• বলিহার রাজবাড়ী
  • ভ্রমণ গাইড
  • Balihar Rajbari: নওগাঁর বলিহার রাজবাড়ীর ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড

    balihar rajbari

    বলিহার রাজবাড়ীর ইতিহাস: নওগাঁর এক প্রাচীন ঐতিহ্যের গল্প

    বাংলাদেশের উত্তর জনপদের নওগাঁ জেলা ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ । এই জেলার অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রাচীন স্থাপত্য হলো বলিহার রাজবাড়ী । এটি কেবল একটি বিশাল অট্টালিকা নয়, বরং বাংলার প্রাচীন জমিদার প্রথা এবং মোগল আমলের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল ।

    বলিহার রাজবাড়ীর ঐতিহাসিক পটভূমি

    বলিহার রাজবংশের ইতিহাস শুরু হয় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে । জনশ্রুতি আছে, এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নৃসিংহ দেব চক্রবর্তী । সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে জায়গির লাভ করে তিনি এই বলিহার অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণ করেন । তবে এই রাজবংশটি পূর্ণতা পায় রাজা কৃষ্ণেন্দ্র নাথ রায়ের সময়কালে। তিনি ছিলেন একজন বিদ্যানুরাগী এবং প্রজাবৎসল শাসক ।

    স্থাপত্যশৈলী ও গঠন

    বলিহার রাজবাড়ী তার অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীর জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে । একসময় এই রাজবাড়ির বিশাল চত্বরে ছিল:

    • রাজরাজেশ্বরী দেবীর মন্দির: এটি রাজবাড়ির প্রধান আকর্ষণ, যেখানে এখনো প্রাচীন কারুকার্য চোখে পড়ে ।
    • বিশাল সিংহদ্বার: রাজবাড়িতে প্রবেশের জন্য নয়টি বড় ফটক বা গেট ছিল, যা রাজবংশের আভিজাত্য প্রকাশ করত ।
    • নাট মন্দির ও অন্দরমহল: সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ছিল সুপরিসর নাট মন্দির এবং বসবাসের জন্য কারুকার্যখচিত অন্দরমহল ।

    আরও পড়ুনঃ

    আরও পড়ুন:  নওগাঁর আলতাদিঘী ও জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ একদিনের পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান


    কেন এটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়?

    বর্তমানে বলিহার রাজবাড়ী অনেকটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও এর প্রতিটি দেয়াল ইতিহাসের কথা বলে । যারা প্রাচীন স্থাপত্য, ফটোগ্রাফি এবং ইতিহাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা । বিশেষ করে রাজবাড়ির সামনের বিশাল দীঘি এবং মন্দিরের পোড়ামাটির কাজ আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে ।

    বলিহার রাজবাড়ী ভ্রমণ গাইড

    নওগাঁ শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে বলিহার ইউনিয়নে এই রাজবাড়ির অবস্থান । মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী আর গ্রামীণ শান্ত পরিবেশের মিশেলে এটি একটি চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র ।

    🚍 কিভাবে যাবেন?

    ১. ঢাকা থেকে নওগাঁ: ঢাকা (গাবতলী, কল্যাণপুর বা আব্দুল্লাহপুর) থেকে হানিফ, এসআর, শ্যামলী বা নানি এন্টারপ্রাইজের এসি/নন-এসি বাসে সরাসরি নওগাঁ আসা যায় । ভাড়া সাধারণত ৭০০ – ১,১০০ টাকার মধ্যে ।

    ২. ট্রেন যোগে: ঢাকা থেকে ‘নীলসাগর’, ‘দ্রুতযান’ বা ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে সান্তাহার জংশনে নামতে হবে । সান্তাহার থেকে সিএনজি বা অটোতে নওগাঁ শহর মাত্র ১৫-২০ মিনিটের পথ ।

    ৩. নওগাঁ শহর থেকে রাজবাড়ি: নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে বলিহার যাওয়ার বাস বা সিএনজি পাওয়া যায় ।

    • সিএনজি রিজার্ভ: ৩০০ – ৫০০ টাকা (যাওয়া-আসা) ।
    • লোকাল বাস/অটো: ২০ – ৪০ টাকা ।

    🏛️ কি কি দেখবেন?

    • রাজরাজেশ্বরী মন্দির: রাজবাড়ির প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকেই এই বিশাল মন্দিরটি চোখে পড়বে । এর কারুকার্য এখনো মুগ্ধ করার মতো ।
    • বিশাল দীঘি: রাজবাড়ির পেছনের বিশাল দীঘিটি প্রশান্তি দেয় । একসময় এখানে রাজপরিবারের সদস্যরা স্নান করতেন ।
    • ধ্বংসাবশেষ অন্দরমহল: যদিও অনেক অংশ ভেঙে পড়েছে, তবে পুরনো দেয়াল আর নকশাগুলো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।
    • নয়টি প্রবেশদ্বার: রাজবাড়ির আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই বিশাল গেটগুলো ফটোগ্রাফির জন্য দারুণ ।

    🍽️ কোথায় খাবেন?

    বলিহার রাজবাড়ির আশেপাশে ভালো মানের রেস্টুরেন্ট নেই । ছোটখাটো নাস্তা বা চায়ের দোকান পাবেন । দুপুরের খাবারের জন্য আপনাকে নওগাঁ শহরে ফিরে আসাই ভালো । নওগাঁর “প্যারা সন্দেশ” খেতে ভুলবেন না, এটি এই জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ।

    আরও পড়ুন:  পুঠিয়া রাজবাড়ী (Puthia Rajbari): যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য

    🏨 কোথায় থাকবেন?

    রাজবাড়ি এলাকায় থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই । আপনাকে নওগাঁ শহরেই থাকতে হবে । শহরের কিছু উল্লেখযোগ্য হোটেল হলো:

    • হোটেল অবকাশ
    • হোটেল সারথি
    • হোটেল যমুনা

    💡 ভ্রমণ টিপস (Travel Tips)

    • সময় নির্বাচন: সকালের দিকে রওনা দিলে দুপুর নাগাদ সব ঘুরে দেখে শহরে ফিরে আসা যায় । রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ও পানি সাথে রাখুন ।
    • ফটোগ্রাফি: রাজবাড়ির মন্দিরের কারুকার্য এবং বিশাল প্রবেশদ্বারে চমৎকার ছবি তোলা যায় ।
    • সতর্কতা: রাজবাড়ির অনেক অংশ জরাজীর্ণ, তাই পুরনো দেয়ালে ওঠার সময় সাবধান থাকুন ।

    একনজরে বলিহার রাজবাড়ী

    বিষয়তথ্য
    অবস্থাননওগাঁ সদর উপজেলা, বলিহার গ্রাম
    প্রতিষ্ঠাতানৃসিংহ দেব চক্রবর্তী (মোগল আমল)
    প্রধান আকর্ষণরাজরাজেশ্বরী মন্দির, প্রাচীন স্থাপত্য ও দীঘি
    উপযুক্ত সময়শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)

    🗺️ কাছাকাছি আর কি দেখতে পারেন?

    আপনি যদি হাতে সময় নিয়ে আসেন, তবে একই দিনে বা পরের দিন এই জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারেন:

    ১. পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (বদলগাছী)

    ২. কুসুম্বা মসজিদ (মান্দা)

    ৩. পতিসর রবীন্দ্র কাচারী বাড়ি (আত্রাই)

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins
    Right Menu Icon