Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । শেষ পর্ব

 

Prince Of Vampire - ভুতের গল্প । শেষ পর্ব

Prince Of Vampire💕

লেখিকাঃ Sumaiya Moni

শেষ পর্ব


সকালে....

প্রিয়া চোখ মেলে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে । বাহিরের মিষ্টি রৌদ্দ এসে জানালা ভেদ করে প্রিয়ার চোখে পড়ে। প্রিয়া ওর চেহারার উপর হাত রেখে উঠে বসে। এবং কাল রাতের কথা গুলো ভাবতে থাকে। কাল রাতের কথা সব মনে পড়ে যায় প্রিয়ার । হুট করে প্রিয়ার ধ্যান ভাঙ্গে অভয়ের ডাকে ।

অভয় দরজা ঠেলে রুমের ভিতরে প্রবেশ করে, হাতে নাস্তার ট্রে । 

প্রিন্স অভয়: গুড মরনিং মাই প্রিন্সেস। ঘুম কেমন হলো?..........[ মুচকি হেসে ]

প্রিয়া: ভালো অভয়....[ মৃদ হেসে ]

প্রিন্স অভয়: মনে হচ্ছে কিছু একটা ভাবছিলে?

প্রিয়ার পাশে বসতে বসতে বলে অভয়। 

প্রিয়া: না তেমন কিছু না। কাল রাতে কী হয়েছিল আমার ?

প্রিন্স অভয়: তেমন কিছু না। শুধু সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলে। 

প্রিয়া: কেন?

প্রিন্স অভয়: এই প্রথম তুমি তোমার শক্তি ব্যবহার করেছিলে আমার উপর । সামলাতে পারনি,তাই সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলে।

প্রিয়া: ও...। আমার শরীর থেকে এই শক্তিটা কী যাবে না।?

প্রিন্স অভয়: সেটার বিষয় ড্যাড কে জিজ্ঞেস করতে হবে । এখন চুপ কর। যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো। তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছি । 

প্রিয়া: তুমি বানিয়েছ?

প্রিন্স অভয়: না! বাহির থেকে অর্ডার করেছি। 

প্রিয়া: ওহ! আচ্ছা যাচ্ছি। 

বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে যেতে নিলে হঠাৎ থেমে গিয়ে অভয়ের দিকে ঘুরে বলে। 

প্রিয়া: অভয়!

প্রিন্স অভয়: বলো?

প্রিয়া: তুমি সারা রাত আমার বাসায় ছিলে?

প্রিন্স অভয়: হ্যাঁ! কেন?

প্রিয়া: এমনি। 

প্রিন্স অভয়: তোমার বাড়িতে,তোমার রুম,তোমারি বিছানায় শুয়ে ছিলাম। এখন বলো কোন সমস্যা?

প্রিয়া: না । আমি জানি তুমি আমাকে স্পর্শ করো নি।.........[ মুচকি হেসে কথাটা বলেই প্রিয়া ওয়াশরুমে চলে যায় ]

 অভয়ও মুচকি হাসলো......

নাস্তা সেরে অভয় প্রিয়াকে নিয়ে কলেজে যেতে লাগলো । এক সাথে প্রিয়া ও অভয় কে দেখে সবাই একটু অবাক হয়ে যায়। বেশি অবাক হয় টিনা,রিমি,রুমকি,বিক্কি,সানি ওরা। প্রিয়া অভয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওদের সামনে এসে দেখে ওরা একেক জন হা করে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । প্রিয়া টিনার মুখ ওর হাত দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে বলে। 

প্রিয়া: এমন ভাবে হা করে কী দেখছ তোমরা?

বিক্কি: তুমি অভয় একি গাড়িতে?........[ অবাক হয়ে ]

রিমি:আমি কী ভুল দেখছি নাকি সত্যি?

প্রিয়া: এতো অবাক হবার কিছুই নেই। অভয় আমাকে, আর আমি অভয়কে ভালোবাসি। কাল রাতে অভয় আমার বাসায় ছিল । তাই একি সাথে কলেজে আসলাম । 

এই কথাটা শুনে সবাই আরো অবাক হয়ে যায় । এবার ওদের গুলো চোখ বড় বড় হয়ে যায়। প্রিয়া এটা দেখে জোরে জোরে বলে। 

প্রিয়া: গায়েস! তোমারা যা ভাবছো তেমন কিছুই হয়নি। অভয় খুব ভালো ছেলে। আমার মনে হয় তোমরা একটু বেশিই গভীরে যাচ্ছো?

রিমি: জানি না রে প্রিয়া....তবে সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে । ...........[ অবাক করা কন্ঠে ]

প্রিয়া: ধেৎ! তোমরা থাকো আমি যাই।

বলেই প্রিয়া হাঁটা ধরলে ওর সাথে সাথে টিনাও হাঁটতে লাগলো । 

টিনা: প্রিয়া..প্রিয়া ‌.‌‌...দাঁড়া দাঁড়া... সত্যি অভয় তোকে ভালোবাসে?

প্রিয়া: হ্যাঁ! কাল রাতে অভয় আমার বাসায় এসে আমাকে প্রপোজ করেছে ।........[ কিছুটা লাজুক কন্ঠে ]

টিনা: ওয়াহ! লটারি লেগে গেল রে তোর! .......[ খুশি মুডে বললো ]

প্রিয়া: কেন?

টিনা: এই যে অভয় তোকে ভালোবাসে । ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স বলে কথা। 

প্রিয়া: তো? 

টিনা: তো কী? খুশি লাগছে আমার....ও নাচ মেরে রানী রানী...মেরি রানী নাচ... নাচ মেরি রানী রানী..মেরি রানী নাচ । .............[ ডান্স করে বলে ]

প্রিয়া : হইছে থাম....ক্লাসে চল । 

টিনা: হ চল। 

প্রিয়া টিনা কথা বলতে বলতে ক্লাস রুমে যেতে লাগলো। হঠাৎ করে রাহিল টিনার হাত ধরে বাতাসের বেগে লাইব্রেরীতে নিয়ে আসে। প্রিয়া ডানে বামে তাকিয়ে দেখে টিনা কোথাও নেই ।

প্রিয়া: আরে টিনা কোথায় গেল? এখানেই তো ছিল। এতো তাড়াতারি কোথায় চলে গেল। 

কথাটা বলে ডানে বামে খোঁজতে লাগলো। 


টিনা ভয় পেয়ে কাবু হয়ে আছে। রাহিল এক হাত দিয়ে টিনার মুখ চেপে ধরে আছে। আরেক হাত দিয়ে টিনার ডান হাত ধরে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে রেখেছে। টিনা বাম হাত দিয়ে রাহিল কে সরাতে চাচ্ছে । কিন্তু রাহিল চুল পরিমান ও নড়ছে না। রাহিলের মুখে দুষ্ট হাসি । নেশাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে টিনার দিকে । 

রাহিল: কী এখন বলো তো দেখি"রাহিল ভাইয়া"। তারপর দেখো তোমার অবস্থা কী হয়। .......[ ডেবিল মার্কা হাসি দিয়ে ]

টিনা চোখ বড় বড় করে তাকায় রাহিলের দিকে ।

রাহিল: কী বলবে না?

টিনা এবার বাম হাত দিয়ে রাহিলের হাত ওর মুখের উপর থেকে সরিয়ে বসে। 

টিনা: গাঁধা কোথাকার! মুখ চেপে ধরে বলে,কী বলবে না রাহিল ভাইয়া ।.......[ ভেংচি দিয়ে বলে ]

গাঁধা বলাতে রাহিল কিছুটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে টিনার দিকে তাকায়। টিনা এবার বেশ ভয় পেয়ে যায়। 

টিনা: ইশশ! কেন যে এটা বলতে গেলাম। পাগল ক্ষেপে গেছে মনে হয়। .............[ মনে মনে ]

রাহিল: কী আমি পাগল?......[ রেগে জোরে বলে ]

টিনা এবার রসগোল্লার মতো চোখ বড় বড় করে রাহিলের দিকে তাকিয়ে আছে । ওর মনের কথা কিভাবে শুনল রাহিল ? 

রাহিল: আমি তোমার মনের কথা শুনেছি। ভুলে যেও না আমিও একটা ভ্যাম্পায়ার । ........[ রেগে ]

টিনা কথাটা শুনেই ছোট একটা ঢোক গিলে। 

টিনা: স...স...স্যরি। আমাকে যেতে দিন প..প..প্লিজ । .........[ কাঁপা কাঁপা স্বুরে ]

রাহিল: মোটেও না। তার আগে এটা বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো কী না?

টিনা: ......................

রাহিল : বলছো না কেন?....... [ ধমক দিয়ে ]

টিনা: ই...ই...ইয়ে মানে,আমি আপনাকে ভালোবাসি না।..........[ কাঁপা কাঁপা স্বুরে ]

এটা শুনে রাহিল রেগে যায়। টিনার হাত ছেড়ে দিয়ে আস্তে আস্তে পিছনের দিক থেকে লাগলো। টিনা রাহিলের দিকে ভিতু চোখে‌ তাকিয়ে আছে । রাহিল বড় একটা বইয়ের তাক ধরে এক হাত দিয়ে জোরে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দেয়। বিকট‌ একটা শব্দ হলো। টিনা ভয়তে দৌড়ে  রাহিল কে জোরে জড়িয়ে ধরে । থরথর করে টিনার সারা শরীর কাঁপছে। রাহিল রেগে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টিনা কাঁপা কাঁপা স্বুরে রাহিল কে বলে । 

টিনা: আ.আ..আমি আপনাকে ভালোবাসি । ত...তখন মিথ্যে বলেছিলাম।

কথাটা শুনে রাহিলের মুখে এক চিতলে হাসি ফুটে উঠে । টিনার চুল ধরে টেনে ওর মুখের সামনে ধরে আস্তে করে টিনার ঠোঁট জোড়া ছুঁয়ে দিতে লাগলো রাহিল। টিনা চোখ বন্ধ করে ন্যায় । রাহিল আরেক হাতের ইশারায় ওর ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার দিয়ে বইয়ের তাকটি আগের মতো ঠিক করে দেয়। টিনা কে নিয়ে আড়ালে লুকিয়ে পড়ে রাহিল । কেননা বিকট শব্দ শুনে কিছু কিছু শিক্ষার্থী রা লাইব্রেরিতে চলে আসে। এসে তেমন কিছুই দেখতে পায় না তারা। আবার আগের মতো যে যার ক্লাস রুমে চলে যায়।


ক্লাস শেষ....

অভয় ওর ক্লাস রুম থেকে বের হবার সময় জ্যাকের মুখ মুখি হয়। অভয় জ্যাকের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। জ্যাকের মুখে শয়তানি হাসি লেগে আছে । 

জ্যাক: কোথায় যাচ্ছো প্রিন্স? নিশ্চয় প্রিয়ার কাছে?

প্রিন্স অভয়: সামনে থেকে সরে যা । 

জ্যাক : হাহ....সরে তো যাবো না। তোমার সাথে হিসাব-নিকাশ ক্লিয়ার করতে এসেছি আমি ।‌

প্রিন্স অভয়: ফালতু কথা বলবি না। বাঁচতে চাইলে সর সামনে থেকে। .........[ রেগে ]

জ্যাক: হাহাহা...কে বাঁচবে বা মারা যাবে,সেটা তো যুদ্ধ করার পর জানা যাবে। .......[ শয়তানি হাসি দিয়ে ]

প্রিন্স অভয়: তুই কী আমার সাথে লড়াই করতে চাচ্ছিস?..........[ রেগে ]

জ্যাক: হ্যাঁ!..

প্রিন্স অভয়: তাহলে আয়? আজ আমার হাতেই তোর মৃত্যু হবে ।......[ রেগে ]

জ্যাক: দেখা যাক.....।

অভয় হনহন করে প্রিয়ার কাছে গিয়ে প্রিয়া কে গাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে বলে চলে আসে কলেজের পিছনে । সেখানে আগে থেকেই জ্যাক অভয়ের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। 

জ্যাক: তো শুরু করা যাক প্রিন্স ?

অভয় প্রথম জ্যাকের উপর আক্রমন করে। জ্যাক পাল্টা জবাব দেয়। শুরু হয়ে যায় ওদের মাঝে যুদ্ধ । অভয় জ্যাক কে অনেকটা আহত করে। জ্যাক বেশ রেগে যায়। একটি গাছের ঠাল ভেঙ্গে,সেটা দিয়ে অভয়ের গলা একটি গাছের সাথে চেপে ধরে । অভয় ওর দু হাত দিয়ে ওর গলার কাছ থেকে ঠালটা সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্ত পারছে না। জ্যাক আগের চেয়ে বেশ জোরে চেপে ধরে । অভয়ের বেশ কষ্ট হচ্ছে । চোখ মুখ খিঁচে আছে অভয়। হুট করে জ্যাক দূরে ছিটকে পড়ে । অভয় জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। রাহিল এসে জ্যাক কে লাথি মেরে দূরে ফেলে দেয়। অভয় ও রাহিল ওরা দু জন দুজার দিকে তাকিয়ে এক সাথে জ্যাকের উপর আক্রমন করে। জ্যাক ওদের কে না মেরে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে । 

এদিকে প্রিয়া পার্কিং এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একে একে সব শিক্ষার্থী রা চলে গিয়েছে । প্রিয়া একাই দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। টিনা ওর স্কুটার নিতে এখানে এসে দেখে প্রিয়া দাঁড়িয়ে আছে। 

টিনা: প্রিয়া তুই এখানে কেন?

প্রিয়া : আরে দেখ না,অভয় আমাকে এখানে দাঁড়াতে বলে কোথায় যে চলে গেল কে জানে?

টিনা: তাহলে ওয়েট কর। এখনি চলে আসবে অভয়।

প্রিয়া: হ্যাঁ! সেটাই করছি। 

টিনা: আচ্ছা শোন....আআআআআআ.....।

ধুপাশশশশ.....

প্রিয়া: টিনা.....আআআআআ.....।

প্রিয়া টিনা কথা বলছিল। ঠিক সেই সময় এলিনা এসে প্রথমে টিনার কানের নিচে দু আঙুল রাখতেই সেন্সলেস হয়ে যায় টিনা। তারপর প্রিয়ার কানের নিচে দু আঙুল রাখে। প্রিয়াও সেন্সলেস হয়ে ধুপাশশ করে মাটিতে পড়ে যায়। এলিনা ওদের দু জনের দিকে তাকিয়ে বলে। 

এলিনা: এবার তোকে আমার সাথে করে নিয়ে যাবো প্রিয়া হাহাহা.......।


এলিনা: এবার তোকে আমার সাথে করে নিয়ে যাবো প্রিয়া হাহাহা.......।


"আমাকে ছেড়ে দেও? এভাবে কেন বেঁধে রেখেছ আমাকে?" জোরে চিৎকার দিয়ে বলে স্যাম।

এবিক: তুমি এটারি লায়েক। আমার ছেলে হয়ে তুমি প্রিয়া কে বাঁচাতে চাইছিস। সেটা আমি কোন দিনও হতে দেবো না।

স্যাম:ড্যাড প্লিজ! তুমি প্রিয়ার কোন ক্ষতি করবে না। আমি প্রিয়া কে ভালোবাসি । 

ঠাসসসসস.......

এবিক স্যামের গালে থাপ্পড় দিয়ে বলে।

এবিক: মূর্খ! তুই একটা নেকড়ে হয়ে মানুষকে ভালোবাসার কথা বলছিস? .........[ হুংকার দিয়ে বলে ]

স্যাম:যদি ভ্যাম্পায়ার ও মানুষের ভালোবাসা হতে পারে। তাহলে নেকড়ে রা কী দোষ করেছে? আমি এই সব মানি না আমি প্রিয়া কে ভালোবাসি এটাই সত্য।........[ চিল্লিয়ে বলে ]

এবিক: মরবি! তুইও মরবি। তোকে আমি মেরে ফেলবো। তবে আমি আমার শক্তি অর্জন করে নেই তারপর...... [ রাগী কন্ঠে হাত মুঠো বদ্ধ করে বলে ]

পিছন থেকে এলিনা কক্ষে প্রবেশ করে বলে। 

এলিনা: ড্যাড! প্রিয়া কে নিয়ে এসেছি। 

এবিক : গুড মাই ডটার। তোমার কাজে আমি   সন্তুষ্ট হয়েছি। .........[ খুশি হয়ে বলে ]

এলিনা: ড্যাড... এখন প্রিয়া কে কী করবো?

এবিক: টেবিলের উপর বেঁধে ফেলো প্রিয়া কে। 

এলিনা : ওকে ড্যাড । 

স্যাম: এলিনা তুই কাজটা ঠিক করলি না। প্রিয়া কে ছেড়ে দে বলছি।........[ রেগে চিল্লিয়ে বলে ]

এলিনা: প্রিয়ার দিওয়ানা‌ আশিক। ছেড়ে দেবো বলে তো প্রিয়া কে নিয়ে আসি নি। চুপ করে থাক। 

কথাটা বলেই রুম ত্যাগ করে এলিনা। 


ছিটকে এসে গাছের ডালের সাথে ভাড়ী খায় জ্যাক। শরীরের কিছু অংশ ক্ষত বিক্ষত হয়ে রক্ত বের হচ্ছে। ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে জ্যাক। অভয় ও রাহিল জ্যাকের সামনে দাঁড়িয়ে বলে। 

প্রিন্স অভয়: এতো তাড়াতারি হেরে গেলি? যুদ্ধ করার শখ মিটে গিয়েছে নাকী?........[ রেগে ]

রাহিল: অভয় চল ওর সমাধি আজ এখানেই করে দেই।

প্রিন্স অভয়: সেটা খারাপ হয় না। তুই কী বলিস জ্যাক?

জ্যাক অভয় ও রাহিলের কথা শুনে হো হো করে উঁচু স্বরে হাসতে লাগলো । অভয় ও রাহিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জ্যাকের দিকে। বুঝার চেষ্টা করছে হঠাৎ করে জ্যাক কেন হেসে উঠল?  মজার কথা তো বলেনি? তাহলে?

জ্যাক: তোরা কী ভেবেছিস আমি তোদের সাথে বিনা কারনে যুদ্ধ করতে এসেছি? এর পিছনে বড় রহস্য আছে রে ??

কথাটা বলেই আবারও হাসতে লাগলো জ্যাক। এবার ওদের রাগের মাত্রা আরো ভেড়ে গেল। অভয় রেগে জ্যাকের শার্টের কলার চেপে ধরে বলে। 

প্রিন্স অভয়: বল তুই কোন রহস্যের কথা বলছিস? বল বলছি?......[ কর্কশ কন্ঠে ]

জ্যাক: বলবো না....... ।

হুংকার দিয়ে কথাটা বলেই প্রচন্ড জোরে ধাক্কা দেয় অভয় কে। অভয় ছিটকে দূরে একটা গাছের সাথে বারি খায়। রাহিল অভয় কে ধরে ওঠাতে যাবে এই সুযোগে জ্যাক সেখান থেকে পালিয়ে যায়। 

রাহিল: অভয় তুই ঠিক আছিস তো?

প্রিন্স অভয়: হ্যাঁ! আমি ঠিক আছি? জ্যাক কোথায়?

রাহিল: শিট! পালিয়ে গেছে। .......[ পিছনে তাকিয়ে দেখে ] 

প্রিন্স অভয়: জ্যাক কোন রহস্যের কথা বলছিল? সেই রহস্য কাকে ঘিরে?

রাহিল: জানি না অভয়। অভয়!

প্রিন্স অভয়: বল।

রাহিল: প্রিয়া কে নিয়ে নয়তো?......[ অবাক হয়ে ]

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া! তাড়াতারি চল প্রিয়া কোথায় আগে সেটা দেখি । 

বলেই তাড়াতারি করে কলেজের ভিতরে এসে পার্কিং এর কাছে এসেই টিনা কে মাটিতে সেন্সলেস অবস্থায় থাকতে দেখে। রাহিল টিনাকে উঠিয়ে গাল ধরে ডাকতে লাগলো।

রাহিল: টিনা...টিনা..কী হয়েছে? টিনা?

প্রিন্স অভয়: তুই টিনার জ্ঞান ফিরিয়ে জিজ্ঞেস কর ওর কী হয়েছিল? আর আমি এতোক্ষনে প্রিয়া কে খোঁজ করি।

রাহিল: আচ্ছা যা।

অভয় লাইব্রেরিতে,ক্যান্টিনে,ক্যাম্পাসের বাহিরে,ভিতরে সব খানে ভালো করে খোঁজ করল। কিন্তু প্রিয়া কে কোথাও খুঁজে পেল না। হতাশ হয়ে অভয় রাহিলের কাছে ফিরে আসে । ততক্ষনে টিনার জ্ঞান ফিরেছে। 

রাহিল: অভয় প্রিয়া কে পেলি?

প্রিন্স অভয়: নাহ! কোথাও খুঁজে পেলাম না। ........[ চিন্তিত কন্ঠে ]

রাহিল: প্রিয়া কোথায় গেল? বাসায় চলে যায় নি তো?

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া আমাকে না বলে বাসায় কেন যাবে?

টিনা: প্রিয়া বাসায় যায় নি?

প্রিন্স অভয়: বাসায় যায় নি? তাহলে কোথায় গিয়েছে? আর তুমি এখানে সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছো কেন?

টিনা: আমি আর প্রিয়া এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ করেই আমি সেন্সলেস হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তারপর আর কিছু মনে নেই?

রাহিল: কী বলো? তোমাকে অচেতন করলো কে?

টিনা: আমি জানি না। তবে আমার কানের নিচের দিকে কারো দু আঙুলের স্পর্শ পায়। তারপর আর কিছুই মনে নেই। 

প্রিন্স অভয়: ইচ্ছে করে কেউ তোমাকে অচেতন করেছে। 

রাহিল: হতে পারে? বাট কে? জ্যাক রা নয়তো?, 

প্রিন্স অভয়: যদি ওরা প্রিয়া কে কিডন্যাপ করে থাকে,তাহলে আমি ওদের বংশ নির বংশ করে দেবো। রাহিল তুই টিনা কে ওর বাসায় পৌচ্ছে দিয়ে ভ্যাম্পায়ার কিংডমে আয়। আমি সেখানেই যাচ্ছি।............[ রাগী কন্ঠে বললো ]

রাহিল: ওকে!

 অভয় যেতে নিলে ফিরে এসে টিনার উদ্দেশ্য বলে। 

প্রিন্স অভয়: টিনা তুমি আমাদের বিষয় সব কিছু যানো?

টিনা: হ্যাঁ! জানি!.

কথাটা শুনেই অভয় চলে যায় । রাহিল টিনা কে ওর বাসায় পৌঁছে দিয়ে ভ্যাম্পায়ার কিংডমে চলে আসে। 


ভ্যাম্পায়ার কিংডম.....

প্রিন্স অভয়: ড্যাড আমি নেকড়ে দের নাম-নিশানা এই দুনিয়া থেকে মিটিয়ে দিতে চাই। ওরা আমার প্রিয়া কে নিয়ে গিয়েছে ।.........[ রেগে হুংকার দিয়ে ]

কিং: হ্যাঁ! প্রিন্স এখনি সময় এসেছে প্রতিশোদ নেবার । নেকড়েরা তোমার মম ও আমাদের অনেক ভ্যাম্পায়ার দের নৃশংসভাবে মেরে ফেলেছে । এবার ওদের মৃত্যু আমাদের হাতেই হবে। যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে আমাদের । কালকে আমাবস্যা রাত । এবিক প্রিয়া কে বলি দিয়ে শক্তি হাছিল করতে চায়। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে এটা কোন দিনও হতে দেবো না।

রাহিল: কিং রাজ্যে ঘোষণা করে দিন । যুদ্ধের জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে বলুন।

প্রিন্স অভয়: হুমম ড্যাড বলে দেও। 

কিং সিংহাসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে,পায়ে হেঁটে ব্যলকোনিতে এসে দাঁড়াল। নিচে আগে থেকেই ভ্যাম্পায়ার রা সবাই দাঁড়িয়ে ছিল। কিং কে দেখে সবাই জাগর দিয়ে উঠলো"কিং এর জয়" বলে। কিং হাত জাগিয়ে সবাই কে থামিয়ে দেয়। সবাই চুপ হয়ে যায়। সব ভ্যাম্পায়ার রা উৎসক চোখে কিং এর দিকে তাকিয়ে আছে । কিং জোরে জোরে ভ্যাম্পায়ার দের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলো। 

কিং: শোনো ভ্যাম্পায়ার বাসিও! তোমরা সবাই তৈরি হও? আমাদের যুদ্ধে যেতে হবে? নেকড়ে দের সাথে আমাদের যুদ্ধ হবে। এবং নেকড়ে দের এই দুনিয়া থেকে বিলুপ্ত করতে হবে। নাম ও‌ নিশানা মিটিয়ে দিতে হবে। তোমারা সবাই তৈরি হও......[ জোরে হুংকার দিয়ে বললো ]

কিং এর কথা শুনে সবাই খুশি। সবাই রাজি আছে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। সব ভ্যাম্পায়ার দের চোখে মুখে তীব্র রাগ দেখা যাচ্ছে নেকড়ের উপরে। পিছন থেকে অভয় কিং এর উদ্দেশ্যে বলে।

প্রিন্স অভয়: ড্যাড তলোয়ার কোথায়?

কিং: আছে আমার কাছে। কালকে তুমিই সেই তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধে যাবে। এবং জয়ি হয়ে ফিরে আসবে। 

প্রিন্স অভয়: অবশ্যই ড্যাড ।

কিং: যাও তোমরা তোমাদের কক্ষে গিয়ে বিশ্রাম নেও।

প্রিন্স অভয়: ওকে ড্যাড ।

রাহিল: জি কিং ।


পিট পিট করে চোখ খুলে তাকিয়ে নিজেকে একটা টেবিলের উপর হাত,পা বাঁধা এবং শোয়া অবস্থায় আবিষ্কার করে প্রিয়া। দু হাত,দু পা শক্ত করে বাঁধা । প্রিয়া নড়াচড়া করতে পারছে না। জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলো প্রিয়া ।

প্রিয়া: হেলপ.....হেলপ...। কেউ আছো? আমাকে‌ বাঁচাও ।.......[ করুন স্বুরে ]

এলিনা দরজা ঠেলে রুমের ভিতরে প্রবেশ করতে করতে বলে।

এলিনা: এতো চিৎকার-চেচামেচি করে কোন লাভ নেই। কেই আসবে না‌ তোকে বাঁচাতে ।

প্রিয়া ভিতু চোখে তাকিয়ে আছে এলিনার দিকে। 

এলিনা: কী? ভয় করছে নাকি? এতো ভয় পাস না। কালকেই তোর মৃত্যু নিশ্চিত। তোকে কালকেই বলি দেওয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত তুই এখানে এই অবস্থায় বাঁধা থাকবি। 

জ্যাক: এলিনা..।

এলিনা: ভাইয়া তোমার এই অবস্থা ?

জ্যাক: অভয় আর রাহিল করেছে। তবে তুই প্রিয়া কে এখানে নিয়ে আসতে পেরেছিস এটাই বেশি।

এলিনা: হুমম ভাইয়া নিয়ে এসেছি। তুমি যখন ওদের সাথে মারামারি করছিলে। তখনি প্রিয়া কে সেন্সলেস করে এখানে নিয়ে এসেছি। 

জ্যাক: গুড জব। 

এলিনা: ভাইয়া টিনাও সাথে ছিল। ওকেও সেন্সলেস করেছিলাম ।

জ্যাক: তুই বোকার মতো কাজ করিস কেন এলিনা? টিনা কেও সাথে করে নিয়ে আসতি। আজকে রাতের ডিনার ওকে দিতেই করতাম। 

এলিনা: ওপস! ভাইয়া আমি একদমি ভুলে গিয়েছিলাম। মনেই ছিল না ভাইয়া । 

জ্যাক: থাক এখন চল। ড্যাড এর কাছে যাই। কালকে প্রিয়া কে বলি দেবার বিষয় আলাপ করতে হবে।

এলিনা : হ্যাঁ! চলো,চলো যাই।

জ্যাক,এলিনা রুম থেকে বেরিয়ে যায়। 

প্রিয়া: এতোক্ষম ভাই বোনের কথা শুনছিলাম । বাকরুদ্ধ হয়ে যায় ওদের কথা শুনে। ওরা যে নেকড়ে সেটা বুঝতে আমার কষ্ট হলো না। অভয় ওদের কথায় বলেছিল আমাকে। সেটা আমি আজ বুঝতে পেরেছি । আমি ভালো করেই বুঝতে পারতেছি কাল আমার সাথে খারাপ কিছু হতে চলেছে। ড্যাড! তোমার কথা খুব মনে পড়ছে। অভয় তুমি কোথায়। প্লিজ হেপল মি অভয় । ..........[ মনে মনে ]


অভয় ওর রুমে বসে পায়চারি করছে। প্রিয়ার জন্য অস্থির হয়ে আছে অভয়। মনটা বেশ ছটফট করছে। 

প্রিন্স অভয়: মনে হচ্ছে প্রিয়া আমাকে ডাকছে। রাতটা কেন শেষ হচ্ছে না। আমার প্রিয়া কে আমি কিছুই হতে দিবো না। আমি আসবো তোমাকে বাঁচাতে প্রিয়া । আমি আসবো।........[ উত্তেজিত কন্ঠে ]


আফজাল খানের হাত থেকে "ঠাস" করে কাঁচের গ্লাসটি ফ্লোরে পড়ে ভেঙ্গে খন্ড খন্ড হয়ে যায়। তীক্ষ্ণময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ভাঙ্গা গ্লাসটির দিকে।

আফজাল খান: এমন কেন হলো আমার সাথে।মনের মধ্যে কেমন অস্থিরতা ভর করে আছে। সামনে কোন বিপদের সম্মুখীন হবো নাতো আমি। এদিকে প্রিয়ার ফোন বন্ধ পাচ্ছি সকাল থেকে। সার্ভেন্ট কে কল করে জিজ্ঞেস করার পর জানতে পারি প্রিয়া কলেজ থেকে বাসায় ফিরে নি। এখন রাত ১১টা বাজে।‌ এখনো ফোন বন্ধ পাচ্ছি প্রিয়ার। কোনো বিপদ হলো নাতো ওর। না কালকের ফ্লাইটেই আমি লন্ডন ফিরে যাবো। দু সপ্তাহ হয়ে গেল মেয়েটি কে দেখছি না। এখন আবার ফোন বন্ধ । প্রিয়ার সাথে রোজ তিন চার বার কথা হয়। আজকে একটি বারও প্রিয়া কল দিল না।‌ আমি ফোন দেওয়ার পরও,ওর ফোন বন্ধ পেয়েছি  । কিছু তো একটা হয়েছে । কালকেই ফিরতে হবে লন্ডনে ।


রাতটা কোন রকম পার হলো। সকালে আফজাল খান লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ভ্যাম্পায়ার কিংডম যুদ্ধের আমেজ। সবাই তৈরি হচ্ছে যুদ্ধের জন্য। প্রিন্স অভয় ও রাহিল যুদ্ধের পোশাক পরিধান করছে।

প্রিয়াকে এখনো সেই টেবিলে শুয়া অবস্থায় বেঁধে রেখেছে। কাল দুপুর থেকে খাবার দেয়নি,এবং সারাটা রাত নির্ঘুম কেঁটেছে ওর। দু চোখের পাতা থেকে‌ অনবরত পানি গড়িয়ে পড়েছে। শরীরটা  দুর্বল লাগছে। কিছুক্ষনের জন্য চোখের পাতা এক করে ন্যায় প্রিয়া । 


আফজাল খান বাড়িতে ফিরে প্রিয়া কে কোথাও খুঁজে পায় না। চিন্তায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। প্রিয়ার বান্ধবিদের কাছেও জিজ্ঞের করে,কিন্ত তারপরও প্রিয়ার খবর মিলেনি আফজাল খান এর। পুলিশকে ইনফরম‌ করা হয়েছে । পুলিশরা খুঁজা শুরু করে দেয় প্রিয়া কে। 


আমাবস্যা রাত। চার দিকে বিদঘুটে অন্ধকার । আকাশে চাঁদের নাম গন্ধও নেই বললেই চলে। জঙ্গলের ভিতরে থমথমা পরিবেশ। পাতার মর্মর ধ্বনি, বাতাসের শোঁ-শোঁ শব্দ আর মাঝে মাঝে অদ্ভুত জন্তুর ডাক শুনা যাচ্ছে । তারি পাশে বড় আঁকারের একটি প্রাশাদ। 

নেকড়ে কিংডম....

তন্ত্রিকের মতো মাটিতে গোল আঁকারের সিদুর দিয়ে চার কোণাচে দাগ টানা। মাঝ খানে মানুষের মাথার খুলি। তার অপর পাশে বসে বড় গুন্ডলিতে আগুন জ্বালানো। পাশে বসে চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে মন্ত্র উঁচ্চারন করছে এবিক । অপর পাশেই সানি ও এলিনা দাঁড়িয়ে আছে,ওদের মুখে পৈশাচিক হাসি। সেই হাসির কারন হচ্ছে? ওরা ওদের লক্ষে সফল হবেই হবে। স্যাম কে দু হাত বেঁধে রেখে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে তার অপর পাশে। একটি নেকড়ে স্যামের গলায় তলোয়ার ধরে রেখেছে। 


ভ্যাম্পায়ার সৈন্য নিয়ে এগিয়ে আসছে কিং, প্রিন্স অভয়, রাহিল । তাদের চোখে মুখে প্রতিশোদের আগুন জ্বলছে । এবিক ঘাবড়ে গিয়ে সাথে সাথে চোখ মেলে তাকায়। এতোক্ষন এই দৃশ্য চোখ বন্ধ করে দেখছিল। এবাবে ঘাবড়ে গিয়ে চোখ মেলে তাকাতে দেখে জ্যাক আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করে।

জ্যাক: ড্যাড! কী হয়েছে? তুমি এবাবে ঘাবড়ে গেলে কেন?

এলিনা: তুমি কিছু দেখেছ ড্যাড?

এবিক: হ্যাঁ! দেখেছি। কিং,প্রিন্স অভয়,রাহিল ওদের সৈন্যসহ আমাদের রাজ্যে আক্রমন করার জন্য এগিয়ে আসছে । 

কথাটা শুনেই মুখ মলিন হয়ে যায় ওদের দু ভাই বোনের। চেহারায় চিন্তিত ভাব ফুটে উঠে । মনে মধ্যে ভয় এসে জড়ো হয় । 

জ্যাক: ড্যাড, ওরা কী আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসছে?

এবিক: হুম..যুদ্ধ করতে আসছে। প্রিন্স অভয় এর হাতে সেই তলোয়ার টি আছে। সেটা স্পষ্ট দেখেছি আমি । 

এলিনা: তাহলে এখন উপায়?

এবিক: আমাদের নেকড়ে সৈন্য নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। আমরাও যুদ্ধ করবো ভ্যাম্পায়ার দের সাথে। 

জ্যাক: কিন্তু ড্যাড হুট করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে........

এবিক: যা বলেছি তাই কর। সব নেকড়েদের একত্রিত করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলো। 

জ্যাক: ওকে ড্যাড । 

এবিক: আর শোনো? তোমরা বাহিরে যুদ্ধ করবে। আর আমি প্রাশাদের ভিতরে প্রিয়া কে বলি দিয়ে শক্তি হাাছিল করবো। কেই যেন প্রাশাদের ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। 

জ্যাক: জ্বী ড্যাড ।

এবিক: এবার যাও।

জ্যাক,এলিনা কক্ষ ছেড়ে চলে যেতে নিলে স্যাম উঁচু স্বরে হেসে বলতে লাগলো।

স্যাম: তোদের মৃত্যুদূত আসছে। তৈরি হ তোরা,হা হা হা......

এবিক তীক্ষ্ণ চোখে স্যামের দিকে তাকায়। স্যাম তখনো হাসছে।

প্রিয়া ওদের কথা সব শুনতে পেয়েছে। ওর ভয় হচ্ছে অভয়কে নিয়ে । যদি অভয়কে ওরা মেরে দেয় তাহলে? কষ্টে চোখ জোড়া বন্ধ করে ন্যায় প্রিয়া ।


সৈন্যহস ধেঁয়ে আসছে কিং,প্রিন্স অভয়, রাহিল। ওদের চেহারায় ক্রোধ। ভ্যাম্পায়ার রূপ ধারন করা সবাই। অভয়, রাহিল, কিং অর্ধেক মানুষ রূপ ধারন করা। আর অর্ধেক ভ্যাম্পায়ার রূপ। প্রিন্স অভয় ঘোড়া নিয়ে আগে আগে যাচ্ছে । সবাই ওর পিছনে । নেকড়ে কিংডমের একদম কাছে এসে দেখে জ্যাক,এলিনা নেকড়ে সৈন্য দের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের বুঝতে বাকি থাকে না ওরাও ওদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত‌ হয়েছে। প্রিন্স রা থেমে যায়। 

প্রিন্স অভয়: তাহলে তোরাও আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে রাজি আছিস ?.......[ চিল্লিয়ে বললো ]

জ্যাক: হ্যাঁ! আছি । 

কিং: তবে আয়? তোদের হাড় নিশ্চিত। 

জ্যাক: সেটাতো যুদ্ধের পরেই দেখা যাবে কে হাড়ে আর কে জিতে.............[ তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বললো ]

প্রিন্স অভয়: ভ্যাম্পায়ার সৈন্যরা আক্রমন........[ চিৎকার দিয়ে বলে ]

ভ্যাম্পায়ার রা নেকড়েদের উপর আক্রমন করে। নেকড়ে রাও পালটা হালমা চালায়। শুরু হয় যুদ্ধ। প্রিন্স অভয় তলোয়ার দিয়ে একে একে নেকড়েদের মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করতে লাগলো। 

প্রাশাদের ভিতরে থেকে বাহিরের তলোয়ারের ঝনঝন শব্দ এবিকের কানে‌ আসছে। এবিক ভালো করেই বুঝতে পারছে বাহিরে এতক্ষন যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মন্ত্র পড়তে ব্যস্ত এবিক। 

প্রিয়ার ভয়তে গলা শুকিয়ে কাঁঠ হয়ে গিয়েছে । এক নিজের বলির দেওয়ার কথা মনে করে,আরেক অভয়ের যুদ্ধ করার কথা মনে করে। এই মুহূর্তে পারির খুব প্রয়োজন। মুখ দিয়ে শব্দ পর্যন্ত বের হচ্ছে না। কালকে থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শুয়ে আছে। হাতে,পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছে । এখনো চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে। 

হুট করেই এবিক চোখ খুলে, মন্ত্র পড়া থামিয়ে আসন থেকে উঠে দাঁড়ায়, আসনের পাশে বড় গোল পিতলের থালার উপর থেকে আস্তে করে লোহার দারালো তলোয়ার টা হাতে নিয়ে ধীরে পায়ে প্রিয়ার দিকে এগোতে লাগলো ।

প্রিয়া এটা দেখা মাত্রই ভয়তে ওর অন্তরাত্না কেঁপে উঠে । হাত-পা ছুটা ছুটি করতে লাগলো।চেষ্টা করতে লাগলো ছুটার জন্য। রুমাল মুখে বাঁধার কারনে মুখ দিয়ে জোরে জোরে গোঙ্গানোর আওয়াজ বের হতে লাগলো। এবিক শয়তানি হাসি দিয়ে প্রিয়ার দিকে এগিয়ে আসছে । এবিক যতটা এগিয়ে আসছে,প্রিয়ার গোঙ্গানির আওয়াজ ততটা তীব্র হচ্ছে । এবার এবিক প্রিয়ার সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রিয়া এবার ভেবে নিয়েছে ওর আজ মৃত্যু নিশ্চিত। এবিক তলোয়ার প্রিয়ার গলার বরা বর ধরে উপরের দিক তুলে। প্রিয়া আস্তে করে চোখটা বন্ধ করে ন্যায়। দু চোখ দিয়ে দুই ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল। এবিক দু হাত উপরে তুলে প্রিয়ার গলা বরাবর তলোয়ার চালাতে যাবে ঠিক সেই সময় আরেকটি তলোয়ার এসে বাঁধা সৃষ্টি করে। 

এবিক রাগী দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে দেখে প্রিন্স অভয় । এবিক ওর তলোয়ার টা জোরে নিচের দিক চেপে ধরে। প্রিন্স অভয় ওর শক্তি দিয়ে শক্ত করে ধরে রাখে যাতে প্রিয়ার গলায় তলোয়ার টা না লাগে। ঠক করা শব্দ শুনতে পেয়ে প্রিয়া চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে অভয় ওর তলোয়ার দ্বারা এবিকের তলোয়ার শক্ত করে উপরের‌ দিকে ধরে রেখেছে। অভয় কে দেখে প্রিয়া সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে । মনে মনে প্রচন্ড খুশি হয় । 

প্রিন্স অভয় এবিকের বুকে জোরে লাথি মারে। এবিকে তলোয়ার সহ দূরে খাম্বার সাথে বারি খায় । প্রাশাদের ভিতরে নেকড়ে রা প্রবেশ করে অভয় কে চার দিক থেকে ঘেরাও করে ধরে। অভয় নেকড়েদের সাথে মারামারি করতে লাগলো। 

স্যাম বাঁধা অবস্থায় নেকড়ে রূপ ধারন করে হাতের বাঁধান খুলে ফেলে । মানুষ রূর ধার করে প্রিয়ার কাছে যেতে নিলে ওদের নেকড়ে রা স্যামের উপর আক্রমন করে বশে। স্যাম নেকড়ে দের সাথে মারামারি করতে লাগলো। 

এবিক খাম্বার সাথে রাবি খেয়ে কিছুটা পিঠে ব্যাথা পায়। নড়েচড়ে তলোয়ার হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। প্রিয়ার দিক ধেয়ে যেতে লাগলো । প্রিন্স কে এখনো নেকড়ে রা চার দিক থেকে ঘেরাও করে রেখে মারামারি করছে। প্রিন্স এবিক কে প্রিয়ার দিকে ধেয়ে যেতে দেখে প্রিয়া কে জোরে বলতে লাগলো। 

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া.....তোমার শক্তি প্রয়োগ কর । শক্তি প্রয়োগ কর প্রিয়া। 

প্রিয়া অভয়ের কথা স্পষ্ট শুনতে পায়। প্রিয়া ভুলেই গিয়েছিল ওর শক্তির সম্পর্কে। সেদিনের সেই রাতের কথা মনে পড়ে যায় প্রিয়ার । যেদিন অভয়ের উপর ওর শক্তি প্রয়োগ করেছিল। প্রিয়া দেরি না করে নিজের আত্মরক্ষার জন্য শক্তি প্রয়োগ করতে লাগলো। চোখ দুটি বন্ধ করে ন্যায়। সাথে সাথে হাতের চিহ্নটা ঝলঝল করে উঠল।এবিক প্রিয়ার কাছে এসেই তলোয়ার দিয়ে প্রিয়ার গলা বরাবর কোপ দিতে যাবে ঠিক সেই সময় প্রিয়ার শরীর থেকে আকাশে রঙের তীব্র রশ্নি বের হয়ে এবিক কে বাঁধা সৃষ্টি করে। এবিক কিছুতেই পারছে না প্রিয়ার গলায় তলোয়ার চালাতে। হুট করে রশ্নি আরো তীব্র হয়ে ঠাস করে চার দিক ছড়িয়ে পড়ে। ধুপ করে এবিক সহ নেকড়ে রা দূরে ছিটকে পড়ে । প্রিন্স ওর‌ তলোয়ার দ্বারা রশ্নি ঠেকিয়ে ধরে,তারপর‌ও রশ্নিন গতী তীব্র হওয়ার কারনে দু পা‌ পিছিয়ে যায়। 

প্রিয়ার হাতের বাঁধান খুলে যায়। প্রিয়া আস্তে করে উঠে বসে । চোখ দুটো ঝলঝল করছে। প্রিয়া টেবিল থেকে নেমে মাটিতে দাঁড়ায়। প্রিয়া রোবটের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে প্রিয়া কে কেউ হিপনোটাইজ করে রেখেছে। প্রিন্স প্রিয়ার দিকে ওর চোখ স্থির করল। প্রিয়া ধীরে পায়ে হেঁটে প্রাশাদের বাহিরে যেতে লাগলো। প্রিন্স উৎসক চোখে তাকিয়ে আছে প্রিয়ার দিকে । প্রিয়া কী করতে চাইছে সেটা বুঝতে চেষ্টা করছে । 

প্রিয়া প্রাশাদের বাহিরে এসে দাঁড়ায়। কিং ও রাহিলের চোখ প্রিয়ার উপর পড়ে । কিং এর মুখে বিজয়ি হাসি ফুটে উঠে । 

প্রিয়া ওর হাত নাড়িয়ে গোল গোল গোল আঁকারের মতো ,আকাশি রেখা বানাতে লাগলো। রেখাটা ধীরে ধীরে বেশ বড় হতে লাগলো । ভ্যাম্পায়ার, নেকড়ে রা যুদ্ধ থামিতে সেই আকাশি রঙের রেখার দিকে তাকিয়ে আছে । এবার রেখাটি আরো বড় হলো । প্রিয়া হাত দিয়ে জোরে গোলা আঁকারের রেখাটি নিক্ষেপ করে যুদ্ধের ময়দানে। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকারের ধ্বনি চার দিক ছড়িয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে চিৎকারের ধ্বনি কমতে লাগলো। ধীরে ধীরে সব সান্ত হয়ে গেল। 

নেকড়ে রা সব মারা গিয়েছে । ভ্যাম্পায়ার রা শুধু বেঁচে আছে। ভ্যাম্পায়ার রা এটা দেখে জোরে জাগর দিয়ে উঠল। কিং এর মুখে এখনো বিজয়ি হাসি লেগে আছে । জ্যাক, এলিনাও মারা যায় । এবিক ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় আস্তে করে বসা অবস্থায় ঘষে ঘষে জালানার কাছে এসে নেকড়ে দের ও জ্যাক,এলিনা কে মারা যেতে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। 

প্রিন্স প্রাশাদের ভিতরের নেকড়ে দের মেরে প্রাশাদের বাহিরে এসে দেখে বাহিরের নেকড়ে সব মারা গিয়েছে । প্রিয়া আগের মতো স্বাভাবিক হতে লাগলো । চোখের রশ্নি ধীরে ধীরে আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেল। প্রিয়া শরীর দূর্বল থাকার কারনে সেন্সলেস হয়ে মাটিতে পড়ে যেতে নিলে প্রিন্স এসে প্রিয়া কে ধরে ফেলে। প্রিন্স ওর বুকের সাথে প্রিয়া কে জড়িয়ে নিয়ে প্রশান্তির‌ নিঃশ্বাস ফেলে । 

হাতে তলোয়ার নিয়ে উঠে দাঁড়ায় এবিক। শরীরে শক্তি নেই । তারপরও তার সর্ব শক্তি দিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে পিছন থেকে প্রিন্সের পিঠে তলোয়ার চালায় হুট করেই স্যাম প্রিন্সের পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ায়। সাথে সাথে স্যামের‌ পেটে তলোয়ার গেথে যায়। এবিক থমথম খেয়ে‌ তলোয়ার ছেড়ে দূরে সরে যায়। পিছনে কারো পিঠের স্পর্শ পেয়ে প্রিন্স পিছনে ঘুরে দেখে এই অবস্থা । প্রিয়াকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে স্যাম কে মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে ধরে ফেলে। স্যামের মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে । স্যাম মুখ থেকে কিছু একটা বলতে চাইছে। কিন্ত বার বার গলায় আটকে ‌যাচ্ছে কথা। হাতের ইশারায় প্রিয়ার দিকে দেখিয়ে নিস্তেজ হয়ে যায়। নেতিয়ে পড়ে প্রিন্সের হাতের উপর। 

প্রিন্স অভয়: স্যাম....স্যাম... । 

প্রিন্স বুঝতে পারে স্যাম আর বেঁচে নেই। শেষমেষ স্যামের কাছে ঋনি হয়ে গেল অভয়। প্রিন্স দাঁত কটমট করে এবিকের দিকে তাকায়। তলোয়ার হাতে নিয়ে বাতাসের বেগে এবিকের কাছে গিয়ে তলোয়ারটি এবিকের পেটে ঢুকিয়ে দেয়। তলোয়ার পেট থেকে প্রবেশ করে পিঠ থেকে বেরিয়ে যায় । এবিক সেখানেই মারা যায় । কিং,রাহিল প্রাশাদের ভিতর প্রবেশ করে এবিক কে মারার দৃশ্য দেখে । 

কিং: আমরা জয়ি হয়েছি। প্রিন্স চলো ভ্যাম্পায়ার কিংডমে যাওয়া যাক। 

প্রিন্স অভয়: হুমমমম.......। 

শতো শতো নেকড়ে দের নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। নেকড়ে কিংডম ধ্বংশ করে দিয়েছে ভ্যাম্পায়ার রা। 

কিং প্রাশাদে ফিরে এসে রাজ্য অভিশেক করে প্রিন্স অভয় কে ভ্যাম্পায়ার কিংডমের কিং হিসাবে ঘোষনা করে। এবং কিং এর মুকুট ও তলোয়ার প্রিন্স অভয় কে‌ পরিয়ে দেয়। আর রাহিল কে ভ্যাম্পায়ার কিংডমের সেনাপতী হিসাবে‌ ঘোষনা করে। রাজ্যের সব ভ্যাম্পায়ার রা কিং এর‌ ঘোষনায় খুশি হন। ভ্যাম্পায়ার রাজ্য জুড়ে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এরি মধ্যে আফজাল খান কে কিং জাফর সব কিছু খুলে বলে। এবং অভয়ের সাথে প্রিয়ার বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আফজাল খান অমত করেন না। রিয়েতে রাজি হয়ে যান তিনি। 

বেশ ধুম-ধাম করেই বিয়ে সমপূর্ন হয়। অভয়ের সাথে প্রিয়ার। আর রাহিলের সাথে টিনার। ওদের দু জনার বিয়ে একি দিনে হয়। টিনার পরিবার রাহিল ভ্যাম্পায়ার সেই সম্পর্কে জানে না। আর টিনা সেটা জানাতেও চাই না। আজ ওদের বাসর রাত। ভ্যাম্পায়ার কিংডমে প্রিয়া ও টিনা কে নিয়ে আসা হয়েছে । 


সাদা রঙের বড় গাউন পড়ে জালানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়া । আমাবস্যা কেঁটে গিয়ে পূর্নিমার রাত উঠেছে। আকাশে বড় গোলাকার চাঁদ দেখা যাচ্ছে। চাঁদের আলোই রাজ্যেটা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে । প্রিয়া মুগ্ধ নয়নে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ পিছন থেকে জড়িয়ে ধরার স্পর্শ পেয়ে প্রিয়া চোখ দুটি বন্ধ করে ন্যায়। প্রিয়া ভালো করেই বুঝতে পেরেছে অভয় ওকে জড়িয়ে ধরেছে। অভয় প্রিয়ার ঘারের উপর ওর থুতনি রেখে স্লো ভয়েসে বললো। 

প্রিন্স অভয়: প্রিয়া.... অনেক তো চাঁদ দেখলে। এবার একটু আমাকে দেখো। আমি যে তোমার ভালোবাসার অভাবে কাঁতর হয়ে আছি। 

প্রিয়া অভয়ের কথা শুনে কিছুটা লজ্জা পায়। লজ্জা মাখা কন্ঠে বলে। 

প্রিয়া: তুমি তোমার ভালোবাসা বুঝে নিত পারো। আমার কোন আপত্তি নেই । 

প্রিন্স অভয়: এই পারমিশটা চেয়েছিলাম.....লাভ ইউ প্রিয়া। 

প্রিয়া: লাভ ইউ টু অভয়.....।

অভয় প্রিয়ার ঠোঁট জোড়া আস্তে করে ছুঁয়ে দেয়। হারিয়ে যায় ভালোবাসার সাগরে। 


আআআআআআআআআআ.........

টিনা: আপনি আমার কাছে আসবেন না বলে দিলাম । .........[ চিৎকার দিয়ে বলে ]

রাহিল: কেন কেন? তুমি আমার বউ। তোমার কাছে যাবো না তো কার কাছে যাবো হু?.......[ টেডি স্মাইল দিয়ে ]

টিনা: জানি না কার কাছে যাবেন। তবে আমার কাছে আসবেন না । 

রাহিল: আরে টিনা বেবি! এমন করছো কেন? আজ আমাদের বাসর রাত। চলো জমিয়ে বাসর করি। 

টিনা: ছিঃ ছিঃ...মুখের দরজা,জানালা সব খুলে‌ ফেলেছেন। এসব কি বলেন হু। 

রাহিল: ঠিকি তো বলেছি। ভুই বললাম কই? 

টিনা: ঠিক না,ভুল বলেছেন। 

রাহিল: আচ্ছা ঠিক ভুল সব সকালে দেখা যাবে। এখন কাছে আসো। 

টিনা: নো নো..দূরে যান বলছি। .......[ পিছনের দিকে গিয়ে ] 

রাহিল: জি না। বলো কাছে আসো। .......[ টিনার দিকে এগিয়ে ]

টিনা: না দূরে।.

রাহিল: কাছে।

টিনা: দূরে।

রাহিল: কাছে।

টিনা: না,না,না দূরে।‌

রাহিল: আচ্ছা যাই দূরে.....আরে তোমার পিছনে ভূত।..

আআআআআআ..........

চিৎকার দিয়ে দৌড়ে রাহিলের বুকে এসে পড়ে। রাহিল হো হো হাসতে লাগলো। 

টিনা বুঝে যায় রাহিল মিথ্যে কথা বলেছে। রাহিলের কাছ থেকে ছুটরে চাইলে রাহিল টিনা কে ওর বুকের মাঝে জোরে চেপে ধরে । 

রাহিল: এবার খেলা হবে। ........[ ডেবিল মার্কা হাসি দিয়ে ]

টিনা কথাটা শুনেই ছোট্ট একটা ঢোক গিলে। 

রাহিল টিনা কে কোলে করে বিছানায় শুইয়ে দেয়। এক হাত চেপে ধরে টিনার ঠোঁট জোড়া দখল করে ন্যায়। ওরাও অভয় আর প্রিয়া মতো হারিয়ে যায় ভালোবাসার সাগরে।



.......সমাপ্ত.......


[ আমার প্রিয় গল্পটা শেষ করে দিলাম। জানি না কেমন লেগেছে আপনাদের কাছে। আর ধন্যবাদ! প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটি পড়ার জন্য। ভালো থাকবেন সবাই ]

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url