Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০৩

Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০৩

 

Prince Of Vampire💕

লেখিকাঃ Sumaiya Moni

পর্বঃ ০৩


আজ রাতটা কুঁড়ের ঘরে কাঁটিয়ে দিবে বলে ভাবে। তবে কুঁড়ের ঘরটি দেখে প্রিয়ার মনে কিছুটা সন্দেহ জাগে। এত গভির জঙ্গলে কুঁড়ের ঘর বানিয়ে কে থাকে? মনে কিছুটা সন্দেহ নিয়ে কুঁড়ে ঘরের দিকে পা বাড়ায় প্রিয়া ।

সানি,টিনা,বিক্কি,রুমকি,রিমি ওরা সবাই বাসার ভিতরে প্রবেশ করে ড্রইংরুমের বসে হাপাচ্ছে। ওরা অনেক ক্লান্ত । রমেশ চাচা ওদের বসাইকে দূরে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলো। তার চোখ প্রিয়া কে খুঁজছে। প্রিয়া কে না দেখতে পেয়ে ওদের সামনে এসে জিজ্ঞেস করলো।

রমেশ চাচা: প্রিয়া কোথায়?

রমেশ চাচার মুখে প্রিয়ার কথা শুনে ওরা ঘাবড়ে যায়। এখন রমেশ চাচাকে ওরা কী বলবে? এক এক জন আরেক জনের মুখ চাওয়া চায়ি‌ করছে। টিনা মন খারাপ করে বললো । 

টিনা: চাচা জঙ্গলে আমাদের সাথে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে?

রমেশ চাচা: কী দুর্ঘটনা মা?.......[ কিছুটা চিন্তিত হয়ে ]

টিনা জঙ্গলের ঘটনা সব রমেশ চাচা কে খুলে বললো। ওরা সবাই অনুপ্তত বোধ করছে । ওদের প্রিয়া কে একা ফেলে আসা উচিত হয়নি। তবে ওরা ইচ্ছা করে এটা করেনি।ওদের সবাই কে অবাক করে দিয়ে রমেশ চাচা বলে উঠল।

রমেশ চাচা: তোমরা চিন্তা কইরো না। প্রিয়া মামনি আজকা রাতেই ফিরা আইবো। আর এই কথা প্রিয়ার বাবা রে বইলো না কিন্ত! হে শুলনে চিন্তা করতে পারে।আইচ্ছা আমি যাই। তোমাগো জন্য খাবার রেডি করি। তোমরা সবাই ফ্রেশ হইয়া নেও।

বলেই রমেশ চাচা রান্না ঘরের দিকে হাঁটা ধরলো । সানি,টিনা,বিক্কি,রিমি,রুমকি ওরা এখনও আরেক জনের দিকে তাকাচ্ছে। আসলে রমেশ চাচা কী বলে গেল ওরা ঠিক বুঝতে পারেনি। 

সানি: আমরা কী প্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করবো? নাকি প্রিয়ার ড্যাড কে‌ খবরটা জনিয়ে দেবো?

টিনা: কিছু করার দরকার নেই চুপ চাপ বসে থাকো। রমেশ চাচার কথা যদি সত্যি হয় আর প্রিয়া যদি আজ রাতের মধ্যেই ফিরে আসে। তাহলে তো সব ঠিক আছে। আর যদি না ফিরে আসে তাহলে প্রিয়ার ড্যাড কে বলবো সাথে পুলিশ কেও ।

বিক্কি: কিন্তু প্রিয়ার যদি কোন ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে?

রিমি: বিক্কি প্রজেটিভ চিন্তা ভাবনা কর। নেগেটিভ না!

রুমকি: হ্যাঁ! চলো সবাই ফ্রেশ হয়ে আসি।

সানি: হুমম......।


আস্তে আস্তে হেঁটে কুঁড়ে ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজা খুলা নাকি বন্ধ ঠিক বুঝতে পারছে না প্রিয়া ।হুট করেই প্রিয়ার সপ্নে দেখা সেই কুঁড়ে ঘরের কথা মনে পড়ে যায়। 

প্রিয়া: আরে এটা তো সেই কুঁড়ে ঘর যেই ঘরটি আমি সপ্নে দেখেছিলাম। তার মানে আমার সপ্ন সত্যি হয়েছে.[ মনে আতঙ্ক নিয়ে বললো ] ভিতরে কী কেউ আছে? ডাক দেব একবার? একটা ডাক দেই?

ভিতরে কেউ আছেন? কেউ আছেন ভিতরে?

ঘরের ভিতরে কেউ নেই নাকি? [ চিল্লিয়ে বললো ] জোরে ধাক্কা দিয়ে দেখবো? দেখি একবার!

প্রিয়া দরজা জোরে ধাক্কা দেবার সাথে সাথে খুলে যায় আর ঘরের ভিতর থেকে কত গুলো বাদুর বের হয়ে আসে । 

আআআআআআআআ............

ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে চোখ বন্ধ করে কান চেপে নিচে বসে পড়ে। কিছুক্ষন পর সব স্বাভাবিক হয়ে গেল,বাদুর গুলো চলে গেছে। প্রিয়া আস্তে করে চোখ মেলে চার দিক ভালো তাকিয়ে একবার দেখে ন্যায়। বাদুর গুলো চলে গিয়েছে কি না । বাদুর দেখতে পাচ্ছে না বিধায় উঠে দাঁড়ায় প্রিয়। 

প্রিয়া: ঠিক একি রকম সপ্ন! সপ্নে আমি এটাই দেখেছিলাম। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ভিতরে চোখ বুলিয়ে দেখলাম । তেমন তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। তবে ভিতরে বেশ অন্ধকার । মোবাইল টা দৌড়াতে কোথায় যেন পড়ে গেছে। ড্যাড মনে হয় অনেক বার কল দিয়েছে। টিনা ড্যাড কে কিছু না বললেই ভালো হয়। জানি না বলেছে কি না। কুঁড়ে ঘরের ভিতরে যাবো নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো ঠিক বুঝতে পারছি না। ঘরের ভিতরে মন হয় না কেউ আছে । কিন্ত বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকলে কোন বিপদ হয় কে জানে। তার চেয়ে ভালো ভিতরে যাই। 

প্রিয়া ঘরের ভিতরে ওর ডান পা আগে বাড়িয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো । 

প্রিয়া: প্রচন্ড অন্ধকার । বাহিরে চাঁদের আলো আছে অনেক। আর সেটা যদি ঘরের...আচ্ছা ঘরের মধ্যে নিশ্চয় জানালা আছে। একবার হাত দিয়ে ঘরের চার দিক দেখি। 

প্রিয়া অন্ধকারের মধ্যে অন্ধের মতো ঘরের চার কোণা হাতিয়ে দেখতে লাগলো। প্রিয়ার হাতে তেমন কিছুই‌ অনুভব হচ্ছে না যাতে মনে হয় এটা জালানা।


ভ্যাম্পায়ার কিংডম.....

চিন্তিত হয়ে পায়চারি করছেন কিং। কিং এর সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে রাহিল। কিং দুঃখি কন্ঠে বলে উঠল।

কিং: এবারও পারলাম না প্রিন্স কে জাগিয়ে তুলতে । আমাদের ভাগ্য টা আসলেই খারাপ । 

রাহিল মাথা নিচু করে শুনছে। কিং আগের মতো পায়চারি করছে । কিছুক্ষন পর কিং উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠল।

কিং: রাহিল ওই কুঁড়ে ঘরে কেউ প্রবেশ করেছে। 

রাহিল মাথা জাগিয়ে কিং এর দিকে তাকায়। কিং বলেছিল ওই ঘরে কোন জীব-জন্তু প্রবেশ করতে পারবে না। তাহলে কে প্রবেশ করলো ? এটা কিভাবে সম্ভব হল ?

রাহিল: কী বলছেন কিং?

কিং: হ্যাঁ! আমি ঠিক বলছি। তুমি তাড়াতারি করে জঙ্গলে সেই ঘরের ভিতরে যাও। গিয়ে দেখ কে প্রবেশ করেছে? কেন প্রবেশ করেছে? তাড়াতারি কর? 

রাহিল: ওকে কিং আমি যাচ্ছি।

কিং: সাথে করে কিছু ভ্যাম্পায়ার নিয়ে যাও। জঙ্গলে বিপদের অসংখা আছে। 

রাহিল: ওকে কিং।

রাহিল ৬-৭ জন ভ্যাম্পায়ার সাথে নিয়ে রাজ্য থেকে বেরিয়ে পড়লো জঙ্গলের উদ্দেশ্যে । কিং কিছুটা চিন্তায় পড়ে যায়।

কিং: হঠাৎ ওই কুঁড়ে করে কে প্রবেশ করলো? সেখানে তো জীব-জন্তু প্রবেশ করা সম্ভব না? তাহলে কে প্রবেশ করলো? সামনে আবার কী বিপদ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য?

ভাবতে লাগলেন একা একা।


প্রিয়া অনেকক্ষন ধরে অন্ধকারে খুঁজার পর ওর হাতে একটা লোহা জাতীয় কিছু একটা অনুভব করল। প্রিয়া ওর দু হাত দিয়ে ভালো করে লোহাটার উপর হাত দিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে এটা আসলে কী? 

প্রিয়া: এটা কী? জোরে টান দিয়ে দেখবো?

প্রিয়া ওর মনোভাব কে স্থির করে জোরে টান মেরে‌ লোহা টা বের করে ফেললো। আর সাথে সাথে কুঁড়ে ঘরের উপরের জানালার মতো একটা কাঁঠেন দরজার মত খুলে দু পাশে সরে গেল। ঘরের মধ্যে এখন চাঁদের আলো বিরাজ করছে। চাঁদের আলো ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে অন্ধকার কেঁটে গিয়ে অনেকটা আলোকিত হয়ে গেছে ঘর। প্রিয়া কিছুটা খুশি হয়ে যায়। উপরের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিচে তাকাতেই প্রিয়া একটা কালো রঙের কাঁঠের মমি দেখতে পায়। প্রিয়া এবার ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সেই মমিটার দিকে। 

প্রিয়া: এটা আবার কী? এটা এখানে কেন রাখা? 

সন্দেহ চোখে তাকিয়ে আছে সেই কাঁঠের মমি টার দিকে। ভালো করে মমিটা পরিদর্শন করতে লাগলো।  ধুলো পড়ে আছে মমি টার উপরে। 

প্রিয়া: এটার মধ্যে মনে হয় কিছু একটা আছে আমার মন বলছে। আচ্ছা কি আছে খুলে দেখবো কী? না যদি ভয়ংকর কিছু থেকে থাকে তাহলে? হুহহ... সামনে গিয়ে দেখি এটা কী?

প্রিয়া গুটি গুটি পায়ে মমির সামনে যেতে লাগলো। মমির ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়া। চাঁদের আলো মমিটার উপরে পড়ায় প্রিয়া বুঝতে পারছে এটা একটা কাঁঠের বাক্স । এবার কাছ থেকে ভালো করে পরিদর্শন করছে মমি টাকে। 

প্রিয়া: এটার মধ্যে সম্ভবত মানুষ কে রাখা হয় মারা গেলে। তাহলে এটার মধ্যেও কোন মানুষ আছে? 

ভিতরে কি আছে সেটা দেখার জন্য প্রিয়ার মন ব্যাকুল হয়ে গেছে । এক বার মমির উপর হাত রাখছে তো আরেক বার সরিয়ে নিচ্ছে। 

প্রিয়া: নাহ্! ভিতরে কী আছে সেটা দেখার জন্য আমার মন অস্থির হয়ে আছে । একবার দেখি ভিতরে কী আছে ? আচ্ছা আমি এই বাক্সটা কে নিয়ে আমি এতো ভাবছি কেন? ভুলে যাই!...........কোথাও‌ বসি। কিন্ত কোথায় বসবো? এখানে তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না [ চার দিক তাকিয়ে ] ওহ! মনের মধ্যে খটকা লাগছে।‌ এটার মধ্যে কী আছে সেটাই বার বার দেখতে চাওয়া আমার অবুঝ মন? নাহ্! এবার দেখবোই কী আছে এর মধ্যে । 

প্রিয়া মনকে স্থির করে ডান হাত মমির দিকে বাড়াচ্ছে। আস্তে আস্তে হাত বাড়িতে মমির উপর রাখলো। বুকের মধ্যে হালকা ভয় অনুভব করছে । যদি ভয়ংকর কিছু বেরিয়ে আসে?

প্রিয়া: নিজেকে সান্ত কর প্রিয়া । ভয় পাবার কিছু নেই...[ চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলছে ] 

চোখ খুলে মমির ছিটকিনি খুলে টান দিয়ে মমির ডাকনা সরিয়ে ফেললো। প্রিয়া মমির ভিতরে যা আছে সেটা দেখার সাথে সাথে দু পা পিছিয়ে যায়। চমকে উঠে  প্রিয়া । জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলো প্রিয়া। বুকের মধ্যে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । অনেকটা ভয় পেয়েছে প্রিয়া। 

প্রিয়া: এটা কী কোন মানুষ? মরা মানুষ নাকি জীবিত ঠিক বুঝতে পারছি না। একটা ছেলের দেহ সেখানে রাখা। ফুল প্যান্ট পড়া। নাভী থেকে গলা পর্যন্ত উনমুক্ত কোন কাঁপড় নেই। সাধা ধবধবে শরীর। দেখে মনে হচ্ছে কোন রক্ত শরীরে নেই। চেহারা বেশ সুন্দর । কে এই ছেলেটি? এখানে কেন রাখা হয়েছে ওকে?

প্রিয়া এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রিন্স অভয়ের দিকে। কেন তাকিয়ে আছে সেটা ওর অজানা। কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকার পর প্রিয়া সাহস করে প্রিন্স অভয়ের মমির সামনে এসে দাঁড়ায়।

প্রিয়া: কে এই ছেলেটি? এভাবে কেন শুয়ে আছে? আর এই গভির জঙ্গলের কুঁড়ে ঘরের এই বাক্সের মধ্যে কেন রাখা? মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে? একবার বুকে হাত দিয়ে দেখবো নিশ্বাস নিচ্ছে কি না? ভয় করছে খুব! নাহ্! তারপর দেখতে হবে। আর না হলে কেমনে বুঝবো বেঁচে আছে কিনা মারা গেছে? 

প্রিয়া মনের মধ্যে এক রাশ ভয় নিয়ে হাত বাড়াল প্রিন্স অভয়ের দিকে। হঠাৎ একটা অচেনা ছেলেকে এভাবে স্পর্শ করাটা কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে ওর মনে । হাত কাঁপছে প্রিয়ার। কাঁপা কাঁপা হাত আস্তে আস্তে বাড়াতে লাগলো প্রিন্স অভয়ের দিকে। বুকের কাছে ওর হাত নিয়েই থেমে যায় প্রিয়া । বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করে আবার খুলে। এবার ওর হাত আস্তে করে প্রিন্স অভয়ের উপর রাখে। রাখার সাথে সাথে বাহিরে প্রচন্ড ঝড় বইতে শুরু করে। মনে হচ্ছে সেই বাতাসের সাথে সাথে গাছ-পালা ভেঙ্গে যাচ্ছে । প্রিয়া এবার বেশ ভয় পেয়ে যায়। এভাবে হুট করে ঝড় শুরু হবার কারনটা ঠিক বুঝতে পারছে না। প্রিন্স অভয়ের বুকের উপর হাত রেখে চার-পাশে তাকাতে লাগলো। তারপর প্রিন্স অভয়ের দিকে তাকাল।

প্রিয়া: হঠাৎ করে ঝড় শুরু হবার কারনটা কী? আর এই ছেলেটার শরীর এতো ঠান্ডা কেন? মনে হচ্ছে আমি কোন বরফের উপর হাত রেখেছি। 

হুট করেই প্রিয়া চমকে উঠে একদম পিছনে বেড়ার সাথে মিশে যায়। ভয় পেয়ে ডান হাত দিয়ে ওর স্কাট খামচে ধরে রাখে। প্রিয়ার ভয় পাবার কারনটা হচ্ছে । প্রিন্স অভয় চোখ মেলে তাকায় এবং প্রিন্স অভয়ের চোখের মনি নীল রঙের। যেটা দেখে প্রিয়া অনেকটা ভয় পেয়ে যায়। প্রিয়া ভিতু চোখে তাকিয়ে আছে সেই মমিতে রাখা প্রিন্স অভয়ের দিকে। 

প্রিয়া: এটা আমি কী করলাম? এই ছেলেটি মনে হয় কোন মানুষ না। মানুষের চোখের মনি এমন নীল রঙের হতে পারে না। বাহিরের ঝড় থেমে গেছে। আমাকে পালাতে হবে এই ঘর থেকে। আর না হলে‌ ওই ভয়ংকর ছেলেটি আমাকে মেরে দিবে । ......[ মনে মনে ]

প্রিয়া বাহিরের দিকে পা বাড়াতে যাবে ঠিক সেই সময় প্রিন্স অভয় উঠে বসে। চোখ বন্ধ করে ফেলে প্রিন্স অভয়। তারপর চোখ মেলে যখন তাকায় তখন চোখের মনি গাড়ো লাল রং ধারন করে এবং ঘাড় ঘুরিয়ে ভয়ংকর দৃষ্টিতে প্রিয়ার দিকে তাকায় । প্রিয়া এটা দেখে আতকে উঠে। এবার প্রিয়ার আর দাঁড়িয়ে না থেকে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড়াতে লাগলো । পিছন ঘুরে একবার ও তাকাল না। প্রচন্ড ভয় করছে প্রিয়ার। সর্ব শক্তি দিয়ে দৌড়াচ্ছে। কিছুটা পথ দৌড়াবার পর প্রিয়া একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। জোরে জোরে নিশ্বাস টানছে প্রিয়া। এবার গাছের আড়াল থেকে একবার উঁকি দিয়ে দেখলো পিছনে সেই ছেলেটি আসছে কি না। উঁকি দিয়ে দেখার সাথে সাথে প্রিয়ার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। ভয়তে এবার ওর হাত পা থরথর করে কাঁপছে। প্রিন্স অভয় কে বেশ ভয়ংকর দেখাচ্ছে। সামনের দুটো দাঁত বড় হয়ে  ঠোঁটের দুই কিনারায় বেরিয়ে আসলো। হাতের নখ গুলো বড় বড় হয়ে গেছে। কান দুটো লম্বা আকার ধারন করেছে। হিংস্র প্রানীর মত হেঁটে আসছে । প্রিয়া এটা দেখার পর দাঁড়াল না। জোরে জোরে দৌড়াতে লাগলো চিৎকার করতে লাগলো। মনের মধ্যে মরনের ভয় ভর করল প্রিয়ার। নিজের উপর প্রচন্ড রাগ লাগছে। কেন ওই ভয়ংকর ছেলেটি কে স্পর্শ করতে গেল । অনেকটা পথ দৌড়ে প্রিয়া হাপিয়ে যায়। এবার আর পা চলছে না প্রিয়ার । প্রিয়া এবার বড় মোটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে যায়। গাছের সাথে হেলান দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। বুকের মধ্যে ধুক ধুক শব্দ আরো দ্বিগুন বেড়ে গেছে। দৌড়াতে দৌড়াতে পানির পিপাশা পেয়েছে প্রিয়ার। 

প্রিয়া: ওহ! গড প্লিজ হেল্প মি।..........[ হাপাতে হাপাতে ]

প্রিয়া গাছের আড়াল থেকে আগের মতো উঁকি দিয়ে দেখতে লাগলো। চাঁদের আলো যে টুকু বোঝা যাচ্ছে তাতে‌ প্রিয়া কিছুটা সিউর হল ওর পিছন পিছন ওই ভয়ংকর ছেলেটি আসে নি। কেননা ছেলেটি কে দেখা যাচ্ছে না। জঙ্কলের চার দিক একবার ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিল। প্রিয়া ওই ভয়ংকর ছেলেটিকে দেখতে পেল না।প্রিয়া কিছুটা চিন্তা মুক্ত হল। কিন্ত প্রিয়া এটা যানে না ওর পিছনে সেই ভয়ংকর ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে। ধুক করে উঠলো প্রিয়ার বুক,চোখ বড় বড় হয়ে যায় ওর। কেননা ওর পিছন থেকে হুংকারের শব্দ শুনতে পাচ্ছে। মনে হচ্ছে ওর ঠিক পিছনে সেই ভয়ংকর ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে। প্রিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার শক্তি টুকু পাচ্ছে না। শরীর মনে হচ্ছে সব অবশ হয়ে গেছে । কোন রকম ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়েই ভয়তে পিছনের দিকে পিছিয়ে যাবার সাথে সাথে গাছের শিকড়ে বেজে চিত হয়ে পড়ে যায় প্রিয়া । প্রিন্স অভয় প্রিয়ার দিকে এক পা এক পা করে আগাতে লাগলো । প্রিয়া বসা অবস্থায় ঘশে ঘশে পিছনে যেতে লাগলো ।  প্রিন্স অভয়ের চোখে রক্ত খাবার নেশা দেখা যাচ্ছে।  প্রিয়া আতঙ্ক‌ নিয়ে পিছনের দিকে যেতে লাগছে। প্রিন্স অভয় প্রিয়ার পা ধরে কাছে টেনে নিয়ে এসে প্রিয়ার ঘাড় থেকে চুল সরিয়ে জোরে এক চিৎকার দিকে কাঁমড় বসিয়ে দেয় প্রিয়ার ঘাড়ে। প্রিয়া চোখ মুখ খিচে ওর সর্ব শক্তি দিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠল।


প্রিন্স অভয় প্রিয়ার পা ধরে কাছে টেনে নিয়ে এসে প্রিয়ার ঘাড় থেকে চুল সরিয়ে জোরে এক চিৎকার দিকে কাঁমড় বসিয়ে দেয় প্রিয়ার ঘাড়ে। প্রিয়া চোখ মুখ খিচে ওর সর্ব শক্তি দিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠল।

 অভয় প্রিয়ার রক্ত পান করার আগেই রাহিল এসে  অভয় কে জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলে প্রিয়ার কাছ থেকে । অভয় অনেকটা দূরে গিয়ে পড়ে।প্রিয়া সেন্সলেস হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । অভয় উঠে দাঁড়িয়ে ভয়ংকর দৃষ্টিতে রাহিলের দিকে তাকায়। রাহিল অভয়ের চোখে হিংস্রতা দেখতে পাচ্ছে। রাহিল বাকি ভ্যাম্পায়ার দের উদ্দেশ্যে করে বললো।

রাহিল: তোমার প্রিন্স কে ধরে রাখো। আমি‌ এই মেয়েটিকে দেখছি ততক্ষনে। 

বাকি ভ্যাম্পায়ার রা অভয় কে জোরে চেপে ধরে । অভয় জোরে জোরে চিৎকার দিয়ে ভ্যাম্পায়ার দের ছাড়ানোর চেষ্টা করছে । অভয়ের চিৎকারে জঙ্গলা কেঁপে উঠছে । ভ্যাম্পায়ার রা অভয় কে ধরে রাখতে পারছে না। অভয়ের শক্তিতে ওরা পেরে উঠছে না। 

এদিকে রাহিল প্রিয়ার কাছে যাবার সাথে সাথে ওর রক্ত খাবার নেশা জাগে। 

রাহিল: এই সেই Blood Provide মেয়ে। অভয় কে তাহলে এই মেয়েই জাগিয়ে‌ তুলেছে। কিন্ত কিভাবে? এই‌ মেয়েটির রক্তের গন্ধ এতটা তীব্র, যে কোন ভ্যাম্পায়ার ওর রক্ত খাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। আমারও যে সেই একি ইচ্ছাটাই করছে। নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। ওর গলায় অভয়ের দাঁতের বিষ উঠাতে হবে। 

রাহিল নিজেকে কন্ট্রোল করে প্রিয়ার গলায় ওর ঠোঁট দিয়ে চুষে বিষ বের করে নিল। রাহিল তাড়াতারি করে প্রিয়ার কাছ থেকে সরে আসে। আর কিছুক্ষন থাকলেই নিজেকে কন্ট্রোল করা মুশকিল হয়ে যেতো ওর। 

অভয় জোরে জোরে হুংকার দিচ্ছে । রাহিল বুঝতে পারছে এই মুহূর্তে অভয়ের রক্ত দরকার । রাহিল প্রিয়ার দিকে নীল রশ্নি ছুড়ে দিল। যাতে প্রিয়া ওর সাথে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর স্মৃতি গুলো ভুলে যায়। 

রাহিল এবার কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে অভয়ের দিকে নীল রশ্নি ছুড়ে দেয়। অভয় সেন্সলেস হয়ে যায়। 

রাহিল: তোমার প্রিন্স অভয় কে নিয়ে রাজ প্রাশাদে যাও। আমি এই মেয়েটিকে ওর বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসছি। 

ভ্যাম্পায়ার রা অভয় কে ওদের সাথে করে নিয়ে যেতে লাগলো । রাহিল প্রিয়ার মাইন্ড পড়ার ট্রাই করছে।কোথা থেকে এসেছে সেটা রাহিলের জানতে হবে। 

আগের মতো নীল আলোর রশ্নি ছুড়ে দেয় প্রিয়ার দিকে। রাহিল প্রথম থেকে সব জানতে পারে । 

রাহিল: আচ্ছা তাহলে এটাই হয়েছিল ওর সাথে। ওর নাম তাহলে প্রিয়া । প্রিয়া কে বাসায় দিয়ে আসতে হবে। 

রাহিল প্রিয়া কে কোলে উঠিয়ে নিয়ে ঝড়ের বেগে দৌড়াতে লাগলো। এক সময় সেই বাসার সামনে এসে পড়ে। ভিতর থেকে প্রিয়ার ফ্রেন্ড দের কথা রাহিলের কানে ভেসে আসতে লাগলো । 

রিমি: টিনা আমার খুব ভয় করছে। যদি প্রিয়ার কোন ক্ষতি হয়ে যায়,তাহলে আঙ্কেল কে কী জবাব দেব।

টিনা: জানি না...আমারও খুব টেনশন হচ্ছে । 

সানি: কেন যে গেলাম জঙ্গলে ধেৎ..।

রাহিল প্রিয়া কে দরজার সামনে রেখে দরজা নক করে আড়ালে দাঁড়িয়ে যায়।

টিনা : মনে হয় কেউ এসেছে। 

রিমি: আমি দরজা খুলে দিচ্ছি। 

রিমি হাতে মোমবাতি নিয়ে দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলে দেখলো কেউ নেই। বিরক্ত নিয়ে দরজা বন্ধ করার সময় মাটিতে প্রিয়া কে দেখতে পায়। 

রিমি: গায়েস প্রিয়া.....[ জোরে বলে উঠল ]

ওরা এটা শুনেই দৌড়ে দরজার সামনে এসে দেখে প্রিয়া সেন্সলেস অবস্থায় পড়ে আছে। 

টিনা: প্রিয়া...প্রিয়া....কথা বল প্রিয়া......[ প্রিয়ার গালে হাত দিয়ে ডাকছে ] 

রুমকি: প্রিয়া সেন্সলেস হয়ে আছে। প্রিয়া কে ধরে রুমে নিয়ে চল। 

রিমি: হ্যাঁ! চল। 

রাহিল চলে যায় ভ্যাম্পায়ার কিংডমে ।

প্রিয়া কে রুমে নিয়ে এসে শুইয়ে দিল । ওদের সবার চেহারায় চিন্তার ছাপ। রিমি পানি নিয়ে এসে প্রিয়ার মুখে ছিটিয়ে দিল। প্রিয়া আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকাল। ভালো করে‌ একবার চোখ বুলিয়ে নিল সবার দিকে। উঠে বসে বললো।

প্রিয়া: আমার কী হয়েছিল? আর আমি এখানে কী করে আসলাম ? আমি তো জঙ্গলে ‌ছিলাম?.....[ অবাক হয়ে ]

টিনা: জানি না তুই এখানে কী করে আসলি। আমরা তোকে দরজার সামনে পাই। তুই সেন্সলেস অবস্থায় পড়ে ছিলি। 

প্রিয়া: সেন্সলেস অবস্থায় মানে। আমি তো ওই কুঁড়ে ঘরের ভিতরে যেতে চেয়েছিলাম। তারপর কী হয়েছিল সেটা আমার মনে নেই। .........[ মাথায় হাত দিয়ে ]

রিমি: মনে করার দরকার নেই। ভুলে যা সব । তুই আমাদের কাছে সহি সালামতে ফিরে এসেছিস এটাই বেশি। 

সানি: হ্যাঁ! যানো আমাদের খুব টেনশন হচ্ছিল প্রিয়া ।

বিক্কি: এখন টেনশন মুক্ত । রমেশ চাচার কথাটা তাহলে সত্যি হল।

প্রিয়া: সত্যি হল মানে? কী বকেছিল রমেশ চাচায়?.......[ ভ্রু কুঁচকে ]

রুমকি: তুমি নাকি আজ রাতের মধ্যে ফিরে আসবে । তাই তোমার ড্যাড কে জানাতে নিষেদ করেছিল। রমেশ চাচার কথাটা আসলেই সত্যি হয়েছে।

প্রিয়া কিছুটা ভাবতে লাগলো। 

প্রিয়া: আমি নাকি আমার রহস্য জঙ্গলে খুঁজে পাব। তাহলে খুঁজে পেলাম না কেন? আর আমার মনে হচ্ছে আমি কিছু ভুলে গিয়েছি? কিন্ত কী? আমার সাথে কী হয়েছিল? কিছুই মনে করতে পারছি না।......[ মনে মনে ]

রিমি: এতো কী ভাবছিস প্রিয়া । 

প্রিয়া: তেমন কিছু না। 

টিনা: আচ্ছা শোনো গায়েস..কালকে সকালে আমরা এখান থেকে বাড়িতে ফিরে যাবো। সবাই যে যার ব্যাগ গুছিয়ে নেও।

প্রিয়া: আরেটকা দিন থাকলে হয় না। 

টিনা: নাহ্! কালকেই যাবো আমরা। তুই ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নে। আমরা যাই। চলো গায়েস।

সবাই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। প্রিয়া উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়।


ভ্যাম্পায়ার কিংডম.....

কিং প্রিন্স অভয় কে দেখে খুশি হয়ে যায়। ভ্যাম্পায়ার রা অভয় কে পালংকে শুইয়ে দেয়। 

কিং: কী হয়েছে প্রিন্সের? আর রাহিল কোথায়?

রাহিল: কিং আমি এখানে।

কিং: রাহিল কী হয়েছে প্রিন্সের?

রাহিল জঙ্গলে ঘটে যাওয়া সব কিছু রাহিল কে বললো। 

কিং : ভাগ্যের কী পরিহাস তাই না। তোমরা মেয়েটিকে কত খুঁজেছ ,আর মেয়েটি পায়ে হেঁটে ঠিক প্রিন্সের কাছে চলে গিয়েছে । ওই মেয়েটি হবে প্রিন্সের প্রিন্সেস ।

রাহিল: সত্যি কিং?

কিং: হ্যাঁ! যদি অভয় চায় তাহলে।

রাহিল: কিং অভয় মেয়েটির রক্ত খাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। যদি জ্ঞ্যান ফিরে আবারও রক্ত খাবার জন্য পাগলামি শুরু করে তাহলে?

কিং : ব্লাড এনে রাখো। প্রিন্সের ব্লাড প্রয়জন। 

রাহিল: ওকে কিং ।

প্রিন্স চোখ মেলে তালায়। উঠে বসে রাহিলের দিকে রাগী চোখে তাকায়। রাহিল দেরি না করে রক্তের প্যাকেটটা এনে প্রিন্সের সামনে ধরলো। প্রিন্স থাবা দিয়ে রক্তের প্যাকেটা নিয়ে এক চুমুকে সব রক্ত খেয়ে ফেললো। প্রিন্স অভয় চোখ বন্ধ করে নিজেকে সান্ত করে চোখ মেলে তাকায় ।

প্রিন্স অভয়: ড্যাড..।

কিং অভয় কে জড়িয়ে ধরে ।

কিং: আমার প্রিন্স । তুমি কেমন আছো প্রিন্স ।

প্রিন্স অভয়: ভালো । আমি কিভাবে জেগে উঠলাম ড্যাড?

কিং : রাহিল প্রিন্স কে কক্ষে নিয়ে যাও। রাহিল তোমাকে সব কিছু খুলে বলবে‌ প্রিন্স।

রাহিল: আয় দোস্ত ।

প্রিন্স রাহিলের সাথে ওর কক্ষে চলে যায় । 


নেকড়ে কিংডম....

এবিক: শিট! প্রিন্স অভয় জেগে উঠেছে। এখন আমার সপ্নটা আর পূরন করতে পারবো না।

জ্যাক: ড্যাড এখন কী প্রিন্স কে মারা যাবে না?

এবিক: নাহ্! প্রিন্স এখন অধিক শক্তি-শালি। ওকে মারা এতো সহজ হবে না। 

এলিনা: তাহলে এখন কী করবো ড্যাড?

এবিক: একটা উপায় আছে । তোমরা ওই মেয়েটাকে খুঁজে বের কর। ওই মেয়েটি হবে আমার শেষ অস্ত্র । 

স্যাম: কিভাবে ড্যাড?

এবিক: সময় হলে জানতে পারবে। এখন যাও তোমরা।


সকালে....

ওরা সবাই টিনার নানা বাড়ি থেকে বাসায় চলে যাচ্ছে। প্রিয়ার আর একটা দিন থাকতে মন চাইছে । কিন্ত ওরা আর থাকতে চাইছে না। প্রিয়া মন খারাপ করে গাড়িতে বসে সেই জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে আছে । গাড়ি স্টার্ট দিল। রমেশ চাচা হাত নাড়িয়ে সবাই কে বিদাই দিল। গাড়ি চলতে শুরু করলো। 

জঙ্গল থেকে লুকিয়ে প্রিন্স অভয় ও রাহিল ওদের যাবার দৃশ্য দেখছিল। 

প্রিন্স অভয়: মেয়েটার ব্লাডে অদ্ভুব এক নেশা আছে। যেটা আমাকে ওর কাছে টানছে বার বার।.....[ মনে মমে ]

রাহিল: তাই নাকি! সেটা কী ব্লাড খাবার নেশা, নাকি অন্য কিছু?......[ হেসে ]

প্রিন্স অভয়: ভুলেই গিয়ে ছিলাম তুই মনে মনে বলা কথা শুনতে পারিস।

রাহিল: শুধু আমি না বল আমরা ।

প্রিন্স অভয়: বুঝতে পেরেছি এবার চল।

রাহিল: চালিয়ে প্রিন্স...।


সন্ধ্যার দিকে‌ ওরা সবাই যে যার বাসায় পৌঁছে যায়। প্রিয়া ফ্রেশ হয়ে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ওর ড্যাডের ডাকে ঘুম ভাংঙে। উঠে তাড়াতারি করে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে কলেজে চলে আসে। টিনা,রিমি, রুমকি কে নিয়ে কথা বলতে বলতে ক্লাস রুমে যেতে লাগলো । ঠিক তখনি একটা কালো রঙের গাড়ি কলেজের ভিতরে প্রবেশ করে ।ওরা তিন জন থেমে গিয়ে আগ্রহ নিয়ে গাড়ির দিকে তাকায়। প্রিয়া পিছন ফিরে দেখে ওরা তিন জন একটা কালো রঙের গাড়িত দিকে তাকিয়ে আছে । প্রিয়া এক পা পিছনে এসে সেই গাড়ির দিকে তাকায়।

গাড়ি থেকে নেমে আসে একজন সুদর্শন যুবক । কালো রঙের গেঞ্জি তার উপর কালো রঙের জ্যাকেট, কালো প্যান্ট,কালো স্যুজ,চোখে কালো সানগ্লাস। ফর্সা গায়ের রঙ,প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার ছেলেটি যে কাউকেই আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে।

প্রিয়া দু পা সামনে এগিয়ে ছেলেটিকে ভালো করে পরিদর্শন করছে। প্রিয়ার মতো বাকি স্টুডেন রাও ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটি হেঁটে প্রিয়া দের সামনে দিয়ে যাবার সময় সানগ্লাসটা খুলে হাতে নিয়ে সোজা ক্লাস রুমে চলে গেল। প্রিয়া এখনও ছেলেটির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে ।

টিনা প্রিয়া কে ধাক্কা দিয়ে বললো ।

টিনা: কিরে প্রিয়া ছেলেটির প্রেমে পড়ে গেলি নাকি?

প্রিয়া: ধেৎ কি যে বলিস না। 

রিমি : তবে ছেলেটি কিন্ত বেশ সুন্দর । আমার তো খুব ভালো লেগেছে। 

রুমকি: আমারও...এশশ...যদি আমার বফ হতো।

রিমি: এতো বেশি খাস না কম কম খাও।

প্রিয়া: এই চল সবাই ক্লাস রুমে।

রুমকি: হুমমম।

রাহিল গাড়ি পার্কিং করে এসে দেখে অভয় নেই।

রাহিল: অভয়টা আমাকে রেখেই ক্লাস রুমে চলে গেছে।

রাহিল ক্লাস রুমে এসে দেখে অভয় ক্লাস রুমে বসে ফোন নিয়ে ব্যস্ত আছে। রাহিল অভয়ের কাছে এসে বললো।

রাহিল: আমাকে একা রেখে চলে এলি কেন?

প্রিন্স অভয়: কেন তুই ছোট বাচ্চা নাকি যে সাথে করে নিয়ে আসতে হবে?

রাহিল: আমি সেটা বলিনি। 

প্রিন্স অভয়: আর কিছু বলার দরকারও নেই স্যার এসে পড়েছে।

ক্লাস শুরু হয়ে গেল ওদের।

প্রিয়া: ওই ছেলেটির চোখ কেমন অদ্ভুত টাইপের। চোখের দিকে তাকালেই কেমন ঘোর লেগে যায়।....[ মনে মনে ]

টিনা: প্রিয়া ক্লাস শেষ চল বাহিরে যাই ।.....[ প্রিয়া কে ডাক দিয়ে বললো ]

প্রিয়া: হুমম চল ক্যান্টিনে গিয়ে বসি।

প্রিয়া,টিনা,রিমি,রুমকি, সানি, বিক্কি ওরা এক সাথে ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছে। প্রিয়া ডান দিকে ফিরতেই ওই ছেলেটিকে একটা টেবিলে বসে কফি খেতে দেখে। প্রিয়া ওদের সাথে কথা বলছে আর আড়চোখে ছেলেটির দিকে তাকাচ্ছে।

রাহিল দূর থেকে এই বিষয়টা খেয়াল করেছে।

রাহিল অভয় কে বলতে যাবে তার আগেই অভয় "চল যাই " বলে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলো । রাহিল ও চলে যেতে লাগলো অভয়ের পিছু পিছু ।



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url