বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথপ্রদর্শক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত‘ কেবল একটি আত্মজীবনী নয়, এটি একাধারে প্রতিকূলতা জয়, বংশগত মর্যাদা এবং নিঃস্বার্থ মানবতার জীবন্ত দলিল । একাডেমিক পরীক্ষা কিংবা যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক টেস্টে এই অসাধারণ রচনাটি থেকে প্রায়শই সৃজনশীল, অনুধাবনমূলক ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন এসে থাকে । তবে গৎবাঁধা মুখস্থ বিদ্যার কারণে অনেকেই পরীক্ষায় পূর্ণাঙ্গ নম্বর তুলে আনতে পারেন না ।
আপনার সেই সংশয় দূর করতেই আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন । ‘আত্মচরিত‘ রচনার প্রতিটি লাইন, চরিত্রগুলোর মনস্তত্ত্ব এবং ভেতরের নিগূঢ় তথ্যগুলোকে সহজ-সরল ও সাবলীল ভাষায় বিশ্লেষণ করে আমরা তৈরি করেছি ১০০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্নের এক অনন্য সংকলন । আপনি যদি এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো একবার মনোযোগ দিয়ে চোখ বুলিয়ে নেন, তবে পরীক্ষার খাতায় যেকোনো প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাষায় একদম নিখুঁতভাবে লিখে আসতে পারবেন । চলুন, তবে বিদ্যাসাগরের জীবনের সেই অনুপ্রেরণাদায়ী অধ্যায়ে প্রবেশ করা যাক!
আত্মচরিত গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও সমাধান
১. বিদ্যাসাগরের পিতামহের নাম কী?
উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতামহের নাম রামজয় তর্কভূষণ।
২. রামজয় তর্কভূষণের উপাধি কী ছিল?
উত্তর: তাঁর উপাধি ছিল ‘তর্কভূষণ’।
৩. বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা মূলত কোন শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন?
উত্তর: তাঁরা মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণ ও স্মৃতিশাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন।
৪. রামজয় তর্কভূষণের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ এবং স্পষ্টভাষী স্বভাব।
৫. রামজয় তর্কভূষণ কেন বিত্তবানদের তোষামোদ করতেন না?
উত্তর: তিনি অত্যন্ত তেজস্বী ও স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন বলে বিত্তবানদের তোষামোদ করতেন না।
৬. বিদ্যাসাগরের পরিবার আদি বাসস্থান ছেড়ে কোথায় চলে আসে?
উত্তর: তাঁরা মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে চলে আসেন।
৭. বীরসিংহ গ্রামটি তৎকালীন কোন জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল?
উত্তর: বীরসিংহ গ্রামটি তৎকালীন মেদিনীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
৮. রামজয় তর্কভূষণের স্ত্রীর (বিদ্যাসাগরের ঠাকুমা) নাম কী ছিল?
উত্তর: তাঁর নাম ছিল দুর্গাদেবী।
৯. রামজয় তর্কভূষণ কেন প্রায়ই গৃহত্যাগ করতেন?
উত্তর: তিনি কিছুটা উদাসীন এবং আধ্যাত্মিক ভাবাপন্ন ছিলেন বলে প্রায়ই গৃহত্যাগ করে তীর্থবাসী হতেন।
১০. রামজয় তর্কভূষণ কত বছর পর তীর্থ থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন?
উত্তর: তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর পর তীর্থ থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন।
১১. বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষদের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: তাঁদের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দরিদ্র।
১২. “তর্কভূষণ” উপাধিটি কোন বিষয়ের পাণ্ডিত্যের জন্য দেওয়া হতো?
উত্তর: শাস্ত্রীয় তর্ক বা বিতর্কে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য এই উপাধি দেওয়া হতো।
১৩. রামজয় তর্কভূষণের অনুপস্থিতিতে কে সংসার চালিয়েছিলেন?
উত্তর: তাঁর স্ত্রী দুর্গাদেবী অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছিলেন।
১৪. বিদ্যাসাগরের ঠাকুমা কীভাবে অর্থ উপার্জন করতেন?
উত্তর: তিনি অন্যের বাড়িতে সুতো কেটে এবং ঢেঁকিতে ধান ভেনে অর্থ উপার্জন করতেন।
১৫. রামজয় তর্কভূষণকে লেখক কী পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: লেখক তাঁকে একজন অসাধারণ তেজস্বী ও সিংহপুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
১৬. বিদ্যাসাগরের বংশের মূল গৌরব কী ছিল?
উত্তর: তাঁদের মূল গৌরব ছিল সততা, পাণ্ডিত্য এবং উন্নত নৈতিকতা।
১৭. রামজয় তর্কভূষণের কয়টি সন্তান ছিল?
উত্তর: তাঁর দুই পুত্র ও চার কন্যা ছিল।
১৮. বিদ্যাসাগরের পিতার অবস্থান ভাইবোনদের মধ্যে কততম ছিল?
উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতা ছিলেন তাঁর ভাইবোনদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ বা সবার বড়।
১৯. রামজয় তর্কভূষণ বীরসিংহ গ্রামে কার বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
২০. বিদ্যাসাগরের পরিবার বীরসিংহ গ্রামে আসার পর তাঁদের সামাজিক মর্যাদা কেমন ছিল?
উত্তর: দরিদ্র হলেও তাঁদের উচ্চ বংশমর্যাদা ও পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁরা সমাজে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন।
২১. রামজয় তর্কভূষণ কখন রাগ প্রকাশ করতেন?
উত্তর: সমাজে কোনো অন্যায়, ভণ্ডামি বা মিথ্যাচার দেখলে তিনি তীব্র রাগ প্রকাশ করতেন।
২২. বিদ্যাসাগরের ঠাকুমা দুর্গাদেবী কেমন নারী ছিলেন?
উত্তর: তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল, পরিশ্রমি এবং দৃঢ়চেতা নারী ছিলেন।
২৩. রামজয় তর্কভূষণের চরিত্রের কোন গুণটি বিদ্যাসাগরের মধ্যে দেখা যায়?
উত্তর: তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ও তেজস্বিতা বিদ্যাসাগরের মধ্যে দেখা যায়।
২৪. বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
উত্তর: তাঁরা সনাতন হিন্দু ধর্মের ধার্মিক ও নিষ্ঠাবান অনুসারী ছিলেন।
২৫. ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগরের পিতামহকে কোন গুণের প্রতীক বলা হয়েছে?
উত্তর: তাঁকে আত্মসম্মান ও চারিত্রিক শুদ্ধতার প্রতীক বলা হয়েছে।
২৬. বিদ্যাসাগরের পিতার নাম কী?
উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
২৭. ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বয়সে কলকাতায় আসেন?
উত্তর: তিনি মাত্র চোদ্দ-পনেরো বছর বয়সে কলকাতায় আসেন।
২৮. ঠাকুরদাস কেন কলকাতায় এসেছিলেন?
উত্তর: পারিবারিক চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং উপার্জনের আশায় তিনি এসেছিলেন।
২৯. কলকাতায় শুরুর জীবনে ঠাকুরদাসের বাসস্থান কেমন ছিল?
উত্তর: তাঁর কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী বাসস্থান ছিল না, খুব কষ্ট করে অন্যের আশ্রয়ে থাকতেন।
৩০. ঠাকুরদাস কলকাতায় কী খেয়ে দিন কাটাতেন?
উত্তর: অনেক সময় তিনি সামান্য মুড়ি খেয়ে বা প্রায় অনাহারে দিন কাটাতেন।
৩১. ঠাকুরদাসের প্রথম চাকরিটি কিসের ছিল?
উত্তর: তাঁর প্রথম চাকরিটি ছিল একটি সাধারণ দোকানের হিসাবনিকাশ রাখার কাজ।
৩২. ঠাকুরদাসের প্রথম চাকরির বেতন কত ছিল?
উত্তর: তাঁর প্রথম চাকরির বেতন ছিল মাত্র কয়েক টাকা (দুই বা তিন টাকা)।
৩৩. ঠাকুরদাসের কঠিন সময়ে কে তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন?
উত্তর: এক দয়াশীল সাধারণ মুড়ি বিক্রেতা নারী তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন।
৩৪. মুড়ি বিক্রেতা নারী ঠাকুরদাসকে কী খেতে দিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি ঠাকুরদাসকে পরম যত্নে পেট পুরে মুড়ি ও জল খেতে দিয়েছিলেন।
৩৫. ঠাকুরদাস কেন মুড়ি বিক্রেতা নারীর দোকানে বসে পড়েছিলেন?
উত্তর: ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রণায় এবং ক্লান্তিতে চলতে না পেরে তিনি দোকানের সামনে বসে পড়েছিলেন।
৩৬. ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রের প্রধান গুণ কী ছিল?
উত্তর: তাঁর প্রধান গুণ ছিল চরম সততা, অধ্যবসায় এবং পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ।
৩৭. ঠাকুরদাস কলকাতায় কার বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি কলকাতার জগদ্দুর্লভ বাবুর বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন।
৩৮. জগদ্দুর্লভ বাবু ঠাকুরদাসকে কী ধরনের সাহায্য করেছিলেন?
উত্তর: তিনি ঠাকুরদাসকে তাঁর বাড়িতে থাকার এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
৩৯. ঠাকুরদাস কেন তাঁর সন্তান ঈশ্বরচন্দ্রকে উচ্চশিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: শিক্ষার প্রকৃত মূল্য এবং নিজের জীবনের কষ্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন।
৪০. ঠাকুরদাস কি পৈতৃক আদর্শ থেকে কখনো চ্যুত হয়েছিলেন?
উত্তর: না, অভাবের দিনেও ঠাকুরদাস তাঁর পৈতৃক সততার আদর্শ থেকে কখনো চ্যুত হননি।
৪১. ঠাকুরদাসের চাকরি পাওয়ার পর বীরসিংহ গ্রামের পরিবারের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর: তাঁর সামান্য আয়ের কারণে পরিবারের চরম অনাহার দূর হয়েছিল এবং কিছুটা স্বস্তি এসেছিল।
৪২. ঠাকুরদাসের মেধার পরিচয় কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর: প্রতিকূলতার মধ্যেও খুব দ্রুত দাপ্তরিক কাজ ও হিসাবনিকাশ শিখে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর মেধার পরিচয় পাওয়া যায়।
৪৩. ঠাকুরদাসের জীবনে অভাবের প্রভাব কেমন ছিল?
উত্তর: অভাব তাঁকে অত্যন্ত সহনশীল, বাস্তবমুখী এবং পরিশ্রমী করে তুলেছিল।
৪৪. ঠাকুরদাস তাঁর বেতনের টাকা দিয়ে কী করতেন?
উত্তর: নিজের সামান্য খরচ রেখে বাকি সব টাকা তিনি গ্রামে তাঁর মা ও ভাইবোনদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন।
৪৫. বিদ্যাসাগরের পিতা কার কাছ থেকে সততার শিক্ষা পেয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি তাঁর পিতা রামজয় তর্কভূষণের কাছ থেকে সততার শিক্ষা পেয়েছিলেন।
৪৬. ঠাকুরদাস যখন কলকাতায় প্রথম আসেন, তখন তাঁর সাথে কে ছিলেন?
উত্তর: তিনি সম্পূর্ণ একা ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় কলকাতায় এসেছিলেন।
৪৭. ঠাকুরদাসের জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম কী ছিল?
উত্তর: ক্ষুধার কষ্ট জয় করা এবং নিজের সততা বজায় রেখে একটি কাজ খুঁজে নেওয়া।
৪৮. ‘আত্মচরিত’ রচনায় ঠাকুরদাসকে কেমন পিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে?
উত্তর: তাঁকে একজন অত্যন্ত স্নেহময়, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী পিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
৪৯. ঠাকুরদাসের স্বভাব কেমন ছিল?
উত্তর: তিনি অত্যন্ত শান্ত, বিনয়ী কিন্তু নিজের কর্তব্যে অটল স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
৫০. ঠাকুরদাসের জীবনের গল্প থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
উত্তর: অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সততা থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব—এই শিক্ষা পাওয়া যায়।
৫১. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: তিনি ১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
আত্মচরিত গল্পের ‘ক’ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর
৫২. বাংলা কোন মাসে বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: তিনি ১২২৭ বঙ্গাব্দের ১২ই আশ্বিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
৫৩. বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানের নাম কী?
উত্তর: তাঁর জন্মস্থান মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রাম।
৫৪. বালক ঈশ্বরচন্দ্র কত বছর বয়সে প্রথম কলকাতায় আসেন?
উত্তর: তিনি আট বছর বয়সে প্রথম কলকাতায় আসেন।
৫৫. কার সাথে বালক ঈশ্বরচন্দ্র প্রথমবার কলকাতায় এসেছিলেন?
উত্তর: তিনি তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে প্রথমবার কলকাতায় এসেছিলেন।
৫৬. বালক ঈশ্বরচন্দ্র কীভাবে ইংরেজি সংখ্যাগুলো শিখেছিলেন?
উত্তর: কলকাতা আসার পথে রাস্তার ধারের মাইলস্টোন বা পাথরের ফলক দেখে তিনি ইংরেজি সংখ্যা শিখেছিলেন।
৫৭. মাইলস্টোনের ইংরেজি সংখ্যাগুলো বিদ্যাসাগরকে কে চিনিয়ে দিচ্ছিলেন?
উত্তর: তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় চিনিয়ে দিচ্ছিলেন।
৫৮. বিদ্যাসাগর মাত্র কত দিনে ইংরেজি সংখ্যাগুলো আয়ত্ত করেছিলেন?
উত্তর: তিনি মাত্র এক দিনে (কলকাতা আসার পথেই) সংখ্যাগুলো আয়ত্ত করেছিলেন।
৫৯. পিতা ঠাকুরদাস কেন ঈশ্বরচন্দ্রের পরীক্ষা নিয়েছিলেন?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র আসলেই সংখ্যাগুলো শিখছে নাকি শুধু আন্দাজে বলছে, তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষা নিয়েছিলেন।
৬০. পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বাবা কী কৌশল অবলম্বন করেছিলেন?
উত্তর: একটি মাইলস্টোন পার হওয়ার সময় তিনি ঈশ্বরচন্দ্রের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছিলেন।
৬১. বাবা চোখ ঘুরিয়ে রাখলেও ঈশ্বরচন্দ্র কীভাবে সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি সংখ্যার ধারাবাহিকতা ও গঠন নিজের প্রখর মেধার জোরে মনে রেখে পরবর্তী সংখ্যাটি সঠিকভাবে বলেছিলেন।
৬২. বালক ঈশ্বরচন্দ্রের স্মরণশক্তি কেমন ছিল?
উত্তর: তাঁর স্মরণশক্তি ছিল অলৌকিক ও প্রখর; যেকোনো বিষয় একবার দেখলেই মনে রাখতে পারতেন।
৬৩. শৈশবে বিদ্যাসাগরের স্বভাব কেমন ছিল?
উত্তর: তিনি শৈশবে বেশ চঞ্চল, কৌতূহলী এবং কিছুটা একগুঁয়ে স্বভাবের ছিলেন।
৬৪. কলকাতায় বিদ্যাসাগর রাতে কিসের আলোয় পড়াশোনা করতেন?
উত্তর: তিনি রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের গ্যাসের আলোয় পড়াশোনা করতেন।
৬৫. ঘরে পড়ার আলো না থাকার কারণ কী ছিল?
উত্তর: চরম দারিদ্র্যের কারণে ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর মতো তেলের পয়সা ছিল না।
৬৬. মাইলস্টোনের ঘটনাটি বিদ্যাসাগরের কোন গুণকে প্রকাশ করে?
উত্তর: এটি তাঁর তীব্র কৌতূহল ও অসামান্য পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে প্রকাশ করে।
৬৭. বিদ্যাসাগরের জননীর নাম কী ছিল?
উত্তর: তাঁর জননীর নাম ছিল ভগবতী দেবী।
৬৮. ভগবতী দেবী কেমন স্বভাবের নারী ছিলেন?
উত্তর: তিনি অত্যন্ত দয়াশীল, পরোপকারী এবং স্নেহময়ী নারী ছিলেন।
৬৯. বিদ্যাসাগরের চঞ্চলতা কখন দূর হতো?
উত্তর: যখন তিনি পড়াশোনা করতে বসতেন, তখন তাঁর সমস্ত চঞ্চলতা দূর হয়ে তিনি একাগ্র হয়ে যেতেন।
৭০. শৈশবে বিদ্যাসাগরের পড়াশোনার প্রতি কেমন অনুরাগ ছিল?
উত্তর: পড়াশোনার প্রতি তাঁর গভীর ও তীব্র অনুরাগ ছিল; শত কষ্টেও তিনি পড়া ছাড়তেন না।
৭১. বিদ্যাসাগরের শিক্ষকেরা তাঁর সম্পর্কে কী ভাবতেন?
উত্তর: শিক্ষকেরা তাঁর অসাধারণ মেধা দেখে মুগ্ধ হতেন এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বাণী করতেন।
৭২. ‘বিদ্যাসাগর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘বিদ্যাসাগর’ শব্দের অর্থ হলো বিদ্যার সমুদ্র বা জ্ঞানের সাগর।
৭৩. বালক ঈশ্বরচন্দ্রের কোন বিষয়টি সবাইকে অবাক করত?
উত্তর: যেকোনো কঠিন পড়া খুব দ্রুত মুখস্থ ও অনুধাবন করার ক্ষমতা সবাইকে অবাক করত।
৭৪. বিদ্যাসাগরের শৈশবের মূল চালিকাশক্তি কী ছিল?
উত্তর: জ্ঞান অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং বাবার প্রতি শ্রদ্ধা।
৭৫. ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগরের বাল্যকালকে কিসের প্রতীক বলা হয়েছে?
উত্তর: মেধার একনিষ্ঠতা ও প্রতিকূলতা জয়ের প্রতীক বলা হয়েছে।
৭৬. রাইমণি কে ছিলেন?
উত্তর: রাইমণি ছিলেন কলকাতার জগদ্দুর্লভ বাবুর ভগিনী (বোন)।
৭৭. রাইমণি বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে কীভাবে আগলে রেখেছিলেন?
উত্তর: তিনি ঈশ্বরচন্দ্রকে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন।
৭৮. ঈশ্বরচন্দ্র কলকাতায় কার কাছে মায়ের অভাব ভুলেছিলেন?
উত্তর: তিনি পরম দয়াশীল নারী রাইমণির কাছে মায়ের অভাব ভুলেছিলেন।
৭৯. রাইমণি ঈশ্বরচন্দ্র অসুস্থ হলে কী করতেন?
উত্তর: তিনি দিনরাত জেগে নিজের সন্তানের মতো ঈশ্বরচন্দ্রের সেবা করতেন।
৮০. বিদ্যাসাগর রাইমণির স্নেহকে কী হিসেবে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: তিনি রাইমণির স্নেহকে ‘অকৃত্রিম ও খাঁটি স্নেহ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৮১. “পামর” শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘পামর’ শব্দের অর্থ হলো পাপিষ্ঠ, অধম বা নরাধম ব্যক্তি।
৮২. “কৃতঘ্ন” শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘কৃতঘ্ন’ শব্দের অর্থ হলো অকৃতজ্ঞ বা যে উপকারীর উপকার স্বীকার করে না।
৮৩. বিদ্যাসাগর নিজেকে কেন ‘কৃতঘ্ন ও পামর’ বলতে চেয়েছেন?
উত্তর: রাইমণি ও মুড়ি বিক্রেতা নারীর মতো মহৎ নারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলে তিনি নিজেকে কৃতঘ্ন ও পামর মনে করতেন।
৮৪. “নারীজাতির প্রতি আমার গভীর পক্ষপাতিত্ব রয়েছে”—উক্তিটি কার?
উত্তর: উক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
৮৫. বিদ্যাসাগরের নারীজাতির প্রতি পক্ষপাতিত্বের মূল কারণ কী?
উত্তর: জীবনে ও পরিবারে সাধারণ নারীদের কাছ থেকে পাওয়া নিঃস্বার্থ দয়া ও ভালোবাসা।
৮৬. রাইমণির বিদায় বা মৃত্যু বিদ্যাসাগরকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?
উত্তর: এটি তাঁর জীবনে এক গভীর শূন্যতা ও বেদনার সৃষ্টি করেছিল, যা তিনি কখনো ভুলতে পারেননি।
৮৭. ‘আত্মচরিত’ মূলত কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: এটি একটি আত্মজীবনীমূলক (Autobiographical) রচনা।
৮৮. বিদ্যাসাগরের এই ‘আত্মচরিত’ রচনাটি কি সম্পূর্ণ?
উত্তর: না, এটি তাঁর একটি অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৮৯. জগদ্দুর্লভ বাবুর বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্রের জীবন কেমন ছিল?
উত্তর: রাইমণির স্নেহ পেলেও পরজীবী জীবনের কারণে পরিবেশটি তাঁর জন্য বেশ সংকুচিত ও কষ্টের ছিল।
৯০. তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘কলকাতা’র গুরুত্ব কী ছিল?
উত্তর: কলকাতা ছিল উচ্চশিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক উন্নতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।
৯১. বিদ্যাসাগরের দয়াশীল হৃদয়ের ভিত্তি কোথায় তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: তাঁর শৈশবে চেনা চরিত্রগুলোর (মা, ঠাকুমা, রাইমণি) নিঃস্বার্থ পরোপকার দেখে এই ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
৯২. ‘আত্মচরিত’ রচনার মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: নিজের বংশের সৎ ইতিহাস তুলে ধরা এবং সততা ও নৈতিকতার আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
৯৩. বিদ্যাসাগরের সময়ে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: তৎকালীন গ্রামীণ ও সাধারণ পণ্ডিত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দারিদ্র্যপীড়িত।
৯৪. “ক্ষুধা বড় বালাই”—উক্তিটি গল্পের কোন চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়?
উত্তর: উক্তিটি বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার শুরুর জীবনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
৯৫. রাইমণি তাঁর খাবারের ভালো অংশটি কাকে দিতেন?
উত্তর: তিনি নিজের সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবেসে আশ্রিত বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে দিতেন।
৯৬. বিদ্যাসাগরের এই গল্পটি থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখতে পারে?
উত্তর: শিক্ষার্থীরা শিখতে পারে যে, সততা, একাগ্রতা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অভাবকে জয় করা যায়।
৯৭. বিদ্যাসাগরের জীবনের মূল সম্পদ কী ছিল?
উত্তর: তাঁর জীবনের মূল সম্পদ ছিল তাঁর অটল চরিত্র, মেধা এবং পরোপকারী মানসিকতা।
৯৮. ‘তর্কভূষণ’ এবং ‘বিদ্যাসাগর’—এই দুটি মূলত কী?
উত্তর: এই দুটি হলো শিক্ষাগত ও শাস্ত্রীয় পাণ্ডিত্যের জন্য দেওয়া বিশেষ উপাধি।
৯৯. বিদ্যাসাগর তাঁর আত্মজীবনীতে কাদের অবদান বেশি স্মরণ করেছেন?
উত্তর: তিনি তাঁর পিতা, পিতামহ এবং তাঁর জীবনে আসা নিঃস্বার্থ নারীদের অবদান সবচেয়ে বেশি স্মরণ করেছেন।
১০০. চরিত্রের দিক থেকে বিদ্যাসাগরের পরিবার কেমন ছিল?
উত্তর: পোশাকে ও ধনে দরিদ্র হলেও তাঁরা চরিত্রে ছিলেন রাজকীয়, উন্নতচেতা এবং অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।
উপসংহার:
পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য জ্ঞানমূলক বা ‘ক’ নম্বরের প্রশ্নগুলো ম্যাজিকের মতো কাজ করে । এখানে বানিয়ে লেখার কোনো সুযোগ নেই; সঠিক তথ্যটি দিতে পারলেই ছাঁকা ১ নম্বর পকেটে চলে আসে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত’ রচনার খুঁটিনাটি জন্মসাল, নাম, স্থান ও শব্দের অর্থ মনে রাখা অনেকের কাছে একটু কঠিন মনে হতে পারে । আশা করি, আজকের এই সহজ ও গোছানো ১০০টি প্রশ্ন-উত্তর আপনার সেই ভয়কে এক নিমেষেই দূর করে দেবে । এগুলো বারবার রিভিশন দিলে পরীক্ষার হলে কোনো তথ্যই আর গুলিয়ে যাবে না । পোস্টটি আপনার উপকারে এলে সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না । আপনার পরীক্ষার দুর্দান্ত ফলাফলের জন্য রইল মন থেকে অনেক অনেক শুভকামনা!

