ভালোবাসার ফোড়ন - ভালোবাসার গল্প । সিজন ১ - পর্বঃ ০২

 

ভালোবাসার ফোড়ন - ভালোবাসার গল্প । সিজন ১ - পর্বঃ ০২

ভালোবাসার ফোড়ন 

লেখিকাঃ মিমি মুসকান

পর্বঃ ০২


হঠাৎ'ই কেউ পেছন থেকে আমার কোমর ধরে তার কাছে টানলো। ভয়ে আমার শরীর শিউরে উঠলো। আমি সাথে সাথে সামনে ঘুরলাম। আর যাকে দেখলাম তাকে দেখে আমার চোখ কপালে তুলে গেল। কারন এটা আহিয়ান ছিল। আমি তার খুব কাছে ছিলাম। তার চোখে একটা সানগ্লাস ছিল। তার সামনের চুল গুলো কপালে ঢেকছে। আমি তাকিয়ে আছি ওর দিকে কিন্তু উনি তাকিয়ে আছে কিনা বুঝতে পারছি না। 


আমার বোধ হলো ওর হাত আমার কোমরে। আমি তাড়াতাড়ি করে কোমর থেকে উনার হাত সরিয়ে পেছনে যেতে নিলাম। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো উনি এখনো আবারও আমার কোমর ধরে নিজের কাছে টানলেন। এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো আমার। আর কিছু না ‌ভেবে একটা চড় বসিয়ে দিলাম ওনার গালে। উনি সাথে সাথে ছেড়ে দিলেন আমাকে। হয়তো এটা  আশা করেন নি। উনি চোখের সানগ্লাস টা খুলে রাগি চোখে আমার দিকে তাকালেন। 


আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তবুও কিছু'টা সাহস জুগিয়ে বললাম...


- কি হচ্ছে টা কি, আপনি এভাবে আমাকে ধরছেন কেন? দেখুন আমি কিন্তু চিৎকার করবো। একদম আমার কাছে আসবেন না। ( একদমে বলে ফেললাম। ) 

.

এবার উনার দিকে তাকালাম। উনি একদৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ উনি হাত উঠালেন, আমি ভাবলাম হয়তো আমাকে মারবেন। আমি কিছু বলতে যাবে তার আগে উনি আমার গাল ধরে পিছনে ঘোরালেন। 


পিছনে ঘুরে আমার চক্ষু ছানাবড়া। কারন একটা সাপ এই দিক যাচ্ছে। হয়তো আমি ওখানে থাকলে কামড় দিতো আমাকে। সাপ'টাকে দেখে অনেক'টা ভয় পেয়ে গেলাম।‌ সাথে সাথে উনার কাছে গিয়ে উনার শার্টটা আঁকড়ে ধরলাম। কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম দুজনে দুজনের দিকে। 


হুট করেই উনি আমার হাত শার্ট থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পেছনে ঢেলে দিলেন। আমি তাড়াহুড়ো করে আগে পেছনে তাকিয়ে সাপ খুঁজতে লাগলাম। নাহ্ সাপটা আর নেই। একটা হাঁফ ছেড়ে আবার পিছনে ঘুরলাম উনাকে সরি বলবো বলে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো সেখানে উনি নেই। এতো তাড়াতাড়ি চলে গেলেন এখান থেকে। খানিকটা ভয় পেয়ে গেলাম। আসলেই উনি ছিলেন নাকি ভুত। ভুতের কথা ভাবতেই আমার হাত পা কাঁপতে লাগলো। আমি এক দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেলাম। 


দৌড়াতে দৌড়াতে অনেকটা পথ চলে এসেছি। পেছনে ঘুরে বাগান'টা কে দেখতে লাগলাম। হঠাৎ করেই কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে ধপাশ করে পরে গেলাম। যার সাথে ধাক্কা খেলাম সে আমার দিকে ফিরল। এমা এতো দেখি আহিয়ান। আমি চেঁচিয়ে বলে ওঠলাম...


- ভুত!


- কিহ? 


এতো দেখি কথা‌ বলছে, তার মানে এটা ভুত না।

- নাহ কিছু নাহ! 


আমি পরে যাওয়াতে আহিয়ান আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরতে যাবো তখন'ই সে হাত সরিয়ে ফেলল। বেশ অবাক হলাম! এটা কি হলো? সে আশপাশ তাকাচ্ছে। বোঝার চেষ্টা করলাম সে কি করছে। 


দূরে পরে থাকা একটা গাছের ডাল তুলে এনে আমার দিকে ধরল। আমি বড় বড় চোখ করে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম। সে ধমকের সুরে বলল...


- ধরো এটা!

উনার ধমক খেয়ে তাড়াতাড়ি করে গাছের ডাল ধরলাম। সেটা ধরেই টেনে তুললেন আমাকে। আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন ছুরলাম উনার দিকে..


- আপনি এটা দিয়ে আমাকে তুললেন কেন?


- আর চড় খাবার শখ নেই আমার ( রেগে বললেন কথা'টা )


- সরি আসলে আমি বুঝতে পারি নি।


- এই সময় বাগানে কি করেছিলে? 


- বাদাম তুলছিলা... মনে পরলো বাদামের কথা। আশপাশ তাকালাম। কুড়িয়ে নেওয়া বাদাম গুলো উড়ানায় রেখেছিলাম সে সব নিচে পরে গেলো। আমি  সেগুলো তুলতে লাগলাম। হঠাৎ করেই উনি অবাক হয়ে আমাকে বলতে লাগলেন...


- এগুলো কেন তুলছো!


- ( তুলতে তুলতে ) খাবো বলে! 


- এগুলো খাওয়া যায়!


- হ্যাঁ! কেন কখনো খান নি আপনি?


- না ( গম্ভীর হয়ে ) 


- খাবেন?


- নাহ! যাই হোক আমাকে চড় মারার ‌দাম তোমাকে দিতে হবে। 

বলেই চলে গেলেন তিনি। আমি অবাক হয়ে উনার যাবার পানে তাকিয়ে রইলাম। এটা কেমন হলো? এই তো ভালো মতো কথা বলছিলো এই আবার কি হলো? 


তখনও যেমন উনাকে বুঝতে পারি নি আজও পারছি না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজার দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু কেউ আসছে না। আমি বুঝে ফেললাম আমার মতো মেয়ে'কে তারা বউ হিসেবে মনে নেয় নি।‌এটা আমার আশা করাই ছিলো তাই আর বেশি দুঃখ পেলাম না। 


নিচে'র দিকে তাকিয়ে রইলাম।‌ কারো পায়ের আওয়াজ শুনে সামনে তাকালাম। দেখি আয়ানা হাসি মুখে আসছে, তার পিছু পিছু আরো কতোজন মেয়ে। কিন্তু আয়ানা'র সামনে একজন ভদ্রমহিলা আসছেন। তার সাথে বরনডালা। দেখে মনে হচ্ছে ইনি আহিয়ান এর মা। উনার মুখেও কিঞ্চিত হাসি কিন্তু সেটা কি আমাকে দেখানোর জন্য। 


আহিয়ান এর মা সামনে আসলেন। আহিয়ান এখনো ফোনের মধ্যে মুখ গুঁজে আছে। আহিয়ান'র মা এসে আহিয়ান এর হাত থেকে ফোন টা কেড়ে নিলেন। আহিয়ান রেগে সামনে তাকাতেই দেখে মা। সে innocent face করে। মা আহিয়ান কে টেনে আমার পাশে দাঁড় করায়। তারপর বলে ওঠে..


- চুপচাপ দাঁড়াও বরন করতে দাও আমায়।

.

আহিয়ান কিছু বলে না। ভালো ছেলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এখন উনাকে দেখে আমার মনে হচ্ছে উনার মতো ভদ্র ছেলে আর একটাও নেই। মা হেসে আমাকে আর আহিয়ান কে বরন করে নিলেন। তারপর আমার হাত ধরে ভিতরে নিয়ে যেতে লাগলেন। 


ভেতরে এসে আমি তাকিয়ে আছি। বাড়ি'টা বাইরে থেকে যত'টা না সুন্দর ভেতর থেকে আরো সুন্দর দেখতে।  প্রত্যেক টা জিনিস খুব সাজানো গোছানো। আমি তাকিয়ে দেখছি। মা আমাকে নিয়ে সোফায় বসালেন। আহিয়ান সিঁড়িতে ওঠতে ওঠতে বললেন...


- মা আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, আমি ঘুমাতে গেলাম। 


- খাবি না কিছু?


- আমি খেয়েছি, গুড নাইট। 

বলেই চলে গেলেন তিনি। আমি চুপচাপ বসে আছি। আয়ানা আমার পাশে সোফার ওপরে বসলো। 

মা থিতুনি তে হাত দিয়ে আমাকে দেখছেন। তারপর মুচকি হাসি দিয়ে আয়ানা'র দিকে তাকিয়ে বললেন...


- মাশাআল্লাহ! বলতে হবে তোদের পছন্দ আছে! 


তোদের পছন্দ মানে, আহিয়ান কি পছন্দ করেছে আমাকে নাকি! কেমন জানি সব ঘোলাটে লাগল। মা"র কথায় কোথায় জানি রহস্য লুকিয়ে আছে এমন লাগছে আমার। আয়ানা হেসে বলল..


- দেখতে হবে আমি কার মেয়ে..


এমন সময় একজন ‌ভদ্রলোক আসলেন। আয়ানা আর মা তাকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। তাদের দেখা দেখি আমিও দাঁড়ালাম। সে এসে আমার সামনে দাঁড়াল। চোখে চিকন ফেমের গোল চশমা, পরনে একটা পাঞ্জাবি, মুখটা খুব গম্ভীর করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি তার চাহনি তে মাথা নিচু করে ফেললাম। আড়চোখে আয়ানা'র দিকে তাকালাম। আয়ানা ফিসফিসিয়ে বলল...


- তোমার বাবা! 


তার মানে এনি কবীর চৌধুরী। আমি তার দিকে তাকিয়ে অজান্তেই মুখ থেকে "আব্বু" বেরিয়ে গেলো। তাড়াতাড়ি করে তাকে সালাম করলাম ‌ হয়তো উনি এরকম টা আমার কাছে আশা করছিলেন। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন..


- নাম কি তোমার?


- নিহারিকা নিহা!


- ( ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর গলায় বললেন.. ) আহিয়ান চৌধুরী কে বলবে!


বাবা'র কথায় আমি বোকা'র মতো উনার দিকে তাকালাম। উনি আমার থেকে চোখ সরিয়ে মা'র দিকে তাকিয়ে বললেন...


- ওকে খাইয়ে দিয়ে ঘুমাতে যেতে বলো অনেক রাত হয়েছে।


বাবা'র  কথা শুনে আমি বলে উঠলাম..

- কথা'টা আমাকে বললেন না কেন? 


বাবা আমার দিকে তাকিয়ে মা'কে বললেন ...

- তোমার ছেলে কোথায়?


আমি আবার বললাম...

- উনি ঘুমাতে চলে গেছেন!


বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন..

- তোমাকে আমি প্রশ্ন করেছি যে তুমি উওর দিচ্ছো?


আমি তাড়াতাড়ি করে বললাম..

- সেটাই তো আপনি আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছেন না কেন?


আবারও মা'র দিকে তাকিয়ে...

- আমি ঘুমাতে গেলাম। বলেই চলে গেলেন। 

.

আমি বাবা'র চলে যাওয়া দেখতে লাগলাম। আয়ানা আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল...

- কি সাহস তোমার! তুমি বাবা'র মুখে মুখে তর্ক করলে!


- আমি তর্ক করলাম কোথায়?


মা হেসে বলে ওঠল..

- যেমন শশুড় তেমন বউ মা! শশুড় এবার জব্দ হবে। 


- তা আর বলতে মা ও কিভাবে বাবা'র প্রত্যেকটা কথার উওর দিলো। আচ্ছা তোমার ভয় করলো না।


- মেয়েরা কখনো বাবা কে ভয় পায় নাকি! ভয় পেলে তো মা'কে পায়।


- কেন? তুমি আমাকে ভয় পাও? ( ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে ) 


- না মানে... আমি তো কথার কথা বললাম মা! ( মাথা নিচু করে )


- ঠিক আছে মা বলায় ছেড়ে দিলাম। আয়ানা খাবারের ব্যবস্থা করো। অনেক রাত হয়েছে। 


- আচ্ছা মা। 

.

আসলেই অনেক রাত হয়েছে, প্রায় রাতের ১ টা বাজে।‌আমি সোফায় বসে আছি। মা আমার পাশে বসে আমার সাথে বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন। আমার ছোটবেলার কথা, মা বাবা'র কথা সব জিঙ্গেস করলেন। আমি নিজেকে অনাথ বলেই পরিচয় দিলাম।‌মা আমার মাথায় হাত রেখে বললেন...


- আর কোনো নিজেকে অনাথ বলবে না বুঝলে, আমি আছি না তোমার মা। 

.

মা'র কথাটা শুনে ‌আমার চোখের কোণে জল চলে এলো। বিয়ের প্রথম রাতে নিজের শাশুড়ি এমন আচরণ আমি আশা করি নি। বলতে হবে তারা অনেক ভালো। আমাকে অনেক ভালো ভাবেই মেনে নিয়েছে তারা। যা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া কষ্টসাধ্য ছিল। স্বপ্নের মতো লাগছিলো সবকিছু। 


একটু পর'ই আয়ানা আসল। তার সাথে একটা মেয়ে আসল, তার হাতে খাবার ছিলো। মেয়েটা এসে খাবার গুলো আমার আমার সামনে রাখল। এতো ভারী পোশাক পরে কিভাবে খাবো ভাবছি। ক্ষুদাও লেগেছে অনেক সেই সকালে একটু খাবার জুটেছিলো কপালে। হঠাৎ দেখি মা আমার মুখের সামনে খাবার তুলেছে। আমি মা'র দিকে তাকালাম। মা চোখ দিয়ে ইশারা করলেন খেয়ে নিতে। আমি হেসে খেতে লাগলাম। ভালো লাগছিলো খুব, আজ এতো বছর পর মা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। আমি মা'র দিকে তাকিয়ে আমার মা'র কথা মনে করতে লাগলাম। তেমন একটা মনে নেই কারন তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। মা'র সাথে কাটানো শুধু কিছু মূহূর্ত ছাড়া আর কিছু'ই মনে নেই আমার। 

.


খাওয়ার পর আয়ানা আমাকে নিয়ে রুমে আসলেন। দরজার বাইরে থেকে'ই চলে গেলো সে। দরজা খোলা'ই ছিলো। আমি তাও একবার দরজায় কড়া নাড়লাম। আহিয়ান ভিতর থেকে বলল "আসো"। উনা'র আওয়াজ পেয়ে আমি ভেতরে ঢুকলাম। ব্যাপার খুব মজার ছিলো। নরমালি ছেলেরা অনুমতি নেয় কিন্তু আমার পক্ষে তার ব্যতিক্রম ঘটল। অনুমতি আমি নিলাম। ঘরে ঢুকে দেখলাম স্যার বিছানায় শুয়ে বই পরছেন। ঘরটা খুব সুন্দর ছিলো। গোছানো, পরিপাটি। বিছানার ওপরে একটা বড় ছবি দেখা যাচ্ছিল। ছবি'টায় মুখ ভালো মতো দেখা না গেলেও আমি হলফ করে বলতি পারি ছবি টা উনার। 


আমি গুটি গুটি পায়ে তার কাছে গেলাম। উনি আমাকে দেখে বই টা রাখলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন...


- এখানে বিছানা আছে, ওখানে সোফা আছে, ঘর থেকে বের হয়ে সামনে ১০ পা হেঁটে বামে মোড় নিয়ে আরো ১০ পা হেঁটে ডানে মোড় নিলে গেস্ট রুম দেখবে। সব বলে দিলাম যেখানে ইচ্ছে শুতে পারো। আমি এখন ঘুমাবো গুড নাইট। ( একদমে সব বলে দিলো )


আমি হা করে তাকিয়ে আছি। কিছু জিজ্ঞেস করবো তার আগেই উনি উনার মতো সব বলে দিলো এটা কোনো কথা। আর বলার পর'ই চাদর টেনে শুয়ে পরল। আমি আহাম্মক'র মতো তাকিয়ে আছি। কি আর করার। জানি এখন কিছু বললেও উনি আমার কথা'র দাম দিবে না। কারন উনার ঘাড়ে কয়েকটা রগ বেঁকা সেটা আমি ভালো'ই বুঝতে পেরেছি। হঠাৎ করেই কেউ আবার দরজা নক করল। আমি গিয়ে দেখি একটা সার্ভেন্ট হাতে আমার ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একেক সময় একেক সার্ভেন্ট দের দেখছি। সে আমাকে বলল...


- আয়ানা ম্যাম বললো এটা আপনাকে দিতে। 


- আচ্ছা দাও আমাকে। 

ব্যাগ টা দিয়ে'ই সে চলে গেলো। আমি দরজা লক করে ব্যাগ নিয়ে সোফায় বসলাম। ব্যাগ থেকে একটা থ্রি পিস বের করে ওয়াশরুম এ গেলাম ফ্রেশ হতে। 


একটা লম্বা শাওয়ার নিয়ে বের হলাম।  চুল‌ গুলো'র অবস্থা মারাত্মক। তারা সাজানোর সময় কতো'ই না মেডিসিন দিলো আমার চুলে। পুরো চুলের সর্বনাশ করে ছাড়ল। কোনোমতে চুল গুলো আঁচড়ে নিলাম। এখন ভাবছি কোথায় শোব।‌ সোফায় আমার পক্ষে শোয়া সম্ভব না। অভ্যাস নেই, শেষে পরে গিয়ে কোমর ভেঙে লাভ নেই। আচ্ছা গেস্ট রুম'এ গেলে কেমন হয় কিন্তু যদি কোনো সার্ভেন্ট দেখে ফেলে তাহলে...

মান সম্মান সব যাবে। আচ্ছা উনার পাশে.. না বাবা এতো সাহস আমার নেই। উনার পাশে তো কোনোমতে শোয়া যাবে না। 


হঠাৎ করেই মেঝেতে চোখ পরল। ভাবলাম এখানেই শুয়ে পরি। যেই ভাবা সেই কাজ। আলমারি'তে হাত দিলাম। আলমারি খোলাই ছিলো। আমি ওখান থেকে একটা চাদর আর একটা বালিশ নিয়ে নিচে বিছানা পাতলাম। শুতে যাবো তার আগে উনার দিকে একবার তাকালাম। ঘুমিয়ে পরেছে উনি। বাচ্চাদের মতো লাগছে তাকে। আসলেই বাচ্চাদের মতো কারন উনার দুই পাশে বাচ্চাদের মতো দু'টি কোল বালিশ। আমি একবার হেঁসে ঘুমিয়ে পরলাম। রুমের লাইট অফ করলাম না। 


শোবার সাথে সাথেই ঘুম চলে এলো। খুব ক্লান্ত ছিলাম। সারাদিনে যেই ঝড়'টা গেলো আমার ওপর এর পরে আর পারলাম না। কিছুক্ষণ'র মধ্যেই ঘুমিয়ে গেলাম। 

মাঝরাতে কারো গরম নিঃশ্বাস আমার ঘাড়ে পরায় জেগে ওঠলাম আমি। অনুভূতি হচ্ছে আমি বিছানায়, আর আমার ঘাড়ে কারো মাথা। শুধু তাই নয় পেটে'র ওপর কারো হাতও আছে। চিৎকার করতে যাবো বোধ হলো রুমের লাইট অফ। কিন্তু আমি তো জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। তাহলে...

মাঝরাতে কারো গরম নিঃশ্বাস আমার ঘাড়ে পরায় জেগে ওঠলাম আমি। অনুভূতি হচ্ছে আমি বিছানায়, আর আমার ঘাড়ে কারো মাথা। শুধু তাই নয় পেটে'র ওপর কারো হাতও আছে। চিৎকার করতে যাবো বোধ হলো রুমের লাইট অফ। কিন্তু আমি তো জ্বালিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। তার মানে এটা আহিয়ান'র‌ কাজ। কি করবো আমি এখন? ওর প্রতিটা নিঃশ্বাস আমার ঘাড়ে পরছে। কেমন জানি অনুভূতি এটা! অস্বাভাবিক লাগছে আমার। উনার এতোটা কাছে আমি আগে কখনো আসি নি। 


নাহ এভাবে আর থাকা যায় না। অন্য হাত দিয়ে টেবিলে থাকা ল্যাম্ব টা জ্বালালাম। ল্যাম্ব এর আলোতে উনার মুখ দেখা যাচ্ছে। আমার ঘাড়ের কাছে মুখ গুঁজে আছে। উনার হাত আমার পেট থেকে সরালাম। এখন একটু স্বাভাবিক লাগছে। চুপচাপ খাট থেকে নামতে যাবো কিছু'র সাথে যেন টান খেলাম। তাকিয়ে দেখি আমার ওড়না ওনার হাতে পেঁচানো। আমি আস্তে আস্তে সেটা খোলার চেষ্টা করতে লাগলাম। 


- "আহিয়ান : কি করছো তুমি ( আমার দিকে তাকিয়ে )

আচমকা উনার গলা পেয়ে লাফিয়ে উঠলাম। আহিয়ান এর দিকে তাকিয়ে আছি। সে আবারও আমাকে বলল...


- কি করছো তুমি?


- আ...আমি আ..আস..আসলে


- তোতলাচ্ছো কেন? ( ভ্রু কুঁচকে )


- না মানে..


- পালিয়ে যাচ্ছো নাকি?


উনার কথায় আমি চরম অবাক হলাম? আমি কিছু বলার বদলে উনার মুখে হা হয়ে তাকিয়ে আছি।


- কি হলো চুপ হয়ে গেলে কেন? ( উঠে বসলেন )


- আপনি এইসব কি বলছেন? পালাতে যাবো কেন?


- তাহলে এটা খুলছিলে কেন? ( হাত দেখিয়ে )


- আমার ওড়না আপনি পেঁচিয়ে রেখেছেন কেন?


- আমি কি জিঙ্গেস করলাম আগে সেটা বলো! কেন খুলছিলে?


- আমি তো এখানে ঘুমায় নি আপনি আমাকে এখানে কেন আনলেন?


- তোমাকে কে বললো আমি এনেছি?


- মানে ( ভ্রু কুঁচকে )


- তার মানে তুমি জেগে ছিলে?


- জেগে থাকার কি হলো? আমি তো মেঝেতে শুয়ে ছিলাম। এখানে আসলাম কি কর? আর এখানে আপনি ছাড়া আর কে আছে যে আমাকে আনবে?


- ওহ্ আচ্ছা তাহলে তোমার মনে আছে!


- থাকবে না কেন?


- আচ্ছা আমি কি বলেছিলাম তোমাকে? ( ভ্রু নাচিয়ে )


- কি বলেছেন? ( উনার দিকে তাকিয়ে )


- বলেছিলাম নাহ বিছানা আছে, সোফা আছে, গেস্ট রুম আছে যেখানে মন চায় ঘুমিয়ে পরো। ৩ টা ওপশেন দিয়েছিলাম তো তাহলে...


- তাহলে..


- তুমি মেঝে তে শুতে গেলে কেন? আমি বলেছিলাম মেঝেতে গিয়ে ঘুমাও। ( রেগে ধমক দিয়ে বললেন )


উনার ধমকে লাফিয়ে উঠলাম। তাড়াতাড়ি করে বলতে লাগলাম...

- আসলে সোফায় আমি ঘুমাতে পারি না আর সার্ভেন্ট দেখলে কি ভাববে না ভাববে তাই আমি গেস্ট রুমে যায় নি। 


- বিছানা কি দোষ করেছিলো?


- আপনি!


- আমি মানে?


- আপনার সাথে আমি এক বিছানায় ঘুমাতে পারবো না। 


আমার কথা শুনে খানিকক্ষণ এর জন্য চুপ হয়ে গেলেন তিনি। তারপর হুট করেই পাশে থাকা কোলবালিশ মাঝখানে রেখে বলল...


- ঠিক আছে, কালকে আরেকটা বেড'র ব্যবস্থা করে দেবো। তুমি আজকের মতো এখানে ঘুমিয়ে পরো। 

বলেই ওপাশ হয়ে ঘুমিয়ে পরলেন। ওনার হাতে ওড়না বাঁধা থাকায় আমি গিয়ে বিছানায় পরলাম। উনি আমার দিকে ফিরে বললেন...


- তোমার জ্বালায় ৩ দিন ধরে ঘুমাতে পারি নি । ঘুমিয়ে পরো তো। ( ঠান্ডা গলায় বললেন ) 


আমার জ্বালায় মানে..আমি উনাকে কবে জ্বালালাম,‌যার কারনে উনি ৩ দিন ঘুমাতে পারি নি। জিজ্ঞেস করতে গিয়ে ও করলাম না। এতোদিন ঘুমান নি এখন একটু ঘুমাক। তবুও একটা কথা না বলে পারলাম না।‌তাই আমি উনার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলাম...

- ওড়না টা এবার খুলুন।  


- নাহ এটা আমার হাতে  বাধা থাক। 

বলেই বালিশে মাথা গুঁজে নিলেন তিনি। আমিও বাধ্য মেয়ের মতো শুয়ে পরলাম। খাটের এপাশে আমি আর ওপাশে তিনি। মাঝখানে কোলবালিশ। আচ্ছা এই কোলবালিশ'টা আগে রাখলে কি হতো! তাহলে আর এতো কথা বলা লাগতো না। 


হঠাৎ উনি বলে উঠলেন...

- নিহা কোলবালিশ টা ঘুমের চোখে সরিয়ে ফেলেছিলাম। সরি বুঝতে পারি নি। ঘুমের মধ্যে তোমাকে ছুঁয়ে থাকলে সরি।

আবারও বালিশে মুখ গুঁজে নিলেন তিনি। 


আমি অবাক হয়ে গেলাম। কারন এই প্রথম আহিয়ান আমাকে নাম ধরে ডাকলো। হ্যাঁ আমি ঠিক শুনেছি উনি আমাকে নাম ধরে ডেকেছে। এই পর্যন্ত উনি আমাকে শুধু এই মেয়ে এই মেয়ে বলেই ডেকেছেন। তার চেয়ে বড় কথা উনি আমাকে সরি বললেন। আমার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেল। ১ দিনে এতো দূর। 


সেদিন রাস্তায় কতোই না ঝগড়া করেছিলাম আমাকে এই মেয়ে বলে ডাকায়।‌ যেখানে সেখানে আমাকে এই মেয়ে বলো ডাকতো উনি। শুধু কি তাই উনার বন্ধুরা তো আমাকে দেখলেই হাসাহাসি করতো। আচ্ছা এখন কি হবে? এখন তো আমি উনার বউ এখনও কি আমাকে দেখলেই এরকম হাসাহাসি করবে। ভাবতে লাগলাম আমি। 


ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমিয়ে পরলাম। কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম বুঝতে পারলাম না। ঘুম ভাঙ্গল আয়ানা'র ডাকে। আমি ঘুয ঘুম চোখে আয়ানা'র মুখ থেকে লাফ দিয়ে ওঠলাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে। কারন প্রায় ৮ টা বাজতে চলল। আমি তো নিয়মিত ৫ টার আগে ঘুম থেকে উঠি না আর আজ ৮ টা। কি ভাববে এখন ওরা। মা কি বলবে? আয়ানা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল...


- কি হলো?


- সরি আসলে খুব লেট হয়ে গেছে।


- আরে পাগল মেয়ে এতে ভয় পাওয়ার কি আছে? লেট হতেই পারে?


- মা কি ভাববে বলো?


- কিছু ভাববে না, আমি আরো আগেই আসতাম। মা বললো কাল রাতে অনেক লেট করে ঘুমিয়েছো তুমি, তাই আরেকটু পরে ডাকি তোমাকে। 


আয়ানা'র কথায় আমার ভয় কিছুটা হলেও কমলো। পাশে হাত দিয়ে দেখি উনি নেই।আমি আয়ানা'র দিকে তাকালাম। আয়ানা মুচকি হেসে বলল...


- ভাই নিচে আছে,‌খানিকক্ষন আগেই জগিং করে ফিরেছে। তুমি বরং ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি তোমার জন্য এটা এনেছি। ( প্যাকেট হাতে দিয়ে ) 


- কি এটা ? ( প্যাকেট টা নিয়ে )


- শাড়ি আছে এতে, এটা পরে নাও। ঘরের বউ কে শাড়ি'তেই মানায়, আমার মা বলেন।  এছাড়া তোমাকে কেউ জোর করবে না। কিন্তু আজ মা'র কিছু বান্ধবী আসবে। ছেলে'র বউ কে দেখাবে বলে সকালে সবাইকে ফোন করেছে।‌তাদের সামনে তো আর শাড়ি ছাড়া যাওয়া যাবে না। তাই...


- ঠিক আছে আমি পরে নেবো।


- পারবে পরতে?


- হ্যাঁ পারি আমি। 


- ঠিক আছে হেল্প লাগলে বলো আমি সার্ভেন্ট কে পাঠিয়ে দেবো। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নিচে আসো। 


- ঠিক আছে।‌

.

আয়ানা চলে গেলো। আমি প্যাকেট থেকে শাড়ি'টা বের করলাম। দেখতে বেশ, লাল রঙের একটা শাড়ি তবে কি কাপর বুঝতে পারছি না। তবে কারুকাজ টা চমৎকার। গোল্ডেন রঙের স্টোন বসানো তাতে। আমি আর না ভেবে উঠে পরলাম। শাওয়ার নিয়ে এসে রুমে আসলাম। উনি এখনো আসেনি। আমি দরজা লক করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ি পরতে লাগলাম। 


পোশাক মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে কথাটা আসলে সত্যি। আমি সুন্দর না হলে কি হবে শাড়ি'টার জন্য সেটা বোঝা যাচ্ছে না। আয়না'তে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছি।‌এরকম শাড়ি'র পরার ভাগ্য কখনো হবে ভাবতে পারি নি। শাড়ি'র দাম অনেক দেখেই বোঝা যাচ্ছে। 


চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিলাম। মাঝ বরাবর একটা সিঁথি করলাম। এখানে তো আর কিছু নেই যে সাজবো আর এমনে তেও সাজতে আমার ভালো লাগে না। মা'র কথা খুব মনে পরছে। শেষ বার বাবা কে একটা শাড়ি কিনে দেওয়ার জন্য আবদার করেছিলাম। বাবা নাকি শাড়ি এনেছিলো তার লাশের পাশে রক্তাক্ত একটা প্যাকেট পাওয়া গিয়েছিলো। বিছানায় ধপাশ করে বসে কেঁদে ওঠলাম। খুব কষ্ট হচ্ছিল।‌ দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। 


হুট করেই দরজা নক করার চেষ্টা আওয়াজ পেলাম। মনে হয় আহিয়ান এসেছে। চোখের পানি মুছে নিলাম। আয়ানায় দাঁড়িয়ে আবার ও নিজেকে দেখে নিলাম। তারপর গিয়ে দরজা খুললাম। হ্যাঁ আহিয়ান এসেছে। সে আমার দিকে না তাকিয়ে রুমের মধ্যে ঢুকে গেল। আমি উনার পিছনে দাঁড়ানো। উনি হাতের ঘড়ি খুলতে খুলতে বলল..


- মা ডাকছে তোমায়! ( ডেসিন টেবিলে এ ঘড়ি টা রেখে আয়ানায় আমার দিকে তাকিয়ে ) 


- আচ্ছা আমি যাচ্ছি। ( যেতে লাগলাম ) 


- এই দাঁড়াও! ( আমার দিকে ফিরে ) 


- হুম ( আহিয়ান এর দিকে ফিরলাম )

দেখি উনি আমার দিকে আগাচ্ছে। আমি তাকিয়ে আছি উনার দিকে। উনি আমার কাছে এসে বললেন...


- কাঁদছিলে তুমি!


উনার কথায় ধতমত খেয়ে গেলাম। উনি কিভাবে বুঝলেন আমি কাঁদছিলাম। তাও আমি মাথা নাড়িয়ে না করলাম। 


- মিথ্যে বলছো কেন?


- না আমি সত্যি কাঁদিনি।


- তাহলে চোখ ফুলে আছে কেন তোমার!


-  সেটা আপনার কারনে? ( কোমরে হাত দিয়ে )


- মানে? 


- আপনি আমাকে কেন ডাকলেন না বলুন তো। বেশি ঘুমিয়ে ফেললাম আমি তাই চোখ এখন গোল আলু'র মতো ফুলে গেছে। 


- সত্যি বলছো! ( সন্দেহ'র চোখে তাকিয়ে )


- মিথ্যে বলতে যাবো কেন? তাও আপনাকে! গেলাম আমি। 

আহিয়ান কে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে গেলাম। কি ছেলেরে বাবা এতো খেয়াল করে কিভাবে। যেভাবে বলল আমায় যেন কতো দিন ধরে চিনে আমাকে। উনার সাথে থাকবো কি করে।আল্লাহ বাঁচাও আমাকে। 


বির বির করতে করতে সিঁড়ি থেকে নামলাম। মা, বাবা, আয়ানা সবাই খাবার টেবিলে। হয়তো আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমাকে সিড়ি থেকে নামতে দেখে মা আর আয়ানা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। বাবা ও আড়চোখে তাকালেন। আমি সবাইকে দেখে "সুপ্রভাত" বললাম। মা আর আয়ানাও বলল "গুড মর্নিং"। কিন্তু বাবা কিছু বলল না। আমি ইচ্ছে করে বাবা'র কাছে গিয়ে বললাম "সুপ্রভাত বাবা"। 

বাবা আমার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর হয়ে বললেন...


- সুপ্রভাত!


আমি উনাকে বললাম..

- আচ্ছা বাবা আপনি হাসেন না। 


আমার কথায় আয়ানা আর মা অবাক হলেন। বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন..

- কি বললে?


- না কিছু না আচ্ছা আমি খাবার সার্ভ করে দেই?


বাবা চুপ হয়ে গেলেন। কিছু বললেন না, আমি মার দিকে তাকালাম উনি আমাকে চোখের ইশারায় হ্যাঁ বললেন। আমি মুচকি হেসে বাবা কে খাবার দিলাম। উনি কিছু বললেন না। মা আর আয়ানা এইসব দেখে মুখ টিপে হাসছে। 


আমি সবাইকে খাবার দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আয়ানা আমাকে দেখে বলল...

- নিহা বসো!


- বসবো আপু তুমি খেতে শুরু করো।


আয়ানা বুঝতে পারল আমি আহিয়ান এর জন্য দাঁড়িয়ে আছি। তাই সে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে বলল...

- আচ্ছা। 


আমি দাঁড়িয়ে আছি, বাবা আর আয়ানা অফিসের নানান কথা বলছে। আয়ানা বাবা'র সাথে অফিসের কাজে সাহায্য করেন। আপ্পি তো আহিয়ান এর বড়ো। একটু খারাপ লাগলো কারন বড়ো বোনের বিয়ে না হয়েই ছোট ভাই বিয়ে করে ফেলল। কিন্তু আজব ব্যাপার হলো এটা নিয়ে কেউ কিছু বললো না। কতোটা বোঝতে পারে তারা একজন আরেকজন কে। 


খানিকক্ষণ বাদেই আহিয়ান আসল। একটা নীল টি শার্ট আর জিন্স পরা। উনি এসে ‌চেয়ারে বসলেন। আয়ানা এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল...


- বসো এবার। 

.

আমি প্রথমে আহিয়ান কে খাবার বেড়ে দিলাম। তারপর এসে আপু'র পাশে বসে পরলাম। আহিয়ান এর চেয়ার থেকে কিছুটা দূরে। সবাই একসাথে খাবার খাচ্ছে ‌ ভালো লাগছে দেখে। আজ এরকম একটা পরিবার আমারও থাকতো। 


বাবা খেতে খেতে আহিয়ান কে বলল...

- রিসেপশনে'র অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে দিতে বলেছি আমি। কিছুক্ষণ'র মধ্যেই তারা এসে পরবে।


আহিয়ান খাবার রেখে বাবা'র দিকে তাকিয়ে বলল..

- না বাবা রিসেপশনে'র অনুষ্ঠান হবে না। 


- কেন? 


- আমি চাইছি না এইসব তাই!


- তুমি বিয়ে টা করলে এভাবে, তাই বলে কি রিসেপশনে'র অনুষ্ঠান টা করবে না। ( একটু রেগে গিয়ে )


আমার খাবার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। সবাই তাকিয়ে উনাদের কথা বার্তা শুনতে লাগলাম। 


- বাবা আমি বলছি না হবে না কিন্তু এখন না। কিছুদিন পর হোক। 


- কিন্তু...


আপু বলে ওঠল...

- বাবা ও যখন চাইছে না জোর করো না।‌ ওটা ওতো ইম্পর্ট্যান্ট কিছু না। 


- আয়ানা তুমিও...


আপু চোখ দিয়ে বাবা কে ইশারা করলেন। বাবা আর কিছু বললেন না। আমার একটু অবাক লাগল। কেন জানি মনে হলো এই বিয়েটা উনি লুকাতে চাইছেন। 

.

রুমে বসে ‌ঘর টা দেখতে লাগলাম। পুরো ঘরটা এখনো দেখি নি আমি।‌ আমি হাঁটতে হাঁটতে বেলকনিতে গিয়ে পৌঁছালাম। বেলকনিতে একটা ছোট ফুলের বাগান। জুঁই, অপরাজিত,বেলি, রজনীগন্ধা আর তুষারমোতি ফুল আছে এখানে। অবাক লাগল ছেলে হয়েও এরকম একটা বাগান করেছেন তিনি। একটা দোলনা আছে, এছাড়া দুটো বিন ব্যাগও আছে। কিন্তু এখানে কিছু বোতল আছে। কিসের এগুলো, কোথাও দেখেছি বলে মনে হচ্ছে। আমি বোতল হাতে নিয়ে গন্ধ শুকতে লাগলাম। ছিঃ কি বিচ্ছিরি গন্ধ। গন্ধে আমার মাথা ঘুরে যাচ্ছিল। পরে যেতে লাগলাম তখন কেউ এসে মনে হলো আমাকে ধরল। তাকিয়ে দেখি আহিয়ান আমার দু'বাহু ধরে আছে। আমি তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে দাঁড়ালাম।


আহিয়ান আমার হাত থেকে বোতল নিয়ে বলল...

- কি করছিলে তুমি?


- এটা মদের বোতল নাহ? ছিঃ কি বিচ্ছিরি গন্ধ এটা আপনি এইসব খান কিভাবে?



৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুনঃ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url