• বরেন্দ্র জাদুঘর
  • ভ্রমণ গাইড
  • বরেন্দ্র জাদুঘর (Varendra Museum): যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য

    বরেন্দ্র জাদুঘর

    বরেন্দ্র জাদুঘর – Varendra Museum

    বাংলাদেশের উত্তর জনপদের প্রাণকেন্দ্র রাজশাহী শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান, যা শুধু একটি জাদুঘর নয় বরং একটি সভ্যতার আয়না । এটি বরেন্দ্র জাদুঘর নামেই বেশি পরিচিত । যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (Varendra Research Museum) । দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত এই জাদুঘরটি শুধু পর্যটকদের কাছেই আকর্ষণীয় নয়, বরং গবেষকদের কাছেও একটি অমূল্য সম্পদ ।

    আপনি যদি ইতিহাসপ্রেমী হন, কিংবা প্রাচীন বাংলার সভ্যতা ও সংস্কৃতির সন্ধানে বের হতে চান, তাহলে রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘর আপনার জন্য একটি আদর্শ গন্তব্য । আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো বরেন্দ্র জাদুঘরের ইতিহাস, এর দুর্লভ সংগ্রহ, যাতায়াতের ব্যবস্থা, প্রবেশ মূল্য, সময়সূচী এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় তথ্য ।


    আরও পড়ুনঃ


    বরেন্দ্র জাদুঘর: নামকরণ ও অবস্থান

    বরেন্দ্র জাদুঘর রাজশাহী শহরের হাতেম খাঁন এলাকায় অবস্থিত । এটি রাজশাহী কলেজের ঠিক পাশেই অবস্থিত হওয়ায় শহরের মূল কেন্দ্র (জিরো পয়েন্ট) থেকে খুব সহজেই এখানে আসা যায় । “বরেন্দ্র” নামটি এসেছে প্রাচীন বরেন্দ্রভূমি থেকে, যা বর্তমান রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুরপাবনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল । প্রাচীন এই জনপদের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ ও গবেষণার লক্ষ্যেই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।


    বরেন্দ্র জাদুঘর এর ইতিহাস

    বরেন্দ্র জাদুঘরের ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ এবং সংগ্রামের । ১৯১০ সালের কথা নাটোরের দিঘাপাতিয়া রাজপরিবারের জমিদার শরৎকুমার রায়, খ্যাতনামা আইনজীবী ও ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক রমাপ্রসাদ চন্দ মিলে গঠন করেন “বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি” । তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা । প্রথম দিকে তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩২টি দুষ্প্রাপ্য নিদর্শন সংগ্রহ করেন ।

    আরও পড়ুন:  দেবতাখুম ভ্রমণ গাইড: যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য

    পরবর্তীতে, ১৯১৩ সালে এই সমিতিটি নিজস্ব ভবনে যাত্রা শুরু করে এবং নাম হয় বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর । এটি শুধু বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহের দিক থেকে এটি অন্যতম । তবে জাদুঘরটির অস্তিত্ব নিয়ে বারবার সংকট দেখা দিয়েছে । ১৯৪৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত জাদুঘরটির অর্ধেক অংশ মেডিকেল স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা হয় । ১৯৬৪ সালে পুনরায় জাদুঘর বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই জাদুঘরটি অধিগ্রহণ করে । বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জাদুঘরটি পরিচালিত হচ্ছে এবং নানামুখী উন্নয়নমূলক কাজ চলছে ।

    জাদুঘরটির আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । ২০১০ সালের শেষের দিকে ৯৪ হাজার ৯৩৩ ডলার অনুদান দিয়ে তারা জাদুঘরের ছাদ পুনর্নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, মূর্তির মঞ্চ তৈরি এবং মেঝে সংস্কারের কাজে সহায়তা করে ।


    বরেন্দ্র জাদুঘরের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    বরেন্দ্র জাদুঘর শুধু একটি সংগ্রহশালা নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক । এখানে রয়েছে হাজার বছরের পুরনো সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন থেকে শুরু করে মধ্যযুগের বাংলার মুসলিম আমলের নিদর্শন । রাজশাহী অঞ্চলের সনাতন ইতিহাস, ধর্মীয় রীতি, সংস্কৃতি এবং শিল্পচর্চার অসাধারণ সব নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এখানে ।

    এই জাদুঘরটি গবেষণার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এখানে ১৪ হাজার গ্রন্থ সমৃদ্ধ একটি সংগ্রন্থশালা (গ্রন্থাগার) রয়েছে, যেখানে প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাস, শিল্প ও প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য দুর্লভ সব বইপত্র সংরক্ষিত আছে । যদিও গ্রন্থাগারটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য নয়, শুধুমাত্র গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ।


    সাতটি গ্যালারিতে ছড়িয়ে থাকা ইতিহাস: জাদুঘরের দুর্লভ সংগ্রহ

    বরেন্দ্র জাদুঘরের সংগ্রহ সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি । এসব মূল্যবান নিদর্শনগুলোকে সাজানো হয়েছে সাতটি প্রদর্শনী কক্ষে (গ্যালারি) ।

    বরেন্দ্র জাদুঘর

    ১ম গ্যালারি: সভ্যতার ভোর

    এই গ্যালারিতে সাজানো রয়েছে সিন্ধু সভ্যতার (খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০) প্রত্নসম্পদ । এছাড়াও রয়েছে পাহাড়পুর থেকে উদ্ধারকৃত ২৫৬টি ঐতিহাসিক সামগ্রী, ফার্সি ফরমান, বাংলা দলিলপত্র, পুরনো বাংলা হরফে সংস্কৃত লিপি, ইসলামি রীতির ধাতব তৈজসপত্র, হাতে লেখা কোরআন শরীফ এবং মুঘল চিত্রকলার অসাধারণ নিদর্শন ।

    ২য় গ্যালারি: বৌদ্ধ ও হিন্দু ভাস্কর্য

    এই কক্ষে রয়েছে বৌদ্ধ ও হিন্দু দেবদেবীর তৈরি পাথর ও কাঠের অসাধারণ ভাস্কর্য । বিশেষ করে পাহাড়পুর থেকে উদ্ধারকৃত পোড়ামাটির ফলকগুলো এখানে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে ।

    ৩য় ও ৪র্থ গ্যালারি: হিন্দু দেবদেবীর সমারোহ

    ৩য় গ্যালারিতে দেখা মিলবে একাধিক সূর্য মূর্তি, শিব মূর্তি, গণেশ মূর্তি ও বিষ্ণু মূর্তি । ৪র্থ গ্যালারিটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীশক্তির প্রতীক দুর্গা, গৌরী, উমা, পার্বতী ও চামুন্ডা মূর্তির জন্য । এখানে মাতৃকা দেবীদের অসাধারণ সব পাথরের মূর্তি রয়েছে ।

    আরও পড়ুন:  গাজীপুর সাফারি পার্ক ভ্রমণ গাইড ২০২৬: টিকেট মূল্য ও যাতায়াত

    ৫ম গ্যালারি: বৌদ্ধ ধর্মের নিদর্শন

    এই গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয় বুদ্ধ মূর্তি, বোধিসত্ত্ব, তারা ও জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি । বিশেষ করে একাদশ শতকে নির্মিত বুদ্ধমূর্তি এবং ভৈরবের মাথার ভাস্কর্য এখানে অত্যন্ত মূল্যবান ।

    ৬ষ্ঠ গ্যালারি: লিপি ও ইসলামি নিদর্শন

    এটি জাদুঘরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ । এখানে রয়েছে আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত এবং প্রাচীন বাংলা ভাষায় খোদাই করা পাথরের লিপি । এছাড়াও আছে মুসলিম যুগের খোদিত পাথর, মিহরাব, অলঙ্কৃত চৌকাঠ এবং শেরশাহের আমলে নির্মিত দুটি কামান । বারান্দায় পাহাড়পুরের পোড়ামাটির ফলক সাজানো রয়েছে ।

    ৭ম গ্যালারি: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি

    বাংলাদেশের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এই গ্যালারিতে । এখানে তাদের জীবনযাত্রা, পোশাক-পরিচ্ছদ, অলংকার ও ধর্মীয় উপাচারের নিদর্শন দর্শনার্থীদের কাছে ভিন্নমাত্রা যোগ করে ।


    বরেন্দ্র জাদুঘরের দুর্লভ মুদ্রার সংগ্রহ

    বরেন্দ্র জাদুঘরের মুদ্রা সংগ্রহটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । এখানে রয়েছে মোঘল আমলের রৌপ্যমুদ্রাগুপ্ত সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের গোলাকার স্বর্ণমুদ্রা এবং সম্রাট শাহজাহানের গোলাকার রৌপ্যমুদ্রা । এই মুদ্রাগুলো প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে ।


    বরেন্দ্র জাদুঘর ভ্রমণ গাইড: সময়সূচী, টিকেট ও যাতায়াত

    বরেন্দ্র জাদুঘর সময়সূচী

    প্রবেশমূল্য ও সময়সূচী

    • প্রবেশমূল্য: সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশী পর্যটকদের জন্য ২০০ টাকা । ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য প্রবেশমুক্ত ।
    • সময়সূচী: শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে ।
    • ছুটির দিন: প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত ছুটির দিন ও সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ থাকে ।

    কিভাবে যাবেন (ঢাকা থেকে রাজশাহী)

    ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য সড়ক, রেল ও আকাশপথ রয়েছে ।

    • সড়কপথ: গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, দেশ ট্রাভেলস, গ্রীন লাইন, বাবলু এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি কোম্পানির এসি ও নন-এসি বাস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় । ভাড়া ৪০০ থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে । রাজশাহী পৌঁছে অটোরিক্সা বা রিক্সায় করে জাদুঘরে যাওয়া যায় ।
    • রেলপথ: কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (দুপুর ২:৪০ মিনিট) এবং পদ্মা এক্সপ্রেস (রাত ১১:১০ মিনিট) রাজশাহী যাওয়ার জন্য জনপ্রিয় ট্রেন । ভাড়া ৩৫০ থেকে ১,১০০ টাকার মধ্যে ।
    • আকাশপথ: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইট রাজশাহীতে যায় । ভাড়া ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা ।
    আরও পড়ুন:  সাফিনা পার্ক ভ্রমণ গাইড ২০২৬: যাতায়াত, টিকিট ও বিস্তারিত তথ্য

    রাজশাহী শহরে পৌঁছানোর পর অটোরিক্সা বা রিক্সা নিয়ে সরাসরি বরেন্দ্র জাদুঘরে চলে যেতে পারবেন । এটি রাজশাহী কলেজের পাশে, শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ।


    কোথায় থাকবেন: রাজশাহীর আবাসন ব্যবস্থা

    রাজশাহী শহরে থাকার জন্য নিম্নমানের থেকে উচ্চমানের অনেক হোটেল রয়েছে । কিছু জনপ্রিয় আবাসন ব্যবস্থার ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর নিচে দেওয়া হলো:

    1. বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মোটেল: রাজশাহী চিড়িয়াখানার পাশে অবস্থিত । এসি সিঙ্গেল রুম ১,৯০০ টাকা, এসি ডাবল রুম ২,৬০০ টাকা, সুইট ৪,৬০০ টাকা । (যোগাযোগ: ০৭২১-৭৭৫২৩৭)
    2. হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল: গণকপাড়ায় অবস্থিত । (০৭২১-৭৭৬১৮৮)
    3. হোটেল মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল: সাহেব বাজারে অবস্থিত । (০৭২১-৭৭১১০০)
    4. হোটেল ডালাস ইন্টারন্যাশনাল: বিন্দুর মোড়ে অবস্থিত । (০৭২১-৮১১৪৭০)
    5. হোটেল শুকরান: মালোপাড়ায় অবস্থিত । (০৭২১-৭৭১৮১৭)

    এছাড়াও আছে হোটেল হকস্ ইন, হোটেল ফরচুন গার্ডেন সহ আরও অনেক মানের হোটেল । এসব হোটেলে ৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা ভাড়ায় রুম পাওয়া যায় ।


    কোথায় খাবেন

    বরেন্দ্র জাদুঘর শহরের মূল কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় এর আশেপাশে খাওয়ার জন্য ভালো মানের অনেক রেস্তোরাঁ রয়েছে । রাজশাহীর নিজস্ব খাবার হিসেবে গুড়ের পিঠা এবং আম খুবই বিখ্যাত । পর্যটন মৌসুমে এগুলি জরুরি ট্রাই করতে পারেন । এছাড়া শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় দেশীয় ও বিদেশী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে ।


    ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

    • ছবি তোলা: জাদুঘরের ভেতরে সাধারণত ক্যামেরা বা মোবাইল দিয়ে ছবি তোলার অনুমতি থাকে, তবে ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা যাবে না । ভেতরে ঢোকার সময় গেটে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো ।
    • সময়: জাদুঘর দেখার জন্য অন্তত ২-৩ ঘণ্টা সময় রাখুন । সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে (শনি ও রবি) জনসমাগম বেশি থাকে, তাই এড়িয়ে চলতে পারেন ।
    • নিয়ম: জাদুঘরের ভেতরে কোনো খাবার বা পানীয় নিয়ে যাওয়া যাবে না । ঐতিহাসিক নিদর্শন স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন ।
    • বর্ষায় সতর্কতা: বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি হলে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে পারে । তাই ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নিন। বর্ষায় এডভেঞ্চারের নামে জীবনের ঝুঁকি নেবেন না ।

    উপসংহার

    বরেন্দ্র জাদুঘর শুধু রাজশাহী নয়, গোটা বাংলাদেশের গর্ব । এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষী । প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন থেকে শুরু করে মধ্যযুগের জমিদারি ঐতিহ্য, বৌদ্ধ ও হিন্দু সংস্কৃতির পাশাপাশি ইসলামি শিল্পকলার অসাধারণ সমন্বয় ঘটেছে এই জাদুঘরে । আপনার পরিবার, বন্ধু বা একক ভ্রমণ—সবার জন্যই এটি একটি জ্ঞানগর্ভ ও মনোমুগ্ধকর স্থান ।

    যদি আপনি এখনো বরেন্দ্র জাদুঘর না দেখে থাকেন, তবে দেরি না করে ঘুরে আসুন রাজশাহী । ইতিহাসের গভীরে ডুব দিয়ে দেখুন সভ্যতার চিহ্ন । আর ভ্রমণের আগে আমাদের গাইডটি ফলো করে নিন । আপনার ভ্রমণ হোক নিরাপদ এবং স্মরণীয় ।

    সতর্কতা: হোটেলের ভাড়া, বাস ও ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে । ভ্রমণে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার অনুরোধ রইলো ।

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins
    Right Menu Icon