Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০৯

 

Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । পর্বঃ ০৯

Prince Of Vampire💕

লেখিকাঃ Sumaiya Moni

পর্বঃ ০৯


রাত ৮ টায়.....

রাহিল: অভয় তুই যাবি না পার্টিতে?

অভয় ব্লাডের গ্লাসের উপর আঙুল ঘুরাতে ঘুরাতে বললো।

প্রিন্স অভয়: নাহ্!

রাহিল: আরে প্রিয়া তোকেও ইনভাইট করেছে । তোকে সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছে।

প্রিন্স অভয়: তো?

রাহিল: তো মানে? তুই যাবি না?

প্রিন্স অভয়: না।

রাহিল: সিরিয়াসলি তুই যাবি না?

প্রিন্স অভয়: একটা কথা কয় বার বলবো?

রাহিল ভাব নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের কলার ও হাতা ঠিক করতে করতে বললো।

রাহিল: ওকে তুই থাক। আমি পার্টিতে গিয়ে এনজয় করে আসি। আজকে প্রিয়ার সাথে মন খুলে ডান্স করব। সেদিন প্রিয়ার সাথে ডান্স করে আমার মন ভরে নি। আজকে জমিয়ে আড্ডা+ডান্স করব। আহহহ....কী মজাই না হবে। 

কথাটা বলছে আর আড়চোখে অভয়ের দিকে তাকাচ্ছে । অভয় রাহিলের কথাটা হজম করতে পারছে না। ভিতরে ভিতরে রাগে ফোস ফোস করছে। রাহিল এটা ভালো করেই বুঝতে পারছে। আরেকটু রাগাবার জন্য রাহিল গান গাইতে লাগলো।

রাহিল: ও প্রিয়া রে প্রিয়া....আয়েনা একটু কাছে...ও প্রিয়া রে প্রিয়া একটা গল্প বলার আছে। 

প্রিয়া রে প্রিয়া রে....হারিয়েছি মন...প্রিয়া রে প্রিয়া রে তোমায় প্রয়োজন। প্রিয়া রে এএএএএ....প্রিয়া রে ওওওও.....প্রিয়া রে এই এই এই....আয় যাই কাছে তোর........।

গানের সাথে তাল মিলিয়ে একটু পাগলা ডান্স দিল রাহিল। প্রিয়া কে নিয়ে গান গাইতে শুনে অভয় এর ফোস ফোস আরো ভেড়ে যায় । কিন্তু সেটা বাহিরে প্রকাশ করছে না। রাহিল মাথা আচড়িয়ে কোমড় দুলিয়ে বললো।

রাহিল: হেই! আজকে রাতে জোৎস্না হবে,আজকে রাতে পূর্নিমা....ওয়ে বাল্লে বাল্লে...।

প্রিন্স অভয়: ঐ তোর উদ্ভট ডান্স ও গান বন্ধ কর। আমার কিন্তু মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে । .........[ রেগে ] 

রাহিল: আমার মুখ,আমার পাছা আই মিন কোমড় দিয়ে যা মন চায় তাই করব তাতে তোর কী?

প্রিন্স অভয় : আমার সামনে থেকে দূরে গিয়ে কর যা।..........[ বেশ রেগে বললো ]

রাহিল: হ্যাঁ! আমি চলে যাচ্ছি প্রিয়া দের বাসায় । তুই এখানে বসে শোক দিবস পালন কর। সাথে আমার টাও পালন করিস । বাই।

অভয় রাগী দৃষ্টিতে তাকায় রাহিলের দিকে । রাহিল এটা দেখে মানে মানে কেঁটে পড়ে। 

রাহিল গাড়িতে বসে গাড়ি স্টার্ট দিতে যাবে ঠিক সেই সময় অভয় গাড়ির দরজা খুলে রাহিলের অপর পাশে সিটে বসে দরজা লাগিয়ে দিল। রাহিল টেরা চোখে অভয়ের দিকে তাকিয়ে আছে । অভয়ের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। অভয়ের ফোকাস সামনের দিকে। রাগী রাগী ভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে সামনে। রাহিল ঠেস মেরে অভয় কে বললো।

রাহিল: তখন কে যেনো বলছিল যাবো না,যাবো না। তাহলে এখন তিনি আমার গাড়িতে এসে কেন বসলো। 

অভয় রাহিলের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায় । রাহিল এটা দেখে গুন গুন করে গান গাইতে লাগলো।

রাহিল: ফেসে গেলে চিপায়,ধরা পড়লে কোপায়,এখন আমি যাবো কোথায়.... ও মন রে....।

অভয় কিছু বলছে না। রাগী ভাব নিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। রাহিল মনে মনে খুশি হয়েছে অভয় ওর সাথে পার্টিতে যাবে বলে। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে প্রিয়া দের বাসায় যেতে লাগলো ।


সানি,বিক্কি,রুমকি,স্যাম এক সাথে প্রিয়া দের বাসায় এসেছে। টিনা,রিমি এক সাথে এসেছে। প্রিয়ার পার্টির সব আয়োজন করা শেষ । টেবিলের উপরে থাকা ছোট ছোট ক্যান্ডেল গুলো জ্বালাচ্ছিল প্রিয়া । 

সানি: হাই প্রিয়া!

বিক্কি: what's up priya?

রুমকি: ওয়াও অনেক সুন্দর ভাবে ডেকোরেশন করেছ প্রিয়া!

প্রিয়া: পছন্দ হয়েছে?

রুমকি: হুমম...অনেক সুন্দর ।

স্যাম: সো বিউটিফুল....।

টিনা: হাই প্রিয়া।

রিমি: ওয়াও.......বেরি নাইচ। ক্যান্ডেল গুলো খুবি সুন্দর প্রিয়া।

প্রিয়া: ধন্যবাদ সবাইকে....।

সানি: এতো খাবার দেখে খিদে দ্বিগুন ভেড়ে গিয়েছে । 

বিক্কি: এগুলো তুমি রান্না করেছ?

প্রিয়া: হ্যাঁ! এগুলো আমি রান্না করেছি । 

রুমকি: প্রিয়া আঙ্কেল কোথায়?

প্রিয়া: বিজনেস এর কাজে বাহিরে গিয়েছে ।

রুমকি: ওহ! 

প্রিয়া: রাহিল,অভয় এখনো আসছে না কেন? এতো লেট হচ্ছে কেন ওদের? ওরা কী আসবে না।........[ মনে মনে ]

হঠাৎ করেই প্রিয়া রাহিলের কন্ঠে স্বর শুনতে পায়। 

রাহিল: হ্যালো প্রিয়া?

প্রিয়া: হাই ভাইয়া.........[ পিছনে ঘুরে বললো ]

রাহিল: ভাইয়া বলিয়া,দিলা মনে চোট লাগাইয়া....।

প্রিয়া: কী যে বলেন না ভাইয়া..... [ হেসে বললো ]

রাহিল: হাহ....।

প্রিয়া : ভাইয়া অভ........।

প্রিয়া অভয়ের নামটা নেবার আগেই রাহিলের পিছন থেকে অভয় হন হন কর এসেই সোফায় বসে পড়লো। প্রিয়া অভয় কে দেখে মনে মনে ভিশন খুশি হয়। 

প্রিয়া: গায়েস সাবাই কী এখন খাবে নাকি আড্ডা দেবার পর খাবে?

সানি: এখন না‌। আড্ডা দেবার পর খাবো।

রুমকি: হ্যাঁ! সেটাই ভালো হয়। আড্ডা দেওয়ার পর খানা-পিনা হোক।

রিমি: ইয়ো.....।

প্রিয়া: ওকে ঠিক আছে চলো আমরা একটা মজাদার গেম খেলি। 

টিনা : কী গেম প্রিয়া?

প্রিয়া: ট্রুথ ওর ডেয়ার ।

বিক্কি: ভালোই হবে,চলো খেলি সবাই।

স্যাম: হুম‌,চলো ।

প্রিয়া : ওয়েট আমি অন্য ভাবে খেলাটা পরিচালনা করতে চাই। 

রাহিল: কিভাবে?

প্রিয়া: এই যে ছোট টি টেবিল টা দেখতে পাচ্ছো,টেবিলের উপর আমি একটা‌ কাঁচের বোতল রাখবো। সেই বোতলটা যে ঘুরাবে এবং ঘুরে যার সামনে মুখ করে বোতলটি থেমে যাবে,বোতল ঘুরানো ব্যক্তি জিজ্ঞেস করবে ট্রুথ নাকী ডেয়ার নিবে এটা। অন্য কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। তবে এই খেলার মধ্যেই সব সত্যি কথা বলতে হবে। মিথ্যে কথা একদমি বলা চলবে না । এটাই রুল। ক্লিয়ার?

সানি: বাহ্! খেলাটা বেশ মজাদার মনে হচ্ছে। শুরু করা যাক তাহলে? 

স্যাম: হ্যাঁ! শুরু কর প্রিয়া। 

প্রিয়া: ওকে সবাই গোল করে টেবিলের চার পাশে বসে পড়ো। 

রিমি: হুমমম ।

সানি,বিক্কি,রুমকি,রিমি পাশা পাশি বসেছে।রাাহিল  টিনার পাশে বসেছে। অভয় খেলতে চাচ্ছে না। সোফায় বসে ফোন নিয়ে ব্যস্ত আছে।

রাহিল: অভয় খেলতে আয়।........[ মনে মনে ]

প্রিন্স অভয়: মুড নেই ।.......[ মনে মনে ]

রাহিল: খেলে তো দেখ ভালো লাগবে । আয় ভাই। ...........[ মনে মনে ]

অভয় কোন কথা না বলেই রাহিলের পাশে বসে গেল। অভয়ের অপর পাশে রিমি । অভয়ের সাথে স্যামের চোখা চোখি হলো। অভয়ের চোখে স্যাম ক্রোধ দেখতে পাচ্ছে । স্যাম আস্তে করে অভয়ের চোখের উপর থেকে ওর চোখ সরিয়ে ন্যায় । প্রিয়া স্যাম ও টিনার মধ্যে বসেছে। প্রিয়া বোতল হাতে নিয়ে বললো ।

প্রিয়া: ওকে খেলা শুরু করা যাক। আমি প্রথমে বোতল ঘুরাচ্ছি।

কথাটা বলেই প্রিয়া বোতলটি ঘুরিয়ে দিল। বোতলটি টক টক শব্দ করে গোল গোল ঘুরতে  লাগলো। আস্তে আস্তে বোলটি সানির দিক মুখ করে থেমে যায়। 

সবাই এটা দেখে জাগর দিয়ে‌ বলে ওঠে: সানি.....।

সানি: তো বলিয়ে ম্যাম......[ প্রিয়ার উদ্দেশ্যে বললো ]

প্রিয়া: কী নিবে বলো?

সানি: ট্রুথ। 

প্রিয়া: আচ্ছা...... কাউ কে পছন্দ কর? 

সানি: হ্যাঁ! একজন কে পছন্দ করি।........[ টিনার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ]

রাহিলের চোখে এটা এড়ায় নি। ঠিক দেখেছে সানি‌ টিনার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে কথাটা বলেছে।

রিমি: কে সেই ব্যাক্তি?

সানি: উহু...একটা প্রশ্ন করা যাবে,দুটি নয়। 

প্রিয়া: হ্যাঁ! সানি ঠিক বলেছে। শুধু একটি প্রশ্ন করা যাবে।

টিনা: আচ্ছা এবার আমি বোতলটি ঘুরাবো। 

প্রিয়া: ওকে,নে।

টিনা বোতলটি হাতে নিয়ে টেবিলের উপর রেখে জোরে ঘুরিয়ে দিল। গোল গোল শব্দ করে ঘুরতে লাগলো। হুট করে বোতলটি রাহিলের দিক মুখ করে থেমে যায়। টিমার মুখ চুপশে যায়। রাহিল তো সেই লেভেলের খুশি । 

প্রিয়া: টিনা জিজ্ঞেস কর ।

টিনা: হুম.... আপনি কী নিবেন? ট্রুথ নাকি ডেয়ার? ........[ রাহিলের দিকে তাকিয়ে মৃদ স্বুরে বললো ]

রাহিল: ট্রুথ। 

টিনা কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো। 

টিনা: আপনি রান্না করতে পারেন।

প্রশ্নটা শুনেই রাহিল হতাশ হয়ে যায় । রাহিল ভেবেছিল লাভ-টাব নিয়ে প্রশ্ন করবে । কিন্তু টিনা‌ এই প্রশ্ন করে বসবে সেটা জানা ছিল না। রাহিল বিরক্তি নিয়ে বললো ।

রাহিল: পারি না। জাস্ট কফি বানাতে পারি।

রিমি: এবার আমি । 

রিমি বোতলটি হাতে নিয়ে টেবিলের উপর রেখে ঘুরিয়ে দিল। গোল গোল ঘুরতে লাগলো। বিক্কির বরা বর মুখ করে বোতলটি থেমে যায়। 

বিক্কি: হ তিমি বলো?

রিমি: বিক্কি টিক্কি বলো কী নিবে ট্রুথ নাকি ডেয়ার?

বিক্কি: ডেয়ার।

প্রিয়া: বাহ্! বিক্কি বেশ সাহসি দেখছি। 

রিমি: এখনি সাহসের পরিক্ষা হয়ে যাবে । টিক্কি বাবু যাও গিয়ে একটা তেলাপোকা ধরে নিয়ে আসো।.........[ হেসে বললো ]

বিক্কি: এই মরেছে। আমি যে তেলাপোকা ভয় পাই। ধরবো কিভাবে? কেন যে ডেয়ার নিলাম। এই তিমির বাচ্চা রে পরে দেখে নিবো ।......[ মনে মনে ]

টিনা: কী হলো বিক্কি চুপ কেন? তেলাপোকা ভয় পাও বুঝি.......... [ বলেই হাসতে লাগলো ]

বিক্কির ইজ্জতের ফালুদা..... 

বিক্কি: কে বলেছে আমি ভয় পাই । মোটেও ভয় পাই না। এখনি তেলাপোকা ধরে নিয়ে আসছি।.........[ কিছুটা সাহস নিয়ে বললো ]

রিমি: তো যাও বসে আসো কেন?

বিক্কি: যাচ্ছি। 

বিক্কি চোখ মুখ শক্ত করে উঠে যেতে লাগলো । প্রিয়া বিক্কি বললো।

প্রিয়া : বিক্কি আমাদের বাসায় তেলাপোকা নেই। তুমি একটাও খুঁজে পাবে না। রিমি তুই এই ডেয়ার চেঞ্জ করে অন্য কিছু দে। 

বিক্কি কথাটা শুনেই সেই খুশি। তেলাপোকা ধরতে হবে না ওকে। 

রিমি: আচ্ছা... বিক্কি তুমি বোবার অভিনয় করে দেখাও। 

বিক্কি : এটা কিভাবে করে! 

রিমি: আমি বলবো কেন? করে দেখাতে বলেছি করে দেখাও অভিনয় । 

বিক্কি: আবার একটা কঠিন ডেয়ার দিল। সান্তি আর দিল না এই মেয়েটা। ........[ মনে মনে ] আচ্ছা দেখাচ্ছি বাট কেউ হাসবা না। 

রুমকি: আচ্ছা আচ্ছা ।

বিক্কি হাতের ইশারায় বোবাদের মতো কিছু বোঝানোর ট্রাই করছে। বিক্কিকে এবাবে বলতে দেখে হাসতে হাসতে সবাই লুটুপুটি খাচ্ছে । বিক্কি আবারও অভিনয় করে কিছু একটা বোঝানোর ট্রাই করছে। এবারও কেউ কিছুই বুঝলো না । সবাই হাসিতে মেতে আছে। অভয় গম্ভীর মুডে চুপ মেরে বসে আছে । হাসির চিহ্নও‌ ওর মুখে নেই।

বিক্কি: ধুর! হাসো ক্যা তোমরা।

রিমি: অভিনয় সেই হয়েছে । ........[ হেসে ]

রুমকি : এবার আমি। 

রুমকি বোতলটি হাতে নিয়ে টেবিলের উপর রেখে ঘুরিয়ে দিল। গোল গোল ঘুরে বোতলটি স্যামের সামনে মুখ করে থেমে যায়। 

রুমকি: স্যাম বলো কী নিবে?

স্যাম: ডেয়ার।

রুমকি: কাপল ডান্স কর প্রিয়ার সাথে।

কথাটা শুনেই সবাই জাগর দিয়ে উঠল। অভয় তো রেগে আগুন। স্যাম কে দু চোখে দেখতে পারে না । তার উপর প্রিয়ার সাথে ডান্স করবে শুনে আরো রাগ হচ্ছে অভয়ের । প্রিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই টিনা টেবিলের নিচ থেকে প্রিয়ার হাতে আস্তে চিমটি কাঁটে। প্রিয়া টিনার দিকে তাকায় । টিনা প্রিয়া কে ইশারায় কিছু একটা বোঝায় । প্রিয়া সেটা বুঝে যায়। 

স্যাম: প্রিয়া আমার সাথে ডান্স করতে তোমার কোন সমস্যা নেই তো?

প্রিয়া: নাহ! কোন সমস্যা নেই......[ হেসে বললো কথাটা ]

স্যাম কথাটা শুনে মুচকি হেসে প্রিয়ার দিকে ডান হাত বাড়িতে দেয়। প্রিয়া ওর ডান হাত স্যামের হাতের উপর দেয়। সেখান থেকে উঠে গিয়ে হল রুমের ফাঁকা জাগায় দাঁড়াল ওরা দু জন। রুমকি ইংলিশ গান অন করল। গানের সাথে তাল মিলিয়ে স্যাম‌ প্রিয়া কে নিয়ে ডান্স করছে। প্রিয়াও স্যামের সাথে তাল মিলিয়ে ডান্স করছে। সবাই ওদের দু জনের দিকে তাকিয়ে আছে। অভয় রাগে মাথা নিচে করে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে আছে। অভয়ের মন চাইছে ভেঙ্গে চুড়ে সব তচনচ করে দিতে। নিজেকে কন্ট্রোল করার যথেষ্ট চেষ্টা করছে । রাহিল অভয়ের দিকে এক বার তাকিয়ে অভয়ের রাগী ফেস দেখে তাড়াতারি করে চোখ সরিয়ে ন্যায় । কিছুক্ষন পর ওরা ডান্স শেষ করে যে যার জাগায় বসে পড়লো। 

রুমকি: বাহ্! অনেক সুন্দর হয়েছে । 

বিক্কি :ঝাকা-নাকা। 

সানি: অসাধারণ।

স্যাম: ধন্যবাদ গায়েস । 

প্রিয়া : আচ্ছা এবার আমি........... ।

কথাটা বলে বোতলটি হাতে নিবে সেই সময় অভয় বোতলটি উপর জোরে হাত রেখে বললো। 

প্রিন্স অভয়: আমি ঘুরাবো।.......[ গম্ভীর কন্ঠে ]

রিমি: হ্যাঁ! আপনিই ঘুরান।

প্রিয়া কিছুটা অবাক হয় অভয়ের ব্যবহার এ ।

অভয় কথাটা শুনেই বোতল হাতে নিয়ে জোরে ঘুরিয়ে দিল। বোতলটি এবার বেশ জোরে টক টক শব্দ করে ঘুরতে লাগলো। সবার নজর বোতলটির উপর। অভয় সবার আড়ালে ওর চোখ থেকে সাদা রশ্নি ছুড়ে দিল বোতলটির উপর। বোতলটি সাথে সাথে প্রিয়ার দিকে মুখ করে থেমে যায়। রাহিল,স্যাম কিছুটা বুঝতে পেরেছে অভয়ের ম্যাজিক সম্পর্কে । 

প্রিন্স অভয়: কী নিবে?.......[ গম্ভীর কন্ঠে ]

প্রিয়া: অভয়ের মনে কিছু একটা চলছে। ট্রুথ নেওয়া যাবে না। ডেয়ার নিতে হবে।.......[ মনে মনে ] ডেয়ার।

প্রিন্স অভয়: নাউ কিস মি?......[ কিছুটা রাগী কন্ঠে বললো ]

প্রিয়া সহো সবাই কথাটা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। সবার চোখ অভয়ের উপর স্থির । অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অভয়ের দিকে । অভয় সেদিকে খেয়াল না করে প্রিয়ার উদ্দেশ্যে বললো ।


প্রিয়া সহ সবাই কথাটা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। সবার চোখ অভয়ের উপর স্থির । অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অভয়ের দিকে । অভয় সেদিকে খেয়াল না করে প্রিয়ার উদ্দেশ্যে বললো ।

প্রিন্স অভয়: নাউ কিস মি প্রিয়া?........[ কিছুটা রাগী কন্ঠে ]

প্রিয়া কিছুটা কাঁপা কাঁপা স্বুরে বললো ।

প্রিয়া: অভয় ত..তুমি এটা কী..........।

বাকি কথা বলার আগেই প্রিয়া অভয় কে থামিয়ে দেয়।

প্রিন্স অভয়: রুল ইজ রুল.....তুমি এটা বল নি যে প্রশ্ন করবে সে কিছু বলতে পারবে না? নাউ কিস কর?

সবাই অভয় এর কথা শুনে থমথম খেয়ে যায়। অভয়ের কথাও ঠিক আছে। বাট কিস? এটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে! সবাই চুপ করে আছে। ওরা শুধু অভয় ও প্রিয়ার দিকে‌ চাওয়া চায়ি করছে। 

প্রিয়া: অভয় কী পাগল হয়ে গেছে? এটা কী বলছে অভয়? সবার সামনে আমি ওকে.........[ মনে মনে ]

রাহিল: অভয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না।....... [ মনে মনে ]

প্রিন্স অভয়: আমার ব্যাপারে নাক গলানোর দরকার নেই তোর। চুপ থাক........[ মনে মনে ]

অভয় রাহিলের কথা শুনে চুপ হয়ে যায় । 

প্রিয়াও চুপ করে আছে। কারো মুখে কোন কথা নেই। নিরবতা বিরাজ করছে হল রুমে। অভয় প্রিয়া কে চুপ থাকতে দেখে জোরে বলে উঠল।

প্রিন্স অভয়: রুল যে মানে না তার সাথে খেলার কোন মানেই হয় না।.........[ কথাটা বলেই অভয় বাসা থেকে বেরিয়ে যায় ]

রাহিল: অভয়....অভয়... !

অভয় রাহিলের ডাকে সাড়া না দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। 

রাহিলের মতো বাকি রাও অভয়ের যাওয়া দিকে তাকিয়ে আছে । সবার মনে একি প্রশ্ন? অভয় কেন এমন বিহেভ করল তাও আবার প্রিয়ার সাথে? 

রাহিল নিরবতা ভেঙ্গে সবার উদ্দেশ্যে বললো ।

রাহিল: গায়েস তোমরা মন খারাপ করো না। অভয় একটু এমনি। রাগের মাথায় কখন যে কী বলে ফেলে সেটা ও নিজেও জানে না। রাগ কমলে আবার ঠিক হয়ে যায়। তখন নিজের বলা কথার জন্য অনুতপ্ত বোধ করে। 

সানি: হঠাৎ করে অভয় রেগে গেল কেন?

বিক্কি: রাগার কারনটা বুঝতে পারছি না। 

রাহিল: আমি তো জানি অভয় কেন রেগে গেছে........‌[ মনে মনে ]

রিমি: বুঝতে পারছি না কিছুই।

রাহিল: আচ্ছা এই সব বাত দেও....অনেক খিদে পেয়েছে । চলো সবাই ডিনার করি।

রুমকি: হ্যাঁ! আমারও খিদে পেয়েছে ।

 প্রিয়া: কিন্তু অভয়?

রাহিল: ওর কথা চিন্তা করো না। ও বাহিরে গিয়ে কিছু একটা খেয়ে নিবে। তুমি পার্টি অন রাখো।

প্রিয়া মৃদ হেসে বললো ।

প্রিয়া: আসো সবাই। 

সবাই একে একে চেয়ারে বসে খাবার খেতে লাগলো। হাসি-ঠাট্টার মধ্যে দিয়ে খাওয়া শেষ হলো সবার । প্রিয়ার মন খারাপ হয়ে আছে। একে একে সবাই চলে গেল। প্রিয়া সবাইকে বিদায় দিয়ে ওর রুমে চলে আসে। অভয়ের তখকার বলা কথা ভাবছে প্রিয়া ।

প্রিয়া: আমি জানি অভয় তোমার রাগ হবার কারটা কী? ........[ প্রিয়া মাথা দুলিয়ে মুচকি হেসে বিছানায় শুয়ে পড়ে ]

অভয় জঙ্গলে এসে রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে বাতাসের বেগে দৌড়াচ্ছে।চোখেমুখে রাগের আগুন। এতোটা জোরে দৌড়াচ্ছে যে সামনের গাছ-পালা যাই আসছে সব ভেঙে একা কার করে দিচ্ছে। রাহিল জঙ্গলে এসে অভয়ের বুকে হাত দিয়ে জোরে চেয়ে ধরে। অভয়ের দৌড়ের গতী এতো দ্রুত ছিল যার ফলে রাহিল দু তিন পা পিছিয়ে যায়। অভয় ওর চোখ বন্ধ করে ওর রাগ কন্ট্রোল করে । রাহিল ভ্রু কুঁচকে অভয়ের দিকে তাকিয়ে বলে।

রাহিল: এতো রাগ হবার কারন কী অভয়?

প্রিন্স অভয়:..................

রাহিল: আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি?

অভয় রাহিলের কথার উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । 

সকালে‌.....

ক্যাম্পাসে এসে প্রিয়া চার দিক একবার চোখ বুলিয়ে ন্যায়। নাহ্! অভয় কে কোথাও দেখতে পাচ্ছে না। কলেজের গেটের দিকে তাকাতে তাকাতে প্রিয়া ওর ক্লাস রুমে প্রবেশ করছিল। ঠিক সেই সময় ঝড়ের বেগে অভয় প্রিয়া কে নিয়ে একটি ফাঁকা ক্লাস রুমে এসে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরে। প্রিয়া এমন ঘটনায় চমকে উঠে কিছুটা ভয় পেয়ে যায় । চেপে ধরার পর অভয় প্রিয়ার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। প্রিয়া অভয়ের চোখে মুখে আগুন দেখতে পাচ্ছে । হঠাৎ করে এবাবে চেপে ধরার কারনটা ঠিক বুঝতে পারছে না প্রিয়া । অভয় এখনো আগের মতো ক্রোধ নিয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে। 

প্রিয়া ভয় পাচ্ছে অভয়ের রাগী রাগী চোখ দেখে। কাঁপা কাঁপা স্বুরে বলে।

প্রিয়া: অ...অভয়...।

প্রিয়ার কাঁপা কাঁপা ঠোঁট জোড়া দেখে অভয় কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে। সাথে সাথে অভয় প্রিয়ার ঠোঁট জোড়া ওর আয়ত্তে করে ন্যায়। প্রিয়া পরম যত্নে ওর কাজল কালো আঁখি জোড়া বন্ধ করে ন্যায় । অভয় আলতো করে প্রিয়ার ঠোঁট স্পর্শ করতে থাকে। প্রিয়া চোখ বন্ধ করে সেটা অনুভব করতে থাকে। ৫ মিনিট অতিবাহিত হবার পর অভয়ের সেন্স ফিরে আসে ও কী করছে । তাড়াতারি করে প্রিয়া কাছ থেকে সরে আসে। কিছুক্ষন প্রিয়ার দিকে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে যায়। 

প্রিয়া লজ্জা ভাব নিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে । মুচকি হেসে প্রিয়া ওর ক্লাস রুমের দিকে যেতে লাগলো ।

প্রিন্স অভয়: ওহ নো....এ আমি কী করে ফেললাম। রাগের বসে প্রিয়ার সাথে.......। শিট! প্রিয়াকে দেখলে আমি নিজের উপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি। নাহ্! কাজটা একদমি ঠিক হয়নি। প্রিয়ার কাছ থেকে আমায় দূরে দূরে থাকতে হবে। ............[ মনে মনে ]

ক্লাস শেষ হবার পর প্রিয়া ওর বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছে। হুট করেই প্রিয়া চোখ পড়ে অভয়ের উপর । অভয় মাঠ থেকে গম্ভীর মুড নিয়ে প্রিয়ার দিকে হনহন করে হেঁটে আসছে। প্রিয়া মুচকি হেসে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে যায় অভয় কে দেখে। অভয় প্রিয়ার দিক থেকে চোখ সরিয়ে বাম দিকে মোড় নিয়ে গুড়ে চলে যায়। নিমিষেই প্রিয়ার হাসি মাখা মুখ কালো হয়ে যায়। আর কেও সেটা বুঝতে না পারলেও টিনা এটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছে । 

প্রিয়া টিনার হাত ধরে ওদের আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলে। 

টিনা: প্রিয়া তুই কী করছিস? আমার আইডিয়াটা কী ভুলে গেছিস?

প্রিয়া: মনে আছে বাট সময় কোথায়? অভয় তো ক্লাস করেই বাসায় চলে যায়। এক মিনিট ও কলেজে থাকে না। 

টিনা: হ্যাঁ! তাই তো......। আচ্ছা কালকে অভয় এতো রেগে গিয়েছিল কেন? আর তোকেই বা কিস করতে বললো কেন?

প্রিয়া: মেবি....স্যাম এর সাথে ডান্স করেছি তাই । 

টিনা: এটাই হবে । স্যামের সাথে ডান্স করেছিস তাই রাগ করেছে অভয়। 

প্রিয়া: মেবি....।

টিনা: যাই হোক আইডিয়া টা কাজে লাগাতে হবে প্রিয়া।

প্রিয়া: আচ্ছা কালকে দেখা যাবে । 

টিনা: হুমমমম.......।


প্রিয়া চলে আসে সানিদের কাছে। আর টিনা ওর ক্লাস রুমে চলে যায়। টিনা ওর ব্যাগ ক্লাস রুমে রেখে এসেছে। সেটা নিয়ে আসতে ক্লাস রুমে যাচ্ছে । গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে ক্লাস রুমের দিকে পা বাড়ায় টিনা। হঠাৎ পিছন থেকে রাহিলের ডাক শুনে টিনা থেমে গিয়ে পিছনে গুড়ে তাকায় । 

রাহিল: টিনা।

টিনা: ভাইয়া কিছু বলবেন?

রাহিল: মার গেয়া.....[ মনে মনে ]

রাহিল কে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে টিনা আবার বললো। 

টিনা: ভাইয়া.. কিছু বলছেন না যে?

রাহিলের এবার রাগ হচ্ছে । টিনার মুখে ভাইয়া ডাকটা একদমি নিয়ে পারছে না রাহিল । 

রাহিল: ভাইয়া কে?

টিনা: আপনি?

রাহিল: আমি তোমার কবে,কখন,কোথা থেকে ভাইয়া হই বলো?

টিনা: কলেজের ভাইয়া হন।

রাহিল: কলেজে শুধু ভাইয়া হই না। ফ্রেন্ডও হয়। 

টিনা: ফ্রেন্ড তো আমার আছেই। আর আপনি আমার ভাইয়া। 

রাহিল: আমাকে ফ্রেন্ড ভাবা যায় না।

টিনা: না! ভাইয়া ঠিক আছে ।‌

রাহিল : আর একবার ভাইয়া বললে আমি যে কী করবো সেটা নিজেও জানি না।........[ কিছুটা রেগে বললো ]

টিনা: আজব! আপনি এতো রাগ হচ্ছেন কেন ভাইয়া?

রাহিল: চুপ কর! তোমার ভাইয়ের গুষ্টি পিডাই। 

টিনা: আচ্ছা ভাইয়া । 

রাহিল: টিনা......[ রেগে ]

টিনা মুখ টিপে হাসছে। রাহিল রাগে গজ গজ করতে করতে টিনার সামনে থেকে চলে যায়। টিনা এবার জোরে হো হো করে হাসতে লাগলো। ব্যাগ নিয়ে ওদের কাছে যেতে লাগলো টিনা। 

পরের দিন.....

এলিনা প্রিয়ার পিছু পিছু হাঁটছে। প্রিয়া ক্লাস রুম থেকে লাইব্রেরিতে যাচ্ছে । এলিনা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে এলিনাও প্রিয়ার পিছু পিছু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে । লাইব্রেরির কিছুটা সামনে এসে পড়েছে প্রিয়া । লাইব্রেরির সামনে ও ভিতরে তেমন ছাত্র-ছাত্রী নেই বললেই চলে। দু এক জন লাইব্রেরির ভিতরে আছে ,তারা বই এ মুখ গুজে পড়ছে। এলিনা ডানে বানে তাকিয়ে পিছন থেকে প্রিয়ার ঘাড়ে হাত রাখতে যাবে ঠিক সেই সময়,কে যেন পিছন থেকে এলিনার অন্য হাত ধরে টেনে স্টোর রুমে নিয়ে আসে।



চলবে...!!!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url