• আত্মচরিত গল্প
  • লেখাপড়া
  • আত্মচরিত গল্পের গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

    বাংলা সাহিত্যের দিকপাল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত‘ রচনায় তাঁর বাল্যকাল, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সততা ও আত্মমর্যাদার এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে । যেকোনো পরীক্ষায় এই রচনার ওপর ভিত্তি করে সৃজনশীল প্রশ্নের (Creative Questions) উত্তর নিখুঁতভাবে করতে হলে এর ভেতরের মূলভাব, চরিত্রগুলোর গভীরতা এবং উদ্দীপকের সাথে তাদের সংযোগ বুঝতে পারা অত্যন্ত জরুরি । শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ও শতভাগ প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে এই পোস্টে ‘আত্মচরিত’ গল্পের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাছাইকৃত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (CQ) সহজ ভাষায় সংকলন করা হয়েছে । আশা করি, এই প্রশ্ন ব্যাংকটি পরীক্ষায় ভালো ফল নিশ্চিত করতে আপনাদের দারুণভাবে সাহায্য করবে ।

    Table of Contents

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ১

    উদ্দীপক:

    রফিক সাহেব একজন সৎ সরকারি কর্মকর্তা। শত অভাবের মাঝেও তিনি কখনো ঘুষ বা অন্যায়ের পথে পা বাড়াননি। তাঁর বাবা আকবর আলী ছিলেন গ্রামের একজন সাধারণ শিক্ষক, কিন্তু তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রখর। এলাকার প্রভাবশালী জমিদারকেও তিনি কখনো অন্যায় সুবিধা দেননি এবং তোষামোদ করেননি। আকবর আলী সবসময় বলতেন, “টাকা-পয়সা আজ আছে কাল নেই, কিন্তু মানুষের আসল সম্পদ হলো তার মেরুদণ্ড ও চরিত্র।” বাবার এই আদর্শ দেখেই রফিক সাহেব আজ সমাজে একজন সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের পিতামহের উপাধি কী ছিল?
    (খ) ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কেন নিজের ইচ্ছানুযায়ী সংস্কৃত পড়তে পারেননি? ব্যাখ্যা করো।
    (গ) উদ্দীপকের আকবর আলীর চরিত্রের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? আলোচনা করো।
    (ঘ) “রফিক সাহেবের আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর বাবার অবদানই মুখ্য”—মন্তব্যটি ‘আত্মচরিত’ রচনার আলোকে মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর:
    বিদ্যাসাগরের পিতামহের উপাধি ছিল ‘তর্কভূষণ’ (তাঁর পুরো নাম রামজয় তর্কভূষণ)।


    (খ) উত্তর:
    চরম অর্থনৈতিক অনটন ও পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ইচ্ছানুযায়ী সংস্কৃত পড়তে পারেননি।
    ঠাকুরদাসের শৈশবে তাঁদের পারিবারিক অবস্থা খুবই করুণ ছিল। তাঁর পিতা রামজয় তর্কভূষণ ঘরছাড়া হওয়ার পর পরিবারটি চরম অর্থকষ্টে পড়ে। সংসারে নিত্যদিনের অন্নসংস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট উপায় ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চশিক্ষা বা সংস্কৃত পড়ার মতো ব্যয়ভার বহন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই তীব্র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি সংস্কৃত শিক্ষা লাভ করতে পারেননি।


    (গ) উত্তর:
    উদ্দীপকের আকবর আলীর চরিত্রের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত বিদ্যাসাগরের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
    ‘আত্মচরিত’ রচনায় দেখা যায়, বিদ্যাসাগরের দাদা রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন অত্যন্ত অকুতোভয়, স্পষ্টভাষী এবং প্রখর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ। তিনি বিত্তবান কিংবা ক্ষমতাবানদের অন্যায় প্রভাবের সামনে কখনো মাথা নত করেননি এবং কাউকে তোষামোদ করে চলতেন না। তাঁর কাছে ধন-সম্পদের চেয়ে মানুষের নৈতিক চরিত্র ও ভদ্র আচরণই ছিল আসল পরিচয়।
    উদ্দীপকের আকবর আলীর মধ্যেও আমরা একই বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখতে পাই। তিনি একজন সাধারণ শিক্ষক হয়েও গ্রামের প্রভাবশালী জমিদারের সামনে অন্যায় সুবিধা দেননি বা তোষামোদ করেননি। রামজয় তর্কভূষণের মতোই তিনিও বিশ্বাস করতেন যে, টাকা-পয়সার চেয়ে মানুষের চরিত্র ও আত্মমর্যাদাবোধই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই বলা যায়, নৈতিক দৃঢ়তা ও তোষামোদহীন ব্যক্তিত্বের দিক থেকে আকবর আলী ও রামজয় তর্কভূষণ চরিত্র দুটি একে অপরের পরিপূরক।


    (ঘ) উত্তর:
    “রফিক সাহেবের আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর বাবার অবদানই মুখ্য”—এই মন্তব্যটি ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগরের জীবন ও তাঁর পিতার প্রভাবের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ।
    ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগর স্পষ্ট করেছেন যে, একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ গঠনে তাঁর পারিবারিক সুশিক্ষা এবং পূর্বপুরুষদের চারিত্রিক দৃঢ়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় এসে চরম দারিদ্র্য ও অনাহারের মুখোমুখি হয়েও কখনো অসততার পথ বেছে নেননি। পিতার এই কষ্টসহিষ্ণুতা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে জীবনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা জুগিয়েছিল। তাছাড়া বিদ্যাসাগরের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের তেজস্বী ও স্পষ্টবাদী চরিত্র বিদ্যাসাগরের নিজের মেরুদণ্ড শক্ত করতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
    উদ্দীপকের রফিক সাহেবের জীবনেও তাঁর বাবা আকবর আলীর প্রভাব একই রকম। আকবর আলীর আত্মমর্যাদা ও সততার আদর্শ দেখেই রফিক সাহেব বড় হয়েছেন এবং কর্মজীবনে শত অভাবের মাঝেও ঘুষ বা অন্যায়ের পথ অবলম্বন করেননি।
    সুতরাং, বিদ্যাসাগর যেমন তাঁর পিতা ও পিতামহের সততা, তেজস্বী মনোভাব এবং নৈতিক আদর্শকে ধারণ করে অনন্যসাধারণ ‘বিদ্যাসাগর’ হয়ে উঠেছিলেন; ঠিক তেমনি রফিক সাহেবও তাঁর বাবার আদর্শকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করেছেন। তাই বলা যায়, উভয় ক্ষেত্রেই সন্তানদের সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে তাঁদের পিতৃদেবের অবদানই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২

    উদ্দীপক:
    সায়মা বেগম একজন নিঃসন্তান ধনাঢ্য নারী। তিনি তাঁর এলাকায় একটি অনাথ আশ্রম পরিচালনা করেন। মা-বাবা হারা এতিম শিশুদের তিনি নিজের সন্তানের মতো পরম স্নেহ ও যত্নে আগলে রাখেন। শুধু তাই নয়, সমাজের অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য তিনি বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। সায়মা বেগম মনে করেন, সমাজে নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। এলাকার মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ‘দয়ার সাগর’ বলে ডাকে।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) কলকাতার বাসায় বালক বিদ্যাসাগরকে কে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন?
    (খ) “সে নির্দেশ অসঙ্গত নহে”—এখানে কোন নির্দেশের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
    (গ) উদ্দীপকের সায়মা বেগমের মানবিক কর্মকাণ্ডে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটেছে? বুঝিয়ে লেখো।
    (ঘ) “সায়মা বেগমের মতো নারীদের সান্নিধ্য ও অবদানই বিদ্যাসাগরকে পরবর্তীতে নারী কল্যাণে আজীবন কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর:
    কলকাতার বাসায় বালক বিদ্যাসাগরকে জগদ্দুর্লভ বাবুর ভগিনী রাইমণি মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন।


    (খ) উত্তর:
    এখানে সমাজ বা সাধারণ মানুষ কর্তৃক বিদ্যাসাগরকে ‘স্ত্রীজাতির বা নারীদের পক্ষপায়ী’ বলে নির্দেশ করার কথা বলা হয়েছে।
    বিদ্যাসাগর তাঁর ‘আত্মচরিত’ রচনায় উল্লেখ করেছেন যে, শৈশবে তিনি মুড়ি বিক্রেতা বিধবা নারী এবং কলকাতার বাসার রাইমণির কাছ থেকে যে অসামান্য ও নিঃস্বার্থ স্নেহ-মমতা পেয়েছিলেন, তা তাঁর হৃদয়ে চিরদিনের জন্য নারীজাতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি জাগিয়ে তুলেছিল। এই পরম ভালোবাসার ঋণ তিনি কখনো ভুলতে পারেননি। তাই সমাজ যখন তাঁকে নারীজাতির প্রতি একটু বেশি সহানুভূতিশীল বা পক্ষপাতী বলে মন্তব্য করত, বিদ্যাসাগর সেটাকে ভুল না বলে অত্যন্ত সংগত ও যথার্থ বলে মেনে নিয়েছেন।


    (গ) উত্তর:
    উদ্দীপকের সায়মা বেগমের মানবিক কর্মকাণ্ডে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত নারীজাতির নিঃস্বার্থ দয়া, মমতা এবং পরোপকারী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।
    ‘আত্মচরিত’ গ্রন্থে বিদ্যাসাগর তাঁর জীবনের দুজন সাধারণ অথচ মহৎ নারীর অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন। প্রথমজন হলেন সেই অজ্ঞাতনামা মুড়ি বিক্রেতা বিধবা নারী, যিনি কলকাতায় অনাহারক্লিষ্ট ও ক্ষুধার্ত ঠাকুরদাসকে অন্ন দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন। আর দ্বিতীয়জন হলেন রাইমণি, যিনি মা-হারা শহরে বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে নিজের সন্তানের মতো পরম যত্নে ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছিলেন এবং তাঁর অসুস্থতায় সেবা করেছিলেন।
    উদ্দীপকের সায়মা বেগমের মধ্যেও ঠিক একই রকম নিঃস্বার্থ মাতৃস্নেহ ও পরোপকারের ছবি দেখা যায়। তিনি অনাথ শিশুদের নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করছেন এবং অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সায়মা বেগমের এই মমতা ও সেবাব্রত মূলত ‘আত্মচরিত’ রচনার রাইমণি ও মুড়ি বিক্রেতা নারীর সেই শাশ্বত বাঙালি নারীসুলভ দয়া ও মানবিকতারই এক আধুনিক রূপ।


    (ঘ) উত্তর:
    “সায়মা বেগমের মতো নারীদের সান্নিধ্য ও অবদানই বিদ্যাসাগরকে পরবর্তীতে নারী কল্যাণে আজীবন কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল”—উক্তিটি ‘আত্মচরিত’ রচনার মূলভাবের আলোকে অত্যন্ত সত্য এবং যৌক্তিক।
    কোনো মানুষের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও চারপাশের পরিবেশ তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলে। বিদ্যাসাগর যখন গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় আসেন, তখন তিনি তীব্র হোমসিকনেস বা একাকীত্বে ভুগছিলেন। সেই কঠিন সময়ে রাইমণির মতো স্নেহময়ী নারী তাঁকে মায়ের অভাব বুঝতে দেননি। আবার তাঁর পিতার চরম সংকটের দিনে এক সাধারণ মুড়ি বিক্রেতা নারী দেবীর মতো এগিয়ে এসেছিলেন। এই সাধারণ নারীদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতা বিদ্যাসাগরের মনে নারীজাতির প্রতি এক সর্বোচ্চ স্তরের শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করেছিল। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, নারী হলো দয়া ও মমতার মূর্ত প্রতীক।
    উদ্দীপকের সায়মা বেগম যেমন নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের স্বাবলম্বী করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন, বিদ্যাসাগরের মনের ভাবনায় ঠিক এই বীজটি রোপিত হয়েছিল শৈশবেই। পরবর্তীতে তিনি যখন সমাজে নারীদের ওপর অত্যাচার, বাল্যবিবাহ এবং বিধবাদের করুণ দশা দেখেন, তখন তাঁর শৈশবের সেই শ্রদ্ধাবোধই তাঁকে সমাজ সংস্কারে বাধ্য করে। তিনি নারী শিক্ষা প্রসার এবং বিধবা বিবাহ আইন পাস করার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
    পরিশেষে বলা যায়, শৈশবে রাইমণি বা মুড়ি বিক্রেতা নারীর মতো (যাঁদের প্রতিনিধি উদ্দীপকের সায়মা বেগম) মহৎ নারীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরের পক্ষে পরবর্তীতে সমাজজুড়ে নারী কল্যাণে ও তাদের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল।

    ‘আত্মচরিত’ রচনার মূলভাব, চরিত্র ও প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে আরও ১৮টি সম্পূর্ণ ইউনিক ও মানসম্মত সৃজনশীল প্রশ্ন এবং উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এগুলো পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

    উদ্দীপক:

    নবীন এক দপ্তরে নতুন চাকরি পেয়েছে। অফিসের বড় বাবু তাকে বললেন, “এখানে টিকতে হলে স্যারের সব কথায় ‘হ্যাঁ’ মেলাতে হবে। তিনি ভুল করলেও প্রশংসা করতে হবে।” নবীন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, “আমি সততার সাথে নিজের কাজ করব, কিন্তু অন্যায় তোষামোদ বা চাটুকারিতা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।” নবীনের এই দৃঢ়তায় অফিসের অনেকেই অবাক হলেও তার নৈতিকতার প্রশংসা করেন।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের গ্রামের নাম কী?
    (খ) “সংস্কৃত ব্যবসায়ী” বলতে বিদ্যাসাগর কী বুঝিয়েছেন?
    (গ) উদ্দীপকের নবীনের আচরণের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
    (ঘ) “নবীনের তোষামোদহীন মনোভাবই রামজয় তর্কভূষণের চরিত্রের মূল ভিত্তি”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের গ্রামের নাম বীরসিংহ।


    (খ) উত্তর: “সংস্কৃত ব্যবসায়ী” বলতে বিদ্যাসাগর চতুষ্পাঠী বা টোলে সংস্কৃত শাস্ত্রের চর্চা করা, তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া এবং পণ্ডিতি করাকে বুঝিয়েছেন। এটি কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যবসা নয়, বরং জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের একটি ঐতিহ্যগত মাধ্যম।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের নবীনের আচরণের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত বিদ্যাসাগরের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের গভীর মিল রয়েছে। রচনায় দেখা যায়, রামজয় তর্কভূষণ অত্যন্ত স্পষ্টভাষী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো বিত্তবান বা ক্ষমতাশালীদের তোষামোদ করতেন না। উদ্দীপকের নবীনও ঠিক একইভাবে চাকরির খাতিরে বসের অন্যায় চাটুকারিতা বা তোষামোদ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজের নৈতিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।


    (ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের নবীনের তোষামোদহীন মনোভাবটি রামজয় তর্কভূষণের চরিত্রের মূল ভিত্তিকে চমৎকারভাবে প্রতিফলিত করে। ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগর সগর্বে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর পিতামহ দারিদ্র্যের মুখোমুখি হলেও কখনো ধনীদের মন জুগিয়ে চলেননি। নবীনের মাঝেও আমরা একই চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখি, যেখানে সে সাময়িক সুবিধার চেয়ে নিজের আত্মসম্মানকে বড় করে দেখেছে। সুতরাং, চাটুকারিতাকে বর্জন করে মেরুদণ্ড সোজা রেখে বাঁচার এই মানসিকতাই প্রমাণ করে যে উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    আরও পড়ুন:  সোনার তরী কবিতার লাইন বাই লাইন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ৪

    উদ্দীপক:
    সজল উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা শহরে আসে। প্রথম কয়েকদিন অচেনা পরিবেশ, কোলাহল আর পরিবারের অভাব তাকে ভীষণ পীড়িত করে। সে প্রায়ই রাতে একা একা বাড়ির জন্য কাঁদত। কিন্তু মেসের মালিকের স্ত্রী রহিমা খাতুন যখন তাকে নিজের সন্তানের মতো যত্ন নিতে শুরু করলেন, তখন সজলের শহরের জীবন অনেক সহজ হয়ে গেল।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বালক ঈশ্বরচন্দ্র কত বছর বয়সে প্রথম কলকাতায় আসেন?
    (খ) বালক বিদ্যাসাগর কেন সময়ে সময়ে কাঁদতেন?
    (গ) উদ্দীপকের সজলের প্রাথমিক অবস্থার সাথে বিদ্যাসাগরের কলকাতা জীবনের প্রারম্ভিক অবস্থার তুলনা করো।
    (ঘ) “রহিমা খাতুন যেন ‘আত্মচরিত’ রচনার রাইমণিরই প্রতিচ্ছবি”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বালক ঈশ্বরচন্দ্র আট বছর বয়সে প্রথম কলকাতায় আসেন।


    (খ) উত্তর: গ্রাম ছেড়ে প্রথমবার কলকাতায় আসার পর তীব্র হোমসিকনেস বা একাকীত্ব এবং তাঁর পরম স্নেহময়ী পিতামহীদেবীর (ঠাকুমা) কথা মনে পড়ার কারণে বালক বিদ্যাসাগর সময়ে সময়ে কাঁদতেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের সজলের প্রাথমিক মানসিক অবস্থার সাথে কলকাতায় আসার পর বালক বিদ্যাসাগরের শুরুর দিনগুলোর হুবহু মিল পাওয়া যায়। সজল যেমন চেনা গ্রাম ও পরিবার ছেড়ে ঢাকায় এসে একা বোধ করেছে এবং বাড়ির জন্য কেঁদেছে, বিদ্যাসাগরও শৈশবে বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতায় এসে শহরের ব্যস্ত পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না এবং ঠাকুমার স্নেহের কথা মনে করে ব্যাকুল হয়ে উঠতেন।


    (ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের রহিমা খাতুন চরিত্রটি নিঃসন্দেহে ‘আত্মচরিত’ রচনার রাইমণির প্রতিচ্ছবি। কলকাতায় যখন বালক ঈশ্বরচন্দ্র অসুস্থ ও একাকী ছিলেন, তখন জগদ্দুর্লভ বাবুর ভগিনী রাইমণি তাঁকে পরম মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন। উদ্দীপকের রহিমা খাতুনও ঠিক একইভাবে সজলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পরম যত্নে তার একাকীত্ব দূর করেছেন। তাই রাইমণি ও রহিমা খাতুন উভয়েই নিঃস্বার্থ মাতৃত্বের প্রতীক, যা মন্তব্যটিকে সম্পূর্ণ সত্য প্রমাণ করে।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ৫

    উদ্দীপক:
    আরিফ সাহেব তাঁর ছেলেকে একটি নামী কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করালেন। আত্মীয়রা বললেন, “জেনারেল লাইনে পড়ালে ছেলে দ্রুত বিসিএস দিয়ে বড় অফিসার হতে পারত।” আরিফ সাহেব উত্তর দিলেন, “আমি শুধু সরকারি চাকরির জন্য ছেলেকে পড়াচ্ছি না। আমি চাই সে এমন শিক্ষা নিক যা তাকে স্বাবলম্বী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে, যা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সাথেও সংগত।”

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের পিতার নাম কী?
    (খ) আত্মীয়দের কোন পরামর্শ ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত হয়নি এবং কেন?
    (গ) উদ্দীপকের আরিফ সাহেবের চিন্তাভাবনার সাথে ঠাকুরদাসের সিদ্ধান্তের সাদৃশ্য কোথায়?
    (ঘ) “উভয় পিতাই শিক্ষার বৈষয়িক লাভের চেয়ে মহৎ উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন”—বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।


    (খ) উত্তর: আত্মীয়দের বিদ্যাসাগরকে হেয়ার সাহেবের ইংরেজি স্কুলে বিনা বেতনে ভর্তি করানোর পরামর্শ ঠাকুরদাসের মনোনীত হয়নি। কারণ, তাঁদের পরিবার ছিল পুরুষানুক্রমে সংস্কৃত ব্যবসায়ী এবং ঠাকুরদাসের তীব্র ইচ্ছা ছিল ছেলে যেন উচ্চ সংস্কৃত শিক্ষা লাভ করে বংশের গৌরব রক্ষা করে।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের আরিফ সাহেবের চিন্তাভাবনার সাথে ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের সাদৃশ্য হলো—উভয়েই লোকদেখানো বা গড়পড়তা সামাজিক চাপের মুখে নিজেদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। আরিফ সাহেব যেমন শুধু বিসিএস অফিসারের মোহে না পড়ে ছেলের দক্ষতার দিকে নজর দিয়েছেন, ঠাকুরদাসও তেমনি সওদাগরি অফিসের কেরানি বানানোর জন্য ছেলেকে ইংরেজি না শিখিয়ে প্রকৃত জ্ঞানার্জনের জন্য সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।


    (ঘ) উত্তর: শিক্ষা কেবল অর্থ উপার্জনের বা সামাজিক পদমর্যাদা পাওয়ার হাতিয়ার নয়—এই চিরন্তন সত্যটি উভয় পিতার চরিত্রেই স্পষ্ট। ঠাকুরদাস পরিষ্কার বলেছিলেন যে, শুধু তাঁর নিজের দুঃখ ঘোচানোর বা উপার্জনের উদ্দেশ্যে তিনি ঈশ্বরচন্দ্রকে কলকাতায় আনেননি। উদ্দীপকের আরিফ সাহেবও ঠিক একইভাবে বিসিএস-এর বৈষয়িক লোভ ত্যাগ করে ছেলের প্রকৃত শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। অতএব, সংকীর্ণ বৈষয়িক চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার প্রকৃত ও মহৎ উদ্দেশ্যকে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে উভয় পিতাই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ৬

    উদ্দীপক:
    সুমন একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় এক অন্ধ বৃদ্ধকে তীব্র রোদের মধ্যে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখল। সুমন দৌড়ে গিয়ে বৃদ্ধের জন্য ঠান্ডা পানি ও কিছু খাবার কিনে আনল। বৃদ্ধটি খুশি হয়ে সুমনের মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করলেন। সুমন বড় হয়ে যখন একজন বড় সমাজসেবক হলো, তখন সে বলল, “শৈশবের সেই বৃদ্ধের মুখের হাসিটুকুই আমাকে মানুষের সেবা করার প্রথম পাঠ শিখিয়েছিল।”

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার কার দোকানে প্রথম চাকরি পেয়েছিলেন?
    (খ) মুড়ি বিক্রেতা নারীর কথা স্মরণ করে বিদ্যাসাগর কেন আজীবন অশ্রুপাত করতেন?
    (গ) উদ্দীপকের সুমনের সমাজসেবক হয়ে ওঠার পেছনে কোন মানসিকতা কাজ করেছে, যা ‘আত্মচরিত’ রচনার সাথে সংগত?
    (ঘ) “শৈশবের মানবিক অভিজ্ঞতাই মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের মানবতাবাদের ভিত্তি গড়ে তোলে”—উদ্দীপক ও ‘আত্মচরিত’ রচনার আলোকে উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার রামসুন্দর মল্লিকের দোকানে প্রথম চাকরি পেয়েছিলেন।


    (খ) উত্তর: মুড়ি বিক্রেতা নারীটি চরম সংকটের দিনে ক্ষুধার্ত ঠাকুরদাসকে পরম স্নেহে মুড়ি ও জল দিয়ে তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। সেই সাধারণ নারীর এই অসাধারণ মানবিকতা ও নিঃস্বার্থ দয়ার কথা মনে করে বিদ্যাসাগর আজীবন কৃতজ্ঞতায় অশ্রুপাত করতেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের সুমনের মাঝে অবহেলিত ও সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মানবিকতা দেখা গেছে, তা ‘আত্মচরিত’ রচনার মূল ভাবনার সাথে সম্পূর্ণ সংগত। বিদ্যাসাগর যেমন তাঁর পিতার মুখে শোনা মুড়ি বিক্রেতা নারীর গল্প এবং নিজের জীবনে রাইমণির অকৃত্রিম দয়া দেখে মানুষের প্রতি, বিশেষ করে অবহেলিত নারীদের প্রতি সংবেদনশীল হতে শিখেছিলেন, সুমনের ক্ষেত্রেও এক বৃদ্ধের প্রতি দয়া দেখানোর অভিজ্ঞতাই তার মনের ভেতর সেবাব্রতের বীজ বুনে দিয়েছিল।


    (ঘ) উত্তর: শৈশবের বা প্রথম জীবনের কোনো গভীর মানবিক অনুভূতি যে মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের মূল চালিকাশক্তি হতে পারে, তা উদ্দীপক ও ‘আত্মচরিত’ উভয় টেক্সটেই প্রমাণিত। সুমনের সমাজসেবক হওয়ার পেছনে যেমন এক তৃষ্ণার্ত বৃদ্ধকে সাহায্য করার স্মৃতি কাজ করেছে, ঠিক তেমনি বিদ্যাসাগরের দয়ার সাগর হয়ে ওঠা এবং নারী কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার পেছনেও শৈশবে দেখা রাইমণি ও মুড়ি বিক্রেতা নারীর অসামান্য অবদান ছিল। এই নারীদের দয়া দেখেই বিদ্যাসাগরের মনে পরোপকারের গভীর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সুতরাং, শৈশবের মানবিক অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যৎ মানবতাবাদের জন্ম দেয়—উক্তিটি অনস্বীকার্য।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ৭

    উদ্দীপক:
    নবম শ্রেণীর ছাত্র রাফি গণিতে খুব কাঁচা ছিল। একদিন তার শিক্ষক তাকে একটি কঠিন জ্যামিতির সমাধান করতে দিলেন। রাফি সারা রাত চেষ্টা করে নিজেই সেটির সমাধান বের করল। পরদিন শিক্ষক রাফির খাতা দেখে পিঠ চাপড়ে বললেন, “সাব্বাস! তোমার এই একাগ্রতা ও বুদ্ধি তোমাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।” শিক্ষকের এই একটি আশির্বাদ রাফির গণিতের প্রতি ভয় দূর করে দিল।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) সিয়াখালা হতে সালিহার বাঁধা রাস্তায় কী পোঁতা ছিল?
    (খ) বালক ঈশ্বরচন্দ্র কীভাবে মাত্র এক দিনে ইংরেজি সংখ্যাগুলো শিখেছিলেন?
    (গ) উদ্দীপকের শিক্ষকের আশির্বাণের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন ঘটনার মিল রয়েছে?
    (ঘ) “গুরুজনের সামান্য উৎসাহ বালকের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারে”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: সিয়াখালা হতে সালিহার বাঁধা রাস্তায় মাইলস্টোন (পথ নির্দেশক পাথর) পোঁতা ছিল।


    (খ) উত্তর: প্রথমবার কলকাতা আসার পথে রাস্তার পাশে পোঁতা মাইলস্টোন বা পাথরের ফলকগুলোতে খোদাই করা ইংরেজি সংখ্যাগুলো বাবার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে এবং নিজের তীক্ষ্ণ মেধার জোরে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে দেখে বালক ঈশ্বরচন্দ্র মাত্র এক দিনেই ইংরেজি সংখ্যাগুলো চিনে ফেলেছিলেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের রাফির শিক্ষকের আশির্বাণের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত গুরুমহাশয় কালীকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিদ্যাসাগরকে আশির্বাদ করার ঘটনার গভীর মিল রয়েছে। বালক ঈশ্বরচন্দ্র যখন মাত্র এক দিনেই মাইলস্টোন দেখে ইংরেজি সংখ্যা চেনার কঠিন পরীক্ষা সফলভাবে পার করেছিলেন, তখন তাঁর অসাধারণ মেধা দেখে গুরুমহাশয় কালীকান্ত বাবু তাঁর চিবুক ধরে ‘বেস বাবা বেস’ বলে পরম স্নেহে আশির্বাদ করেছিলেন।


    (ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের শিক্ষক যেমন রাফির একাগ্রতা দেখে তাকে উৎসাহিত করেছেন, তেমনি গুরুমহাশয় কালীকান্তের সেই আশির্বাদও বালক বিদ্যাসাগরের মনে পড়াশোনার প্রতি আত্মবিশ্বাস ও জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। শৈশবে গুরুজন বা শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য প্রশংসাও যে একটি শিশুর মেধা ও মানসিকতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, তা রাফি ও ঈশ্বরচন্দ্র উভয়ের জীবন থেকেই স্পষ্ট। তাই বলা যায়, গুরুজনের উৎসাহ বালকের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের প্রধান নিয়ামক।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ৮

    উদ্দীপক:
    তমা তার বান্ধবীদের সাথে তর্ক করছিল। বান্ধবীরা বলছিল, “ছেলেরা সব কাজে মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে।” তমা এর প্রতিবাদ করে বলল, “নারীরা পুরুষদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। ইতিহাসে ও আমাদের পরিবারে নারীদের ত্যাগ ও ভালোবাসাই সমাজকে টিকিয়ে রেখেছে।” বান্ধবীরা তখন তমাকে উপহাস করে বলল, “তুই তো সবসময় মেয়েদের পক্ষ নিয়ে কথা বলিস!” তমা হেসে বলল, “হ্যাঁ, আমি মেয়েদের পক্ষ নিই, কারণ তাদের অবদানকে অস্বীকার করা চরম অন্যায়।”

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) সমাজে অনেকে বিদ্যাসাগরকে কিসের পক্ষপাতী বলে নির্দেশ করতেন?
    (খ) বিদ্যাসাগর নিজেকে কেন ‘কৃতঘ্ন ও পামর’ বলতে চেয়েছেন (শর্তসাপেক্ষে)?
    (গ) উদ্দীপকের তমার বক্তব্যের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন মূল সুরের মিল পাওয়া যায়?
    (ঘ) “তমা ও বিদ্যাসাগর উভয়ের নারী-পক্ষপাতিত্বের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে”—উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: সমাজে অনেকে বিদ্যাসাগরকে স্ত্রীজাতির বা নারীদের পক্ষপাতী বলে নির্দেশ করতেন।


    (খ) উত্তর: বিদ্যাসাগর মনে করতেন, শৈশবে তিনি রাইমণি এবং মুড়ি বিক্রেতা নারীর কাছ থেকে যে অসীম দয়া ও স্নেহ লাভ করেছিলেন, তা ভোগ করার পরও যদি তিনি নারীজাতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও পক্ষপাতিত্ব না দেখাতেন, তবে তিনি হতেন একজন অকৃতজ্ঞ বা ‘কৃতঘ্ন ও পামর’ মানুষ।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের তমার বক্তব্যের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার নারীজাতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও নারী-পক্ষপাতিত্বের মূল সুরের মিল পাওয়া যায়। তমা যেমন সমাজে নারীদের ত্যাগ ও ভালোবাসাকে স্বীকার করে তাদের পক্ষ নিয়েছে, বিদ্যাসাগরও তাঁর আত্মজীবনীতে অকপটে স্বীকার করেছেন যে সমাজে তাঁকে যে ‘স্ত্রীজাতির পক্ষপাতী’ বলা হয়, তা মোটেও অসঙ্গত বা ভুল নয়।


    (ঘ) উত্তর: তমা ও বিদ্যাসাগর উভয়ের নারী-পক্ষপাতিত্ব কোনো অন্ধ আবেগ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত মজবুত ও যৌক্তিক কারণ। তমা নারীদের ঐতিহাসিক অবদান ও ত্যাগের কারণে তাদের সমর্থন করে। অন্যদিকে, বিদ্যাসাগর তাঁর পিতা ও নিজের জীবন রক্ষা পাওয়ার পেছনে দুজন নারীর (মুড়ি বিক্রেতা ও রাইমণি) অবদানকে চিরকাল মনে রেখেছেন। এই অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই তাঁর নারী-পক্ষপাতিত্বের জন্ম। সুতরাং, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ৯

    উদ্দীপক:
    কামাল সাহেব একসময় অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। ফুটপাতে শুয়েও দিন কেটেছে তাঁর। পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি আজ মস্ত বড় ব্যবসায়ী। কিন্তু তিনি তাঁর অতীতের সেই কষ্টের দিনগুলোর কথা কখনোই ভোলেননি। প্রতি ঈদে তিনি গরিব-অসহায় মানুষদের মাঝে অকাতরে দান করেন এবং বলেন, “দারিদ্র্যের কষ্ট আমি বুঝি, তাই আজ সামর্থ্য হতেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।”

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাসিক বেতন কত টাকা ছিল?
    (খ) “এই দয়াময়ীর সৌজন্যে পিতৃদেব সে যাত্রা রক্ষা পান”— ব্যাখ্যা করো।
    (গ) উদ্দীপকের কামাল সাহেবের অতীত জীবনের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার কার জীবনের মিল রয়েছে?
    (ঘ) “অতীতের কষ্টই মানুষকে পরবর্তীতে পরোপকারী ও সহানুভূতিশীল হতে শেখায়”—উক্তিটি উদ্দীপক ও পঠিত রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাসিক বেতন দশ টাকা ছিল।


    (খ) উত্তর: কলকাতায় এসে চাকরি পাওয়ার আগে ঠাকুরদাস যখন তীব্র ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদছিলেন, তখন এক দয়াময়ী মুড়ি বিক্রেতা বিধবা নারী তাঁকে পরম স্নেহে মুড়ি ও জল খেতে দেন এবং যতদিন চাকরি না হয় প্রতিদিন খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। সেই মহৎ নারীর এই আশ্রয়ের কারণেই ঠাকুরদাস সেবার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের কামাল সাহেবের অতীত জীবনের তীব্র অভাব ও কষ্টের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম জীবনের কঠোর সংগ্রামের গভীর মিল রয়েছে। কামাল সাহেব যেমন ফুটপাতে কষ্টের দিন কাটিয়েছেন, ঠাকুরদাসও তেমনি কলকাতায় এসে তীব্র অনাহার ও চরম অর্থকষ্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

    আরও পড়ুন:  সোনার তরী কবিতার মূলভাব বা সোনার তরী কবিতার মূলকথা


    (ঘ) উত্তর: জীবনের কঠিন দিনগুলোর অভিজ্ঞতা মানুষকে আরও বেশি মানবিক ও দয়াশীল করে তোলে—এই সত্যটি কামাল সাহেব ও বিদ্যাসাগর উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কামাল সাহেব নিজে কষ্ট করেছিলেন বলেই আজ ধনবান হয়েও গরিবদের দুঃখ বোঝেন। একইভাবে, বিদ্যাসাগর তাঁর পিতার অনাহারের কষ্ট এবং নিজের জীবনের অভাব খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন বলেই পরবর্তীতে ‘দয়ার সাগর’ হয়ে উঠেছিলেন এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাই বলা যায়, অতীতের কষ্টই মানুষের মনে সহানুভূতির জন্ম দেয়।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১০

    উদ্দীপক:
    প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন ছোটবেলা থেকেই চারপাশের প্রকৃতি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতেন। একবার নদী পার হওয়ার সময় ঘাটের মাঝি ও নৌকার ছবি তিনি মনের মাধুরী মিশিয়ে এঁকেছিলেন। তাঁর বাবা ছেলের এই প্রতিভা দেখে তাকে আর্ট স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন, যদিও আত্মীয়রা চেয়েছিলেন ছেলে যেন সাধারণ লাইনে পড়ে কোনো দাপ্তরিক চাকরি নেয়।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের মাতা বা জননীর নাম কী ছিল?
    (খ) মধুসূদন বাচস্পতি ঠাকুরদাসকে কী সমাধান দিয়েছিলেন?
    (গ) উদ্দীপকের জয়নুল আবেদীনের বাবার সিদ্ধান্তের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার ঠাকুরদাসের সিদ্ধান্তের তুলনামূলক আলোচনা করো।
    (ঘ) “আত্মীয়দের বৈষয়িক চিন্তার চেয়ে সন্তানের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশই একজন দূরদর্শী পিতার লক্ষ্য হওয়া উচিত”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের মাতার নাম ভগবতী দেবী।


    (খ) উত্তর: মধুসূদন বাচস্পতি ঠাকুরদাসকে আত্মীয়দের ইংরেজি স্কুলের পরামর্শ এবং ঠাকুরদাসের নিজস্ব সংস্কৃত শিক্ষার ইচ্ছার মাঝে একটি চমৎকার মধ্যপন্থা বা সমাধান দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বরচন্দ্রকে সরকারি সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হোক, যেখানে উন্নত সংস্কৃত শিক্ষার পাশাপাশি ‘ল কমিটি’ পরীক্ষায় পাস করে আদালতে জজপণ্ডিতের সম্মানজনক চাকরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের জয়নুল আবেদীনের বাবার সিদ্ধান্তের সাথে বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাসের সিদ্ধান্তের গভীর মিল রয়েছে। জয়নুলের বাবা যেমন আত্মীয়দের দাপ্তরিক চাকরির মোহ ত্যাগ করে ছেলের ভেতরের সুপ্ত শিল্পীসত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আর্ট স্কুলে ভর্তি করেছেন, ঠাকুরদাসও ঠিক একইভাবে আত্মীয়দের কেরানির চাকরি পাওয়ার বৈষয়িক পরামর্শ উপেক্ষা করে ছেলের মেধার মূল্যায়নে তাকে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করান।


    (ঘ) উত্তর: একজন আদর্শ ও দূরদর্শী পিতা কখনোই সমাজের বা আত্মীয়দের সংকীর্ণ ও বৈষয়িক চিন্তার দ্বারা প্রভাবিত হননি, যা জয়নুল আবেদীনের পিতা ও ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়ের চরিত্রেই প্রমাণিত। আত্মীয়রা সবসময় তাৎক্ষণিক লাভ বা সাধারণ চাকরির কথা ভাবে, কিন্তু দূরদর্শী পিতারা সন্তানের মেধা ও বংশের ঐতিহ্যের কথা চিন্তা করেন। ঠাকুরদাসের এই দূরদর্শিতার কারণেই ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা একদিন ‘বিদ্যাসাগর’ হতে পেরেছিলেন। সুতরাং, মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১১

    উদ্দীপক:
    “ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ আমাদের গাঁ,
    ঐখানেতে বাস করে কানা বগীর ছা।”
    শহরে বড় হওয়া আদিবা এই কবিতাটি পড়ার সময় তার গ্রামের বাড়ির কথা মনে করে নস্টালজিক হয়ে পড়ে। শহরের যান্ত্রিকতা, গাড়ির শব্দ আর চার দেয়ালের বন্দি জীবন তার মোটেও ভালো লাগে না। সে সবসময় ছায়াঢাকা, পাখি ডাকা তার নিজের শান্ত গ্রামটিতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) রামজয় তর্কভূষণের স্বভাব কেমন ছিল?
    (খ) বালক বিদ্যাসাগরের পক্ষে কেন কলকাতার জীবন প্রথম প্রথম কঠিন ছিল?
    (গ) উদ্দীপকের আদিবার অনুভূতির সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে?
    (ঘ) “পল্লীগ্রামের সহজ-সরল পরিবেশ ও শহুরে জীবনের ব্যস্ততার দ্বন্দ্বই আদিবা ও বালক ঈশ্বরচন্দ্রের সাধারণ অনুভূতি”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: রামজয় তর্কভূষণের স্বভাব ছিল অকুতোভয়, স্পষ্টভাষী এবং প্রখর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।


    (খ) উত্তর: পল্লীগ্রামের উন্মুক্ত ও শান্ত পরিবেশে বড় হওয়া আট বছরের এক বালকের পক্ষে কলকাতার জনাকীর্ণ, কোলাহলপূর্ণ, যান্ত্রিক এবং সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশের সাথে হুট করে মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের আদিবার অনুভূতির সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত বালক বিদ্যাসাগরের শৈশবে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় আসার পর গ্রামীণ পরিবেশের প্রতি ব্যাকুলতার সাদৃশ্য রয়েছে। আদিবা যেমন শহরের চার দেওয়ালে বন্দি থেকে গ্রামের জন্য নস্টালজিক হয়ে পড়েছে, বিদ্যাসাগরও শৈশবে কলকাতায় এসে তাঁর বীরসিংহ গ্রামের পাঠশালা, চেনা মানুষ এবং বিশেষ করে তাঁর ঠাকুমার পরম স্নেহের কথা মনে করে প্রতিনিয়ত কাঁদতেন ও ছটফট করতেন।


    (ঘ) উত্তর: গ্রামীণ ও শহুরে জীবনের এই চিরন্তন মানসিক দ্বন্দ্ব আদিবা ও বালক ঈশ্বরচন্দ্র উভয়ের চরিত্রেই চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। গ্রামের মুক্ত বাতাস ও সহজ জীবন ছেড়ে যখনই কোনো শিশুকে শহরের কৃত্রিম ও কর্মব্যস্ত পরিবেশে আনা হয়, তখন তার মনে এক তীব্র একাকীত্ব ও হোমসিকনেস তৈরি হয়। আদিবা ও বিদ্যাসাগর উভয়েই এই একই মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে যে শহুরে যান্ত্রিকতার চেয়ে গ্রামীণ শান্ত পরিবেশই শিশুর মন বিকাশের জন্য বেশি প্রিয়। অতএব, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১২

    উদ্দীপক:
    সুমনা তার মায়ের মৃত্যুর পর মামার বাড়িতে আশ্রয় পায়। মামার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না, তাই সুমনার মনে সবসময় একটা সংকোচ ও ভয় কাজ করত। কিন্তু তার মামী মমতাজ বেগম সুমনাকে নিজের মেয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। সুমনা যখনই অসুস্থ হতো, মামী সারা রাত জেগে তার কপালে জলপট্টি দিতেন। সুমনা বড় হয়েও মামীর সেই সেবার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে সবাইকে শোনায়।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত’ রচনাটি কেমন ছিল?
    (খ) বিদ্যাসাগরের হৃদমন্দিরে কার সৌম্যমূর্তি বিরাজ করত এবং কেন?
    (গ) উদ্দীপকের মমতাজ বেগমের মাঝে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন চরিত্রের ছায়া দেখা যায়?
    (ঘ) “রাইমণি ও মমতাজ বেগম—উভয়েই মাতৃত্বের শাশ্বত রূপকে ধারণ করেছেন”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত’ রচনাটি ছিল একটি অসমাপ্ত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।


    (খ) উত্তর: বিদ্যাসাগরের হৃদমন্দিরে রাইমণির সৌম্যমূর্তি বিরাজ করত। কারণ, শৈশবে কলকাতায় আসার পর তীব্র অসুস্থতা ও একাকীত্বের দিনে রাইমণি তাঁকে পরম স্নেহে, দয়ায় ও অসামান্য মাতৃমমতায় আগলে রেখে সুস্থ করে তুলেছিলেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের মমতাজ বেগমের মাঝে ‘আত্মচরিত’ রচনার পরম দয়াশীল নারী রাইমণির স্পষ্ট ছায়া দেখা যায়। রাইমণি যেমন নিজের ভাই জগদ্দুর্লভ বাবুর বাসায় আশ্রয় নেওয়া বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসে আগলে রেখেছিলেন, উদ্দীপকের মমতাজ বেগমও ঠিক একইভাবে অনাথ ভাগ্নি সুমনাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবেসে পরম যত্নে আগলে রেখেছেন।


    (ঘ) উত্তর: মাতৃত্ব কেবল জন্ম দেওয়ার মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিঃস্বার্থ সেবা, স্নেহ ও ভালোবাসার মাধ্যমেই মাতৃত্বের আসল রূপ প্রকাশ পায়—এই সত্যটি রাইমণি ও মমতাজ বেগম উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। রাইমণি যেমন কোনো রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও বালক বিদ্যাসাগরের জন্য অশ্রুপাত করেছেন এবং সেবা করেছেন, মমতাজ বেগমও তেমনি সুমনার অসুস্থতায় সারা রাত জেগে সেবা করেছেন। এই দুই নারীই প্রমাণ করেছেন যে পরকে আপন করে নেওয়ার এই নিঃস্বার্থ ক্ষমতাই হলো শাশ্বত মাতৃত্বের শ্রেষ্ঠ রূপ। সুতরাং, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১৩

    উদ্দীপক:
    নীলাঞ্জনা একজন নারী অধিকার কর্মী। সমাজে নারীদের পিছিয়ে থাকা এবং তাদের ওপর হওয়া নানা অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার। অনেক রক্ষণশীল মানুষ তাঁর এই কাজের সমালোচনা করে তাঁকে ‘নারীবাদী’ বলে ব্যঙ্গ করে। নীলাঞ্জনা শান্তভাবে উত্তর দেন, “নারীদের অধিকারের কথা বলা যদি অপরাধ বা পক্ষপাতিত্ব হয়, তবে আমি সেই পক্ষপাতিত্ব আজীবন করে যাব।”

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা পুরুষানুক্রমে কী ব্যবসা করতেন?
    (খ) “যে ব্যক্তি এই স্ত্রীজাতির পক্ষপাতী না হয়, সে কৃতঘ্ন পামর”—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
    (গ) উদ্দীপকের নীলাঞ্জনার দৃঢ়তার সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার বিদ্যাসাগরের মানসিকতার সাদৃশ্য কোথায়?
    (ঘ) “বিদ্যাসাগরের নারী-পক্ষপাতিত্বের ঐতিহাসিক ফসলই আজকের নারী জাগরণ”—উদ্দীপক ও রচনার আলোকে মন্তব্য করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা পুরুষানুক্রমে সংস্কৃত ব্যবসা (টোলে অধ্যাপনা) করতেন।


    (খ) উত্তর: বিদ্যাসাগর বুঝিয়েছেন যে, তাঁর জীবনে ও তাঁর পিতার কঠিন সময়ে রাইমণি ও মুড়ি বিক্রেতা নারীর মতো মহৎ নারীদের অবদান ছিল অপরিসীম। নারীদের এই অকৃত্রিম দয়া ও মমতার ঋণ স্বীকার করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। এই পরম উপকার ভোগ করার পরও যে ব্যক্তি নারীদের শ্রদ্ধা করবে না বা তাদের পক্ষ নেবে না, সে আসলে একজন অকৃতজ্ঞ ও পাপিষ্ঠ মানুষ।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের নীলাঞ্জনার দৃঢ়তার সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার বিদ্যাসাগরের মানসিকতার প্রধান সাদৃশ্য হলো—উভয়েই সমাজের সমালোচনা বা ব্যঙ্গকে ভয় না পেয়ে নারীজাতির কল্যাণে নিজেদের অবস্থানে অবিচল থেকেছেন। নীলাঞ্জনাকে যেমন ‘নারীবাদী’ বলে ব্যঙ্গ করা সত্ত্বেও তিনি তাঁর কাজ থামাননি, বিদ্যাসাগরকেও তেমনি সমাজ ‘স্ত্রীজাতির পক্ষপাতী’ বললে তিনি তা সানন্দে ও যৌক্তিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন।


    (ঘ) উত্তর: বিদ্যাসাগরের সেই শৈশবে গড়ে ওঠা নারী-পক্ষপাতিত্ব কেবল কথার কথা ছিল না, বরং তা ছিল প্রগতিশীল সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। উদ্দীপকের নীলাঞ্জনা আজ যে নারী অধিকারের কথা বলতে পারছেন, তার পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর স্বয়ং—তাঁর বিধবা বিবাহ আন্দোলন, বহুবিবাহ রোধ এবং নারী শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে। ‘আত্মচরিত’ রচনায় নারীদের প্রতি যে শ্রদ্ধার বীজ বপন করা হয়েছিল, তা-ই পরবর্তীতে সমাজ সংস্কারে রূপ নেয়। সুতরাং, আজকের নারী জাগরণের মূলে বিদ্যাসাগরের সেই মহান মানসিকতার অবদান অনস্বীকার্য।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১৪

    উদ্দীপক:
    আবির তার বাবার সাথে জীবনে প্রথমবার ট্রেনে করে চিড়িয়াখানায় যাচ্ছিল। পথে সে জানলা দিয়ে বাইরের গাছপালা, টেলিগ্রাফের খুঁটি আর স্টেশনের নামগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে করে ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইনের কাজগুলো বুঝে নিচ্ছিল। মাত্র এক ঘণ্টার যাত্রায় আবির ট্রেনের সিগন্যালিং ব্যবস্থার প্রাথমিক নিয়মগুলো চমৎকারভাবে শিখে ফেলল।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগর প্রথম যে মাইলস্টোনটি দেখেছিলেন, তাতে কত সংখ্যা খোদাই করা ছিল?
    (খ) “এই পাথরটি খুদিতে ভুল হইয়াছে”—বালক বিদ্যাসাগর কেন এই মন্তব্য করেছিলেন?
    (গ) উদ্দীপকের আবিরের কৌতূহলের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার বালক ঈশ্বরচন্দ্রের কোন ঘটনার মিল রয়েছে?
    (ঘ) “তীব্র কৌতূহল ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাই একটি শিশুর মেধা বিকাশের শ্রেষ্ঠ লক্ষণ”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগর প্রথম যে মাইলস্টোনটি দেখেছিলেন, তাতে ১৯ সংখ্যাটি খোদাই করা ছিল।


    (খ) উত্তর: বালক বিদ্যাসাগরের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তাঁর পিতা তাঁকে ষষ্ঠ মাইলস্টোনটি না দেখিয়ে সরাসরি পঞ্চম মাইলস্টোনটি দেখান। কিন্তু বালক ঈশ্বরচন্দ্র আগের সংখ্যাগুলোর ক্রমানুসারে জানতেন যে ছয়ের পর পাঁচ আসতে পারে না। তাই তিনি সরল বিশ্বাসে ভাবলেন যে পাথর খোদাইকারীর ভুল হয়েছে এবং সে ছয়ের জায়গায় পাঁচ খোদাই করেছে।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের আবিরের নতুন কিছু দেখার তীব্র কৌতূহল ও শেখার আগ্রহের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত বালক ঈশ্বরচন্দ্রের পথচলতি ‘মাইলস্টোনের ঘটনা’র চমৎকার মিল রয়েছে। আবির যেমন ট্রেনের জানলা দিয়ে সিগন্যাল দেখে তা শিখে নিয়েছে, ঈশ্বরচন্দ্রও তেমনি প্রথমবার কলকাতা আসার পথে রাস্তার ধারের মাইলস্টোনগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে মাত্র এক দিনেই ইংরেজি সংখ্যা চিনে ফেলেছিলেন।


    (ঘ) উত্তর: আবির ও বালক ঈশ্বরচন্দ্র উভয়ের ঘটনাই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে তীব্র কৌতূহল এবং চারপাশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতাই একটি শিশুর আসল মেধার পরিচয় দেয়। ঈশ্বরচন্দ্রের এই প্রখর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাই তাঁকে পরবর্তীতে একজন অসামান্য পণ্ডিত ও বিদ্যাসাগর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিল। সুতরাং, মন্তব্যটি শিক্ষণীয় ও সম্পূর্ণ যথার্থ।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১৫

    উদ্দীপক:
    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এক গ্রাম্য বধূ রহিমা বিবি নিজের জীবন বাজি রেখে এক আহত ও ক্ষুধার্ত মুক্তিযোদ্ধাকে নিজের ঘরে আশ্রয় দেন। নিজের সন্তানদের খাবার বাঁচিয়ে তিনি সেই মুক্তিযোদ্ধাকে খাওয়ান এবং সুস্থ করে তোলেন। যুদ্ধ শেষে সেই মুক্তিযোদ্ধা যখন অনেক বড় অফিসার হলেন, তিনি প্রতি বছর রহিমা বিবির খোঁজে গ্রামে আসেন এবং তাঁকে মায়ের মতো সম্মান করেন।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) ‘পামর’ শব্দের অর্থ কী?
    (খ) বিদ্যাসাগরের পিতা কার হাত ধরে বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে কলকাতায় নিয়ে আসেন?
    (গ) উদ্দীপকের রহিমা বিবির মানবিক আচরণের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
    (ঘ) “রহিমা বিবি এবং সেই মুড়ি বিক্রেতা নারী—উভয়েই চরম সংকটে মানবতার দেবদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    আরও পড়ুন:  ফুলের বিবাহ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: ‘পামর’ শব্দের অর্থ পাপিষ্ঠ, অধম বা নরাধম ব্যক্তি।


    (খ) উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাত ধরেই বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে পায়ে হেঁটে বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতায় নিয়ে আসেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের রহিমা বিবির মানবিক ও পরোপকারী আচরণের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত সেই মহান মুড়ি বিক্রেতা বিধবা নারীর গভীর মিল রয়েছে। মুড়ি বিক্রেতা নারী যেমন চরম সংকটে পড়া ক্ষুধার্ত ও অনাহারী ঠাকুরদাসকে অন্ন দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন, উদ্দীপকের রহিমা বিবিও তেমনি যুদ্ধের চরম সংকটের সময়ে নিজের জীবন বাজি রেখে ক্ষুধার্ত ও আহত মুক্তিযোদ্ধাকে অন্ন ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছেন।


    (ঘ) উত্তর: মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো মানুষের বিপদে মানুষের নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসা। রহিমা বিবি ও মুড়ি বিক্রেতা নারী—উভয়েই এই চিরন্তন মানবতার মূর্ত প্রতীক। একজন বাঁচিয়েছেন দেশের সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাকে, আর অন্যজন বাঁচিয়েছিলেন এক চরম বিপন্ন তরুণকে, যিনি না বাঁচলে হয়তো আমরা বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে পেতামই না। উভয় নারীই কোনো প্রতিদানের আশা না করে কেবল দয়া ও মমতার বশবর্তী হয়ে দেবদূতের মতো মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন। তাই উক্তিটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১৬

    উদ্দীপক:
    কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে তাঁর শৈশবের ভৃত্য বা চাকরদের শাসন এবং গৃহবন্দি জীবনের কথা লিখেছেন। তিনি লিখেছেন কীভাবে ঘরের এক কোণে বসে জানলা দিয়ে বাইরের পৃথিবীর দিকে চেয়ে তাঁর মন ব্যাকুল হয়ে উঠত। তবে এই বন্দি জীবনের মাঝেই তাঁর ভেতরের কবিসত্তার বিকাশ ঘটেছিল।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) ‘নয়নগোচর’ শব্দের অর্থ কী?
    (খ) “তদীয় অপ্রতিম গুণের কীর্তন করিতে করিতে”—এখানে কার গুণের কথা বলা হয়েছে এবং কেন?
    (গ) উদ্দীপকের রবীন্দ্রনাথের শৈশব স্মৃতির সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার বিদ্যাসাগরের শৈশব স্মৃতির বৈসাদৃশ্য কোথায়?
    (ঘ) “শৈশবের পরিবেশ ভিন্ন হলেও উভয় মণীষীর আত্মজীবনীই তাঁদের মানস গঠনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল”—বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: ‘নয়নগোচর’ শব্দের অর্থ চোখের সামনে আসা, দেখা যাওয়া বা দৃষ্টিগোচর হওয়া।


    (খ) উত্তর: এখানে জগদ্দুর্লভ বাবুর ভগিনী রাইমণির অসামান্য গুণের কথা বলা হয়েছে। কারণ, কলকাতায় এসে বালক বিদ্যাসাগর যখন একাকীত্ব ও কঠিন পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন, তখন রাইমণি তাঁকে নিজের সন্তানের মতো পরম যত্নে ও ভালোবাসায় সেবা করে সুস্থ করে তুলেছিলেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের রবীন্দ্রনাথের শৈশব স্মৃতির সাথে বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত’ রচনার প্রধান বৈসাদৃশ্য হলো তাঁদের শৈশবের পরিবেশ ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটে। রবীন্দ্রনাথ বড় হয়েছেন জোড়াসাঁকোর এক অত্যন্ত ধনী, জমিদার ও রাজকীয় পরিবারে, যেখানে তাঁর শৈশব কেটেছে ভৃত্যদের কড়া শাসনে ও চার দেওয়ালে বন্দি অবস্থায়। অন্যদিকে, বিদ্যাসাগরের শৈশব কেটেছে বীরসিংহ গ্রামের এক অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু মুক্ত পাঠশালা জীবনে এবং কলকাতায় এসেও তাঁকে চরম অর্থনৈতিক অনটন ও কঠিন জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছে।


    (ঘ) উত্তর: পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি’ এবং বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত’—উভয় গ্রন্থই এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের মনস্তত্ত্ব ও জীবনদর্শন গড়ে ওঠার পেছনে চমৎকার দলিল হিসেবে কাজ করে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর বন্দি জীবন থেকে প্রকৃতির প্রতি অসীম ভালোবাসা ও স্বাধীনতার মূল্য শিখেছিলেন। অন্যদিকে, বিদ্যাসাগর তাঁর দারিদ্র্য, পিতার কষ্ট এবং রাইমণির স্নেহ থেকে সততা, কঠোর পরিশ্রম ও পরোপকারের শিক্ষা পেয়েছিলেন। সুতরাং, শৈশবের এই ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ মণীষী হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১৭

    উদ্দীপক:
    সুবর্ণা তার পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ না পেয়ে ভেঙে পড়েছিল। তার বড় ভাই তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়াটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়। আসল লক্ষ্য হলো তুমি যা পড়েছ তা কতটুকু বুঝতে পেরেছ এবং তা নিজের জীবনে কতটা কাজে লাগাতে পারছ। প্রকৃত জ্ঞানই মানুষের আসল শক্তি।” ভাইয়ার এই কথায় সুবর্ণা নতুন করে পড়াশোনায় উৎসাহ ফিরে পেল।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের উপাধি কী ছিল?
    (খ) জজপণ্ডিত পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য কোন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হতো এবং কেন?
    (গ) উদ্দীপকের সুবর্ণার বড় ভাইয়ের বক্তব্যের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার ঠাকুরদাসের শিক্ষাদর্শের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
    (ঘ) “শিক্ষা কেবল জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, চরিত্র গঠনের মূল হাতিয়ার”—উক্তিটি উদ্দীপক ও পঠিত রচনার আলোকে মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের উপাধি ছিল ‘তর্কভূষণ’।


    (খ) উত্তর: জজপণ্ডিত পদে নিযুক্ত হওয়ার জন্য ‘ল কমিটি’ (Law Committee) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হতো। কারণ, তৎকালীন সময়ে আদালতে হিন্দু আইন বা শাস্ত্রীয় বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যার জন্য একজন পণ্ডিতের প্রয়োজন হতো, যা এই পরীক্ষায় পাসের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতো।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের সুবর্ণার বড় ভাইয়ের জীবনমুখী শিক্ষাদর্শের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাদর্শের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। সুবর্ণার ভাই যেমন কেবল জিপিএ-৫ বা সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে প্রকৃত জ্ঞানার্জনের কথা বলেছেন, ঠাকুরদাসও ঠিক একইভাবে আত্মীয়দের সওদাগরি অফিসের কেরানির চাকরি পাওয়ার মতো সংকীর্ণ বৈষয়িক লক্ষ্য বা ইংরেজি শিক্ষার পরামর্শ ত্যাগ করে ছেলেকে প্রকৃত বিদ্যান ও আদর্শ মানুষ বানানোর জন্য সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন।


    (ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের ভাইয়ের উপদেশ এবং ঠাকুরদাসের জীবনবোধ—উভয় জায়গাতেই স্পষ্ট যে শিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল একটি চাকরি পাওয়া বা অর্থ উপার্জন করা নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং তাকে সৎ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। ঠাকুরদাস যদি কেবল তাঁর নিজের দারিদ্র্য মোচনের কথা ভাবতেন, তবে ঈশ্বরচন্দ্র হয়তো বড় কোনো সওদাগরি অফিসের বড় বাবু হতেন, কিন্তু আমরা আজকের ‘বিদ্যাসাগর’কে পেতাম না। সুতরাং, শিক্ষাকে বৈষয়িক লাভের ঊর্ধ্বে রেখে চরিত্র গঠনের হাতিয়ার হিসেবে দেখানোর এই প্রয়াস সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও সত্য।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১৮

    উদ্দীপক:
    প্রীতম সাহেব একজন নামী আইনজীবী। তিনি আদালতে সবসময় দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের পক্ষে বিনা পয়সায় মামলা লড়েন। একদিন এক ধনী ব্যবসায়ী তাঁকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে একটি মিথ্যা মামলা জেতানোর প্রস্তাব দিলে প্রীতম সাহেব তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, “আমার বাবা একজন সাধারণ কৃষক হয়েও আমাকে শিখিয়েছেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে। লোভের বশে নিজের বিবেক বিক্রি করার শিক্ষা আমার পরিবার আমাকে দেয়নি।”

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের পুরো নাম কী ছিল?
    (খ) রামজয় তর্কভূষণ কেন তোষামোদকারীদের পছন্দ করতেন না?
    (গ) উদ্দীপকের প্রীতম সাহেবের চারিত্রিক দৃঢ়তায় ‘আত্মচরিত’ রচনার কোন পূর্বপুরুষের প্রভাব স্পষ্ট?
    (ঘ) “পারিবারিক সততা ও পূর্বপুরুষদের তেজস্বী আদর্শই সন্তানের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করে”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের পুরো নাম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (বা ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা)।


    (খ) উত্তর: রামজয় তর্কভূষণ নিজে ছিলেন অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, স্পষ্টভাষী এবং নীতিবান একজন মানুষ। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের আসল পরিচয় তার চরিত্রে ও সৎ আচরণে, ধন-সম্পদে নয়। তাই বিত্তবানদের কৃত্রিম তোষামোদ বা চাটুকারিতাকে তিনি চরম অবজ্ঞা করতেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের প্রীতম সাহেবের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং লোভকে বিসর্জন দেওয়ার চারিত্রিক দৃঢ়তার মাঝে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত বিদ্যাসাগরের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের তেজস্বী চরিত্রের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। রামজয় তর্কভূষণ যেমন দারিদ্র্যের মাঝেও বিত্তবানদের তোষামোদ করেননি বা মাথা নত করেননি, প্রীতম সাহেবও তেমনি বিপুল অর্থের লোভ ত্যাগ করে নিজের সততা ও আদর্শকে ধরে রেখেছেন।


    (ঘ) উত্তর: একটি শিশুর চরিত্র ও নৈতিকতার ভিত্তি তৈরি হয় তার পরিবার থেকে। প্রীতম সাহেব তাঁর কৃষক বাবার দেওয়া সততার শিক্ষাকে ধারণ করেছেন বলেই আজ বড় আইনজীবী হয়েও বিবেক বিক্রি করেননি। ঠিক একইভাবে, বিদ্যাসাগরের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের তেজস্বী মনোভাব এবং পিতা ঠাকুরদাসের কঠিন সততাই শৈশবে ঈশ্বরচন্দ্রের মনের ভেতর নৈতিকতার এক ইস্পাতকঠিন ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। এই পারিবারিক শিক্ষার কারণেই বিদ্যাসাগর পরবর্তীতে সমাজের সমস্ত কুসংস্কার ও বাধার বিরুদ্ধে একা লড়াই করার সাহস পেয়েছিলেন। অতএব, বলা যায় যে পারিবারিক সততা ও পূর্বপুরুষদের আদর্শই সন্তানের মেরুদণ্ড সোজা রাখার মূল চাবিকাঠি।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১৯

    উদ্দীপক:
    মিতু তার ঠাকুমার কাছে বড় হয়েছে। মা-বাবা কর্মব্যস্ত থাকায় ঠাকুমাই ছিলেন তার পুরো পৃথিবী। ঠাকুমার মুখে রূপকথার গল্প শোনা, তাঁর আঁচল ধরে ঘুরে বেড়ানোই ছিল মিতুর শৈশব। মিতু যখন পড়াশোনার জন্য শহরে চলে আসে, তখন প্রথম কয়েক মাস সে ঠাকুমার জন্য রাতে বালিশ ভিজিয়ে কাঁদত। ঠাকুমার সেই নিঃস্বার্থ স্নেহের স্মৃতি মিতুর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা পুরুষানুক্রমে কোন ভাষার চর্চা করতেন?
    (খ) বালক বিদ্যাসাগর কলকাতায় এসে পিতামহীদেবীর জন্য কী করতেন এবং কেন?
    (গ) উদ্দীপকের মিতুর অনুভূতির সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার বালক ঈশ্বরচন্দ্রের মানসিকতার তুলনা করো।
    (ঘ) “শৈশবে ঠাকুমা বা পিতামহীর অকৃত্রিম স্নেহ একটি শিশুর মানস গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা পুরুষানুক্রমে সংস্কৃত ভাষার চর্চা করতেন।


    (খ) উত্তর: বালক বিদ্যাসাগর কলকাতায় এসে তাঁর পরম স্নেহময়ী পিতামহীদেবীর (ঠাকুমা) জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল ও উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠতেন এবং সময়ে সময়ে লুকিয়ে কেঁদে ফেলতেন। কারণ, শৈশবে গ্রামে থাকার সময় তিনি ঠাকুমার অত্যন্ত প্রিয় ও নিতান্ত অনুগত ছিলেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের মিতুর শহরের জীবনের শুরুর দিনগুলোর অনুভূতির সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনার বালক ঈশ্বরচন্দ্রের মানসিকতার হুবহু মিল রয়েছে। মিতু যেমন পড়াশোনার জন্য শহরে এসে তার প্রিয় ঠাকুমার অভাব অনুভব করে রাতে কেঁদেছে, বালক বিদ্যাসাগরও ঠিক একইভাবে বীরসিংহ গ্রাম থেকে কলকাতায় আসার পর তাঁর ঠাকুমার সেই পরম স্নেহের আশ্রয়ের কথা মনে করে তীব্র ব্যাকুলতায় প্রতিনিয়ত কাঁদতেন।


    (ঘ) উত্তর: বাঙালি পরিবারে পিতামহী বা ঠাকুমার স্নেহ একটি শিশুর শৈশবকে সম্পূর্ণ ও মধুর করে তোলে, যা মিতু ও ঈশ্বরচন্দ্র দুজনের জীবন থেকেই স্পষ্ট। মা-বাবার কর্মব্যস্ততা বা কঠোর অনুশাসনের বাইরে ঠাকুমারাই হন শিশুদের প্রধান মানসিক আশ্রয়। বিদ্যাসাগর তাঁর আত্মজীবনীতে অকপটে স্বীকার করেছেন যে তিনি তাঁর ঠাকুমার কতটা অনুগত ছিলেন। শৈশবের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মানুষকে পরবর্তীতে কোমল মনের ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সুতরাং, উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

    আত্মচরিত গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২০

    উদ্দীপক:
    “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
    পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।”
    কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই কবিতার চরণের মতো, যখন কোনো মানুষ চরম ক্ষুধার মুখোমুখি হয়, তখন তার কাছে পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য, কাব্য বা দর্শন অর্থহীন হয়ে পড়ে। তখন তার একমাত্র লক্ষ্য থাকে এক মুঠো অন্ন সংগ্রহ করে প্রাণ বাঁচানো।

    প্রশ্নসমূহ:
    (ক) ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথম কলকাতায় আসেন, তখন তাঁর বয়স আনুমানিক কত ছিল?
    (খ) “এই দয়াময়ীর সৌজন্যে পিতৃদেব সে যাত্রা রক্ষা পান”— ব্যাখ্যা করো।
    (গ) উদ্দীপকের কবিতার মূল ভাবের সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বর্ণিত কার জীবনের চরম সংকটের মিল রয়েছে?
    (ঘ) “ক্ষুধার সেই বৈরী পরিস্থিতিই ঠাকুরদাসের চরিত্রে পরোপকারের মূল্য বুঝতে সাহায্য করেছিল”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    উত্তরসমূহ:

    (ক) উত্তর: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথম কলকাতায় আসেন, তখন তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক চৌদ্দ-পনেরো বছর।


    (খ) উত্তর: কলকাতায় এসে চাকরি পাওয়ার আগে ঠাকুরদাস যখন তীব্র ক্ষুধার জ্বালায় ফুটপাতে বসে কাঁদছিলেন, তখন এক দয়াশীল মুড়ি বিক্রেতা বিধবা নারী দেবীর মতো এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে পরম স্নেহে মুড়ি ও জল খাইয়ে তাঁর প্রাণ বাঁচান। সেই মহৎ নারীর এই আশ্রয়ের কারণেই ঠাকুরদাস সে যাত্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।


    (গ) উত্তর: উদ্দীপকের কবিতার মূল ভাব অর্থাৎ চরম ক্ষুধার তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির সাথে ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতা জীবনের প্রথম দিককার চরম সংকটের মিল রয়েছে। কলকাতায় এসে যখন তাঁর কোনো চাকরি বা আশ্রয় ছিল না, তখন তিনি সুতীব্র ক্ষুধার জ্বালায় অবর্ণনীয় কষ্ট পেয়েছিলেন, যা কবিতার সেই ‘গদ্যময় পৃথিবীর’ বাস্তব রূপ।


    (ঘ) উত্তর: মানুষ যখন নিজে কোনো চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে যায়, তখন সে অন্যের কষ্টের গভীরতা সবচেয়ে ভালো উপলব্ধি করতে পারে। ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজে কলকাতায় এসে অনাহারের সেই ভয়ংকর কষ্ট না পেতেন, তবে হয়তো তিনি দয়া ও পরোপকারের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারতেন না। নিজে ক্ষুধার্ত থেকে এক সাধারণ নারীর নিঃস্বার্থ দয়ায় জীবন ফিরে পেয়েছিলেন বলেই, তিনি তাঁর সন্তান ঈশ্বরচন্দ্রকে আজীবন মানুষের প্রতি দয়াশীল হওয়ার শিক্ষা দিতে পেরেছিলেন। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।


    উপসংহার:

    পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্নে ভালো নম্বর পাওয়ার আসল রহস্য হলো মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর না করে গল্পের মূলভাবটি নিজের মতো করে গুছিয়ে লিখতে পারা । ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত’ রচনা থেকে বাছাই করা এই ২০টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর অনুশীলনের মাধ্যমে আশা করি প্রতিটি চরিত্র এবং প্রেক্ষাপট আপনার কাছে একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে । এই প্রশ্নগুলো নিয়মিত চর্চা করলে পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের উদ্দীপক আসুক না কেন, আপনি খুব সহজেই তার সঠিক উত্তর সাজিয়ে লিখতে পারবেন । কন্টেন্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার সহপাঠী ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না । আপনার পরীক্ষার চমৎকার ফলাফলের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা!

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins
    Right Menu Icon