মহুয়া পালা বিষয়বস্তু
কবি দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালাটি মূলত সামাজিক বাধা ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের বিরুদ্ধে এক শাশ্বত প্রেমের জয়গান । কাঞ্চনপুর গ্রামের এক ব্রাহ্মণের রূপবতী কন্যা মহুয়াকে ছোটবেলায় চুরি করে নিয়ে যায় হুমরা বাইদ্যা নামের এক বেদে সর্দার । বেদে বহরে বড় হওয়া মহুয়া যখন দলবলসহ ‘বামনকান্দা’ গ্রামে খেলা দেখাতে যায়, তখন সেখানকার জমিদার নদের চাঁদের সাথে তার গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । কিন্তু বেদে সর্দার হুমরা বাইদ্যা এই প্রেম মেনে না নিয়ে মহুয়াকে নিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যায় । প্রেমের টানে নদের চাঁদও ঘরবাড়ি ছেড়ে ঘরছাড়া হয় এবং অনেক খোঁজাখুঁজির পর কংস নদীর তীরে তাদের আবার মিলন ঘটে । সেখান থেকেও তারা পালিয়ে যাওয়ার পথে নানা বিপদের মুখোমুখি হয়, যার মধ্যে এক ভণ্ড সাধুর কুচক্র থেকে মহুয়া নিজের বুদ্ধিমত্তায় নদের চাঁদকে রক্ষা করে । তবে শেষ রক্ষা হয়নি; হুমরা বাইদ্যার দল অবশেষে তাদের খুঁজে বের করে এবং মহুয়ার হাতে একটি বিষমাখানো ছুরি দিয়ে নদের চাঁদকে হত্যা করতে বলে । মহুয়া নিজের ভালোবাসাকে হত্যা না করে সেই বিষাক্ত ছুরি নিজের বুকে বসিয়ে আত্মাহুতি দেয় । এরপর নদের চাঁদকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ।
ঘটনার শেষে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে হুমরা বাইদ্যা এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকার অমলিন স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের একই কবরে শায়িত করে । ‘মহুয়া’ পালাটি মূলত সামাজিক জাতিভেদ, শ্রেণি বৈষম্য ও ভাগ্যের নির্মমতার বিরুদ্ধে এক শাশ্বত প্রেমের জয়গান, যা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক ট্র্যাজিক ও মহিমান্বিত রূপ লাভ করেছে ।

