‘আত্মচরিত’ গল্পের মূলভাব
‘আত্মচরিত’ গল্পে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শৈশবকাল এবং তাঁর চরিত্র ও জীবন গড়ে ওঠার পেছনে গুরুজন ও সাধারণ মানুষের অবদানের কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম দারিদ্র্য ও কঠোর জীবনসংগ্রাম এবং তাঁর পিতামহ রামজয় তর্কভূষণের স্পষ্টবাদিতা, তেজস্বী ও আত্মমর্যাদাশীল চরিত্র বিদ্যাসাগরের মনে সততা ও আদর্শের গভীর ভিত্তি তৈরি করেছিল । শৈশবে বিদ্যাসাগরের অসাধারণ মেধার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বিখ্যাত ‘মাইলস্টোনের গল্পে’, যেখানে বাবার সাথে প্রথমবার কলকাতা আসার পথে শুধু রাস্তার ধারের পাথর দেখে তিনি অতি দ্রুত ইংরেজি সংখ্যাগুলো চিনে নিয়েছিলেন । এছাড়া তাঁর পিতাকে চরম ক্ষুধার দিনে অকাতরে অন্ন দেওয়া সেই মুড়ি বিক্রেতা বিধবা নারী এবং কলকাতায় আশ্রয় দেওয়া পরম স্নেহময়ী রাইমণির নিঃস্বার্থ মাতৃস্নেহ বিদ্যাসাগরের হৃদয়ে সমগ্র নারীজাতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির জন্ম দেয় । সবশেষে, কেবল টাকা উপার্জনের জন্য সওদাগরের অফিসে সাধারণ চাকরি করা নয়, বরং প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সব সামাজিক বাধা পেরিয়ে বিদ্যাসাগরের বাবা তাঁকে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করান ।
মূলত, পারিবারিক সুশিক্ষা, গুরুজনদের আদর্শ এবং সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ দয়া-মমতার মেলবন্ধনেই একজন সাধারণ বালক পরবর্তীতে মহৎ মানুষ হয়ে উঠতে পারে—এটাই এই রচনার মূল সুর ।

