• পদ্মা গার্ডেন রাজশাহী
  • ভ্রমণ গাইড
  • পদ্মা গার্ডেন রাজশাহী (Padma Garden Rajshahi) ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড

    পদ্মা গার্ডেন রাজশাহী

    পদ্মা গার্ডেন রাজশাহী- Padma Garden Rajshahi

    বাংলাদেশের কথা বললেই যেমন নদীমাতৃক দেশের ছবি ভেসে ওঠে, তেমনি ‘রাজশাহী’ শহরের নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভাসে পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষানগরী আর সুবিশাল পদ্মা নদীর এক স্নিগ্ধ দৃশ্য । এই শহরের মানুষের জীবনের সাথে পদ্মা নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত । আর এই পদ্মার তীর ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে আধুনিক রাজশাহীর এক অন্যতম নান্দনিক স্থাপত্য ও বিনোদনের কেন্দ্র—পদ্মা গার্ডেন

    আজকের এই বিস্তারিত ব্লগ পোস্টে আমরা শুধু পদ্মা গার্ডেনের সৌন্দর্যই উপভোগ করবো না, বরং ডুব দেবো এর নামকরণের পেছনের সেই অসাধারণ ইতিহাসে । জানবো কেন এই পার্কটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং এটি রাজশাহী শহরের গর্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । সাথে থাকছে কীভাবে যাবেন, কোথায় খাবেন, কোথায় থাকবেন, খরচ কেমন হবে এবং আরও অনেক কিছু । চলুন, শুরু করা যাক ।


    আরও পড়ুনঃ


    পদ্মা গার্ডেনের পেছনের অমৃত গল্প: কে ছিলেন ওডভার মুনক্সগার্ড?

    আপনি যদি স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞেস করেন, তারা হয়তো বলবেন ‘পদ্মা গার্ডেন’ । কিন্তু এই পার্কটির একটি আনুষ্ঠানিক নাম রয়েছে যা অনেকের কাছেই অজানা—‘ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক’ (Oddvar Munksgaard Park)। একটি বাংলাদেশি পার্কের এমন একটি ইউরোপীয় নাম কেন? এই নামের পেছনে লুকিয়ে আছে এক সুন্দর বন্ধুত্বের গল্প, এক শহরের প্রতি এক বিদেশী বন্ধুর ভালোবাসার উপাখ্যান ।

    পদ্মা গার্ডেনের বর্তমান সৌন্দর্য উপভোগ করার আগে, এর নামকরণের পেছনের মানুষটিকে জানা জরুরী । ওডভার মুনক্সগার্ড ছিলেন একজন ড্যানিশ প্রকৌশলী ও উন্নয়নকর্মী । তিনি ডেনমার্কের আরহাস (Aarhus) শহরের পানি ও স্যানিটেশন বিভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ছিলেন ।

    নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এবং ডেনমার্কের আরহাস সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একটি যৌথ অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (Linkage Project) শুরু হয় । এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল রাজশাহীর নগর পরিকল্পনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ওডভার মুনক্সগার্ড এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান কারিগর ও সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন ।

    তিনি কেবল একজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ ছিলেন না; তিনি রাজশাহী শহরকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন । তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, কারিগরি জ্ঞান এবং আন্তরিকতা রাজশাহীর পরিবেশগত উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখে । তাঁর দেখানো পথ ধরেই রাজশাহী ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ‘ক্লিন সিটি’ বা পরিচ্ছন্নতম শহর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করে । এই ড্যানিশ বন্ধু রাজশাহীর পরিবেশ উন্নয়ন এবং শহরকে সুন্দর করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পদ্মা নদীর তীরের এই দৃষ্টিনন্দন পার্কটি নির্মাণ করে এবং তাঁর নামে উৎসর্গ করে। তাই, ‘ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক’ নামটি কেবল একটি নাম নয়, এটি দুই দেশের, দুই শহরের বন্ধুত্বের এক চিরন্তন প্রতীক ।

    আরও পড়ুন:  পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা: সেরা সময়, যাতায়াত ও পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড ২০২৬

    পদ্মা গার্ডেনের অবস্থান ও স্থাপত্য

    পদ্মা গার্ডেন বা ওডভার মুনক্সগার্ড পার্কের অবস্থান রাজশাহী শহরের কুমারপাড়া এলাকায়, টি-বাঁধের সংলগ্ন স্থানে । এটি রাজশাহী শহরের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র ‘পদ্মা পাড়’ বা রিভার ভিউ পয়েন্টেরই একটি বর্ধিত এবং সুসজ্জিত অংশ । শহরের কোলাহলপূর্ণ সাহেব বাজার বা নিউমার্কেট এলাকা থেকে খুব সহজেই অটোরিকশা বা রিকশায় চেপে এখানে পৌঁছানো যায় ।

    পার্কটির ভৌগলিক অবস্থান একে অনন্য করেছে । এটি এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যেখানে দাঁড়ালে একদিকে শহরের আধুনিক অবয়ব, আর অন্যদিকে প্রকৃতির অকৃত্রিম দান—প্রমত্তা পদ্মা নদীর অবারিত জলরাশি চোখে পড়ে ।

    এই পার্কটি গতানুগতিক কোনো পার্কের মতো নয় । এটি মূলত একটি ‘রিভারফ্রন্ট’ বা নদীর তীরবর্তী উদ্যান । এর নকশায় আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং ব্যবহারিক দিককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে:

    • ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ: পার্কের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রয়েছে প্রশস্ত, মসৃণ টাইলস বসানো হাঁটার পথ । এই পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে পদ্মার তাজা বাতাস যেকোনো ভ্রমণপিপাসু মানুষের মন ভালো করে দিতে বাধ্য ।
    • বসার ব্যবস্থা (গ্যালারি): পার্কটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বসার ব্যবস্থা । নদীর দিকে মুখ করে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ির মতো ধাপবিশিষ্ট গ্যালারি । এখানে শত শত মানুষ একসাথে বসে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে । এই গ্যালারিগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন প্রতিটি কোণ থেকেই নদীর প্যানোরমিক ভিউ পাওয়া যায় ।
    • সবুজায়ন ও ল্যান্ডস্কেপিং: পার্ক জুড়ে রয়েছে পরিকল্পিত সবুজায়ন । সুন্দর করে ছাঁটা ঘাসের লন, বিভিন্ন মৌসুমি ফুলের বাগান এবং সারিবদ্ধ গাছপালা পার্কটিকে এক স্নিগ্ধ রূপ দিয়েছে ।
    • আধুনিক আলোকসজ্জা: সন্ধ্যার পর এই পার্ক এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে । আধুনিক ও নান্দনিক এলইডি লাইটিং পুরো এলাকাকে আলোকিত করে তোলে । নদীর কালো জলে সেই আলোর প্রতিসরণ এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে । রাতের বেলাতেও এই পার্কটি পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য অত্যন্ত নিরাপদ এবং মনোরম ।

    কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে পদ্মা গার্ডেন

    রাজশাহী শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ দিকে কিছুটা হাটলেই পদ্মা গার্ডেন এর প্রবেশ গেইট চোখে পড়বে । তাই আপনাকে প্রথমে রাজশাহী পৌঁছাতে হবে । ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার জন্য তিনটি মাধ্যম রয়েছে:

    ১. সড়কপথে (বাস) পদ্মা গার্ডেন

    ঢাকার মহাখালী, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে বেশ কয়েকটি বাস সার্ভিস রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় । উল্লেখযোগ্য বাস কোম্পানিগুলো হলো:

    • গ্রীন লাইন (এসি/নন-এসি)
    • একতা ট্রান্সপোর্ট (এসি/নন-এসি)
    • শ্যামলি পরিবহন
    • হানিফ এন্টারপ্রাইজ
    • ন্যাশনাল ট্রাভেলস

    ভাড়া: শ্রেণি ভেদে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৭০০ থেকে ১৪০০ টাকা । রাজশাহী পৌঁছে যে কোনো সিএনজি, অটোরিকশা বা রিকশায় চেপে খুব সহজেই পদ্মা গার্ডেন যেতে পারবেন ।

    ২. রেলপথে (ট্রেন) পদ্মা গার্ডেন

    ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ট্রেন ছাড়ে । উল্লেখযোগ্য ট্রেনগুলো হলো:

    • সিল্কসিটি এক্সপ্রেস
    • পদ্মা এক্সপ্রেস
    • ধুমকেতু এক্সপ্রেস (নন-স্টপ, সপ্তাহে কয়েক দিন)
    • বনলতা এক্সপ্রেস

    ভাড়া: শ্রেণি (শোভন, স্নিগ্ধ, এসি) ভেদে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা

    ৩. আকাশপথে (বিমান) পদ্মা গার্ডেন

    বাংলাদেশ বিমান ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা (হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) থেকে রাজশাহী (শাহ মখদুম বিমানবন্দর) রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে । সময় কম, তবে খরচ তুলনামূলক বেশি ।


    পদ্মা গার্ডেনের প্রধান আকর্ষণ

    পদ্মা গার্ডেন শুধু একটি পার্ক নয়, এটি বিভিন্ন আকর্ষণের সমাহার । প্রতিটি অংশই দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে ।

    ১. পদ্মা নদীর তীর ও সূর্যাস্তের স্বর্গরাজ্য

    পদ্মা গার্ডেনের প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার সূর্যাস্ত । পশ্চিমে হেলে পড়া সূর্যের রক্তিম আভা যখন পদ্মার জলে প্রতিবিম্বিত হয়, সেই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন । এই গ্যালারিতে বসে অগণিত মানুষ প্রতিদিন এই মহাজাগতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমায় । আকাশ আর নদীর এই রঙিন ক্যানভাস দেখতে দেখতে সময় যেন থমকে দাঁড়া য়।

    আরও পড়ুন:  নওগাঁর আলতাদিঘী ও জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ একদিনের পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান

    ২. কারুকার্য অঙ্কিত ব্রিজ

    পদ্মা গার্ডেন এর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে দুটো ছোট খাল যা পদ্মা নদীর সাথে সংযুক্ত । এই খালের ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি নান্দনিক ব্রিজ । ব্রীজের ওপর দাঁড়িয়ে উত্তাল পদ্মার এক অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন । আর ব্রিজের ওপরে ফটোশুট করলে বেশ চমৎকার একটি ব্যাকগ্রাউন্ড পাওয়া যায়, কারণ ব্রিজের পিলারগুলোতে অঙ্কিত রঙিন নকশা ।

    ৩. শিশুদের বিনোদন: রাইডস ও খেলার ব্যবস্থা

    শুধু প্রকৃতিকে উপলব্ধি করতে পারে এমন লোকজন নয়, বাচ্চাদের বিনোদনের জন্যও এখানে সুব্যবস্থা রয়েছে । পার্কে প্রবেশ করেই দেখতে পাবেন বিভিন্ন রাইডস । নদীর তীর ঘেসেই আছে ঘুর্নায়মান ঝুলন্ত দোলনা, মিনি ট্রেন ও ঘুর্নায়মান হাতি-ঘোড়া । প্রতিটি রাইডে উঠতে চাইলে মাত্র ২০ টাকা মূল্যে টিকেট কাটতে হবে । তাই বাচ্চাদের শৈশবের মুহূর্তগুলো আরও আনন্দঘন করতে পদ্মা গার্ডেন ঘুরতে নিয়ে যেতে পারেন ।

    ৪. নৌকা ভ্রমণ

    পদ্মা গার্ডেন ঘুরতে যাবেন আর নৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াবেন না এ আবার হয় নাকি! নদীর তীর ঘেষে অনেক ছোট বড় নৌকা বাঁধা থাকে । আপনি চাইলে সময় চুক্তিতে একটি নৌকা ভাড়া করে পদ্মা নদীর বুকে কিছুটা সময় ঘুরতে পারবেন। অন্যান্য নদীর থেকে পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটা একটু বেশিই রোমাঞ্চকর, কারণ এখানে ঢেউয়ের বেগ বেশি । সূর্যাস্তের সময় নৌকায় বসে নদীর মাঝ থেকে এই দৃশ্য দেখা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ।

    ৫. স্ট্রিট ফুড ও ক্যাফে

    রাজশাহীতে গিয়ে সবথেকে ভালো স্ট্রিট ফুড এর সন্ধান করলে আপনাকে অবশ্যই পদ্মা গার্ডেন চলে যেতে হবে (বিশেষ করে বিকেলের দিকে) । পার্কের পুরোটা জুড়েই আছে বিভিন্ন ধরনের স্ট্রিট ফুডের দোকান। কফি শপ ও চাইনিজ কোর্ট তো রয়েছেই । চটপটি, ফুচকা, হালিম, আইসক্রিম, আচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের লোকাল ফুড এখানে পেয়ে যাবেন । নদীর ধারে চেয়ার টেবিল সাজিয়ে এইসকল ছোটখাটো দোকান গুলো দাড়িয়ে আছে। টি-বাঁধ এলাকায় রয়েছে বিখ্যাত ‘ভূতের বাড়ি’সহ বেশ কিছু ক্যাফে, যেখানে বসে কফি ও বারবিকিউর স্বাদ নিতে পারেন ।


    কোথায় খাবেন

    পদ্মা গার্ডেন এলাকায় স্ট্রিট ফুডের পাশাপাশি রাজশাহী শহরে খাবারের জন্য কিছু বিখ্যাত জায়গা রয়েছে:

    • হাঁসের মাংস: রাজশাহীতে গেলে বিখ্যাত হাঁসের মাংসের স্বাদ না নিলেই নয় । মড়মড়িয়া এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি পুরনো দোকান যেখানে হাঁসের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু করে পরিবেশন করা হয় ।
    • কালাভুনা: কাটাখালিতে গিয়ে খেতে পারেন জনপ্রিয় কালাভুনা । এটি এক ধরনের মসলাদার মাংসের পদ যা রাজশাহীর নিজস্ব খাবার হিসেবে পরিচিত ।
    • রেস্তোরাঁ: শহরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় ও চাইনিজ খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে । যেখানে আপনার পছন্দমত সবধরনের খাবার খেয়ে নিতে পারবেন ।

    কোথায় থাকবেন: রাত্রিযাপনের সেরা ঠিকানা

    রাজশাহীতে রাত্রিযাপনের জন্য বেশ কয়েকটি মানসম্মত হোটেল রয়েছে । উল্লেখযোগ্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে রয়েছে:

    • পর্যটন কর্পোরেশন মোটেল (সরকারি ব্যবস্থাপনায়, সাশ্রয়ী মূল্যে)
    • হোটেল গ্রিন সিটি ইন্টারন্যাশনাল
    • হোটেল স্টার ইন্টারন্যাশনাল
    • হোটেল সিল্ক ইন্টারন্যাশনাল
    • হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল
    • মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল

    ভাড়া: হোটেলের মান ও রুমের ধরণ অনুযায়ী ভাড়া ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে । আগে থেকে বুকিং দেওয়াই ভালো ।


    আশেপাশের দর্শনীয় স্থান: পদ্মা গার্ডেন থেকে যা দেখতে পারেন

    পদ্মা গার্ডেন ঘুরে সময় থাকলে রাজশাহীর আশেপাশে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে:

    • টি-বাঁধ: পদ্মা গার্ডেনের কাছেই অবস্থিত এই টি-বাঁধ এলাকাটি সন্ধ্যার আড্ডা, হাঁটাচলা এবং খাবারের জন্যও খুব জনপ্রিয় । এটি কার্যত পদ্মা গার্ডেনেরই একটি বর্ধিত অংশ ।
    • হযরত শাহ মখদুম (রাঃ) এর মাজার: পার্কের পশ্চিম দিকে হাঁটলেই পাবেন এই পবিত্র মাজার । এটি একটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান ।
    • রবীন্দ্র মুক্তমঞ্চ: শাহ মখদুমের মাজার পার হয়ে কিছুটা সামনে গেলে দেখতে পাবেন রবীন্দ্র মুক্তমঞ্চ ।
    • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সবুজ ক্যাম্পাস, স্থাপত্য এবং শিক্ষার জন্য বিখ্যাত ।
    • বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর: দেশের অন্যতম প্রাচীন জাদুঘর। প্রাচীন নিদর্শন ও ইতিহাস জানতে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা ।
    • পুঠিয়া রাজবাড়ী: রাজশাহী শহর থেকে একটু দূরে হলেও, ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ।
    • বাঘা মসজিদ: মোগল স্থাপত্যের এক অনবদ্য নিদর্শন ।
    আরও পড়ুন:  ভিন্নজগত পার্ক ভ্রমণ গাইড ২০২৬: টিকেট মূল্য, ইতিহাস ও যাওয়ার উপায়

    ভ্রমণ টিপস: কিছু কথা মনে রাখবেন

    1. সেরা সময়: বিকেল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত সময়টি পদ্মা গার্ডেন ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত । এই সময় সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য এবং হালকা ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করা যায় । বর্ষাকালে নদীর প্রমত্ত রূপ দেখতেও অনেকে আসেন ।
    2. প্রবেশ মূল্য: পদ্মা গার্ডেনে প্রবেশের জন্য কোনো ফি নেই । এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত একটি উদ্যান ।
    3. যাতায়াত: রাজশাহী শহরের যেকোনো স্থান থেকে সিএনজি বা রিকশায় সহজেই পদ্মা গার্ডেন যাওয়া যায় । জিরো পয়েন্ট থেকে হেঁটেও পৌঁছানো সম্ভব ।
    4. পোশাক ও সাজসজ্জা: আরামদায়ক পোশাক পরুন । সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে রোদচশমা ও ছাতা রাখতে পারেন । সন্ধ্যার পরে মশা থাকতে পারে, তাই মশা নিরোধক ব্যবহার করা ভালো ।
    5. সতর্কতা: নদীর পাড়ে সতর্ক থাকুন । গভীর পানিতে নামবেন না । মূল্যবান জিনিসপত্রের দিকে নজর রাখুন । পার্ক ও নদীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজের ময়লা নিজেই ফেলুন ।
    6. ফটোগ্রাফি: সূর্যাস্তের সময়, নদীর বুকে নৌকা এবং পার্কের ব্রিজ ও সবুজ গ্যালারি ফটোগ্রাফির জন্য দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করে । স্মৃতি ধরে রাখতে ক্যামেরা নিয়ে যেতে ভুলবেন না ।

    কিছু অতিরিক্ত তথ্য (FAQ)

    প্রশ্ন: পদ্মা গার্ডেনের অফিসিয়াল নাম কি?
    উত্তর: এই পার্কের অফিসিয়াল নাম ‘ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক’ (Oddvar Munksgaard Park) । এটি ড্যানিশ উন্নয়নকর্মী ওডভার মুনক্সগার্ডের নামে নামকরণ করা হয়েছে ।

    প্রশ্ন: পদ্মা গার্ডেনে কি খাওয়ার ব্যবস্থা আছে?
    উত্তর: হ্যাঁ, পার্কের ভেতর এবং আশেপাশে অসংখ্য স্ট্রিট ফুডের দোকান ও ক্যাফে রয়েছে । এছাড়া টি-বাঁধ এলাকায় ভালো মানের রেস্তোরাঁ আছে ।

    প্রশ্ন: পদ্মা গার্ডেনে কি নৌকা ভ্রমণ করা যায়?
    উত্তর: অবশ্যই । পার্ক সংলগ্ন ঘাট থেকে সময় চুক্তিতে নৌকা ভাড়া করে পদ্মা নদীতে ভ্রমণ করা যায় । ভাড়া ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে ।

    প্রশ্ন: পদ্মা গার্ডেন ভ্রমণের জন্য কত টাকা খরচ হবে?
    উত্তর: ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া, থাকা এবং খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি ৩০০০-৫০০০ টাকা খরচ হতে পারে । তবে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের উপর এটি নির্ভর করে ।

    প্রশ্ন: পদ্মা গার্ডেনে কোন সময়ে গেলে ভিড় কম হয়?
    উত্তর: সপ্তাহের দিনগুলোতে (শুক্রবার ব্যতীত) সকালে গেলে তুলনামূলক ভিড় কম থাকে । তবে বিকেলের দিকে প্রতিদিনই বেশ ভিড় হয় ।


    উপসংহার

    আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হন, যদি নদীর সাথে কথা বলতে ভালোবাসেন, অথবা যদি কেবল একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নির্মল বাতাস গায়ে মেখে একটি বিকেল কাটাতে চান, তবে পদ্মা গার্ডেন আপনার জন্য আদর্শ একটি জায়গা । এটি এমন একটি স্থান যেখানে আধুনিক নগর পরিকল্পনা এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য একে অপরের হাত ধরে চলেছে ।

    ওডভার মুনক্সগার্ড নামক সেই ড্যানিশ বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এই পার্কের প্রতিটি ইট-পাথর আর ঘাসের মাঝে মিশে আছে । আপনি যখন এই পার্কের গ্যালারিতে বসে পদ্মার বুকে সূর্যাস্ত দেখবেন, তখন শুধু একটি সুন্দর দৃশ্যই দেখবেন না, বরং অনুভব করবেন এক শহরের কৃতজ্ঞতা এবং বন্ধুত্বের এক উষ্ণ গল্প ।

    রাজশাহী ভ্রমণে এলে, আপনার ভ্রমণ তালিকায় ‘ওডভার মুনক্সগার্ড পার্ক’ বা আমাদের সবার প্রিয় ‘পদ্মা গার্ডেন’ অবশ্যই রাখবেন । এই অভিজ্ঞতা আপনার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে ।

    আপনার ভ্রমণ সার্থক হোক!

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins
    Right Menu Icon