবাসবেনা তাহলে ওকে আমি ঘুমিয়ে পড়ছি। আয়ান প্রাপ্তিকে ছেড়ে দিয়ে অন্য দিকে ফিরে শুতে যাবে তখনি প্রাপ্তি আয়ানের দিকে ফিরে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে  আয়ানের ঠোঁটের সাথে নিজের ঠোঁট মিলিয়ে নিলো।
আয়ান ও প্রাপ্তিকে আরও শক্ত করে ধরে আস্তে আস্তে প্রাপ্তির ভালোবাসায় নিজেকে হারাতে লাগলো।।

আয়ান খুব ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।এইদিকে প্রাপ্তি মা হতে চলছে অন্য দিকে দুইটা অফিসের দায়িত্ব সামলাতে হয়।আবিদ চৌধুরী নিজের ব্যবসায়ীক সব দায়িত্ব ছেলেদের কাঁধে দিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন।যে অফিসে এমডি হিসেবে জয়েন করেছিলো সেখানেই কাজ করতে হচ্ছে।যতই কাজ থাকুক না কেনো মন পড়ে থাকে তার পাগলির কাছেই।অফিস শেষ করে এসে আবার তার পাগলির যত্ন আতি শুরু হয়।সারাটা বাড়ির সবাই প্রাপ্তিকে নিয়েই মেতে থাকে।চৌধুরী বাড়ির নতুন অতিথি আসছে। এইভাবেই চলছে প্রাপ্তি আর আয়ানের সংসার।  কয়েক মাস পর প্রাপ্তির ডেলিভারি সময় হয়ে গেছে।আয়ান অফিসে যাবেনা বলে ড্রইংরুমে বসে সুমির সাথে বসে বকবক করছে।প্রাপ্তি আস্তে আস্তে নিচে নেমে এসে, কি ব্যাপার তুমি অফিসে যাবেনা? 

আয়ান-না আজ যাবো না।তোমাকে নিয়ে হসপিটাল যাবো । 
প্রাপ্তি সোফায় বসতে বসতে প্লিজ আমি একদম ঠিক আছি।তুমি অফিসে যাও কিছু হলে বাবা আর ভাবী তো আছেই।ওরা তোমাকে ফোন দিবে।আর কাল থেকে তোমার লম্বা ছুটি নিয়ে নিবে অফিস থেকে।
সুমি-আয়ান!  আজ যাও।কাল থেকে আর যেতে হবেনা। তোমার ভাইয়া সব সামলে নিবে।
আয়ানের ইচ্ছা করছেনা যেতে কিন্তু প্রাপ্তির কোথায় উঠে গিয়ে অফিসে গেলো।অফিসে গিয়ে একটু পর পর ফোন দিয়ে প্রাপ্তির খবর নিচ্ছে।
বিকেল থেকে অবস্থা বেশি ভালো না।প্রচন্ড ব্যাথা উঠেছে প্রাপ্তির।সুমি আর আবিদ চৌধুরী তাড়াতাড়ি করে হসপিটালে নিয়ে গেলো। সবাই অনেক চিন্তার মাঝেও অনেক খুশি তাদের পরিবারে নতুন সদস্য আসছে।আকাশ আর আয়ানকে খবর দেওয়া হয়েছে।অভ্র আর রেশীও আসছে প্রাপ্তিকে দেখার জন্য । আকাশ হসপিটালে এসেই সুমি!  সুমি! প্রাপ্তির এখন কি অবস্থা?সব কিছু ঠিক আছে?
সুমি -একদম ঠিক আছে।ডাক্তারা প্রাপ্তিকে নিয়ে গেছে আর আমাদের অপেক্ষা করতে বলেছে । আয়ান কোথায় ও এখনো এলোনা?

আকাশ -ও আসছে! চিন্তা করোনা।
প্রাপ্তির প্রচন্ড ব্যাথা কিন্তু আয়ানের জন্য মন কেনন করছে । তার চোখ দুটো বার বার আয়ানকে খুঁজছে।

একটু পর সিস্টার এসে প্রাপ্তির বাবুকে সুমির কোলে দিয়ে গেছে।

আবিদ চৌধুরী -সিস্টার আমার মেয়ে কেমন আছে? 

সিস্টার -ওনি সুস্থ আছেন।কিন্তু ওনি ওনার হ্যাজবেন্ডকে খুঁজছেন।
আবিদ চৌধুরী মনে মনে ভাবছে সত্যি তো আয়ান এখনো এলো না কেনো।সবাই নতুন বেবি কে নিয়ে খুব খুশি। সবাই কোলে নিবে বলে কাড়াকাড়ি করছে। এইদিকে প্রাপ্তির বাবা মা আসিফরাও চলে এসেছে।আবিদ চৌধুরী চিন্তিত হয়ে আয়ানের অফিসে ফোন দিয়ে জেনেছে আয়ান ফোন পাওয়ার পরেই অফিস থেকে বের হয়ে গেছে।আবিদ চৌধুরী আকাশকে ডেকে এনে, আকাশ! আয়ান অফিস থেকে অনেক আগেই বের হয়েছে।প্রাপ্তির এই অবস্থায় আয়ান কোথাও যাবেও না।কিন্তু আয়ান তো এখনো এলোনা। 
আকাশ -আব্বু সত্যিই আয়ান তাহলে কোথায়?
এইদিকে প্রাপ্তি তো আয়ানকে খুঁজছে।

হঠাৎই অভ্রর ফোন বাজতেই দেখে তাদের অফিসের কলিং সাইদ ফোন দিয়েছে।অভ্র ফোন রিসিভ করে,
হ্যাঁ সাইদ কিছু বলবে?

সাইদ -স্যার আপনি কোথায়?

অভ্র -আমি হসপিটাল তোমদের আয়ান স্যারের বেবি হচ্ছে আমি সেইখানেই। কিন্তু কেনো কিছু বলবে?
কথাটা শুনে সাইদ চুপ করে খানিকক্ষণ পরে বললো, স্যার!  আয়ান স্যারের গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়েছে।অফিস থেকে একটু দূরেই। 
 কিন্তু অনেকে বলাবলি করছে গাড়িতে যিনি ড্রাইভিং করছিলেন তিনি নাকি বেঁচে নাই। 

সাইদের কথাটা শুনে চেঁচিয়ে, হোয়াট!  কি বলছ তুমি কথাটা বলেই ফোন টা হাত থেকে পড়ে গেলো। 
আসিফ ফোন পড়ে যেতে দেখে কি হয়েছে অভ্র? অভ্র কথাটা বলতে যাবে তখনি দেখে আয়ান দৌড়ে এসে, প্রাপ্তি কোথায়?
অভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে আয়া,,,,,,ন!দৌড়ে এসে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে তুই ঠিক আছিস তো?

আয়ান - আমি একদম ঠিক আছি।

আবিদ চৌধুরী -তাহলে তুই এতক্ষণ কোথায় ছিলি?

আয়ান -আব্বু আর বলোনা।আমার গাড়ি টা কে বা কারা নিয়ে গেছে। তাই থানায় গিয়ে কিছু কাজ ছিলো সেই গুলো করে আসলাম।আর আমি জানি তোমারা সবাই প্রাপ্তির পাশে আছো।অভ্র বুজে গেছে গাড়ি যারা নিয়েছে তারাই এক্সিডেন্ট করেছে। অরণী বেবি নিয়ে এসে আয়ান ভাইয়া! আপনার মেয়েকে কোলে নিবেননা।আপনার ঘরেযে পরী এসেছে।
আয়ান বেবির কপালে চুমু দিয়ে আমি আগে আমার বড় পরীকে দেখে আসি।আয়ান প্রাপ্তির কেবিনে ঢুকেই প্রাপ্তির পাশে এসে বসেছে।আমার পরীর আম্মু কেমন আছে? প্রাপ্তি চোখ খুলে আয়ানকে দেখতে পেয়ে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।আয়ান প্রাপ্তির চোখের পানি মুছে সরি পাগলি লেট করার জন্য।
প্রাপ্তি আয়ানের হাতটা গালের সাথে শক্ত করে ধরে, আমি ভাবেছিলাম তোমাকে হয়তো আমার আর দেখা হবেনা। আয়ান প্রাপ্তির মুখে আঙুল দিয়ে ধুর পাগলি আমি তোমাকে ছেড়ে মরে গিয়ে শান্তি পাবোনা।কথাটা বলে প্রাপ্তির ঠোঁটে একটা চুমু দিয়ে I love u পরীর আম্মু ।


--------সমাপ্ত-------

(অনেক অপেক্ষার অবসান ঘটলো আজ ।আর এতোদিন অপেক্ষায় রাখার জন্য অনেক অনেক ক্ষমাপ্রার্থী । কিছু কথা না বললেই নয়, গল্পটা আমি যে ভাবে সাজাতে ছেয়েছিলাম সেভাবে শেষ করতে পারিনি । কারণ আপনাদের মতামত নিয়েই শেষ টা আজ শেষ করলাম আরেকটা কথা, গল্পটার নাম নিয়ে অনেকের সমস্যা ছিলো অনেকর চুলকানি ছিলো আজ সেটারও অবসান হলো । আর যারা আজকের গল্প পড়ে একটু ভয় পেয়েছিলেন তাদেরকে সরি বলছি । সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন । আর আজকের পার্টে সবার অনুভূতির কথা গুলো জানাবেন প্লিজ ।)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url