প্রিয়কাহন - ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০২

 

প্রিয়কাহন - ভালোবাসার গল্প । পর্বঃ ০২

প্রিয়কাহন❤️ 

লেখিকাঃ কায়ানাত আফরিন

পর্বঃ ০২


প্রিয়তা একবার নিজের জামার খোলা চেইন দেখলো আর একবার দেখলো সামনে শুধু ট্রাউজার পড়া অভীর দিকে। অল্প মুহূর্তে চট করেই সে বুঝে ফেললো পরিস্থিতিটা। হাতে থাকা শাড়ির ভাঁজ খুলে নিচে পড়ে গেলো । কোনোমতে জামার চেইন লাগিয়ে চিৎকার দিতে যাবে সাথে সাথেই অদূরে দাঁড়ানো মানুষটা ঝড়ের গতিতে এসে পড়লো প্রিয়তার কাছে। দুরত্ব ঘুচালো। প্রিয়তাকে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে হাত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরলো আতঙ্কে। এছাড়া উপায় নেই। নাহলে এই মেয়ে যা, চিল্লিয়ে পাড়া সুদ্ধ সবার কাছে ব্যাপারটা সম্প্রচার করে বেড়াবে। 


প্রিয়তার বুক ধক করে উঠলো। অভীকে এত কাছে পেয়ে আরও একদফা জ্ঞান হারাবার উপক্রম হলো। অভীর গায়ে চিকচিক করছে মুক্তাদানার মতো পানি। চুলে ভেজা। সেখান থেকে সুরসুর করে শ্যাম্পুর ঘ্রাণ বেরোচ্ছে। মাথা ধরে যাচ্ছে এই সুগন্ধে।  ডানপিটে বলিষ্ঠ এই শরীরের চাপে প্রিয়তা যেন হিতাহিতজ্ঞান হারালো। অভী তা দেখে বলে উঠলো,


' খবরদার প্রিয়তা উল্টাপাল্টা কোনো অঘটন ঘটাবে না। এটা জাস্ট একটা এক্সিডেন্টে।  ক্লিয়ার? এখন শান্ত হও।'


বলেই চট করে দূরে সরে এলো অভী। প্রিয়তা নিঃশ্বাস ফেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো ক্রমাগত। অভীর দিকে তাকানোর শক্তি তার নেই। ছেলেটার শরীরের গড়ন ভয়ংকর,  ভার্সিটিতে চেক শার্ট আর ডেনিমের ভীড়ে অভীর গায়ের এমন আকর্ষণীয় গঠন বোঝা দুষ্কর। প্রিয়তা ঠোঁট ভেজালো। শাণিত কন্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়লো,


' আপনি আমার...আমার রুমে কি করছেন?'


বিরক্ত হলো অভী। ভেজা গা, টাওয়েল দেখে বুঝতে পারছে না বোকা মেয়েটা? অভী দাঁতো দাঁত চেপে বললো,


' খালি গায়ে ক্রিকেট খেলছি। আমার অ্যাম্পায়ার হবে নাকি?'


প্রিয়তা ভীমড়ি খেলো। ধরতে পারলো না অভীর অনির্দেশক কথা। বলে উঠলো,


' এটা কি ক্রিকেট খেলার জায়গা?'


অভী হাল ছাড়লো।  নাহ! এই মেয়ে তার মাথা ঘুরিয়ে ফেলবে। নিঃশ্বাস ফেললো অভী। ঘন কালো চুলগুলোতে আঙুল চালিয়ে তা ঠেলে দিলো পেছনে। বললো,


' আল্লাহর ওয়াস্তে তোমার ভাই রুদ্রিক কে পাঠাও। ছেলেটা আমায় শুধু ট্রাউজার দিয়েই সটকে পড়েছে।  এখন শুধু ট্রাউজার পড়েই বাইরে বেরোবো নাকি?'


রুদ্রের ভালো নাম রুদ্রিক। তবে পরিবারের সবাই ওকে রুদ্র নামেই ডাকে। অভীর হঠাৎ এ নামে সম্বোধন করাতে প্রিয়তা যেন ভুলে গিয়েছিলো রুদ্রের সার্টিফাইড নাম। অতঃপর বললো,


' কেন আপনার জামা কই?'


প্রিয়তা ফট করে মুখ চেপে ধরলো এবার। হায় আল্লাহ! সে তো এত বোকা না। তাহলে অভীর সামনে এমন বোকা বনে গিয়েছে কেন সে? অভী কিড়মিড়িয়ে বললো,


' আমার শার্ট আর প্যান্ট কি তুমি পড়ার অবস্থায় রেখেছো?'


প্রিয়তা কথা বললো না। তাকালোও না অভীর দিকে। এর দিকে মোটেও তাকানো যাবে না। নাইলে অদ্রির মতো ভয়াবহ কয়েকটা বেফাঁস কথা বলে ফেলার সম্ভাবনা আছে। তবে মনে মনে প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে সে। এই কারনে, ঠিক এই কারনেই অভীকে তার পছন্দ না। ছেলেটা চরম ইগোস্টিক। ভাব তো এমন যে মেয়েদের সাথে কথা বলাই পাপ। প্রিয়তা নিজেকে ধাতস্থ করলো। বলে উঠলো,


' আপনি, আপনি থাকুন। আমি রুদ্রকে নিয়ে আসছি।'


বলেই তড়িঘড়ি করে দরজা খুলেই স্তব্ধ হলো প্রিয়তা। অদ্রি দাঁড়িয়ে আছে। কোলে তুশি রুশি। হ্যাংলা পাতলা দুটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আসতে অদ্রির তেমন অসুবিধা হলো না। তবে সে এখন চরম বিস্ময়ে আছে। মাথা বাকিয়ে বোয়াল মাছের মতো হা করে দেখে নিলো অভীর আগুন রূপ। তারপর চেচিয়ে বলে উঠলো,


' ওএমজি, অভী ভাইয়া হাফ নেকেড হয়ে তোর রুমে কি করছে প্রিয়ু?'


প্রিয়তা বিষম খেলো। অস্থির হয়ে ইশারায় চুপ করতে বললো অদ্রিকে। তুশি রুশির দিকে তাকালে বোঝা যাবে যে ওরা কিছুই বোঝেনি। তবুও ওরা আদরের অদি আপুর মতো ভনিতা করে প্রিয়তাকে জিজ্ঞেস করলো,


' হাফ নেকেড হয়ে তোমার রুমে কি করছে হুম..হুম?'


অথচ এই দুটো পিচ্চি এখনও জানে না এর বাংলা অর্থ কি। অভী প্রিয়তাকে ইশারায় বললো অদ্রিকে নিয়ে ভেতরে আসতে। প্রিয়তা সাথে সাথে তাই করলো। অভীর মুখ ভার। চোখের শীতল দৃষ্টি দেখে বোঝা যাচ্ছে না যে তার মনে কি চলছে। রুদ্রিকও ইতিমধ্যে এসে পড়েছে পোলো শার্ট নিয়ে। সেটা অভী গায়ে গলিয়ে দিলো। তারপর নিখাদ কন্ঠে বললো,


' ট্রাস্ট মি রুদ্রিক আজ যদি এ বাড়িতে এজ এ তোমার ভার্সিটির সিনিয়র ভাইয়া হয়ে আসতাম কষিয়ে দুটা চড় মারতাম।'


রুদ্র ভ্যাবাচ্যাকা খেলো। সে রীতিমতো ভুলে গিয়েছিলো অভীর কথা যে সে প্রিয়তার রুমে আছে। এমনিতেও অভীকে রুদ্র ভয় পায়, একটু না, বাড়াবাড়ি রকমেরই ভয় পায়। ইউনিভার্সিটিতে কোনো ইভেন্ট চলাকালীন সময় প্রায়ই রুদ্রকে কাজ করতে হয়েছে অভীসহ আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র স্টুডেন্টদের সাথে। তারপর থেকেই অভীর গম্ভীরতা, প্রগাঢ় দৃষ্টি আর একরোখা টাইপ ব্যবহারের জন্য রুদ্র,অদ্রি,প্রিয়তার মতো আরও অনেক ডানপিটে স্বভাবের ছাত্রছাত্রীরাই ছিলো অতিষ্ঠ।


অভী উঠে দাঁড়ালো। চোখ বুলিয়ে নিলো প্রিয়তার ঘরে। মেয়েটা ভীষণ বই পড়ুয়া। এটা অবশ্য আগে থেকেই জানে। সেই সাথে একটু অস্থির ধরনের মেয়ে। যদিও অভীর সাথে বিয়ের ব্যাপার এগোনোর পর থেকে মেয়েটাকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বোকা খেতাবি দিতে ইচ্ছে করছে। তুশি রুশি চকলেট খাচ্ছিলো। হুট করে অভীকে প্রশ্ন ছুড়লো,


' তুমি এতক্ষণ কি করছিলে এখানে?'


প্রিয়তা সচকিত হয়ে তাকালো ওদের দিকে। এতক্ষণে অভীর ঠোঁটে ফুটলো হাসি। খুব সুক্ষ্ণ একধরনের হাসি। বলে উঠলো,


' তোমার প্রিয়ু আপুর সাথে ক্রিকেট ক্রিকেট খেলছিলাম।'


বিষম খেলো রুদ্র,অদ্রি। অকপটে চাইলো দুজনে প্রিয়তার দিকে। বলে উঠলো,


' শালী এই না ঢং দেখালি যে বিয়ে করবিনা, আর এখন বিয়ের আগেই ক্রিকেট-ফুটবল সব খেলা শেষ? আমিও তো বলি যে তুই আর ভাইয়া এক ঘরে কি করছিলি। হায় খোদা! তুই এতবড় ধোকাবাঁজ হতে পারলি? আমায় না বলে কয়ে সত্যিই তার সাথে ক্রিকেট খেললি?'


প্রিয়তা আড়চোখে দেখলো অভীর চোখে মুখে দুর্বোধ এক হাসি। যেন ইচ্ছে করেই অদ্রির সামনে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে কান্না জুড়ে দিলো তুশি রুশি। বলে উঠলো,


' জানো রুদ্র ভাইয়া যখন পাড়ায় ক্রিকেট খেলতে চায় তখন আমাদের নেয়না। আমিও ক্রিকেট খেলতে চাই ভাইয়া।'


রুদ্র কোলে নিলো ওদের। বলে উঠলো,


' এই ক্রিকেট সেই ক্রিকেট না রে বইন। এই ক্রিকেট বেড রুমে খেলতে হয়। তোরা যেদিন বড় হবি, নিজেদের বেডরুম হবে, তখন ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি সব খেলিস।'


দুজনেই বোকা বোকা চোখে দৃষ্টিপাত করলো তাদের ভাইয়ার দিকে। প্রিয়তার মুখ হা। কি শুরু করেছে এরা। অভীর প্রতি ভয়ঙ্কর রাগ উঠছে প্রিয়তার। ছেলেটা ইচ্ছে করেই তাকে ফাসিয়েছে। এই শোধ সে নিয়েই ছাড়বে।


____________


পায়েস খাচ্ছে অভী। সামনে হা করে তাকে দেখছে অদ্রি আর প্রিয়তা। অভী নাস্তানাবুদ হলো। সায়রা বানু এক মুহূর্তের জন্য এখান থেকে চলে যেতেই সে শীতল কন্ঠে বললো,


' এমন বোয়াল মাছের মতো আমায় দেখছো কেনো অদ্রি?'


' হবু দুলাভাইকে দেখতে দোষ নেই ভাইয়া। প্রিয়তা মরে গেলেও এমন করে বিয়ের আগে আপনাকে দেখবে না। তাই শালী হিসেবে আমারই তো উচিত সেই দায়িত্ব পালন করা। তাইনা?'


প্রিয়তা চিমটি দিলো অদ্রির উরুতে। বললো,


' আল্লাহর ওয়াস্তে ১০ মিনিটের জন্য তোর লু'চ্চা'মি অফ কর।'


অদ্রি পরোয়া করলো না। সায়রা বানু এসে প্রশ্ন করলেন,


' পায়েস টা তোমার কেমন লাগলো অভী বাবা?'


' ভালো হয়েছে।'


' আচ্ছা শোনো, আজ তো কথা ছিলো প্রিয়তাকে নিয়ে বেড়াতে যাবে। কাল নাহয় যেও? সারাদিন ঘুরবে, একে অন্যকে টাইম দিবে। তাহলেই তো ব্যাপারটা এগোবে।'


প্রিয়তার মনে একটু ক্ষীণ আশা ছিলো হয়তো না বলবে। তবে ওকে অবাক করে দিয়ে রাজি হয়ে গেলো অভী। একপলক প্রিয়তার মুখ দেখে ক্ষীণ হাসি দিলো। প্রিয়তার কাছে মতিগতি ভালো লাগছে না অভীর। এই ছেলে মনেমনে ভয়ঙ্কর কিছু পরিকল্পনা করেছে। 


অভী যাওয়ার অনিতপূর্বেই আস্তে করে কেটে পড়তে চাইলো প্রিয়তা। কিন্তু ওর ভাগ্যটা বড্ড খারাপ। এতগুলো অঘটনের পরও খোদা ওর ওপর রহম করলো না। অভী যাওয়ার পূর্বে সবার চক্ষুগোচরে হাতছানি দিলো প্রিয়তার। দুরত্ব ঘোচালো। এতদিন মুখ গম্ভীর থাকলেও এখন ঠোঁটে নিষ্ঠুর হাসি। বলে উঠলো,


' আজকে বেডরুমে  তোমায় ওই অবস্থায় দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম প্রিয়তা। নেক্সট টাইম এমন কাজ করবে না। ভুলেও করবে না। বিয়ের পর এমন কোনো কান্ড বাঁধালে সাথে সাথে আছাঁড় মারবো তাহলে। আর হ্যাঁ, বেশি করে প্রোটিন খাও। এখন অজ্ঞান হওয়া টওয়া চলবে না। সামনের পরিস্থিতি গুলোতে তোমায় সটান হয়ে থাকতে হবে। সি ইউ টুমোরো মিস তাহমিনা প্রিয়তা। উইশ ইউ অল দ্যা বেস্ট!'


বলেই বাইরে পা বাড়ালো অভী। প্রিয়তা থমকে রইলো। ভুলে গেলো হিতাহিত পরিবেশ। কি বললো এসব অভী? এতকিছুর পরও সে কি সত্যি সত্যি বিয়ে করবে প্রিয়তাকে। অদ্রি পেছনে সবই শুনেছিলো। প্রিয়তার কাছে এসে বেপোরোয়া সুরে বললো,


' তোর চু'মুর পাওয়ারে পাল্টি খেয়েছে বস! কেন জানি মনে হচ্ছে তোর বিয়ে অভী ভাইয়ার সাথেই হবে।'


ছলছল নয়নে হাসিমাখা বদন নিয়ে প্রিয়তার গ্লানি চোখজোড়া অদ্রিকে বিভৎসভাবে উপহাস করলো। মনে মনে সে বলে উঠলো,


' তোরা সবক'টা শয়তান। কাল আমিও ওই অভী ব্যাটাকে দেখাবো প্রিয়তার সাথে ঝামেলা করার মজা!'



বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর ভাব আজ। শত সহস্র পান্জাবি পরিহিতা মানব মানবীদের আনাগোনা চলছে এখানে। প্রিয়তা আর অদ্রি দাঁড়িয়ে আছে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস ভবনের সামনে। আজ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ উৎসব। যদিও ওরা নবীন না কিন্তু তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে দায়িত্বের কোনো হেলফেল করেনি। প্রিয়তা মোবাইলে ঘড়ির দিকে তাকালো। পরখ করে নিলো সময়। রুদ্রের কোনো খবর নেই। ছেলেটা সেই যে মোড়ের দোকানে চা খেতে গিয়েছে আর আসছে না। অদ্রিও বিরক্ত হলো। মনে মনে ধাতস্থ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালালো খামোখা। অতএব বিদীর্ণ কন্ঠে ছুড়লো,


' আই এম শিউর, হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিউর কুত্তাটায় কোনো মাইয়া পটাইতে সময় নষ্ট করতাসে। এই ছেলেদের জাতটাই ছুঁক ছুকাইন্না জাত। জীবনেও নারীসঙ্গ ছাড়া এদের চলবো না। আমার ভাই তো কি হইসে? আমি জানি ওই হারামজাদাটায় কতবড় ক্যারেক্টারলেস হইতে পারে।'


প্রিয়তা অপ্রতিভ হলো। বললো,


' আহা! সকাল সকাল খামোখা নিজের মুখ খারাপ করিস না তো!'


প্রিয়তার মনে হলোনা অদ্রি ওর কথা শুনেছে। বরাবরের মতোই মেয়েটা নিজের জমজ ভাই টাকে ভয়াবহ গালাগাল দিয়ে চললো। প্রিয়তার মাঝে মধ্যে মনে হয়, এদের দুজনকে এক ঘরে পাঠিয়ে বিধাতা বড় আব্বু আর বড় আম্মুর প্রতি চরম জুলুম করেছে। ডাক পড়ছে অডিটোরিয়ামে। এক ছেলে দ্রুত গতিতে সবাইকে বলছে কাঙ্খিত স্থানে যেতে। 


প্রিয়তা আর অদ্রি তাই রুদ্রকে রেখেই পা চালালো অডিটোরিয়ামের দিকে। 


অডিটোরিয়ামের এদিকে হাজারো মানুষ। সবারই একই রঙের ড্রেস কোড। প্রিয়তা সেই কোড অনুযায়ী পড়েছে সবুজ শিফনের শাড়ি। সেই সাথে অদ্রিও। ওদের গোটা কয়েক বন্ধুবান্ধব এসে পড়লো ওদের কাছে। প্রশংসার পঞ্চবাক্য ছুড়লো। প্রিয়তার সেদিকে ধ্যান না থাকলেও অদ্রির যেন খুশির শেষ নেই। কোনো সুন্দর মানব কমপ্লিমেন্ট দিলে সেও সমান তালে  রসাবাক্য ছুড়ে মারলো। এসবের কিছুতেই খেয়াল নেই প্রিয়তার। সে তো মগ্ন 'অভী' নামক মানুষটা থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পাবে সেটা নিয়ে। সায়রা বানু সকালে পইপই করে বুঝিয়ে দিয়েছে অভীর সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা। কি করবে, কিভাবে কথা বলবে সেগুলো সম্পর্কে দিয়েছে বস্তা বস্তা উপদেশ। প্রিয়তা বুঝে উঠতে পারলো না যে এই ছেলের মধ্যে কি দেখেছে সবাই। কেমন একটা গম্ভীর, নিরামিষ, পাষাণ টাইপ  ছেলে। তুখড় মেধাবী ছাড়া আর কোনো গুণই নেই তার মধ্যে। তারপরও এত চড়া আকর্ষণীয়তা?


অজস্র ভাবনার টান পোড়নের ইতি টানা হলো হঠাৎ কারও ওপর চোখ পড়াতে। দেখা মাত্রই বিস্ময়ে অবিভূত হয়ে রইলো। অভী দাঁড়িয়ে আছে। তার সাথেই রয়েছে তার তথাকথিত বন্ধুবান্ধবগুলো। নীল পান্জাবী পড়েছে সে। স্লিভ গোটানো। যার লাইট টোনের স্কিন খানিকটা দৃশ্যমান। ছেলেটার মধ্যে তুমুল ব্যস্ততা। জুনিয়র কয়েকজন ছাত্রছাত্রীদের উপদেশ দিচ্ছে কিভাবে কি করতে হবে। সম্ভবত ব্যাকস্টেজের দায়িত্ব নিয়েছে অভী। প্রিয়তা বিমূঢ় হয়ে রইলো। ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে রইলো অভীর দিকে। মানুষটাকে অনতিপূর্বে এতটা গভীরভাবে দেখেনি প্রিয়তা। বুকের ঢিপঢিপ শব্দ বেড়ে গেলো। জানান দিলো নবঅনুভূতির পূর্বাভাস। 


হঠাৎই কানের কাছে অদ্রি সম্মোহনী কন্ঠে বললো,


' অভী ভাইয়াকে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে জানু?'


প্রিয়তার চোখ বিস্ফোরিত হলো। পরীক্ষার হলে পরীক্ষকের কাছে ধরা পড়লে যেমন অবস্থা হয় অমনই এক ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হলো। অদ্রির লালচে ঠোঁটে বিশ্বজয়ের হাসি।  চোখে ভয়াবহ ক্রুরতা। প্রিয়তা দৃষ্টি সরালো। দ্বিধাগ্রস্ত কন্ঠে ফোড়ন কেটে বললো,


' তোর মতো অশ্লীল না আমি বুঝছিস যে অল্পতেই যাকে তাকে খেতে ইচ্ছে করে। তোরা দুই ভাই বোন হচ্ছিস ফটকার ফটকা। আমার তো মাঝে মাঝে সত্যিই সন্দেহ হয় বড় আব্বু আম্মুর ঘরে কিভাবে তোদের মতো ভয়াবহ পোলাপানগুলা জন্ম দিলো। '


অদ্রি প্রিয়তার খোটা মারা কথায় পরোয়া করলো না। বলে উঠলো,


' শোন ছেলেদের রূপের পাই টু পাই বর্ণণা দেওয়াও একটা আর্ট বুঝলি? এইযে অভী ভাইয়ার বন্ধু  অন্তু ভাইয়াকে দেখ। পোলায় সবদিকে ভালো। স্টুডেন্ট ভালো, স্পোর্টস এ এক্সপার্ট, হাসিখুশি,  মিশুক ছেলে। অভী ভাইয়ার মতো খাটাস না যে সারাদিন শুধু  গম্ভীর নিরামিষ হয়ে থাকে। নাইলে তুই ভাব, এই তিন বছরে অগণিত ছেলের সাথে ফ্লার্ট করেছি, অভী ভাইয়াকে করিনি এর কারন ব্যাটায় ইগোর বস্তা নিয়ে ঘুরে। আর অদ্রির কাছে তারাই চান্স পায় যারা ইগো গঙ্গায় ছুঁড়ে মারতে পারবে।'


প্রিয়তা আর চেষ্টা করলো না অদ্রির সাথে ব্যার্থ কথা চালানোর। বিরক্তি নিয়ে অন্যত্র তাকাতেই যাবে হঠাৎই অভীর চোখে দৃষ্টি পড়লো। অভী তাকিয়ে আছে তার দিকে। চোখের কঠিন দৃষ্টি। প্রিয়তার বুক ভারী হয়ে গেলো। চট করে বুঝতে পারলো না অভীর এমন ভঙ্গি। দৃষ্টি এড়ানোর চেষ্টা করলো। তবে একটু পর তাকিয়ে দেখলো অভী আগের মতোই আছে। 


প্রিয়তা অস্বস্তি নিয়ে বললো,


' অ..অদি?'


' হুম বল?'


' এখান থেকে বাইর হই এখন বোন? রুদ্র কোথায় ওকেও তো খোঁজতে হবে?'


প্রিয়তা কাঁপছে। গলার স্বর শুকিয়ে যাচ্ছে। বুদ্ধিমতি অদ্রির চোখে এড়ালো না সেটা। সন্দিহান কন্ঠে প্রশ্ন করলো,


' হঠাৎ কি হলো তোর?'


' আর এক সেকেন্ড এখানে থাকলে দম বন্ধ অবস্থায় মরে যাবো অদি। প্লিজ চল!'


অগত্যাই দুজনে বের হলো অডিটোরিয়াম থেকে। দু'তিন মিনিট হাটার পরই এক কোণে অবশেষে দেখা পেলো রুদ্রর। অদ্রি ঠিকই বলেছিলো। রুদ্র একটি মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। মেয়েটাকে দেখে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে সে ইউনিভার্সিটির ফ্রেশার৷ রুদ্র কিছু বলছে আর একটু পর পর রমনীটি লজ্জায় লাল, নীল, বেগুনি হয়ে যাচ্ছে। ওরা আরেকটু এগোতেই শুনতে পারলো রমনীটির উদ্দেশ্যে রুদ্রের বলা কথাটি,


' তোমার হাসিটি মুক্তার মতো সুন্দর বেলীফুল!'


অদ্রি বিভৎস ভাবে উপহাস করলো রুদ্রের মাত্রাতিরিক্ত ছেলেমানুষি কথাবার্তার জন্য। ভেংচি কেটে বলে উঠলো,


' উহ! ফ্লার্টিং এর তো একটা লিমিট আছে বইন। ডাইনির মতে হাসি আর কুত্তাটায় কয় মাইয়ার হাসি নাকি মুক্তার মতো। '


অদ্রি এগোলো। ডাক দিয়ে বললো,


' রুদ্র?'


রুদ্র বিদায় নিয়ে এলো মেয়েটার কাছ থেকে। আসার আগে কন্ট্যাক্ট নাম্বার নিয়ে নিলো। দাঁত কেলিয়ে বললো,


' তোর এই ভাইয়ের বড্ড বেশি ডিমান্ড বুঝলি? মেয়েটার সাথে একটু হেসে খেলে কথা বলেছি বলে সুরসুর করে গলে গেলো। আমি তো আবার মহা দয়ালু। কোনো মেয়েকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে পারিনা। তাই অদি আমার পকেটে থাকা তোর নতুন লিপস্টিকটা দিয়ে দিলাম কেমন?'


তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো অদ্রি। বলে উঠলো,


' শালা কুত্তা,  হারামজাদা, তুই তোর আন্ডারওয়্যার খুইলা দে আমি কিছু কইতাম না। আমার লিপস্টিক দিলি কোন সাহসে?'


রুদ্র ঠান্ডা মাথার বুদ্ধিমান ছেলে। অল্পতেই আগুনে ধেই ধই করা অদ্রিকে সামলে নিলো।  তারপর তিনজনে বসে পড়লো সামনে থাকা বিশাল লনে। আকাশ ফকফকা পরিষ্কার। সেখানে উড়ে চলছে সাদা পাখি। প্রিয়তা ভয়ে আছে। বুঝার চেষ্টা করছে অভীর তখনকার সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।


' কি ভাবছিস প্রিয়তা?'


রুদ্রের কথায় প্রিয়তা বলে উঠলো,


' আমারে বাঁচা ভাই। জলদি টিপস দে কিভাবে অভী ভাইয়া আমারে রিজেক্ট করতে পারে।  উনারে বিয়ে করলে স্যার টিচারের মতো জীবন স্ট্যান্ড আপ এন্ড সিট ডাউনের মতো হয়ে যাবে রে। '


দুজনে ভাবলো। গভীরভাবে ভাবার ভনিতা করলো। ফট করে অদ্রি বলে উঠলো,


' একটা আইডিয়া আছে।'


প্রিয়তা,রুদ্র সচকিত হলো। বলে উঠলো,


' কি আইডিয়া?'


' চল আমার সাথে!'


অদ্রি হঠাৎ সটান হয়ে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেলো অডিটেরিয়ামের দিকে। সেখানে গিজগিজ করেছে মানুষ। প্রিয়তা রুদ্র উভয়েই অবাক হলো৷ ধরতে পারলো না অদ্রির কার্যকলাপ। অদ্রি এবার অভীকে খোঁজার জন্য চিরুনি অভিযান শুরু করলো। অবশেষে পেয়েও গেলো তাকে। অভী এককোণে বসে আছে ওর বন্ধুবান্ধবদের সাথে। অদ্রি ধেই করে  এসেই আচমকা বলে উঠলো,


' আসসলামু আলাইকুম দুলাভাই?'


সুনসান আকাশে হঠাৎ বজ্রপাত হলে যেরকম ভয়াবহ অবস্থা হয়, এখানে তার ঠিক উল্টোটাই হলো। এত কথা, প্রাণোচ্ছলতার মাঝে অদ্রির এমন সম্বোধনে হঠাৎ করেই ছেয়ে গেলো সুনসান থম মারা নীরবতা। সবাই হঠাৎ চিতাবাঘের চাউনি নিক্ষেপ করলো অদ্রির দিকে। চোখে রাজ্যের প্রশ্নের আনাগোনা। অদ্রি বোকার মতো বলে উঠলো,


' আই নো আমি সুন্দরী ভাইয়াগণস! কিন্তু সবাই এমন ভাবে তাকাচ্ছো কেন?'


' তুমি দুলাভাই কাকে বললে?'


তীর্যক চাহিনী নিক্ষেপ করলো অভীর বন্ধু অন্তু। ঠোঁট কামড়ে ছেলেটা তাকিয়ে আছে অদ্রির দিকে। অদ্রি বলে উঠলো,


' যে সম্পর্কে আমার দুলাভাই হয় তাকেই বলেছি।'


প্রিয়তা ঘাবড়ে গেলো। তাকালো অভীর দিকে। অভীর অবস্থাও বিপরীতমুখী নয়। রয়েছে সামান্য অপ্রতিভতা। হয়তো আশার বাইরে ছিলো যে অদ্রি এভাবেই ওর বন্ধুদের সামনে দুলাভাই বলে সম্বোধন করবে। কেননা আকারে ভঙ্গীতে অভী স্পষ্টই জানান দিচ্ছে যে এমন কোনো বিষয়েই সে অবগত ছিলো না। 

প্রিয়তা আতঙ্কে চেপে ধরলো অদ্রির হাত। কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো,


' কি করছিস তুই অদি?'


' আমাকে আমার কাজ তুই করতে দে।'


অদ্রি এবার সরাসরি দাঁড়ালো অভীর সামনে। কোমড়ে হাত দিয়ে বললো,


' সালাম দিচ্ছি- জবাব দিচ্ছেন না কেন?'


বিস্ময়ের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলো অভীর বন্ধুমহল৷ বলে উঠলো,


' এই পিচ্চি মেয়েটা কি বলছে এসব?'


' ভুল কিছু বলিনি বস! উনাকেই জিজ্ঞেস করেন, উনি প্রিয়তার উডবি। তাই না দুলাভাই?'


অভী এতক্ষণে মুখ খুললো। থমথমে গলায় বললো,


' স্টপ দিস অদ্রি, বারবার দুলাভাই ডাকবে না।'


' আচ্ছা  দুলা ব্রাদার!'


' অদ্রি প্লিজ। '


' আমি দুঃখিত দুলা ব্রাদার। খোদার কসম জীবনেও আপনাকে দুলাভাই ডাকবো না। প্রিয়তার বর বলে ডাকবো। এই ডাকটা ভালো না দুলাব্রাদার?'


অভী কোনোমতে সংবরন করলো নিজেকে। এই মেয়ে যা মহাকর্ম করার করেই ফেলেছে। এবার ঘটনাটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে ইউনিভার্সিটিতে। ভেবেছিলো গতকাল প্রিয়তার সাথে একটু মশকরা করার পর বাবাকে ঠান্ডা মাথায় বোঝাবে এই বারবার ভয়ংকর কান্ড করা মেয়েটাকে সে কিছুতেই বিয়ে করবে না। এবার যে পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যাবে তা ভালোমতোই ধরতে পারলো অভী। আর অদ্রির মতো দস্যু মেয়ে যে কেন এটা করেছে সেটাও ভালোমতো জানে। 


অন্তু অবিশ্বাস্য হয়ে তাকালো অভীর দিকে। বলে উঠলো,


' কি হচ্ছে এসব?'


' কি আর হবে? তোর বন্ধু বিয়ের পিড়িতে বসবে- এমনটাই হচ্ছে!'


অভীর বেপোরোয়া ভাব। কঠিন দৃষ্টি দিলো সে প্রিয়তার দিকে। চট করে নিভে গেলো প্রিয়তা। রুদ্রের আড়ালে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো।


অভী হঠাৎ অবাক করে দিয়ে বলে উঠলো,


' আমার সাথে বাইরে চলো প্রিয়তা!'


সবার তালগোল দৃষ্টি এখন প্রিয়তার দিকে। কেউ কেউ তাকাচ্ছে বারবার ঈর্ষান্বিত চোখে, আবার কেউ দেখছে অবহেলিত মনে। প্রিয়তা সম্মতি জানালো। বেরিয়ে এলো বাইরের দিকে। 


অভী ঠেস দিয়ে দাঁড়ালো। পান্জাবির পকেটে হাত গুঁজে রাশভারি চোখ নিয়ে বললো,


' এই সিনক্রিয়েট টা কি খুব দরকার ছিলো? '


' আমি কিছু করিনি বিশ্বাস করেন, সব ওই অদ্রির দোষ। ওই শয়তান বিচ্ছু মেয়েটা সব করেছে।'


' আর কেন এসব করছে?'


' কারন আপনার মতো ছেলেকে আমি জন্মেও বিয়ে করবো না।'


ফট করে বলে ফেললো প্রিয়তা৷ তাকালো অভীর দিকে। তার কোনো হেলদোল নেই। চট করে ধরা অসম্ভব তার প্রতিক্রিয়া। অভী নিঃশ্বাস ফেললো হতাশার সাথে। বললো,


' তুমি গাধা আগে থেকেই জানতাম। তবে গাধা প্রজাতির মধ্যে তোমার মান যে এতটা কটু হবে তা আজ আরও ভালোভাবে টের পেলাম। গাধা বলেছি বলে আবার চিৎকার করে কাঁদবে না কিন্ত। কাঁদলেও আমার কিছু করার নেই। গাধাকে গাধাই বলা উচিত। তোমার যদি বিয়ে করার ইচ্ছে না-ই থাকে তাহলে কেন খামোখা ছড়ালে আমাদের কথা?'


প্রিয়তা কথা বললো না। অদ্রিকে বিশ্রিভাবে মেরে কুপোকাত করার মতো ভয়ঙ্কর থেকেও ভয়ঙ্কর বাসনা জেগেছে ওর মনে।  অভীর অপমান শুধু মাত্র অদ্রির মতো গর্দভ মেয়েটার জন্য গায়ে মেখে নিলো। 


সে এখন কাদো কাদো স্বরে তাকালো অভীর দিকে। বলে উঠলো,


' কিছু করুন না আপনি প্লিজ!'


অভী হাসলো। এগিয়ে গেলো প্রিয়তার দিকে। ওর বন্ধুগুলো ওদিকেই উৎসুক হয়ে ওদের দেখছে।তাই নিরাপদ দুরত্ব নিয়ে বলে উঠলো,


' প্রবলেম তোমার প্রিয়তা। তোমার যেহেতু আমার মতো নিরামিষ ছেলেকে বিয়ে করতে সমস্যা, তুমিই হ্যান্ডেল করবে। তুমিই আমাদের ডিপার্টমেন্টকে বুঝাবে যে আমাদের কোনো প্রেমঘটিত সম্পর্ক নেই। তোমার গাধা বোন অদ্রিকেও বাসায় গিয়ে চার পাঁচটা থাপ্পড় তুমিই মারবে। আর যদি এসব করতে না পারো তবে এই নিরামিষ ছেলেটাই নাহয় মেনে নাও?'


প্রিয়তার হতাশা নিয়ে তাকালো অভীর দিকে। যেগুলো করতে বলেছে সবগুলোই করা অসম্ভব।  আজ অদ্রি যে কান্ড করেছে কাল সকালের মধ্যে এটা যে ক্যাম্পাসের মোড়ে মইন মামার চায়ের দোকানে রসালো খবর হয়ে যাবে এটা ভাবতেই চোখ অন্ধকার হয়ে এলো। আর ভাবতে পারলো না প্রিয়তা। অভীকে মেনে নেওয়ার কথা আসতেই হঠাৎ কংক্রিটের রাস্তায় জ্ঞান হারিয়ে পড়ে মাথা ফাটিয়ে ফেললো। অভী হঠাৎ হতভম্ব হয়ে গেলো প্রিয়তার এমন কাজে। তামাটে গাল হয়ে উঠলো লাল। সবাই ইতিমধ্যে এদিকে এসে পড়েছে। সবার চোখে মুখে এমন এক কঠিন অভিব্যক্তি যে অভী হয়তো এমন কিছু বলেছে যার জন্য প্রিয়তা জ্ঞান হারালো।


অভী কথা বললো না। রুদ্র অদ্রিকে ইশারায় ডাক দিয়ে প্রিয়তাকে কোলে তুলে নিলো। চরম হতাশা নিয়ে বললো,


' চমৎকার প্রিয়তা- অপমান করাতে তোমার জুড়ি নেই!'




৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুনঃ


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url