• মির্জা গালিব এর উক্তি
  • মির্জা গালিব এর কষ্টের উক্তি: মির্জা গালিব এর শায়েরি

    মির্জা গালিব এর কষ্টের উক্তি

    উর্দু কাব্যসাহিত্যের ইতিহাসে মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব কেবল এক রাজকীয় নাম নন, বরং তিনি মানবহৃদয়ের শাশ্বত বিরহ, একাকীত্ব ও নিঃশব্দ বেদনার প্রজ্ঞাময় কণ্ঠস্বর । গালিবের কবিতায় কষ্ট কোনো দুর্বলতার প্রকাশ নয়; বরং তা জীবনবোধ, আত্মমর্যাদা এবং অস্তিত্বের সত্যকে অনুধাবনের এক গভীর দর্শন । তিনি বেদনার রঙকে এমন সূক্ষ্ম ও নান্দনিকভাবে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন, যেখানে চোখের জল কেবল শোকের প্রতীক থাকে না, পরিণত হয় আত্মিক আলোকায়নে ।

    গালিবের প্রতিটি ‘শের’ বা উক্তি পাঠককে জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি করে, আবার একই সাথে সেই কষ্টকে বুক পেতে নেওয়ার এক অদ্ভুত মানসিক শক্তি জোগায় । প্রিয়ার অবহেলা, বন্ধুদের প্রবঞ্চনা কিংবা জীবনসংগ্রামের নির্মম রূপকে তিনি যেভাবে কাব্যের রূপ দিয়েছেন, তা শতাব্দী পেরিয়ে আজও বিরহী হৃদয়কে সান্ত্বনা দেয় । “মির্জা গালিব এর কষ্টের উক্তি” টাইটেলের এই আয়োজন আপনাকে নিয়ে যাবে মহাকবির সেই বিষাদময় অথচ পরম সত্যের জগতে, যেখানে কবির ভাষা হয়ে উঠবে আপনারই মনের না-বলা হাজারো যন্ত্রণার অনুচ্ছাদিত প্রতিধ্বনি ।


    মির্জা গালিব এর উক্তি


    ১. গাম-ই-জিন্দেগী সে না ডর ‘গালিব’ / ইয়ে তো এক দিন খতম হো হি জায়েগা। অর্থ: জীবনের কষ্টকে ভয় পেয়ো না গালিব, জীবন শেষ হওয়ার সাথে সাথে এই যন্ত্রণাও একদিন শেষ হয়ে যাবে।

    ২. মৌত কা এক দিন মুআইয়্যন হ্যায় / নীন্দ রাত ভর ক্যুঁ নেহি আতি।

    অর্থ: মৃত্যুর দিন তো নির্দিষ্ট করাই আছে, তবুও মনোকষ্টে সারারাত চোখে ঘুম আসে না কেন?

    ৩. দরদ মিন্নত কশ-ই-দওয়া না হুয়া / ম্যায় না আচ্ছা হুয়া, বুরা না হুয়া।

    অর্থ: আমার মনের কষ্ট কোনো ওষুধের তোয়াক্কা করেনি; আমি সুস্থও হইনি, আবার কষ্ট সামলে খারাপও হইনি।

    ৪. দিল হি তো হ্যায় না সংগ-ও-খিশত দরদ সে ভর না আয়ে ক্যু / রোয়েঙ্গে হাম হাজার বার কোঈ হামে সতায়ে ক্যু।

    অর্থ: হৃদয় তো, কোনো ইট-পাথর তো নয়! যন্ত্রণায় সে ভারাক্রান্ত হবে না কেন? আমি হাজার বার কাঁদব, কেউ অহেতুক প্রশ্ন করবে কেন?

    ৫. চিরাঘ-ই-খানাহ-ই-দিল তো বুঝ গ্যায়া কাব কা / অব ইস মে জো ধুঁয়া হ্যায় ওহ হ্যায় দাঘ-ই-হসরত।

    অর্থ: হৃদয়ের প্রদীপ তো অনেক আগেই নিভে গেছে, এখন যে ধোঁয়া দেখছ তা কেবল অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার আক্ষেপের দাগ।

    ৬. কোঈ উম্মীদ বর নেহি আতি / কোঈ সুরত নজর নেহি আতি।

    অর্থ: কষ্টের দিনগুলোতে আশার কোনো আলো দেখা যায় না, যন্ত্রণা থেকে উদ্ধারের কোনো পথও মেলে না।

    ৭. ঘাম-ই-হস্তী কা ‘গালিব’ ক্যায়া দওয়া হ্যায় / শমা হর রঙ মে জলতি হ্যায় সহর হোনে তক।

    অর্থ: অস্তিত্বের কষ্টের কী ওষুধ থাকতে পারে গালিব? প্রদীপকে তো ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত নিজের আগুনে জ্বলতেই হয়।

    ৮. রগোঁ মে দোড়তে ফিরনে কে হাম নেহি কায়েল / জো আঁখ সে হি না টপকা তো ফির লহু ক্যায়া হ্যায়।

    অর্থ: যা শুধু ধমনীতে বয়ে বেড়ায় তাকে রক্ত মানি না; কষ্ট আর বিরহে যা চোখ দিয়ে রক্তাশ্রু হয়ে ঝরে না, তা রক্তই নয়!

    ৯. ঘর জব বনা লিয়া তেরে দর পর কহে বিগ্যার / সায়ে কা তেরা ফরেব থা, মেহেরবাঁ নেহি।

    অর্থ: তোর দুয়ারে যখন আশ্রয় নিলাম, তখন বুঝলাম তোর ছায়াটাও ছিল এক নির্মম ছলনা।

    ১০. মুঝকো পুরসিশ-ই-অন্যায় পে না ইতনা শুত্র কা / কাট গ্যায়া শহর তো ফির হাল-ই-মেহেরাং ক্যায়া হ্যায়।

    অর্থ: আমার দুঃসময়ে কেউ খোঁজ না নিলে কী যায় আসে? পুরো অস্তিত্ব ধ্বংস হওয়ার পর কুঁড়েঘরের খবর নিয়ে লাভ কী!

    ১১. চিরাগ-ই-আখির-ই-শব হুঁ, বুঝা চালতা হুঁ / ম্যায় ওহ শমা হুঁ জো আপনে হি ধুঁয়ে মে ঘুটতি হ্যায়।

    অর্থ: আমি রাতের শেষ প্রদীপ, নিভে যাওয়ার মুখে; আমি সেই প্রদীপ যা নিজের ধোঁয়াতেই দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।

    ১২. হাজারোঁ খাঁওয়া হিশেঁ অ্যায়সি কি হর খাঁওয়া হিশ পে দম নিকলে / বহুত নিখলে মেরে আরমান, লেকিন ফির ভি কম নিকলে।

    অর্থ: হাজারো ইচ্ছা যে প্রতিটার অপূর্ণতায় প্রাণ যায়; কত ইচ্ছা যে বিসর্জন দিলাম, তবু যন্ত্রণার শেষ হলো না।

    ১৩. ইশরত-ই-কত্রা হ্যায় দরিয়া মে ফনা হো জানা / দরদ কা হদ সে গুজরনা হ্যায় দওয়া হো জানা।

    অর্থ: বিন্দু হয়ে জলরাশিতে বিলীন হওয়াতেই বিন্দুর সার্থকতা; কষ্টের সীমা যখন পেরিয়ে যায়, তখনই তা সহ্যের সামর্থ্য দেয়।

    ১৪. বাস কি দুশওয়ার হ্যায় হর কাম কা আসাঁ হোনা / আদমি কো ভি মায়াস্সর নেই জাঁসাঁ হোনা।

    অর্থ: জীবনধারণ সহজ হওয়া বড় কঠিন; সহস্র কষ্টের বাধা ডিঙিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাও সহজ নয়।

    ১৫. দিল কি বাত দিল মে হি রহ গয়ী / জব তুমনে মুঝে দেখকর মুখ মোড় লিয়া।

    অর্থ: হৃদয়ের সব আকুতি ভেতরেই চাপা পড়ে রইল, যখন তুমি আমাকে দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিলে।

    ১৬. হামনে তো পিয়ার কিয়া থা, তুমনে তো সওদা কিয়া থা / হামনে দিল দিয়া থা, তুমনে তো খেল কিয়া থা।

    অর্থ: আমি দিয়েছিলাম নিভে যাওয়া হৃদয়, আর তুমি করেছিলে লাভ-ক্ষতির হিসাব; আমি সঁপেছিলাম সত্তা, আর তুমি খেললে খেলা।

    ১৭. মৌত সে ডর নেহি لگتا / ডর لگتا হ্যায় তেরে জুদা হোনে সে।

    অর্থ: মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না, আমার সব ভয় তো প্রিয়জনের বিচ্ছেদের কষ্ট নিয়ে।

    ১৮. তেরি চ্যাহাত মে হামনে আপনা সব কুছ খো দিয়া / পর তুমনে হামে এক বার ভি ইয়াদ না কিয়া।

    অর্থ: কাউকে চাওয়ার আকুলতায় সব হারালাম, অথচ দিনশেষে সে একটিবারের জন্যও আমায় স্মরণে আনল না।

    ১৯. তেরি গলিয়োঁ মে হামনে বহু ত স্যাল গুজারে হ্যাঁয় / পর অব ওহ গলিয়োঁ মেরি নেহি રહી।

    অর্থ: স্মৃতিবিজড়িত যে গলিতে জীবনের অনেকটা সময় পার করেছি, আজ সেই পথ আর আমার রইল না।

    ২০. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ চ্ছাড় দিয়া / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।

    অর্থ: যার জন্য চারপাশের সব আপনজনদের ছাড়লাম, দিনশেষে সে-ই আমাকে একা ফেলে চলে গেল।

    ২১. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে আশ্ক বহায়ে হ্যাঁয় / পর তুমনে এক বার ভি মুড়কে নেহি দেখা।

    আরও পড়ুন:  ভালোবাসা নিয়ে মির্জা গালিব এর উক্তি ও অর্থ

    অর্থ: স্মৃতির আঘাতে কত চোখের জল ফেললাম, অথচ কেউ একটিবারও পেছনে ফিরে তাকাল না।

    ২২. তেরে বিন জেন্দেগী এক সাজা বান গয়ী হ্যায় / তুম আ জাও তো জেন্দেগী হাসীন বান যায়ে।

    অর্থ: প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে জীবন এখন এক কঠিন শাস্তি; ফিরে এলে হয়তো এই বিষাদ কাটত।

    ২৩. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে জুট্টা সমঝা।

    অর্থ: আমি তো সত্য অন্তরেই ভালোবেসেছিলাম, অথচ মানুষ আমায় ভেবে বসল এক মস্ত প্রবঞ্চক!

    ২৪. জেন্দেগী মে গাম তো বহুত হ্যাঁয় / পর তেরা গাম সবসে আলাদা হ্যায়।

    অর্থ: জীবনে দুঃখ-কষ্টের অভাব নেই, তবে কাছের মানুষের দেওয়া আঘাত সব কষ্টের চেয়ে আলাদা।

    ২৫. হামনে তো তেরে লিয়ে দুনিয়া সে লড়াই কি / পর তুমনে হামে হি ভূলা দিয়া।

    অর্থ: যার হাসির জন্য সমস্ত দুনিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম, সে-ই আমায় অনায়াসে ভুলে গেল।

    ২৬. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনি রাতেঁ গুজারী হ্যাঁয় / পর তুম হো কি কভি ইয়াদ হি নেহি করতে।

    অর্থ: বিরহের যন্ত্রণায় কত রাত ঘুমহীন কাটাই, অথচ অন্যের মনে আমার সামান্য স্মৃতির ছিটেফোঁটাও নেই।

    ২৭. তেরে বিন জেন্দেগী সুনি সুনি লাগে / তুম আ জাও তো জেন্দেগী মে রঙ ভর যায়ে।

    অর্থ: প্রিয় মানুষটি ছাড়া জীবন এক নিঃসঙ্গ ও বিষাদময় ক্যানভাস।

    ২৮. হামনে তো তুমসে ওফা কি থি / পর তুমনে হামে জফা দি।

    অর্থ: আমি সঁপেছিলাম বিশ্বস্ততা আর নিষ্ঠা, বিনিময়ে পেলাম কেবলই নির্মম আঘাত।

    ২৯. পিয়ার মে দরদ কা সিসিলা কভি খতম নেহি হোতা / ইয়ে তো জিন্দেগী ভর চলতা রহতা হ্যায়।

    অর্থ: অনুরাগের সাথে যে কষ্টের কাব্য শুরু হয়, তা সারা জীবন সমান্তরালে বইতে থাকে।

    ৩০. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা নাম খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি ইয়াদ না কিয়া।

    অর্থ: কারো মোহে পড়ে নিজের পরিচিতি পর্যন্ত হারিয়ে ফেললাম, অথচ সে কখনো স্মরণও করল না।

    ৩১. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি জেন্দেগী দাও পর লাগা দি / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।

    অর্থ: যার জন্য পুরো জীবন বাজি রেখেছিলাম, দিনশেষে সে-ই আমায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করল।

    ৩২. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে খেয়াল বুনে হ্যাঁয় / পর ওহ খেয়াল কভি সচে নেহি হুয়ে।

    অর্থ: যাকে ঘিরে কত সুন্দর কল্পনার ঘর বুনেছিলাম, কষ্টের বিষয় হলো সেই ভাবনার কোনোটিই সত্যি হলো না।

    ৩৩. তেরে বিন জেন্দেগী এক অধুরী কখানি হ্যায় / তুম আ জাও তো কখানি পুরী হো যায়ে।

    অর্থ: প্রিয়জনকে ছাড়া পুরো জীবনটাই যেন এক বিষাদময় অসমাপ্ত গল্প।

    ৩৪. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা, কোনো গুনাহ নেহি কিয়া থা / পর তুমনে হামে সজা দি।

    অর্থ: ভালোবাসাই তো বেসেছিলাম, কোনো অপরাধ তো করিনি! তবুও প্রতিনিয়ত কেন এই শাস্তি পাচ্ছি?

    ৩৫. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা সব কুছ লুটা দিয়া / পর তুমনে হামে কভি পিয়ার নেহি কিয়া।

    অর্থ: কারো টানে নিজের সব বিসর্জন দিলাম, অথচ সে কোনোদিন হৃদয় দিয়ে আমায় অনুভবই করল না।

    ৩৬. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ বুরবাদ কর দিয়া / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।

    অর্থ: যার জন্য নিজের সাজানো জগত ধ্বংস করলাম, সে দিনশেষে আমায় নিঃস্ব করে চলে গেল।

    ৩৭. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে গীত লিখে হ্যাঁয় / পর ওহ গীত কভি তুমনে সুনে হি নেহি।

    অর্থ: বেদনার কত কাব্য আর গান রচলাম, অথচ সেই কান্নার সুর কাঙ্ক্ষিত মানুষের কানে পৌঁছালই না!

    ৩৮. তেরে বিন জেন্দেগী এক অন্ধেরা হ্যায় / তুম আ জাও তো রোশনি হো যায়ে।

    অর্থ: সঙ্গহীন জীবন যেন অমাবস্যার গভীর আঁধার, আলোর কোনো উৎস সেখানে নেই।

    ৩৯. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে কভি সমঝা হি নেহি।

    অর্থ: ব্যাকুল অন্তরে সততা সঁপেছিলাম, কিন্তু প্রিয় মানুষটি আমার কষ্ট আর আকুলতা বুঝতেই পারল না।

    ৪০. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা হাশর ক্যায়া কর লিয়া / পর তুমনে হামে এক বার ভি নেহি দেখা।

    অর্থ: বিরহে নিজের কী করুণ ও বিধ্বস্ত হাল বানালাম! অথচ সে একটিবারও চোখ তুলে তাকাল না।

    ৪১. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি খুশিয়াঁ চ্ছাড় দিই / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।

    অর্থ: অন্যের প্রফুল্লতার জন্য নিজের সমস্ত হাসি বিসর্জন দিলাম, আর সে দিনশেষে আমাকেই একা ফেলে গেল।

    ৪২. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে লফজ জাযে হ্যাঁয় / পর ওহ লফজ কভি তুমনে পড়ে হি নেহি।

    অর্থ: কষ্টের ব্যাকুলতায় হাজারো চিঠি ও শব্দ সাজালাম, অথচ সেই শব্দগুলো কারও পড়া হলো না।

    ৪৩. বে-খুদি বে-সবব নেহি ‘গালিব’ / কুছ তো হ্যায় জিসকি পারদাদারী হ্যায়।

    অর্থ: এই যে আত্মভোলা ও বিধ্বস্ত অবস্থা—এ কারণ ছাড়া আসে না গালিব; নিশ্চয়ই আড়ালে কোনো গভীর ক্ষত গোপন রাখা হচ্ছে।

    ৪৪. উন কে দেখে সে জো আ জাতি হ্যায় মুঁহ পে রোনাক / ওহ সমঝতে হ্যাঁয় কি বিমার কা হাল অচ্ছা হ্যায়।

    অর্থ: প্রিয়ার আগমনে আমার মুখে যে সাময়িক আলোর ঝলক আসে, সে ভাবে বিরহী অসুস্থ লোকটা বোধহয় ভালোই আছে!

    ৪৫. আহ কো চাহিয়ে এক উমর আসর হোনে তক / কৌন জিতা হ্যায় তেরি জুুলফ কে সর হোনে তক।

    অর্থ: বেদনার এক দীর্ঘশ্বাসের বিচার মিলতে এক জীবন পার হয়ে যায়; সেই স্বস্তি পাওয়ার পর্যন্ত কে-ই বা বেঁচে থাকে?

    ৪৬. তেরে ওয়াদে পর জিয়ে হাম, তো ইয়ে জান ঝুট জানা / কি খুশি সে মর না জاتے জো এতবার হোতা।

    অর্থ: তোর ঝুটা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে বেঁচে আছি—এটা কষ্টেরই কথা; সত্যি বিশ্বাস করলে তো অনেক আগেই আনন্দে মরে যেতাম!

    ৪৭. হামকো উনসে ওফা কি হ্যায় উম্মীদ / জো নেহি জানতে ওফা ক্যায়া হ্যায়।

    অর্থ: আমি তার কাছে সহানুভূতির আশা করি, যে নিজেই জানে না মায়া বা বিশ্বস্ততা আসলে কী জিনিস!

    ৪৮. ইমান মুঝে রোকে হ্যায় তো খাঁচে মুঝে ঈমাঁ / কাবা মেরে পিছে হ্যায় তো সনমখানা মেরে আগে।

    অর্থ: নীতি আমায় টেনে ধরে, আবার মোহ আমায় টানে; মাঝে দাঁড়িয়ে কষ্টের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি।

    ৪৯. জিক্র উস পরী-ওয়াশ কা, অওর ফির বয়াঁ আপনা / বান গ্যায়া রকিব আখের, থা জো রাজদাঁ আপনা।

    আরও পড়ুন:  মির্জা গালিব এর উক্তি মৃত্যু নিয়ে: মির্জা গালিব এর উক্তি বই

    অর্থ: দুঃখের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে এমন বিপদে পড়লাম—যে পরম বন্ধুটি আমার মনের কথা জানত, সে-ই শেষে শত্রু হয়ে দাঁড়াল!

    ৫০. হাত সিদদে মে হ্যায়, সুরাহী সিদদে মে হ্যায় / ইশক মে হর এক শে সিদদা-গাহ বান জাতি হ্যায়।

    অর্থ: যন্ত্রণার চরম সীমায় পৌঁছে নতজানু হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট থাকে না।

    ৫১. হুসন-ই-বে-পরওয়া খেয়াল-ই-খাম কো আফা কর দিয়া / ইশক কো খুশফ্যাহমি কা এক জাম মিলা।

    অর্থ: প্রিয়ার উদাসীনতা ও অবহেলা আমার সমস্ত অমূলক স্বপ্নকে নিমিষে ভেঙে ছারখার করে দিল।

    ৫২. ফির উসি জাঁ-গুদাজ পে আ পঁহুচা হ্যায় দিল / জো মুঝসে ছুটা থা বহু দোস্ত কা সঙ্গ।

    অর্থ: সেই হৃদয়বিদারক যন্ত্রণাতেই আবার মন এসে ঠেকেছে, যেখানে বহু বছর আগে স্নেহের সঙ্গ হারিয়েছিল।

    ৫৩. বোঝ ওহ তুলে যা উঠা সাকूँ / ইশক মে হর এক বাত সানাদ নেহি হোতি।

    অর্থ: বেদনার সেই বোঝাই আমাকে দাও যা আমি সইতে পারি; অবহেলার সব ভার সহ্য করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

    ৫৪. যাব কি তুম বিন কোনো নেহি হ্যায় / ফির ইয়ে হংগামা অ্যায় খোদা ক্যায়া হ্যায়।

    অর্থ: যখন ভেতরে তুমি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, তবে চারপাশের এই বিভ্রান্তিকর শোরগোল আর বিভ্রান্তি কিসের?

    ৫৫. ম্যাহরম নেহি হ্যায় তু ভি তো আলম মে রাজ কা / জো কুছ কি রাজ-ই-গাইব হ্যায় পরদে মে সাজ কা।

    অর্থ: মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার নীরব খবর বোঝার ক্ষমতা আসলে কারও নেই।

    ৫৬. পিনা বাদা-ও-মস্ত রহনা হামারা তরিকা হ্যায় / তরক-ই-রসুমাত মে হ্যাঁয় ঈমান কা কামিল হোনা।

    অর্থ: কষ্টের সাগরে ডুবে নিজেকে মাতাল করে রাখাই আমার পথ; লোকদেখানো জীবনের নিয়ম ত্যাগ করাই তো নিষ্কৃতি।

    ৫৭. মেহেরবাঁ হো কে বুলা লো মুঝে চ্যাহে জিস ওয়াকত / ম্যায় গয়া ওয়াকত নেহি হুঁ কি ফির আ না সাকूँ।

    অর্থ: আমাকে একটু সহানুভূতির সাথে ডেকে নাও; আমি তো হারিয়ে যাওয়া সময় নই যে আর কখনো ফিরে আসতে পারব না।

    ৫৮. গালিব ছুটি শরাব, পর অব ভি কভি কভি / পিতা হুঁ রোজ-ই-আবর ও শব-ই-মাহতাব মে।

    অর্থ: কষ্ট ভোলার অভ্যাস হয়তো ছেড়েছি, তবুও বিরহের মেঘলা দিনে আর জোছনা রাতে হৃদয় আবার মাতাল হয়ে ওঠে।

    ৫৯. ক্যায়া ফরজ হ্যায় কি সব কো মিলে এক সা জবাব / আও না হাম ভি সায়র করেঁ তূর-ই-সীন কি।

    অর্থ: ব্যাকুল হৃদয়ের আহ্বানে সবাই কি একই প্রতিদান পাবে? নাকি সবাইকে শূন্য হাতেই ফিরতে হবে?

    ৬০. বন্দেগী মে ভি ওহ আজাদ ও খুদবীন হ্যাঁয় কি হাম / উলটে ফির আয়ে দর-ই-কা’বা যদি ওয়া না হুয়া।

    অর্থ: আমার কষ্ট চরম হলেও আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেব না; প্রিয়জনের দুয়ার বন্ধ পেলে সসম্মানে ফিরে আসাই শ্রেয়।

    ৬১. আয়না ক্যু না দুঁ কি নজর না লাগে / উনসে ক্যায়া চ্ছুپے জো মুঝসে ভি নেহি চ্ছুপা।

    অর্থ: রূপের আহংকার ও নির্দয়তা ঢাকতে আয়না কেন লুকিয়ে রাখব না? তাঁর নিষ্ঠুরতা তো আমার চোখে স্পষ্ট!

    ৬২. হর এক বাত পে কেহতে হো তুম কি তু ক্যায়া হ্যায় / তুমহি কহো কি ইয়ে আন্দাজ-ই-গুফতুগু ক্যায়া হ্যায়।

    অর্থ: আমার কাতর আকুতির জবাবে অবহেলায় বলো “তুই কে?” তুমিই বলো, মানুষের সাথে এমন আচরণ শোভা পায় কি?

    ৬৩. খুশি কি তামান্না মে গাম মিল গ্যায়া / জো মাঙ্গা খোদা সে ওহ কাম মিল গ্যায়া।

    অর্থ: একটুখানি সুখ চেয়েছিলাম, বিনিময়ে পেলাম আজীবনের বিরহবেদনা; যা চেয়েছি তা কষ্টের রূপ নিয়ে ফিরে এলো।

    ৬৪. শমা পরওয়ানে কো জলাতি হ্যায় / পরওয়ানা শমা পে ফিদা হোতা হ্যায়।

    অর্থ: আঘাতকারী আঘাত দিয়েই যায়, আর ভুক্তভোগী নিঃশব্দে সেই কষ্টের আগুনে নিজেকে সঁপে দেয়।

    ৬৫. ইশক কা রাজ রাজ হি রহতা / জব তক উসে রসুয়া না কিয়া জায়।

    অর্থ: মনের কষ্ট আর গোপনই থেকে যায়, যতক্ষণ না লোকচক্ষে এসে নিজের মর্যাদা নষ্ট হয়।

    ৬৬. তেরে খোত মে ইশক কা পয়গাম থা / পর ম্যায় উসে পঢ় না সাকা।

    অর্থ: চিঠিতে ভালোবাসার আশ্বাস ছিল সত্য, কিন্তু যন্ত্রণার অতল সাগরে ডুবে তা পুরো পড়ার শক্তি হলো না।

    ৬৭. হাজারোঁ কাফিল্যাঁ সে গুজরে হ্যাঁয় / পর তেরি গলিয়োঁ মে জো মাজা থা ওহ কহিঁ নেহি।

    অর্থ: জীবনের বহু কঠিন পথ হেঁটে পার হয়েছি, কিন্তু তোমার অচেনা ব্যবহারের আঘাতের সাথে কিছুর তুলনা হয় না।

    ৬৮. জেন্দেগী এক সফর হ্যায়, ইসমে হাজারোঁ মোড় হ্যাঁয় / পর তুম সে মিলনা এক হাসীন ইতিফাক থা।

    অর্থ: জীবনে কত মানুষ এলো-গেল, কিন্তু তোমার সাথে পরিচয়ের পর পাওয়া কষ্টের অভিজ্ঞতা পরম শিক্ষা দিল।

    ৬৯. খুশি মে তো সব সাথ দেতে হ্যাঁয় / পর গাম মে জো সাথ দে ওহি সচ্ছা দোস্ত হ্যায়।

    অর্থ: আনন্দের দিনে সবাই পাশে ভিড়ে, কিন্তু জীবনের কঠিন ও কষ্টের দিনে কেবল খাঁটি মানুষটাই পাশে থাকে।

    ৭০. জেন্দেগী মে পিয়ার কা হোনা জশুরী হ্যায় / পিয়ার কে বিন জিন্দেগী আধুরী হ্যায়।

    অর্থ: অনুভূতির শূন্যতা আর একাকীত্বের জীবন এক অসহনীয় কষ্টের বোঝা।

    ৭১. হাম তো তেরে পিয়ার মে দিওয়ানে হো গয়ে থে / পর তুমনে হামে সমঝা হি নেহি।

    অর্থ: কষ্টের সাগরে ডুব দিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম, অথচ কেউ আমার গভীরতা বা গুরুত্ব বুঝতেই পারল না।

    ৭২. তেরি ইয়াদ মে হাম রাত ভর জাগতে হ্যাঁয় / পর তুম হো কি সোয়ে রহতে হো।

    অর্থ: অতীতের যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিতে আমি সারারাত জেগে কাটাই, আর আঘাতকারী নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে।

    ৭৩. পিয়ার মে তো কুর্বানী देनी পডতী হ্যায় / হামনে তো আপনি জیندেগী হি কুর্বান কর দি।

    অর্থ: নিভৃতে নিঃশব্দ ত্যাগ করে গেলাম, কষ্টের বিনিময়ে নিজের পুরো জীবনটাই বিসর্জন দিয়ে দিলাম।

    ৭৪. তেরে বিন জেন্দেগী কুছ ভি নেহি / তুম হি তো মেরি জেন্দেগী হো।

    অর্থ: প্রিয় মানুষ ছাড়া জীবন বিষাদময় এক মরীচিকা, যার ভেতরে কোনো প্রাণ নেই।

    ৭৫. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে ধোকা দিয়া।

    অর্থ: আমি তো সরল মনে বিশ্বাস আর ভালোবাসা সঁপেছিলাম, বিনিময়ে মিলল কেবলই নিষ্ঠুর প্রবঞ্চনা।

    ৭৬. পিয়ার কা মেহসাস হি কুছ অউর হোতা হ্যায় / জব তুম পাশ হোتے হো তো সব কুছ হাসীন لگتا হ্যায়।

    আরও পড়ুন:  মির্জা গালিব এর উক্তি: ভালোবাসা, কষ্টের, প্রেম ও মৃত্যু নিয়ে

    অর্থ: সঙ্গ পেলে জীবনের কঠিন কষ্টও হালকা মনে হয়, কিন্তু বিচ্ছেদে তা পাহাড়সমান ভারী হয়ে ওঠে।

    ৭৭. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা ইমান খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি পিয়ার নেহি কিয়া।

    অর্থ: অন্যের মোহে নিজের সমস্ত নীতি হারিয়ে ফেললাম, অথচ সে কোনোদিন আমায় আপনই ভাবল না।

    ৭৮. জেন্দেগী মে এক বার পিয়ার তো হোতা হি হ্যায় / পর ওহ পিয়ার সচ্ছা হোনা চাহিয়ে।

    অর্থ: মানুষ জীবনে একবারই মন উজাড় করে ভালোবাসে, আর সেখানেই আঘাত পেলে সারা জীবন কষ্টের ভার বইতে হয়।

    ৭৯. পিয়ার মে দরদ তো হোতা হি হ্যায় / পর ওহ দরদ ভি হাসীন لگتا হ্যায়।

    অর্থ: ভালোবাসায় আঘাত ও বিরহের যন্ত্রণা থাকবেই, তবে সেই কষ্টের মাঝেও এক ধরনের বিষাদময় রূপ থাকে।

    ৮০. তেরি সোরত মে হামনে খোদা কো দেখা হ্যায় / তুম হি তো মেরি ইবাদত হো।

    অর্থ: যাকে উপাসনার মতো ভালোবেসেছিলাম, তার কাছ থেকে পাওয়া অবহেলা সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

    ৮১. পিয়ার কা কোনো রঙ নেহি হোতা / পর ওহ হর রঙ মে ঢল জাতী হ্যায়।

    অর্থ: অনুভূতির নির্দিষ্ট কোনো রূপ নেই, তা কখনো পরম আনন্দের আবার কখনো তীব্র বিষাদের রঙ ধারণ করে।

    ৮২. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা আপ খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি আপনা না সমঝা।

    অর্থ: নিজের অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা হারিয়ে ফেললাম, অথচ কাঙ্ক্ষিত মানুষটি কখনো আমাকে আপন ভাবল না।

    ৮৩. পিয়ার মে কোনো শর্ত নেহি হোতি / পিয়ার তো বাস হো জাতী হ্যায়।

    অর্থ: হিসাব-নিকাশ ছাড়া ভালোবেসে ফেলার পর যখন শর্তের বেড়াজালে পড়তে হয়, তখনই আসল কষ্টের শুরু হয়।

    ৮৪. তেরি হাসী মে হামনে আপনি খুশি দেখি হ্যায় / তুম হাসতে হো তো সব কুছ আচ্ছা لگتا হ্যায়।

    অর্থ: যার হাসিতে নিজের সুখ খুঁজতাম, তার দূরত্বের কারণেই আজ জীবনটা বিষাদে ভরে গেছে।

    ৮৫. জিন্দেগী মে পিয়ার কা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / হর কিসি কো সচ্ছা পিয়ার নেহি মিলতা।

    অর্থ: জীবনে কাঙ্ক্ষিত মানুষের প্রাপ্তি ভাগ্যের বিষয়; অবহেলা আর বিরহ সবার কপালেই কম-বেশি জোটে।

    ৮৬. পিয়ার কা এহসাস সবসে আলাদা হোতা হ্যায় / ইয়ে দিল কো ছুঁ জাতা হ্যায়।

    অর্থ: বিচ্ছেদের অনুভূতি পৃথিবীর সব কষ্টের চেয়ে আলাদা; তা সরাসরি হৃদয়ের গহীনে ক্ষত তৈরি করে।

    ৮৭. তেরি আঁখো মে হামনে আপনা ভবিশ্য দেখা হ্যায় / তুম হি তো মেরি মঞ্জিল হো।

    অর্থ: যার চোখে নিজের গন্তব্য দেখেছিলাম, সে পথ ভুলিয়ে হারিয়ে গেলে জীবনের মতো কষ্ট আর কিছুতে নেই।

    ৮৮. পিয়ার মে ধোকা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / পর পিয়ার করনা নেহি চ্ছোড়না চাহিয়ে।

    অর্থ: প্রেমে প্রতারিত হওয়া নিয়তির খেলা, কিন্তু আঘাতের ভয়ে অনুভূতিকে মেরে ফেলাও সম্ভব নয়।

    ৮৯. জিন্দেগী মে গাম কা হোনা জশুরী হ্যায় / তব হি তো খুশি কা এহসাস হোতা হ্যায়।

    অর্থ: জীবনে বিষাদ আর কষ্টের উপস্থিতি আছে বলেই মানুষ সামান্যতম আনন্দের প্রকৃত মূল্য অনুধাবন করতে পারে।

    ৯০. পিয়ার মে তো বন্দেগী হোতী হ্যায় / ইয়ে দিল সে দিল কা রিশতা হোতা হ্যায়।

    অর্থ: যখন আত্মিক বা মানসিক সম্পর্কের জায়গায় অবহেলা আসে, তখন সেই ভাঙনের কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    ৯১. তেরি সোহবত মে হামনে জিন্দেগী কা আসল মাজা লিয়া / তুম হি তো মেরি জিন্দেগী হো।

    অর্থ: সুন্দর অতীত স্মৃতির কথা মনে পড়া আর বর্তমানের একা হয়ে যাওয়ার দৃশ্যই মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্ট।

    ৯২. পিয়ার কা কোনো সীমা নেহি হোতী / ইয়ে তো অসীম হোতা হ্যায়।

    অর্থ: বেদনারও কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকে না, একাকীত্বের সাগরে তা সীমানাহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

    ৯৩. জিন্দেগী মে সব কুছ মিল জাতা হ্যায় / পর সচ্ছা পিয়ার নেহি মিলতা।

    অর্থ: দুনিয়ায় ধন-দৌলত অনেক কিছুই অর্জন করা যায়, কিন্তু খাঁটি স্বস্তি ও ভালোবাসার অভাব চিরকাল রয়ে যায়।

    ৯৪. পিয়ার মে তো বিশ্বাস হোনা চাহিয়ে / বিশ্বাস কে বিন পিয়ার আধুরা হ্যায়।

    অর্থ: বিশ্বাস ভেঙে গেলে যে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়, তা ধীরে ধীরে মানুষের অন্তরাত্মাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।

    ৯৫. ইশক নে ‘গালিব’ নিকম্মা কর দিয়া / ওয়ার্না হাম ভি আদমি থে কাম কে।

    অর্থ: বিরহ আর মনোকষ্ট গালিবকে একদম অকর্মণ্য বানিয়ে দিল, নইলে আমিও সমাজের দরকারী ও কাজের লোক ছিলাম।

    ৯৬. দিল-ই-নাদাঁ তুঝে হুয়া ক্যায়া হ্যায় / আখির ইস দরদ কি দওয়া ক্যায়া হ্যায়।

    অর্থ: ওরে আমার অবুঝ মন, তোর কী হয়েছে? বিরহজনিত এই ক্রমাগত যন্ত্রণার শেষ ওষুধই বা কী?

    ৯৭. হ্যায় অওর ভি দুনিয়া মে সুখন-ওর বহুত অচ্ছে / kehতে হ্যাঁয় কি ‘গালিব’ কা হ্যায় আন্দাজ-ই-বয়াঁ কুছ অওর।

    অর্থ: দুনিয়ায় বহু কবি ও জ্ঞানী আছেন, কিন্তু বিরহের কষ্টকে ‘গালিব’-এর মতো ফুটিয়ে তোলার শৈলী আর কারও নেই।

    ৯৮. ইশক পার জোর নেহি, হ্যায় ইয়ে ওহ আতশ ‘গালিব’ / জো লাগায়ে না লাগে অওর বুঝায়ে না বনে।

    অর্থ: বিরহের যন্ত্রণার ওপর কারো জোর চলে না গালিব, এ এমন এক আগুন যা চাইলেই জ্বালানো যায় না, আবার নিভানোও যায় না।

    ৯৯. হাম কো মালুম হ্যায় জান্নাত কি হাকীকত লেকিন / দিল কে খুশ রাখা নে কো ‘গালিব’ ইয়ে খয়াল অচ্ছা হ্যায়।

    অর্থ: বাস্তবের নিষ্ঠুরতা তো আমার জানা গালিব; কিন্তু কষ্ট ভুলে মিথ্যা কল্পনায় মনকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করাটাও মন্দ নয়!

    ১০০. ম্যায় নে মাজনূঁ পে কোঈ রিফায়াত না কি / ইয়ে ওহ রাজ হ্যায় জো মুঝ পে আফশা না হুয়া।

    অর্থ: কষ্টের শেষ সীমানায় পৌঁছে মানুষ যখন স্তব্ধ হয়ে যায়, তখন নিজের ভেতরের ক্ষত গোপন রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।


    পরিশেষে বলা যায়, মির্জা গালিবের কষ্টের উক্তিগুলো কেবল বেদনার আলেখ্য নয়; তা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত ও সংগ্রামের এক শাশ্বত দলিল । মহাকবি আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে জীবনের বিষাদ ও একাকীত্বকে শিল্পে রূপান্তরিত করে ধীরচিত্তে পথ চলতে হয় । সময় গড়িয়ে গেলেও হৃদয়ের ক্ষত, বিচ্ছেদ কিংবা হতাশার অনুভূতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি; তাই আজও নিজের কষ্টগুলোকে ভাষা দিতে মানুষ বারবার গালিবের চরণে ফিরে আসে । গালিবের এই বিষাদগাঁথা চিরকাল ক্ষতগ্রস্ত হৃদয়কে নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়ে যাবে ।

    Views: 0

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins

    Share with

    Right Menu Icon