রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা
পদ্মা নদীর বুকে নীল জলরাশি আর সবুজের সমারোহ—রাজশাহী যেন প্রকৃতির এক অভয়ারণ্য । এই শহরের হৃদয়ে অবস্থিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং এটি ইতিহাস, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন । স্থানীয়ভাবে এটি ‘শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা’ নামেও পরিচিত ।
আপনি যদি ঘুরতে আসেন রাজশাহীতে, অথবা পরিবার-পরিজন নিয়ে একদিনের পিকনিকের পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে এই চিড়িয়াখানা হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য । এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো—কীভাবে যাবেন, কী দেখবেন, খরচ কত, কোথায় থাকবেন এবং আরও অনেক কিছু । চলুন, শুরু করা যাক ।
আরও পড়ুনঃ
- বরেন্দ্র জাদুঘর (Varendra Museum): যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য
- রাজশাহীর বাঘা মসজিদ (Bagha Mosque): ইতিহাস, স্থাপত্য ও ভ্রমণ গাইড
- পুঠিয়া রাজবাড়ী (Puthia Rajbari): যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য
- উত্তরা গণভবন ভ্রমণ গাইড: যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য
- গ্রীন ভ্যালি পার্ক ভ্রমণ গাইড: যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য
- নওগাঁর আলতাদিঘী ও জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ একদিনের পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান
- পতিসর রবীন্দ্র কাচারী বাড়ির ইতিহাস: যাতায়াত, খরচ ও থাকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য
রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার ইতিহাস ও পরিচিতি
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পদ্মা নদীর তীরবর্তী এক সময়ের রেসকোর্স ময়দানের ৩২.৭৬ একর জমির উপর নির্মিত । ১৯৭২ সালে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান সড়কের কাছে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় । পরবর্তীতে ১৯৭৪-১৯৭৬ সালে রাজস্ব বিভাগের অনুমতিক্রমে এখানে একটি শিশু পার্ক যুক্ত করা হয় । এই সংযোজনই স্থানটিকে বর্তমান রূপ দিয়েছে—যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ চিড়িয়াখানার পাশাপাশি রয়েছে বিনোদনমূলক পার্ক ।
স্থানীয়দের কাছে এটি ‘শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা’ নামেই বেশি পরিচিত । শহরের কলকাহিনী থেকে দূরে, প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এই স্থানটি প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে । এখানে শিক্ষা সফর, বনভোজন, পারিবারিক পিকনিক—সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করে ।
রাজশাহী চিড়িয়াখানা কোথায় অবস্থিত
রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা রাজশাহী শহরের শ্রীরামপুর এলাকায় অর্থ্যাৎ এটি রাজশাহী কোর্ট এলাকা এবং পদ্মা নদীর পাড় সংলগ্ন বাঁধের ঠিক পাশেই অবস্থিত ।
কীভাবে যাবেন
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন বা শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে অটোরিকশা বা রিকশায় করে খুব সহজেই এই পার্কে পৌঁছানো যায় । এটি সাহেব বাজার থেকে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত ।
১. ঢাকা থেকে রাজশাহী
রাজধানী ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য সড়ক, রেল ও আকাশপথ রয়েছে ।
বাসযোগে:
ঢাকার মহাখালী, গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর ও কল্যাণপুর থেকে নিয়মিত বাস সার্ভিস চালু রয়েছে ।
- এসি বাস: গ্রীন লাইন, একতা ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস – ভাড়া ৯০০ থেকে ১৪০০ টাকা ।
- নন-এসি বাস: শ্যামলি, হানিফ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস – ভাড়া ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা ।
ট্রেনযোগে:
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ।
- সিল্কসিটি এক্সপ্রেস: রবিবার বাদে দুপুর ২:৩০টায় ছেড়ে যায় ।
- পদ্মা এক্সপ্রেস: মঙ্গলবার বাদে রাত ১০:৪৫টায় ।
- ধূমকেতু এক্সপ্রেস: বৃহস্পতিবার বাদে সকাল ৬টায় ।
- বনলতা এক্সপ্রেস: শুক্রবার বাদে দুপুর ১:৩০টায় ।
ভাড়া শ্রেণিভেদে শোভন চেয়ার ৪৫০-৫৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৮৬৩-৯৪৯ টাকা, এসি সিট ১,০৩৫-১,৩৪০ টাকা এবং এসি বার্থ ১,৫৪৭ টাকা ।
বিমানযোগে:
দ্রুত যেতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বা নভোএয়ারের ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী যেতে পারেন ।
২. রাজশাহী শহর থেকে চিড়িয়াখানায় যাতায়াত
রাজশাহী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার । জিরো পয়েন্ট থেকে সহজেই রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় ভাড়া করে চলে আসতে পারেন । যাতায়াতের সময় ১৫-২০ মিনিটের বেশি লাগে না ।
প্রবেশমূল্য, সময়সূচি ও সুবিধা
নিচে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এর বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
১. রাজশাহী চিড়িয়াখানা সময়সূচি:
- প্রতিদিন সকাল ৮:০০টা থেকে বিকেল ৬:০০টা পর্যন্ত খোলা থাকে ।
- শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি থাকে, তাই সপ্তাহের দিনে গেলে নির্জনতা বেশি পাওয়া যায় ।
২. রাজশাহী চিড়িয়াখানা প্রবেশমূল্য:
- জনপ্রতি মাত্র ২৫ টাকা । এত কম খরচে এত বড় বিনোদন কেন্দ্র এটি বাংলাদেশের অন্যতম সুলভ গন্তব্য ।
- পিকনিক স্পট বা বিশেষ কোনো সুবিধা নিতে চাইলে আলাদাভাবে ফি জমা দিতে হবে ।
- পার্কের সামনে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা রয়েছে ।
চিড়িয়াখানা ও উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ
রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা শুধু প্রাণী দেখার জায়গা নয়, এটি প্রকৃতি ও শিল্পের এক অপূর্ব মিশেল ।
১. রাজশাহী চিড়িয়াখানা প্রবেশপথ ও ভাস্কর্য
প্রধান গেটে জিরাফের বিশাল ভাস্কর্য আর মৎস্যকন্যার ফোয়ারা দর্শনার্থীদের প্রথমেই আকর্ষণ করে । শিশু-কিশোরদের কাছে এটি ছবি তোলার ফটোস্পট হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ।

২. রাজশাহী চিড়িয়াখানা প্রাণীজগৎ
চিড়িয়াখানায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী:
- স্তন্যপায়ী: হরিণ, উদবিড়াল, ঘোড়া, বানর ইত্যাদি ।
- পাখি: বাজরিকা, বালিহাস, ময়ূর সহ নানান রকমের পাখি ।
- সরীসৃপ: অজগর সাপ, কুমির, গুইসাপ ইত্যাদি ।
- এছাড়া রয়েছে জলজ ও স্থলজ নানান প্রাণী ।
৩. রাজশাহী চিড়িয়াখানা কৃত্রিম পাহাড় ও পদ্মা দৃশ্য
পার্কের ভেতরে একটি কৃত্রিম পাহাড় রয়েছে । এই পাহাড়ের চূড়া থেকে দূরের পদ্মা নদীর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় এই দৃশ্য আরও নয়নাভিরাম হয়ে ওঠে ।

৪. রাজশাহী চিড়িয়াখানা শিশু পার্ক ও রাইডস
পার্কের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা:
- প্যাডেল বোট: ছোট হ্রদে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা ।
- নাগর দোলা, মেরি-গো-রাউন্ড সহ বেশ কিছু আকর্ষণীয় রাইড ।
- পার্কের ভেতরে রয়েছে ছোট লেক ও নান্দনিক ব্রিজ, যা হাঁটার জন্য অত্যন্ত মনোরম ।
৫. রাজশাহী চিড়িয়াখানা উদ্ভিদ সমাহার
চিড়িয়াখানার ভেতরে রয়েছে নানারকম ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের সমারোহ। ছায়াঘেরা পথগুলো হাঁটার জন্য অত্যন্ত প্রশান্তিদায়ক ।
রাজশাহী চিড়িয়াখানায় খাওয়া-দাওয়া
পার্কের ভেতরে ও আশেপাশে খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে ।
- পার্কের ভিতরে: সাধারণ জলখাবার, চিপস, পানীয় পাওয়ার ছোট স্টল রয়েছে ।
- পার্কের আশেপাশে: বেশ কয়েকটি মানসম্পন্ন রেস্তোরাঁ আছে যেখানে দেশি-বিদেশি খাবার পাওয়া যায় ।
- রাজশাহী শহরে: চাইনিজ, ফাস্ট ফুড ও ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারের জন্য অনেক রেস্তোরাঁ রয়েছে । জিরো পয়েন্ট এলাকায় বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় খাবারের দোকান রয়েছে ।
কোথায় থাকবেন
রাজশাহী শহরে রাত্রিযাপনের জন্য বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও মোটেল রয়েছে । দর্শনার্থীরা বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন ।
উল্লেখযোগ্য হোটেল:
- বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন মোটেল: সাশ্রয়ী মূল্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার জায়গা ।
- হোটেল গ্রিন সিটি ইন্টারন্যাশনাল: শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ।
- হোটেল স্টার ইন্টারন্যাশনাল: মাঝারি বাজেটের জন্য চমৎকার ।
- হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল ও মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল: আরামদায়ক থাকার জন্য ভালো বিকল্প ।
রাজশাহীতে আসার আগে অনলাইনে বুকিং দিয়ে নিলে ভালো ডিল পাওয়া যেতে পারে ।
রাজশাহী হোটেল লিস্ট ও ভাড়া
| হোটেলের নাম | অবস্থান/ঠিকানা | আনুমানিক ভাড়া (প্রতি রাত) | ফোন নম্বর |
| পর্যটন মোটেল | আব্দুল মজিদ রোড, কাজীহাটা (চিড়িয়াখানার খুব কাছে) | ২৫০০ – ৭০০০ টাকা | ০১৭৭৮-৪০৩২২৫, ০১৯৯১১৩৯৩৯৪ |
| হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল | গণকপাড়া, সাহেব বাজার | ২০০০ – ৬৬০০ টাকা | ০১৭৪০-১৩৩৯৩৩, ০২৫৮৮-৮৫৬১৮৮ |
| ওয়ারিশান রেসিডেন্সিয়াল হোটেল | জোডিয়াক প্যালেস, জিরো পয়েন্ট, সাহেব বাজার | ৪৫০০ – ৮০০০ টাকা | ০১৭৯৩-০৪০২৬৯ |
| রয়্যাল রাজ হোটেল | ২৬-২৭ গণকপাড়া, সাহেব বাজার | ৫৫৫০ – ৮৫০০ টাকা | ০১৭০৯-৬৭২৪২৪ |
| হোটেল গ্র্যান্ড রিভার ভিউ | ২৩২, কাজীহাটা (পদ্মা নদীর ধারে) | ৮০০০ – ১৫০০০+ টাকা | ০১৮৭৭-৭৬৬৯৬৬ |
| হোটেল এক্স রাজশাহী | তেরখাদিয়া, রাজশাহী | ৬৫০০ – ১২০০০ টাকা | ০১৭৫৫-৫৫৪৫৭০ |
| হোটেল স্টার ইন্টারন্যাশনাল | আমচত্বর, নওদাপাড়া | ৩৪০০ – ৮৫০০ টাকা | ০১৭৮৪-৪০০৭০০ |
| চেজ রাজ্জাক সুইটস | হাউজ-৩১০, রোড-০২, পদ্মা হাউজিং এস্টেট | ৪০০০ – ৭০০০ টাকা | ০১৭১১-৯৫৮৭০৮ |
| হোটেল ডালাস | বিন্দু মোড়, রেল গেট | ৮০০ – ১৮০০ টাকা | ০১৭৭৭-০৫৪৭৬৫ |
| হোটেল হকেরি | সাহেব বাজার, জিরো পয়েন্ট | ৬০০ – ১৫০০ টাকা | ০১৭১২-৪২৩৯৬৫ |
| হোটেল সুকৃতি | সাহেব বাজার (বড় মসজিদের পাশে) | ৫০০ – ১২০০ টাকা | ০১৭২০-৫৬৪১৫১ |
| হোটেল সিটি প্যালেস | শিরোইল বাস টার্মিনাল | ৭০০ – ২০০০ টাকা | ০১৭২৫-০৩১৯৮৯ |
| হোটেল টাউন প্যালেস | লক্ষ্মীপুর মোড় | ৯০০ – ২২০০ টাকা | ০১৭০৯-৩১৩৭৭৭ |
| হোটেল পার্ক | সাহেব বাজার, রাজশাহী | ৭০০ – ১৬০০ টাকা | ০৭২১-৭৭১২৪৬ |
রাজশাহী দর্শনীয় স্থান
রাজশাহী চিড়িয়াখানা ঘুরে সময় থাকলে শহরের আরও কিছু ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান দেখতে পারেন ।
১. বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জাদুঘর । এখানে প্রাচীন নিদর্শন, পুঁথি, শিল্পকর্ম সংরক্ষিত আছে ।
২. বাঘা মসজিদ
মোঘল স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন । রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ।
৩. পুঠিয়া রাজবাড়ী
পুঠিয়া উপজেলায় অবস্থিত জমিদারবাড়ি ও মন্দির চত্বর । ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ।
৪. পদ্মা নদীর পাড়
সূর্যাস্তের সময় পদ্মার চর ও নদীর ধারে সময় কাটানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা ।
ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
১. সকালে যান: চিড়িয়াখানা সকাল ৮টায় খোলে । সকালের দিকে প্রাণীরা বেশি সক্রিয় থাকে এবং গরমও কম থাকে ।
২. পানি ও খাবার: সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি ও শুকনো খাবার নিয়ে যেতে পারেন । ভেতরে বসে খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা আছে ।
৩. পোষাক: আরামদায়ক পোশাক ও হাঁটার উপযোগী জুতো পরুন । পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরতে একটু হাঁটতে হবে ।
৪. ছবি তোলা: চিড়িয়াখানার বিভিন্ন স্থান ছবি তোলার জন্য অসাধারণ । তবে প্রাণীদের ফ্ল্যাশ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন ।
৫. পরিচ্ছন্নতা: চিড়িয়াখানা আমাদের জাতীয় সম্পদ । ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন, পরিবেশ সচেতন থাকুন ।
৬. পিকনিক: বড় দল নিয়ে পিকনিক করতে চাইলে আগে থেকে পার্ক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে স্পট বুকিং করে নেওয়া ভালো ।
খরচের হিসাব: একটি পরিবারের জন্য আনুমানিক বাজেট
একটি ছোট পরিবার (৪ জন) ঢাকা থেকে রাজশাহী চিড়িয়াখানা ভ্রমণের আনুমানিক খরচ:
| খরচের ধরন | বিস্তারিত | খরচ (টাকা) |
|---|---|---|
| পরিবহন (ঢাকা-রাজশাহী) | বাস/ট্রেন (৪ জন) | ৩,০০০ – ৪,৫০০ |
| চিড়িয়াখানা প্রবেশ | ২৫ টাকা করে ৪ জন | ১০০ |
| স্থানীয় যাতায়াত | রিক্সা/অটো (যাওয়া-আসা) | ২০০ – ৩০০ |
| খাবার | মধ্যাহ্নভোজ ও জলখাবার (৪ জন) | ১,০০০ – ১,৫০০ |
| রাইড/বোট | ঐচ্ছিক | ৫০০ – ১,০০০ |
| মোট (প্রায়) | ৫,০০০ – ৭,৫০০ টাকা |
এটি একটি আনুমানিক হিসাব । বাস/ট্রেনের ক্লাস, খাবার মান ও অতিরিক্ত বিনোদন অনুযায়ী খরচ কম-বেশি হতে পারে ।
শেষ কথা: কেন ঘুরবেন রাজশাহী চিড়িয়াখানায়?
রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা শুধু একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, এটি একটি শিক্ষামূলক ও মনোরঞ্জনের মিলনস্থল । শিশুদের জন্য এটি প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার, নানান প্রাণী দেখার, আর খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানোর এক অসাধারণ সুযোগ । আর বড়দের জন্য এটি কোলাহলমুক্ত শহর থেকে কিছুটা দূরে এক প্রশান্তির আস্তানা ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিনোদনের ব্যবস্থা আর নামমাত্র খরচ—সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি পরিবারিক ভ্রমণ গন্তব্য ।
তাই আর দেরি নয় । পরবর্তী ছুটিতে প্যাক ব্যাগ করুন, রাজশাহী যাওয়ার টিকিট কাটুন আর চলে যান রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখতে । প্রকৃতির মাঝে একদিনের এই সফর আপনার স্মৃতিতে দাগ কাটবে নিশ্চিত ।

