Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০৪

 

Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০৪

Prince Of Vampire💕

লেখিকাঃ Sumaiya Moni

পর্বঃ ০৪


রাহিল অভয় কে বলতে যাবে তার আগেই অভয় "চল যাই " বলে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলো । রাহিল ও চলে যেতে লাগলো অভয়ের পিছু পিছু ।

ওরা দু জন ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে যাবার সাথে সাথে প্রিয়া ওর বন্ধু দের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল।

প্রিয়া: ওই ছেলে দুইটা কে? তোরা ওদের কে চিনিস বা ওদের বিষয় কিছু জানিস?

টিনা: তেমন কিছু জানি না তবে এই কলেজের সিনিয়র রিনি আপু বলতে পারবে ওদের বিষয়ে? 

প্রিয়া: আচ্ছা... তাহলে তুই রিনি আপু কে জিজ্ঞেস করে আয় ওদের বিষয়ে ?

রিমি: কী ব্যাপার প্রিয়া এতো খোঁজ খবর নিচ্ছিস? প্রেমে ট্রেমে পড়লি নাকি?

প্রিয়া: তোর মাথা। এমনেই জিজ্ঞেস করতে বলেছিলাম । এখানে প্রেম আসলো কোথা থেকে?

রিমি: নাম কী জানিস ওই ছেলে দুটুর?

টিনা: কী?

রিমি: অভয় রাজ । আর ওই ছেলেটির নাম রাহিল। 

প্রিয়া: অভয় রাজ । ভালো নাম। 

টিয়া: সামথিং ইজ রং.....[ মুচকি হেসে আড়চোখে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ]

প্রিয়া: চড় মেরে দাঁত ফেলে দেবো।

সবাই এক সাথে হাসতে লাগলো। 

প্রিয়া: তোদের কে বলাটাই ভুল হয়েছে আমার। থাক তোরা আমি যাই।

বলেই চেয়ার ছেড়ে উঠে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে গেল ।

বাসায় চলে আসে প্রিয়া।

পরের দিন....

প্রিয়া লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ছিল। কিছুক্ষন বই পড়ার পর হুট করেই চোখ যায় অন্য টেবিলের উপর। সেখানে বসে অভয় বই পড়ছিল। 

প্রিয়া‌ কিছুক্ষন বই পড়ছে আর আড়চোখে অভয় কে দেখছে। হঠাৎ করেই অভয় প্রিয়ার দিকে তাকায়। প্রিয়ার চোখে অভয়ের চোখ পড়ে। প্রিয়া তাড়াতারি করে চোখ নামিয়ে ন্যায় এবং বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। 

প্রিন্স অভয়: এই মেয়েটা আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে কী দেখছে?.....[ মনে মনে ]

রাহিল: আমি বলি কী দেখছে.....[ মনে মনে ]

অভয় সামনে তাকিয়ে দেখে রাহিল মুচকি হেসে সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রিন্স অভয়: তোকে আমি বলতে বলেছি ......[ মনে মনে ]

রাহিল: না বলতে বললে কী বলা যায় না নাকি?......[ মনে মনে ]

প্রিন্স অভয়: না বলা যায় না। ........[ মনে মনে ]

রাহিল: তারপরও আমি বলবো......[ মনে মনে ]

ওরা দু জন মনে মনে কথা বলছে। আর এদিকে প্রিয়া এদের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে । 

প্রিয়া: আরে এরা একে আপরের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেন? দেখে তো মনে হচ্ছে মনে মনে কথা বলছে। পাগল-টাগল হয়ে গেল নাকি?......[ মনে মনে ]

প্রিয়ার মনে মনে বলা কথা অভয় ও রাহিল শুনে ফেলে। রাহিল ও অভয় প্রিয়ার দিকে তাকায় । প্রিয়া ওদের কে ওর দিকে তাকাতে দেখে ওদের উপর থেকে চোখ নামিয়ে বইয়ের মধ্যে মুখ ডোবায়। 

প্রিয়া: এভাবে আমার দিকে তাকাল কেন? আমার কথা শুনে ফেললো না তো? ধুর আমার কথা কিভাবে শুনবে ! আমি তো মনে মনে বলেছি।.....[ মনে মনে ]

রাহিল প্রিয়ার কথা শুনে খিল খিল করে হাসতে লাগলো । রাহিলের হাসির আওয়াজ শুনে ওইখান কার স্টুডেন্ট রা রাহিলের দিকে তাকিয়ে আছে । সবাই বোঝার চেস্টা করছে হঠাৎ করে হেসে উঠার কারনটা কী?

প্রিয়া: সত্যিই পাগল হয়ে গেছে? লাইব্রেরিতে বসে এভাবে হাসে নাকি ? .......[ মনে মনে ]

রাহিল: কী আমি পাগল......[ কিছুটা রেগে অভয়ের দিকে তাকিয়ে মমে মনে বললো ]

প্রিন্স অভয়: ঠিকিই তো বলেছে? এবাবে হাসলি কেন পাগলের মতো? যা এখান থেকে...... [ মনে মনে ]

রাহিল: যাচ্ছি...[ মনে মনে ]

রাহিল চলে গেল লাইব্রেরি থেকে। টিনা,রিমি রুমকি লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে প্রিয়ার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায় । 

প্রিয়া ওদের কে দেখে হাতের ইশারায় বললো। 

প্রিয়া: কী হয়েছে?

রিমি: বাহিরে চল.....[ আস্তে করে বললো ]

প্রিয়া: কেন?.....[ আস্তে করে ]

রিমি: কথা আছে...।

প্রিয়া: ওকে চল।

ওরা সবাই বাহিরে বেরিয়ে যায়। অভয় ওদের কথা শুনে ফেলে। ওদের পিছু পিছু বাহিরে গিয়ে আড়ালে হয়ে দাঁড়ায়।

প্রিয়া: কী কথা বলবি এবার বল?

রিমি: চল ক্যান্টিনে যাই।

প্রিয়া: এটা বলার জন্য আমাকে ডেকেছিস?

রিমি: হ্যাঁ! কেন?

প্রিয়া: যত্তসব।.....[ বলেই চলে যেতে নিলে টিনা বললো ]

টিনা: প্রিয়া শোন?

প্রিয়া: কী বল?.......... [ বিরক্তি নিয়ে ]

টিনা: তুই না অভয়ের বিষয় জানতে চেয়েছিলি? 

প্রিয়া: হ্যাঁ! তো?

টিনা: ওর বিষয় জানা হয়ে গেছে আমাদের?

প্রিয়া: তাই নাকি? তা কী জেনেছিস?

টিনা: পোরা নাম তো জানিসই অভয় রাজ । এই কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ছে। কিন্তু এক বছর যাবত লা পাত্তা ছিল। মানে কলেজে আসে নি। এই বছরেই মানে কালকেই আবার প্রিন্সিপাল স্যার কে বলে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। 

প্রিয়া: এই এক বছর অভয় কোথায় ছিল? 

টিনা: সেটা আমি কী করে বলবো? 

প্রিয়া: বলতে পারিস না?

টিনা: না । 

প্রিয়া : এই এক বছর অভয় কোথায় ছিল সেটা আমার জানতে হবে? কেন অভয়কে আমার চেনা চেনা লাগছে ,বুঝতে পারতেছি না।[ মনে মনে ] আচ্ছা চল ক্যান্টিনে যাই।

রিমি: হ্যাঁ! চল।

ওরা সবাই ক্যান্টিনে চলে গেল।

অভয় আড়াল থেকে বের হল।

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া আমার বিষয় জানতে কেন চাই? আমি তো ওকে একদমি সহ্য করতে পারছি না.....[ রেগে মনে মনে বললো ]

পিছন থেকে রাহিল অবাক হয়ে বললো। 

রাহিল: কী তুই প্রিয়া কে সহ্য করতে পারিস না। 

প্রিন্স অভয়: না পারছি না। 

রাহিল: প্রিয়া তোকে জাগিয়ে তুলেছে? এটা তুই ভুলে যাস না।

প্রিন্স অভয়: তার জন্য কী ওর গুন খাইতে হবে। আর তুই না ওর মাইন্ড ভুলিয়ে দিয়েছিস? তাহলে আমাকে ওর চেনা চেনা কেন লাগছে। 

রাহিল: ভুলে যাস না প্রিয়ার মধ্যে অদ্ভুত শক্তি আছে । ভুলে যাওয়া মাইন্ড ওর মনে পড়তে পারে। 

প্রিন্স অভয়: এটা কিভাবে সম্ভব? 

রাহিল: প্রিয়ার দ্বারা এটা সম্ভব। কেননা প্রিয়া সাধারন মানুষের চেয়ে আলাদা। 

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া আমার বিষয় জানতে চাইছে।

রাহিল: জানি! আড়াল থেকে ওদের কথা শুনেছি আমি। 

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া আমার বিষয় জানতে আসলে ওর ক্ষতি হতে পারে আমার দ্বারা। 

রাহিল: আমি জানি তুই ওর কোন ক্ষতি হতে দিবি না। 

প্রিন্স অভয়: ভুল জানিস....[ বলেই চলে যায় ]

রাহিল মুচকি হেসে অভয়ের পিছু পিছু যেতে লাগলো। 

রাতে....

প্রিয়া হাতের বেসলাইট খুলে হাতের সেই × চিহ্নটার উপর হাত বুলাচ্ছে। 

প্রিয়া: কী অদ্ভুত একটা চিহ্ন? দেখতে কতটা রহস্যজনক। কিন্তু এই চিহ্নটার রহস্য কী আদৌ জানতে পারবো আমি? নাকি অজানাই থাকবে চিরকাল।.....[ মনে মনে ]

আফজাল খান: প্রিয়া মামনি?

আফজাল খান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয়া কে ডাক দিল। প্রিয়া তাড়াতারি করে হাতের বেসটা পড়ে ন্যায়। 

প্রিয়া: জ্বী ড্যাড । 

আফজাল খান: এখনো ঘোমাও নি?

প্রিয়া: এইতো এখনি ঘুমাবো। 

আফজাল খান: তাড়াতারি শুয়ে পড়। রাত জেগো না। গুড নাইট মামনি । 

প্রিয়া: গুড নাইট ড্যাড । 

আফজাল খান রুম থেকে চলে যায়। প্রিয়া রুমের লাইট অফ করে শুয়ে পড়ে। 

পরের দিন কলেজে...

ক্যান্টিনে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে ওরা । এর মধ্যে তিন জন ছেলে-মেয়ে ক্যান্টিনে প্রবেশ করল।

তাদের মধ্যে একটা মেয়ে‌ও দুইটি ছেলে । দেখতে মোটামোটি সুন্দর । মেয়েটি মর্ডান ড্রেস পড়া । একটা টেবিলে গিয়ে বসে পড়ল। ক্যান্টিনে প্রায় সবাই ওদের তিন জনের দিকে হা তাকিয়ে আছে । 

টিনা: দেখ মেয়েটির কত ভাব!

রিমি: দেখছি তো। 

রুমকি: আগে কখনোই এই কলেজে দেখিনি? নতুন ভর্তি হয়েছে নাকি?

বিক্কি: হতে পারে। 

ওদের সামনে থেকে‌ একজন ওয়েটার কফি নিয়ে যাবার সময় ভুলবসত ভাবে ওয়েটার ছেলেটির পা চিলিপ খেয়ে পড়ে যায়। আর কফির মগটা মেয়েটির পায়ের উপর পড়ে। 

মেয়েটি: আউচচচ.....এই স্টুপিড চোখে দেখিস না ? দিলি তো পা টা পুড়িয়ে। .......[ বলেই ছেলেটির গালে জোরে চড় বসিয়ে দিল ] 

ওয়েটার ছেলেটি: স্যরি ম্যাম......[ মথা নিচু করে ]

অন্য ছেলেটি: ঠিক মতো কাজ করতে পারিস না যখন তখন কাজ করতে আসিস কেন।.......[ রেগে ]

প্রিয়া ওদের কথা শুনে রেগে গিয়ে বলে উঠল। 

প্রিয়া: মানুষ মাএই ভুল হতে পারে। এর জন্য চড়‌ দেবার কী দরকার ছিল?

মেয়েটি: এসে পড়েছে ছাফায় গাইতে। আমার পায়ে গরম কফি ফেলেছে আর আমি চুপ করে থাকবো?

প্রিয়া : স্যরি তো বলেছে। আর তিনি এটা ইচ্ছে করে করেনি। 

মেয়েটি কিছু বলার আগে ওদের মধ্যে তৃতীয় নাম্বার ছেলেটি থামিয়ে দেয়। 

ছেলেটি: এলিনা সামান্য ব্যাপার নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। চুপ থাক। 

মেয়েটি রাগে ফোসফোস করতে করতে ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে যায়। সাথে ওই ছেলেটিও বেরিয়ে যায়। 

তৃতীয় নাম্বার ছেলেটি প্রিয়ার উদ্দেশ্যে বললো। 

ছেলেটি: হেই ওদের কথায় কিছু মনে করো না। আমার ছোট বোন ও ভাই একটু রাগী টাইপের। 

প্রিয়া: ইট'স ওকে।

ছেলেটি: হাই আমি স্যাম । এবার নতুনে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছি। তুমি?........[ প্রিয়ার দিকে হাত বাড়িতে ]

প্রিয়া: প্রিয়া খান। এবার ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাএী।.......[ হাত মিলিয়ে ]

স্যাম: ওরা তোমার বন্ধু? স্যরি তোমাকে তুমি করে বললাম। 

প্রিয়া: ঠিক আছে! হ্যাঁ! ওরা আমার বন্ধু । 

স্যাম: পরিচয় করিয়ে দিবে না।

প্রিয়া: সিউর। 

প্রিয়া স্যাম কে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। স্যামের সাথে পরিচয় হয়ে সবাই খুব খুশি ।

দূরে দাঁড়িয়ে অভয় এটা দেখছিল।

রাহিল পিছন থেকে বলে উঠল?


প্রিয়া স্যাম কে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। স্যামের সাথে পরিচয় হয়ে সবাই খুব খুশি ।

দূরে দাঁড়িয়ে অভয় এটা দেখছিল।

রাহিল পিছন থেকে বলে উঠল?

রাহিল: অভয় ওদের কে চিনতে পেরেছিস?

প্রিন্স অভয়: হ্যাঁ! আমাদের চিরো শক্রদের কিভাবে না চিনি বল?

রাহিল: ওরা এখানে কেন? কী উদ্দেশ্যে এই কলেজে ভর্তি হয়েছে?

প্রিন্স অভয়: সেটাই জানতে হবে আমাদের। 

রাহিল: প্রিয়ার ব্যাপারে জেনে যাই নি তো? ওরা যদি জানতে পারে, প্রিয়া সেই Blood Provide মেয়ে তাহলে ওরা প্রিয়ার ক্ষতি করে দিতে পারে। 

প্রিন্স অভয়: প্রিয়ার উপর এখন থেকে নজর রাখতে হবে আমাদের। ওরা যেনো প্রিয়ার কক্ষি করতে না পারে। 

রাহিল: হ্যাঁ! অভয় । 

প্রিন্স অভয়: চল এখান থেকে। 

রাহিল ও অভয় আড়াল থেকে বেরিয়ে কলেজের বাহিরে চলে যায়। প্রিয়া সবার সাথে আড্ডা শেষ করে বাসায় চলে আসে। 

রাতে...

আগের ন্যায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফি পান করছে প্রিয়া। শীতল বাতাস, শান্তিময় পরিবেশ,চাঁদনি রাত। দাঁড়িয়ে উপভোগ করছে প্রিয়া । ফোন বাজার শব্দে প্রিয়া রুমে চলে আসে। ফোনের স্ক্রিনে স্যামের নাম ভেসে উঠছে। কথার এক পর্যায় স্যাম প্রিয়ার ফোন নাম্বার চেয়ে বসে । প্রিয়া  না করতে পারে নি। বন্ধুত্বের খাতিরে নাম্বার দিয়ে দেয় প্রিয়া। 

প্রিয়া: হ্যালো!

স্যাম: হাই প্রিয়া? কী করছ?

প্রিয়া: এইতো কফি খাচ্ছি। তুমি?

স্যাম: তেমন কিছু না বারান্দায় দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছি।

প্রিয়া: তুমি চাঁদ পছন্দ কর?

স্যাম : হ্যাঁ! কেন?

প্রিয়া: আমার পছন্দের মধ্যে এই একটা জীনিস খুব পছন্দ দের। আর সেটা হচ্ছে "চাঁদ" ।

স্যাম: ওয়াও! তাই নাকি।

প্রিয়া: হুমম।

প্রিয়া ও স্যাম আরো কিছুক্ষন কথা বললো। কথা শেষ করে প্রিয়া ঘুমিয়ে গেল। 

ভ্যাম্পায়ার কিংডম....

রাহিল: হেই অভয় কী ভাবছিস?

প্রিন্স অভয়: কিছু না। 

রাহিল: প্রিয়ার কথা ভাবছিস না তো?....[ মজা করে বললো ]

প্রিন্স অভয়: হাহ.. জোক অফ দ্যা নাইট।

রাহিল: আমি জোক করছি না অভয়। 

প্রিন্স অভয়: আমি প্রিয়া কে সহ্য করতে পারি না। সেটা তুই জানিস রাহিল ।

রাহিল: জানি। 

প্রিন্স অভয়: তাহলে‌ এই কথা বলার কোন কারন খুঁজে পাচ্ছি না আমি।

রাহিল:..........

প্রিন্স অভয়: ব্লাড নিয়ে আয়। ব্লাড খাবো। 

রাহিল: যাচ্ছি।

পরের দিন ক্লাস রুমে....

ওরা সাবই বসে আড্ডা দিচ্ছে। সানি ক্লাস রুমে প্রবেশ করে বললো।

সানি: হেই গায়েস! তোমরা জানো আমাদের কলেজে বড় ফাংশনের অরগানাইজ করা হয়েছে । 

প্রিয়া: নাহ্! সানি। এটা তো আমরা জানি না।

রিমি: সানি তোমাকে এটা কে বললো?

সানি: আমি প্রিন্সিপাল স্যারের কাছ থেকে শুনেছি। ক্লাস শেষ হবার পর প্রিন্সিপাল স্যার নিজেই সব স্টুডেন্ট দের জানিয়ে দিবে। 

রুমকি: ওয়াও! সেই হবে তাই না। ফাংশনে অনেক মজা করবো। 

সানি: এই ফাংশনের ব্যাপারে সব কিছুই স্যার বলে দিবে। কী কী করতে হবে সেটাও।

ওরা সবাই সানির কথা শুনে খুশি হয়ে যায়। ক্লাস শেষ হবার পর প্রিন্সিপাল স্যার সব স্টুডেন্ট কে মাঠে ডাকে। এবং ফাংশনের ব্যাপারে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়। দু দিন পর এই ফাংশন হবে। তাও অনেক বড় করে। ডেকোরেশন এর কাজ সব স্টুডেন্ট রা করবে। সাজাবার জীনিস সব প্রিন্সিপাল স্যার আনিয়ে দিবে। কাল থেকে আর ক্লাস হবে না। সবাই কে কলেজের ডেকোরেশনের কাজ করতে হবে। সব স্টুডেন্ট রা রাজি হয়ে যায় প্রিন্সিপাল স্যারের কথায়। সবাই অনেক খুশি এই ফাংশনের জন্য। 

মাঠে দাঁড়িয়ে সবাই যে যার মতো কথা বলছিল। হুট করেই প্রিয়ার নজর পড়ে অভয়ের উপর । প্রিয়া দেখতে পাচ্ছে অভয় কলেজের পিছনের দিকে যাচ্ছে । 

প্রিয়া: অভয় কলেজের পিছনে কোথায় যাচ্ছে । ওইখানে কী? না আমাকে ওর পিছু নিতে হবে। .....[ মনে মনে ]

প্রিয়া সবার কথা বলার মাঝে সেখান থেকে বেরিয়ে অভয়ের পিছু পিছু লুকিয়ে হাঁটতে লাগলো। অভয় হাঁটার সময় পিছনে কারো অস্থিত্ব টের পায়। পিছন দিক ফিরে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। অভয় আগের ন্যায় হাঁটা ধরল।

 অভয় থেমে যাবার সাথে সাথে প্রিয়া একটা দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। অভয় কে আবারও আগের মতো হাঁটতে দেখে প্রিয়াও অভয়ের পিছু পিছু হাঁটতে লাগলো। কলেজের পিছন দিকটা কিছুটা জঙ্গল টাইপের। প্রিয়া অভয়ের পিছু পিছু হাঁটর পর হঠাৎ করেই অভয় কোথাও গায়েব হয়ে যায়। প্রিয়া অভয় কে হারিয়ে ফেলে। সামনে হেঁটে এগিয়ে দেখে অভয় নেই। চার দিক ভালো করে একবার দেখে নিল। কিন্তু না অভয় কে কোথাও দেখতে পাচ্ছে না। 

প্রিয়া: কোথায় গেল অভয়? চোখের পলকের মধ্যেই  হারিয়ে গেল? এতো তাড়াতারি কোথায় হারিয়ে গেল। এটা কী করে সম্ভব? 

হুট করেই প্রিয়ার টিনার নানা বাড়ির জঙ্গলের কথা মনে পড়ে। প্রিয়ার বুকের মধ্যে ধুক করে উঠে। ভয় পেয়ে যায় প্রিয়া। তাড়াতারি করে সেখান থেকে যাবার চেষ্টা করে। হঠাৎ প্রিয়ার কানে কিছু একটা শব্দ ভেসে আসছে । প্রিয়া দাঁড়িয়ে গিয়ে ভালো করে শব্দটা শুনতে লাগলো। শব্দটা কেমন গাছের ডাল ভাঙ্গার মটমট শব্দ । প্রিয়া এবার উপরের দিকে তাকিয়ে  দেখে একটি মোটা শুকনো গাছের ডাল ভেঙ্গে ওর উপরে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রিয়া এটা বুঝতে পেরে সরে যাবার আগেই ডালটা ওর গায়ের উপর দ্রুত পড়তে লাগলো। প্রিয়া এক পা আগে ভাড়াবার আগেই অভয় ঝড়ের বেগে ছুটে এসে প্রিয়ার কোমড় ধরে সরিয়ে ন্যায়। ঘটনার আকসিবতায় প্রিয়া ভয়তে চোখ বন্ধ করে ফেলে অভয়ের শার্ট খামচে ধরে । অভয় প্রিয়া কে বুকে জড়িয়ে ন্যায়। কিছুক্ষন পর সব কিছু স্বাভাবিক হবার পর প্রিয়া চোখ মেয়ে তাকিয়ে দেখে অভয় ওর কোমড় ধরে ওর দিকে তাকিয়ে আছে । প্রিয়াও এক দৃষ্টিতে অভয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে । দু জন দু জনার দিকে তাকিয়ে আছে । এবাবে কতক্ষন তাকিয়ে ছিল ওরা সেটা বলতে পারবে না। অভয় প্রিয়ার চোখের উপর থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে কোমড় ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে দাঁড়িয়ে বলে উঠল।

প্রিন্স অভয়: এখানে কেন এসেছিলে? এখানে তোমার কী কাজ আছে?....... [ গম্ভীর কন্ঠে ]

প্রিয়া অভয়ের প্রশ্ন শুনে কী উওর দিবে সেটা ভেবে পাচ্ছে না। 

প্রিয়া: না মানে এমনি এসেছিলাম.......[ মৃদ স্বুরে বললো ]

প্রিন্স অভয়: এমনি এখানে কেউ আসে। যদি বড় কোন বিপদ হয়ে যেতো তাহলে? .........[ রেগে ]

প্রিয়া: .....................

প্রিন্স অভয়: যাও এখান থেকে। আর কখনোই এখানে আসতে যেনো না দেখি।......[ ধমক দিয়ে বললো ]

প্রিয়া অভয়ের কথা শুনে সেখান থেকে কলেজের ভিতরে যেতে লাগলো । অভয় প্রিয়ার যাবার দিকে তাকিয়ে আছে । কিছু দূর যাবার প্রিয়া আবার ও পিছন দিক ফিরে অভয়ের দিকে তাকাল। অভয়ের চোখে এখনও প্রিয়ার উপরে স্থির। প্রিয়া চোখ সরিয়ে তাড়াতারি হেঁটে সেখান থেকে চলে গেল।

প্রিয়া চলে যাবার পর রাহিল অভয়ের কাঁধে হাত রেখে বললো।

রাহিল: একটুর জন্য বেঁচে গেছে প্রিয়া । তুই না বাঁচালে আজ ওর কী হত কে জানে?

প্রিন্স অভয়: আমি বলেছিলাম না আমার বিষয় জানতে এলে ওর ক্ষতি হতে পারে। 

রাহিল: ক্ষতি তো হতে দিশ নি! ও তোর পিছু পিছু কেন এসেছিল?

প্রিন্স অভয়: সেটা আমি জানি না। আমি এখান এসেছি একটা মেয়ের চিৎকারের আওয়াজ শুনে। আমাকে এখানে আসতে দেখে প্রিয়াও আমার পিছু পিছু আসতে থাকে। তারপর আমি শুজুগ বুঝে লুকিয়ে পড়ি। আড়াল থেকে যখন প্রিয়া কে দেখি। তখন ওর গায়ের উপর গাছের ডালটা পরতে লাগলো। তারপর আমি‌ ওকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসি । 

রাহিল: সরিয়ে নিলি কেন? তুই না প্রিয়া কে সহ্য করতে পারিস না তাহলে?

প্রিন্স অভয়: ওর জাগায় অন্য কোন মেয়ে হলে আমি এটাই করতাম।

রাহিল: আমি দেখেছি তুই প্রিয়ার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ছিলি।......[ হেসে ]

অভয় রাহিলের কথার উওর না দিয়ে রেগে চলে যায়। রাহিল মুচকি হেসে অভয়ের পিছু পিছু হাঁটতে লাগলো।

প্রিয়া বাসায় এসে ওর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা ভাবতে লাগলো । অভয়ের কথা ভাবতেই ওর মনের মধ্যে একটা শীতল বাতাস বয়ে যায়। মুচকি হেসে ওর প্রিয় টেডি ভিয়ারটাকে জড়িয়ে ধরে । 

পরের দিন.....!!!



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url