ভৈরব বাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেলপথে ভ্রমণ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথ । প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী কর্মজীবন, শিক্ষা, ব্যবসা বা পারিবারিক প্রয়োজনে এই রুটে ভ্রমণ করেন । ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা প্রতিটি যাত্রীর জন্য অত্যন্ত জরুরি ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন ভৈরব বাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করে থাকে । এই ট্রেনগুলো যাত্রীদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে । ভৈরব থেকে ঢাকা রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার এবং এই পথে ট্রেনগুলো সাধারণত ১.৫ থেকে ২.৫ ঘণ্টা সময় নিয়ে থাকে ।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
ভৈরব বাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর সঠিক সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো । এই সময়সূচী বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে:
| ট্রেনের নাম | ভৈরব ছাড়ার সময় | ঢাকা পৌঁছানোর সময় | সাপ্তাহিক ছুটি | যাত্রা সময় |
|---|---|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) | রাত ০৮:৫৮ মিনিট | রাত ১০:৪০ মিনিট | সোমবার | ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট |
| এগারো সিন্দুর প্রভাতী (৭৩৮) | সকাল ০৮:২০ মিনিট | সকাল ১০:৩৫ মিনিট | নেই | ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট |
| মহানগর গোধূলি (৭০৩) | সন্ধ্যা ০৭:০৮ মিনিট | রাত ০৮:৪৫ মিনিট | নেই | ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২) | সন্ধ্যা ০৫:৪৮ মিনিট | রাত ০৮:০০ মিনিট | মঙ্গলবার | ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) | সকাল ১০:৫৩ মিনিট | দুপুর ১২:৪০ মিনিট | শুক্রবার | ১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট |
| এগারো সিন্দুর গোধূলি (৭৫০) | দুপুর ০৩:০০ মিনিট | বিকাল ০৪:৪৫ মিনিট | বুধবার | ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১) | বিকাল ০৪:৫৭ মিনিট | সন্ধ্যা ০৬:৪০ মিনিট | রবিবার | ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) | ভোর ০৪:০৬ মিনিট | ভোর ০৫:৪০ মিনিট | সোমবার | ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | রাত ০৩:৩৩ মিনিট | ভোর ০৫:১০ মিনিট | নেই | ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট |
| কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪) | সকাল ১১:১৩ মিনিট | দুপুর ১২:৫৫ মিনিট | শুক্রবার | ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট |
| তিতাস কমিউটার (৩৩) | সকাল ০৫:৫৩ মিনিট | সকাল ০৮:৩৫ মিনিট | নেই | ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট |
| তিতাস কমিউটার (৩৫) | দুপুর ০১:৩৭ মিনিট | দুপুর ০৩:৩৮ মিনিট | নেই | ২ ঘণ্টা ০১ মিনিট |
| কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (০৩) | সন্ধ্যা ০৫:৩০ মিনিট | রাত ১০:৪৫ মিনিট | নেই | ৫ ঘণ্টা ০৫ মিনিট |
বিঃদ্রঃ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সূচী পরিবর্তন করতে পারে । যাত্রার আগে অবশ্যই রেল সেবা অ্যাপ বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সময়সূচী যাচাই করে নিন ।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট / ভাড়া তালিকা
ভৈরব বাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেন ভ্রমণের টিকিটের মূল্য আসনভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে । বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী ভাড়ার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
| আসন বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| শোভন (SHOVAN) | ১০৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার (S_CHAIR) | ১২৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (SNIGDHA) | ২৩৬ টাকা |
| এসি সিট কেবিন (AC-S) | ২৮২ টাকা |
| এসি কেবিন বাথ (AC-B) | ৪৭৬ টাকা |
| ১ম শ্রেণী চেয়ার (F-SEAT) | ১৯০ টাকা |
| ১ম শ্রেণী কেবিন (F-BERTH) | ৩৩২ টাকা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এসি বার্থ এবং প্রথম বার্থের টিকিট সাধারণত দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে । ভৈরব টু ঢাকা রুটে এসি সিট এবং স্নিগ্ধা কেবিন সবচেয়ে জনপ্রিয় ।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের টিকেট বুকিং / কেনার সহজ উপায়
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই টিকিট কাটা যায়। নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কাটা
- বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল টিকিটিং সাইট eticket.railway.gov.bd-এ ভিজিট করুন ।
- পৃষ্ঠায় গিয়ে আপনার যাত্রার তারিখ, স্টেশন (ভৈরব/ঢাকা), এবং ট্রেন নির্বাচন করুন ।
- পছন্দের ট্রেন ও আসন শ্রেণী নির্বাচন করে “Search” বাটনে ক্লিক করুন ।
- উপলব্ধ আসনের তালিকা থেকে আপনার পছন্দের আসন নির্বাচন করুন ।
- যাত্রীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন ।
- বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করুন ।
- সফল পেমেন্টের পর একটি ই-টিকিট আপনার মোবাইলে এসএমএস ও ইমেইলে পৌঁছাবে ।
২. রেল সেবা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটা
- গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে “Rail Sheba” অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
- অ্যাপটি খুলে যাত্রার তথ্য দিন এবং অনুরূপভাবে টিকিট কেটে নিন।
৩. স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা
যারা অনলাইনে টিকিট কাটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তারা সরাসরি ভৈরব বাজার জংশন রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন । তবে ভিড় এড়াতে আগে থেকে টিকিট কেটে রাখা উত্তম ।
ট্রেন ট্র্যাকিং পদ্ধতি / লাইভ লোকেশন জানুন
আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি বর্তমানে কোথায় আছে এবং কতটুকু পথ অতিক্রম করেছে তা জানতে পারবেন সহজেই । ট্রেন ট্র্যাকিং-এর জন্য আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
TR <Space> ট্রেন নম্বর
যেমন: TR 788 এবং তা পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে ।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি রিপ্লাই এসএমএস পাবেন, যেখানে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান, আগামী স্টেশন, এবং নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জানতে পারবেন ।
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের যাত্রাবিরতী স্টেশনসমূহ
প্রতিটি ট্রেন ভৈরব বাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে নির্দিষ্ট কিছু স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে থাকে । নিচে প্রতিটি ট্রেনের যাত্রাবিরতী স্টেশনের তালিকা দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | রুট / স্টপেজসমূহ |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) | ভৈরব বাজার ➔ ঢাকা (কোনো মধ্যবর্তী স্টেশনে থামে না) |
| উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) | ভৈরব বাজার ➔ নরসিংদী ➔ বিমান বন্দর ➔ ঢাকা |
| এগারো সিন্দুর প্রভাতী (৭৩৮) | ভৈরব বাজার ➔ নরসিংদী ➔ বিমান বন্দর ➔ ঢাকা |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) | ভৈরব বাজার ➔ মেথিকান্দা ➔ নরসিংদী ➔ বিমান বন্দর ➔ ঢাকা |
| কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪) | ভৈরব বাজার ➔ নরসিংদী ➔ বিমান বন্দর ➔ ঢাকা |
| এগারো সিন্দুর গোধূলি (৭৫০) | ভৈরব বাজার ➔ মেথিকান্দা ➔ নরসিংদী ➔ বিমান বন্দর ➔ ঢাকা |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১) | ভৈরব বাজার ➔ নরসিংদী ➔ ঢাকা |
| কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২) | ভৈরব বাজার ➔ মেথিকান্দা ➔ নরসিংদী ➔ বিমান বন্দর ➔ ঢাকা |
| মহানগর গোধূলি (৭০৩) | ভৈরব বাজার ➔ নরসিংদী ➔ ঢাকা |
| পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) | ভৈরব বাজার ➔ বিমান বন্দর ➔ ঢাকা |
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেন সম্পর্কিত প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়া কত?
উত্তর: ভৈরব বাজার টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়া আসনভেদে আলাদা। শোভন চেয়ার ১২৫ টাকা, স্নিগ্ধা ২৩৬ টাকা, এসি সিট ২৮২ টাকা, এসি বার্থ ৪৭৬ টাকা, প্রথম সিট/চেয়ার ১৯০ টাকা এবং প্রথম বার্থ ৩৩২ টাকা।
প্রশ্ন ২: ভৈরব বাজার টু ঢাকা কয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে?
উত্তর: ভৈরব টু ঢাকা মোট ১০টি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে । তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১), উপাবন এক্সপ্রেস (৭৪০), এগারো সিন্দুর প্রভাতী (৭৩৮), চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১), কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪), এগারো সিন্দুর গোধূলি (৭৫০), মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১), কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২), মহানগর গোধূলি (৭০৩), পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) ।
প্রশ্ন ৩: ভৈরব থেকে ঢাকা ট্রেনের টিকিট কিভাবে কাটব?
উত্তর: ভৈরব বাজার টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট দু’ভাবে কাটা যায় । আপনি সরাসরি ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে অথবা অনলাইনে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং পোর্টালের মাধ্যমে বিকাশ/নগদ বা ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারেন ।
প্রশ্ন ৪: ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী কোথায় পাব?
উত্তর: আপনি এই ব্লগ পোস্টের সময়সূচী তালিকা দেখতে পারেন । এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, অথবা ভৈরব বাজার স্টেশনের নোটিশ বোর্ড থেকে জানতে পারেন ।
প্রশ্ন ৫: কোন ট্রেনটি ভৈরব থেকে ঢাকা যেতে সবচেয়ে দ্রুত?
উত্তর: তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) ভৈরব থেকে ঢাকা যেতে সবচেয়ে দ্রুত, কারণ এটি কোনো মধ্যবর্তী স্টেশনে থামে না । এটি প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে ঢাকা পৌঁছায় ।
প্রশ্ন ৬: ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনে খাবারের ব্যবস্থা আছে কি?
উত্তর: আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে সাধারণত খাবারের ব্যবস্থা থাকে । ট্রেনে খাদ্য বিক্রেতারা আসে এবং কিছু ট্রেনে প্যান্ট্রি কার রয়েছে। তবে নিরাপত্তার জন্য নিজের খাবার সাথে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ।
প্রশ্ন ৭: শিশু ও বয়স্কদের জন্য ট্রেনে বিশেষ সুবিধা আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া স্টেশনগুলোতে প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ প্রবেশ পথ রয়েছে ।
উপসংহার
ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা প্রতিটি যাত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এই ব্লগ পোস্টে আমরা ভৈরব বাজার থেকে ঢাকাগামী সমস্ত আন্তঃনগর ট্রেনের সম্পূর্ণ সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, যাত্রাবিরতী স্টেশন, টিকিট কেনার পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ।
আমাদের লক্ষ্য ছিল আপনাকে ভৈরব টু ঢাকা ট্রেন ভ্রমণের জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইড প্রদান করা । আপনার যাত্রা নিরাপদ, আরামদায়ক এবং স্মরণীয় হোক ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিনিয়ত তাদের সেবার মান উন্নয়নের চেষ্টা করছে । ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সুবিধা এবং দ্রুতগতির ট্রেন যোগ হওয়ার মাধ্যমে এই রুটে ভ্রমণ আরও সহজ এবং আরামদায়ক হবে ।
আপনার যদি ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আপনার অভিজ্ঞতা এবং মতামত আমাদের অন্যান্য পাঠকদের সাহায্য করবে ।
আপনার যাত্রা শুভ ও নিরাপদ হোক!
Views: 0




