পদ্মা কবিতার মূলভাব
সহজ ভাষায় এই কবিতার মুল কথা: পদ্মাকে যেমন সর্বনাশা নদী বলা হয় আবার পদ্মা কিন্তু হাজার মানুষের বেঁচে থাকার কারণ । প্রবিবছর এত পদ্মা নদী ভাঙ্গনে, প্রচন্ড স্রোতে এত ক্ষতি হওয়ার পরও মানুষ পদ্মা নদীর তীরেই বসবাস করে; কারন পদ্মা নদীর স্রোতে ভেসে আসা পলির কারনে ভালো ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় । আবার এই নদীতে মাছ ধরে অসংখ্য মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে । সুতরাং পদ্মার নেতিবাচক দিকের সাথে সাথে ইতিবাচক দিকও রয়েছে ।
পদ্মা কবিতার লাইন বাই লাইন ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: এক ভয়ংকর পর্তুগিজ জলদস্যু “হার্মাদ” এর কথা বলা হচ্ছে যে তিনি ঘূণিঝড় কিংবা প্রবল স্রোতের মধ্য দিয়েও অনেক অনেক সমুদ্র বিচরন করেছেন, অনেক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন । এত সাহসি এবং ভয়ংকর একজন জলদস্যুও পদ্মার ভয়াবহ রূপ/তীব্র স্রোত দেখে ভয়ে কেপেছিলেন । তার মুখ শুকিয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল । এখানে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে ঘূর্ণিঝড় কিংবা প্রচন্ড স্রোতে পদ্মা আসলে কতটা ভয়ানক হতে পারে ।

ব্যাখ্যা: কবি বলেছেন যেখানে হার্মাদ ভয় পেয়েছিলেন সেখানি বাঙালিরা এই পদ্মার তীরে বসবাস করে; তাহলে বাঙ্গালিরা কতটা সাহসি! পদ্মা যতই ভয়াবহ হোক না কেন তবুও কিন্তু মানুষ তার দুই তীরে ফসল চাষ করে । এর কারন পদ্মা নদী স্রোতের সাথে পলি নিয়ে আসে যা চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগি । অর্থাৎ পদ্মা নদীর দুই তীরে মাটি খুবই উর্বর । তাই বাচবে না মরবে সেই ভয় না করে সেখানেই তারা চাষাবাদ করে এবং সবুজ শ্যামলের প্রকৃতির মাঝে নিজের সুখ খুজে নেয় ।

ব্যাখ্যা: বর্ষায় তীব্র স্রোতে মানুষের ঘড়-বাড়ি, ফসল সব ভেসে নিয়ে যায়; এমনকি অসংখ্য মানুষও জীবন হারিয়েছে । তবুও মানুষ এই পদ্মার প্রতিই নির্ভরশীল হয়ে আশায় বুক বাধে । কবির প্রত্যাশা পদ্মায় যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন তারা যেন নতুন ভাবে নিজেকে গড়ে তোলার দুয়ার খুজে পায়; তারা যেন তীব্র স্রোতের মত দ্রুত গতিতে জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে ।

